Showing posts with label ফিরে তুমি আসোনা. Show all posts
Showing posts with label ফিরে তুমি আসোনা. Show all posts

25.12.23

ফিরে তুমি আসোনা

 ফিরে তুমি আসোনা

writer. moyej uddin

((((((((((((((()))))))))))))))


-আজ গ্রাম থেকে তোর খালা আসবে..

-তো আমি কি করবো

-আজকে বাইরে যাস না

-তারা আসবে বলে আমি বাইরে যাবো না। এটা কোনো কথা???

-হ্যা বাসায় থাকলে ভালো হয়। প্রতিদিন তো যাস আজকে না হয় নাই গেলি

-দেখো মা। তোমার বোন আসছে আসুক। তুমি আপ্যায়ন করবে। আমি গেলাম। আর হ্যা সময় পেলে আমিও করব


এটা বলে ইরা বাইরে চলে গেলো। কথা বলছিলো ইরা আর ইরার মা। মেয়েটা একটু জেদি। আর অনেক রাগি। ইরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স থার্ড ইয়ার এ পড়ে।


-মেয়েটাকে আটকাতে পাড়লে না?? (ইরার বাবা)

-প্রতিদিন তো একই অবস্থা। কবে আবার আটকাতে পারি বলো।(ইরার মা)

-হুমমম মেয়েটা তো বড় হয়ে গেলো। বিয়ে দিতে হবে। বড় মেয়েটাতো সেই যে গেছে। ইরা কে নিয়ে আর ঝুঁকি নেওয়া যাবে না। একটা ব্যবস্থা করতেই হবে। 

-হ্যা ব্যবস্থা করতে করতে এটাও যাবে। যে মেয়ের অবস্থা

-হইছে। তোমাকে বলতে হবে না কাজ করো তুমি।

-হুহ.....


সেদিন দুপুরে ইরার মা রান্না করছিলো। আর তখনই গ্রাম থেকে আসে তার বোন...সাথে একটা ছেলে। ছেলেটির নাম শুভ। গ্রামে লেখাপড়া করেছে। অনার্স শেষ করার পর গ্রামেই কৃষি কাজ করে। তার শহরে এসে চাকরি না নেওয়ার কারন তার মা। মাকে একা গ্রামে রেখে সে শহরে আসবে না। বাবা অনেক আগেই মারা গেছে। তাই এবার তার মা জোড় করেই তাকে নিয়ে আসে একটা চাকরির জন্য.....


-খোকা দরজায় টোকা দে(শুভর মা)

(শুভ দরজায় টোকা দিলো)

-মা ভেতর থেকে কেউ তো আসে না (শুভ)

-কি করা যায় তাহলে

-হ্যা মা জানি কি করতে হবে

-কি করবি??

-এই যে একটা সুইচ দেখতে পাচ্ছো

-হ্যা

-এটা চাপলেই হবে

-দেখি চাপ দে

-এই দেখো...(শুভ কলিং বেল এর সুইচ টি চাপল)


কিছুক্ষণ পর দরজা খুলল শুভর খালা...

-কিরে কেমন আছিস??(শুভর খালা)

-হ্যা ভালো। তুই কেমন আছিস??(শুভর মা)

-হ্যা ভালো। এটা আমাদের শুভ না??

-হ্যা

-ও বাবা কত্ত বড় হয়ে গেছে। কেমন আছিস?? আর মাথা নিচের দিক কেনো??

-জানিস ই তো ও একটু লাজুক বেশি 

-হুমমম। আয় আয় ভেতরে আয়।


-কই গো দেখো কে আসছে। (ইরার মা ইরার বাবা কে ডাকল)


একটু পর উনি আসলেন। কথা বার্তা বললেন। খোঁজ খবর নিলেন। এবার তিনি শুভর দিকে তাকিয়ে বললেন

-কেমন আছো??

-হ্যা খালু ভাল আছি। আপনি ভালো আছেন??

-আছি ভালই। তো এখন কি করছো??

-গ্রামেই কাজ করছি

-তাহলে লেখাপড়া করলে চাকরি নিবে না??

-না খালু। ভালই তো চলছে

-হুমমম। আচ্ছা খাওয়া দাওয়া করো। পড়ে কথা বলছি। আমি একটু বাইরে যাবো।

-আচ্ছা ঠিক আছে...

(ইরার বাবা বাইরে চলে গেলো)

-এই বোন আয় একটু খেয়ে জিড়িয়ে নে।

-হুমমম তোর ছোট মেয়েটা কই??

-বাইরে গেছে

-বাইরে কোথায়

-আল্লাই জানে। তুই আয় কথা বলিস না। খেয়ে নে


তারপর খাওয়া দাওয়া করে। শুভর মা আর খালা গল্প করছে...আর শুভ তাদের গল্প শুনছে...

-তুমি বাইরে যাও ঘুরে আসো(শুভর খালা)

-না খালা। আমি চিনি না তো। বাইরেই থাকি।

-তাও কাছেই একটু হেটে আসো ভালো লাগবে

-হুমমম ঠিক আছে....


শুভ বাইরে এসে দাড়িয়ে আছে। পাশেই একটা রিক্সা। ঢাকা শহর তার এই প্রথম আসা। সব কিছু ভালভাবেই দেখছে...হঠাৎ একজন এসে বলল

-ভাই ভাই একটু তাড়াতাড়ি চলেন (একটা ছেলে)

-কোথায় যাবেন??(শুভ)

-ভাই দেখতেই পাচ্ছেন আমার বন্ধুর মাথা ফেটে গেছে। একটু হাসপাতালে নিতে হবে।

-ভাই রিক্সা তো আমার...

-প্লিজ ভাই চলেন

-ওকে


তারপর চিপায় পড়ে শুভ সেই রিক্সা নিয়ে দুজনকে একটা হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর আবার আগের জায়গায় রিক্সা নিয়ে আসে...এসে দেখে কিছু লোক দাড়িয়ে আছে সেখানে। হাতে লাঠি। রিক্সা টা দেখা মাত্রই....

-ওই চোর ধর ধর ধর


একটা লোক এটা বলে দৌড়ে এগিয়ে আসে....

-ওই রিক্সা চোর ধর

-না না আমি চুরি করি নি 

-তাহলে কি করছিস?? রিক্সা নিয়েই তো পালিয়ে ছিলি।

-আসলে আমি এখানে নতুন আসছি। আমি এখানে এই রিক্সাটার পাশেই দাড়িয়ে ছিলাম। আর এইযে উনারা (রিক্সার উপর বসা দুটি লোককে দেখিয়ে বলল) আমাকে এসে বলে....(তারপর পুরো ঘটনা টা বলল


-ভাই ভুল হয়ে গেছে মাফ কইরা দেন (লোকটি)

-আরে ভাই। আমার কিছু হারালে আমি এটাই করতাম....


সেখান থেকে শুভ বাসার ভেতর প্রবেশ করে....

-মা মা ও মা (শুভ)

-কি হয়েছে ডাকছিস কেনো??(শুভর মা)

-খুব খুদা লাগছে

-তো আমি কি করবো?

-খেতে দাও

-বাড়ি পাইছিস এটা??

-হ্যা এটা তো বাড়ি(শুভর খালা বলে উঠলো)

-না ও একটু এইরকমই(শুভর মা)

-বোন তুই না? আমাদের একটু পর ই মনে করিস

-না মানে

-হয়েছে থাক আর বলতে হবে না

-হুমমম

-শুভ আয় আমি তোকে খাবার দিচ্ছি

-হুমমমম(শুভ)


শুভ খেয়ে তার খালা কে বলল

-খালা একটু ঘুমাতে হবে। খাওয়ার পর না ঘুমালে আমার ভাল লাগে না (শুভ)

-হুমমম উপরে গিয়ে ঘুমা

-উপরে কোথায়??

