I have killed my husband
তাবাস্সুম রিয়ানা
পর্ব ১
সাজিদ-দম বন্ধ হয়ে আসছিলো।চোখ বন্ধ হয়ে আসছে।সামনে ফোনটি বাজছে।ধরতে পারছিনা।সব ঘোলা হয়ে আছে চোখের সামনে।আর কিছু মনে নেই।
তামান্না-আমি এটা করতে পারলাম
।আমার স্বামীকে নিজ হাতে!!!এটা ছাড়া উপায় ও তো ছিলনা।চোখে পানি ঝরছিলো।
সাজিদ-চোখ খুলে নিজেকে হাসপাতালে আবিষ্কার করলাম।আমি বেঁচে আছি তারমানে।ডাক্তার তামান্না কে ডেকে দিবেন প্লিজ।
তামান্না-ও আমায় ডাকছে শুনে ভয় পেলাম।তাও গেলাম।
সাজিদ-মুখে হাসি ফুটে উঠলো।আসো।
তামান্না-রুমে ঢুকলাম।
সাজিদ-কেমন আছো?অবশ্যই ভালো আছো।কারন তোমার স্বামী বেঁচে আছে।ওর হাত ধরে আদর দিলাম।
তামান্না-চোখে অশ্রুর বন্যা বয়ে যাচ্ছিল।স্পন্জ দিয়ে ওনার শরীর মুছে দিলাম।এরপর একে একে ওনার মা বাবা এসে দেখা করলেন।
৬মাস আগে
মিঃরফিক-বিজনেস টা খুব খারাপ যাচ্ছে ইদানিং।কলের পর কল আসছে।ধরার সাহস নেই।অফিসে নিজের কেবিনে বসেছিলাম।হঠাৎ একজন প্রবেশ করলো।
সে তার পরিচয় দিয়ে বলল আমি সাজিদ।
সাজিদ-ওনার সাথে হাত মিলালাম।শুনলাম আপনার বিজনেস এ অনেক লস হয়েছে।
মিঃরফিক-জি।
সাজিদ-আমি এর সমাধান করতে পারি কিন্তু এর বদলে আমি কিছু চাই।
মিঃরফিক-কি বলুন?
সাজিদ-দিতে পারবেন?
মিঃরফিক-বলে তো দেখুন।
সাজিদ-আপনার মেয়ে।তামান্না।পারবেন দিতে?
মিঃরফিক-চিন্তিত হয়ে পরলাম।ওনি বাহিরে যেমন সুদর্শন ভিতরে তেমনিই কদাকার।
সাজিদ-কি ভাবছেন অতো?না দিলে সাহায্য তো করবোইনা বরং এমন অবস্থা করবো যে দাড়ানোর শক্তি পাবেন না।
মিঃরফিক-একটু সময় দিন।একদিনের জন্য।
সাজিদ-যতোটুকু সময় লাগে নেন।বাট ওকে চাই আমার।
মিঃরফিক-ঘরে ফিরলাম।সোফায় বসে পরলাম।মাথা ঘামছিলো।বুকে কেমন ব্যাথা হচ্ছিলো।
তামান্না-বাবা ঠিক আছো তুমি এমন করছো কেনো?বাবা!!!বাবা!!!!
মিঃরফিক-পানি পানি।
তামান্না-পানি এনে দেখি বাবা নিচে পরে গেছেন মাথার থেকে রক্ত বের হচ্ছে।বাবা!!!!!চিৎকার করলাম।বাবাকে জড়িয়ে ধরলাম।হাসপাতালে নেয়া হলো।ওটির বাহিরে বসেছিলাম।চোখ থেকে পানি পরছিলো।হঠাৎ একটি হাত আমার চোখের পানি আটকালো।পাশে তাকিয়ে দেখলাম একজন অত্যন্ত সুদর্শন পুরুষ।
সাজিদ-কাঁদবেন না।দোয়া করেন ওনার জন্য।
তামান্না -নিচে তাকালাম।(অপারেশনে অনেক টাকা প্রয়োজন আমি কই পাবো সবে মাত্র মেট্রিক দিলাম।বাবার ও বিজনেস এ অনেক টাকার লস হয়েছে অপারেশনে ২ কোটি টাকা প্রয়োজন কই পাবো এত টাকা)
সাজিদ-আমার শর্ত গুলো মানলে সাহায্য করতে পারি।
তামান্না-কি শর্ত?
