27.2.24

মিষ্টি বরের দুষ্টু বউ

 গল্প #মিষ্টি_বরের_দুষ্টু_বউ

পর্ব - ১+২
লেখা--সোনালী
--মিতু এই মিতু আরে আর কতো দেড়ি করবি বলতো? তোর জন্যে আজকেও ক্লাশের বাইরে দাড়িয়ে থাকতে হবে।🙄(তমা)
-- ঐ পেত্নী আর ঘ্যান ঘ্যান করে মাথা খাশ না তো। বলছিতো আর ৫ মিনিট।😕(মিতু)
-- ৫ মিনিট ৫ মিনিট করে তো সেই ১ ঘন্টা হলো দাড় করিয়ে রাখছিস।তবুও তোর আইস্ক্রিম খাওয়াই শেষ হচ্ছে না রাক্ষশী একটা।😥(তমা)
-- ঐ ভুত্নীর নানি শাশুড়ি, কুমড়োপটাশের বৌ, ব্যাঙ মামার বান্দন্নি। তুই আমারে কি কইলি চুন্নি তোরে তো আজকে আমি চুইংগামের মতো চাবাই খামু😡😡
কথাগুলো বলেই তমাকে উরাধুরা চিমটি শুরু করলো মিতু। আর তমা বেচেরি চিৎকার করে মিতুর আম্মুকে ডেকে বলতে লাগলো
-- ওওওও আন্টি তো আমাকে বাচান আপনার এই রাক্ষসী মেয়েটা আমায় মেরে ফেললো গো।😭😭
-- কত্ত সাহস এই কুমিরের খালাশাশুড়ির আমারে আবারও রাক্ষসী কয়। তরে তো আজকে আমি কিমা বানাইয়া খামু আর ফ্রিজে রাখমু।😡😡
-- মিতুউউউউ তুই আবার শুরু হয়ে গেলি। ঐ ছার বলছি তমাকে ছার। আল্লাহ এই মেয়েকে নিয়ে আমি কি করি একে কি তুমি মানুষ বানা বা না কোনোদিন।😥😥(মিতুর মা)
মায়ের কথায় মিতু ভালো মেয়ের মতো তমাকে ছেরে দিয়ে সোজা হয়ে দাড়িয়ে মায়া মায়া মুখ করে বললো
-- আম্মু তুমি এভাবে বলতে পারলে। আমি না তোমার ১০ টা না, ৫ টা না একটা মাত্র ভালো ভদ্র নিরিহ বাচ্চা একটা গুলুমুলু মেয়ে। আর তুমি এভাবে কইলা আমাকে এই শাঁকচুন্নি টার জন্যে। এ্যা এ্যা এ্যা😭😭😭 (ন্যাকা কান্না করে)
-- আন্টি আপনি যান আমি তো এমনিই আপনাক ডেকেছি। আসলে কলেজের দেড়ি হয়ে যাচ্ছে তো তাই।মিতু আমায় কিছু করেনি।(তমা)
-- এই তোমার জন্যে সব সময় এই পাজি মেয়েটা পার পেয়ে যায় আমার হাত থেকে। তোমায় এত অত্যাচার করে এতো জ্বালায় তবুও তুমি ওকে কেনো কিছু বলতে দাওনা বলোতো মা?(মিতুর মা)
-- কি করবো বলুন আন্টি মিতু আমার ১০ টা না ৫ টা না একটা মাত্র কলিজার বেষ্টু। ওকে কেউ কিছু বললে আমার কলিজায় লাগে। আমরা যতই ঝগড়া করিনা কেনো আমরা দুজন প্রানের শই।😍😍(তমা)
-- আচ্ছা বাবা আচ্ছা এখন তারাতারি কলেজ যাও। ১০.৩৫ বাজে।(মিতুর মা)
-- ঐ শাঁকচুন্নি থুক্কু আমার কলিজার বেষ্টু তোর জন্যে কত দেরি হয়ে গেলো দেখেছিস। তারাতারি চল কলেজে যাই।🙄🙄(মিতু)
--আআআআ আমার জন্যে? 😲😲
-- তা নয়তো কি আমার জন্যে কুত্তি।😕😕এবার চল জলদি।
কথাগুলো বলেই তমার হাত ধরে নিয়ে দিলো দৌড় মিতু।
চলুন আপনাদের পরিচয়টা দিয়ে দেই--
(বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে মিতু। মিতুকে দেখতে যেমন সুন্দরী ঠিক তেমনই দুষ্টু এই মেয়ে। মিতুর বাবা একজন ব্যাবসাহী। বাবার নয়নের মনি মিতু। আর তমা ওর একমাত্র বেস্টু। ওদের যতই ঝগড়া মারামারি লাগুক না কেনো দিন শেষে দুজন আবার সেই এক হয়। কেউ কাওকে ছারা ১০ মিনিটও থাকতে পারে না। মিতু আর তমার বাড়ি পাশাপাশি। মিতু প্রতিদিন কলেজের জন্যে দেরি করে আর তমা ওকে ডাকতে আর বোঝাতেই মাথা ব্যথা করে। মিতু মেয়েটা দুষ্টু হলেও মন থেকে অনেক ভালো ও দয়ালু। আর ওর বেস্টু তমা মেয়েটা শান্ত ও নম্রভদ্র। তমার সারাদীন এই মিতুকেই সামাল দিতে চলে যায়। মিতু সব সময় একটা করে দোষ করে তমার ঘারে চাপিয়ে দেয়। আর বেচারী তমাও তা হাসি মুখে মেনে নেয়। তার কিছু অংশ তো আপনারা শুরুতেই বুঝলেন। মিতুর দুটা দুর্বলতা। একটা হলো আইস্ক্রিম আর দুই নাম্বার হলো তমা। আর সব সময়ের সঙ্গি হলো চুইংগাম। মিতু প্রতিদিন কলেজে দেরি করে যায়।আর মিতুর জন্যে তমাকেও কলেজে শাস্তি পেতে হয়। তাহলে চলুন এবার গল্পে আসা যাক)
চুইংগাম খেতে খেতে রিক্সায় করে কলেজ যাচ্ছে মিতু আর তমা। হঠাৎ মিতু খেয়াল করে রাস্তার পাশ দিয়ে একটি ছেলে হেটে যাচ্ছে। যার চুল গুলো অনেক সুন্দর ও সিল্ক। পিছন থেকে ছেলেটার মুখ দেখা যাচ্ছে না। তবে দেখে মনে হচ্ছে কোনো কলেজের ছাত্র হবে হয়তো। ছেলেটার চুল দেখেই মিতুর মাথায় একটা দুষ্টু বুদ্ধি খেলে গেলো। বুদ্ধি টা মাথায় আসতেই একটা পিশাচী হাসি দিলো মিতু। তারপর মুখ থেকে চুইংগামটা বের করেই ছুরে দিলো ছেলেটার চুলের দিকে। কিন্তু চুইংগামটা চুলে না আটকে আটকিলো ছেলেটির কলারে।মিতুর খুব রাগ হতে লাগলো আর মনে মনে বলতে লাগলো
-- আজকেই বাড়ি গিয়ে ঢিল মারার প্র্যাট্টিজ শুরু করমু। ইশশশ একটুর জন্যে ছেলেটার চুলগুলো নষ্ট করতে পারলাম না। হুহহ চুলের কি ঢং। যেনো এমন চুল আর কারো বাই।😏😏
-- আপা নামবেন না?(রিক্সাওয়ালা)
-- ঐ মিতু আর কতো দেড়ি করাবি বলতো। ক্লাশ তো শুরু হয়ে গেছে তারাতারি নাম কোথায় হাড়িয়ে গেলি।(তমা)
-- এমাআআ এত তারাতারি কলেজে পৌছে গেলাম। আচ্ছা চল চল কত্ত দেড়ি করিয়ে দিলি বলতো। (মিতু)
-- আমিইইইইইইইইই? 😲😲
-- তা নয়তো কি আমি শাঁকচুন্নি পেত্নী। তুই ভাড়াটা দিয়ে আয় আমি গেলাম।(মিতু)
বলেই রিক্সা থেকে নেমে দিলো দৌড়।
-- আপা এই মাইয়াডা পাগল নাকি। কেমন পাগলের মতো কথা কয়?(রিক্সাওয়ালা)
-- ঐ মিঞা আপনাকে কে বললো ও পাগল? এই নেন ভাড়া এখন যান। খবরদার আমার বেষ্টুরে পাগল বলবেন না। ও অনেক ভালো(তমা)
বেচারা রিক্সাওয়ালা আর কিছু বললো না টাকাটা নিয়ে চলে গেলো। আর তমাও ছুটলো মিতুর পিছু,,,,,,
চলবে................
২ পর্ব
লেখা--সোনালী
রিক্সাওয়ালার ভাড়া মিটিয়ে তমাও ছুটলো মিতুর পিছু। তারপর দুজন কলেজের ক্যান্টিনে গিয়ে বসে গল্প করতে লাগলো। ক্লাশের সময় পার হয়ে যাচ্ছে তবুও মিতুর ক্লাশে যাওয়ার নাম নাই।ও একের পর এক চুইংগাম খেয়েই যাচ্ছে। এটা দেখে তমা বললো
-- ঐ মিতু তুই কি বলবো। সারাদিন এতো এতো চুইংগাম খাস তবুও তোর মন ভরে না। এদিকে ক্লাশ মনে হয় শেষের দিকে আজকেও ক্লাশ মিস করলাম তোর জন্যে। 🙄🙄(তমা)
-- ঐ শাঁকচুন্নি খবরদার কইলাম আমার চুইংগামের দিকে নজর দিবি না। জানিস আজকে একটা বজ্জাত পোলার জন্যে রিক্সার ওপর মন ভরে চুইংগাম খেতে পারিনি।😒😒
-- এ্যা এই বজ্জাত পোলাটা আবার কে আর সে তোর চুইংগাম খাওয়ায় ডিস্টার্বই বা করলো কি করে?🤔🤔
তারপর মিতু ওকে রিক্সায় আসতে ছেলেটার কথা সব খুলে বললো। তমা তো সব শুনে একদম হা হয়ে বললো
-- মিতু তুই এতো ফাজিল ক্যান বলতো? চিনিস না জানিস না এমন একটা ছেলের চুলে তুই চুইংগাম ছুরে মারলি? ছেলেটা যদি বুঝতে পারতো তাহলে কি হতো বলতো?😲😲
-- আরে বুঝতে পারলে ভালো হতো আমি আরো সামনে গিয়ে ওর পুরো চুলে চুইংগাম লাগিয়ে দিতাম। ইশশ কেনো যে রিক্সা থামিয়ে ওর চুলে চুইংগাম লাগালাম না😒😒
-- চুলে চুইংগাম লাগানোর খুব শখ তোমার তাইনা? এই নাও তোমার সামনে এসে দারালাম লাগাও দেখি কত পারো?😎😎(অপরিচিত)
পিছনে কারো গলার আওয়াজে ঘুরে তাকালো মিতু ও তমা। মিতু পিছন ফিরে তাকাতেই চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইলো সামনের লোকটির দিকে। যেমন লম্বা তেমনই বডি, গায়ের রঙ ফর্সা, সিল্কি চুল, চোখে সানগ্লাস, হাতে ব্র্যান্ড এর ঘড়ি, সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পড়া। এক কথায় অসম্ভব সুন্দর দেখতে একটি ছেলে দাড়িয়ে আছে ওদের সামনে। মিতু ছেলেটিকে দেখে মুখের চুইংগাম বেলুন ফুলিয়ে হা করে তাকিয়ে রইলো ছেলেটির দিকে। ছেলেটিও মিতুকে দেখে চোখ থেকে সানগ্লাস খুলে হা করে তাকিয়ে রইলো মিতুর দিকে। বেশ কিছুক্ষণ পর ছেলেটি মুচকি হেসে বললো
-- এই মেয়ে কি যেনো বলছিলে তুমি? আমায় সামনে পেলে আমার মাথায় চুইংগাম লাগিয়ে দিবে তাই না? এই তো আমি তোমার সামনেই দাড়িয়ে আছি নাও দাও।😎😎(অপরিচিত)
-- ঐ মিঞা কেডা আপনি হুমম। কোথাকার হুলোবিড়াল শুনি। আর আমি কখন বললাম যে আমি আপনার মাথায় চুইংগাম লাগিয়ে দিবো? 😡😡(মিতু)
-- আরে তুমি তো দেখছি খুব ফাজিল মেয়ে রাস্তায় আমার কলারে চুইংগাম লাগিয়ে দিয়ে এখানে এসে আবার সেই গল্প করছো। আবার বলছো তুমি আমার কথা বলোনি?😡😡(অপরিচিত)
অপরিচিত লোকটার কথা শুনে মিতু ভালো করে তাকিয়ে দেখে এটাই সেই ছেলেটা যার ওপর রাস্তায় ও চুইংগাম ছুরে মেরেছে। চুইংগামটা এখনো ওর কলারে আটকে আছে। মিতু ভয়ে একটা ঢোক গিললো তারপর আমতা আমতা করে বললো
-- ইয়ে মানে আপনিই সেই রাস্তায় দেখা চুলের ঢংওয়ালা ছেলেটা?😱😱
-- জ্বি আমিই সেই যার চুলে তুমি চুইংগাম ছুরতে গিয়ে মিসটেক করেছো।😡😡
-- আমিই যে আপনার চুলে চুইংগাম ছুরেছি তার প্রমান কি?😏😏
-- তুমি তো দেখি এক নাম্বারের ফাজিল মেয়ে। চুইংগাম ছুরে মেরেছো আবার বড় বড় কথাও বলছো?😡😡
-- ঐ ঐ আপনি আমায় কি বললেন আমি ফাজিল? আপনি ফাজিল আপনার দাদা ফাজিল আপনার দাদী ফাজিল আপনার বউ ফাজিল আপনার ৩২ গোষ্ঠী ফাজিল।😡😡
-- এই মেয়ে তোমার সাহস তো কম নয় ভুল করে ক্ষমা চাওয়ার বদলে আবার মুখে মুখে তর্ক করছো?😡😡
-- এএএএএ আইছেরে আমার ক্ষমা করতে। আপনি তো একটা হুলো বিড়াল,কান কাটা বাদুড় লেজ ছারা টিকটিকি আপনার কাছে ক্ষমা চাইবে কে।😏😏
-- ইশশশ প্লিজজজজজজজজ আপনারা থামুন। আসেপাশে তাকিয়ে দেখুন আপনাদের ঝগড়া শুনে কতো মানুষ জমে গেছে। মিতু তুই একটু চুপ কর প্লিজ। সরি ভাইয়া মিতুর হয়ে আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাইছি প্লিজ আপনি কিছু মনে করবেন না। ও একটু এরকমই।😒😒(তমা)
-- ঐ কুত্তি ডাইনি বুড়ি কুমিরের বউ জলহস্তীর শাশুড়ি তুই এই হুলো বিড়ালটার কাছে ক্ষমা চাচ্ছিস কেনো রে। ওকে তো আমি চুইংগামের মতো চিবিয়ে খাবো😡😡
-- এই মেয়ে তোমাকে তো আমি দেখে নিবো। তুমি জানোনা তুমি কার সাথে পাঙ্গা নিয়েছো? আমার নামও রাজু চৌধুরী তোমাকে তো আমি ছারবো না। আজ পর্যন্ত কারো সাহস হয়নি আমার সামনে এভাবে কথা বলার আর তুমি একটা পিচ্ছি মেয়ে হয়ে আমার সাথে পাঙ্গা নিচ্ছো?😡😡
--- এএএএ আইছেরে আমার কাজু ঘোলাদরি। একশবার কমু হাজার বার কমু মুখে মুখে কথা কি করবেন আপনি হুমম। আমার নামও মিথিলা আক্তার মিতু। আমি কাউকে দেখে ভয় পাইনা।😎😎
-- এখানে এতো ভির কেনো? কি হয়েছে এখানে এতো চেচামেচি কিসের?(প্রিন্সিপাল)
প্রিন্সিপালকে দেখেই ভয়ে চুপসে গেলো মিতু ও তমা দুজনেই। মিতুর অবস্থা দেখে মনে মনে হাসতে লাগলো রাজু।
--একি কি হচ্ছে এখানে। আরে মিতু তমা তোমরা এখানে ক্লাশ বাদ দিয়ে কি করছো?(প্রিন্সিপাল)
-- আ আ আমরা আসলে স্যার ইয়ে মানে,,😒😒(মিতু)
-- কি কখন থেকে ইয়ে মানে ইয়ে মানে করছো হুমম। তোমাদের নামে এর আগেও আমি অনেক বার কম্প্লেন পেয়েছি তোমরা শুধু ক্লাশ ফাকি দাও। আর আজকে এখানে এতো হৈচৈ কিসের জন্যে করছো হুমম।😡😡
-- আংকেল আপনি ওদের বকবেন না। আসলে রাস্তায় ওদের সাথে দেখা হয়েছিলো তো তখন এই মেয়েটা(মিতুকে দেখিয়ে) ওর একটা জিনিস ভুলে ফেলে আসছিলো তাই দিতে আসছিলাম আমি। আমার জন্যেই দেড়ি হয়েছে ওদের।(রাজু মিতুর দিকে তাকিয়ে ডেভিল হাসি দিয়ে বললো)
-- আরে রাজু যে, আমিতো তোমায় খেয়ালি করিনি। তা কেমন আছো বাবা? তোমার আব্বু আম্মু কেমন আছেন?(প্রিন্সিপাল)
-- জ্বি আংকেল ওনারা ভালো আছেন। আপনার সাথে আমার কিছু কথা ছিলো এখন কি একটু সময় হবে আপনার?
-- হ্যা অবশ্যই এসো আমার সাথে। আর তোমরা কাল থেকে নিয়ম করে ক্লাস করবে নইলে তোমাদের আমি কলেজ থেকে বের করে দিবো।(মিতু আর তমাকে লক্ষ করে বললো)
তারপর প্রিন্সিপালের সাথে রাজু চলে যেতে নিয়ে পিছনে ঘুরে মিতুকে ইশারা করে বললো
-- আমার সাথে পাঙ্গা নেওয়ার মজা তুমি তো পাবেই চুইংগাম বেইপি।😎😎(ডেভিল হাসি দিয়ে)
-- যাক বাবা আজকে এই রাজু নামের হ্যানসাম ছেলেটার জন্যে বেচে গেলাম। নইলে আজকেই আমাদের এই কলেজে শেষ দিন হতো আমি শিওর।😒😒(তমা)
-- ঐ বান্দননি থামবি তুই। ঐ হুলো বিড়ালটাকে তো আমি যাতায় পিশে কিমা বানিয়ে খাবো। কত্ত বড় সাহস ওর যাওয়ার সময় আমায় পাঙ্গা নেওয়ার কথা বলে গেলো। ওকে তো মরিচ ছারা কাচা চিবিয়ে খাবো😡😡(মিতু)
-- এই মিতু তুই এমন ক্যান বলতো ছেলেটা আমাদের প্রিন্সিপালের হাত থেকে বাচালো আর তুই কিনা ওনাকে বকছিস?🙄(তমা)
-- তো বকবো না তো কি করবো। ওকে কোলে নিয়ে নাচবো? শালা খাটাশের ডিব্বা হুলোবিড়াল একটা। আমায় কিনা বলে চুইংগাম বেইপি। ওকে তো আমি ব্লিন্ডারে দিয়ে সরবত করে খাবো।😡😡(মিতু)
-- তোর সাথে কথা বলে কোনো লাভ নাই। তুই সত্যিই খুব ফাজিল একটা মেয়ে।😜
-- কি বললি রে ডাইনি পেত্নী শাঁকচুন্নি তোকে তো আজ আমি মেরেই ফলবো দাড়া দাড়া বলছি কুত্তি😡😡
তমা তো কথা গুলো বলেই দৌড়ে পালিয়েছে। কারন ও ভালো করেই জানে মিতু যদি এখন ওকে ধরতে পারে তাহলে ওর মাথায় একটাও চুল আস্ত রাখবে না।
তারপর অনেক্ষন দৌড়া দৌড়ি করে দুজন হাপিয়ে গিয়ে একজায়গায় গিয়ে বসলো। তারপর একটু জিরিয়ে নিয়ে বাসায় চলে এলো।
বাসায়,,,,,,,
চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

৩ /৪পর্ব
লেখা--সোনালী
বাসায় ফিরেই মিতু তমার সাথে রাগ দেখিয়ে নিজের রুমে চলে যায়। আর তমা বেচেরি হা করে তাকিয়ে থাকে মিতুর চলে যাওয়ার দিকে। এখন মিতুর কাছে গিয়ে ওকে কিছু বলার সাহস নেই তমার। কারন মিতু কারো ওপর রেগে থাকলে সে সামনে না থাকলে তার রাগ ও তমার ওপর ঝারে। তাই তমা চুপচাপ দাড়িয়ে রইলো। মিতুর মা তমাকে ডেকে বললো
-- তমা কি হয়েছে বলো তো কটকটি এভাবে চুপচাপ রুমে চলে গেলো কেনো? কলেজ থেকে ফিরে তো প্রতিদিন বাড়ি মাথায় তোলে কলেজে এই হয়েছে সেই হয়েছে বলে। তাহলে আজ কি হলো ওর?(মিতুর মা)
-- আর বলবেন না আন্টি আজকে তো একটুর জন্যে বেচে গেছি আমরা। নইলে আজকেই আমাদের শেষ দিন হতো কলেজে। (তমা মায়া মায়া মুখ করে)
-- কেনো কি হয়েছিল কলেজে? কোনো এক্সিডেন্ট হয়নি তো তোমাদের?(মিতুর মা উত্তেজিত হয়ে)
-- আরে না না আন্টি আমাদের কিছু হয়নি আসলে আজকে কলেজে যাওয়ার সময় রিক্সায়,,,,,,,,,,,,,,,,,,,, (তারপর কলেজের সব কথা খুলে বললো তমা মিতুর মাকে)
-- হায় আল্লাহ এই মেয়েটাকে নিয়ে যে আমি কি করি। ওর কি কোনো দিন একটু সুবুদ্ধি হবে না। নির্ঘাত ছেলেটা ভালো বলে আজ তোমাদের কলেজ থেকে বের হতে হয়নি। আর মিতু কিনা সেই ছেলেকেই এমন কথা বলছে।(মিতুর মা)
-- হ্যা আন্টি ছেলেটা সত্যিই অনেক ভালো তাই তো আমাদের বাচিয়ে দিয়েছে। নইলে তো আজকে আমাদের প্রিন্সিপাল স্যার কলেজ থেকে বের করেই দিতো।(তমা)
-- ঐ ডাইনি, রাক্ষসী, কুটনি তুই আবার ঐ বজ্জাত খাটাশ মানকি ইদুর হুলো বিড়ালটার গুন গাইছিস? তোকে তো আজ আমি মেরেই ফেলবো তারপর তোর চল্লিশায় কব্জি ডুবিয়ে খাবো।(মিতু তমার পেছন থেকে)
মিতুর কথা শুনে তমা আর এক মুহুর্ত না দাড়িয়ে দিলো নিজের বাসার দিকে দৌড়। কারন ও জানে এখন যদি মিতু ওকে ধরতে পারে তাহলে ওকে জীবিত চিবিয়ে খাবে। মিতুও তমাকে ধরতে ওর পিছু দৌড় দিতে নিলে মিতুর মা ওর হাত ধরে ফেলে তারপর বলে
-- মিতু, সব কিছুর একটা লিমিট থাকা দরকার। দিন দিন যত বড় হচ্ছিস তত তোর পাগলামো বেরে যাচ্ছে। এমন করলে কোনো ছেলেই বিয়ে করবে না তোকে। আজ কলেজে কি করেছিস তুই হ্যা? আজ সারাদিন তোর খাওয়া দাওয়া বন্ধ এটাই তোর শাস্তি।(মিতুর মা)
মায়ের কথা শুনে মিতু বললো
-- যাও যাও লাগবে না খাওয়া। খাবনা আমি সারাদিন আমার আইস্ক্রিম আর চুইংগাম খেয়েই থাকবো আমি আজকে।
মিতুর কথা শুনে মিতুর মা রেগে গিয়ে বললো
-- তোর সে আশায় বালি মিতু। ফ্রিজে আমি তালা দিয়ে রাখছি আর তোর চুইংগাম গুলোও লুকিয়ে রেখেছি। আজকে এগুলোই তোর শাস্তি।
মায়ের কথা শুনে মিতু মায়া মায়া বললো
-- ও আম্মু আম্মু তুমি না আমার সোনা আম্মু আমার ভালো আম্মু। তুমি তোমার এই ১০ টা না ৫ টা না একটা মাত্র সাধা সিধা নিরিহ দুধের শিশুর মতো নিশ্পাপ মেয়েকে এভাবে শাস্তি দিতে পারবে আম্মু।(কান্নার অভিনয় করে)
-- এ্যা তুই নিরিহ নিশ্পাপ দুধের শিশু? কেনো এভাবে নিরিহ শিশুদের অপমান করছিস বলতো। দেখি সর আমার কাজ আছে। তোর মতো কটকটির সাথে কথা বলে সময় নষ্ট করে লাভ নেই।
কথাগুলো বলেই রান্না ঘরের দিকে চলে গেলো মিতুর মা।
-- সব হয়েছে ঐ আফ্রিকার এনাকন্ডা, সুন্দর বনের বান্দর হুলো বিড়ালটার জন্যে। ওকে তো আবার কখনো সামনে পেলে মরিচ ছারাই চিবিয়ে খাবো। এএএ নামের কি বাহার রাজু চৌধুরী, ওটা রাজু চৌধুরী না হয়ে কাজু ঘোলাদরি হবে।(মিতু নিজে নিজেই বললো)
তারপর রাগ দেখিয়ে নিজের রুমে গিয়ে শুয়ে পরলো মিতু।
এদিকে
রাজু কলেজ থেকে নিজের বাসায় ফিরে সোজা চলে গেলো নিজের রুমে তারপর ফ্রেশ হয়ে বেলকুনিতে গিয়ে ফোন হাতে নিয়ে মিতুর কিছু ছবি বের করে তার দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো
-- মিস চুইংগাম বেইপি তোমাকে তো আমি ছারছি না। আজ পর্যন্ত কোনো মেয়ে তো দুর কোনো ছেলেও আমার মুখের ওপর কথা বলার সাহস পায়নি। আর তুমি এতটুকু একটা পুচকি মেয়ে হয়ে আমার সাথে পাঙ্গা নিয়েছো। এর শাস্তি তো তোমায় পেতেই হবে। (কথাগিলো বলেই ডেভিল হাসি দেয় রাজু)
(মিতু যখন তমাকে ধরতে তারা করছিলো তখন চুপ করে ওর কিছু ছবি তুলে নেয় রাজু।সেই ছবিগুলো দেখেই কথাগুলো বললো ও)
রাগ করে বিছানায় শুয়ে ঘুমেয়ে পরেছে মিতু। হঠাৎ মাথায় কারো স্পর্শ অনুভব করে ঘুম ভাঙে তার। সামনে তাকিয়ে দেখে মিতুর বাবা বসে আছে। বাবাকে দেখেই লাফিয়ে উঠে বসে মিতু। মিতুকে বসতে দেখে মিতুর বাবা বলে
-- আমার মামনিটা নাকি আজ না খেয়েই ঘুমিয়ে পরেছে? আমি আমার যে মামনি না খেলে খেতে পারি না তাকি আমার মামনি জানে না?(অভিমানি শুরে)
-- আব্বু তুমি কখন এসেছো? আর এখনো খাওনি কেনো? এমাআআ বিকেল ৪ টে বেজে গেছে এত তারাতারি?(ঘড়ির দিকে তালিয়ে অবাক হয়ে)
-- তোমার আম্মুর কাছে শুনলাম তুমি নাকি না খেয়ে শুয়ে আছো তাহলে আমি কি করে খাই বলো? আমার মা টা না খেলে কি আমি খেতে পারি?(মিতুর বাবা)
-- হয়েছে হয়েছে আর কথা বলতে হবে না চলো এখন খাই গিয়ে।
কথাটা বলেই বাবার হাত ধরে খাবার টেবিলে চলে গেলো মিতু। টেবিলে খাবার সাজাচ্ছে মিতুর মা। মিতু ওর মাকে দেখে একটা মুখ ভেঙচি দিয়ে চেয়ার টেনে বসলো। মিতুর মা তার মেয়ের কান্ড দেখে মনে মনে হাসলো। কারন এটা নতুন নয় মিতু যখনি ওর মায়ের ওপর রাগ করে তখনি এমন ভেঙচি কাটে মাকে দেখে।
খেতে খেতে
-- আচ্ছা আব্বু একটা কথা বলো তো?
-- কি কথা মামনি?
-- তুমি দেইতে কত কিউট কত্ত সুন্দর। অথচ তুমি এমন একটা বৌকে কেনো বিয়ে করলে বলো তো। আমার জন্যে তো একটা ভালো মাও আনতে পারতে তাই না। এই মা টা একদমই ভালো না। খালি আমায় বকে আর আইস্ক্রিম চুইংগাম লুকিয়ে রাখে খেতে দেয় না।
মিতুর কথা শুনে মিতুর বাবা হাসতে হাসতে বললো
-- কি আর করবো বলো মামনি। তোমার মা যে ভাবে আমার পিছু লেগেছিলো আমায় বিয়ে করতে তখন তোমার জন্যে এর চাইতে ভালো আম্মু পাচ্ছিলাম না। তাই এই পচাটাকেই নিয়ে এসেছি।
মিতু আর মিতুর আব্বু এমন বক বক করছে আর খাচ্ছে মিতুর মা চুপচাপ তা শুনছে কারন এগুলো রেগুলার ভাষণ ওদের। যা শুনতে শুনতে মিতুর মা বিরক্ত হয়ে গেছে।
খাওয়া দাওয়া শেষে কিছুক্ষণ মিতু আর মিতুর বাবা মিলে আড্ডা দিয়ে মিতুর বাবা চলে যায় তার কাজে। আর মিতু চলে যায় ছাদে। ওর মনটা খুব খারাপ কলেজ থেকে আসার পর একটাও চুইংগাম বা আইস্ক্রিম খেতে পারে নি। মিতুর মা সব তালা দিয়ে রাখছে। মিতুর বাবা বলার পরেও দেয় নি। হঠাৎ কাধে কারো স্পর্শ পেয়ে পিছনে তাকিয়ে দেখে তমা দাড়িয়ে আছে। তমাকে দেখেই মিতু বলতে লাগে
-- ঐ ঐ ঐ কুত্তি ফইন্নি পেত্নী শাঁকচুন্নি বুড়ি মুলা খুটুনি তুই কেনো এসেছিস এখানে।আজ তোর আর ঐ হুলো বিড়ালটার জন্যে আমি এত সময় ধরে আমার প্রেম আমার ভালবাসা আমার জানেমন আইস্ক্রিম ও চুইংগাম না খেয়ে আছি। আমার তো ইচ্ছা করছে তোকে আর ঐ হুলো বিড়ালটাকে ধরে ব্লিন্ডারে ব্লিন্ড করে ফিজে রেখে আইস্ক্রিম করে খাই।(খুব রাগ নিয়ে বললো মিতু)
মিতুর কথা শুনে পেছন থেকে হাতে থাকা আইস্ক্রিমের বাটি আর পাঁচটা চুইংগাম মিতুর সামনে ধরে তমা বললো
-- আহারে ভেবে ছিলাম এগুলো তোকে দেবো। তারপর তোর থেকে অনেক ভালবাসা নিবো আমি। কিন্তু তুই তো আমায় মেরেই ফেলবি ভেবে রেখেছিস। তাহলে এগুলো আর তোকে দিয়ে লাভ নেই। আমি বরং এগুলো নিয়েই যাই। (তমা)
কথাগুলো বলেই ছাদ থেকে চলে যেতে নিলো তমা। আর অমনি পিছন থেকে তমার গলা জরিয়ে ধরে মিতু বললো
-- ওরে আমার গুলুমুলু পুতুপুতু লুমুলুমু কুলুকুলু বুলুবুলু সোনা মোনা টমেটোর মতো ময়না পাখিটা রে। কারো জন্যে কিছু এনে সেটা ফিরিয়ে নিয়ে যেতে নেই তুমি জানো না। এই দেখো তোমায় আমি কত্ত ভালবাসি লাভিউউউউ। উম্মাহ উম্মাহ উম্মাহ এগুলা আমাকে দে জলদি শাঁকচুন্নি।
কথাগুলো বলেই তমার গালে চুমু দিয়ে ওর হাতের আইস্ক্রিম আর চুইংগাম গুলো নিয়ে ওকে ছেরে দিলো মিতু। আর তমা তো মিতুর এসব কথা শুনে আর ওর কান্ড দেখে একদম থ হয়ে দাড়িয়ে আছে। মিতু ওর সুনাম করলো নাকি দুনাম করলো কিছুই বুঝছে না তমা।
কিছুক্ষণ এভাবে দাড়িয়ে থেকে মিতুর কথাগুলোর অর্থ খুজলো তমা। কিন্তু কোনো অর্থ খুজে না পেয়ে মিতুর দিকে ঘুরে তাকিয়ে দেখে মিতু ছোট বাচ্চাদের মতো আইস্ক্রিম খেতে ব্যাস্ত। আইস্ক্রিম মিতুর মুখ দিয়ে চারি পাশে লেপ্টে আছে সেদিকে ওর কোনো খেয়াল নেই ও তো খাওয়াতেই ব্যস্ত।
তমা মিতুর পাশে গিয়ে বসে বললো
-- আচ্ছা মিতু তুই এতক্ষণ যে সব নামে ডাকলি আমায় তার অর্থ কিরে?