-জানিস না কোথায়?? গেলেই দেখতে পাবি যা এখন


শুভ কিছু না বলে উপরে একটা রুমে গেলো। গিয়ে দেখলো,জিন্স প্যান্ট পরা একটা লোক গায়ে শার্ট ও আছে। চুল গুল অনেক বড় বড়...শুভ কিছু না ভেবে বলল

-ভাই আপনি ছেলে হয়ে এত বড় বড় চুল রাখছেন কেনো???(শুভ)


কথা টা শুনে পেছন ফেরে শুভর সেই ধারনা করা লোকটি...লোকটি আর কেউ নয়। এটা ইরা 

-আমাকে আপনার ছেলে মানুষ মনে হয়??(ইরা)

-আপনি দেখি মেয়েদের ভাষায় কথাও বলতে পাড়েন (শুভ)

-এই কে রে তুই?? মা মা ওমা (চিৎকার করল ইরা)


সাথে সাথে ইরার মা এসে হাজির


-কিরে কি হইছে??

-এই ছেলে টা কে???

-ও তোর খালাতো ভাই। আজই গ্রাম থেকে আসছে

-ওহহ সেই জন্য তো। খ্যাত তাই বুঝতে পারে নাই...

-কি হয়েছে??

-তোমার বোন এর ছেলে আমাকে ভাই বলেছে।

-ওহহ এই কথা। তোরা কথা বল। আমি গেলাম

-মা দাড়াও দাড়াও

-আবার কি???

-এই আপনি একটু আগে বাইরে রিক্সা নিয়ে দাড়িয়ে ছিলেন তাই না (শুভকে বলল)

-হুমমমম

-মা একটা রিক্সাওয়ালা আমার রুমে। ভাবা যায়

-শুভ তুই রিক্সা নিয়ে দাড়িয়ে ছিলি মানে

-আসলে খালা আমি(পুরো ঘটনা টা বলল)

-ওয়াও খুব ভাল কাজ করছিস তো। ওই দেখ দেখ। দেখে একটু শিক্ষা নে

-হইছে যাও তুমি(ইরা)


ইরার মা চলে গেলো। ইরা শুভর দিকে তাকিয়ে বলল

-সরি

-আরে না। ঠিক আছে।

-হুমম। তা আমার রুমে কি জন্য আসছিলেন???

-একটু ঘুমানোর জন্য

-ওহহ। ওই পাশের রুমটায় যান। রুম সুন্দর করে গোছানো আছে।

-আচ্ছা

-আরেকটা কথা

-কি??

-আপনার নাম কি??

-শুভ। আপনার??

-ইরা

-কিরা??

-না ইরা ইরা

-ওহহ

-হুমম যান এখন।


পরদিন সকাল ৯ টা.... ইরা ঘুম থেকে উঠে তার বাগানে হাটতে যায়। ইরার একটা ফুলের বাগান আছে। সেখানে ওনেক দামী দামী ফুলের চারা গাছ। ইরা তেমন পরিচর্যা করে না। তো ইরা ব্রাশ করতে করতে বাগান টার দিকে হাটতে গিয়ে দেখে, বাগানের মধ্যে কেউ একজন আছে...ইরা জোড়ে ডাক দিয়ে বলে


-ওই কে রে ওখানে???(ইরা)

-.........(কোনো সারা শব্দ আসেনা)

ওই কে ওখানে??ইরা এটা বলে বাগানের কাছে গেলো। গিয়ে দেখে শুভ..

-আরে আপনি এখানে কি করছেন??(ইরা)

-দেখলাম আপনার এই ফুলের বাগানটা নোংরা তাই একটু পরিষ্কার করলাম(শুভ)

-ভালই তো করছেন। তা এটা যে আমার বাগান এ কথা আপনাকে কে বলেছে??

-খালা বলেছে

-ওহহহ.

-হুমমম

-অনেক করছেন। আর করতে হবে না। বেড়িয়ে আসেন এখন

-হ্যা আসছি....


ইরার মা আর বাবার মধ্যে কথা হচ্ছে

-যানো শুভ কি করেছে??(ইরার মা)

-কি করেছে??(ইরার বাবা)

-কাল (পুরো কথাটা বলল)

-ছেলেটা তো ভালই তাই না

-হুমম ভালই তো

-আমি একটা কথা ভাবছি

-কি কথা???

-ইরার সাথে শুভর বিয়ে দিতে চাচ্ছি

-এতো খুব ভালো কথা। কিন্তু ইরা তো মানবে না মনে হয়

-কেনো??

-শুভ গ্রামের ছেলে তাই

-ওর কথা তো সবসময় থাকবে না। ওকে ডেকে পাঠাও দেখি ও কি বলে


কিছুক্ষণ পর ইরা আসলো

-মা তোকে একটা কথা বলি(ইরার বাবা)

-হ্যা বলো(ইরা)

-আমার একটা কথা রাখবি??

-কি কথা

-শুভর সাথে তোর বিয়ে ঠিক করেছি। তুই না করিস না

-বাবা কি বলো তুমি এগুলা। কোথায় আমি আর কোথায় ওই শুভ

-তোর থেকে ও অনেক ভালো

-বাবা এটা সম্ভব না

-কিভাবে সম্ভব করা যায়। সেটা আমার জানা আছে। তোমার বড়জন তো একজন কে নিয়ে গেছে। আর তোমাকে আমি ভরসা পাচ্ছি না। আর হ্যা রেডি হয়ে নাও আজই বিয়ে...

-পারবো না (অনেক রাগ দেখিয়ে ইরা তার রুমে চলে গেলো)

।।

।।

।।

।।ফিরে তুমি আসোনা

writer. moyej uddin

Part: 2 

((((((((((((((()))))))))))))))


-কিভাবে সম্ভব করা যায়। সেটা আমার জানা আছে। তোমার বড়জন তো একজন কে নিয়ে গেছে। আর তোমাকে আমি ভরসা পাচ্ছি না। আর হ্যা রেডি হয়ে নাও আজই বিয়ে...(ইরার বাবা)

-পারবো না (অনেক রাগ দেখিয়ে ইরা তার রুমে চলে গেলো)

-এই তুমি শুভ আর তার মাকে ডাকো(ইরার বাবা বলল)

-আচ্ছা আনছি..


একটু পর শুভ আর শুভর মা আসলো..

-আপা আপনাকে একটা কথা বলার আছে(ইরার বাবা শুভর মাকে বলল)

-কি কথা??

-আমি শুভর সাথে ইরার বিয়ে দিতে চাই

-কিন্তু ভাইজান, আপনারা আর আমরা

-আমি কিছু শুনতে চাই না।

-ইরা মা মনে হয় রাজি হবে না

-শুভ তোমার কোনো অমত আছে??(ইরার বাবা শুভকে বলল)

-মা যেটা বলে তাই হবে

-আপা আপনি রাজি হয়ে যান

-কিন্তু

-কোনো কিন্তু না। আপনি জানেন আমার বড় মেয়ে কে নিয়ে কি হয়েছে। আমি চাই না আমার ছোট মেয়ের সাথে এমন হোক

-হুমমমম

-আপা রাজি হয়ে যান

-আচ্ছা ঠিক আছে

-হুহ বাচালেন। শুভকে আমার খুব পছন্দ হয়েছে। আর হ্যা বিয়ে আজকেই হবে। আমি সব ব্যবস্থা করব এখনি। শুভ তুমি রেডি হয়ে নাও

-আচ্ছা


এদিকে ইরা রুমের মধ্যে ভাংচুর শুরু করেছে।

-মা মা (ইরা)

ইরার মা দৌড়ে ইরার রুমে গেলো

-কি হয়েছে

-এগুলা কি করছো তোমরা?? এটা কোনো কথা। হুট হাট বিয়ে

-তোর বাবা যেটা বলে সেটাই শোন

-আমি খ্যাত কে বিয়ে করতে পারব না।

-কই খ্যাত। অনেক ভাল ছেলে তো

-ধুররর ওর দিকে দেখছো। ঠিলে ঠালা প্যান্ট শার্ট পড়েছে। দেখতে মফিজ মফিজ লাগে

-ছেলে হিসেবে কিন্তু অনেক ভালো

-ধুররর যাও তো। যা ইচ্ছা তাই করো। আমি বলে দিচ্ছি আমি কিন্তু রাজি না এই বিয়ে তে

(ইরার মা কিছু না বলে চলে গেলো)

-উফফফফফ


সন্ধ্যায় ইরা আর শুভর বিয়ে হয়। ইরা অনেক কান্নাকাটি করে। তবুও কাজ হয় না। শুভর সাথেই তার বিয়ে হয়।


-শুভ তুমি ইরাকে নিয়ে ওর ঘরে যাও (ইরার বাবা)

-আচ্ছা (শুভ)


রুমে আসার পর...ইরা মনের ভুলেও শুভর দিকে তাকায় নাই। সে ফোনটা বের করে কাকে যেনো ফোন করলো


-হ্যালো বাবু আই এ্যাম সরি। আমাকে ক্ষমা করে দাও। বাবা আমাকে একটা খ্যাত এর গলায় ঝুলিয়ে দিয়েছে। (ইরা)


(ফোনটা ওপাশ থেকে কেটে দিলো। ইরা আর ফোন এর ওপাশে লোকটার সাথে কথা হলো। লোকটির কথা শুভ শুনতে পায় না।)


ইরা হাউ মাউ করে কান্না করতে শুরু করলো....এটা দেখে শুভ তার কাছে এগিয়ে গেলো...