সাজিদ-Marry me.
চলবে।
I have killed My Husband
তানাস্সুম রিয়ানা
২
সাজিদ-Marry me.
তামান্না-

ক ক কি বলতে চাইছেন আপনি?
সাজিদ-হুম।জাস্ট একঘন্টা সময় দিলাম।বেশি দেরি করলে ওনাকে বাঁচানো যাবেনা।সো আই হোপ বেশি দেরি করবেনা।উঠে চলে এলাম।
তামান্না-চিন্তায় পরে গেলাম।ছোট বেলায় মা আরেকজনের সাথে চলে গেছেন।আপন বলতে এখন শুধু বাবা আছেন।বাবা আমার সব।বাবা চলে গেলে আমার কি হবে?আমি কাকে নিয়ে বাঁচবো?এখন শুধু একটাই উপায় ওনার কথা মেনে নেওয়া।
সাজিদ-হঠাৎ করে পিছন থেকে ডাক দিলো কেউ।এই শুনুন।পিছে তাকিয়ে তামান্না কে দেখলাম।বলুন।
তামান্না-আমি রাজি আছি।
সাজিদ-কি বললা?বুঝলামনা।
তামান্না-মাথা নামিয়ে বললাম আপনাকে বিয়ে করতে রাজি আছি।
সাজিদ-এত দ্রুত ডিসিশন নিয়ে ফেললা।স্ট্রেঞ্জ। Are you sure?
তামান্না-জি।
সাজিদ-কথা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না।
তামান্না-বিশ্বাস করতে পারেন।
সাজিদ-অপারেশনের টাকা দিয়ে ওকে নিয়ে বেরিয়ে পরলাম।গন্তব্য পাশ্ববর্তী কাজি অফিস।
তামান্না-সাইন করতে যেয়ে হাত কাঁপছিল অশ্রু ঝরেই যাচ্ছিল।
কাজি-ওনি মনে হয় বিয়েতে রাজি না।
সাজিদ-আপনার কাজ বিয়ে করানো।কে রাজি আর কে রাজি নয় সেটা আপনার দেখতে হবেনা।আর তুমি বাবার কথা মনে আছে তো?জলদি সাইন করে।Do it fast.
তামান্না-কষ্টকে দমিয়ে নিয়ে সাইন করলাম।
সাজিদ-চলো এখন।ওকে নিয়ে হাসপাতালে গেলাম।
ডাক্তার-অপারেশন শেষ করে বেরিয়ে এলাম।
তামান্না-ডাক্তার আমার বাবা কেমন আছে?
ডাক্তার-অপারেশন সাকসেস ফুল।তিনি এখন ভালো আছেন।
তামান্না-বাবার কাছে গেলাম।বাবা!!
মিঃ রফিক-তামান্না তুই।আয় মা।
তামান্না-ধরে কেঁদে দিলাম।ডাক্তার বলল কোন কিছু নিয়ে টেনশনে ছিলা।কি নিয়ে এতো টেনশনে ছিলা বাবা?
মিঃরফিক-কিছু বলতে যাব তখন সাজিদ রুমে ঢুকলো।ভয় পেয়ে গেলাম।
সাজিদ-শ্বশুর মশাই কেমন আছেন?
মিঃরফিক-শ্বশুর মশাই?
সাজিদ-হুম কেমন আছেন এখন আপনি?
মিঃরফিক-তুমি এখানে কেন?
সাজিদ-তামান্না তুমি ওনাকে বলনি তোমার বর এখানে আছে।So Sad.
মিঃরফিক-ব বর কি বলছে ও তামান্না?বল বলছিস না কেন?