-- তার অর্থ কি তা আমি কি করে বলবো। আমি তো আইস্ক্রিম আর চুইংগামের জন্যে মুখে যা আসছে তোরে তাই কইয়া ডাকছি। এতো অর্থ খোজার সময় নাই। এই তুই যা তো আমায় আইস্ক্রিম খাওয়ায় ডিস্টার্ব করবি না একদম।(মিতু)
মিতুর কথা শুনে তমা আর কিছু না বলে গালে হাত দিয়ে বসে রইলো। আর মনে মনে বললো
-- তুই সত্যিই একটা আইস্ক্রিম পাগলী আর চুইংগাম বেইপি মিতু।
চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
৪ পর্ব
লেখা--সোনালী
আইস্ক্রিম খাওয়া শেষ করে মিতু একটা চুইংগাম মুখে দিয়ে চিবুতে চিবুতে বলে
-- বুঝলি তমা আমি না তোর ওপর একদম রাগ করে থাকতে পারি না। কি করে পারবো বল তুই তো আমার ব্যাঙ মামার এক মাত্র হবু বউ, শেয়াল কাক্কুর হবু বউমা। আর আমার পরানের জানঠুস। তোর ওপর কি রাগ করে থাকতে পারি বল?
-- ঐ কুত্তি তুই আমার সুনাম করছিস নাকি দুন্নাম হুমম? তোর এই মিষ্টি মিষ্টি কথার কারন না আমি সবই বুঝি বুজলি? আমি এখন আইস্ক্রিম আর চুইংগাম এনে দিয়েছি বলে তোর এতো ভালবাসা বুঝি না ভেবেছিস।(অভিমান করে)
-- তুই এইটা কইতে পারলি? আমি তোরে ভালবাসিনা এমন কথা তুই বললি ক্যামনে রে। এই কথা শোনার আগে আমি ঘুমাইয়া পরলাম না ক্যান।(ন্যাকা কান্না করে)
-- হয়েছে হয়েছে আর ঢং করতে হবে না। আমি এখন বাসায় যাচ্ছি। কালকে সকাল সকাল কলেজে যেতে হবে সকালে আবার আসবো তোকে নিয়ে যেতে।
-- ওকে মেরি আম্মা থুড়ি মেরি জানঠুস। গুড বাই
-- হুমম গুড বাই।
তারপর মিতুও তমার পিছু পিছু নিচে চলে আসে। রাতে বাবার সাথে একটু আড্ডা দিয়ে রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পরে।
সকালে
-- মিতু এই মিতু, ওঠ বলছি মেয়েটা সেই কখন থেকে দাড়িয়ে আছে তোর জন্যে। আর তুই কিনা নাক ডেকে ঘুমিয়েই যাচ্ছিস? ওঠ শিগ্গিরি দেখ ১১.০০ বাজতে চললো।
১১.০০ টার কথা শুনেই লাফিয়ে উঠে বসলো মিতু তারপর বললো
-- ইয়ায়ায়া আল্লাহ ১১.০০ বেজে গেছে আর তোমরা আমায় একবারও ডাকোনি আম্মু? আজকে নির্ঘাত কলেজ থেকে বের করে দিবে আমাদের।
কথাগুলো বলতে বলতেই ঘড়ির দিকে তাকায় মিতু। আর দেখে ঘড়িতে ৮.১০ বাজে। তখন মায়ের দিকে রাগি লুক নিয়ে বলে
-- এটা কি হলো আম্মু? ঘড়িতে সবে মাত্র ৮.১০ বাজে আর তুমি আমায় মিথ্যে বলে ডেকে তুললে? ইশশ আমার ঘুম।(ন্যাকা কান্না করে)
-- তোর ভালোর জন্যেই তোকে ডেকে তুলেছি। এখন বক বক না করে তারাতারি ফ্রেশ হয়ে খেয়ে কলেজের জন্যে রেডি হয়ে নে। তমা আসলো বলে।
কথাগুলো বলেই মিতুর মা চলে যায়। আর মিতু গাল ফুলিয়ে ফ্রেশ হতে যায়। তারপর ফ্রেশ হয়ে এসে হালকা নাস্তা করে ফ্রিজ খুলে দুইটা কোন আইস্ক্রিম দুই হাতে নিয়ে বাচ্ছাদের মতো খেতে লাগে। তমা এসে দেখে মিতু আইস্ক্রিম খাচ্ছে আর আইস্ক্রিম ওর ঠোটের কোনা দিয়ে লেগে আছে একদম বাচ্চাদের মতো। তমা মিতুর এই অবস্থা দেখে বলে
-- ঐ কুত্তি তুই কি কোনো দিন বড় হবি না? এই ভাবে কেউ আইস্ক্রিম খায়। যেনো কোনো বাচ্ছা আইস্ক্রিম খাচ্ছে।
-- ঐ পেত্নী গন্ডার্নি ডাইনি শাঁকচুন্নি খবরদার কইলাম আমার আইস্ক্রিম এর দিকে নজর দিবি না। আর আমি অনেক বড় হয়েছি শুধু আমার আব্বু আম্মু এটা বোঝেনা। কবে যে আমার বিয়ে দিবো আমি আমার নাতি নাতনির মুখ দেখ দেখমু।(অসহায় ভাব নিয়ে)
মিতুর কথা শুনে তমা চোখ বড় বড় করে বলে
-- ইশশ তোর কি একটুও লজ্জা নাই মিতু? এইভাবে কেউ নিজের বিয়ের কথা বলে?
-- কেনো রে পেত্নী তোর এতো জ্বলে ক্যান? নাকি তুই আমার হবু বরকে পটানোর চিন্তা করিস।
-- ঐ পেত্নী কে তোর হবু বর হুমম। আর আমি তাকে পটাতে যাবোই বা কোন দুঃখে।
-- আরে বুঝি বুঝি আমি সব বুঝি। আর কানের কাছে বকবক করে মাথা খাশ না তো চল কলেজে যাই তোর জন্যে প্রতিদিন দেরি হয়ে যায়।
-- কিইইইইইই আমার জন্যে?
-- তা নয়তো কি আমার জন্যে কুত্তি।
তারপর দুজন মিলে কলেজের উদ্যেশে রওনা দেয়। রিক্সায় করে যেতে যেতে কলেজের গেটের সামনে একটা কালো রঙের গাড়ি দেখে মিতু। সাথে সাথে রিক্সাওয়ালাকে বলে
-- এই মামা রিক্সা থামান। আমরা এখানেই নামবো।
মিতুর কথা শুনে রিক্সাওয়ালা রিক্সা থামায়। আর রিক্সা থামানোর সাথে সাথে মিতু লাফিয়ে নেমে যায় আর তমাকে বলে ভাড়া দিয়ে আসতে।
মিতু রিক্সায় থেকে নেমে দৌড়ে ঐ কালো গাড়িটার কাছে যায়। গাড়িটা অনেক সুন্দর। গাড়ির ভেতর থেকে বাইরের সব দেখা গেলেও বাইরে থেকে ভেতরের কিছু দেখা যায় না। মিতু গাড়িটার গায়ে হাত বুলিয়ে খলখলিয়ে হেসে তমাকে বলতে লাগে
-- এই পেত্নী দেখ গাড়িটা কি সুন্দর না? ইশশ এমন একটা গাড়ি যাদি আমার থাকতো তাহলে সারাদীন আমি এটাতে করে আমার নাতি নাতনির দাদুর সাথে ঘুরে বেরাতাম। আর ইচ্ছা মতো আইস্ক্রিম আর চুইংগাম খেতাম।
-- ঐ মিতু তুই কি পাগল হলি নাকি। কার না কার গাড়ি এভাবে দেখছিস। সে দেখলে কি ভাববে বলতো?
-- ঐ পেত্নী এক কাজ করলে কেমন হয় বলতো?
-- কি কাজ? (ভয়ে ভয়ে)
-- এই গাড়ির মালিককে খুজে বের করি চল তারপর তার সাথে আমি প্রেম করবো। তারপর তাকে বিয়ে করতে যৌতুক হিসাবে এই গাড়িটা তার থেকে নিবো। দারুন হবে না?
--এ্যা তোর মাথা কি পুরাই গেছে নাকি রে মিতু? জীবনে শুনেছিস যে মেয়েরা ছেলেদের থেকে যৌতুক নেয়? যে তুই এটা যৌতুক হিসাবে নিবি?
-- আরে জীবনে শুনিস নি তো এখন শোন না। চল চল এই গাড়ির মালিককে খুজি।
-- আচ্ছা এই গাড়ির মালিক যদি একটা বুড়ো হয় তখন কি করবি?
-- আরে বুড়ো হলে তো ভালা। বেটা আমার জ্বালায় তারাতারি মরে যাবে আর গাড়িটা আমার হয়ে যাবে।
-- আর যদি গাড়িটার মালিকের বৌ থাকে তখন?
-- আরে চিন্তা কিসের আমি ঐ বউকে ডিভোর্স দিতে বলবো তারপর আমায় বিয়ে করবে।
-- আচ্ছা ধর এই গাড়িটার মালিক যদি একটা মেয়ে হয় তখন।
-- ঐ কুত্তি বান্দরনি পেত্নী শাঁকচুন্নি তোর মুখে কি একটু ভালো কথা আসেনা সব সময় খালি বাজে বকিস। ইচ্ছাতো করছে তোকে এই গাড়ির নিচেই পিশে মারি।
-- ঐ তোর বক বক বন্ধ করে চল ক্লাশে যাই নইলে আজকেও আমাদের শাস্তি পেতে হবে।
-- আচ্ছা আচ্ছা চল যাই।
সামনে কিছুটা এগিয়ে গিয়ে আবার পিছনে ফিরে এতো মিতু। তারপর তমাকে বললো
-- ঐ পেত্নী শোন। যেহুতু এই গাড়িটার মালিক হতে পারলাম না। তাই আমি এর মালিক কেও একটু মজা দেখাতে চাই এমন সুন্দর গাড়ি দেখিয়ে আমার মতো নিশ্পাপ নিরিহ মেয়েকে কষ্ট দেওয়ার জন্যে।
মিতুর কথা শুনে তমা চোখ বড় করে অবাক হয়ে বললো
-- কি করবি তুই?
-- আরে বেশি কিছু না জাষ্ট গাড়ির চাকা চারটের হাওয়া ছেরে দিয়ে গাড়িটাকে চুইংগাম দিয়ে সাজিয়ে দিবো।
-- ঐ তুই কি একটু শান্তিতে থাকতে দিবি না আমায়। খবরদার তুই এমন কিছু করবি না। যার গাড়ি সে দেখলে আমাদের খবর আছে।
-- আরে কেউ দেখবে না। তুই আশেপাশে নজর রাখ আমি ঝটফট কাজ শেষ করি।
কথাটা বলেই মিতু ওর হিজাব থেকে পিন খুলে এগিয়ে যেতে লাগলো গাড়ির চাকার দিকে। আর ওমনি গাড়ি থেকে কেউ একজন নেমে মিতুর হাত ধরে ফেললো।
মিতু তো হাত ধরতে দেখে উপরের দিকে না তাকিয়েই ভয়ে একটা ঢোক গিললো। তারপর ধিরে ধিরে ওপরের দিকে তাকিয়ে চোখ বড় বড় করে বললো
-- বজ্জাত কাজু ঘোলাদরি আ আ আপনি?
চলবে,,,,,,,,,,,,,,
৫/৬ পর্ব
লেখা--সোনালী
-- বজ্জাত কাজু ঘোলাদরি আ আ আপনি?
-- এই যে মিস চুইংগাম বেইপি। তোমার সাহস হয় কি করে আমার গাড়ির হাওয়া ছারতে যাওয়ার? আবার আমার এমন সুন্দর নামটাকে এই রকম বাজে ভাবে বলার?
-- কি কি করেছি আমি হুমম। আর আপনি সাহসেরই বা দেখলেন কি মিস্টার বজ্জাত কাজু ঘোলাদরি এনাকন্ডা।
-- তুমি তো দেখি ভারি বজ্জাত মেয়ে, ভুল করে আবার মুখে মুখে তর্ক করো? তুমি যানো তোমায় আমি পুলিশে দিতে পারি আমার গাড়ির হাওয়া ছারার অপরাধে?
-- পু পু পুলিশে দিবেন মানে। আর কি প্রমান আছে আপনার কাছে যে আমি আপনার এই খাম্বা মার্কা গাড়ির হাওয়া ছেরেছি?
-- হা হা হা আমি জানতাম মিস চুইংগাম বেইপি যে তুমি এমন কথাই বলবে আমায়। তাই আগে থেকেই আমি তোমাকে সায়েস্তা করার জন্যে এতক্ষণ তুমি যা যা বকবক করেছো সব ভিডিও ও রেকোর্ড করে রেখেছি।ওয়েট দেখতে চাও দারাও দেখাচ্ছি।
কথাটা বলেই রাজু পকেট থেকে ফোন বের করে মিতুকে দেখায় ওর সব কথার রেকোর্ড ও ভিডিও। মিতু রাজুর হাত থেকে ছো মেরে ফোন কেরে নিতে চায় আর ওমনি রাজু হাত সরিয়ে নেয়। হাত সরিয়ে নিতেই মিতু তাল সামলাতে না পেরে পরে যেতে নেয়। আর ওমনি রাজু ওর হাত ধরে ফেলে। তারপর বলে
-- মিস চুইংগাম বেইপি চেষ্টা করে লাভ নাই ফোনটাতো তুমি পাবে না। আর এর শাস্তিও তো তোমাকে পেতেই হবে। তোমায় আমি পুলিশে দিবো এই ভিডিও দেখিয়ে।
রাজুর কথা শুনে মিতু সোজা হয়ে দারিয়ে নক খেতে খেতে আমতা আমতা করে অসহায় ভাবে বলে
-- সরি কাজু ঘোলাদরি আমার ভুল হয়ে গেছে। আপনি আমায় পুলিশে দিয়েন না প্লিজ। আমায় পুলিশে দিলে আমার নাতি নাতনিদের দাদুর কি হবে বলেন। আর আমায় তখন আমার নাতি নাতনির দাদু বিয়েও করতে চাইবে না। তাহলে আমি ঘুরতে যাবো কার সাথে আর কাকেই বা জ্বালিয়ে মারবো বলেন। প্লিজ আমার মতো এমন নিরিহ নিশ্পাপ ছোট্ট শিশু বাচ্চা মেয়েকে এমন শাস্তি দিয়েন না প্লিজ।
মিতুর কথা শুনে রাজুর প্রচুর হাসি পেলো। কিন্তু ও হাসিটাকে লুকিয়ে একটু রাগি লুক নিয়ে বললো
-- এখন আর এসব বলে লাভ নেই মিস চুইংগাম বেইপি। তোমার আর নাতি নাতনির মুখ দেখা হলো না মনে করো।আর হ্যা তখন কি যেনো বলছিলে এই গাড়ির মালিকের সাথে প্রেম করবে তাইনা?
-- এমা ছি ছি আমি এমন কখন বললাম। আমি তো এখনো একটা নিশ্পাপ নিরিহ বাচ্চা মেয়ে আমি কি প্রেম করতে পারি বলেন।ঐ শাঁকচুন্নি তমার বাচ্চা তুই কিছু কস না ক্যান এই কাজু ঘোলাদরি কে।
-- উনি কি বলবে হুমম উনি তো আর তোমার মতো দজ্জাল নয় মিস চুইংগাম বেইপি। ও হ্যা আরো কি কি যেনো বলছিলে তুমি, এই গাড়ির মালিককে বিয়ে করে গাড়িটা তার থেকে যৌতুক নিবে তাইনা? তোমার মতো এমন চুইংগাম বেইপিকে কে বিয়ে করবে হুমম। আমি তো কখনোই না।
রাজুর কথা শুনে মিতু খুব রেগে গেলো তারপর বলতে লাগলো
-- এই যে মিস্টার এনাকন্ডা রামছাগল কম্বোভুত,আফ্রিকার গরু অস্ট্রিয়ার ইদুর, নাইজেরিয়ার গন্ডার, উগন্ডার উল্লুক, সুন্দর বনের ভাল্লুক তো আপনার মতো এমন বজ্জাত কাজু ঘোলাদরিকে কে বিয়ে করবে শুনি। আপনাকে দেখলেই তো সব ভয়ে পালাবে আস্ত একটা রাক্ষস।
-- কি বললে তুমি, তোমার সাহস হয় কি করে আমায় এসব বাজে নামে ডাকার। তুমি জানো আমি তোমার কি করতে পারি?
-- তুই কি করবি রে শয়তানের বাপ, ইবলিশের দাদা, মাটির নিচের কেঁচো তোকে তো আমি চুইংগামের মতো চিবিয়ে খাবো তারপর ঐ তমা পেত্নীর চুলে লাগিয়ে দিবো। ঐ পেত্নী তুই এই উগন্ডার হাতিরে কিছু কস না ক্যান হুমম। আমি তো তোদের দুটোরে ইদুরের কাবাব কেঁচোর সুপ বাধা কপি দিয়ে ব্যাঙ ভাজি আর আর আর হ্যা মনে পরেছে আর গোবর দিয়ে করলার সরবত করে খাইয়ে মারবো।
মিতুর এসব খাবারের নাম শুনে রাজুর তো এখন বোমি হওয়ার অবস্থা। তবুও নিজেকে কিছুটা স্বাভাবিক করে রাজু বললো
-- হাউ ডেয়ার ইউ?
তোমার সাহস হয় কি করে আমার সাথে এই রাজু চৌধুরীর সাথে তুই তুই করে কথা বলার তাও আবার এমন বাজে বাজে কথা। তোমাকে তো আমি দেখে নিবো। আমার কাছ থেকে তোমার ছার নেই।আমি তোমায় ছারবোনা মিস চুইংগাম বেইপি।
বেচেরি তমা পাশে দাড়িয়ে ওদের ঝগড়া দেখছে আর মাথা থাপ্পড়াচ্ছে। রাজু আর মিতুর এমন ঝগড়া দেখে তমার মাথা ঘুরানো শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু ভয়ে মিতুর কাছে যাওয়ার সাহসও নাই ওর। কারন ও যানে এখন মিতুর কাছে গেলে ও আর আস্ত থাকবে না।
রাজুর কথা শুনে মিতু বললো
-- তুই আমায় কি দেখবি রে। জানি আমি খুব কিউট সুন্দরি নাদুসনুদুস একটা বিউটিফুল মেয়ে। তাই হয়তো তোর মতো একটা নাইজেরিয়ার বাইট্টা ইন্দুর আমায় দেখতে চাস। তোর চোখ আমি চিল হয়ে ছো মেরে তুলে নিমু কাজু ঘোলাদরি। আর তুই আমায় ছারবি কি রে আগে ধরে তো দেখা বজ্জাত খাটাশের ডিব্বা।
মিতু আর রাজুর মধ্যে সেই রকমের ঝগড়া বেজে গেলো। ওদের ঝগড়ার শব্দে প্রিন্সিপাল স্যার এগিয়ে এসে দেখে মিতু আর রাজু সেই লেবেলের ঝগড়ায় ব্যাস্ত। ওদের ঝগড়া শুনে আসে পাশের অনেক মানুষ জরো হয়ে গেছে। আর বেচেরি তমা পাশে দারিয়ে জরোসরো হয়ে নিজের কখ খাচ্ছে।
প্রিন্সিপাল স্যার বেশ রেগে যায়। তারপর মিতু আর রাজুকে ধমক দিয়ে বলে
-- এখানে হচ্ছে টা কি? মিতু তুমি ক্লাশ বাদ দিয়ে আজকেও এখানে কি করছো? এমন সিনক্রিয়েট করার মানে কি? আর রাজু তুমি এখানে কি করছো? আর এভাবে তোমরা ঝগড়াই বা করছো কেনো। রাস্তায় কত মানুষ জরো হয়ে গেছে দেখেছো একবার? তোমার বাবা জানতে পারলে কি হবে বলো তো? তোমার কাছ থেকে আমি এমনটা আশা করিনি রাজু।
প্রিন্সিপালের কথা শুনে মিতু একদম চুপ হয়ে গেলো। যেনো ও এতক্ষণ কিচ্ছু করেনি। আর রাজুও চুপ করে দাড়িয়ে রইলো। কারো মুখে কোনো কথা নেই। ওদের চুপ থাকতে দেখে প্রিন্সিপাল বললো
-- মিতু তুমি অফিস রুমে আসো। আর রাজু তুমিও আসো। তমা তুমি ক্লাসে যাও।
কথাগুলো বলেই প্রিন্সিপাল স্যার অফিস রুমের দিকে চলে গেলো। এদিকে মিতুর তো ভয়ে অবস্থা খারাপ। দেখে মনে হচ্ছে এখনি কেঁদে দিবে ও।মিতুর এমন ভয় পাওয়া মুখ দেখে রাজুর কিছুটা মায়া হলো। সাথে হাসিও পেলো। কিন্তু রাজু নিজের মায়া আর হাসিটাকে লুকিয়ে রাগের শুরে মিতুকে বললো
-- এই যে মিস চুইংগাম বেইপি চলুন প্রিন্সিপাল স্যার ডাকছে।
কথাটা বলেই রাজু সামনে হাটা শুরু করলো। মিতু আর কোনো উপায় না দেখে রাজুর পিছনে পিছনে হেটে যেতে লাগলো।
চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
৬ পর্ব
লেখা--সোনালী
রাজুর পিছু পিছু নক কামড়াতে কামড়াতে মিতু প্রিন্সিপালের রুমে সামনে গিয়ে দাড়ালো। প্রিন্সিপাল স্যার রাজুকে দেখে ভিতরে এসে বসতে বললো সাথে মিতুকেও আসতে বললো। রাজু ভিতরে এসে একটা চেয়ার টেনে বসে পরলো। সেটা দেখে মিতুও একটা চেয়ারে বসতে যাবে তখনোই প্রিন্সিপাল স্যার বলে উঠলো
-- এই মেয়ে তোমাকে কি আমি বসতে বলেছি? তুমি ওখানেই দাড়িয়ে থাকো।
প্রিন্সিপালের এমন ধমকের শুরের কথা শুনে মিতুর খুব রাগ হলো সে মনে মনে বলতে লাগলো
-- বুইড়া খাটাশ ভুড়িওয়ালা প্রিন্সিপাল একটা বজ্জাত টাকলু, একটু ভালো করে কথা কইতে কি তোর কষ্ট হয় মোটকু। ইচ্ছে তো করছে তোরে কুচিকুচি করে কেটে সুপ রান্না করি তারপর বাজারে ৫ টাকা প্লেট বেচে দিই। অবশ্য তোর সুপ খাওয়া যাবে কি না আল্লাহ জানে। তোকে দেখে তো মনে হয় এক নাম্বারের তিতার ডিব্বা।মনে মনে
-- তোমার নামে এর আগেও অনেক অভিযোগ পেয়েছি আমি। তুমি ঠিক মতো ক্লাশ করো না। আবার বেচেরি তমাকেও করতে দাও না। আর এখন তো দুদিন হলো দেখছি যেখানে সেখানে ঝগড়া করছো। তোমার আব্বু আম্মুকে কল করে কলেজে আসতে বলো তাদের সাথে আমার কথা আছে।
প্রিন্সিপাল স্যারের কথা শুনে এবার মিতু কিছুটা ভয় পেলো। তাই কাদো কাদো মুখ করে বললো
-- স্যার যা বলার আমাকেই বলুন প্লিজ আমার আব্বু আম্মুকে ডাকবেন না। আমি আর কখনো এমন করবো না প্রতিদিন ঠিক মতো ক্লাশ করবো কাওকে জ্বালাবোনা প্রমিজ।
মিতুর এমন কাদো কাদো মুখ দেখে রাজুর খুব মায়া হয় সাথে হাসিও পায়। তাই রাজু প্রিন্সিপাল স্যারকে বলে
-- আংকেল এবারের মতো ওকে ক্ষমা করে দিন।নেক্সট টাইম যদি এমন করে তখন না হয় শাস্তি দিয়েন। আর আজকে দোষটা আমারো ছিলো।
-- ঠিক আছে একমাত্র রাজু বাবার জন্যে তোমায় এবারের মতো ছেরে দিলাম। নেক্সট টাইম আর এই সুযোগটা পাবে না মনে রেখো। এবার যাও কলেজ টাইম শেষ প্রায় ক্লাশে যাও।
প্রিন্সিপালের কথা শুনে মিতু আর কিছু না বলে মাথা নিচু করে সেখান থেকে চলে যায়।মিতু ক্লাসের দিকে যাচ্ছে হঠাৎ রাজুর ডাকে থেমে যায়
-- এই যে মিস চুইংগাম বেইপি। কোথায় যাচ্ছো হুমম।আমি যে তোমায় আংকেলের থেকে বাচালাম আমায় তো সে জন্যে ধন্যবাদ দিলে না??
রাজুর কথা শুনে মিতু হাত দিয়ে নিজের নাকটা ঘসে বললো
-- ধন্যবাদ পাওয়ার খুব শখ না তোর বেটা নেংটি ইদুর। আমার তো ইচ্ছা করছে তোরে পিচ পিচ করে কেছে তেলাপোকাকে খাওয়াই তারপর সেই তেলাপোকা চরচরি করে তোকে খাইয়ে মারি। এএএ বেটা বজ্জাতের হাড্ডি আইছে ধন্যবাদ নিতে হুহহ।
কথাগুলো বলেই রাজুকে একটা ভেঙচি দিয়ে ক্লাশের দিকে চলে গেলো মিতু। আর রাজু বেচারা হা করে তাকিয়ে রইলো ওর চলে যাওয়ার দিকে।আর মিতুর বলা কথাগুলো নিয়ে ভাবতে লাগলো। তারপর মুচকি একটা হাসি দিয়ে বললো
-- দুষ্টু একটা ঝগড়াটে চুইংগাম বেইপি। তোমাকে তো আমি ছারছি না বেইপি রেডি থাকো খুব তারাতারিই তোমার জন্যে একটা সার্প্রাইজ অপেক্ষা করছে।
এদিকে মিতু ক্লাশের কাছাকাছি আসতেই দেখে তমা বেরিয়ে আসছে ক্লাস থেকে। কলেজ টাইম শেষ। মিতুকে দেখে তমা তারাতারি মিতুর কাছে এসে কিছু বলবে তার আগেই মিতু বলতে লাগলো
-- ঐ শাঁকচুন্নি পেত্নী কুত্তি চুন্নি বুড়ি রংপুরের কুদ্দুস ফকিরের বউ, নোয়াখালীর ভাদাম্মার হবু বউমা তোরে তো আজকে আমি আস্ত চিবিয়ে খাবো। তারপর তোর হাড্ডি দিয়ে আমি ঢোল বাজাবো। তুই আমাকে ঐ কাজু ঘোলাদরি রাক্ষসটার হাতে দিয়া চুপচাপ দাড়াই ছিলে কিল্লাইগ্গা। আজ তো তোকে আমি খাইছি দারা বাইট্টা ইদুরের বউ।
মিতুর এমন কথা শুনেই তমার গলা পুরো শুকিয়ে গেলো ভয়ে। মিতু যে পরিমান রেগে আছে তাতে ওকে এখন ধরতে পারলে পর ১৪ টা বাজিয়ে ছারবে মিতু।তাই মিতুর এমন রুপ দেখেই তমা ভয়ে দৌড় লাগালো মাঠের দিকে। তমার দৌড় দেওয়া দেখে মিতুও তমাকে ধরতে দৌড়াতে লাগলো ওর পিছু। দৌড়াতে দৌরাতে প্রিন্সিপাল স্যারের সামনে চলে গেলো ওরা। প্রিন্সিপাল স্যার অফিস রুম থেকে বেরিয়ে কোথায় যেনো যাচ্ছিলো। মিতু আর তমার দৌড়া দৌড়ি দেখে সে মিতুকে ডেকে ধমক দিয়ে বললো
-- মিতুউউউউ কি হচ্ছে এসব? তুমি তমাকে এভাবে তারা করছো কেনো?
প্রিন্সিপাল স্যারকে দেখে থমকে দারালো মিতু ও তমা। তারপর মিতু বিরবির করে বলতে লাগলো
-- কথায় আছে যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই নাকি সন্ধে হয়। আর এখানে তো হলো- যেখানে টাকলু মটকু প্রিন্সিপালের ভয় সেখানেই মটকু টাকলুটা হাজির হয়।
-- আমি কি প্রশ্ন করছি তার উত্তর না দিয়ে কি বিড়বিড় করছো মিতু?
প্রিন্সিপালের ধমক খেয়ে মিতু কিছু বলবে তার আগেই তমা বলে ওঠে
-- আসলে স্যার ওর কোনো দোষ নাই। মিতু তো আজ ক্লাশ করতে পারেনি তাই আমার কাছে নোটস চেয়েছিলো। আমি দুষ্টুমি করে বলেছি আমায় ধরতে পারলে দিবো তাই ও আমায় ধরতে আসছিলো। সরি স্যার আর হবে না এমন।
তমার কথা শুনে প্রিন্সিপাল স্যার বললো
-- It's ok এর পর যেনো কখনো তোমাদের এভাবে দৌড়াদৌড়ি করতে না দেখি। যাও বাসায় যাও।
কথাগুলো বলে চলে গেলো প্রিন্সিপাল স্যার। আর তমা ভয়ে ভয়ে তাকালো মিতুর দিকে তারপর কান ধরে মিতুকে ইশারায় বললো সরি।মিতু রাগি লুক নিয়ে তোমার দিকে দ্রুতো এগিয়ে আসতে লাগলো। এটা দেখে তমা চোখ বন্ধ করে ফেললো ভয়ে। একটু পর গালে কারো ছোয়া পেয়ে চোখ খুললো ও।তারপর তাকিয়ে দেখে মিতু ওকে জরিয়ে ধরে গালে কিস করছে। এটা দেখে তমা বড় বড় করে অবাক হয়ে তাকায় মিতুর দিকে। তখন মিতু হেসে দিয়ে বলে
-- তুই আমার সোনা মোনা তুনাতুনা পুনাপুনা কুতুকুতু মুনুমুনু তুনু তুনু ময়না টিয়া কাতুকুতু চুম্মা কলিজার বেষ্টু। ইচ্ছা করতাছে তোরে আদর করে খেয়ে ফেলি ভালবাসা দিয়ে।তুই আমারে বাচাই দিলও নইলে আজ আমার হতো।
মিতুর এমন কথা শুনে তমা হা করে তাকিয়ে আছে মিতুর দিকে। তমাকে হা করে থাকতে দেখে মিতু বললো
-- ঐ পেত্নী এখন মুখটা বন্ধ কর নইলে আফগানিস্তানের প্লেন এসে তোর মুখে ঢুকবে। চল বাসায় যাবো।
-- মিতু আমায় একটা কথা বলতো। তুই এতো আজব আজব নাম পাস কোথা থেকে রে। আমার মাথা ঘুরায়।
--- হা হা হা ওটা একটা সিক্রেট রে ভুত্নী তোর মতো মাথা মোটারা এ সব বুঝবি না। এবার চল বাসায় যাবো।ইশশ কতক্ষণ হলো একটু আইস্ক্রিম আর চুইংগাম খাইনা।
তারপর দুজন বাসায় চলে এলো। তমা নিজের বাসায় চলে গেলো আর মিতু নিজের বাসায় চলে এলো। তারপর ফ্রেশ হয়ে খেতে আসলে মিতুর মা খাবার দিতে দিতে বললো
-- মিতু বিকেলে বাসায় মেহমান আসবে তুই কিন্তু তাদের সামনে একদম ফাজলামি করবি না বুঝলি?