-কি হয়েছে??(শুভ)

-...........(ইরা কান্না করেই যাচ্ছে)

-কি হয়েছে বলবেন তো

-কি রে তুই কে?? আমাকে জেরা করতেছিস

-না মানে

-তুই আমার ঘর থেকে বের হ। আমি তোকে মেনে নেই নি তো

-আচ্ছা শোনেন

-তুই বের হবি এখান থেকে

-কি যে বিপদ এ পড়লাম(শুভ ফিস ফিস করে বলল)

-কিরে বের হচ্ছিস না কেনো??

-বাইরে গেলে তো আবার আমাকে ভেতরে পাঠিয়ে দেবে

-তাহলে। আমার রুমের বারান্দায় যা

-কোন দিকে??

-ওই যে ওই দিকে


শুভ ইরার রুমের বারান্দায় চলে গেলো। আর এদিকে ইরা আবার কান্না শুরু করে দিছে। শুভ ভাবছে। ইরা হয়তো কাউকে ভালবাসে। আমার বিয়েটাতে আগেই মত দেওয়া ঠিক হয় নাই....না ওর কাছ থেকে শুনতে হবে। এটা ভেবে শুভ ইরার কাছে গেলো...


-এই যে শুনছেন (শুভ)

-আবার আসছিস তুই(ইরা)

-একটা কথা ছিলো

-কি কথা???

-আপনি কাউকে ভালবাসেন??

-সেটা যেনে তুই কি করবি??

-না মানে। বিয়ে টা হওয়ার পর থেকে দেখছি আপনি খুব কান্না করছেন

-হ্যা আমি একজন কে খুব ভালবাসি

-ওহহহ

-তোর কারনে আমি আমার ভালবাসাটা হারালাম

-হুমমমম

-এখন তো হুমম হুমম করবি। আমি তো বুঝতেছি

-আচ্ছা সরি

-এখন সরি বলে লাভ নেই

-ওহহ

-এই তোরে বলছি না আমার বারান্দায় যা। রুমের মধ্যে কেন তুই

-এমন করে কথা বলেন কেনো??

-বাব্বাহ তুই আমাকে কথা বলা শেখাবি

-আমি কি তাই বলছি

-তাহলে ভুল ধরলি যে

-ওটা তো

-চোপপপপ। কুত্তার বাচ্চা।

-আপনি কিন্তু বেশি বেশি করছেন


ইরা দৌড়ে গিয়ে শুভর গালে...

-ঠাসসস ঠাসসস ঠাসসস ঠাসসসস। আমি বেশি বেশি করি তাই না?? দেখ কত বেশি করতে পারি

-..................

-আমাকে তো চিনিস না। আমি কি করতে পারি

-...................

-তোর মতো মফিজ এর সাথে আমার বিয়ে হয়েছে। ভাবতেই পাড়ছি না আমি। হয় আল্লাহ কি করব আমি এখন(ইরা পুরো পাগল এর মতো হয়ে যায়)


শুভ আর কিছু বলে না । শুভ ভাবছে এটা মেয়ে না অন্য কিছু! কি জন্য যে বিয়ে টা করতে গেলাম। 


-এই শুনছিস(ইরা শুভকে ডাকল)

-জ্বি বলেন (শুভ)

-রুমের মধ্যে আয়

(শুভ বারান্দা থেকে রুমের মধ্যে আসল)

-জ্বি বলেন

-যা হবার হইছে। আমি এসব নিয়ে আর মাথা ঘামাতে চাই না

-কোনটা নিয়ে

-বিয়ে নিয়ে

-তো কি করতে হবে??

-তুই আমার অনেক বড় ক্ষতি করছিস। আমিও তোর অনেক বড় ক্ষতি করব

-কি করবেন???

-সেটা মুখে বলব না। পড়ে বুঝতে পারবি।

-হুমমম

-শোন

-হ্যা বলেন

-আমি ঘুমাবো। আমার পা টা টিপে দে

-আমারও যে খুব ঘুম পাচ্ছে

-ঠাসসসস চোপপপ পা টেপ

-হুমমমমম

-এখন তো বুঝতে পারছিস। তোর জীবন থেকে আমি কি কেরে নিতে যাচ্ছি

-হুমমম বুঝছি

-বল তো কি??

-সুখ আর শান্তি

-যাক বুঝছিস তাহলে

-হুমমমম

-শোন কাল থেকে তোর কাজ হলো আমি যা যা বলব সব করা ঠিক আছে??

-হ্যা

-যদি ভুল করিস। শুধু চড়াবো। 

-এত মারবেন কেনো??

-তোকে মারতাম না। মারব একটা কারনে

-কি কারন

-তুই আমার জীবন থেকে আমার কাছের মানুষ টিকে অনেক দূরে নিয়ে গেছিসস

-পুরো দোষ টা কি আমার

-হ্যা তোর ই তো

-আপনার বাবা ই তো বলল। বড় মেয়ে কে যেভাবে হারাইছে। আপনি যাতে ওইভাবে চলে না যান তাই বিয়ে দিয়ে দিলেন

-আর তাই তোর রাজি হতে হবে তাই না??

-হুমমম

-শোন

-হ্যা বলেন

-তোকে কখনো আমার পাশে ঘুমাতে দিবো না। আর মন থেকে অন্য কিছু আশা করবি না

-কিন্তু

-আবার আমার মুখের উপর কথা বলতে চাস.... ঠাসসসস। আমি যা বলছি তাই হবে

-আচ্ছা

-হুমম আমি এখন ঘুমাবো। তুই যা

-আচ্ছা...


পরদিন সকালে....

ইরা তার রুমের বারান্দায় গিয়ে দেখলো শুভ এখনও ঘুমাচ্ছে...

-এই ওঠ এই(ইরা)

শুভ লাফ দিয়ে উঠে বলল

-জ্বি জ্বি বলেন (শুভ)

-আমার ব্রাশ এ পেস্ট লাগিয়ে দে

-আপনার ব্রাশ কোথায়??

-কোথায় থাকে জানিস না

-না

-তা জানবি কেন?? আয় আমার সাথে


ইরা শুভকে বাথরুমে নিয়ে গেলো। প্রথমে ইরা ব্রাশ করলো। তারপর ইরা গোসল করবে। তখন ইরা বলল

-আমি গোসল করব। তুই দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখবি (ইরা)

-না

-আবার

-আচ্ছা


ইরা গোসল করা শুরু করলো। শুভ মাথা নিচের দিক দিয়ে দাড়িয়ে আছে।

-কিরে মাথা উপরে তোল আমি তো তোর বউ। দেখলে সমস্যা নেই। মাথা তোল

-হুমমম (শুভ মাথা তুলল না)


ইরা কাছে ঠাসসস ঠাসস করে দুটা চর লাগিয়ে দিলো আর বলল

-পুরো গোসল করার সময় টা আমার দিকে তাকিয়ে থাকবি...

-আচ্ছা....