তামান্না-কেঁদে কেঁদে বাবাকে সব বললাম।
মিঃরফিক-(এ হারামিটা আমার মেয়ে কে ও ছাড়ে নি)।বাবা এখন ভালো হয়ে গেছি সব ঠিক হয়ে যাবে।
সাজিদ-তামান্না তুমি তোমার প্রমিজ থেকে পিছপা হতে পারনা।তোমার বাবা এখনও পুরোপুরি ঠিক হয়নি।চিন্তা করে দেখ।
তামান্না-ওনি আমায় সাহায্য করেছিলেন।কি করবো।ওনার সাথে না গেলে যদি বাবা কে!!না না এ হতে পারেনা।
সাজিদ-তুমি কি আমার সাথে আসবে তামান্না?
মিঃরফিক-না মা তুই যাস না।ও ভালো না।তামান্না-সাজিদকে বললাম দাড়ান।
সাজিদ-থেমে গেলাম।
তামান্না-ওনার হাত ধরে বললাম আমি ও যান আপনার সাথে।
সাজিদ-মিঃরফিকের দিকে তাকিয়ে বাঁকা হাসি দিলাম।চলো।ওর বাবা অনেক ডাক দিলেন কিন্তু ও ফিরে এলো না।
বাসায় পৌছালাম
ওকে একটি রুম দেখিয়ে বললাম এই রুমে তুমি থাকবা।পাশের টা আমার।
তামান্না-মাথা নেড়ে সম্মতি জানালাম।রুমে গিয়ে ফ্রেশ হলাম।আলমারি খুলে দেখি মেয়েদের অনেক জামা।একটি পরে নিলাম।
সাজিদ-তামান্না!!!
তামান্না-জি?ওনার দিকে তাকিয়ে ওনার বডির ওপর ক্রাশ খেলাম।
সাজিদ-ওর হাত ধরে টেনে রুমে নিয়ে এলাম।খাটে বসালাম।
তামান্না-রুমটি বেশ সুন্দর এবং গোছানো।
সাজিদ-আমি যখন চাইবো তখন তুমি এরুমে আসবে।সময় অপচয় আমার পছন্দ না।কোন ধরনের স্মেল আমি পছন্দ করিনা।বলে ওর ঠোঁট দুটিতে ভাগ বাসালাম।
তামান্না-এরপর যা হলো তা কল্পনাও করতে পারিনি।ওনি আমার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কামড়ে আচড়ে দিচ্ছিল।ব্যাথায় কেঁদে উঠলাম।
সাজিদ-এত জোরে চিৎকার করলে মানুষ কি ভাববে?ওর মুখ কাপড় দিয়ে বেঁধে দিলাম।
তামান্না-কিছুক্ষন পর সেন্স হারিয়ে ফেললাম।শরীরের নানা জায়গা থেকে গড়িয়ে রক্ত পরছিল।নরতে পারছিলাম না।
সাজিদ-আজ এখানে ঘুমাও।পরে এই সু্যোগ আর পাবেনা।
To Be Continued
I Have killed My Husband
তাবাস্সুম রিয়ানা
৩
তামান্না-চোখ বেয়ে টপটপ করে পানি পরছিলো।খুব কষ্ট হচ্ছিলো।ঘুম ভাঙ্গলো বাহিরের আলোয়।
সাজিদ-উঠো।চাদর টা ধুয়ে দাও নোংরা করে ফেলেছো।চাদর জড়িয়ে উঠে পরলাম।হাঁটতে গিয়ে পরে গেলাম।আহ।
সাজিদ-হাত ধরে উঠিয়ে দিলাম।
তামান্না-রুমে গেলাম।আয়নায় নিজেকে দেখে কেঁদে দিলাম।গলা ছেড়ে কাঁদতে লাগলাম।
মিনা-ম্যডাম কি হলো?
তামান্না-চোখ মুছে বললাম না কিছুনা।কি বলবা বলো।
মিনা-কিছু বলার আগে স্যার রুমে ঢুকলো।এতক্ষন ধরে ডাকছি আসোনা কেন?