-- এটা তুমি কি বলো আম্মু আমার মতো এত্ত কিউট এত্ত ভালো নিরিহ নিশ্পাপ বাচ্চা মেয়ে তুমি আর একটাও পাবে। আর তুমি কিনা আমায় ফাজিল বলছো আম্মু। ইশশ মে মার কিউ নেহি গায়ি ইস বাত শুননে ছে পেহলে।
-- হয়েছে হয়েছে আর আদেক্ষেতা করতে হবে না। এখন তারাতারি খেয়ে নে বিকেলে অনেক কাজ আছে।
চলবে,,,,,,,,,,,,
৭+৮ পর্ব
লেখা--সোনালী
বিকেলে
-- মিতু মিতু এই মিতু সেই কখন থেকে ডাকছি মেয়েটার কোনো সারা শব্দ নেই। সারাদিন শুধু আইস্ক্রিম চুইংগাম খাওয়া আর ঘুম পারা ছারা কিছুই বোঝেনা এই মেয়ে। এদিকে ওনারা আসলো বলে। মিতু ঐ মিতু জলদি ওঠ। (মিতুর মা)
-- উফস এই হনুমানের বেটিটা শান্তিতে একটু ঘুমোতেও দিবে না দেখছি। কখন থেকে সেই ষাড়ের মতো হাম্বা হাম্বা করেই যাচ্ছে। ইচ্ছে তো করছে এরে বাদ দিয়া আব্বুরে একটা ভালো বউ এনে দেই।ধুর বাবা ভাল্লাগেনা।
কথাগুলো বলতে বলতে দরজা খোলে মিতু। তারপর বলে
-- কি হয়েছে কি শুনি কখন থেকে কটকটির মতো বাড়িটাকে মাথায় তুলছো ক্যান শুনি। বেশি চিল্লানোর ইচ্ছা থাকলে কও পাশের গ্রামের নাজমা নামের মহিলার সাথে ঝগড়া করতে দিয়া আসমুনি।
-- বেয়াদব মেয়ে একটা। তোর কোনো কাণ্ডজ্ঞান আছে। তোকে দুপুরে বললাম না যে আজকে বাসায় মেহমান আসবে। আর তুই সেই নাক ডেকে ঘুমাচ্ছিস।তারাতারি ফ্রেশ হয়ে এটা পরে সুন্দর করে রেডি হয়ে নে। ওনারা আসলো বলে।(একটা প্যাকেট মিতুর দিকে এগিয়ে দিয়ে)
-- এইটা কিসের প্যাকেট আম্মু। আর আমি এটা পরে সুন্দর করে সাজবোই বা ক্যান?
-- ওটা খুলেই দেখ গিয়ে কি ওটা। আর সাজতে বলছি কারন তোকে আজ ছেলে পক্ষ দেখতে আসবে। পছন্দ হলে বিয়ে হবে। ওনারা অনেক বড় মানুষ তাই তাদের সামনে ভদ্র হয়ে থাকবি বুঝলি। এখন যা তারাতারি রেডি হয়ে আয়।
-- ওরে আমার গুলুমুলু আম্মু রে তুমি আগে কইবাতো যে আমারে আজ আমার নাতি নাতনির দাদু দেখতে আইবো। ইশশ কত্ত দিন হইলো তারে দেখিনা। যদিও আজ অবদি একবারো দেখিনাই। তুমি এখন যাও তো কখন থেকে বকবক করে সময় নষ্ট করছো আমাকে সাজুগুজু করতে দাও, যাও ভাগো।
কথাগুলো বলেই প্যাকেটটা নিয়ে রুমে চলে গেলো মিতু। আর ওর মা কপালে হাত দিয়ে বললো
-- এ আমি কাকে পেটে রাখছিলাম আল্লাহই জানে। এমন বজ্জাত মেয়ে দুনিয়ায় আর একটা আছে কিনা আমার সন্দেহ হয়। আল্লাহ না করুক ছেলে পক্ষের সামনে চুপ থাকলে হয়।
প্রায় ৩০ মিনিট পর
--মিতু ঐ মিতু তোর হলো ওনারা চলে আসছেন।
-- হয়েগেছে আম্মু দেখোতো আমাকে লাগছে না একদম ঝাক্কাস।
-- মাশাআল্লাহ আমার মেয়েটাকে তো একদম হলুদ পরীর মতো লাগছে। চল চল নিচে চল ওনারা বসে আছে।
(মিতু হলুদ রঙের একটা হাতের কাজ করা থ্রিপিচ পরেছে, সাথে মেচিং করা পাথড়ের জুয়েলারি আর হালকা সাজ।এতেই অসম্ভব সুন্দর লাগছে ওকে)
-- ঐ শাঁকচুন্নি তমার বাচ্চা এখনো আসে না কিল্লাইগ্গা। ওরে সেই কখন ফোন করে বলছি এখানে আসার জন্যে।
-- ইশশ মিতু এটা কেমন ভাষা। তুই কি একটুও ভদ্র ভাবে কথা বলতে পারিস না। এমন কথা ওনারা শুনলে কি ভাববে বলতো। আর তমা অনেক্ষন আগেই এসেছে। নিচে আমায় কাজে হেল্প করছে। তুই চল।
মিতু আর কিছু না বলে মায়ের সাথে চলে এলো। মিতুর মা তমাকে বললো মিতুকে তাদের সামনে নিয়ে যেতে। মায়ের কথা শুনে মিতু বললো
-- ক্যান আমি কি একা একা যেতে পারি না যে আমায় আবার আরেকজনের নিয়ে যেতে হবে। তবে হ্যা যদি কোলে নিয়ে যাস তাহলে জলদি নে আয় আয়।
-- ঐ পেত্নী তোর মতো মুটকিরে আমি কোলে নিতে পারমু। যা নিজেই যা আমি নিয়া যামু না।(তমা)
-- তুই আমারে কি কইলিরে কুত্তি তোরে তো আজ আমি গোবরের পানি দিয়া করলার সরবত করে খাওয়ামু তারপর লাথথি দিয়া উগন্ডায় তোর ভাদাম্মা জামাইয়ের কাছে পাঠাইয়া দিমু চুন্নি। তুই মোটকু তোর জামাই মটকু তোর জামাইয়ের ৩২ টা গুষ্টি মটকু।
-- মিতু তুই আবার শুরু করলি। হায় আল্লাহ এই মেয়েকে নিয়ে আমি কি করি। ছেলে পক্ষতো ওর ভাষা শুনেই পালাবে পছন্দ করা তো দুরের কথা।(মিতুর মা কপালে হাত দিয়ে বললো)
মায়ের কথা শুনে মিতু কিছু না বলে একটা ভেঙচি দিয়ে পাত্র পক্ষের সামনে গেলো। গিয়ে দেখে দুজন মহিলা বসে আছেন বেশ সুন্দর দেখতে। আর দেখেই বোঝা যাচ্ছে বেস উচ্চ ঘরের মানুষ এরা। মিতু ওনাদের সামনে এসেই বললো
-- আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছো আন্টিরা?
-- ওয়ালাই কুমুসসালাম। এইতো ভালো আছি । তুমিই কি মিতু?(দুজন মহিলার মাঝে একজন বললো)
-- জ্বি আন্টি আমিই মিতু আর তোমরা আমাকেই দেখতে এসেছো। বাট সে কই আন্টি?(আসেপাশে খুজে বললো মিতু)
-- সে কে, কার কথা বলছো তুমি?
-- কেনো আন্টি আমার নাতি নাতনির দাদু আসেনি আমায় দেখতে? আমি তো তারেই খুজি?
মিতুর কথা শুনে মহিলা দুটো একে অপরের দিকে তাকাতাকি করতে লাগলো তারপর এক জন বললো
--তুমি কি আমার খোকার কথা বলছো? মানে যার বিয়ের জন্যে আমরা তোমায় দেখতে এসেছি তার কথা বলছো?
-- এ্যা খোকা মানে? আন্টি আমি কিন্তু ঐ রহিমের রুব্বানের মতো কোনো খোকাকে বিয়ে করতে পারমু না। তোমরা ফিরা যাও আমি বিয়া করুম না কোনো ছোট্ট খোকারে। বিয়ের পর যদি আমার আইস্ক্রিম আর চুইংগামের ভাগ চায় তখন তো খোকা বইলা আমি নাও করতে পারমু না। আমি এই বিয়া করমু না তোমরা চলে যাও।
মিতুর কথা শুনে প্রথমে সবাই অবাক হলো। তারপর হো হো করে হেসে দিলো মহিলা দুটো। কিছুক্ষণ পর হাসি থামিয়ে ছেলের মা বললো
-- হা হা হা তোমার ব্যাপারে যেমন শুনে এসেছি তুমি দেখি সত্যিই তেমন। আমার একটা মাত্র ছেলে বলে ওকে আমরা আদর করে খোকা ডাকি। আসলে ও তোমার চেয়ে বড় বুঝলে মামনি। আর হ্যা আমি তোমার নাতি নাতনির দাদুর মা মানে তোমার হবু শাশুরি। আর ইনি আমার বোন মানে বিয়ের পর তোমার খালাশাশুড়ি হবে।
-- তুমি সত্যিই বলছো তো আন্টি তোমার খোকা আসলে খোকা নয় তো??
-- হ্যা মামনি আমার ছেলে অনেক বড় ও হ্যান্ডসাম দেখতে। তোমার সাথে খুব মানাবে।
মিতুর মা আর তমা খাবারের ট্রে নিয়ে এসে দেখে মিতু এমন বাজে বোকছে। এটা দেখেইতো মিতুর মা রেগে গিয়ে মিতুকে বলে
-- মিতু কি বলছিস এসব হুমম। আর প্রথম বার কারো সাথে দেখা হলে তাকে কেউ তুমি তুমি বলে নাকি?
-- বিয়ান সাহেবা মিতুকে কিছু বলবেন না। আমাদের মিতুকে খুব পছন্দ হয়েছে। আপনারা রাজি থাকলে খুব তারাতারি মিতুকে আমার বাড়ির বউ করে নিয়ে যেতে চাই।
ছেলের মায়ের কথা শুনে মিতুর মা আর তমার মুখে হাসি ফুটে ওঠে। তারপর মিতুর মা বলে
-- হ্যা বিয়ান সাহেবা আমরা রাজি। মিতুর বাবা আমায় সব বলেছে আপনাদের কথা। তাই আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আপনার ছেলেতো মিতুকে দেখতে এলো না। না দেখে বিয়ে করে পরে যদি আমার অমত করে??
-- সে নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না বিয়াইন। আমার খোকাই মিতুকে দেখে পছন্দ করে আমাদের পাঠিয়েছে প্রস্তাব দিয়ে। আমার খোকার জন্যে আমি কত পাত্রি দেখেছি তার কোনো শেষ নেই কিন্তু আমার খোকা কাউকে পছন্দই করতো না। আর আপনার মেয়েকে যেদিন প্রথম দেখেছে সেদিনই বাসায় গিয়ে আমায় বলেছে ওর কথা। তাইতো সব খোজ খবর নিয়ে আজকে এসেছি।
মা আর হবু শাশুড়ির কথা শুনে মিতু বলে উঠলো
-- আচ্ছা তোমরা শুধু ঐ খোকাকে নিয়েই কথা বলছো তাইনা। আর আমি যে আমার নাতি নাতনির দাদুকে দেখার জন্যে ছটফট করছি তার বেলা। ডাকো তারে, তারে আমি গোবর পানিতে চুবানি দিমু তারপর বুড়িগঙ্গা নদীতে ধুয়ে শুটকি করে বাজারে বেচমু তারপর সেই টাকা দিয়া আইস্ক্রিম আর চুইংগাম খামু।
মিতুর কথা শুনে সবাই হা করে ওর দিকে তাকালো। আর মিতুর মা মনে মনে ভাবলো বিয়েটা বুঝি এবার ভেঙেই গেলো। কিন্তু তখনি মিতুর মাকে অবাক করে দিয়ে ছেলের খালা বললো
-- হা হা হা ওকে মামনি তুমি বিয়ের পর ইচ্ছা মতো তোমার বরকে জ্বালিও কেমন। তোমার ব্যাপারে যেমন শুনে এসেছি তুমি সত্যিই তেমন একদম বাচ্চা এখনো। (ছেলের খালা)
-- আমাদের বাসার একটা নিয়ম আছে মিতু মামনি বিয়ের আগে বউ তার স্বামীকে দেখতে পারবে না। তাই তুমি ছারা তোমার বাসার সবাই আমার ছেলেকে দেখবে। তুমি একদম বাসর ঘরে দেখো।(ছেলের মা)
-- এ্যা এটা কেমন কথা? যার বিয়া সে দেখবে না তার জামাইরে। আর অন্যেরা জামাই দেখবো।এটা কেমন বিচার?
মিতুর কথা শুনে সবাই হাসতে লাগলো আর তমা মিতুর কাছে কাছে গিয়ে বললো
-- এতদিন জানতাম তোর ঝগড়া দেখে সবাই তোকে ভয় পায় আর এখন তো দেইখি কেউ তোর প্রেমেও পরে।হিহিহিহি
তমার কথা শুনে মিতু রাগি লুক নিয়ে তমার দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো আর তমা তো কখনই দৌড় দিছে ছাদের দিকে,,,,
চলবে,,,,,,,,,,
৮ পর্ব
লেখা--সোনালী
-- এতদিন জানতাম তোর ঝগড়া দেখে সবাই তোকে ভয় পায় আর এখন তো দেইখি কেউ তোর প্রেমেও পরে।হিহিহিহি(বললো তমা)
তমার কথা শুনে মিতু রাগি লুক নিয়ে তমার দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো আর তমা তো কখনই দৌড় দিছে ছাদের দিকে,,,,
ছাদে গিয়ে তমাকে ধরে ফেললো মিতু। তারপর তমার হাত পিছন দিকে ঘুরিয়ে বললো
-- ঐ কুত্তি পেত্নী ভুত্নী বান্দরনি গন্ডারনি নাইজেরিয়ার এনাকন্ডার বউ, বাংলাদেশের রামছাগলের চাচি, উগন্ডার ভেড়ার খালাম্মা তুই কি কইলি রে আমি ঝগড়াটে না। আমি ঝগড়া করি সবার সাথে? তোকে তো আজকে আমি খুন করে তোর চল্লিশা খামু।(প্রচুর রেগে বললো মিতু)
-- ওমাগো এই ডাইনিটা আমায় মেরে ফেললো গো। আমায় ছেরে দে বলছি মিতু তিতু নইলে আমি তোর বিয়ের ভান্জি দিমু কইলাম।
তামার কথা শুনে আরো রেগে গেলো মিতু তারপর তমাকে ছেরে দিয়ে কোমোড়ে হাত দিয়ে বললো
-- কি বললি তুই আমাকে আমি ডাইনি তাই না। আমার নাতি নাতনির দাদুর সাথে আমার বিয়েতে তুই ভান্জি দিবি তাইনা। এইবার দেখ আমি তোর কি করি। তোকে মেরে আমি তোর রক্ত খাবো হু হা হা হা।
মিতুর কথা শুনে তমা ভয়ে দৌড়াতে লাগলো আর সরি বলতে লাগলো। মিতুও তমাকে ধরার জন্যে বকা দিতে দিতে দৌড়াতে লাগলো। বেশ কিছু সময় এভাবে দৌড়াদৌড়ি করার পর দুজনেই হাপিয়ে গেলো। তারপর ছাদের কোনায় দুটো চেয়ার রাখা সেখানে গিয়ে বসে হাপাতে লাগলো।
বেশ কিছুক্ষণ কেউ কারো সাথে কোনো কথা বললো না। তারপর নিরবতা কাটিয়ে তমা বললো
-- এই মিতু একটা কথা শুনবি?
-- কি কথা বল শুনছি?
-- আমি না তোর বরের ছবি দেখে ফিদা হয়ে গেছি রে। ইশশ কি হ্যান্ডসাম দেখতে ইচ্ছে তো করছে তোর জায়গায় আমিই বিয়েটা করে ফেলি।
তমার কথা শুনে চোখ বড় বড় করে তমার দিকে তাকিয়ে মিতু বললো
-- আমার নাতি নাতনির দাদুর ছবি তুই পেলি কোথায়? আর তুই এতো লুচু ক্যান রে আমার নাতি নাতনির দাদুর দিকে নজর দিচ্ছিস চুন্নি।
-- আরে আরে শান্ত হ আমি জাস্ট মজা করছিলাম শত হলেও উনি তো আমার দুলাভাই হবে তাইনা বল। তবে এটা সত্যি রে মিতু তোর হবু বরটাকে অসম্ভব সুন্দর দেখতে।
--ইশশ সত্যিই বলছিস তমা। ওরে আমার শুনা মুনা তুনাতুনা আসো তোমারে একটা উম্মা দেই। তমা আমাকে ছবিটা দেখাবি প্লিজ?
-- আহারেএএএএ, ছবিটা আমার কাছে থাকলে তো তোকে দেখাবো বল। ওটা তো তোর হবু শাশুড়ির কাছে ছিলো আমি সেখানেই দেখেছি। আর উনি তো বললোই ওনাদের বাড়ির নিয়ম বাসর রাতের আগে তুই বরকে দেখতে পারবি না।
তমার কথা শুনে মিতু মন খারাপ করে গালে হাত দিয়ে বসে রইলো। মিতুর মন খারাপ দেখে তমা মিতুর মন ভালো করার জন্যে বললো
-- আচ্ছা মিতু একটা কথা বলতো। বাসর রাতে নাকি নতুন বউ তার জামাইকে গরম দুধ বা অন্য কিছু খাওয়ায় তো তুই দুলাভাইকে কি খাওয়াবি ভাবছিস??
তমার কথা শুনে নিমিষেই মন ভালো হয়ে যায় মিতুর। তারপর তমার দিকে ঘুরে হাস্যজ্জল চেহারায় বলতে লাগে
-- তাই নাকি রে। তাহলে তো আমি আমার নাতি নাতনির দাদুরে অনেক মজার মজার রান্না করে খাওয়াবো বাসর রাতে নিজের হাতে।
-- তাই বুঝি, তা কি কি খাওয়াবি রে মিতু?
-- তহলে শোন। লেংটি ইদুরের গরম গরম কাবাব, গেছো ইদুরের ঝোল, মংদা ইদুরের সুপ, কেঁচোর নুডলুস, তেলাপোকার চরচরি, টিকটিকির ফ্রাই, ব্যাঙের রোষ্ট, সাদা সাদা ছোট কাঠপোকার জুস আর গোবর পানি দিয়া করলার সরবত। ওয়াও দারুন হবে বল।
কথা গুলো বলেই তমার দিকে তাকায় মিতু। তাকিয়ে দেখে তমা বোমি করতে করতে শেষ। তমার এমন অবস্থা দেখে মিতু তমাকে ধরে বলে
-- ঐ কুত্তি তোর কি হলো রে হঠাৎ এভাবে বোমি করছিস ক্যান? তোর বিয়ে হলো কবে যে আমি খালা মনি হতে যাচ্ছি?
মিতুর এমন কথা শুনে তমার কাশি উঠে গেলো। কাশতে কাশতে আর বমি করতে করতে বেচারির অবস্থা কাহিল। মিতু তারাতারি গিয়ে তমার জন্যে পানি নিয়ে এলো। তমা পানি খেয়ে একটু সুস্থ হয়ে মিতুর দিকে তাকিয়ে বললো
-- তুই কি মানুষ নাকি এলিয়েন রে মিতু? আমার তো সন্দেহ হচ্ছে তুই মানুষ হতেই পারিস না।
-- ঐ বান্দরনি কানের নিচে কোষে একটা দিবো কইলাম। আমি এলিয়েন হতে যাবো কোন দুঃখে? আমি তো সাদা সিধা সরল সোজা নিশ্পাপ নিরিহ একটা ছোট্টা মিষ্টি বাচ্চা মেয়ে।(লজ্জায় লাল হয়ে)
-- এবার শুধু সন্দেহ না আমি পুরোপুরি শিওর তুই এলিয়েন মেরি মা। কারন এমন আজব আজব কথা কোনো মানুষ অন্তত বলে না।
-- ঐ চুন্নি তুই মা কস কারে হুমম। আমি তোর কোন জন্মের মা লাগি শুনি। মাইরা একদম অস্টেলিয়ায় পাঠিয়ে দিমু কইলাম। এখন ক বোমি ক্যান করলি? তোর বিয়ে হলো কবে রে যে আমি খালামনি হচ্ছি।
-- ঐ শাঁকচুন্নি তুই খালামনি হবি কোন দুঃখে রে।আর আমি বিয়েই বা করলাম কখন। তুই যে সব খাবারের নাম বললি না তা শুনে তোর মতো এলিয়েন ছারা যে কেউ বোমি করবে। তুই এসব নাম পাস কোথায় বলতো?
-- যাব্বাবাহ আমি আবার কি বললাম। আমি তো আমার স্পেশাল খাবারের নাম গুলো বললাম যেগুলো আমি আমার নাতি নাতনির দাদুকে খাওয়াতে চাই।
-- তুই কি জানিস তোর এইসব খাবারের নাম শুনলে দুলাভাই ভয়ে পালাবে তোকে আর বিয়েই করবে না। আরে ধুর আমিও না যা তা। কার সাথে যে কথা বলছি এই মেয়ে আমাকেও এলিয়েন বানিয়ে দিবে।
কথাগিলো বলেই ছাদ থেকে চলে যায় তমা। মিতু বসে বসে একা একাই বলতে লাগে
-- এটা কি হলো। আমার এত সুন্দর সুন্দর খাবারগুলোকে ঐ শাঁকচুন্নি টা বদনাম করে গেলো। ও এসবের বুঝবে কি এক নাম্বারের ফকিন্নি তো।
তারপর মিতুও নিচে চলে এলো।
নিচে এসে মিতু দেখে ওর মা বসে ফোনে কার সাথে যেনো কথা বলছে। পাসেই তমা দাড়িয়ে আছে। কিন্তু ঐ মহিলা দুটো (মিতুর হবু শাশুড়ি আর খালাশাশুড়ি) নেই।ওদের না দেখতে পেয়ে মিতু মায়ের কাছে এগিয়ে গিয়ে বললো
-- আম্মু আমার হবু শাশুমা গেলো কই? তাদের দেখছি না যে?
মিতুর কথা শুনে ফোন কেটে দিয়ে মিতুর মা বললো
-- ওনারা চলে গেছেন। কালকে আমি আর তোর বাবা ওনাদের বাসায় যাবো তোর বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করতে। ওনাদের তোকে অনেক পছন্দ হয়েছে। তাই দেরি করতে চাননা। যত তারাতারি সম্ভব বিয়ে করিয়ে নিয়ে যেতে চান।
মায়ের কথা শুনে মিতু লাফিয়ে উঠে নাচতে থাকে আর বলতে লাগে
-- ঐ ঢিংকা চিকা ঢিংকা চিকা। আমি আমার নাতি নাতনির দাদুকে দেখবো বিয়ে করবো বিয়ে খাবো। তারপর বাসর রাতে তাকে আমার হাতের মজার মজার স্পেশাল খাবার গুলো খাওয়াবো কি মজা হুররেএএএ।
মিতুর এমন কথা শুনে তমা কপালে হাত দিয়ে সোফায় বসে পরে। আর মিতুর মা ধমক দিয়ে বলে
-- ঐ তোর মাথা কি একদম খারাপ হয়ে গেছে মিতু? কখনো দেখেছিস নিজের বিয়ের কথা শুনে কেউ এভাবে নাচে? আর কি যেনো বলছিলি বাসর রাতে বরকে নিজে হাতে রান্না করে খাওয়াবি তাইনা। তুই কফি আর চা ছারা আর কিছু রান্না করতে জানিস?
মিতুর মায়ের কথা শুনে মিতু কিছু বলবে তার আগেই তমা বলে উঠলো
-- আন্টি প্লিজ আর যাই করেন ওর ঐ সব খাবারের নামগুলো বলতে বলবেন না প্লিজ। আমি একবার বোমি করেছি এবার ওসব শুনলে সোজা ICU তে চলে যেতে হবে আমার।
তমার কথা শুনে মিতুর মা আর কিছু না বলে মিতুকে বললো
-- মিতু তুই এখন অনেক বড় হয়েছিস।আজ বাদে কাল তোর বিয়ে এখন পাগলি অন্তত একটু কম কর। আর হ্যা কালকেই আমি তোর বাবার সাথে ছেলেদের বাড়িতে যাচ্ছি।বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করতে। এখন উপরে গিয়ে কাপড় চেন্জ কর যা।
কথাগুলো বলেই চলে যায় মিতুর মা। আর মিতু গাল ফুলিয়ে নিজের রুমে চলে যায়। তমা বেচারি গালে হাত দিয়ে বলে
-- আল্লাহ আমার দুলাভাইটা যে কি দেখে এই মেয়েকে পছন্দ করলো তুমিই জানো। ও বেচারা জানেও না সে কি নিয়ে যাচ্ছে নিজের জীবনটা তেজপাতা করতে। এই এলিনকে একটু সুবুদ্ধি দাও খোদা।আমিন
কথাগুলো বলে মিতুর মাকে বলে নিজের বাসায় চলে গেলো তমা।
এদিকে
মিতুকে দেখে বাসায় গিয়ে মিতুর হবু বরকে মিতুর হবু শাশুড়ি বললো
-- খোকা তুই যেমন বলে ছিলি মিতু মা সত্যিই ঠিক তেমন। মনের দিক দিয়ে একদমই বাচ্চা এখনো মেয়েটা। আমাদের ওকে খুব পছন্দ হয়েছে। কালকে তোদের বিয়ের ডেট ঠিক করতে আসবেন মিতুর মা বাবা।
মায়ের কথা শুনে মায়ের গলা জরিয়ে ধরে বললো খোকা
-- ওহ আম্মু আই লাভ ইউ। বিয়ের দিনটা এই সাপ্তার মাঝই ফেলো প্লিজ। তোমার বৌমাকে যে আমি খুব মিস করছি।
ছেলের কথা শুনে ছেলের কান ধরে সামনে এনে ওর মা বলল
-- পাজি ছেলে একটা মায়ের সামনে এসব বলতে লজ্জা করে না তোর।
-- ওহ আম্মু আমি কি আমার আম্মুর সামনে বলছি নাকি আমি তো আমার সব চাইতে প্রিয় বন্ধুকে বললাম। তোমার মতো বন্ধু কি আর কেউ আছে আমার?
-- হুমম হয়েছে হয়েছে এবার সর তো দেখি আমার অনেক কাজ আছে। আরন এইনে মিতুর ছবি।
কথাটা বলেই মিতুর একটা ছবি খোকার হাতে দিয়ে চলে গেলো খোকার মা।মা চলে যেতেই ছবিটা হাতে নিয়ে বেলকুনিতে চলে গেলো খোকা। তারপর রকিং চেয়ারে বসে মিতুর ছবিটাকে দেখে বলতে লাগলো
-- মিস ঝগড়াটে তোমাকে তো আমি ছারছি না। খুব তারাতারি তোমাকে নিয়ে আসবো নিজের করে তারপর তুমি বুঝবে আমার সাথে পাঙ্গা নেওয়ার মজা। ভালো তো তোমায় আমি প্রথম দেখাতেই বেসেছি কিন্তু সেটা তুমি জানবো না কারন তোমায় তো আমি শাস্তি দিবো আমার সাথে পাঙ্গা নেওয়ার জন্যে।
কথাগুলো বলেই ডেভিল হাসি দিলো খোকা। তারপর মিতুর ছবিটার দিকে অপলক ভাবে তাকিয়ে রইলো,,,,
চলবে,,,,,,,,,,,,,

৯-১০ পর্ব
লেখা--সোনালী
পরের দিন সকালে
--মিতু এই মিতু ওঠ এখন, আর কত ঘুমাবি। একটু পর আমি আর তোর বাবা তোর হবু শশুড়বাড়ি যাবো বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করতে। ওঠ জলদি।
শশুড়বাড়ির কথা শোনার সাথে সাথে লাফিয়ে উঠলো মিতু তারপর দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে ওর মাকে বললো
-- আম্মু তোমরা কখন যাবা গো আমার নাতি নাতনির দাদুর বাড়িতে? আমি তাহলে তারাতারি সাজগুজ করতে বসে পরি। আচ্ছা কি পরবো আমি??
মিতুর কথা শুনে ওর মা বড় বড় চোখ করে বললো
-- এই তুই সাজগোজ করে রেডি হবি মানে? তুই আবার কোথায় যাবি এখন?
-- কোথায় যাবো মানে, তোমাদের সাথে আমার নাতি নাতনির দাদুর বাড়ি যাবো। আমার নাতি নাতনির দাদুকে দেখবো। ইশশ ভাবতেই ভাললাগছে।
-- এই তোর মাথাটা কি পুরোপুরি খারাপ হয়ে গেছে নাকি মিতু? বিয়ের আগে তুই হবু শশুড়বাড়িতে যাবি নিজের বিয়ের দিন ঠিক করতে?
-- আম্মু এমন করে কেনো বলছো হুমম। আমার বিয়ে আমি দিন ঠিক না করলে কেমনে হবে শুনি?
-- উফফ তোর সাথে কথা বলাই বেকার। দারা তোর আব্বুকে বলছি।
কথাগুলো বলেই রাগ দেখিয়ে চলে গেলো মিতুর মা। আর মিতু বেচারি গাল ফুলিয়ে ছাদে চলে গেলো।
একটু পর কাধে কারো হাতের স্পর্শে পিছন ফিরে তাকালো মিতু। তাকিয়ে দেখে ওর আব্বু দাড়িয়ে আছে ছলছল চোখে। আব্বুকে দেখে মিতু বললো
-- আব্বু তুমি এখানে আজকে অফিস যাওনি?আর তুমি কাদছো কেনো?
-- কই আমি কাদছি নাতো মামনি। আর আজকে অফিসে যাবো না তোমার বিয়ের কথা বলতে ছেলে পক্ষের বাড়ি যাবো।
বাবার কথায় মিতু বললো
-- ওহ, তা এখানে কেনো এসেছো। আমায় তো আর নিয়ে যাবানা।
-- পাগলী মেয়ে আমার, কিছু দিন পর তো একে বারেই চলে যাবে আমাদের ছেরে। এখন না হয় থাকো বাবার বাড়িতে। আর মন খারাপ না করে নিচে চলো। দেখো তোমার জন্যে কাল রাতে অনেকগুলো আইস্ক্রিম আর চুইংগাম নিয়ে এসেছি।
বাবার কথা শুনে আনন্দে লাফিয়ে উঠলো মিতু তারপর বাবার গালে একটা চুমু দিয়ে দৌড় দিলো নিচে। এটা দেখে হাসতে লাগলো মিতুর বাবা। তারপর মনে মনে বললো
-- আমার এই পাগলি মেয়েটাকে ছেরে আমি কি করে থাকবো। আমার বাসাটা যে একে বারে ফাকা হয়ে যাবে ও ছারা।
কথাগুলো ভেবেই চোখের কোনায় দুফোটা জল গড়িয়ে পরলো। চোখের জল মুছে নিচে নেমে এলো মিতুর বাবা।
আজকে তমা আর মিতু কলেজে গেলো না। মিতুর কাছে তমাকে রেখে ছেলের বাড়িতে গেলো মিতুর মা বাবা। এদিকে হবু শশুড়বাড়ি না যেতে পেরে গালে হাত দিয়ে বসে আছে মিতু। এটা দেখে তমা বললো
-- কি রে কটকটি কট কট না করে চুপ করে গাল ফুলিয়ে বসে আছিস কেনো রে? মন খারাপ?