।।

।।

।।

।।

।।

।।ফিরে তুমি আসোনা

writer. moyej uddin

Part: 3

((((((((((((((()))))))))))))))


ইরা কাছে গিয়ে ঠাসসস ঠাসস করে দুটা চর লাগিয়ে দিলো আর বলল

-পুরো গোসল করার সময় টা আমার দিকে তাকিয়ে থাকবি...(ইরা)

-আচ্ছা....(শুভ)

-আবার মাথা নিচের দিকে কেনো??

-আমি পারবো না

(ইরা কিছুক্ষণ ভেবে বলল)

-ওকে দেখতে হবে না। বাইরে যা

-হুমমমম

-যত্তসব 


ইরা গোসল করে রুমে আসলো। সে দেখে শুভ বসে বসে কি যেন ভাবছে..

-ওই কি ভাবছেন??(ইরা)

শুভ ইরার দিকে অবাক চোখেই তাকাল। মাত্রই মেয়েটা তুই করে বলল। এখন আবার আপনি করে বলা শুরু করছে...

-কি হলো কিছু বলছেন না যে(ইরা)

-ও হ্যা

-ও হ্যা তো বলতে বলি নি। আমি বলছি এখন কি ভাবছেন আপনি??

-মা চলে যাবে। এটা ভাবছি

-শুধু মা যাবে মানে! আপনি যাবেন না??

-হ্যা যাবো তো (ইরা এমন কথা বলবে শুভ ভাবতেই পারে নাই)

-তো

-কিছু না 

-হুমমম এখন নিচে যান

-আপনিও চলেন

-আপনি যান। আমি রেডি হয়ে আসছি

-হুমম আসেন তাহলে


শুভ নিচে আসলো। নিচে এসে দেখে তার মা ব্যাগ গুছিয়ে রেডি হইছে। সকালের খাওয়া শেষ করে রওনা দিবে।

-মা আমার ব্যাগ টাও গোছাও আমি বাড়ি যাবো(শুভ)

-বাড়ি যাবে মানে??(শুভর খালা)

-কি রে কি হইছে??(শুভর মা)

-না মা কিছু হয় নাই। আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারব না

-ওরে পাগল। এখন থাকতে হবে

-হা হা হা বোন তোর ছেলেটা মেয়েদের মতো। আর আমার মেয়েটা ছেলেদের মতো। বাবা থেকে দূরে থাকলেই বেশি ভালো থাকে ও(শুভর খালা)

-না সে জন্য না। আমি এখানে থাকতে পারব না(শুভ)

-কেন কোনো সমস্যা (খালা)

-না

-তাহলে থাকবে না কেনো(শুভর খালু রুম থেকে বেড়িয়ে এসে বলল)

-আসলে খালু গ্রামে অনেক কাজ পড়ে আছে...

-আমি কোনো কথা শুনতে চাই না। থাকতে বলছি থাকবা। আর হ্যা অনেক সময় হয়ে গেছে। সকালের খাওয়া টা সেরে নেই সবাই


(শুভ আর কিছু বলতে পারলো না)

খাওয়ার টেবিলে......

-এই তোমার ব্যাগ গুছিয়েছো(ইরা)

-কি জন্য ব্যাগ গোছাবে???(ইরার বাবা)

-না মানে বাবা ও বলল

-ও যাই বলুক তোমাকে সেটা নিয়ে ভাবতে হবে না।

-হুমমম


(শুভ কিছুই বলছে না। মাথা নিচের দিক দিয়ে খাচ্ছে)

ইরা এবার একটু হতাশ। সে কোনোরকম খেয়ে তার রুমে চলে গেলো। আর এদিকে শুভর মা বাড়ি যাওয়ার জন্য বের হইছে...ইরা কে ডাকছে কিন্তু আসছে না। অনেক ডাকা ডাকির পর....রুম থেকে বের হয়ে এসে বলল

-কি হইছে???(অনেক রাগি ভাবে)

-মা আমি চলে যাচ্ছি

-হ্যা যান দেখে যাইয়েন (এটা বলে আবার ভেতরে চলে গেলো)

(কথা টা শোনার পর শুভর খুব রাগ হলো)

-আসলে আদব কায়দা শেখেনি তো। তাই(ইরার মা)

-হুমমম বুঝছি তো বলতে হবে না

-হুমমম

-আচ্ছা ভাইজান আসি তাহলে। আর বোন তুই ওদের নিয়ে কিছুদিন পর যাবি কিন্তু

-হ্যা যাবো। তুই থাকলেই পাড়তি

-না রে আমার ওখানেই থাকতে হবে


(অনেক কথা বার্তা বলার পর শুভর মা চলে গেলো)

মাকে এগিয়ে দিয়ে এসে। শুভ সোজা ইরার রুমে ঢোকে...

-মার সাথে ওইরকম ব্যাবহার করলি কেনে??(শুভ)

-কেমন ব্যাবহার করছি(ইরা কথাটা খুব হেয়ালি ভাবে বলল)

-জানিস না তুই??

-না জানি না

-আর তুই আমাকে তুই তুই করে বলছিস কেনো?? তোর সাহস তো কম না

-তুই তো তো একটা বেয়াদব বড়দের সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় শিখিস নাই

-তুই আমাকে বেয়াদব বললি?? দাড়া


ইরা এসে শুভর গালে চর মারল। কিন্তু না চর টা মারতে পাড়ে নি। শুভ হাতটা ধরলো। আর শুভ কিছু না বলে...

-ঠাসসস ঠাসস ঠাসসস ঠাসসস(দুই গালে ৪ টা বসিয়ে দিলো)

-.............(ইরার চোখে পানি)

-কিরে কথা বলছিস না কেন

-.............

-দেবো আর কয়েকটা???

-............


শুভ ইরাকে ছেড়ে দিলো। ইরা ফ্লোরে বসে আছে। কান্না করছে তবে শব্দ ছাড়া। আর এদিকে শুভ বিছানায় বসে মাথা নিচের দিকে করে কান্না করছে। সেটা ইরা বুঝতে পাড়ছে না। শুভ কোনোদিন কোনো মেয়ের গায়ে হাত তুলে নাই। আর আজ সে তার বউ এর গায়ে হাত তুললল....(এসব কথা ভাবছে আর কান্না করছে)


কিছুক্ষণ পর শুভ চোখের পানি মুছল। আর মনে মনে চিন্তা করল মেয়েটার চলেফেরা আচার ব্যাবহার যেভাবেই হোক পাল্টে ফেলতে হবে।


শুভ উঠে গেয়ে ইরার সামনা সামনি বসলো....ইরা এখনও কান্না করছে..

-সরি(শুভ)

-..........

-আপনার ব্যাবহার দেখে তখন খুব রাগ হইছিলো আমার

-আপনি আমাকে মারছেন, শোধ নিছেন। আর কোনো সরি বলতে হবে না যান এখান থেকে

-কই যাবো বলেন

-যেখানে ইচ্ছা যান

-হুমমম তবে যাই বলি। আপনি কিন্তু দেখতে অনেক সুন্দরী। আমার বউ যে এত সুন্দর হবে আমি ভাবতেও পারি নি

-পাম দেওয়া লাগবে না। আর আমি আপনার বউ না। আমি এই বিয়ে মানি না

-তাই

-হ্যা। আর এ কথা আমি এর আগেও আপনাকে বলছি

-হুমমম। তো আপনি কোনেদিন মানবেন না??

-না মানবো না

-ওহহহ। ওকে বসে থাকেন। আমি নিচে যাই।


সেদিন বিকেলে... ইরা রেডি হয়ে কোথায় যেনো যাচ্ছে। ইরার মা দেখে বলল

-কই যাস??

-বাইরে একটু কাজ আছে

-কি কাজ??

-সব কথাই কি বলতে হবে??

-না। আচ্ছা শুভ কে নিয়ে যা

-না একাই যাবো

-ওকে নিয়ে গেলে তোর ভালো হবে। আর ও নতুন আসছে কিছু চেনে না

-না পারবো না

-আমি তো সাথেই যাবো(শুভ কোথা থেকে যেনো হাজির হয়ে বলল)

-হাইরে 

-সে যাইরেই বলেন। আমি যাবোই

-হুহ আসেন

-দেখে যাস(ইরার মা)

-প্রতিদিন তো তাই যাই


(ইরা আর শুভ চলে গেলো)

-কি মেয়েরে বাবা ধুররর(ইরার মা)


বাইরে এসে দুজন হাটছে...