মিনা এখান থেকে যাও।Get out you damn it.ওর হাত ধরে টেনে আরেকটি রুমে নিয়ে খাটে ফেলে দিলাম।দরজা আটকালাম।
তামান্না-প্লিজ আর এমন হবেনা।ছেড়ে দিন।
ওনি শুনলো না।অনেক অত্যাচার করার পর আবার ও রেপ করলেন।
সাজিদ-আর যেন দেরি না হয় হলে এর থেকেও খারাপ অবস্থা হবে তোমার মাইন্ড ইট।আমার পারসোনাল ডাক্তার কে এনে বেশ কিছু টাকা দিয়ে বললাম কেউ যেন না জানে।
ডাক্তার -বেশ কিছু ব্যাথার ঔষধ লিখে বিদায় নিলাম।
মিতা-ম্যাম আসতে পারি?
তামান্না-আসো।
মিতু-স্যুপ খেয়ে নিন স্যার আসার আগে।
তামান্না-ক্ষুধার জ্বালায় খেয়ে নিলাম।শরীরে ভীষন যন্ত্রনা হচ্ছিল।৫মাসের মধ্যে আমাকে প্রতিনিয়ত রেপ করা হতো।প্রথম বাবুকে হারালাম।ওনার একটা ভালো দিক হলো কথা রেখেছেন ওনি।আমাদের বিজনেস এ অনেক হেল্প করেছেন।কেন জানি ওনার এই অত্যাচার কে ভালবেসে ফেলেছিলাম।
সাজিদ-তামান্না!!!এতো দেরি হচ্ছে কেন।ওর রুমে গিয়ে দেখলাম শোয়ার থেকে উঠে বসলো।হাত ধরে টেনে টর্চারিং রুমে নিয়ে আসলাম।
তামান্না-প্লিজ ছেড়ে দিন আর এমন হবেনা।ওনি শুনলেন না আমার চিৎকার।ওইদিনের টা এতোই মারাত্নক ছিলো ২দিন সেন্সলেস ছিলাম।একমাস পর জানতে পারলাম আমি মা হবো।ওনি তো আবার ও মেরে ফেলবে।এবার কিছু করতে হবে।এ বাবুকে হারাতে পারবোনা।
সাজিদ-মিতু আমার কফি কই?
তামান্না-কিচেনে গিয়ে ওনার কফি বানাতে লাগলাম।
সাজিদ-মুচকি হেসে কিচেনে কেন তুমি?
মিতু কই?
তামান্না-বাজারে।
সাজিদ-ওকে পিছে থেকে জড়িয়ে ধরলাম।কাঁধে চুমো দিলাম।
তামান্না-ভীষন অবাক হচ্ছিলাম ওনার এ আচরনে।কিন্তু অনেক দেরি হয়ে গেছে আর না।আপনার কফি।বাহিরে যাচ্ছি।
সাজিদ-কই যাও?
তামান্না-প্যাড আনতে।
সাজিদ-ওকে।come soob dear.
তামান্না-দ্রুত বেরিয়ে পরলাম।
সাজিদ-কফি মুখে দিতেই কেমন জানি লাগতে শুরু করলো ফ্লোরে পরে গেলাম।এরপরে তো আপনারা জানেন।
বর্তমান
তামান্না-তিনদিন পর ওনাকে রিলিজ দেয়া হলো।
সাজিদ-তুমি কি অসুস্থ?
তামান্না-না ঠিক আছি।
সাজিদ-গুড।I need you.
বিকেল
সাজিদ-এটা পরে নাও।বাহিরে যাবো।পার্টি আছে।
তামান্না-প্যাকেট টি খুলে দেখলাম একটি গাউন অনেক সুন্দর।রেডি হলাম।নিচে নামতেই দেখলাম সিড়ির কাছে দাড়িয়ে আছেন।
সাজিদ-Wow gorgeous.ওর ঠোঁটে আলতো করে চুমো খেলাম।
তামান্না-খেয়াল করলাম ওইদিনের পর থেকে মিতু গায়েব।
To Be Continued
I Have Killed My Husband
তাবাস্সুম রিয়ানা
৪
পার্টিতে
সিয়া-হায় ডার্লিং।
সাজিদ-হায় সিয়াMeet my wife Tamanna.