তমার কথা শুনে অগ্নিদৃষ্টিতে তাকালো মিতু তমার দিকে। তারপর বললো
-- ঐ নাইজেরিয়ার এনাকন্ডার বউ বেশি বক বক করলে কিন্তু ছাদ থেকে ফেলে দিমু কইলাম। আমি আমার নাতি নাতনির দাদুর কাছে যেতে পারছি না আর উনি আসছে কটকট করতে।
মিতুর কথা শুনে ফিক করে হেসে দিলো তমা তারপর বললো
-- সাধে কি আর তোকে এলিয়েন ডাকিরে মিতু। তুই না সত্যিই একটা এলিয়েন। দুনিয়ায় তোর মতো আর এক পিচও নেই।
-- তবেরে কুত্তি আমি এলিয়েন তাই না? দাড়া আজকে তোর একদিন কি আমার যে কদিন লাগে।
কথাগুলো বলেই তমাকে তারা করতে লাগলো মিতু। দুজন দৌড়াদৌড়ি করতে লাগলো বাসার মধ্যে।
এদিকে মিতুর মা বাবা ছেলে পক্ষের বাড়ি গিয়ে অনেক পছন্দ হলো সব কিছু। ছেলে পক্ষ মিতুদের চেয়ে অনেক বড়লোক। আর ছেলেকে যেমন দেখতে শুনতে তেমন তার আচরন। সব কিছু দেখে খুব পছন্দ হলো সবার। বিয়ের দিন ফেলা হলো এই সাপ্তারই শুক্রবারে। হাতে সময় মাত্র চার দিন।
বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করে বাসায় ফিরে এলো মিতুর বাবা মা। বাসায় ফেরার সময় মিতুর জন্যে অনেকগুলো আইস্ক্রিম আর চুইংগাম নিয়ে এলো মিতুর বাবা। মিতুর বাবার বুকের ভিতরটা যেনো বার বার ব্যাথায় পুড়ে যাচ্ছে। মিতু বিয়ে হয়ে চলে যাবে ভাবতেই।
বাসার ভেতর ঢুকেই মিতুর মা চিল্লিয়ে উঠে বললো
-- মিতুউউউউউউউ এগুলো কি করেছিস তুই? এটা বাসা নাকি গরু রাখার গোয়াল ঘর?
মায়ের ডাকে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে রইলো মিতু আর তমা। এতক্ষণ দুই বান্ধবি মিলে বাসার মাঝে দৌড়াদৌড়ি করে সব এলোমেলো করে ছরিয়ে ছিটিয়ে রেখেছে।
মিতুর মা মিতু আর তমাকে মাথা নিচু করে থাকতে দেখে বলতে শুরু করলো
-- হায় আল্লাহ, এটা কি একটা বাড়ি নাকি অন্যকিছু। বাড়িতে বড় মেয়ে থাকলে সব গুছিয়ে সুন্দর করে রাখে। আর আমার পেট থেকে এটা কি হয়েছিলো আল্লাহ জানেন। বাসার কি অবস্থা করেছে কিছুক্ষণ সময় একা ছিলো বলে। মিতুর বাবা তুমি মিতুকে কিছু বলো। সামনে শুক্রবারে যে মেয়ের বিয়ে সে যদি এমন পাগলামো করে তাহলে ওর শশুড়বাড়িতে আর মুখ দেখাতে হবে না আমাদের।
মিতুর মায়ের কথা শুনে মিতুর বাবা কিছু বলবে তার আগেই মিতু লাফিয়ে উঠে বললো
-- আম্মু তুমি কি বললে, আগামি শুক্রবারে আমার আর আমার নাতি নাতনির দাদুভাইয়ের বিয়ে? ঐ তমা আয় একটু নাচি রে। হুররে আমার বিয়া হবে আমি জামাই দেখমু। কি মজা কি মজা।
মিতুর এমন আচরন দেখে মাথায় হাত দিয়ে বসে পরে মিতুর মা ও তমা দুজনেই। আর মিতুর বাবা মিতুর কাছে এগিয়ে গিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে বলে
-- মামনি তুমি বড় হবে কবে বলোতো। এমন বাচ্চাদের মতো কেউ করে নিজের বিয়ের কথা শুনে পাগলী মা আমার। এই নাও আইস্ক্রিম আর চুইংগাম আছে এই ব্যগে। তমাকে নিয়ে রুমে গিয়ে খাও। আমার তোমার মায়ের সাথে কথা আছে।
বাবার কথা শুনে ব্যাগটা নিয়ে তমার হাত ধরে খুশি মনে নিজের ঘরে চলে যায় মিতু। মিতু চলে গেলে ওর মা মিতুর বাবাকে বলে
-- মিতুর আব্বু এই মেয়েকে কি এখন বিয়ে দেওয়া ঠিক হচ্ছে? মিতু এখনো বাচ্চার মতোই আছে। ওর এখনো বিয়ের মানে বোঝার মতো বুদ্ধিই হয়নি।
-- হুমম সেটা আমিও ভাবছি মিতুর মা। আমাদের মেয়েটা মনের দিক দিয়ে এখনো একেবারেই ছোট। আমার মনে হচ্ছে বিয়েটা না করে দেই। আমি চাইনা বিয়ের পর আমার মেয়েকে নিয়ে কোনো কথা হোক।
-- কিন্তু এত ভালো পরিবার কি মিতুর জন্যে আর পাবো আমরা? ছেলে পক্ষ সব দিক থেকেই অনেক ভালো।এমন ছেলে হাত ছারা করা কি ঠিক হবে?
-- আমিও সেটা নিয়েই ভাবছি মিতুর আম্মু। আচ্ছা আমি বরং ছেলে পক্ষের সাথে এ ব্যাপারে একটু কথা বলে দেখি?
-- হুমম ঠিক আছে তাই করো। তুমি বরং এখনি একবার ছেলের বাড়িতে যাও। আর তাদের সব বলে দেখো কি বলে।
মিতুর মায়ের কথা শুনে মিতুর বাবা চলে গেলো ছেলের বাড়িতে। আর মিতুর মা ঘর গোছাতে লাগলো।
চলবে,,,,,,,,,,,,,,,
১০ পর্ব
লেখা--সোনালী
মিতুর বাবা কিছুটা সংকোচ বোধ নিয়ে ছেলের বাড়িতে গেলো। মিতুর বাবাকে আবার আসতে দেখে ছেলের বাড়ির সবাই বেশ অবাক হলো। তারপর মিতুর বাবাকে বসতে দিয়ে তার সামনে ছেলে ছেলের মা আর বাবা বোসলো। ছেলের বাবা মিতুর বাবাকে বললো
-- কি হয়েছে বিয়াই সাব আপনি আবার এসেছেন? কোনো দরকার কি? কিছু বলবেন?
-- না মানে আসলে আমি আপনাদের একটা কথা বলতে এসেছি। কিন্তু বুঝতে পারছিনা কথাটা কি ভাবে বলবো।
মিতুর বাবার কথা শুনে ছেলের মা বললো
-- ভাই সাহেব আপনি এতো সংকোচ বোধ কেনো করছেন। বলুন কি বলতে চান এটা আপনার নিজের বাড়িই মনে করবেন।
ছেলের মায়ের কথায় কিছুটা সাহস জুগিয়ে মিতুর বাবা বলতে শুরু করে
-- আসলে আমি এই বিয়েটা না করে দিতে এসেছি। আমি এখনি আমার মেয়ের বিয়েটা দিতে চাচ্ছিনা।
মিতুর বাবার কথা শুনে সবাই অবাক হয়ে যায়। তারপর কেউ কিছু বলার আগেই ছেলে বলে ওঠে
-- কিন্তু কেনো আংকেল? একটু আগেই তো আপনারা বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করে গেলেন এর মাঝে হঠাৎ কি হলো যে এখন না করছেন?
-- আসলে বাবা ভুল টা আমারি। আমার মেয়েটা হাতে পায়ে বড় হলেও ওর মন মানসিকতা এখনো একদম ছোট বাচ্চার মতোই আছে। ও এখনি বিয়ে, স্বামী সংসার বলতে কিছুই বোঝেনা। সব কিছুকেই মজা মনে করে। তাই আমি চাইনা আমার একমাত্র কলিজার টুকরা আমার ঘরের রাজকন্যাকে বিয়ের পর কারো বাজে কথা শোনাতে। তাই আমি না করে দিতে এসেছি।
কথাগুলো এক নিশ্বাসে বললো মিতুর বাবা। মিতুর বাবার কথা শুনে হাফ ছেরে বাচলো সবাই। তারপর ছেলে মিতুর বাবার কাছে এগিয়ে এসে মিতুর বাবার পাসে বসে হাত ধরে বললো
-- আংকেল আমি মিতুকে আগে থেকেই চিনি। আমি জানি ওর সভাব চরিত্র এখনো ছোট বাচ্চার মতই।আমি ওকে বেশ কয়েকবার দেখেই ওকে ভালবেসে ফেলেছি। আপনি এসব নিয়ে একদম চিন্তা করবেন না। মিতু আপনার ঘরে যেমন আপনার রাজকন্যা হয়ে আছে এ বাড়িতে এসেও তেমন রাজারানি হয়েই থাকবে। আমি আপনাকে কথা দিচ্ছি আংকেল আপনার কখনো মিতুর জন্যে একটুও চিন্তা করতে হবে না। আপনার বাড়িতে মিতু যেমন ছিলো এখানেও ঠিক তেমনই থাকবে।
ছেলের কথা শেষ হলে মিতুর বাবাকে কেউ কিছু বলতে না দিয়ে ছেলের বাবা বললো
-- বিয়াই সাব আমার একমাত্র ছেলের বউকে আমরা বউ করে আনবো না। সে আসবে আমাদের মেয়ে হয়ে। আপনার কাছে আপনার মেয়ে যেমন থাকে আমরা শশুড় শাশুরি হবো বলে যে মিতু কষ্টে থাকবে তা নয়, মিতু এ বাড়িতেও আমাদের মেয়ে হয়েই থাকবে। আপনার ওকে নিয়ে কোনো চিন্তা করতে হবে না। আপনি গিয়ে বিয়ের আয়োজন করুন আগামি শুক্রবারেই ওদের বিয়ে হবে।
সবার কথা শুনে আনন্দে দুফোটা পানি গড়িয়ে পরে মিতুর বাবার চোখ থেকে। তারপর সে খুশি মনে সবার কাছে থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ি ফিরে আসে।
বাসায় এসে মিতুর মাকে সব কথা জানালে মিতুর মা বলে
-- যদিও তারা আমাদের চেয়ে অনেক বড়লোক কিন্তু তাদের মাঝে একটু অহংকার নেই। আল্লাহ আমাদের মিতুকে অনেক ভালবাসেন তাই এমন একটা পরিবারে বউ হয়ে যাচ্ছে মিতু। তুমি বিয়ের সব জোগার জন্ত শুরু করো মিতুর বাবা ইনশাআল্লাহ আমাদের মেয়েটা সুখি হবে।
তারপরদিন থেকে দুই পরিবারে শুরু হয় বিয়ের সব কেনাকাটা আর বিয়ের আয়োজন। মিতু তো সেই খুশি ওর বিয়ে বলে। সব সময় আইস্ক্রিম চুইংগাম খায় আর সাথে তমার মাথাও খায় বিয়ের পর এই করবে সেই করবে বলে বলে। আর বেচেরি তমা গালে হাত দিয়ে পাগলীর বকবক শোনে আর মনে মনে কাদে মিতুর বিয়ে হয়ে চলে গেলে ও একা হয়ে যাবে বলে।
আজ বাদে কাল শুক্রবার, কালকে মিতুর বিয়ে। মিতুর বাবা মা সহ তমারও অসম্ভব মন খারাপ মিতু কাল শশুড়বাড়ি চলে গেলে একা হয়ে যাবে বলে। কিন্তু মিতুকে দেখে মনেই হয়না ওর মনে বাবা মা আর তমাকে ছেরে যাওয়ার কোনো কষ্ট আছে। মিতু তো সারাদিন এমন ভাবে হৈহুল্লোর করছে যেনো বিয়েটা ওর নয় ওর বান্ধবির।
একমাত্র মেয়ের বিয়ে তারওপর ছেলে পক্ষ বেশ বড়লোক বলে নিজের সর্বস্ব খরচা করে বিয়ের আয়োজন করছেন মিতুর বাবা। সে চায় না তার একমাত্র মেয়ের বিয়েতে কোনো কমতি থাকুক।
অনেক সকালে তমা এসে ঘুম থেকে ডেকে তোলে মিতুকে
-- মিতু এই মিতু সোনা আমার ওঠনা প্লিজ। আজকে না তোর বিয়ে আর কত ঘুমাবি তুই। তুই আজ চলে যাবি বলে আমি সারারাত ঘুমাতে পারিনি তোকে ছারা কি করে থাকবো এসব ভেবে। আর তোর কি একটুও কষ্ট হচ্ছে না তিতু(তমা আদর করে মিতুকে তিতু বলে ডাকে)
তমার কথা শুনে ঘুম ঘুম কন্ঠে তোমাকে জরিয়ে ধরে মিতু বললো
-- হ্যা রে তমা আমিও না সারারাত ঘুমাতে পারিনি জানিস আজকের কথা ভেবে। এই সকালের দিকে চোখটা একটু লেগে গিয়েছিলো।
মিতুর কথা শুনে এবার কেদে দিলো তমা। তারপর মিতুকে জরিয়ে ধরে বললো
-- তুই সত্যিই আমাদের ছেরে যাবি বলে কষ্ট পেয়ে ঘুমাতে পারিসনি মিতু? আমি তোকে অনেক ভালবাসি রে তুই চলে গেলে আমি একদম একা হয়ে যাবো(মিতুকে শক্ত করে জরিয়ে ধরে)
তমার কান্না শুনে আর কথা শুনে তমাকে নিজের থেকে ছারিয়ে লাফিয়ে উঠে বসে মিতু তারপর বলে
-- ঐ তুই পাগল নাকি মাথা খারাপ বলতো? আমি তোদের ছেরে যাবো বলে কেনো ঘুমাবোনা শুনি। আরে আমি তো সারারাত জেগে জেগে চিন্তা করেছি আমার নাতি নাতনির দাদুকে দেখতে কেমন হবে। তাকে বাসর রাতে কি কি রান্না করে খাওয়াবো। আমাদের কয় ডজন ছেলে পুলে হবে। সেই ছেলেপুলের কয় হালি নাতিপুতি হবে। তাদের নাম কি রাখবো। আর,,,,
মিতুকে আর বলতে দিলো না তমা। মিতুর মুখ চেপে ধরে তমা বললো
-- হায় আমার কপাল গো। আমি কি ভাবলাম আর এই এলিয়েনটা কি বলে। আমি তো ভুলেই গেছিলাম যে তুই একটা এলিয়েন। তোর মাঝে ফাজলামি বুদ্ধি ছারা কোনো ফিলিংস নেই।
তমার কথা শুনে মুখের কাছে থেকে তমার হাত শরিয়ে মিতু বললো
-- ঐ পেত্নী ভুত্নী রাক্ষসী খোক্কোসী ডাইনি চুন্নি, ঐ পারার মদনের নায়িকা মুন্নি, বরিশালের জসিম উদ্দিনের খালাম্মা কুন্নি তরে কেডায় কইছে যে আমার ফিলিংস নাই হুমম। আরে আমার অনেক ফিলিংস তাই তো সারারাত জেগে ছেলেপুলে আর নাতিনাতনির নাম ঠিক করলাম। (লজ্জা পাওয়ার ভাব করে)
মিতুর কথা শুনে চোখ বড় বড় করে কপালে হাত দিয়ে তমা বললো
-- হয়েছে মেরি মা। আমার অনেক ভুল হয়ে গেছে এবার আপনি দয়া করে উঠে ফ্রেশ হয়ে বাইরে চলেন আপনাকে আন্টি ডাকছে।
-- ঐ শাঁকচুন্নি তুই কি কইলি আমারে, আমি তোর মা হই। তোর ঐ ভুরিওয়ালা টেকো বাপরে বিয়া করবে কেডায় শুনি।
-- ঐ পেন্তি আমি আবার কখন বললাম যে আমার বাপরে বিয়া করতে। আর আমার বাপ মোটেও ভুরিওয়ালা টেকো নয়।
-- তুই তো একটু আগে আমায় মা বলে ডাকলি হারামি।
-- উফফ তোর সাথে কোনো কথা বলাই বেকার মিতু। তুই জীবনেরও মানুষ হবি না। আমার তো বেচারা জামাইবাবুর জন্যে চিন্তা হচ্ছে। ও বেচারা তোকে বিয়ে করে শেষ মেস পাগল না হয়ে যায়।
-- কি কইলি তুই ভুত্নী, ইদুরের বৌ জলহস্তীর শাউরি। খারা আজ তোর একদিন কি আমার যে কয়দিন লাগে।
কথাটা বলেই তমাকে ধাওয়া করলো মিতু। আর তমা বেচারি হাসতে হাসতে দিলো বাইরের দিকে দৌড়।
তমা দৌড়ে মিতুর মায়ের কাছে চলে গেলো। মিতুও তমাকে বকা দিতে দিতে সেখানে গিয়ে থমকে দাড়িয়ে চারিদিকে চোখ বুলিয়ে হা করে দেখতে লাগলো। মিতুকে দেখে মিতুর মা মিতুর মাথায় হাত বুলিয়ে বললো
-- মিতু মা তুমি এখনো ফ্রেশ হওনি? তমাকে নিয়ে রুমে গিয়ে এই শাড়িটা পড়ে আসো তোমার গায়ে হলুদ হবে।
মায়ের কথা শুনে মায়ের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে মায়ের কপালে গলায় হাত দিয়ে চেক করে মিতু বললো
-- আম্মু তুমি ঠিক আছো তো নাকি তোমার স্মৃতিশক্তি বরিশাল বেরাইতে গেছে?
মিতুর কথায় মিতুর মা হা করে তাকিয়ে বললো
-- মানে কি মিতু, আমার স্মৃতিশক্তি ক্যান বরিশাল যাবে শুনি?
-- না মানে তুমি কখনো আমার সাথে এত মিষ্টি করে কথা বলো না তো তাই ভাবলাম তোমার স্মৃতিশক্তি হয়তো বেরাইতে গেছে।
মিতুর কথা শুনে মিতুর মা একটুও রাগ করলো না। বরং তমাকে বললো মিতুকে ঘরে নিয়ে গিয়ে শাড়ি পরিয়ে রেডি করে আনতে।
মিতুর মায়ের কথা মতো তমা মিতুকে নিয়ে গিয়ে রেডি করিয়ে আনলো বাইরে। আর এর মাঝেই তমার মাথা ধরিয়ে দিলো মিতু বকবক করে করে।
অনেকে মিলে মিতুর গায়ে হলুদ সম্পুর্ন করলো। দুপুরে ছেলেপক্ষ থেকে বিয়ের ডালা আসলো। পার্লার থেকে দুজন মেয়ে আসলো মিতুকে সাজাতে।
প্রায় ৩ ঘন্টা সময় পর মিতুকে সাজানো সম্পুর্ন করলো তারা। সাথে দুজনে দুইটা মাথা ব্যাথার ঔসধ খেলো। মিতুকে সাজাতে রিতিমতো যদ্ধ করতে হয়েছে তাদের। বকবক করে করে পার্লালের মেয়ে দুটোর মাথা খারাপ করে দিয়েছে মিতু।
রাতে মিতুকে ঘিরে বসে আছে ওর সব আত্নিয় সজন ও বান্ধবিরা। সবার মন খারাপ থাকলেও মিতুর বকবক শুনে সবাই হাসছে। কাজি সাহেব বিয়ে পড়াতে এসে একবার বলার সাথে সাথে মিতু খুশি মনে ৫ বার কবুল বলে দেয়। আরো বলতে চেয়েছিলো কিন্তু তার আগেই তমা ওকে চিমটি কেটে থামিয়ে দেয়।
মিতুর এভাবে কবুল বলা দেখে কাজি সাহেব অবাক হয়ে মনে মনে বলে
-- আজ কালকার মেয়েদের কথা কি বলবো। বাবারে বাবা কবুল বলার যেনো মেশিন চালাইছে পাগল মনে হয়। মনে মনে
বিয়ের পর্ব শেষ হলে বিদায়ের সময় সবাই কান্না করছে মিতুর জন্যে। কিন্তু মিতুর যেনো সেদিকে কোনো খেয়ালই নেই। মিতু শুধু ওর বরকে দেখার জন্যে উঁকিঝুঁকি মারছে।
বর মিতুর সামনেই আছে কিন্তু বরের মুখের ওপর পাগড়ির সাথে ফুলদিয়ে ঢাকা। তাই মুখটা দেখা যাচ্ছে না। মিতু অনেক চেষ্টা করছে কিন্তু কিছুতেই দেখতে পারছে না।
বিদায়ের সময় ফুলে ফুলে সাজানো গাড়ির সামনে এসে মিতুকে বরের হাতে তুলে দেওয়ার সময় মিতুর বাবা কান্না করে বললো
-- জামাই বাবা আমার ঘরের লক্ষি আমার কলিজার টুকরা আমার রাজকন্যাকে তোমার হাতে তুলে দিলাম সারাজীবনের জন্যে। তুমি ওকে দেখে রেখো বাবা। আমার মেয়েটাকে কখনো কষ্ট দিও না। ও এখনো অবুঝ শিশুর মতো ওকে দেখে রেখো বাবা। (কান্না করতে করতে)
মিতুর বাবার কথায় মিতুর বরও সব কিছুতে সম্মতি জানালো। তারপর মিতুর মাও অনেক কথা বললো। মিতুকে জরিয়ে ধরে কান্নাকাটি করলো মিতুর মা বাবা। তারপর এলো তমা। মিতুকে জরিয়ে ধরে কান্না করে বলতে লাগলো
-- তিতু তোকে অনেক মিস করবো রে আমার কলিজাটা যে ফেটে যাচ্ছে তোকে বিদায় দিতে। আমি তোকে ছারা কি করে থাকবো বল। কে জালাবে আমায়। (প্রচুর কান্না করে)
তমার কথা শুনে মিতু তমার কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে
-- ঐ পেত্নী এত কান্না করছিস কেনো রে আমি কি একেবারে চলে যাচ্ছি নাকি? আবার আসবো তো। এবার আমায় ছার আমার সব সাজগোজ নষ্ট করে দিলি আমি বরকে কি ভাবে মুখ দেখাবো। ছার আর আমায় তারাতারি যেতে দে আমি বাসর ঘরে বর কে দেখবো।
মিতুর কথা শুনে কান্না থামিয়ে হা করে মিতুর দিকে তাকালো তমা। তারপর রাগি লুক দিয়ে বললো
-- যা যা যার জন্যে আমার সাথে এমন করছিস না বাসর ঘরে বুঝবি সে কে। কুত্তি আমাদের ছেরে যাচ্ছে ওর একটুও কষ্ট হচ্ছে না এলিয়েন একটা।
তারপর সবার থেকে বিদায় নিয়ে বরের আগেই গাড়িতে গিয়ে বসে মিতু। মিতুর পাশের সিটে মিতুর বর বসে। সামনে ড্রাইভার ছারা এই গাড়িতে আর কেউ নেই। গাড়ি ছেরে যায় মিতুর শশুড় বাড়ির উদ্যেশে। মিতু লুকিয়ে হাতের মধ্যে চুইংগাম এনেছে সেগুলো মুখে দিয়ে খেতে খেতে ওর বরকে বলে
-- এই বর, বর চুইংগাম খাবে? জানো চুইংগাম খেতে না অনেক মজা। যদিও আমি আমার আইস্ক্রিম আর চুইংগামের ভাগ কাওকে দেইনা কিন্তু তোমায় দিতে পারি একটা শর্তে। তুমি মুখের ওপরের ঐ ফুলগুলো সরাও তাহলে তোমায় আমি একটা না না একটার অর্ধেক চুইংগাম দিবো।
মিতুর কথা শুনে বর জানালার দিকে তাকিয়ে বলে
-- তোমার চুইংগাম তুমিই খাও চুইংগাম বেইপি আমি মুখ দেখাবো না এখন। বাসর ঘরে মন ভরে দেখো।
-- এই এই বর তুমি আমারে কি নামে ডাকলা? আর তোমার কন্ঠটাও তো এককেবারে চেনা চেনা লাগে। তুমি আমার নাতি নাতনির দাদুই তো নাকি অন্য কেউ??
-- আমি তোমার নাতি নাতনির দাদু নই আমি তো তোমায় কিডন্যাপ করে নিয়ে যাচ্ছি মিস চুইংগাম বেইপি(মজা করে বললো)
বরের কথা শুনে মিতু কথাটা সত্যি মনে করে চিৎকার শুরু করলো
-- ওমাগো কে কোথায় আছো গো আমার চোর চুরি করে নিয়ে গেলো কেউ আমায় বাচা,,,,,,,,,,,,উ
আর কিছু বলতে পারলোনা মিতু। তার আগেই মিতুর বর মিতুর মুখে কি যেনো স্প্রে করে দিলো আর মিতু জ্ঞান হারালো। মিতু জ্ঞান হাড়িয়ে বরের কোলে ঢলে পরলো। তখন বর মহাসয় বললো
-- উফ একে বারে ধানিলংকা মেয়ে একটা। এখনি কেইচ খাইয়ে দিতো। ভাগ্যিশ এই স্প্রেটা সাথে এনে ছিলাম। এবার বরের কোলে ঘুমিয়ে থাকো চুইংগাম বেইপি। তোমার সাথে একদম বাসর ঘরেই দেখা হবে। (ডেভিল হাসি দিয়ে)
গাড়ি বাড়ির গেটের ভিতর ঢুকে দরজার কাছে দাড়াতেই ছেলের মা এলো মিতুকে বরন করতে কিন্তু মিতুর বর মিতুকে কোলে নিয়ে গাড়ি থেকে নামলো। মিতুকে অজ্ঞান দেখে মিতুর শাশুরি বললো
-- সে কিরে খোকা মিতুর কি হয়েছে? ওর জ্ঞান হারালো কি করে? এই তোমরা কেউ ডাক্তারের কাছে কল দিয়ে ডাক্তার ডাকো।
-- আরে আম্মু কাউকে ডাকতে হবে না। মিতু ঠিক আছে ওর কিছু হয়নি তুমি বরন করো ওর একটু পরেই জ্ঞান ফিরবে।
কথাগুলো বলেই মিতুকে কোলে নিয়ে সোজা নিজের রুমে চলে গেলো মিতুর বর। তার ওকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে বায়রে বেরিয়ে গেলো।
রাত ১২.০০ টা
ধিরে ধিরে জ্ঞান ফিরলো মিতুর। চোখ মেলে চারিদিকে ভালো করে চোখ বুলালো মিতু। রুমটা বেশ বড় ও সাজানো গেছানো। পুরো রুমটা ফুল দিয়ে অনেক সুন্দর করে সাজানো। রুমের মাঝখানের মেঝেতে গোলাপের পাপড়ি দিয়ে বড় করে লাভ আকা। আর সেই লাভের মাঝখানে ফুল দিয়ে লেখা "স্বাগতম মাই চুইংগাম বেইপি" সাথে দুটা মোমবাতি জালানো দুপাশে।
রুমটা দেখে মিতু সব ভুলেই গেলো। লাফিয়ে খাট থেকে নেমে পুরো রুমটা ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলো। আর তখনি চোখ গেলো রুমের পাসের বেলকুনিতে। মিতু দৌড়ে বেলকুনিতে গিয়ে দেখে সেখানে বড় একটা দোলনা রাখা আর সেই দোলনার ওপর একটা গিফ্টবক্স। গিফ্টবক্সের ওপর লেখা "শুধু তোমার জন্যে মাই চুইংগাম বেইপি"। মিতু আর একমুহুর্ত দেরি না করে গিফ্টবক্সটা খুলে ফেললো। তাতে অনেক গুলো চুইংগাম আর সাথে একটা চিরকুট রাখা। মিতু একটা চুইংগাম মুখে দিয়ে চিরকুটটা খুলে পড়ে দেখে তাতে লেখা
-- মিস চুইংগাম বেইপি নিজের নাতি নাতনির দাদুকে দেখবে না? দেখতে চাইলে পিছন ফিরে তাকাও।
চিরকুটটা পড়েই মিতু পিছনে ঘুরে তাকালো। আর তাকিয়ে যা দেখলো সাথে সাথে মিতুর মুখ থেকে চুইংগামটা নিচে পরে গেলো,,,,,,,
চলবে,,,,,,,

১১+১২ পর্ব
লেখা--সোনালী
চিরকুটটা পড়েই মিতু পিছনে ঘুরে তাকালো। আর তাকিয়ে যা দেখলো সাথে সাথে মিতুর মুখ থেকে চুইংগামটা নিচে পরে গেলো,,,,,,,
তারপর মিতু চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে চিৎকার করে বললো
-- বজ্জাত কাজু ঘোলাদরি আপনি? আপনি এখানে কি করছেন এতো রাতে?
(হ্যা পাঠক পাঠিকারা আপনারা ঠিক ধরেছেন মিতুর বিয়ে আমাদের নায়ক রাজু চৌধুরীর সাথেই হয়েছে)
মিতুর কোনো কথার দিকে রাজুর যেনো কোনো খেয়ালই নেই সে পলকহীন ভাবে তাকিয়ে আছে মিতুর দিকে। লাল টকটকে ল্যাহেঙ্গাতে বউ এর সাজে মিতুকে একদম লাল পরী লাগছে দেখতে। রাজুকে চুপ করে থাকতে দেখো মিতু এবার রাজুর কাছে এগিয়ে এসে মাজায় হাত দিয়ে বললো
-- ঐ কুম্ভ ভুত, গেছো ইদুরের নাতি, জঙলি ব্যাঙের খালাতো ভাই, গুই সাপের দোস্ত, বয়রার শশুড় বয়ড়া কানে কি তালা মারছেন নাকি? আমার কথা কানে যায় না? নাকি মাইক আনতে হইবো?(রাজুর মুখের সামনে তুরি বাজিয়ে বললো)
-- না মিস চুইংগাম বেইপি আমি তো কানে ঠিকি শুনছি কিন্তু সামনে একটা লাল পরী, সরি লাল পরী নয়, লাল ঝগড়াটে পরীকে দেখে কোনো কথা আর কান পর্যন্ত পৌছাচ্ছে না। হ্যা এখন বলো কি যেনো বলছিলে?( দোলনায় বসতে বসতে)
-- আপনি এখানে আমার নাতি নাতনির দাদু আর আমার রুমে কি করছেন মিস্টার কাজু ঘোলাদরি?
-- বাহ রে আমার বাড়ি আমার রুমে আমি থাকবো না তো কে থাকবে শুনি?
-- এটা আপনার বাড়ি আপনার রুম কি করে হবে? এটাতো আমার নাতি নাতনির দাদুর বাড়ি আর তারই রুম। ওহ একমিনিট একমিনিট আমার মনে পরেছে সব কিছু।(চোখ বড় বড় করে গালে হাত দিয়ে)
-- কি মনে পরেছে তোমার চুইংগাম বেইপি?(মুচকি হেসে)
-- তার মানে আপনিই আমায় কিডন্যাপ করে এনেছেন তাইনা? আমার নাতি নাতনির দাদুর কি হবে গো? আমার ৩ ডজন ছেলে পুলে আর আমার ৬ হালি নাতি নাতনির কি হবে গো আমায় তো এই গন্ডার হনুমান নাইজেরিয়ার ভাল্লুকটা কিডন্যাপ করে এনেছে। এখন তো আমায় মেরে ফেলবে তখন ওদের কি হবে গো। ও আমার নাতি নাতনির দাদু তুমি আমার ছেলে পুলে আর নাতি নাতনিকে বলে দিও আমার আর তাদের নিয়ে এক সাথে বোসে আইস্ক্রিম আর চুইংগাম খাওয়া হলো না গো।( মেঝেতে বসে কান্না করে নাক মুছতে মুছতে বললো মিতু)
মিতুর এভাবে কান্না করা দেখে রাজু বোকা বোনে গেলো। তারপর দোলনা থেকে উঠে মিতুকে কোলে তুলে নিয়ে রুমের মাঝে গিয়ে বিছানার ওপর বসিয়ে দিলো। তারপর বলতে লাগলো
-- এখানে চুপ করে বসো মিস চুইংগাম বেইপি। আর কান্নাকাটি করতে হবে না তোমার নাতি নাতনির দাদু আর কেউ নয় সে আমি। তোমার বিয়ে আমার সাথেই হয়েছে বুঝলে?