-কই যাবেন??(শুভ)

-কোথাও না (ইরা)

-তো বের হলেন যে

-প্রতিদিন বের হই। এই টাইমে বাসায় থাকলে আমার দম বন্ধ হয়ে যাবে। তাই বের হইছি

-ওহহহ তাই তো বলি 

-কি বলেন??

-কোনো জরুরি কাজ থাকলে তো আমাকে নিয়ে আসতেন না

-হুমম বুঝতে পারছেন

-হুমমম


দুজনই চুপচাপ হাটছে...

-এই থামেন থামেন (ইরা)

-কেনো??(শুভ)

-আমার ফ্রেন্ড আসছে

-ওই মেয়েটা??

-হ্যা

-ওহহ ভালে তো পরিচিত হওয়া যাবে

-না প্লিজ আপনার পায়ে পরি। ওর সাথে কথা বইলেন না।

-কেনো??

-মানে আপনার সাথে যে আমার বিয়ে হইছে। এটা ও যানে না আর আপনার যা অবস্থা খেত খেত। ও জানতে পারলে আমি খুব অপমানিত হবো

-তাই??

-হুমমম

-তো উনি তো কাছে চলে আসছেন এখন কি করতে পারি??

-উমমম। এই যে সি এন জি দেখছেন এটার ড্রাইভার এর অভিনয় করেন

-ড্রাইভার??

-হুমম

-ওকে


-ওই ইরা (মেয়েটি)

-হ্যা দোস্ত কেমন আছিস?? (ইরা)

-ভালো তুই কেমন আছিস??

-ভালো। কোথাও যাচ্ছিলি নাকি??

-না এমনি হাটছি

-ওহহ তাহলে চল আমার সাথে

-কই যাবি??

-আমার একটা কাজ আছে।

-ওকে চল

-না দাড়া

-আবার কি হলো??

-সি এন জি নিয়ে যাই

-না মানে

-এই সি এন জি যাবেন??

-যা যা যা(শুভ)

-এই তোতলা নাকি আপনি??

-ক ক ক কই যাবেন??

-ধুরর মিয়া আপনি তো কথাই বলতে পারনে না।

-এটা ছাড় আরেকটা গাড়ি দেখ(ইরা)

-দেখতেও তো পাচ্ছি না

-হুমম

-না এই গাড়িটা নিয়েই যাই। এই চলেন

-মানে মানে (শুভ ঘামছে। সে তো আর সি এন জি চালাতে যানে না)

।।

।।

।।

।।ফিরে তুমি আসোনা

writer. moyej uddin

Part: 4 

((((((((((((((()))))))))))))))


-এটা ছাড় আরেকটা গাড়ি দেখ(ইরা)

-দেখতেও তো পাচ্ছি না

-হুমম

-না এই গাড়িটা নিয়েই যাই। এই চলেন

-মানে মানে (শুভ ঘামছে। সে তো আর সি এন জি চালাতে যানে না)

-মানে মানে করেন কেনো?? চলেন

-না যাবো না

-ওই মিয়া যাবেন না কি জন্য??

-এমনি

-ভাড়া বেশি দিবো চলেন

-না আমি যাবো না

-থাক না। আরেকটা গাড়ি দেখ(ইরা)

-হুহহহহ


এমন সময় ওই মেয়েটির ফোনে একটা ফোন আসে...আর মেয়েটি বলল

-দোস্ত (মেয়েটি)

-হ্যা বল (ইরা)

-আমার যাওয়া মনে হয় হবে না। বাড়িতে থেকে ফোন দিয়েছিলো তারাতারি যেতে বলল

-ওহহ

-হ্যা তাহলে বাই এখন

-ওকে যা

(মেয়েটি চলে গেলো)

-হুহ। এই যে আসেন। হাটি এখন..(ইরা শুভ কে বলল)

-হুমমম চলেন


.....


-আচ্ছা একটা কথা বলি(শুভ)

-হুমমম বলেন (ইরা)

-আমাকে আপনার ফ্রেন্ড দেখলে আপনি অপমানিত হবেন কেনো??

-আরে এটাই বোঝেন না??

-না

-আপনি গায়েঁর ছেলে। গাইয়া গাইয়া ভাব স্মার্ট না। আর বড় কথা হলো, আপনি তো আমার বর না। আমার বর হলো আমি যাকে ভালবাসি সে

-ওহহহ ভালো

-হুমমম। কিছু খাবেন??

-কি খাবো??

-সেটাই তো বলছি। কিছু খাবেন??

-না এখন কিছু খাবো না

-ওহহহ। আমি একটা কথা জিজ্ঞাস করি

-হুমম করেন

-আপনি কাউকে ভালবাসেন??

-না তবে একজন কে ভালো লাগতো

-কে?? নাম কি??

-আমি যখন ক্লাস নাইন এ পড়তাম তখন পছন্দ করতাম। 

-কেনো এখন করেন না??

-না। দেখি না তো

-ওহহ কই গেছে

-তাও যানি না

-তার নাম কি??

-যানি না

-হা হা হা হা হা

-হাসছেন কেনো??

-আপনার অবস্থা দেখে

-কি অবস্থা?? কিসের অবস্থা??

-লাভ স্টোরির অবস্থা

-ওহহহ।

-জানেন আপনাকে আমার দেখতে ইচ্ছা করে না 

-কারন টা কি??

-জানি না। তবে দেখতে ইচ্ছা করে না

-হুমমম

-কি হুমম?? রাগ করলেন??

-রাগ না। তবে মন খারাপ।

-রাগ করলেন না কেনো??

-এখন আমি মানুষ সবাই যে আমাকে সহ্য করতে পারবে এমন তো নয়।

-হুমমম তাও ঠিক।

-হুমমম

-তাহলে আমায় বিয়ে করলি কেনো??

-না মানে খালুর কথায়।

-খালুর কথায় তাই না?? মানডা চায় তোরে এখানই পুঁতে রাখি

-এখানে বকা বকি কইরেন না। বাসায় গিয়ে যত ইচ্ছা বকা দিয়েন

-হুহহ

-রিক্সা নেন একটা (ধমক দিয়ে)

-বাসায় ফিরবেন??

-হ্যা। তা নয় তো কি??

-ওহহহ


তারপর রিক্সা নিয়ে বাসায় ফিরে আসে। রাতে খাওয়া শেষ করে ঘুমোতে যায় শুভ ইরার ঘরে। কিন্তু ইরা দরজা ভেতর থেকে আটকে দিছে।

-এই যে শুনছেন??(শুভ)

-............(ভেতর থেকে কোনো আওয়াজ নেই)

-দরজা খুলেন আমি ভেতরে যাবো

-............

-ঘুমিয়ে গেছেন নাকি??

(ইরা তার বিছানা থেকে উঠে এসে দরজা টা খুলে দেয়। আর শুভ ভেতরে প্রবেশ করার সাথে সাথে...)

-ঠাসসস ঠাসসসস ঠাসসস

-কি হয়েছে(শুভ)

-ঠাসস ঠাসসস

-কি করছি আমি??

-ঠাসস ঠাসস

-...............

ইরা কান্না করছে। আর শুভ কথা বললেই শুভ কে মারছে। মারতে মারতে ইরা যখন ক্লান্ত হয় তখন শুভ একদম নরম গলায় কান্না কান্না ভাবে বলে....

-আমি কি করছি?? নাকি এমনি মারলেন??(শুভ)

(ইরা আবার গরম হয়ে উঠে। শুভর কলার ধরে বলে)

-তোর সাথে যে আমার বিয়ে হয়েছে। সেটা আমার বি এফ যেনে গেছে

-কিভাবে???

-আমার বাবার সাথে তার পরিচয় ছিলো। দেখা হওয়ার পর বলছে।

-.............