সিয়া-হায় তামান্না।আমি সাজিদের এক্স।
তামান্না-ওহ হায় সিয়া।তোমার সাথে পরিচিত হতে পেরে ভালো লাগল।
সিয়া-সাজিদ আমাকে যেমন সুখ দিত নিশ্চয় তোমাকে তেমন সুখ দেয়না।
তামান্না-তাই তো কেমন সুখ দিত তোমাকে ডিটেইলস বলবে প্লিজ।অনেক রাগ হচ্ছিল।আরো অনেক কিছু শুনালাম।সাজিদ আমার হাত টিপল যেন কিছু না বলি।কিন্তু আমি তোয়াক্কা করিনি।সেখান থেকে সরে এসে জুস খাচ্ছিলাম।অশ্রু ঝরছিল আমার।
সাজিদ-সিয়া আমার স্ত্রীর সাথে কথা বলার আগে ১০বার চিন্তা করবে।বলে ওর কাছে চলে এলাম।পার্টি টা ছিল আসলে একজন ধনী লোকের কিছু মূল্যবান জিনিসের নিলাম সম্পর্কিত। একটি ডায়মন্ড সেট।অনেকেই নানা ধরনের দাম বলল।আমি বললাম ৫০কোটি ৫টাকা।ডায়মন্ড সেট টা পেয়ে গেলাম।তামান্না কে বললাম For you my dear wife.
তামান্না-thanks সাজিদ।খাওয়া শেষ করে ঘরে ফিরে এলাম।
সাজিদ-তামান্না!!
তামান্না-বলো।
সাজিদ-আমার সাথে আসো।ওকে কোলে উঠালাম।
তামান্না -টর্চারিং রুমের দিকে পা বাড়ালেন।প্লিজ এমন করবেননা।বাবু টার ভয় পাচ্ছিলাম।
সাজিদ-খাটে শুইয়ে দিলাম।দরজা আটকিয়ে ওর কাছে এলাম।না করছিলাম না সিয়ার সাথে কথা বলতে।কেন বললে?
তামান্না-স্যরি।আর হবেনা।মাফ করে দেন।কেঁদে দিলাম।
সাজিদ-ওর কপালে চুমো দিলাম।ভালোনাসায় ওকে ভরিয়ে দিলাম।
কিছুক্ষন পর
তামান্না-ওর বুকে শুয়ে ছিলাম।আজ আমায় ভালবেসেছ।
সাজিদ-সেটা তো সবসময় করি।
তামান্না-না।তুমি সবসময় জোর করে নিয়েছ।কিন্তু আজ ভালবেসেছ।
সাজিদ-আমি আমার কাজের জন্য দুঃখিত।
তামান্না-অবাক হচ্ছিলাম ভীষন।কিন্তু ওকে বুঝতে দিলাম না।
সকাল
সাজিদ-ওয়াশরুমে এসে আয়নার দিকে তাকিয়ে হাসছিলাম এমন অনুভূতি আর কখনো হয়নি।কিন্তু ভিতর থেকে একটা জিনিস কুরে কুরে খাচ্ছিলো।আমায় মারতে চেয়েছিলো কে?বাসায় থাকি জাস্ট তিনজন আমি তামান্না ও মিনা।মিনা অনেক দিন ধরে কাজ করছে ও কি এমন করবে?
আর তামান্না ও অনেক ভালো।ওর দ্বারা এটা পসিবল না।কল করলাম আমার উকিল বন্ধু আবির কে।
আবির-কি খবর সাজিদ?
সাজিদ-ভালো।কিছু পেয়েছিস?
আবির-তোর বাসার সিসিটিভি ফুটেজ টা আমার চাই।কারন কাজটি যে করেছে ঘরের মানুষই করেছে।
সাজিদ-তামান্নাকে সন্দেহ করছিস?