রাজুর কথা শুনে মিতু বিছানা থেকে এক লাফে নিচে নেমে দাড়ালো তারপর বলতে লাগলো
-- কিইইইইইইইইই তার মানে আপনিই আমার শাশুড়ির ছেলে? আমার শশুড়ের ব্যাটা?আর আমার মা বাবার জামাই, মানে আমার নাতি নাতনির দাদু মিস্টার কাজু ঘোলাদরি?(অবাক হয়ে এক নিশ্বাসে বললো মিতু)
-- আল্লাহ এ মেয়ে কি দিয়ে বানাইছো, একটা কথা কেমন ঘুরিয়ে পেচিয়ে বলে। আরে হ্যা আমিই তোমার স্বামী আর তোমার নাতি নাতনির দাদুভাই।
-- নাআআআআআআ এটা হতে পারে না আমি ভাবছিলাম আমার নাতি নাতনির দাদুকে একদম হীরোর মতো দেখতে হবে, সে আমায় অনেক ভালবাসবে কিন্তু আপনি তো আস্ত একটা রাক্ষস। আমি এ বিয়ে মানি না আমি বাড়ি যামু আম্মুগোওওওওওওও ও আমার তমা শাঁকচুন্নি রেএএএএ আমায় নিয়া যা আমি এনে থাকমু না।(নাক টেনে টেনে)
মিতুকে এভাবে কাদতে দেখে আর ওর কথা শুনে রাজু ওকে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরে বলে
-- কেনো আমাকে কি দেখতে খারাপ? আমায় কি হীরোদের মতো লাগেনা তোমার কাছে? তুমি জানো এই রাজু চৌধুরীর জন্যে কত মেয়ে পাগল? ভালো করে তাকাও আমার দিকে তারপর বলো আমায় দেখতে কেমন?(কিছুটা রাগ নিয়ে)
রাজুর কথা শুনে কান্না থামিয়ে বড় বড় চোখ করে রাজুর দিকে তাকিয়ে মিতু বললো
-- আপনাকে দেখতেও তো বেশ সুন্দর লাগে মিস্টার কাজু ঘোলাদরি। আপনার চোখগুলো না একদম আমার রুমের ড্রিম লাইটের মতো। নাকটা অবিকল আমাদের বাড়ির পেছনের পুকুরের পিংকু ব্যাঙ মামার মতো, আর ভ্রু দুটা পুরো পুরো,,,, হ্যা মনে পরেছে পুরো আমাদের পাসের বাড়ির আন্টির কালো বিড়ালের লেজের মতো।
কথাগুলো বলেই হো হো করে হাসতে লাগলো মিতু। মিতুর এমন কথা শুনে কপালে হাত দিয়ে বিছানায় এসে বসে পরলো রাজু। তারপর বললো
-- এই মেয়ে এমন আজব আজব কথা কই পাও তুমি হুম? আর ব্যাঙের নাম আবার পিংকু হয় নাকি? দেবো একটা কানের নিচে হাসি বের হয়ে যাবে। (জোরে ধমক দিয়ে)
রাজুর ধমক দেওয়া দেখে মিতু চুপ করে যায়। মিতুকে চুপ করে থাকতে দেখে রাজু বলে
-- অনেক রাত হয়েছে ওখানে দাড়িয়ে না থেকে বিছানায় এসে শুয়ে পরো মিস চুইংগাম বেইপি।
রাজুর কথা শুনে মিতু জোরে জোরে চিৎকার শুরু করলো
-- ও আমার শাশুরি আম্মু গোওও শশুড় আব্বা গোওও আমি এই রাক্ষসটার সাথে এক ঘরে থাকবো না গো, আমারে এখান থেকে নিয়ে যাও তোমরা।
মিতু এই যে চিৎকার করছে কিন্তু কেউ কিছু শুনছেও না আর আসছেও না। রাজুও চুপ করে বসে ওর চিৎকার শুনছে আর রাগে ফুসছে। তারপর রাজু রেগে গিয়ে ধমক দিয়ে মিতুকে বললো
-- তুমি যতই চিৎকার চেঁচামিচি করো না কেনো তোমার আওয়াজ এই রুমের বাইরে যাবে না। কারন এই রুমটা সাউন্ড প্রুভ। তাই ভালো ভাবে বলছি এখানে এসে চুপ করে শুয়ে পরো নইলে আমি কিন্তু সত্যিই তোমাকে মেরে বস্তায় ভরে রাস্তায় ফেলে দিয়ে আসবো। তখন তোমার আর তোমার নাতি নাতনির সাথে আইস্ক্রিম খাওয়া হবে না।
রাজুর কথা শুনে মিতু খেয়াল করলো সত্যিই ও অনেকক্ষণ হলো চিৎকার করে যাচ্ছে কিন্তু কেউ কিছু শুনছে না। এখন যদি এই রাক্ষসটা সত্যিই ওকে মেরে ফেলে তাহলে ওর নাতি নাতনির কি হবে। এসব ভেবে ভালো মেয়ের মতো বললো
--- এই রাক্ষস প্লিজ আমায় মেরো না। দেখো আমি কেমন নিরিহ নিশ্পাপ সরল সোজা একটা বাচ্চা মেয়ে। আমি আর চেচাবো না। কিন্তু আমি কোথায় ঘুমাবো?(নাক টেনে টেনে বললো)
মিতুর কথা শুনে খুব হাসি পেলো রাজুর। তারপর নিজের হাসিটাকে লুকিয়ে রাজু বললো
-- তুমি কি চোখে কম দেখো নাকি মিস চুইংগাম বেইপি? এখানে এত্ত বড় একটা খাট পরে আছে তাও আবার ফুল দিয়ে সাজানো তুমি চোখে দেখোনা? নাকি বাচ্চা মেয়ে বলে এখনো চোখ ফোটেনি তোমার? চুপচাপ এখানে এসে শুয়ে পরো।
-- আমার চোখও ফুটেছে আর আমি চোখেও ঠিক দেখি মিস্টার কাজু ঘোলাদরি রাক্ষস। কিন্তু আমি তোমার পাশে শুবো না। তুমি সোফায় গিয়ে ঘুমাও আমি এখানে ঘুমাবো।
-- কেনো আমি তো তোমার স্বামী আর স্বামী স্ত্রী তো এক খাটেই ঘুমায় তাই না? তো আমার পাশে ঘুমালে তোমার অসুবিধা কি শুনি?(রাগ নিয়ে বললো রাজু)
-- না না তুমি আমার স্বামী নও তুমি একটা রাক্ষস। তোমার পাশে ঘুমালে তুমি যদি আমায় গাপুসগুপুস করে খেয়ে ফেলো তাহলে আমার নাতি নাতনির কি হবে। আমি তোমার কাছে শুবো না। তুমি সরো।
মিতুর কথা শুনে এবার প্রচন্ড রাগ উঠে গেলো রাজুর। তাই নিজের রাগ টাকে কন্ট্রল করতে না পেরে মিতুকে একটানে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরে দাতে দাত চেপে বললো
-- আমি রাক্ষস তাই না? ভেবে ছিলাম আজকে প্রথম দিন বলে তোমায় কিছু বলবো না। কিন্তু তুমি তো আস্ত একটা ঝগড়াটে এলিয়েন মাথা খারাপ করে দিচ্ছো আমার। ইচ্ছা তো করছে সত্যিই সত্যিই তোমায় জ্যান্ত চিবিয়ে খেয়ে ফেলি। ভালয় ভালয় বিছানায় গিয়ে শুয়ে পরো নইলে তোমার খবর আছে বলে দিলাম।
রাজুর এমন রাগ দেখে মিতু কান্না করে দিয়ে বললো
-- ওওওও আম্মু গো ওওও আব্বু গো এই রাক্ষসটা আমায় মেরে ফেললো গো। আমায় তোমরা কই পাঠাইলা গো আমি বাড়ি যামু।
মিতুর এমন কান্না কাটি দেখে রাজুর রাগটা এবার আকাশ ছুলো। তাই রাগের বসে কি করবে ভেবে না পেয়ে সেই স্প্রে টা আবারও মিতুর মুখের সামনে স্প্রে করলো। আর সাথে সাথে মিতু জ্ঞান হাড়িয়ে রাজুর বুকের ওপর ঢলে পরলো। তারপর রাজু মিতুকে কোলে তুলে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে মিতুর গায়ের সব গয়না গুলো খুলে দিলো। তারপর মিতুর গায়ে চাদর জরিয়ে দিয়ে নিজে কাপড় চেন্জ করে সোফায় গিয়ে শুয়ে পরলো। আর মনে মনে বললো
-- এই মেয়েটাকে বিয়ে করে নিয়ে এলাম শাস্তি দিবো বলে। এখন তো মনে হচ্ছে আমি একে শাস্তি দিবো কি এইই আমাকে জালিয়ে মারবে। উফফ আস্ত একটা মাথা ধরার মেশিন, মাথাটা খারাপ করে দিলো আমার। এবার থাকো পরে যতক্ষণ না জ্ঞান ফেরে।
কথাগুলো বলেই মিতুর দিকে তাকালো রাজু। আর নিমিষের মধ্যেই ওর সব রাগ উধাও হয়ে গেলো। কি নিশ্পাপ দেখতে লাগছে মিতুকে যেনো কোনো ছোট বাচ্চা মেয়ে। দেখে মনেই হয়না এই মেয়েটা এত দুষ্টু। কথাগুলো ভেবেই মুচকি হাসলো রাজু। তারপর বললো
-- আমি ততদিন পর্যন্ত তোমার কাছে স্বামীর অধিকার নিয়ে যাবো না যতদিন না তুমি আমায় তোমার নাতি নাতনির দাদু বলে মেনে নাও মিস চুইংগাম বেইপি। এত দিন না হয় তোমায় দুর থেকেই ভালবেসে যাবো আমি। লাভ ইউ মাই ঝগড়াটে এলিয়েন চুইংগাম বেইপি।
কথাগুলো বলে মুচকি হেসে ঘুমিয়ে পরলো রাজুও।
সকাল ৮.০০ টার সময় খাটের পাসে থাকা ছোট বক্স টেবিলের ওপর রাখা ঘড়িটাতে এলার্ম বেজে উঠলো। আর এলার্ম এর শব্দে ঘুম ভেঙে গেলো মিতুর। ঘুম ভাঙতেই চোখ ঢলতে ঢলতে মিতু বললো
-- আমার রুমে ঢোল বাজায় কোন হনুমান রে, আজকে তাকে আমি কাচা চিবিয়ে খাবো চুইংগামের বদলে।
কথাগুলো বলেই চোখ মেলে তাকায় মিতু। তারপর সামনে দেখেই খুব জোরে একটা চিৎকার করে ওঠে
-- আআআআআআআআআআ,,,,,
চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,
১২ পর্ব
লেখা--সোনালী
সকাল ৮.০০ টার সময় খাটের পাসে থাকা ছোট বক্স টেবিলের ওপর রাখা ঘড়িটাতে এলার্ম বেজে উঠলো। আর এলার্ম এর শব্দে ঘুম ভেঙে গেলো মিতুর। ঘুম ভাঙতেই চোখ ঢলতে ঢলতে মিতু বললো
-- আমার রুমে ঢোল বাজায় কোন হনুমান রে, আজকে তাকে আমি কাচা চিবিয়ে খাবো চুইংগামের বদলে।
কথাগুলো বলেই চোখ মেলে তাকায় মিতু। তারপর সামনে দেখেই খুব জোরে একটা চিৎকার করে ওঠে
-- আআআআআআআআআআ,,,,,
মিতুর চিৎকার শুনে পেছন ফিরে তাকায় রাজু। তাকিয়ে দেখে মিতু চোখের ওপর হাত দিয়ে বসে চিৎকার করছে। এটা দেখে রাজু মিতুর কাছে এগিয়ে এসে জিগ্যেস করে
-- এই মেয়ে কি হয়েছে হুমম, এভাবে চিৎকার করছো কেনো?
রাজুর কথা শুনে মিতু চোখের ওপর থাকা ডান হাতের দুই আঙুল একটু ফাকা করে সেখান দিয়ে টিপটিপ করে তাকিয়ে রাজুকে বলে
-- ঐ রাক্ষস টা গেলো কই? একটু আগে আমার দিকে যে ট্যাবলেটের মতো তাকিয়ে ছিলো??
-- মাথা কি পুরাই গেছে তোমার মিস চুইংগাম বেইপি? এখানে রাক্ষস আসবে কোথা থেকে শুনি? আর ট্যাবলেট যে কখনো তাকিয়ে থাকে আজ প্রথম শুনলাম।
রাজুর কথা শুনে মিতু মুখের ওপর থেকে হাত সরিয়ে কাদো কাদো মুখ করে বললো
-- আমি সত্যিই বলছি আমি একটু আগে ঘুম থেকে উঠেই এখানে একটা রাক্ষস দেখেছি। আমি রাক্ষস দেখে খুব ভয় পাই।
মিতুর কথার উত্তরে রাজু কিছু না বলে মিতুর দিকে তাকিয়ে হা হা করে জোরে জোরে হাসতে লাগলো। তারপর কিছুক্ষণ এভাবে হাসার পর মিতুকে বললো
-- রাক্ষস আর কেউ নয় সেটা মনে হয় তুমিই মিস চুইংগাম বেইপি। একবার বিছানা ছেরে উঠে আয়নায় নিজের মুখটা দেখো।
কথাগুলো বলেই আবারও হাসতে লাগলো রাজু। রাজুর কথা শুনে কিছুই বুঝতে পারলো না মিতু তবে ওর খুব রাগ হলো। তাই বিছানা থেকে নেমে আয়নার সামনে গিয়ে দাড়ালো। তারপর নিজের চেহারা দেখে নিজেই ভয় পেয়ে গেলো মিতু।
রাতে ঘুমের মধ্যে চোখের কাজল আর ঠোটের লিপস্টিক সারা মুখে লেপ্টে গেছে। দেখতে একদম পাগলের মতো লাগছে ওকে। নিজের এমন অবস্থা দেখে রাগে ফুসতে ফুসতে পিছন ফিরে তাকালো মিতু। পিছনে তাকিয়ে দেখে এখনো রাজু হাসছে। রাজুকে হাসতে দেখে প্রচুর রাগ হয় মিতুর তাই রাজুর দিকে ধেয়ে আসে ওকে মারবে বলে কিন্তু দু পা এগুতেই মিতুর চোখ যায় রাজুর বুকের দিকে। রাজু একটা সাদা টি শার্ট পড়েছে আর সেই টিশার্টের সামনে ও পেছনে একটা রাক্ষসের মতো ছবি আকা। মিতু তখন ওটা দেখেই ভয় পেয়েছিলো। মিতু ঐ রাক্ষসের পিকটা দেখেই লাফ দিয়ে বিছানায় উঠে চেঁচামেচি শুরু করে দিলো
-- ওও মাগো ওওও বাবা গো রাক্ষস আমায় খেয়ে ফেলবে গো। আমার আর নাতি নাতনির মুখ দেখা হলো না গো। আমি বধয় এবার রাক্ষসের পেটেই গেলাম গো আমারে কেউ বাচাউউউউউউউউউ,,,।
মিতুর এমন চিল্লানির কোনো কারনই খুজে পাচ্ছে না রাজু। তাই হাসি থামিয়ে হা করে তাকিয়ে মিতুর কান্ড দেখছে। তারপর মিতুকে ধমক দিয়ে বললো
-- এই মেয়ে এই কি হচ্ছে টা কি সকাল সকাল? এভাবে লাফাচ্ছ কেনো তুমি? এখানে রাক্ষস আসবে কোথা থেকে শুনি?
-- ঐ কাজু ঘোলাদরি তুই আমার থেকে দুরে যা। তোর বুকের সাথে রাক্ষস, ওমাগো আমায় খেয়ে ফেললো গো।
মিতুর কথা শুনে রাজু নিজের বুকের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারে মিতু কেনো এমন করছে।তাই রাজু তারাতারি নিজের টিশার্টটা খুলে ফেলে। এটা দেখে মিতু আবারও নিজের মুখ ঢেকে চুপ করে দাড়িয়ে থাকে। মিতুকে মুখ ঢাকতে দেখে রাজু বলে
-- এখন তো আমি রাক্ষসটাকে খুলে ফেলেছি এখন আবার মুখ ঢাকছো কাকে দেখে??
-- ইশশ কাজু ঘোলাদরি তোমার কি একটুও লজ্জা শরম নাই। একটা নিরিহ নিশ্পাপ মেয়ের সামনে এভাবে জামা খুলতে লজ্জা করে না তোমার।
মিতুর কথা শুনে রাজু হাসবে নাকি কাঁদবে কিছুই বুঝতে পারে না রাজু।তারপর হাতের টিশার্ট টা পাশের সোফায় ছুরে মেরে রাজু ডেভিল হাসি দিয়ে বললো
-- লজ্জা হলো মেয়েদের ভুষন, এখন মেয়েদের মতো ছেলেরাও যদি লজ্জা পায় তাহলে ছেলে আর মেয়েদের মধ্যে পার্থক্য টা কি হলো মিস চুইংগাম বেইপি? আর তাছারা আমি তো আর যার তার সামনে টিশার্ট খুলিনি তোমার সামনেই খুলেছি। তোমারও তো অধিকার আছে তাইনা বলো?
রাজুর কথা শুনে মুখের সামনে থেকে হাত সরিয়ে বড় বড় চোখ করে মিতু বললো
-- আমার অধিকার আছে মানে?
-- মানে হলো তুমি তো আমার বিয়ে করা বউ, না না দুষ্টু বউ। আর আমি তোমার বর, মানে মিষ্টি বর। তাই বউ তার বরকে খালি গায়ে দেখতেই পারে বুঝেছো চুইংগাম বেইপি? এখন এতো বকবক না করে জলদি যাও তোমার এই জোকারের মতো মুখটা ধুইয়ে ফ্রেশ হয়ে আসো আর নিজের কাপড় চেন্জ করো।
-- ঐ ভ্রম্মদৈত্য, কুম্বো ভুত, লেজ কাটা টিকটিকি, মুড্ডু কাটা ভুতের দুলাভাই, চিংড়ি মাছের খালু তুই আমারে কি কইলি? আমি জোকার না? তুই জোকার তোর বউ জোকার তোর শালী জোকার তোর ৩৫ গোষ্ঠী জোকার।(রাগে ফোস ফোস করতে করতে খাট থেকে নিচে এসে রাজুর সামনে দারিয়ে বললো মিতু)
মিতুর কথা শুনে আর মিতুকে এতটা কাছে আসতে দেখে মুচকি হাসলো রাজু তারপর বললো
-- যাক বাবা শেষ মেষ তাহলে তুমি শিকার করলেই যে তুমি একটা জোকার। কিন্তু একটা জিনিস বুঝলাম না এতক্ষণ তো আমায় টিশার্ট খুলতে দেখে লজ্জায় মুখ ঢেকে ছিলে তাহলে এখন আমার এত কাছে এসে কথা বলছো কি করে হুমম? নাকি একটা অবলা নিশ্পাপ ছেলেকে একা পেয়ে তার সুজোগ নিতে চাইছো তুমি??( দুই হাত দিয়ে শরীর ঢেকে বললো রাজু দুষ্টুমি করে)
রাজুর এমন কথা শুনে মিতু হা করে রইলো আর বোঝার চেষ্টা করলো রাজু কি বলতে চাইছে। তারপর বুঝোর সাথে সাথে রাগের ঢেলায় রাজুর পায়ে জোরে একটা পারা মেরে ওয়াশরুমে দিলো দৌড়। মিতুর পায়ের পারা খেয়ে রাজু আউচচ বলে বসে পরলো। সাথে মিতুর এভাবে পালিয়ে যাওয়া দেখে হাসিও পেলো।
তারপর রাজু উঠে আলমারি থেকে আরেকটা টিশার্ট বের করে পড়ে নিলো। আর ঐ সাদা টিশার্ট টা সযত্নে রেখে দিলো আর মনে মনে বললো পরে এটা কাজে লাগবে। তারপর সোফায় বোসে মোবাইলে ভিডিও গেইম খেলতে লাগলো রাজু।
একটুপর ওয়াশরুম থেকে মিতু বেরিয়ে এসে রাজুর সামনে গিয়ে বললো
-- ঐ কাজু ঘোলাদরি আমি এগুলো চেন্জ করে পড়বো কি এখন?? কাল তো বিয়ের খুশিতে কোনো কিছুই আনি নি আমার বাসা থেকে?
মিতুর কথা শুনে হাতের ফোনটা রেখে সোজা হয়ে দাড়ালো রাজু। তারপর বললো
-- বাব বাহ চুইংগাম বেইপি যে আমার বউ হওয়ার জন্যে এতটা পাগল যে কাপড় আনতেই ভুলে গেছে আমার তো জানাই ছিলো না। (মুচকি হেসে)
-- এএএএএহহ আইছেরে আমায় বিয়ে করতে। আমি আগে যদি জানতাম আমার বিয়ে তোর মতো নাইজেরিয়ার এনাকন্ডার সাথে হচ্ছে তাহলে আমি বিয়েই করতাম না। আমি তো কোনো এক হিরো কে বিয়ে করবো।
মিতুর কথা শুনে রাগ উঠে গেলো রাজুর। রাজু মিতুর দুবাহু শক্ত করে চেপে ধরে বললো
-- আমি ছারা অন্য কারো কথা যদি তুমি চিন্তাতেও আনো না তাহলে আমার চেয়ে খারাপ পৃথিবীতে আর একজনও হবে না। (দাদে দাত চেপে বললো)
তারপর মিতুকে ধাক্কা দিয়ে সোফায় বসিয়ে রেখে নিচে চলে গেলো রাজু। মিতু সেখানেই চুপ করে বসে রইলো। হঠাৎ রাজুর এভাবে রেগে যাওয়ার কোনো কারনই খুজে পেলনা ও। একটু পর মিতুর শাশুরি এসে দরজায় দাড়িয়ে বললো
-- আসবো মিতু মামনি?
-- আরে আন্টি আসো আসো ভেতরে আসো। অনুমতি কেনো নিচ্ছো?
মিতুর কথা শুনে মিতুর কাছে এগিয়ে এসে রাজুর মা বললো
-- ঐ মেয়ে তুমি আন্টি বলো কাকে হুমম। আমার আম্মু বলবে আম্মু বুঝলে? তুমি আমার একমাত্র ছেলের বউ আমার মেয়ে। মেয়েকি কখনো তার মা কে আম্মু ডাকে?
-- তাহলে তুমি কেনো আমার থেকে অনুমতি নিলে আম্মু। আম্মু কি তার মেয়ের থেকে অনুমতি নেয়?
-- ও বাবা আমার মেয়েটা দেখি বড় দের মতো কথা বলছে। আচ্ছা শোনো যে জন্যে এখানে আসা। এই নাও এটাতে একটা শাড়ি আছে সাথে শাড়ির পড়ার সব জিনিসও আছে। এগুলো পড়ে নিচে আসো তোমায় প্রতিবেশিরা দেখতে আসছে।
কথাগুলো বলতেই রাজুর মায়ের ডাক পড়লো নিচে থেকে। আর রাজুর মাও মিতুকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই তারাতারি নিচে চলে গেলো। মিতু ওয়াশরুমে গিয়ে ব্লাউজ পেটিকোট পড়ে এসে শাড়ি পড়ার চেষ্টা করতে লাগলো। কিন্তু কিছুতেই ও শাড়ি পড়তে পারছে না। কখনো শাড়ি পড়েনি মিতু পড়লেও মিতুর মা বা তমা ওকে পড়িয়ে দিতো। ও নিজে কখনোই শাড়ি পড়তে পারে না। অনেক চেষ্টার পরেও শাড়ি পড়তে না পেরে খাটে ধপ করে বসে পরলো মিতু।
এমন সময় রাজু রুমে ঢুকে দেখে মিতু সারাশরীরে শাড়ি পেঁচিয়ে নিয়ে বসে আছে। আর শাড়ির চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করছে। মিতুকে এমন অবস্থায় দেখে হা হা করে হাসতে লাগলো রাজু। রাজুর হাসি দেখে রাগে কটমট করতে করতে মিতু বললো
-- ঐ খাটাশের খাটাশ, উগন্ডার গন্ডার, লন্ডনের জলহস্তী, জাপানের বান্দর,সুন্দর বনের কুমির এমন দাত কেলিয়ে হাসছিস কেনো রে? একটা ঘুশি দিয়ে সব গুলো দাত ফেলে দিবো তারপর হাসিস দাত ছারা হাসি।
মিতুর কথা শুনে মিতুর সামনে গিয়ে দাড়িয়ে রাজু বললো
-- কি বললে তুমি? আমায় ঘুশি দিয়ে দাত ফেলে দিবে? নিজের শরীর দেখেছো একবার? শরীরে তো পাচ কিলোও মাংস বা হাড় নেই আর তুমি এসেছো আমার মতো বডি বিল্ডারের দাত ভাঙতে? মাথার ওপর তুলে এমন আছার দিবো না সব ফাজলামি বেরিয়ে যাবে। আর এটা কি পড়েছো কি হুমম। এই ভাবে তুমি সবার সামনে যাবে? তোমায় এভাবে সবাই দেখলে হাসবে সবাই।
রাজুর কথা শুনে কাদো কাদো গলায় মিতু বললো
-- আমি কি করবো কাজু ঘোলাদরি। আমি তো শাড়ি পড়তে পারিনা। কখনো নিজে নিজে শাড়ি পড়িনি। তমা বা আম্মু পড়িয়ে দিতো কখনো পড়লে। এখন আমি কি করে পড়বো।(হালকা কান্না করে)
মিতুর কথা শুনে রাজু দরজা লাগিয়ে দিয়ে এসে বললো
-- থাক থাক আর কান্না করতে হবে না। শাড়িটা খোলো।
রাজুর কথা শুনে মিতু বড় বড় চোখ করে বললো
--শাড়ি খু খুলবো মা মানে?
-- আরে বাবা শাড়ি খোলো আমি পড়িয়ে দিচ্ছি ঠিক করে।
-- তুমি শাড়ি পড়াতে জানো কাজু ঘোলাদরি। কাকে কাকে পড়িয়েছো শাড়ি??
-- হ্যা আমি শাড়ি পড়াতে পারি। নিজের বউকে শাড়ি পড়াবো বলে শাড়ি পড়ানোর ভিডিও দেখে শিখেছিলাম। এখন কথা না বলে তারাতারি পড় শাড়িটা আবার নিচে থেকে ডাক পড়বে।
তারপর রাজু মিতুকে অনেক যত্ন করে শাড়ি পড়িয়ে দিতে লাগলো। কিন্তু সমস্যা হলো মিতু শাড়ি পড়াতে নিলেই হাসতে হাসতে কুটিকুটি হয়ে যাচ্ছে। মিতুকে এমন হাসতে দেখে রাজু ধমক দিয়ে বললো
-- কি হচ্ছে টা কি মিতু? একটু চুপ করে দাড়াবে প্লিজ এভাবে শাড়ি পড়ানো সম্ভব না.।
-- আমি কি করবো তোমার শাড়ি পড়াতে দেখে আমার খুব শুরশুরি লাগছে।তাই তো এভাবে হাসছি।
মিতুর কথা শুনে কপালে হাত দিয়ে বসে পরলো রাজু। তারপর মাথায় একটা বুদ্ধি এলে বললো
-- তুমি যদি এখন ঠিক ভাবে শাড়ি পড়াতে না দাও তাহলে সকালের সেই রাক্ষস টা এনে তোমার ওপর ছুরে দিবো বললাম। এখনো সময় আছে চুপ করে দারাও।
রাজুর কথা শুনে ভয়ে ঢোক গিললো মিতু তারপর চুপচাপ শাড়ি পড়াতে দিলো। মিতুকে শাড়ি পড়িয়ে রাজু হাফ ছেরে বাচলো। শাড়ি পড়ানো শেষ হলে মিতু বললো
-- ঐ কাজু ঘোলাদরি যানো? তোমার বউ না অনেক সুখি হবে। তুমি কি সুন্দর শাড়ি পড়াতে পারো। তাকে পড়িয়ে দিবে।
মিতুর কথা শুনে বড় বড় করে তাকিয়ে রাজু বললো
-- তোমার কি ইচ্ছে আছে আমায় আবার বিয়ে করানোর?
রাজুর কথায় মিতু কিছু বলবে তার আগেই দরজায় নক পরলো। নক পরতেই রাজু তারাতারি বেলকুনিতে যেতে যেতে বললো
-- দরজা খুলে দাও মিতু আর আমি যে এখানে আছি তা কাওকে বলো না যেনো।
রাজুর কথা মতো মিতু দরজা খুলে দিলো। মিতুর শাশুড়ি রুমে ঢুকে মিতুকে দেখে বললো
-- মাশাআল্লাহ মামনি তুমি তো অনেক সুন্দর করে শাড়ি পড়তে পারো। অনেক সুন্দর হয়েছে শাড়ি পড়া। কিন্তু সাজগোজ তো কিছুই করোনি চলো আমি তোমায় সাজিয়ে দেই।
শাশুড়ির কথা শুনে মিতু বললো
-- আম্মু আমি তো শাড়ি পড়াতে এক্সপার্ট বুঝলা। ঐ বাড়ি থাকতে সবাইকে আমিই শাড়ি পড়িয়ে দিতাম। আমার মতো শাড়ি কেউ পড়াতেই পারেনা।(বাহাদুরি করে বললো)
বেলকুনি থেকে মিতুর কথা শুনে রাজু মনে মনে বললো
-- কি ডেন্জারাস মেয়েরে বাবা কত সুন্দর করে মিথ্যে কথা বলছে।
তারপর রাজুর মা মিতুকে অনেক সুন্দর করে সাজিয়ে দিয়ে নিচে চলে গেলো আর মিতুকে বললো নিচে আসতে।
চলবে,,,,,

১৩+১৪পর্ব
লেখা--সোনালী
রাজুর মা মিতুকে সাজিয়ে নিচে চলে যেতেই রাজু বেলকুনি থেকে রুমের মাঝে এসে মিতুর দিকে অপলক তাকিয়ে রইলো। আর মিতু নিজেকে আয়নায় দেখে বলতে লাগলো
-- ইশশ মিতু তোকে কি লাগছে রে একদম ঝাক্কাস। ইচ্ছা করছে তোকে আমি বিয়ে করে নেই। কিন্তু নিজেকে নিজে বিয়ে করবো কি করে? আমিও না সত্যিই একটা পাগল, তার চাইতে বরং নিচে যাই শুনেছি আজকে অনেক মেহমান আসবে তার মধ্যে হিরোর মতো কোনো ছেলেকে পটিয়ে বিয়ে করে ফেলবো।
মিতু আয়নায় নিজেকে দেখে কথাগুলো বলছে আর এদিক ওদিক দুলে দুলে নিজেকে দেখছে। মিতুর পিছনে দাড়িয়ে এতক্ষণ মিতুকে অপলক দেখছিলো রাজু আর ওর কথা গুলো শুনে মিটিমিটি হাসছিলো। কিন্তু মিতুর শেষ কথাটা শুনতেই রাজুর মাথায় রক্ত চোরে গেলো। মিতুর সাহস হয় কি করে অন্য কোনো ছেলের কথা চিন্তা করার।
রাজু রাগে ফোস ফোস করতে করতে মিতুর হাত ধরে টান দিয়ে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরে। তারপর দাতে দাত চেপে বলে
-- তোমার সাহস কি করে হয় অন্য কোনো ছেলের কথা চিন্তা করার? আমি ছারা অন্য কারো কথা যদি আর কখনো তোমার মুখেও শুনিনা একদম মেরে ফেলবো তোমায়।
রাজুর এমন আচরনে মিতু কিছু না বলে শুধু ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে রাজুর দিকে। রাজুর এমন রাগের কোনো কারনই খুজে পাচ্ছে না মিতু। তাই মিতু বলে উঠলো
-- কি হয়েছে বজ্জাত কাজু ঘোলাদরি তুমি আমার সাথে এমন করছো কেনো? তোমার গালটা লাল টমেটো আর নাকটা এমন লাল মরিচের মতো হয়ে গেলো কেনো??