-এখন আমাকে ফোন দিয়েছিলো। আমাদের মাঝে সব কিছু শেষ করে দিয়েছে। সব কিছুতেই আমাকে ব্লক করে দিয়েছে

-ওহহ

-এখন ওহহ বলছিস?? ঠাসসস ঠাসস

-একটা কথা বলি

-বল

-আর মাইরেন না। গাল বেশি ফুলে গেলে খালা খালু কে কি বলব

(ইরা আর মারল না। তার বিছানায় গিয়ে বসল। আর শুভ দরজার কাছে সেইভাবে দাড়িয়ে আছে। মাঝে মাঝে গালে হাত বুলাচ্ছে। তার গালটাতে হাত ও দেওয়া যাচ্ছে না।)


ইরা কান্না করতে করতে ঘুমিয়ে যায়। শুভ সেইভাবেই দাড়িয়ে থাকে। একটু নড়াচড়াও করলো না। কি যানি তার মন এখন কি বলছে। রাত ১ টার পর ইরার কান্নার আওয়ার শুনতে পায় শুভ। কিন্তু অনেক আস্তে আস্তে। শুভ তার কাছে এগিয়ে যায়। দেখে চোখ বন্ধ কিন্তু কান্না করছে। শুভ ভয়ে আর কিছু বলল না। আবার দরজার কাছে চলে আসলো। কিছুক্ষণ পর ইরা কেঁপে কেঁপে উঠলো। শুভ দেখে আবার এগিয়ে গেলো....মাথায় হাত দিয়ে দেখে অনেক জ্বর...


-মেয়েটার তো অনেক জ্বর আসছে। (শুভ বলল)

এদিকে ইরার জ্বরের মধ্যে আবল তাবল বলা শুরু করে দিছে। শুভ তাকে জলপট্টি করে দিলো। তাতেও কাজ হলো না। একদম সকাল পর্যন্ত জলপট্টি করে দেয়। ইরা সকাল বেলা। মোটামুটি সুস্থ হয়ে যায়...


সকাল বেলা..

-এই তুই এখানে কেনো??(ইরা)

-আগেই মাইরেন না আমি বলছি

-........

-আপনার জ্বর আসছিলো। তাই একটু জলপট্টি করে দিছি।

-তুই আজকেই গ্রামে চলে যাবি

-যদি যেতে না দেয়।

-তাও যাবি

-আচ্ছা

-কথা না বলে এখান থেকে যা ঘুমাতে দে।

(শুভ সেখান থেকে চলে গেলো)

।।

।।

।।

।।ফিরে তুমি আসোনা

writer. moyej uddin

Part : 5

((((((((((((((()))))))))))))))


-তুই আজকেই গ্রামে চলে যাবি(ইরা

-যদি যেতে না দেয়।(শুভ)

-তাও যাবি

-আচ্ছা

-কথা না বলে এখান থেকে যা ঘুমাতে দে।

(শুভ সেখান থেকে চলে গেলো)


সে নিচে এসে ইরার বাগানে ঘুরছে। ইরাও আবার ব্রাশ করতে করতে সেখান টায় চলে এলো। শুভ খেয়াল করে দেখলো ইরার চোখে পানি। লাল হয়ে গেছে চোখটা।

-আচ্ছা আমি চলে গেলে কি সব ঠিক হয়ে যাবে??(শুভ)

-জানি না(ইরা)

-না এভাবে কথা বইলেন না। যা হবার হইছে। একটা সমাধান এ তো আসতে হবে

-কিসের সমাধান??

-মানে আমি চলে গেলে আপনার উনি কি আপনাকে মেনে নেবে??

-আমার বিশ্বাস নেবে। না নিলেও ওকে বোঝাবো। আর তাও যদি না নেয় সমস্যা নেই। আপনি চলে গেলেই ভালো

-ওহহহ। তাহলে খালা কে বলি??

-যা ইচ্ছা করেন। শুধু মাথায় রাইখেন আপনি আমায় মুক্তি দিবেন

-ওকে ওকে সমস্যা নেই

-হুমম

-বাগানের ফুল গুলো ভালই বড় হইছে তাই না??

-হুমমম। আরও বড় হবে

-হুমম। একটু পরিষ্কার করলে সুন্দর দেখা যায়।

-যানি। আলসেমির কারনে করি না

-ভালো


ইরা সেখান থেকে চলে গেলো। শুভ গোসল করবে তাই সে বাথরুমে গেলো। আর বরাবরই সে ইরার টাই ব্যাবহার করে থাকে। বাথরুমে ঠুকতেই..

-আআআআআআআআআ-আআআআআআআআআআআআ

(ইরা)

শুভ দৌড়ে বাইরে চলে আসলো।

-হুহ এমন কেনো হলো(শুভ)


শুভ ভয়ে কাপতেছে। ইরা এসে আবার মারবে না তো?? শুভ রুমেই বসে ছিলো। কিছুক্ষণ পর ইরা বের হলো বাথরুমে থেকে..

-এই আপনার আক্কেল জ্ঞান নেই??(ইরা)

-আছে তো(শুভ)

-ভেতরে গেলেন যে

-আমি গোসল করার জন্য গিয়েছিলাম

-তো ভেতরে কে আছে সেটা তো বুঝতে হবে তাই না??

-হ্যা কিন্তু দরজা তো লক করা ছিলো না

-ওহহহ। ওকে


(শুভ একটু মুচকি হাসলো)

-এই আপনি হাসাছেন কেনো??

-কই না তো

-না আমি দেখছি আপনি হাসছেন

-না

-ওই কিছু দেখেন নাই তো??

-কি দেখবো??

-কি দেখবেন মানে?? ভেতরে যে গিয়েছিলেন কিছু দেখছেন??

-না।

-হুমম ঠিক আছে। এখন আপনি গোসল এ যান

-আচ্ছা


গোসল করা শেষে, সকালে খাবার টেবিলে...

-খালা একটা কথা ছিলো(শুভ)

-কি??(খালা)

-মার কথা খুব মনে পড়ছে। আমি বাড়ি যাবো

-দুই দিন হলো তোমার মা গেছে। এখনই যেতে হবে??

-হ্যা ভালো লাগছে না

-ওহহ। আচ্ছা ইরা তুই ওর সাথে যা। বাড়ি টা দেখে আয়। গ্রাম ঘুরে আয়

-না না না মা আমার কাজ আছে (ইরা)

-না কোনো কাজ নয় তোকে যেতেই হবে

-না আমি পারবো না

-শুভ তোকে বিয়ে করেছে। গ্রামে ওদের আত্নীয় আছে। তারা তো তোকে দেখবে। তার জন্য এখনই ঘুরে আয়

-না খালা থাক ও (শুভ)

-তুমি চুপ করো। 

-না মা যেতে পারবো না। প্লিজ এসব বলো না

-আমি যা বলছি তাই হবে।

-ধুররর পারবো না (ইরা খাওয়া রেখে রুমে গেলো)

-শুভ(ইরার মা)

-জ্বি খালা

-ওকে একটু বুঝাও। যাতে ও তোমার সাথে যায়

-কিন্তু

-কোনো কিন্তু না

-জ্বি। কি মহাবিপদ রে ভাই(শুভ বলল মনে মনে)


শুভ ইরার রুমে গেলো। গিয়ে দেখে আবার রাগে ফোস ফোস করছে।

-আচ্ছা শোনেন রাগ করতে হবে না। আমি একটা সমাধান খুঁজে পেয়েছি

-বলেন

-আপনি আমার সাথে যাবেন

-কি বললেন??

-আগে পুরো কথাটা বলতে দেন

-হ্যা বলেন

-আপনি আমার সাথে যাবেন। কিন্তু ফেরার সময় একাই ফিরবেন।আমি আপনার সাথে ফিরবো না।

-............

-দেখেন এটা ছাড়া আর কোনো উপায় তো দেখছি না।

-হুমমম

-তো আপনি কি ভাবছেন??

-আপনার কথাটাই ঠিক।

-হুমমম

-ওকে চলেন

-কোথায়??

-আপনার বাড়ি

-এখনই

-তো কখন??