আবির-কিছুটা।কারন তোকে হাসপাতালে এডমিট করানোর সময়ে ওনার হাতে পায়ে কামড় ও আচড়ের দাগ দেখেছি।হয়ত নিজেকে বাঁচানোর জন্য........কিন্তু পুরোপুরি সন্দেহ করছিনা।
সাজিদ-সিসিটিভি ফুটেজ আবিরের অফিসে নিয়ে এলাম।
আবির-ওনি নার্সিংহোম এ কেন গিয়েছিল জানিস কিছু।
সাজিদ-না।এমন অনেক কিছু পেলাম যা তামান্নার বিপক্ষে ছিল।ও এমন করতে পারেনা।ঘরে এসে সেই নার্সিংহোম এর রিপোর্ট খুঁজতে লাগলাম।পেয়ে ও গেলাম।বুঝলাম রিপোর্ট টা মিসক্যরেজ এর।তামান্না!!!
তামান্না-জি।
সাজিদ-এসব কি?
তামান্না-না ইয়ে মানে!!!!
সাজিদ-বুঝিয়ে বলো।
তামান্না-কাঁদতে কাঁদতে প্রথম বাচ্চা হারানোর খবরটা জানালাম।
সাজিদ-স্যরি তামান্না।আই প্রমিজ খুব জলদি আমাদের ছোট্ট তামান্না আসবে।
তামান্না -আসতেছে আমাদের ছোট্ট সাজিদ।
সাজিদ-সত্যি?
তামান্না-হুম।
সাজিদ-আগে বলো নি কেন?
তামান্না-ভয় পেতাম।
সাজিদ-কয়দিন পর তামান্নাকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরলাম।হানিমুনেও গেলাম।সময় টা বেশ ভালোই কাটছিল তারপর.........
To Be Continued
I Have Killed My Husband
তাবাস্সুম রিয়ানা
৫
সময়টা বেশ ভালোই কাটছিল তারপর
Abir is calling...........
সাজিদ-এই শালা আবার কল করল কেন?
হ্যলো আবির বল।
আবির-দোস্ত একটু অফিসে আয়।
সাজিদ-কেন কি হইসে?
আবির -আর্জেন্ট।
সাজিদ-ওকে।তামান্না আমি আসতেছি।
তামান্না-ওকে।
সাজিদ-কি হলো আসতে বললি।
আবির -সিসিটিভি ফুটেজ থেকে একটা মারাত্মক জিনিস পাইছি।
সাজিদ-কি?
আবির-এই দেখ।কফির কাপ কিন্তু দুইটা।ভাবি বানাইছে লাল কাপের কফি বাট তুই খাইছিস নীল কাপের কফি।তারমানে নীল কাপের কফিটা অাগের থেকেই বানানো ছিল।ভাবি পাকঘরে আসার আগ থেকেই কাপ টা এখানে ছিল।এবং ওনি এটা ধরে নাই।তারমানে ওনি বেকসুর।
সাজিদ-তাহলে কি মিনা!!!!
আবির-হতে পারে।আমরা ওকে খুঁজে বের করবো।তুই ভাবির দিকে খেয়াল রাখ।মিষ্টি কিন্তু এখন ও পাওনা রয়ে গেল।
সাজিদ-খাওয়াবো দোস্ত চিন্তা করিস না।
ঘরে ফিরে এলাম।তামান্না!!!
তামান্না-বলো।
সাজিদ-জড়িয়ে ধরলাম।
তামান্না-কি হলো? কিছু বলো।
সাজিদ-আই লাভ ইউ তামান্না।অনেক ভালবাসি তোমায়।


তামান্না-চোখের পানি যেন বাঁধা মানলো না যে এত ভালবাসে তাকেই মারতে চেয়েছিলাম।সাজিদ আমি তোমার ভালবাসার যোগ্য না।আল্লাহর অশেষ রহমতে তুমি বেঁচে আছো।
সাজিদ-আমি জানি তুমি কি করেছিলে কিন্তু তোমার দোষ নেই।পরিস্থিতি তোমায় বাধ্য করেছে।
তামান্না-আমায় মাফ করেছো?
সাজিদ-হুম।ওকে সব বলে দিলাম।যে ওর কোন দোষ নেই।
১মাস পর
মিনাকে এ্যারেস্ট করা হলো।ও নিজেকে দোষী হিসেবে স্বীকার করলো।
আমরা এখন অনেক সুখে আছি।সবাই দোয়া করবেন সাজিদ ও তামান্নার জন্য।
*****************THE END
No comments:
Post a Comment