মিতুর কথা শুনে রাজুর রাগটা যেনো আরো বেরে গেলো। এমন একটা মুহুর্তে কি বলছে এসব মিতু? এমন কথা শুধু এই মেয়েটার কাছ থেকেই আশা করা যায়। তারপর রাজু বললো
--এই মেয়ে সমস্যা কি তোমার হুমম। তুমি কিছু বোঝো না নাকি বুঝেও না বোঝার নাটক করো? (দাতে দাত চেপে)
রাজুকে এতটা রাগতে দেখে মিতু এবার ভ্যা ভ্যা করে কেদে দিলো। তারপর বলতে লাগলো
-- ও শাশুড়ি মা গো তোমার এই নাইজেরিয়ার বজ্জাত ব্যাটা আমায় মেরে সব হাড় গুরো গুরো করে দিলো গো। আমার আর নাতি নাতনির মুখ দেখা হলো না গো।
মিতুর এমন কান্না দেখে আর কথা শুনে রাজু পুরাই বোকা হয়ে গেলো। কি ডেন্জারাস মেয়েরে বাবা কি সন্দর করে মিথ্যে বলছে। এখন বেশি গরম হলে কেইচ খেতে হবে তাই রাজু আর কিছু না বলে মিতুকে ছেরে ওয়াশরুমে চলে গেলো। রাজু ওয়াশরুমে যেতেই মিতু নাচতে শুরু করলো আর গান গাইতে পাগলো
-- ঐ ডিংকা চিকা ঐ ডিংকা চিকা
ঐ বজ্জাত কাজু ঘোলাদরিরে বানাইছি বোকা
ঐ ডিংকা চিকা ঐ ডিংকা চিকা
বেশি যদি তেড়িবেড়ি করে তাইলে খাওয়ামু বকা,
ঐ ডিংকা চিকা ঐ ডিংকা চি,,,,,,
এতটুকু বলেই পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখে রাজু ওয়াশরুমের দরজা খুলে রাগে চোখ লাল করে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। মিতু রাজুকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে ঢোক গিলে দিলো জোরে ভৌ দৌড়। এক দৌড়ে নিচে চলে গেলো। মিতুকে এমন দৌড়ে পালাতে দেখে রাজু হাসতে লাগলো। তারপর আস্তে করে বললো
-- পাগলী একটা,,,
মিতু দৌড়ে নিচে নামতে গিয়ে শাড়ির কুচিতে পা বেজে শাড়ির কুচি খুলে গেলো।মিতু তারাতারি শাড়ি দুই হাতে ধরে আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো কেউ আছে কিনা। তারপর আবার নিজের রুমের দিকে দিলো দৌড়। রুমে এসে দেখে রাজু একটা নীল রঙের পান্জাবী বুতাম না খুলে পড়তে গিয়ে মাথায় আটকে আছে। বেচারা অনেক চেষ্টা করছে কিন্তু কিছুতেই পড়তে পারছে না। এটা দেখে মিতু শাড়ি ছেরে দিয়ে হো হো করে জোরে জোরে হাসতে লাগলো। মিতুর হাসির শব্দ শুনে রাজু বললো
-- চুইংগাম বেইপি একটু হেল্প করো আমায় প্লিজ। জানিনা কেনো পান্জাবীটা মাথা দিয়ে ঢুকছে না।
রাজুর কথা শুনে হাসি থামিয়ে মিতু বললো
-- আরে সুন্দর বনের কুমির মাথা দিয়ে পান্জাবী ঢুকবে কি করে পান্জাবীর বোতাম খুলতে হবে না?
-- ইশশ আমি একদম ভুলে গেছি। প্লিজ মিতু একটু খুলে দাও না বোতাম টা।
-- উমমম খুলে দিতে পারি একটা শর্ত আছে!
-- কি শর্ত আবার?
-- তুমি যদি আমায় এক কার্টুন কোন আইস্ক্রিম আর অনেকগুলো চুইংগাম এনে দাও তাহলেই আমি তোমার বোতাম খুলে দিবো মিস্টার কাজু ঘোলাদরি। এবার বলো দিবা কিনা??
-- আচ্ছা আচ্ছা দিবো এবার তো খুলে দাও প্লিজ মিতু। কেউ চলে এলে আমার মান সম্মান যাবে।
রাজুর কথা শুনে মিতু খুশি হয়ে এগিয়ে গিয়ে পান্জাবীর বোতাম খুলে দেয়। রাজু যেনো হাফ ছেরে বাচে। তারপর পান্জাবীর বোতাম লাগাতে লাগাতে মিতুর দিকে তাকায় রাজু। আর তাকিয়ে দেখে মিতুর পুরো শাড়িটা নিচে পরে আছে শুধু আচলটা গায়ে জরানো। রাজু মিতুর দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে বলে
-- মিস চুইংগাম বেইপি তোমার শাড়ির এ অবস্থা হলো কি করে?
-- নিচে নামতে গিয়ে পায়ের সাথে লেগে খুলে গেছে(কাদো কাদো ভাব করে)
-- হা হা হা, তা ভালো তো তুমি তো শাড়ি পড়াতে এক্সপার্ট তাইনা। তাহলে এভাবে দাড়িয়ে আছো কেনো পড়ে নাও মিস চুইংগাম বেইপি।
-- ইয়ে মানে আমি তখন শাশুড়ি আন্টিকে মজা করে বলেছি। তুমি একটু পড়িয়ে দাও না কাজু ঘোলাদরি।
-- ওকে পড়িয়ে দিতে পারি তবে আমার একটা শর্ত আছে।
-- তোমার আমার কি শর্ত(অবাক হয়ে)
-- আমি তোমাকে যা বলবো তা করতে হবে।রাজি থাকলে বলো করবে কি না?
-- কি করতে হবে আমার?
-- সেটা এখন বলবো না রাতে বলবো। বলো রাজি?
রাজুর কথায় মিতু কিছু না ভেবেই হাসি মুখে বলে দিলো
-- ওকে ডান আমি রাজি।
তারপর রাজু মিতুকে আবারও অনেক সুন্দর করে শাড়ি পড়িয়ে দুজন মিলে নিচে চলে এলো এক সাথে।
সারাদিন মিতুর বৌভাতের অনুষ্ঠান ভালো ভাবেই মিটে গেলো। সবাই মিতুর অনেক প্রশংসা করলো। রাজু আর মিতুকে অনেক সুন্দর মানিয়েছে সবাই বললো। মিতু সারাক্ষণ বাসার ভেতরেই ছিলো। বাইরে অনেক ছেলে মানুষ রাজুর বন্ধুরা থাকায় রাজু মিতুকে বাইরে আসতে দেয়নি। রাজুর বন্ধুরা অনেক জোর করে রাজুর বউকে দেখবে। কিন্তু রাজু সবাইকে বলে দেয় বিয়ের দিন দেখেছে সেটাই যথেষ্ট আর দেখতে হবে না।
সারাদিন তমাকে পেয়ে তমার সাথে গল্প করে মজায় দিন কাটায় মিতু। মিতুকে দেখে যেনো মনে হচ্ছে ও কত বছর ধরে রাজুদের বাড়িতে আছে। এতটা হাসি খুশি ও। মিতুর বাবা মা মিতুকে এত খুশি দেখে অনেক শান্তি অনুভব করে মনে মনে।
তারপর রাত প্রায় ১০.০০ টার সময় সব মেহমান চলে গেলে মিতু রুমে এসে শুয়ে পরে। করায় শোয়ার সাথে সাথে ঘুমিয়ে যায়।
রাজু রুমে ঢুকে দেখে মিতু ঘুমিয়ে গেছে বাচ্চাদের মতো গুটিশুটি মেরে শুয়ে আছে বিছানায়। রাজু মিতুর কাছে এগিয়ে গিয়ে মিতুর গায়ে চাদর টেনে দেয়। তারপর কাপড় চেন্জ করে ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে এসে মিতুর পাশে শুয়ে পরে। মিতুর দিকে অপলক তাকিয়ে মনে মনে ভাবতে থাকে
-- কি এমন আছে তোমার মাঝে, যে আমি বার বার তোমার মুখ দেখে নিজেকে হারিয়ে ফেলি। যে রাজু চৌধুরীর জন্যে কত শত মেয়েরা পাগল আর সেই আমি কিনা তোমার জন্যে পাগল। কি এমন জাদু জানো তুমি যে আমি বার বার তোমার মাঝে হারিয়ে যাই। বার বার নতুন করে প্রেমে পরি তোমার। তোমার হাসি, তোমার দুষ্টুমি, তোমার গালি দেওয়া সব কিছুকে ভালবেসে ফেলেছি আমি। বড্ড বেশি ভালবেসে ফেলেছি আমার এই চুইংগাম বেইপিকে।
রাজু কথাগুলো মনে মনে ভাবছে আর অপলক তাকিয়ে আছে মিতুর দিকে। হঠাৎ মিতু ঘুমের ঘোরে রাজুকে জরিয়ে ধরে। তারপর ঘুমের মাঝেই বলে
-- আজকে কত্ত কি খেলাম কিন্ত ঐ বজ্জাত কাজু ঘোলাদরিটা আমায় আইস্ক্রিম আর চুইংগাম খেতে দিলো না। ব্যাটা এক নাম্বারের খাটাশ।
কথাটা বলেই আবার ঘুমে তলিয়ে গেলো মিতু। রাজু মিতুর এমন কান্ড দেখে আর কথা শুনে হা হয়ে গেলো। তারপর বির বির করে বললো
-- কি মেয়ের জন্যে পাগল হয়েছি রে বাবা। ঘুমের মাঝেও আমায় গালি দিতে ভোলে না। এক নাম্বারের ঝগড়াটে একটা।
কথাগুলো বলেই মিতুর কপালে একটা চুমু একে দেয় রাজু। তারপর মিতুকে আরো শক্ত করে জরিয়ে ধরে রাজুও ঘুমিয়ে পরে।
সকালে ঘুম ভাঙতেই মিতু দেখে ও নড়াচড়া করতে পারছে না। যেনো কোনো খাচায় আটকে আছে। চোখ ডলতে ডলতে ভালো করে তাকিয়ে দেখে রাজু ওকে শক্ত করে বুকে জরিয়ে ঘুমিয়ে আছে। রাজুর বুকের দিকে তাকাতেই দেখে রাজু সেদিনের সেই রাক্ষসের ছবিওয়ালা টিশার্ট টি পরে আছে। রাক্ষসের ছবিটা দেখার সাথে সাথে মিতু শরীরের সব শক্তি দিয়ে রাজুকে ধাক্কা দিয়ে ভুত ভুত করে চিৎকার করতে থাকে। মিতুর ধাক্কা খেয়ে ঘুমের মাঝেই নিচে পরে যায় রাজু। হাতে কিছুটা ব্যথা পেয়ে ঘুম ভেঙে যায় রাজুর। তারপর সামনে তাকিয়ে দেখে মিতু চাদর দিয়ে মুখ ঢেকে চিৎকার করছে ভুত ভুত বলে,,,,,,,,
চলবে,,,,,,,,,,,,,,,
১৪ পর্ব
লেখা--সোনালী
সকালে ঘুম ভাঙতেই মিতু দেখে ও নড়াচড়া করতে পারছে না। যেনো কোনো খাচায় আটকে আছে। চোখ ডলতে ডলতে ভালো করে তাকিয়ে দেখে রাজু ওকে শক্ত করে বুকে জরিয়ে ঘুমিয়ে আছে। রাজুর বুকের দিকে তাকাতেই দেখে রাজু সেদিনের সেই রাক্ষসের ছবিওয়ালা টিশার্ট টি পরে আছে। রাক্ষসের ছবিটা দেখার সাথে সাথে মিতু শরীরের সব শক্তি দিয়ে রাজুকে ধাক্কা দিয়ে ভুত ভুত করে চিৎকার করতে থাকে। মিতুর ধাক্কা খেয়ে ঘুমের মাঝেই নিচে পরে যায় রাজু। হাতে কিছুটা ব্যথা পেয়ে ঘুম ভেঙে যায় রাজুর। তারপর সামনে তাকিয়ে দেখে মিতু চাদর দিয়ে মুখ ঢেকে চিৎকার করছে ভুত ভুত বলে।
মিতুর এমন কান্ড দেখে রাজু রেগে গিয়ে উঠে দাড়িয়ে ধমক দিয়ে মিতুকে বলে
-- এই মেয়ে সমস্যা কি তোমার হুমম? সব সময় কিছু না কিছু ভুল করেই যাচ্ছো। আমায় এভাবে খাট থেকে ফেলে দিলে কেনো? আর সকাল সকাল এসব কি নাটক শুরু করেছো ভুত ভুত বলে?
রাজুর কথার উত্তরে মিতু কিছুই বললো না ও এখনো মুখের সামনে চাদর ধরে ভয়ে থড়থড় করে কাপছে। মিতু কিছু বলছে না দেখে রাজুর রাগটা যেনো আরও বেরে গেলো। তাই রেগে গিয়ে বললো
-- মিতু ভালভাবে বলছি মুখের সামনে থেকে চাদর সরাও বন্ধ করো তোমার এসব ন্যাকামো নাটক।
রাজু এতটা রেগে যাওয়ার পরেও মিতু মুখের সামনে থেকে চাদর সরাচ্ছে না দেখে রাজুই এক টানে চাদর সরিয়ে দিলো। চাদর সরাতেই রাজু দেখে মিতুর চোখের পানি দিয়ে চাদরের কিছু অংস ভিজে গেছে। আর মিতু ভয়ে থড়থড় করে কাপছে। রাজুর দিকে তাকিয়ে মিতু এবার জোরে চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো
-- আল্লাহ গো রাক্ষস আমায় খেয়ে ফেললো গো। আমায় কেউ বাচাও।
এসব কথা বলছে আর থড়থড় করে কাপছে মিতু। মিতুর কথা শুনে রাজু নিজের দিকে তাকিয়ে দেখে ও সেই রাক্ষুসের ছবিওয়ালা টিশার্ট টা পড়ে আছে। তাই মিতু এতটা ভয় পাচ্ছে। রাতে ভুল করে কখন এই টিশার্ট টা পড়েছে রাজু সেটা তার খেয়ালই নেই। এখন খেয়াল হতেই তারাতারি টিশার্ট টা খুলে সোফার ওপর ছুরে মারলো রাজু। তারপর মিতুর কাছে এগিয়ে এসে মিতুকে বললো
-- সরি সোনা আমি খেয়াল করিনি তুমি এটা দেখে ভয় পাচ্ছিলে। রাতে কখন এটা পড়েছি আমার খেয়াল ছিলো না। প্লিজ তুমি ভয় পেওনা। ওটা একটা ছবি তাছারা কিছুই না।
রাজুর কথা শুনে মিতু রাজুর দিকে তাকিয়ে দেখে রাজুর গায়ে ঐ টিশার্ট টা আর নেই। তাই মিতু রাজুকে জরিয়ে ধরে ছোট বাচ্চাদের মতো কাঁদতে থাকে। রাজু বুঝতে পারছে না মিতু সামান্য একটা ছবি দেখে এতটা ভয় কেনো পাচ্ছে। রাজু মিতুর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে
-- এই পাগলী সামান্য ছবি দেখে এতটা ভয় পেতে হয় নাকি। আমি আছি তো আমার চুইংগাম বেইপির কাছে। প্লিজ তুমি শান্ত হও। দেখো রাক্ষস টা আর নেই।
কথা গুলো মিতুকে জরিয়ে ধরে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে রাজু। তারপর মিতুর দিকে তাকিয়ে দেখে মিতু আবার ঘুমিয়ে পরছে কাদতে কাদতে। গায়ের শাড়িটাও কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে মিতুর। মিতুকে সযত্নে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে মিতুর গায়ে চাদর টেনে দেয় রাজু। তারপর মিতুর দিকে ভালো করে তাকিয়ে দেখে মিতুর মুখটা কাদতে কাদতে লাল হয়ে গেছে খুব ভয় পেয়েছে হয়তো মেয়েটা।
মিতুকে শুইয়ে দিয়ে ফোন হাতে বেলকুনিতে চলে যায় রাজু। তারপর মিতুর মায়ের কাছে ফোন করে
-- আসসালামু আলাইকুম আম্মু,কেমন আছেন?
-- ওয়ালাই কুমুসসালাম, আলহামদুলিল্লাহ, তুমি কেমন আছো রাজু বাবা?
-- জ্বি আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি আম্মু। আব্বু কেমন আছেন?
- হ্যা তোমার আব্বুও ভালো আছে। কি হয়েছে রাজু বাবা এত সকালে ফোন দিলে সব ঠিক আছে তো? মিতু কিছু করেছে নাকি? কেমন আছে ও?
-- মিতু কিছু করেনি আম্মু আর ও ভালো আছে। আমি আসলে একটা কথা জানলে আপনার কাছে ফোন করেছি।
-- কি কথা বাবা?
-- আসলে আম্মু আমার একটা টিশার্টে একটা ভয়ানক রাক্ষসের মতো ছবি আকা ছিলো তো ওটা দেখে মিতু অসম্ভব ভয় পেয়েছে মনে হয়। কিন্তু সামান্য একটা ছবি দেখে মিতু এতটা ভয় পেলো কেনো বুঝলাম না তাই আপনার কাছে কল দিলাম।আপনি কি কিছু বলতে পারেন মিতু কেনো এমন ভয় পেলো?
-- আসলে বাবা ভুলটা আমারই। মিতু যখন ছোট ছিলো তখন ও অসম্ভব দুষ্টো ছিলো, আমায় খুব জালাতন করতো। একা হাতে সব সমলাতে হতো বলে ওর জ্বালাতন থেকে মুক্তি পেতে ওকে রাক্ষসের ভয় দেখিয়ে চুপ করাতাম। কিন্তু সেই ভয়টা যে মিতুর মনে এভাবে গেথে থাকবে সেটা কখনো বুঝিনি। ও আসলে ভয়ানক কোনো ছবি বা রাক্ষসের কথা বললেই খুব ভয় পায়। একবার তো ভয় পেয়ে জ্বরও হয়েছিল ওর। আর তখন ডাক্তার বলেছে ওকে যেনো আর এসবের ভয় না দেখাই। (দীর্ঘশ্বাস ছেরে বললো)
(বাচ্চাদের মনে কখনো ভয় ঢোকানো উচিৎ নয়। কারন ভবিষ্যতে তা কঠিন আকার ধারন করতে পারে। আমাদের এখানে এমন একটা ঘটনা আছে)
মিতুর মায়ের কথা শুনে রাজু বুঝতে পারলো মিতু কোনো নাটক করছিলো না ও সত্যিই অনেক ভয় পেয়েছে। তাই মিতুর মাকে আর কিছু বলার সুজোগ না দিয়ে কাজের অজুহাতে ফোন কেটে দিলো রাজু। তারপর ফোনটা সোফায় ছুরে মেরে মিতুর কাছে এসে খাটের পাশে হাটু গেরে বসে মিতুর হাতটা শক্ত করে ধরে বললো
-- সরি জান আমি সত্যিই জানতাম না তুমি এতটা ভয় পাবে। তোমায় আমি কথা দিচ্ছি আর কখনো তুমি ভয় পাবেনা। তোমার মন থেকে আমি সব ভয় দুর করে ছারবো। লাভ ইউ জান
কথাগুলো বলে মিতুর কপালে ছোট করে একটা চুমু একে দিলো রাজু। তারপর আলমারি থেকে একটা কালো টিশার্ট বের করে পড়ে নিলো। আর ঐ টিশার্ট টা নিয়ে বাসা থেকে বাইরে চলে আসলো। তারপর মাটিতে টিশার্ট টা ছুরে মেয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে বলতে লাগলো
-- আমার চুইংগাম বেইপি যেটাতে এতটা ভয় পায় সেটা আমি কখনোই আস্ত রাখবো না জ্বালিয়ে পুড়িয়ে শেষ করে ফেলবো। সেটা আমার যতই প্রিয় জিনিস হোক না কেনো।
রাজুকে কিছু একটা পোড়াতে দেখে রাজুর মা এগিয়ে এসে বললো
-- কি হয়েছে খোকা? আর এটা কি পোড়াচ্ছিস তুই?
মায়ের কথা শুনে মায়ের দিকে তাকিয়ে রাজু ওর মাকে সব খুলে বললো। সব শুনে রাজুর মা বললো
-- কিন্তু এই টিশার্ট টা তো তোর অনেক প্রিয় ছিলো খোকা? এটা না পুড়িয়ে মিতুর আরালে পড়তে পারতি?
-- না আম্মু, এটা তো সামান্য টিশার্ট এর চাইতে শতগুন দামি বা প্রিয় জিনিসও যদি আমার মিতুর ভয়ের কারন হতো আমি সেটাও পুড়িয়ে দিতাম।
ছেলের কথা শুনে মুচকি হেসে রাজুর মা বললো
-- আমার ছেলেটা যে তার বউকে এতটা ভালবাসে তাতো আমি জানতাম না। মাশাআল্লাহ অনেক খুশি হলাম খোকা। মিতু মামনি সত্যিই অনেক ভাগ্যবতী তাই আমার ছেলেটার এত ভালবাসা পেয়েছে।আর আমার খোকা পেয়েছে ঐ পুতুল টাকে।
মায়ের কথা শুনে মুচকি হাসলো রাজু। তারপর ভিতরে চলে গেলো।
রুমে গিয়ে দেখে মিতু ঘুম থেকে উঠে গালে হাত দিয়ে বসে কি যেনো ভাবছে। মিতুকে দেখতে একদম পিচ্চি বুড়ির মতো লাগছে। রাজু মিতুর কাছে এগিয়ে গিয়ে বললো
-- ঘুম থেকে উঠে এত কি ভাবছো চুইংগাম বেইপি?
-- আচ্ছা কাজু ঘোলাদরি একটা কথা বলো তো? আমি কি সকালে একবার ঘুম থেকে উঠে ছিলাম নাকি এখনি প্রথম উঠলাম?
-- মানে, কি হয়েছে বলো তো?
-- কি জানি কি হয়েছে। আমি না একটা ভয়ানক মজার স্বপ্ন দেখেছি একটু আগে।
-- এ্যা, ভয়ানক আবার মজার স্বপ্ন হয় কি করে চুইংগাম বেইপি(মিতুর পাশে বসতে বসতে বললো)
-- আসলে বা আমি স্বপ্নে দেখি যে একটা বড় রাক্ষস তোমার বুকের সাথে করে আমায় খেতে আসছে আর আমি প্রচুর কান্না কাটি করছি ভয়ে। তাই বলছি ভয়ানক স্বপ্ন।
-- হুমম বুঝলাম, কিন্তু তাহলে মজার স্বপ্ন বললে কেনো?
-- হিহিহি মজার স্বপ্ন কারন আমি না স্বপ্নের মাঝে ঐ রাক্ষস আর তোমাকে ধাক্কা দিয়ে খাট থেকে নিচে ফেলে দিয়েছি। তাই খুব মজা লাগছে।
মিতুর কথা শুনে রাজু মনে মনে বললো
-- কি মেয়ে রে বাবা একটু আগে ভয়ে কাপছিলো আর এখন কেমন দাত কেলিয়ে হাসছে দেখো। ইচ্ছে তো করছে তুলে একটা আছার দেই পাজি টাকে। মনে মনে
-- এই যে মিস চুইংগাম বেইপি আমার স্বপ্নের জগত থেকে বের হয়ে এসে তারাতারি কাপড় চেন্জ করে ফ্রেশ হয়ে নিচে আসুন। আজ থেকে আপনাকে কলেজে যেতে হবে।
কলেজের কথা শুনে মুখটাকে বাংলার পাচ বানিয়ে রাজুর দিকে তাকিয়ে মিতু বললো
-- ঐ কাজু ঘোলাদরি আমাকে আমার ঐ টেকো ভুড়িওয়ালা প্রিন্সিপাল টার কলেজে যেতে হবে? আমার না সেদিন বিয়ে হলো। বিয়ের পর কেউ কলেজে পড়ে নাকি?
মিতুর কথা শুনে রাজু মনে মনে বললো, বাব্বাহ বিয়ের পর কেউ কলেজে যায় না এটা খুব বোঝো পড়া চুন্নি কিন্তু বিয়ের পর যে স্বামীকে ভালবাসতে হয়, সংসার করতে হয় এটা বোঝো না?
তারপর রাজু বললো
-- কোনো বাহানা চলবে না তারাতারি রেডি হয়ে নিচে আসো নইলে তোমার স্বপ্নের রাক্ষস টা এবার সত্যিই আসবে।
রাজুর কথা শুনে মিতু লাফিয়ে উঠে কাপড় নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকতে ঢুকতে বললো
-- ওরে বাবা রে রাক্ষসের দাদু বজ্জাত কাজু ঘোলাদরি একটা।
মিতুর এমন কান্ড দেখে আর কথা শুনে রাজু হাসতে হাসতে নিচে চলে গেলো।
সবাই এক সাথে সকালের ব্রেকফাস্ট শেষ করে মিতু আর রাজু রেডি হয়ে নিলো কলেজে যাওয়ার জন্যে। রাজু রেডি হয়ে মিতুকে আসতে বলে বাইক নিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলো। একটু পর মিতু একটা হলুদ রঙের সালোয়ার কামিজ ফুল হাতা আর হিজাব পরে রাজুর সামনে এসে বললো
-- ঐ কাজু ঘোলাদরি তুমি গাড়ি রেখে বাইক নিয়ে বসে আছো কেনো হুমম?
রাজু মিতুকে পা থেকে মাথা অবধি একবার দেখে বললো
-- কারন আমরা বাইকে করেই কলেজে যাবো।
-- কিন্তু আমি তো বাইকে চরতে ভয় পাই। আমি বাইকে যাবো না।
-- আরে চুইংগাম বেইপি ভয় কেনো পাচ্ছো আমি আছি তো ভয় পেওনা। জলদি ওঠো কলেজের লেট হয়ে যাচ্ছে।(তুমি ভয় পাও বলেই তো আমি বাইক নিলাম চুইংগাম বেইপি এবার তুমি আমায় জরিয়ে না ধরে পালাবা কোথায়)মনে মনে ডেভিল হাসি দিয়ে
মিতু কিছুক্ষণ চিন্তা করে রাজুকে বললো
-- আচ্ছা আমি যাবো কিন্তু তুমি আস্তে আস্তে চালাবা তো? আর তুমি আমার কলেজেই পড় তাইনা? তুমি কোন ইয়ারে পড়ো গো কাজু ঘোলাদরি?
-- এই মেয়ে তুমি এতো বাচাল কেনো সব সময় বকবক না করলে ভালো লাগে না তাইনা। জলদি বাইকে ওঠো আমাদের লেট হয়ে যাচ্ছে।
রাজুর ধমক খেয়ে মনে মনে রাজুর চৌদ্দ গুষ্ঠি উদ্ধার করে বাইকের পিছনে বসলো মিতু
-- বজ্জাত কাজু ঘোলাদরি তোর জীবনেও বিয়ে হবে না দেখে নিস। বজ্জাত খাটাশ একটা ইচ্ছে তো করছে তোরে গোবর পানিতে চুবিয়ে বুড়িগঙ্গা নদীতে ধুয়ে রৌদে শুকিয়ে বাজারে বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে আইস্ক্রিম আর চুইংগাম খাই। কিন্তু তোর মতো জাপানের কেঁচোর খালুর শুটকি কেউ কিনবে কিনা তাও জানিনা। মনে মনে
-- এই যে মিস চুইংগাম বেইপি আমার চৌদ্দ গুষ্টির ফালুদা বানানো হলে এবার আমাকে একটু ধরে বসুন আমি বাইক স্টার্ড দিবো।
-- কি বজ্জাতের বজ্জাত গন্ডার রে বাবা মনে মনে কথা বলি সেটাও শুনে ফেলে।মনে মনে
তারপর মিতু রাজুর কাধে হাত রেখে ধরে বসলো,,,,,,,
চলবে,,,,,,,

১৫+১৬ পর্ব
লেখা--সোনালী
মিতু রাজুর কাধে হাত রেখে ধরে বাইকে উঠে বসলো। তখন রাজু বললো
-- এই যে মিস চুইংগাম বেইপি আপনার কি বাইক থেকে পরে যাওয়ার শখ আছে নাকি?
-- ক্যান, আমি বাইক থেকে পরে যাবো ক্যান?
-- তুমি যে ভাবে আমায় ধরে বসেছো, তাতে তুমি ১০০% পরে যাবা। আমায় ভালো করে ধরে বসো নইলে পরে গেলে কিন্তু আমি দায়ি নই।
-- ধরেছি তো আর কিভাবে ধরে বসবো শুনি? বেটা খাটাশ একটা এখন দেড়ি হচ্ছে না কলেজে?
-- এভাবে নয় আমায় পিছন থেকে জরিয়ে ধরে বসো। যেভাবে স্ত্রী তার স্বামীকে ধরে বসে সেভাবে।
কথাটা বলেই মিতুকে আর কিছু বলার সুজোগ না দিয়েই বাইক স্টার্ড দিলো রাজু। তারপর জোরে টান দিয়ে বাইক চালাতে শুরু করলো। মিতু আর কোনো উপায় না দেখে ভয়ে রাজুকে পেছন থেকে শক্ত করে জরিয়ে ধরে চোখ বন্ধ করে রাজুর ৩২ গুষ্টি উদ্ধার করতে লাগলো।
-- বজ্জাতের বজ্জত, কালো ভাল্লুক, সুন্দর বনের কুমির, কুমিল্লার ফকির আলির চাচা, নোয়াখালীর ভাদাম্মা, শয়তানের খালু তোরে একবার বাগে পাই বুঝাই দিমু এই মিতু কি করতে পারে। আল্লাহ গো আজকে মনে হয় আমার আর বাড়ি ফেরা হলো না গো রাস্তাতেই কেল্লাফতে হইয়া পটল তুলমু। ও আমার নাতি নাতনির হবু দাদুগো তোমার সাথে আমার আর সংসার করা হলো না আমি এই জল্লাতটার হাতে মরি গেলাম গো। (ফিসফিসিয়ে বলছে মিতু)
-- মিস চুইংগাম বেইপির কি বাইকেই আমায় জরিয়ে ধরে থাকার ইচ্ছে আছে নাকি? নামবে না? আমার অবশ্য কোনো আপত্তি নেই তুমি থাকতেই পারো।(ডেভিল হাসি দিয়ে)
রাজুর কথা শুনে চোখ খুলে মিতু দেখে ওরা কলেজের গেটের সামনে দাড়িয়ে আছে। মিতু তারাতারি বাইক থেকে নেমেই রাজুর দিকে তাকিয়ে বললো
-- তুই আমায় ভয় দেখালিনা, তোরে আমি অভিশাপ দিলাম তোর জীবনে বিয়ে হবে না। তুই জীবনেও বউ পাবি না। তোর বউ তোরে জালাইয়া মারবো। এই মিতুর কথা মিলিয়ে নিস ডেভিল একটা।
কথাগুলো বলেই মিতু ভেতরের দিকে দিলো দৌড়। মিতুর কথা শুনে রাজু হাসতে হাসতে শেষ। তারপর মনে মনে বললো
-- চুইংগাম বেইপি বউ তো তোমাকেই পেয়েছি। কিন্তু জালানো টা তো সত্যিই অনেক বেশি জালাও। আর তোমার এই জালাতনটাকেও আমি অনেক ভালবাসি।
কথাগুলো মনে মনে বলেই পকেট থেকে সানগ্লাস বের করে চোখে পরে নিলো রাজু। তারপর প্রিন্সিপালের রুমে চলে গেলো।
এদিকে মিতু দৌড়ে ক্যান্টিনে তমার কাছে চলে গেলো। তমা মিতুকে দেখেই দৌড়ে এসে মিতুকে জরিয়ে ধরলো।
-- কিরে শাঁকচুন্নি পেত্নী ভুত্নী ব্লাক এনাকন্ডার বউ কি খবর রে তোর আমায় ভুলে গেছিস তাইনা?(বললো মিতু)
-- ঐ কুত্তি তুই এমন ক্যান রে? এতদিন পর কলেজে এলি আর এসেই আমার নতুন নতুন নাম দিতে বসে গেলি? কোথায় একটু ভালো করে কথা বলবি তা নয়। (গাল ফুলিয়ে বললো তমা)
-- আহারে আমার সোনা গাল ভুলিয়ে কেমন তুন্দুলের রুটি হয়ে গেলো গো। সরি সরি আর কিছু বলবো না। এবার বল কেমন আছিস তুই?(তমার গাল টেনে বললো)
-- হুমম তোকে ছারা আমার একটুও ভালো লাগে না রে মিতু। অনেক মিস করি তোকে। তবে আজ থেকে প্রতিদিন কলেজে দেখা হবে।
-- হুমম রে আমিও তোকে বকা দিতে পারিনা মারতে পারিনা তাই অনেক মিস করি। আমার বকা না খেয়ে মাইর না খেয়ে তুই কেমন মোটা হয়ে গেছিস।
-- আবার শুরু করলি(মুখ বেকিয়ে) আচ্ছা আয় তোকে এক জনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই। এটা আমার ফুফুর ছেলে রাসেল ভাইয়া। রাসেল ভাইয়াও এই কলেজেই এডমিশন নিয়েছে। আর রাসেল ভাইয়া এটা আমার বেস্ট ফ্রেন্ড মিতু।
রাসেল এতক্ষণ তমা আর মিতুর কথা শুনছিলো বসে বসে আর হা করে তাকিয়ে ছিলো মিতুর দিকে। তমার কথায় মিতুর দিকে হাত বারিয়ে দিয়ে রাসেল বললো
-- হাই, আমি রাসেল তমার ফুফাতো ভাই।
-- জ্বি ভাইয়া তমা আমায় বলেছে একটু আগে আর আমি কানেও শুনেছি।আপনাকে আর নতুন করে পরিচয় দিতে হবে না। আর আপনি যদি কানে না শুনে থাকেন তাহলে তমা আপনাকে আমার পরিচয়টা আবার দিয়ে দিবে।
কথাগুলো বলেই উল্টা দিকে হাটা দিলো মিতু। মিতুর কথাগুলো শুনে একদম হা হয়ে গেলো তমা আর রাসেল। ওরা ভাবতেও পারেনি মিতু এমন কিছু বলবে। তারপর রাসেল মিতুকে ডেকে বললো
-- এই যে মিস মিতু, কেউ হাত বারিয়ে দিলে হাত মেলাতে হয় এতটুকু জানো না? আর তুমি কি সব সময়ই এমন ঝগড়া করো নাকি সবার সাথে ঝাগড়াটে একটা?