-ওহ চলেন


ইরার বাসা থেকে বিদায় নিয়ে। শুভ আর ইরা রওনা হলো। ইরাদের বাসা থেকে শুভদের বাসা প্রায় ৩ ঘন্টার মতো লাগে। বাসে যেতে হয়...তারা বাসে উঠলো

-ওই ওই জানালার কাছে আমি বসব (ইরা)

-হুহ বসেন

-খুব গরম লাগছে। ফ্যান ছাড়তে বলেন

-বাস ছাড়লে আর গরম লাগবে না

-ওহহ তাই

-জ্বি। যানে না মনে হয় ঠং করে ফিস ফিস করে বলল)

-এই আপনি মনে মনে আমাকে বকা দিছেন তাই না??

-কই না তো

-হ্যা দিয়েছেন

-না

-হ্যা

-আচ্ছা কিছু খাবেন??

-অবশ্যই না

-ওহহ

-আমি বাইরের জিনিস খাই না

-ওহহ


১ ঘন্টা যাওয়ার পর। প্রকৃতি টা পাল্টে গেলো। ইরা এখন শহরের ইট দেয়াল এর পরিবর্তে দেখতে পাচ্ছে কৃষকদের বাড়ি ঘর খেত খামার... হঠাৎ ইরা প্রশ্ন করল

-আচ্ছা একটা সত্যি কথা বলুন তো(ইরা)

-কি???(শুভ)

-আপনি কি আমাকে ভালবাসেন

-কই না তো

-সত্যি বলতে বলছি কিন্তু

-হুমম

-কি হুমমম

-একটু একটু বাসি

-ওহহহ

-আপনি বুঝলেন কিভাবে??

-৩০ মিনিট ধরে আমার দিকে একভাবে তাকিয়ে আছেন সেটা দেখেই বুঝতে পাড়ছি

-ওহহ

-জ্বি। আচ্ছা ওই নদীটার নাম কি(ইরা)

-ওইটা তো নদী না

-তাহলে

-ওটা বিল

-বিল এর নাম কি??

-তা তো জানি না

-তো বুঝলেন কিভাবে ওইটা নদী না বিল??

-বিল এর পানিতে স্রোত থাকে না

-ওহহ তাহলে নদীর পানিতে স্রোত থাকে??

-জ্বি। আর এখানে ফসল আবাদ হয়। বেশি পানি নেই। বৃষ্টি তে হালকা পানি জমছে। দূর থেকে দেখছেন তাই বুঝতে পাড়ছেন না

-ইহহহহ এখন তো বুঝছি

-হুমম

-দেখেন সাদা পাখি (শুভ হাতটা ধরে)

(এই প্রথম ইরার হাতের স্পর্শ পেলো। এর আগেও পেয়েছে কিন্ত অন্যভাবে। বুঝতেই পারছেন।)

-না ওগুলো সাদা পাখি না

-তাহলে কি??

-বক

-ওহহ

-কোথায় যাচ্ছে ওরা??

(ইরা এরকম বাচ্চাদের মতো প্রশ্ন করায় শুভ একটু মুচকি হাসে)

-ওরা বাসায় যাচ্ছে।


এটা বলার সাথে সাথেই বাসের মধ্যে সবাই চিৎকার করে উঠে। বাসটা উল্টে একটা পুকুরে পড়ে যায়।

কিছু সময়ের মধ্যে অনেক লোক জড়ো হয়। বাস থেকে সবাই কে বাহির করে আনে। শুভ কে বাহির করা হয়। সে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে ছিলো। বাহিরে আনার পর তার জ্ঞান ফিরে। আর সে ইরা কে খুঁজতে থাকে।


সে কিছুক্ষণ পর ইরাকে পায়। দেখে মেয়েটা শুয়ে আছে কোনো কথা বলছে না। তার কাছে গিয়ে দেখলো সে নিশ্বাস নিচ্ছে। প্রায় ১৬ জন এর মতো তখনই মারা যায়। শুভ ইরাকে একটা গাড়িতে নিয়ে দ্রুতই একটা হাসপাতালে নিয়ে যায়। গাড়িতে আহত আরও কয়েকজন ছিলো। শুভর কোলে ছিলো ইরা। শুভ তেমন কথা বলতে পারছে না। তার অনেক খারাপ লাগছে। শরীরে অনেক জায়গায় কেটেও গেছে.....


ইরাকে হাসপাতালে আনার পর শুভ ভর্তি করায়। ডাক্তার বলে..

-অনেক রক্ত ক্ষরণ হইছে। রক্ত লাগবে ২ ব্যাগ (ডাক্তার)

-ওকে দিন(শুভ)

-কিন্তু!!

-কিন্তু কি??

-রক্ত নেই এখানে

-পাওয়া যাবে না??

-না। এখানে যে পাওয়া যাবে সে সম্ভবনা নেই।

-আচ্ছা আমার রক্ত দেওয়া যাবে না

-আপনি তো আহত। আপনার আবার পরে সমস্যা হতে পারে

-কিচ্ছু হবে না

-ওকে আপনি আসেন রক্ত পরীক্ষা করে তারপর দেখি কি করা যায়....

-হুমমম চলেন...

।।

।।

।।

।।

।।ফিরে তুমি আসোনা

writer. moyej uddin

END PART

(((((((((((((())))))))))))))


-আপনি তো আহত। আপনার আবার পরে সমস্যা হতে পারে(ডাক্তার) 

-কিচ্ছু হবে না(শুভ)

-ওকে আপনি আসেন রক্ত পরীক্ষা করে তারপর দেখি কি করা যায়....

-হুমমম চলেন...


১২ ঘন্টা পর...


ইরার জ্ঞান। ফিরেছে। তার হাত টা ভেঙ্গে গেছে। মাথায় প্রচুর আঘাত পাইছে। তার জ্ঞান ফেরার পর সে তার বাবা মাকে দেখতে পায়। উনারা খবর পেয়ে এসেছেন।

-মা, বাবা (ইরা)

-হ্যা মা এখন কেমন লাগছে তোর??(ইরার মা)

-হ্যা একটু ভালো।

-যানো মা ওর সাথে যদি আমি না আসতাম। তাহলে আর আমার এমন হতো না। শয়তান টাকে পেলে এমন মারা মারব। হাতটা ঠিক হোক আগে ।

-হুমমমমম


তখনি একটা ডাক্তার এলো।

-এখন কেমন বোধ করছো??(ডাক্তার)

-হ্যা ভালো(ইরা)

-আচ্ছা শুভকে এখন ওর গ্রামে নিয়ে যাওয়া হবে। আপনারা তো ওর রিলেটিভ হন। একবার দেখে যান।

-কি হইছে (ইরা)

-শুভ নেই (ডাক্তার)

-নেই মানে???

-মারা গেছে

-মা

-হ্যা রে শুভ নেই...

-ম ম ম মানে ও নেই

-না

-কিভাবে কি হলো??

-এখন না তোমাকে পরে সব বলব এখন তুমি রেস্ট নাও(ডাক্তার)

-না এখনই বলতে হবে...(ইরা)

-আসলে শুভ যখন আপনাকে এই হাসপাতালে নিয়েয়ে আসে। ওকে তখন ভালই স্বাভাবিক দেখাচ্ছিলো।

পরে আপনার ২ ব্যাগ রক্ত প্রয়োজন হয়। ওর রক্ত পরীক্ষা করে আপনাকে ২ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়। আর আপনাকে বেডে রেখে সে বাইরে দাড়িয়ে ছিলো।

-থামলেন কেনো?? তারপর

-তারপর আমাদের একটা নার্স দেখে যে ছেলেটা ফ্লোরে শুয়ে আছে। নার্স টা এগিয়ে গিয়ে দেখে যে ছেলের মাথা ফেটে গিয়েছিলে।

-আপনারা আগে বুঝতে পারেন নি??

-তার মাথায় কাপর বাধা ছিলো। বোঝা যায় নি।

-তারপর কি হলো

-পরে আমরা দেখি যে মাথা ফেটে ছেলেটা মারা গেছে

-...............

-তবে একটা অবাক বিষয় কি জানেন??

-কিহহহ

-ছেলেটা এত আঘাত পাওয়ার পর ও আমাদের সাথে খুব ভালভাবে কথা বলছে। আপনার যাতে কোনো অসুবিধা না হয় সে কথাও বলছে।

-ও কিছু বলল না কেনো তাহলে

-আমার মনে হয়। আপনার কখন কি লাগবে বলা যায় না তাই হয়তো ওইরকম করেছে।

-.............

-আচ্ছা একটা কথা বলুন তো

-জ্বি বলেন

-ছেলেটা আপনার কি হয়??

-স্বামী

-কিহহ স্বামী??

-হ্যা

-এই আপনারা তো একথা বলেন নি(ডাক্তার ইরার বাবা মা কে বলল)

-সেই সময় টুকু হয় নি

-ওহহহ। যাই হোক ছেলেটা আপনাকে অনেক বেশি ভালবাসছিলো। না হলে নিজের জীবন এভাবে আরেকজনের জন্য বিলিয়ে দেওয়া খুবই কঠিন। (ডাক্তার চলে গেলো)


ইরার বাবা মা ইরার পাশেই বসে আছে। তারা তেমন কোনো কথা বলছে না। চোখে পানিও নেই। একদম নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। আর এদিকে ইরা যেনো কি ভাবছে....

-মা আমি ওকে দেখবো(ইরা)

-........

-ওমা আমি ওকে দেখবো (ইরা শুভকে দেখার জন্য পাগল হয়ে যায়।)


ইরা তো আর উঠতে পারবে না। তাই অনেক জোড়াজুড়িতে শুভর লাশ টাকে ইরার কাছে আনা হয়.....লাশটা আনার পর ইরা একভাবে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে। পুরো মুখটা ভালো ভাবে দেখছে। ইরা ভাবছে...


-এই যে আপনার এই খ্যাত মার্কা ভাব আর ধইরেন না তো উঠেন। আর হ্যা আমি আপনাকে কয়েকটা চর মারবো। আমাকে জোড় করে আপনি এখানে নিয়ে আসছেন।( এসব কথা ইরার মনের মধ্যে ঘুর ঘুর করছিলো)


হঠাৎ ইরা ভাঙ্গা হাত দিয়ে শুভর গালটাকে স্পর্শ করে। কখনো ভালভাবে ধরা হয়নি গালটা। যত বার ধরছে তত বার মার পরছে গালটাতে। ছোট ছোট দাগ গুলো এখনো আছে....


-এই উঠো তো আমি তোমাকে মারব (ইরা)


ইরার এমন কথা শুনে সবাই চমকে যায়। সবাই ভাবছে ইরা আবার পাগল হলো না তো।

-এই উঠো না কেনো?? উঠো বলছি। আমি কিন্তু এক কথা বেশি বলি না। না উঠলে আমি কিন্তু রেগে যাবো।


ইরার এমন কথা শুনে। শুভর লাশটাকে তারাতারি সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। ইরার বুকের মধ্যে মোচর দিয়ে উঠলো, হয়তো সে শুভকে দেখতে পারে না। কিন্তু এখন বুকের মধ্যে এমন করছে কেনো??


ইরার বাবা মা লাশের সাথে চলে যায়। আর এদিকে হাসপাতালে ইরা একা।

আগের কথা গুলো ভাবছে...আর ইরা হঠাৎ ই ঘুমিয়ে যায়... স্বপ্নে শুভ আসে তার কাছে...


-এহমম এহমমম(শুভ)

-এই আপনি এখানে(ইরা)

-কি আর করবো আসতে হলো

-কি জন্য আসছেন??

-সেটা বলব। তার আগে বলেন আজ একটা মাইর ও কিন্তু দিবেন না

-ওকে বলেন

-আমি আপনাকে ভালবাসে

-আপনকে আমি....(মাইর দেওয়ার জন্য হাত তুলছে)

-এই এই বললাম না মাইর দিবেন না

-আচ্ছা তারপর

-তারপর। আমি আপনাকে ছেড়ে চলে আসছি

-হুমমম চলে গেলেন কেনো এইভাবে??

-কোথাও বসে কথা বলি

-হুমমম


তারা ঘাসের উপর বসল। সামনে একটা পুকুর ছিলো....

-এখন বলেন (ইরা)

-ও হ্যা। আসলে আপনি তো আমাকে অনেক মারতেন সহ্য করতে পারতেন না তাই

-আর

-আর আমি আপনাকে কথা দিয়েছিলাম আপনি বাসায় ফিরবেন একা আমি ফিরবো না তাই হয়েছে

-আমি এখন তোমাকে ভালবাসি

-কিহহ। পাগল হয়ে গেছেন তাই না?? এটা সম্ভব না। এখন আমি ফিরতে পারব না

-না ফিরে আসো প্লিজ

-কি যে বলেন না?? পারবো না তো

-চর মারব কিন্তু দেইখেন নি

-ওকে একটা চর মেরেই দেখেন


ইরা একটা চর মারল কিন্তু শুভর গায়ে লাগল না....

-আমি আপনার স্বপ্নে কেনো আসছি জানেন??

-কেনো??

-একটা কথা বলার জন্য

-কি কথা??

-ভালবাসি

-.............

-ভয় পাইছেন আবার তাই না। ভয় পেতে হবে না আমি এখনই চলে যাবো

-না তুমি ফিরে আসো

-সম্ভব না


শুভ বসা থেকে উঠে দাড়ালো। ইরা বসেই রইলো। ওঠার মত শক্তি সে পাচ্ছে না। শুভ একটা লাস্ট কথা বলল

-ভালো থেকো।(এটা বলে হাটতে শুরু করলো)

ইরা উঠার অনেক চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না। উঠে সে শুভ কে আটকাবে মনে মনে চিন্তা করেছে। কিন্তু সে পাড়ছে না.......


শুভ হাটতে হাটতে অনেক দূর চলে গেছে। ইরা ওখানেই বসে দেখছে। হাটতে হাটতে শুভ যেনো কোথায় মিলিয়ে গেলো...ইরা জোড়ে চিৎকার দিলো

-শুভওওওওওওওওওওওও-শুভওওওওওওওওওওওওওওওও


স্বপ্ন ভাঙল ইরার। নার্স এসে তাকে শান্ত করলো। ইরা হাসপাতালে সাতদিন ছিলো। শুভ মারা যাওয়ার ৪ দিন এর মাথায় তার মা মারা যায় তার কয়েকদিন পর।


১০ দিন পর ইরা মোটামুটি সুস্থ হয়ে উঠে। ইরার বাবা মা আর ইরার তিনজনেরই মন খুবই খারাপ। তারা বাসায় ফেরার জন্য বাসে উঠে...


ইরা সিটে বসে বাইরের সবকিছু দেখছিলো। হঠাৎ সেই বিলটা ইরার চোখের সামনে ভেসে উঠে। ইরা তখন বিলটা দেখে বলেছিলো ওই নদীটার। নাম কি?? শুভ উত্তরে বলেছিলো ওটা নদী না ওটা তো বিল.....ইরার চোখে পানি এসে যায়। হয়তো এখন পানি এসে কোনো লাভ নেই...


ইরাদের বাসটি চলে গেলো। পেছনে ফেলে গেলো কিছু স্মৃতি যা কখনই জীবন থেকে ভোলার নয়....

।।

।।

।।

....................END....................

..

..

..

..

#SSSS

।।

।।

।।

।।

।।

।।

।।

।।

পরের পার্ট ই শেষ...

চলবে

#SSSS

।।

।।

।।

।।

।।

।।

চলবে

#SSSS

।।

।।

।।

।।

।।

।।

।।

চলবে

#SSSS

।।

।।

।।

।।

।।

।।

।।

।।

।।

।।

।।

।।

।।

।।

চলবে

#SSSS

।।

।।

।।

।।

।।

।।

চলবে

#SSSS

অদৃশ্য পরী

  ----দেবর সাহেব, তো বিয়ে করবে কবে? বয়স তো কম হলোনা ৷ ----আপনার মত সুন্দরী কাউকে পেলে বিয়েটা শীঘ্রই করে ফেলতাম ৷ -----সমস্যা নাই তো, আমা...