রাসেলের কথা শুনে মিতুর খুব রাগ উঠে গেলো। তাই সে রাসেলের কাছে ফিরে এসে বললো
-- ঐ তুই কোন জায়গার লাট সাহেব রে যে তোর মোতো চামচিকার সাথে আমার হাত মেলাতে হবে। আমারে ঝগড়াটে বলিস কোন সাহসে হুমম তোরে তো আজকে আমি কুচিকুচি করে কেটে বিড়ালকে খাওয়ামু খাম্বা একটা।( রেগে বললো)
মিতুর এমন রাগ দেখে রাসেল একদম চুপ হয়ে গেলো আর তমা মিতুকে থামিয়ে বললো
-- মিতু তুই কি করছিস কি? কারো সাথে প্রথম দেখায় কেউ এমন আচরন করে? চল ক্লাশের সময় হয়ে গেছে ক্লাসে যাই।
কথাগুলো বলেই মিতুকে ক্লাসের দিকে পাঠিয়ে দিয়ে রাসেলের কাছে এসে তমা বললো
-- সরি রাসেল ভাইয়া, প্লিজ কিছু মনে করবেন না। মিতু আসলে একটু এমনই। আর ও কোনো ছেলের সাথে হাত মেলায় না। তাই এমন করলো আসলে ও অনেক ভালো। প্লিজ আপনি রাগ করবেন না। আমি ক্লাশে গেলাম। পরে কথা হবে।
কথাগুলো বলেই মিতুর পিছে ছুটলো তমা। তমা চলে যেতেই রাসেল বললো
-- তোমাকে আমার চাই মিতুরানি, রাসেলকে উল্টা পাল্টা কথা শোনানো তাই না। তোমাকে তো আমার চাইই চাই। বিয়ে যদি কখনো করি তাহলে তোমাকেই কোরবো। (বাকা হাসি দিয়ে)
মিতু আর তমা ক্লাশে গিয়ে পেছনের ব্রেন্চে বসলো। মিতু এখনো রাগে ফোস ফোস করছে।মিতুর রাগ ঠান্ডা করতে তমা বললো
-- এই মিতু আজকে নাকি কলেজে নতুন ম্যাথ টিচার আসবে? সবাই বলাবলি করছিলো তুই কি কিছু জানিস?
তমার কথায় মিতুর যেনো রাগ টা আরো বেরে গেলো। মিতু রাগে চোখ গরম করে তমার দিকে তাকিয়ে বললো
-- ঐ কুত্তি লাথথি খাবি একটা। আমি কলেজেই আসিনা কিছুদিন হলো আমি কি করে জানবো আজকে কোন ভুড়িওয়ালা আসবে নতুন।
মিতুর এমন রাগ দেখে তমা আর কিছু বলার সাহস পেলো না চুপ করে বসে রইলো। তমাকে চুপ করে থাকতে দেখে মিতু বললো
-- ঐ ব্লাক এনাকন্ডার বউ এমন মুখে সেলাই মেরে বসে রইলি ক্যান হুমম। এতদিন পর আমায় পেলি আমার জন্যে আইস্ক্রিম আর চুইংগাম আনবি কি মুখটা এমন ইন্ডিয়ার সাত বানিয়ে বসে আছিস ক্যান?
মিতুর কথা শুনে বড় বড় চোখ করে মিতুর দিকে তাকিয়ে তমা বললো
-- তোর সাথে তো গতকালকেই দেখা হলো আমার। আর তুই বলছিস অনেক দিন হলো। আর আমি তো জানতাম সবাই বাংলার পাচ বলে তুই এই ইন্ডিয়ার সাত কই পেলি মিতু?
-- আরে শাঁকচুন্নি মিতু কারো কথা শুনে সেটা বলে না। মিতু নতুন নতুন কথা তৈরি করে বুঝলি(ভাব নিয়ে)
-- সরি আমার দাদি আমার ভুল হয়ে গেছে। আমি তো ভুলেই গেছিলাম আমি একটা এলিয়েনের সাথে কথা বলছি। (হাত জোর করে)
-- হুমম ভালো ভালো সুখি হও বৎস। আমি তোমাকে আশীর্বাদ করিলাম তুমি ৫০২ টা বাচ্চার মা হও। তারা তোমায় সারাক্ষণ তেলে বেগুনে ভেজে ভেজে খাবে।(শয়তানি হাসি দিয়ে)
-- ঐ হারামি তুই এটা আশীর্বাদ করছিস নাকি আমার জীবনের ১২ টা বাজানোর বদদোয়া করছিস। (অবাক ও রাগ হয়ে বললো তমা)
তমার কথার উত্তরে মিতু কিছু বলবে তার আগেই ক্লাশে প্রিন্সিপাল স্যার ঢুকলো তারপর সবার উদ্যেশে বললো,,,,
চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
১৬ পর্ব
লেখা--সোনালী
-- Good morning students, তোমরা সবাই জানো যে তোমাদের আগের ম্যাথ টিচার এখান থেকে বদলি হয়ে যাওয়ায় আজ থেকে তোমাদের নতুন ম্যাথ টিচার ক্লাশ নিবে। তোমাদের নতুন ম্যাথ টিচারের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই। ইনি তোমাদের ম্যাথ টিচার মিস্টার রাজু চৌধুরী।(প্রিন্সিপাল স্যার দরজার দিকে ইশারা করে বললেন)
প্রিন্সিপ্যালের কথা শুনে সবাই দরজার দিকে তাকালো। আর তখনি দরজা দিয়ে রাজু ক্লাশে ঢুকে বললো
-- Good morning everyone , কেমন আছো সবাই?
রাজুকে দেখে মিতুর পাস থেকে কয়েকজন মেয়ে বলে উঠলো
-- ওয়াও কি হ্যানসাম আমাদের নতুন স্যার। আমরা তো ভাবতেই পারিনি।
-- আমি তো স্যারকে দেখে ফিদা হয়ে গেছি রে। ওয়াও কি লুক মে মার জাবা হায়।
মিতু ঐ মেয়েগুলোর কথা শুনে রাজুর দিকে ভালো ভাবে তাকালো। সকালে আসার সময় ঝগড়া করায় ব্যাস্ত থাকায় মিতু রাজুকে ভালো ভাবে খেয়ালই করেনি। এখন ভাল করে তাকিয়ে দেখে রাজু একটা ব্লু জিন্স আর কালো রঙের টিশার্ট পড়েছে সাথে হাতে দামি ওয়াচ চুলগুলো স্পাইক করা আর চোখের সানগ্লাসটা বুকের কাছে টিশার্টে লাগিয়ে রাখা। রাজুকে দেখে মনেই হচ্ছে না যে ও টিচার। মনে হচ্ছে যেনো কলেজের কোনো ছাত্র। আর অসম্ভব সুন্দর দেখতে লাগছে ওকে।
মিতু রাজুর দিকে তাকিয়ে থেকে ফিসফিস করে বলে উঠলো
-- ইশশশ আমাদের নতুন স্যার টা কি সুন্দর। ইচ্ছা করছে ব্যাটার লগে প্রেম করে বিয়ে করে নেই।
মিতুর কথা শুনে পাশে থেকে তমা অবাক হয়ে আবার হাসতে হাসতে কুটিকুটি হয়ে যাচ্ছে। তমাকে হাসতে দেখে মিতু বলে উঠলো
-- ঐ উগন্ডার বান্দরের বৌ এমন দাত কেলিয়ে হাসছিস ক্যান হুমম। তোর শশুড় তোর শাশুড়িকে বিয়ে করবে বলেছে নাকি।(রেগে গিয়ে)
-- হাসবো না তো কি করবো রে মিতু। তুই নিজের বরের সাথে প্রেম করে তাকে আবার বিয়ে করতে চাচ্ছিস এটা কি মজার কথা নয় বল?
তমার কথা শুনে মিতু রাজুর দিকে আবার ফিরে তাকালো। আর মিতু তাকানোর সাথে সাথে রাজু ওকে ধমক দিয়ে বললো
-- এই মেয়ে তুমি ক্লাশ করতে এসেছো নাকি বসে বসে গল্প করতে হুমম। আমি যে কখন থেকে তোমায় ডেকে চলেছি সে খেয়াল আছে তোমার?
রাজুর কথা শুনে মিতু এদিক ওদিক তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করলো রাজু কথাগুলো কাকে বলছে। তারপর উঠে দাড়িয়ে বললো
-- ঐ কাজু ঘোলাদরি তুমি কারে এভাবে বকতাছো হুমম?
-- কি অসভ্য মেয়েরে বাবা আবার আমার মুখে মুখে কথা বলে। নাম কি তোমার? তুমি এখনি ক্লাশের বাইরে গিয়ে কান ধরে দাড়িয়ে থাকবে ১ ঘন্টা। যাও বাইরে গিয়ে কান ধরে দাড়িয়ে থাকো।
রাজুর কথা শুনে মিতুর সাথে তমাও হা করে তাকিয়ে আছে রাজুর দিকে। রাজু এমন আচরন করছে যেনো মিতুকে ও চেনেই না। এমন সময় মিতুর পাশের মেয়েগুলো বলে উঠলো
-- ইশশ স্যারের যেমন চেহারা তেমনই রাগ দেখেছিস। রেগে গেলে স্যারকে যেনো আরো বেশি সুন্দর লাগছে দেখ।
ওদের কথা শুনে মিতু বলে উঠলো
-- এএএএহহ সুন্দর না বান্দর লাগছে। যা না যা লুচু ছেমড়িগুলা ঐ বান্দরের গলায় ঝুলে পর গিয়ে।
মিতুর কথা শেষ হওয়ার সাথে সাথে রাজু আবারো ওকে ধমক দিয়ে বললো
-- এই মেয়ে তোমার কানে কি কথা যায় না হুমম। আবার ওখানে দাড়িয়ে মেয়েগুলোর সাথে কি কথা বলছো হুমম। বের হও আমার ক্লাশ থেকে। আর কান ধরে দাড়িয়ে থাকবে এক ঘন্টা যাও।
রাজুর কথা শুনে মিতু আর কিছু বলার সাহস পেলো না। চুপচাপ বাইরে গিয়ে দাড়ালো। কিন্তু কান ধরলো না।
(মিতু আর তমা যখন কথা বলতে ব্যাস্ত ছিলো তখন রাজু সকলের সাথে একে একে পরিচিত হচ্ছিলো। কিন্তু মিতুর সেদিকে খেয়ালই ছিলো না। প্রিন্সিপাল স্যার অনেক আগেই চলে গেছেন। তাই রাজু এমন করলো মিতুর সাথে।)
মিতু ক্লাশের বাইরে গিয়ে দাড়ালে রাজুও বাইরে গিয়ে বললো
-- এই মেয়ে তোমাকে বললাম না কান ধরে দাড়িয়ে থাকতে? জলদি কান ধরো নইলে কিন্তু মাঠের মধ্যে দার করিয়ে রাখবো।
রাজুর কথা শুনে মিতু রাগে ফুসতে লাগলো। হঠাৎ মিতুর মাথায় একটা দুষ্টু বুদ্ধি এলো। মিতু দৌড়ে এসে রাজুর কান চেপে ধরে দাড়িয়ে রইলো। মিতুর এমন কান্ড দেখে রাজু রিতিমতো অবাক। তবুও ভালো ওরা ক্লাশের বাইরে ছিলো তাই কেউ দেখেনি নইলে রাজুর সম্মানের ফালুদা হয়ে যেতো। রাজু মিতুকে ধমক দিয়ে কান থেকে হাত সরিয়ে বললো
-- কি হচ্ছে কি এটা মিতু। এটা কি ধরনের ব্যায়াদবি?
-- আমি কি করলাম স্যার আপনিই তো বললেন কান ধরে দাড়িয়ে থাকতে তাইতো আমি আপনার কান ধরলাম।(মায়া মায়া মুখ করে)
-- অসভ্য মেয়ে আমি তোমাকে তোমার কান ধরেই দাড়িয়ে থাকতে বলেছি। আমার কান ধরতে বলিনি। চুপচাপ কান ধরে দাড়িয়ে থাকো আমার ক্লাশের দেড়ি হচ্ছে।
কথাগুলো বলেই রাজু ক্লাসরুমে ঢুকে গেলো। আর মিতু কান ধরে দাড়িয়ে রাজুর ৩২ গুষ্টি উদ্ধার করতে থাকলো
-- কুত্তা, বান্দর, শেয়াল, কুমির, আফ্রিকার এনাকন্ডা, নাইজেরিয়ার হনুমান, জাপানের লেংটি ইদুর, লন্ডনের নাক বোচা হাতি, সিঙ্গাপুরের কান কাটা বাদুর তোর জীবনেও বিয়ে হবে না দেখে নিস। আমি তোরে বদদুয়া দিলাম। বিয়ে হলেও তোর বউ তরে জ্বালিয়ে মারবে একটুও ভালবাসবে না হারামি। আমার মতো এমন অসহায় অবোলা সাধা সিধা সহজ সরল বাচ্চা মেয়েটাকে এভাবে কান ধরে দার করিয়ে রাখা তাই না। একবার তোমায় বাগে পাই আমিও বুঝিয়ে দিবো এই তিতু থুক্কু এই মিতু কি জিনিস। (রাগে ফোস ফোস করতে করতে মনে মনে বললো মিতু)
এদিকে রাজু ক্লাস নিতে নিতে মনে মনে বলছে
-- আমি জানি মাই চুইংগাম বেইপি তুমি এখন আমার চৌদ্দগুষ্টির কিমা বানাচ্ছো। তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমার এখানে টিচার হয়ে আসার কারনই তুমি মাই চুইংগাম বেইপি।
এখানে টিচার হয়ে থেকে সারাক্ষণ তোমায় চোখের সামনে পাবো। তোমার দিকে নজর রাখতে পারবো। আর তার চাইতেও বড় কথা হলো তোমাকে সায়েস্থা করতে পারবো আর তুমি কিছু বলতেও পারবে না আমাকে(ডেভিল হাসি দিয়ে)
ক্লাস শেষ করে চলে যাওয়ার সময় রাজু মিতুর কাছে এসে বললো
-- এই যে মিস মিতু তুমি এখন ক্লাসে গিয়ে বসতে পারো। আজকের মতো এটুকু শাস্তিই যথেষ্ট।
কথাগুলো বলেই মিতুকে আর কিছু বলার সাহস না দিয়ে রাজু অফিস রুমের দিকে হাটতে লাগলো। রাজু চলে যেতেই মিতু দৌড়ে ক্লাসে ঢুকে তমার কাছে গিয়ে বসলো। আর তখনি তমা বলে উঠলো
-- কিরে মিতু কি হয়েছে বল তো। দুলাভাই তোর সাথে এমন আচরন করলো কেনো রে। দেখে মনে হলো সে যেনো তোকে চেনেই না?
তমার কথা শুনে মিতু আরো রেগে গেলো। আর তমার দিকে অগ্নিদৃষ্টিতে তাকিয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগেই পাসে থাকা মেয়েগুলোর মধ্যে থেকে একজন মেয়ে বলে উঠলো
--আমাদের নতুন স্যারটা কি দারুন রে দেখ প্রথম দিনেই এই ঝগড়াটে মেয়েটাকে কাবু করে ফেলেছে। আমি তো স্যারের প্রেমেই পরে গেছি।
মেয়েটার কথা শুনে মিতু রাগে ফোস ফোস করতে করতে ক্লাশ থেকে বেরিয়ে গেলো। আর মিতুর পিছন পিছন তমাও গেলো। মিতু জোরে জোরে হাটছে আর বকবক করছে
-- ঐ কাজু ঘোলাদরিরে আমি কুচিকুচি করে কেটে লবন মরিচ দিয়ে মেখে ডোবা তেলে ভেজে খাবো। কত্ত বড় সাহস ওর ও আমাকে কান ধরে দার করিয়ে রাখে। আল্লাহ গো এই দিন দেখার আগে আমি ঘুমিয়ে পরলাম না কেনো। তবুও তো আমার নাতি নাতনির দাদুকে স্বপ্নে গিয়ে দেখতে পারতাম।
-- স্বপ্নে গিয়ে দেখার কি আছে আমি তো তোমার সামনেই আছি তাকিয়ে দেখো(রাসেল)
রাসেলের কথা শুনে মিতু আর তমা দুজনেই অবাক হয়ে তাকালো। তারপর তমা বলে উঠলো
-- রাসেল ভাইয়া আপনার কথার মানে ঠিক বুঝলাম না।
-- নাহ কিছু না মজা করছিলাম। তা এদিকে কোথায় যাওয়া হচ্ছে শুনি?(রাসেল)
-- ক্যান আপনি কি চোখে দেখেন না? নাকি চোখটা খুলে বাড়িতে রেখে ঘুরতে আসছেন। আমরা গেটের দিকে যাচ্ছি বাসায় যাবো তাই। সরুন আমার সামনে থেকে পথ কাটা কালো বিড়াল। (বললো মিতু)
-- কি বললে তুমি আমি পথ কাটা কালো বিড়াল?
-- তা নয়তো কি বলবো শুনি। আপনি যে ভাবে আমার পথ আটকে দাড়িয়ে আছেন তাতে এর চাইতে ভালো নাম আর আপনার জন্যে খুজে পেলাম না। যত্তসব আজাইরা কিম্ভুত
কথাগুলো বলেই রাসেলকে পাশ কাটিয়ে গেটের দিকে চলে গেলো মিতু। মিতু চলে যেতেই তমাও মিতুর পিছু ছুটলো আর রাসেল শয়তানি হাসি দিয়ে মনে মনে বললো
-- পথ কাটা বিড়াল বলো আর যাই বলো আমায় মিস ঝগড়াটে। তুমি শুধু আমারই হবে, তোমার প্রতি আমার নজর যে এখন নয় অনেক বছর আগে থেকেই। তোমাকে তো আমার চাই চাই।
কথাগুলো মনে মনে বলেই শয়তানি হাসি হাসতে লাগলো রাসেল। আর তখনি রাজু অফিস রুম থেকে বেরিয়ে মিতুকে খুজছিলো। রাজুকে দেখে রাসেল এগিয়ে গিয়ে বললো
-- এই তুই রাজু না?
-- আরে রাসেল তুই? দেশে কবে ফিরলি আর এখানে কি করছিস দোস্ত?
-- আরে আমি তো এই কলেজেই এডমিশন নিয়েছি। আর দেশে ফিরেছি এই ২০ দিন হবে হয়তো। তুই এখানে কি করিস কতদিন পর দেখা হলো দোস্ত।
-- এই দারা দারা তুই কলেজে এডমিশন নিছিস মানে? তুই তো পড়াশোনার জন্যেই বিদেশ গিয়েছিলি আর আমি যতদুর জানি তুই পড়াশোনা শেষ করে আংকেলের ব্যাবসা সামলাবি। তাহলে কলেজে এডমিশন নেওয়ার দরকার হলো কি তোর?
-- আরে আরে এতদিন পর দেখা হলো কোথায় একটু ভালো মন্দ জিগ্যেস করবি তা নয় এমন গোইন্দাগিরি করতে বসে গেলি তুইও না রাজু।
-- ওহ, সরি ইয়ার আচ্ছা চল আমরা বরং সামনে কফিশপটায় বসি, কফি খেতে খেতে গল্প করা যাবে।
-- হুমম চল,,
তারপর রাজু আর রাসেল কলেজের কাছের কফি শপটায় গিয়ে বোসলো। কফি খেতে খেতে রাসেল বললো
-- তা দোস্ত এখন কি করছিস তুই। আর বিয়ে শাদীর দাওয়াত পাবো কবে।
-- সরি ইয়ার তোকে আমার বিয়েতে ইনভাইট করতে পারিনি। এই তো কয়েকদিন আগেই বিয়ে করেছি। আমি তো জানতামনা যে তুই দেশে ফিরেছিস তাই তোকে বলতে পারিনি। আর এখন আমি এই কলেজেই ম্যাথ টিচার হয়ে এসেছি আজ থেকে।
-- বলিস কি দোস্ত, তোর বাবার এত বড় বিজনেস থাকতে তুই কলেজে চাকরি নিতে গেলি কেনো?
-- এমনিই নিলাম রে। আর আব্বুর বিজনেসও মাঝে মাঝে দরকার হলে দেখাশোনা করি।
-- হুমম বুঝলাম। আচ্ছা সে যাই হোক বিয়ে তো খেতে পারলাম না। তো পার্টি দিচ্ছিস কবে সেটা বল?
-- ওকে ডান, খুব তারাতারি পার্টি দিবো তোর জন্যে স্পেশালী। আর তোর ভাবির সাথেও পরিচয় করিয়ে দিবো। এখন বল তোর কি খবর আংকেলের ব্যাবসা রেখে এখানে এডমিশন কেনো নিলি?
-- সে অনেক কথা পরে এক সময় বলবো। তা ভাবিকে কেমন দেখতে রে?
-- সেটা না হয় যখন দেখবি তখনই জানিস। আচ্ছা শোন আমাকে এখন উঠতে হবে কলেজ ছুটির সময় হয়ে গেছে। পরে কথা হবে বাই।
তারপর রাজু কলেজে এসে মিতুকে অনেক খুজলো কিন্তু মিতু কোথাও নেই। পরে গেটম্যানের কাছ থেকে জানতে পারলো মিতু অনেক আগেই চলে গেছে। রাজুও আর দেরি না করে বাসার দিকে রওনা দিলো,,,,,,
চলবে,,,,,,,,
১৭+১৮ পর্ব
লেখা--সোনালী
রাজু কলেজে এসে মিতুকে অনেক খুজলো কিন্তু মিতু কোথাও নেই। পরে গেটম্যানের কাছ থেকে জানতে পারলো মিতু অনেক আগেই চলে গেছে। রাজুও আর দেরি না করে বাসার দিকে রওনা দিলো।
মিতু তমাকে ওর বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে নিজে রাজুদের বাসায় চলে এলো। বাসায় ঢুকতেই মিতুর শাশুড়ি মিতুকে দেখে বলে উঠলো
-- কি ব্যাপার মামনি তুমি এত তারাতারি কলেজ থেকে ফিরলে যে? কলেজ টাইম শেষ হওয়ার তো এখনো কিছু সময় বাকি? আর তুমি একা কেনো খোকা কোথায়?
শাশুড়ির কথা শুনে মিতু সোফায় বসতে বসতে বললো
-- শাশুমা আমি কোনো খোকা টোকারে দেখিনি। আর আজকে আমাদের কলেজে একটা বজ্জাত দজ্জাল খাটাশ চামচিকা মার্কা ম্যাথ টিচার আইছে। ঐ ব্যাটায় আমার মতো এত কিউট একটা বাচ্চা মেয়েকে কান ধরে দার করিয়ে রাখছিলো। আমার পা টা ব্যাথা করছে। তাই একটা ক্লাশ ফাকি দিয়েই বাসায় চলে আসছি। (কাদো কাদো মুখ করে)
মিতুর কথা শুনে মিতুর রাজুর মা ওর পাসে বসতে বসতে বললো
-- আহারে আমার মেয়েটাকে কত কষ্ট দিয়েছে ঐ স্যার। কিন্তু মিতু মামনি তোমাদের কলেজে তো আজকে খোকারই ম্যাথ টিচার হয়ে যাওয়ার কথা। তার মানে কি খোকাই তোমায় কান ধরিয়ে দার করিয়ে রাখছিলো?(চিন্তিত মুখ করে)
শাশুড়ির কথা শুনে খুব রাগ হলো মিতুর। তারপর রাগটাকে লুকিয়ে বললো
-- আচ্ছা শাশুমা একটা কথা বলো তো?
-- কি কথা বলো?
-- বলছি যে তোমার ছেলে ঐ কি যেনো নাম, হ্যা মনে পরেছে রাজু নাকি প্লাজু, ও কি সব সময় কোলে কোলে ঘোরে?
-- কি বলছো তুমি মামনি রাজু কোলে কোলে ঘুরবে কেনো?
-- আচ্ছা তাহলে কি ও ফিটার খায় আর বিছানায় সুসু করে?
-- রাজু ফিটার খেতে ক্যান যাবে মিতু। আর বিছানায় সুসুই বা করবে কেনো?
-- তাহলে তুমি কেনো ঐ বুইড়া হাত্তির মতো ব্যাডারে খোকা খোকা করো শাশুমা। আমি খালি কনফিউজড হয়ে যাই।(সোফা থেকে লাফ দিয়ে উঠে)
কথাটা বলেই মিতু ওপরে নিজের রুমে চলে গেলো। আর মিতুর বলা কথাগুলো ভেবে হাসতে হাসতে মিতুর শাশুড়ি শেষ। এমন সময় রাজু বাসায় ঢুকে নিজের মাকে এমন পাগলের মতো হাসতে দেখে বললো
-- কি ব্যাপার আম্মু তুমি এরকম পাগলের মতো হাসছো কেনো? আর মিতু কোথায়, ও কি বাসায় ফিরেছে?
রাজুর কথা শুনে রাজুর মা রাজুকে পাশে বসিয়ে মিতুর বলা কথাগুলো বলে হা হা করে হাসতে লাগলো। আর রাজু মায়ের মুখে সব শুনে রেগে ওপরে উঠে গেলো মিতুকে খুজতে।
রাজু রুমে গিয়ে দেখে মিতু ফ্রিজ খোলার জন্যে ফ্রিজের সাথে এক প্রকার যুদ্ধ শুরু করছে। এটা দেখে রাজু মিতুর কাছে গিয়ে মিতুকে টান দিয়ে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরে বলে
-- এই মেয়ে তুমি কলেজ থেকে আমায় কিছু না বলে বাসায় চলে আসছো কেনো? জানো আমার কত চিন্তা হচ্ছিল তোমার জন্যে? আর একটু হলে প্রানটাই বেরিয়ে যেতো আমার। তোমার কি একটুও বুদ্ধি নেই?(রেগে গিয়ে কথাগুলো বললো রাজু)
মিতু রাজুর কথার কোনো উত্তর না দিয়ে বাচ্চাদের মতো করে দুই হাত দিয়ে চোখ ডলতে ডলতে কান্না করতে লাগলো। মিতুকে এভাবে কাঁদতে দেখে ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলো রাজু। তাই তারাতারি মিতুর কাছে থেকে সরে গিয়ে ওর হাত ধরে বিছানার ওপর বসিয়ে রাজু হাটু গেরে ওর সামনে বসে বলতে লাগলো
-- সরি সোনা সরি, এই কান ধরছি আর কখনো তোমায় বকা দিবো না। প্লিজ তুমি এভাবে কেদনা। আমি আসলে কলেজে তোমায় না পেয়ে খুব ঘাবড়ে গিয়ে ছিলাম তোমার চিন্তায়। আর বকা দিবো না তোমায়। প্লিজ একটু হাসো।
রাজুর কথার দিকে কান না দিয়ে মিতু চোখের ওপর থেকে হাত সরিয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বলতে লাগলো
-- আ আমি আইস্ক্রিম খাবো। সেই গত পরশু থেকে একটাও আইস্ক্রিম বা চুইংগাম খাই নি। আমি আইস্ক্রিম খাবো। ঐ কাজু ঘোলাদরি আমায় আইস্ক্রিম এনে দাও আমি আইস্ক্রিম খাবো। ঐ বজ্জাত ফ্রিজটাও ওর পেট থেকে আইস্ক্রিম বের করছে না মুখটা কেমন বুজে আছে।আমি আইস্ক্রিম খামুউউউউউউউউউউ। (শেষ কথাটা চিল্লিয়ে বললো মিতু)
মিতুর কথা শুনে রাজু ধপাত করে নিচে বসে পরে নিজের কপালে নিজেই আস্তে করে চড় মেরে বললো
-- মিতুউউ তার মানে তুমি এতক্ষণ আইস্ক্রিমের জন্যে কাঁদছিলে?
-- তা নয়তো কি, আমার আইস্ক্রিম এ্যা এ্যা এ্যা এ্যা এ্যা এ্যা,,,,,
-- প্লিজ মিতু একটু চুপ করো প্লিজ আমার কানটা ফেটে গেলো। আমি তোমায় ফ্রিজের পেট থেকে আইস্ক্রিম বের করে দিচ্ছি প্লিজ থামো।
কথাগুলো বলেই রাজু উঠে ফ্রিজের চাবি নিয়ে ফ্রিজ খুলতে যেতে যেতে মিনমিন করে বললো
-- এই মেয়ের সাথে আমিও কি আবল তাবল বলা শুরু করলাম ফ্রিজের পেট থেকে আইস্ক্রিম বের করবো। ওহ খোদা এ আমার কপালে কাকে জোটালে,,,।মনে মনে
তারপর ফ্রিজ খোলার সাথে সাথে মিতু এসে রাজুকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে বড় একটা আইস্ক্রিম এর বক্স নিয়ে বিছানায় গিয়ে বসে পরলো। তারপর তারাতারি করে বক্সটা খুলে এমন ভাবে খেতে লাগলো যেন কতদিন না খেয়ে থাকার পর কিছু খাচ্ছে। মিতুর পুরো মুখের চারি পাশ দিয়ে আইস্ক্রিম লেগে গেছে খাওয়ার সময়। একদম বাচ্চা বাচ্চা লাগছে দেখতে ওকে।
মিতুর এমন অবস্থা দেখে রাজু হা করে তাকিয়ে দেখছে আর মুখ টিপে টিপে হাসছে। মিতু আইস্ক্রিম খেতে খেতে বললো
-- ঐ কাজু ঘোলাদরি তুমি কলেজে আমার সাথে ঐ রকম আচরন করলা কেনো? তুমি জানো বাইরে কান ধরে দাড়িয়ে থাকতে থাকতে আমার পা ব্যথা হয়ে গেছে। ভেবেছিলাম তুমি বাসায় আসলে তোমাকে আমি আমার স্পেশাল খাবার গুলো রান্না করে খাওয়ামু। কিন্তু তুমি তো আমায় আইস্ক্রিম দিলা তাই আর খাওয়ামুনা যাও। (আইস্ক্রিমের দিকে তাকিয়েই কথাগিলো বললো মিতু)
মিতুর কথা শুনে রাজু অবাক হয়ে মিতুর পাশে বসে বললো
-- এটা তুমি কি বলছো চুইংগাম বেইপি? আমি তোমায় আইস্ক্রিম দিলাম বলে তুমি আমায় তোমার স্পেশাল রান্নাগুলো খাওয়াবা না? এই কথা আগে জানলে তোমায় আমি আইস্ক্রিম দিতামই না। ইশশ বউয়ের হাতের খাবারটা মিস করলাম।
রাজুর কথা শুনে মিতু কিছু বলছে না শুধু মুখ টিপে টিপে দুষ্টু হাসি হাসছে আর আইস্ক্রিম খাচ্ছে। মিতুকে হাসতে দেখে রাজু বললো
-- আমি তো জানতামই না যে তুমি রান্না বান্না জানো চুইংগাম বেইপি। আমি তোমার হাতের স্পেশাল রান্নাগুলো খেতে চাই। তুমি কি কি রান্না করতে জানো বলো আমায়?
রাজুর কথার উত্তরে মিতু কিছু বলবে তার আগেই দরজায় কড়া নেরে রাজুর আম্মু ডেকে বললো
-- খোকা এই খোকা, মিতু মামনিকে নিয়ে খেতে আয় অনেক বেলা হয়েছে তো। মিতুর মনে হয় অনেক খুদা লেগেছে। ( রাজুর রুমের দরজা হালকা খোলা থাকায় বাইরের কথা শোনা যাচ্ছিল)
রাজুর মা কথাগুলো বলেই নিচে চলে গেলো। তারপর রাজু ওয়াশরুমে ফ্রেশ হতে চলে গেলো। আর মিতু বসে বসে একই ভাবে আইস্ক্রিম খেতে লাগলো। কিছু সময় পর রাজু ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে মিতুর দিকে তাকিয়ে দেখে ও পুরো আইস্ক্রিম টা শেষ করে এখন হাত দিয়ে আইস্ক্রিমের বাটি মুছে মুছে খাচ্ছে। এটা দেখে রাজু দৌড়ে মিতুর কাছে গিয়ে বাটিটা কেরে নিয়ে বললো
-- ছিঃ চুইংগাম বেইপি কি করছো কি তুমি? এভাবে কেউ খায় নাকি, লোকে দেখলে কি বলবে বলো তো?
রাজুর কথা শুনে মিতু নাক টেনে টেনে বললো
-- ইয়ে মানে অনেক দিন পর খেলাম তো তাই মন ভরেনি এতটুকুতে। তাই চেটে খাচ্ছিলাম।(মন খারাপ করে)
-- হায় কপাল আমার এ কোন আইস্ক্রিম খাদকের পাল্লায় পরলাম আমি। এতো দেখি আমার মান সম্মান সব জলে ডোবাবে। তুমি ফ্রেশ হয়ে আসো তারপর লান্চের পর তোমায় আমি আরো আইস্ক্রিম দিবো তখন খেও। আর কখনো এভাবে আইস্ক্রিম খেতে যেনো না দেখি তোমায়।
রাজুর কথা শুনে ভালো মেয়ের মতো ওয়াশরুমে চলে গেলো মিতু। তারপর ফ্রেশ হয়ে দুজনে নিচে খেতে চলে গেলো।
খাওয়ার টেবিলে
রাজু ওর আব্বু আম্মুকে লক্ষ করে বললো
-- আব্বু আমি আগামি কাল রাতে বাসায় একটা ছোট পার্টি দিতে চাই আমার বন্ধুদের জন্যে। স্পেশালি রাসেলের জন্যে। আসলে রাসেল দেশের বাইরে থাকায় বিয়েতে ওকে ইনভাইট করতে পারিনি। ও এখন দেশে ফিরেছে তাই আমি চাচ্ছি বন্ধুদের জন্যে একটা ছোট পার্টি রাখতে। তোমরা কি বলো আম্মু আব্বু??
রাজুর কথা শুনে রাজুর আব্বু বললো
-- রাসেল দেশে ফিরেছে? অনেক দিন হলো ছেলেটাকে দেখিনা। সেই ৫ বছর আগে দেখেছিলাম। তুমি পার্টির জন্যে বন্ধুদের সাথে কথা বলো আমি সব ব্যাবস্থা করে দিচ্ছি।
-- thank you আব্বু আমি জানতাম তোমরা মানা করবে না। তাহলে আমি সব কিছুর ব্যাবস্থা করে ফেলি কি বলো?
-- হুমম কর, আর বিকেলে মিতুকে সাথে নিয়ে একটু শপিং করে আসিস কেমন?(বললো রাজুর মা)
-- ওকে মাই সুইট আম্মু।
তারপর দুপুরে খাওয়া দাওয়া শেষ করে মিতুকে নিয়ে শপিং করতে চলে গেলো রাজু। মিতুর জন্যে অনেক গুলো সুন্দর সুন্দর পোষাক কিনলো রাজু। আর একটা দামি ও অনেক সুন্দর গাউন জামা আলাদা প্যাক করে রাখলো পার্টিতে মিতুকে ওটা পড়াবে বলে। সাথে ম্যাচিং জুয়েলারি।
মিতুর জন্যে কি কি শপিং করলো রাজু মিতুর সেদিকে কোনো খেয়ালই নেই মিতু শুধু চেয়ে চেয়ে সব দেখছে। আর কি যেনো ভাবছে।তারপর শপিং করা শেষ হলে বাসায় চলে এলো ওরা।
রাতে
খাওয়া দাওয়ার পর রুমে ঘুমোতে গিয়ে রাজু দেখে মিতু বিছানায় গালে হাত দিয়ে বসে বসে কি যেনো ভাবছে। মিতুকে এমন চিন্তা করতে দেখে রাজু দরজা লাগিয়ে মিতুর পাশে বসতে বসতে বললো
-- কি এতো ভাবছো মিস চুইংগাম বেইপি? সেই শপিং মল থেকে দেখছি তুমি কেমন অন্যমানুস্ক হয়ে আছো। কি হয়েছে হুমম?
-- আচ্ছা কাজু ঘোলাদরি আমি না একটা জিনিস ভেবেই পাচ্ছি না। কলেজে যখন তুমি আমার স্যার হয়ে এলে তখন আমার সাথে কেমন পচা আচরন করলে। আর বাসায় আসার পর তুমি এতো ভালো আচরন করছো কেনো? কলেজে কি ওটা তুমিই ছিলে নাকি তোমার জমজ ভাই আছে হয়তো সে?
মিতুর কথা শুনে রাজুর অনেক হাসি পেলো। তার পরে রাজুর মাথায় একটু দুষ্টু বুদ্ধি এলো, মিতুকে সায়েস্তা করার জন্যে রাজু বললো
-- তোমাকে একটা সত্যি কথা বলি চুইংগাম বেইপি। আসলে আমি যখন কলেজে স্যার হয়ে যাই না, তখন আমার মধ্যে কলেজের একজন স্যারের ভুত এসে আক্রমণ করে। আমি তখন রাজু থাকি না তখন হয়ে যাই ঐ স্যারটা। তাই তোমায় তখন আমি চিনিনা আর ঐ রকম আচরন করি। আর কলেজ থেকে বেরুলেই আবার ঠিক হয়ে যাই আমি।
রাজুর কথা শুনে মিতু বড় বড় করে তাকিয়ে ঢোক গিলে বললো
-- তা তা তার মানে আজকে যে আমায় কান ধরিয়ে দার করে রাখছিলো ওটা তুমি ছিলে না ঐ স্যারের ভু ভুত ছিলো?
-- হুমম চুইংগাম বেইপি। তবে ভয় পেওনা ঐ ভুতটা কারো ক্ষতি করে না শুধু কথা না শুনলে পানিশমেন্ট দেয়। অনেক রাত হয়েছে এখন ঘুমাও সকালে কলেজে যেতে হবে।
রাজুর কথা শুনে মিতু আর কিছু না বলে বিছানায় শুয়ে পরলো। আর রাজু মিতুর পাশে শুতে চাইলে মিতু বললো
-- ঐ কাজু ঘোলাদরি তুমি এখানে ঘুমাচ্ছো কেনো। যাও সোফায় গিয়ে ঘুমাও এখানে আমি একা ঘুমাবো।
-- আচ্ছা ঠিক আছে ঘুমাও তুমি একা আমি সোফায় গিয়ে ঘুমাচ্ছি। পরে কিছু হলে কিন্তু আমাকে ডেকনা?
রাজুর কথা শুনে উঠে বসে মিতু বললো
-- পরে কিছু হবে মানে?
-- মানে আমাদের বাসায় না রাত যখন গভির হয় তখন ভুত প্রেত বেরিয়ে নাচানাচি করে আর কোনো মেয়েকে একা ঘুমোতে দেখলে তাকেও ওদের সাথে নাচায়। তাই তো আম্মু আব্বুকে ছারা আলাদা ঘুমোয় না। তো, তুমি তো একা ঘুমাচ্ছো এই কয়েকদিন হয়তো কিছু বলেনি আজকে কিছু বললে আমায় ডেকনা যেনো কেমন। আমি বরং সোফাতেই ঘুমাই।
রাজুর কথা শুনে মিতু বিছানা ছেরে লাফিয়ে উঠে এসে রাজুর হাত ধরে মায়া মায়া মুখ করে বললো
-- ও কাজু ঘোলাদরি আমার ভুল হয়ে গেছে তুমি বিছানায় ঘুমাবা আসো প্লিজ। আমি ভুতের সাথে নাচবো না।
-- না না আমি বরং সোফাতেই ঘুমাই তুমি যাও না যাও বিছানায় গিয়ে একা একা আরামে ঘুমাও।
-- নাআআআ, আমি একা ঘুমাতে পারবো না তুমি আসনা প্লিজ। (কান্না করে দিয়ে)
-- এই এই কাদছো কেনো চুইংগাম বেইপি, চলো আমি তোমার কাছেই ঘুমাবো।
তারপর মিতু আর রাজু এক সাথেই শুয়ে পরলো। কিন্তু কিছুটা দুরত্ব রেখে। মিতু শোয়ার সাথে সাথে ঘুমিয়ে পরলো। আর রাজু ওর ঘুমন্ত মুখটা অপলক দেখতে লাগলো আর বললো
-- সরি সোনা তোমায় মিথ্যে বলে ভয় দেখানোর জন্যে। ভয় না দেখালে যে তুমি আমায় তোমার কাছে আসতে দিতে না তাহলে আমি তোমায় এতটা কাছ থেকে দেখতাম কি করে।আমার মায়াবতী পিচ্চি পাগলী বউটাকে।(মুচকি হেসে বললো)
হঠাৎ ঘুমের মাঝে মিতু এসে রাজুকে জরিয়ে ধরে বলতে লাগলো
-- আম্মু আম্মু ভুত আমায় নিয়ে নাচাবে তুমি আমার থেকে কোথাও যেওনা প্লিজ আমায় জরিয়ে রাখো তোমার বুকে। আমি ভুতের সাথে নাচবো না।
কথাগুলো বলেই আবার রাজুর বুকে ঘুমিয়ে গেলো মিতু। মিতুর বলা কথাগুলো শুনে হাসলো রাজু। তারপর মিতুকে আরো গভির ভাবে জরিয়ে ধরে রাজুও ঘুমের দেশে পারি জমালো।
খুব সকালে ঘুম ভেঙে গেলো রাজুর। রাজু মিতুর দিকে তাকিয়ে দেখে ছোট বাচ্চাদের মতো গুটিশুটি হয়ে শুয়ে আছে ওর বুকে। রাজু একটা মুচকি হাসি দিয়ে মিতুর কপালে চুমু দিয়ে উঠে পরলো। তারপর ফ্রেশ হয়ে এসে মিতুকেও ডাকলো। মিতু উঠে ফ্রেশ হয়ে দুজন মিলে ব্রেকফাস্ট করে কলেজের জন্যে বেরিয়ে পরলো।
আজকে কলেজে আর মিতু কোনো রকম দুষ্টুমি করলো না মন দিয়ে পড়তে লাগলো। এর মাঝে রাসেল অনেক বার মিতুর সাথে কথা বলতে চাইলে মিতু ওকে এরিয়ে চললো। রাজু ক্লাশে আসলে মিতু ওকে দেখে ভয়ে ভয়ে ক্লাশ করতে লাগলো। কিন্তু মিতুর পাশের মেয়েগুলো রাজুর কাছে পড়া দেখিয়ে নেওয়ার নাম করে রাজুর সাথে হেসে হেসে কথা বলতে দেখে মিতু রাগে ফোস ফোস করতে লাগলো কিন্তু কিছু বললো না মুখে। কলেজ শেষে রাজুর সাথেই বাসায় এলো মিতু। বাসায় এসে দেখে বাসাটা অনেক সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। শুধু বন্ধুদের নিয়ে ছোট পার্টি হলেও আয়জনটা বেশ জমজমাট করেছে রাজুর বাবা। সন্ধার দিকে একে একে সব গেস্টরা আসতে লাগলো পার্টিতে। তমাও চলে এসেছে বিকেলেই। রাজুকে বিকেলের পর আর দেখেনি মিতু। হয়তো কাজে বিজি আছে। তবে বিকেলে যাওয়ার আগে মিতুর হাতে দুটা প্যাকেট ধরিয়ে দিয়ে গেছে রাজু। সেগুলো পরতে বলেছে পার্টিতে,,,,,,,
চলবে,,,,,,,,,,,,
১৮ পর্ব
লেখা--সোনালী
সন্ধার দিকে একে একে সব গেস্টরা আসতে লাগলো পার্টিতে। তমাও চলে এসেছে বিকেলেই। রাজুকে বিকেলের পর আর দেখেনি মিতু। হয়তো কাজে বিজি আছে। তবে বিকেলে যাওয়ার আগে মিতুর হাতে দুটা প্যাকেট ধরিয়ে দিয়ে গেছে রাজু। সেগুলো পরতে বলেছে পার্টিতে। মিতু প্যাকেট গুলো বিছানায় রেখে চুপ করে বসে বসে দাত দিয়ে নক কাটছে। মিতুকে এমন করতে দেখে তমা ওর পাশে এসে বললো
-- কিরে পেত্নী কি হয়েছে তোর? এভাবে বসে বসে নক খাচ্ছিস কেনো রে?
-- তো নক খাবো না তো কি খাবো হুমম তোকে খাবো নাকি। আয় আয় এদিকে আয় তোকেই খাবো শাঁকচুন্নি। (রেগে গিয়ে বললো মিতু)
মিতুর এমন কথা শুনে তমা মিতুর পাশে বসতে বসতে বললো
-- ওহ বুঝেছি বুঝেছি আমার হ্যান্ডসাম দুলাভাইয়ের পেত্নী বউটার রাগের কারন। এই নে এগুলো তোর জন্যে।(অনেকগুলো চুইংগাম এগিয়ে দিয়ে)
চুইংগামগুলো হাতে পেয়ে মিতু আনন্দে লাফিয়ে উঠলো। তারপর তমাকে জরিয়ে ধরে বলতে লাগলো
-- ওরে আমার সোনা ময়না টিয়া চরুই করুই ছরুই মরুই রে তোরে আমি এত্ত এত্ত এত্তগুলান ভালবাসি। খুশিতে ইচ্ছে করছে তোকে কুচি কুচি করে কেটে খেয়ে বুকের মাঝে লুকিয়ে রাখি। কারন তোকে আস্ত তো আর বুকের মাঝে রাখতে পারবো না যে মটকু তুই। উম্মা উম্মা উম্মাহ( তমাকে জরিয়ে ধরে কিস করতে করতে বললো মিতু)
এমন সময় রাজু রুমে আসছিলো রেডি হওয়ার জন্যে। মিতুর এমন কান্ড দেখে ও দরজায় কাছেই দাড়িয়ে গেলো আর দেখতে লাগলো।
মিতুর কথা শুনে তমা বললো
-- ঐ পেত্নী তুই আমায় এগুলো আদর করছিস নাকি মেরে ফেলার প্লান করছিস হুমম। আমায় কুচিকুচি করে কেটে তুকে কষ্ট করে বুকের মাঝে রাখতে হবে না। আমি বরং এখান থেকে পালাই তোকে দিয়ে কোনো বিশ্বাস নাই রাক্ষসী একটা।
কথাগুলো বলেই তমা রুম থেকে বেরিয়ে যেতে নিলো। আর সামনে দেখে রাজু দাড়িয়ে থেকে ওদের সিন দেখছে। রাজুকে দেখেই তমা রাজুর কাছে এগিয়ে গিয়ে বললো
-- দুলাভাই আপনি এই এলিয়েন টাকে কি করে সামলান বলুন তো? এটা তো আস্ত একটা রাক্ষসী এলিয়েন। উফ জ্বালিয়ে মারে সব সময়।
-- এই শালীকা তোমার তো সাহস কম নয় হুমম তুমি আমার সামনে আমার বউকে বকা দিচ্ছো? যাও তুমি নিচে যাও আমি মিতুর সাথে একটু কথা বলে আসছি।
রাজুর কথা শুনে তমা হাসতে হাসতে বললো
-- বাব্বাহ এই এলিয়েনটার জন্যে আমাদের দুলাভাইয়ের কি দরদ গো। যাচ্ছি যাচ্ছি আমিও আপনাদের মাঝে কাবাব মে হাড্ডি হতে চাই না।
কথাগুলো বলেই নিচে চলে গেলো তমা। আর রাজু রুমে ঢুকে দরজাটা হালকা চাপিয়ে দিয়ে মিতুর কাছে গিয়ে বললো
-- কি ব্যাপার চুইংগাম বেইপি তুমি এমন কেনো? কালকে আমি তোমায় কত বড় আইস্ক্রিম দিলাম কই তুমি তো আমাকে ওভাবে একবারো বললা না? আর কয়েকটা চুইংগাম পেয়ে তমাকে তো অনেক আদর করলে। এটা কিন্তু ঠিক হলো না চুইংগাম বেইপি।(মন খারাপের অভিনয় করে)
রাজু বক বক করে যাচ্ছে মিতুর সেদিকে কোনো খেয়ালই নেই সে চুইংগাম খেতে ব্যস্ত। মিতুর কোনো সারা না পেয়ে রাজু বললো
-- আমিও না একটা যা তা। কাকে যে কি বলছি ইনি তো এখন চুইংগামের মাঝে ডুব দিয়েছেন। এখন একে কিছু বলাই বৃথা।
কথাগুলো বলে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেরে রাজু ফ্রেশ হতে ওয়াশরুমে ঢুকে গেলো। একটু পর ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে সাদা প্যান্ট সাদা কোর্টের নিচে গোল্ডেন শার্ট পড়ে নিলো। সাথে হাতে দামি ওয়াচ চুল গুলো স্পাইক করা খোঁচা খোঁচা দাড়ি। একদম অসাধারন লুক। রেডি হয়ে মিতুর সামনে এসে মিতুকে ডেকে রাজু বলল
-- চুইংগাম বেইপি অনেক চুইংগাম খেয়েছো এখন তারাতারি রেডি হয়ে নিচে আসো। আমি তমাকে পাঠিয়ে দিচ্ছি সব গেস্টরা এসে গেছে হয়তো।
রাজুর কথা শুনে মিতু চুইংগামের দিক থেকে চোখ সরিয়ে রাজুর দিকে তাকালো। আর ওমনি ওর মুখ থেকে চুইংগামটা নিচে পরে গেলো। একদম হা করে তাকিয়ে রইলো রাজুর দিকে। রাজুকে একদম রাজকুমার লাগছে এই লুকে। এমনিতেই রাজু বেশ ফর্সা আর বডিবিল্ডারও বটে। এই লুকে যেনো কোনো হিড়োকেও হার মানায়। মিতুকে এমন হা করে তাকিয়ে থাকতে দেখে রাজু বললো
-- এই মিস চুইংগাম বেইপি আপনার মুখটা একটু বন্ধ করেন প্লিজ নইলে মশা ঢুকে যাবে। আর আমার নজর লেগে যাবে। (লজ্জা পাওয়ার ভান করে বললো রাজু)
রাজুর কথা শুনে মিতু কিছুটা লজ্জা পেয়ে গেলো, তাই তারাতারি উঠে ওয়াশরুমে চলে গেলো কোনো কথা না বলে। মিতুকে লজ্জা পেতে দেখে মুচকি হেসে রাজু বললো
-- আমার চুইংগাম বেইপিটা মনে হয় একটুখানি আমার প্রেমে পরে গেছে। এখন শুধু ওর মুখ থেকে সেটা শোনার অপেক্ষা।
কথাগুলো বলেই হাসতে হাসতে নিচে চলে গেলো রাজু। আর তমাকে পাঠিয়ে দিলো ওপরে মিতুকে রেডি করতে হেল্প করতে।
তমা রুমে এসে দেখে মিতু ফ্রেশ হয়ে এসে তয়লা দিয়ে হাত মুখ মুচ্ছে। তারপর তয়লা রেখে রাজুর দেওয়া প্যাকেট দুটো খুললো মিতু। একটা প্যাকেটে অনেক সুন্দর সাদা রঙের একটা গাউন জামা গোল্ডেন কালার পাথড় দিয়ে কারুকাজ করা। আর একটাতে মেচিং করা জুয়েলারি। গাউনটা হাতে নিয়েই মিতু আর তমা এক সাথে বলে উঠলো "ওয়াও"। তারপর মিতু তারাতারি গাউনটা পড়ে নিলো। তমা মিতুকে অনেক সুন্দর করে সাজাতে লাগলো। চোখে গারো করে কাজল, ঠোটে গোল্ডেন লিপস্টিক, গলায় গোল্ডের সাদা পাথড় বসানো নেকলেস, কানে নেকলেসের সাথে ম্যাচিং করা ছোট ঝুমকা, আর চুলগুলো একটু উচু করে ছেরে দেওয়া। তার মাঝে একটা পাথড়ের মুকুট। সাজানো কম্প্লিট হলে তমা মিতুকে দেখে বলে উঠলো
-- মাশাআল্লাহ, মিতু তোকে তো একদম প্রিন্সেস ডলের মতো লাগছে। একদম পুতুল পুতুল। আজকে তো দুলাভাই তোকে এই রুপে দেখে হার্ট এটাক করবে রে।
তমার কথায় মিতু কিছুটা লজ্জা পেলো। তারপর নিজেকে আয়নায় দেখে লজ্জায় অন্য দিকে ঘুরে বসলো। মিতুলে লজ্জা পেতে দেখে তমা বললো
-- এএএ বাবা মিতু তুই আবার লজ্জাও পাস? আমি এ কোন মিতুকে দেখছি রে? আমার বেষ্টু মিতু তো লজ্জা কি জিনিস জানতোই না।
তমার কথা শুনে মিতু রাগ দেখিয়ে বললো
-- ঐ পেত্নী তোর বকর বকর শেষ হয়ে থাকলে চল নিচে যাই। আমার দিকে আর নজর দিতে হবে না তোকে।
মিতুর কথা শুনে তমা কিছু না বলে হাসতে লাগলো। তারপর দুজন নিচে আসার জন্যে পা বারালো।
এদিকে
রাজু নিচে ওর বন্ধুদের কাছে আসতেই রাজুর বন্ধুরা রাজুকে দেখে বললো
-- ওয়াও দোস্ত তোকে কি লাগছে রে, একদম হিড়ো? দেখিস তোর এই লুক দেখে আমাদের ভাবিজান যেনো বেহুশ হয়ে পরে না যায়। (বললো রাজুর বন্ধু শুভ)
-- আচ্ছা দোস্ত তোকে যেমন হ্যান্ডসাম দেখতে তোর সাথে তো যাকে তাকে মানাবেনা। তো আমাদের ভাবিকে কেমন দেখতে রে? তাকে কি তোর পাশে মানায়?(বললো রাজুর আরেক বন্ধু রনি)
-- আরে আরে তোরা কি শুরু করলি বলতো। একটু ওয়েট কর তারপর তো তোদের ভাবিকে দেখবি। ও কিচ্ছুক্ষণের মাঝেই চলে আসবে। আচ্ছা তোরা সবাই চলে আসছিস কিন্তু রাসেল কোথায় ও এখনো আসেনি?
-- এই তো আমি এসে গেছি দোস্ত। সরি রে একটু লেট হয়ে গেলো,আসলে আব্বুর সাথে একটু হিসাবের কাজ করছিলাম। (কথাগুলো বলতে বলতে রাজুকে জরিয়ে ধরলো রাসেল)
-- ওকে দোস্ত সমস্যা নাই। তোরা বোস আমি দেখে আসি তোদের ভাবি আসছে কি না?
রাজু কথাটা বলার সাথে সাথে পিছন থেকে শুভ আর রনি এক সাথে বলে উঠলো
-- ওয়াও,,,
ওদের মুখে ওয়াও শুনে রাজু আর রাসেল ওদের দিকে তাকিয়ে দেখে ওরা সিরির দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। রনি আর শুভর তাকানো দেখে রাসেল আর রাজুও সিরির দিকে তাকায়। সিরি দিয়ে মিতুকে নিয়ে তমা নিচে নেমে আসছে। দেখে মনে হচ্ছে যেনো কোনো রাজ্যের রাজকুমারী। রাজু আর রাসেল দুজনেরই যেনো আর কোনো দিকে খেয়ালই নেই। ওরা মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে আছে মিতুর দিকে। রাজুকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে রনি ওকে হালকা গুতো দিয়ে বললো
-- কি রে দোস্ত এটা কে রে? এটাই কি আমাদের ভাবিজান নাকি?
রনির কথায় হুশ ফিরলো রাজুর। রাজু মুচকি হেসে বললো
-- হুমম দোস্ত এটাই তোদের ভাবি আর আমার রাজকুমারী মিতু।
রাজুর মুখে মিতুর কথা শুনেই হাত থেকে ফুলের তোড়াটা নিচে পরে গেলো রাসেলের। চোখ দুটো লাল হয়ে গেলো প্রচন্ড রাগে। কিন্তু পরক্ষনেই কিছু একটা ভেবে নিজেকে শান্ত করলো রাসেল। আর যতটা সম্ভব স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করলো। রাজু আর দেরি না করে মিতুর সামনে এগিয়ে গিয়ে হাত বাড়িয়ে দিলো মিতুর দিকে। মিতু কিছু না ভেবেই রাজুর হাতে নিজের হাতটা রাখলো। রাজু মিতুর হাত ধরে বন্ধুদের সামনে এনে একে একে সকলের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে লাগলো। মিতু সবার সাথেই বেশ হেসে হেসে মিষ্টি করে কথা বলছে। একটুও বাচ্চামো করছে না আজ।ওকে দেখে মনেই হচ্ছে না ও এমন দুষ্টু একটা মেয়ে।
সবার সাথে পরিচয় করানোর পর রাসেলের সাথে মিতুকে পরিচয় করিয়ে দিলো রাজু
-- রাসেল দোস্ত এটা তোর ভাবি মিতু। আর মিতু এটা হলো আমার সব চাইতে কাছের বেস্টফ্রেন্ড রাসেল।
মিতু রাসেলকে দেখে বললো
-- হুমম আমি এনাকে চিনি ইনি তো তমার ভাই হয়।
-- হ্যা মিতু ঠিকি বলেছে।রাসেল ভাইয়া আমার ফুফাতো ভাই হয়। (পাস থেকে বললো তমা)
কারো কথার দিকে রাসেলের কোনো খেয়াল নেই, মিতুর বিয়ে হয়ে গেছে শুনে মনে মনে রাগে শুধু ফুসছে রাসেল। রাসেলকে চুপ থাকতে দেখে রাজু বললো
-- কি রে দোস্ত তুই আমায় আগে বলিস নি?যে তমা তোর বোন হয় আর তুই তমা আর মিতুকে আগে থেকেই চিনিস?
রাজুর কথায় ধ্যান ভাঙে রাসেলের ও নিজেকে সামলে নিয়ে নিচ থেকে ফুলের তোড়াটা উঠিয়ে বলে
-- আমি জানতাম নাকি যে মিতুর বিয়ে হয়ে গেছে তোর সাথে? জানলে তো বোলতাম?
-- হ্যা তাও ঠিক, আচ্ছা চল ঐ দিকে যাওয়া যাক।
-- ওয়েট রাজু, মিতু এটা তোমার জন্যে। বিবাহিত জীবনে সুখি হও তোমরা। (ফুলের তোড়াটা মিতুর দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো রাসেল)
মিতু হাসি মুখে রাসেলের দিকে তাকিয়ে ফুলটা নিতে গিয়ে খেয়াল করে রাসেলের চোখ যেনো কেমন দেখাচ্ছে। মনে হচ্ছে চোখের মাঝে আগুন জ্বলছে কোনো রাগে। আর মুখে জোর করে হাসি ফুটিয়ে আছে। মিতু রাসেলের হাত থেকে ফুলের তোড়াটা নেওয়ার সময় রাসেল মিতুর হাতটায় কেমন রাগ নিয়ে স্পর্শ করে। মিতু কিছুটা ব্যথা পেয়েও কিছু বলে না। তবে ওর যেনো কেমন অসস্তি হতে থাকে। মিতু সেদিকে পাত্তা না দিয়ে রাজুর সাথে সামনে এগিয়ে যায়। সাথে রাসেলও আসে। গেস্টদের সবাইকে না না রকম ড্রিংকস দেওয়া হয়। ঠিক সেই সময় রাসেল শয়তানি করে সবার আরালে রাজুর ড্রিংকসে নেশার ট্যাবলেট দিয়ে দেয়। কারন রাসেল জানে মিতু কোনো রকম নেশা করা একদম পছন্দ করে না। তারপর রাসেলও রাজুদের পাশে গিয়ে দাড়ায়।
একটু পর সবাইকে শরবত দেওয়ার সময় রাজুর জন্যে রাখা গ্লাসটা মিতু তুলে নেয়। এটা দেখে রাসেল প্রথমে একটু ঘাবড়ে যায়। পরে আবার মনে মনে খুশি হয় এটা ভেবে যে মিতু মাতাল হয়ে উল্টাপাল্টা কিছু করবে আর রাজু যেমন রাগি ছেলে সে নিশ্চই মিতুকে ছেরে দেবে।
সবার সাথে কথা বলতে বলতে মিতু এক চুমুকে সব খানি শরবত খেয়ে নেয়। খাওয়ার একটু পরেই মিতু সবার সামনে হা হা করে হাসতে থাকে আর হেলে দুলে হাটতে হাটতে গান ধরে
পাগলু থোরাছা কারলে রোমান্স,
হিহি, পাগলু থোরাসা কারলে রোমান্স,
মিতুর এমন আচরনে রাজু সহ বাকি সবাই অবাক হয়ে যায়। রাজু রাগ করে মিতুর কাছে এগিয়ে এসে মিতুর হাত ধরে বলে
-- মিতু এসব কি, হচ্ছে টা কি। তুমি সবার সামনে এমন বিহেভ করছো কেনো? আর ইউ ম্যাড ড্যামেট?
-- হিহিহিহি ঐ মিত্তার কাদু গোলাদুলি তোকে আমি শরবত বানাই কামুউউউউউউউউউউ। আমাল সাথে রাগ করিস ক্যান তুই হিহিহি। দেখ আমি পরী হয়ে কেমন আকাশে উরছিইইইইই। (হাত দিয়ে পেখম মেলার ভান করে বললো মিতু)
মিতুর এমন আচরনে রাজু বুঝতে পারলো মিতুর নেশা হয়েছে। ও নিশ্চই নেশা জাতিও কিছু খেয়েছে। কিন্তু পার্টির কোনো ডিংকসে তো নেশা হওয়ার মতো কিছু ছিলো না? তাহলে নেশা হলো কেনো?
-- ঐ কাজু ঘুলাদরি কি ভাবছিস হুমম আমার সাথে আকাশে উরবি আয় আয়। হিহিহিহি
রাজু আর কিছু না ভেবে মিতুকে কোলে তুলে নিলো। তারপর বন্ধুদের বললো
-- তোরা সবাই পার্টি ইনজয় কর আমি আসছি।
কথাগুলো বলেই আর এক মুহুর্ত না দাড়িয়ে মিতুকে কোলে নিয়ে উপরে চলে গেলো রাজু। আর রাসেল এদিকে রাগে চোখ মুখ লাল করে কাউকে কিছু না বলেই চলে গেলো পার্টি থেকে।
মিতুকে রুমে এনে দরজা লাগিয়ে দিলো রাজু। তারপর মিতুকে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে যখনি রাজু সরতে যাবে তখনি মিতু রাজুর হাত ধরে বিছানায় বসিয়ে ওর কোলে উঠে বললো
-- ঐ কাজু ঘোলাদরি তুমি কোথায় পালাচ্ছো হুমম। আমি তোমায় কোথাও যেতে দিবো না। আমায় এভাবে কোলে নিয়ে গল্প শোনাও তারাতারি। আমি গল্প শুনমুউউউ।(রাজুর গলা জরিয়ে ধরে)
-- ইশশ মিতু কি হচ্ছে টা কি হুমম। নামো আমার কোল থেকে। (রাগ করার ভাব করে বললো রাজু)
রাজুকে রাগ করতে দেখে খিলখিলিয়ে হেসে দিলো মিতু। তারপর বললো
-- ঐ বজ্জাত কাজু ঘোলাদরি তুমি একটা কথা জানো? তুমি যখন এমন রেগে কথা বলো না, আমার সাথে। তখন তোমার গালটা একদম পাকা টমেটোর মতো লাল হয়ে যায় ইচ্ছা করে গাপুসগুপুস করে খেয়ে ফেলি। হিহিহি, আমি এখন পাকা টমেটো খামুউউউউউউউউউউ। আয় আয় টমেটু এদিকে আয় তোরে খামু। (জ্বিভেয় বের করে)
মিতুর এমন পাগলামো দেখে খুব হাসি পাচ্ছে রাজুর। তবুও নিজের হাসিটাকে লুকিয়ে রাজু বললো
-- রাক্ষসী নাকি তুমি যে আমায় খেতে চাও। নামো বলছি নামো আর কোল থেকে।
-- উহুমম আমি তো নামবো না। তুমি জানো কাজু ঘোলাদরি তুমি যখন আমার ওপর রাগ করো না তখন আমার খারাপ লাগে না কিন্তু একটা সময় খুব খারাপ লাগে তখন ইচ্ছে করে তোমারে কুচি কুচি করে কেটে সমুদ্রে ফেলে দেই ইদুরে খাবে।
-- এ্যা, সমুদ্রে ফেলে দিলে ইদুর কি করে খাবে?
-- তুমি তো দেখি কিচ্ছু জানোনা। ইদুর তো সমুদ্রেই থাকে। আর মাছ থাকে মাটির নিচে ইদুরের বাসায়। ওরা তো বাসা চেন্জ করছে।
মিতুর কথা শুনে এবার হো হো করে হেসে দিলো রাজু। রাজুর হাসি দেখে মিতু রাজুর নাকটা ধরে বললো
-- জানো কাজু ঘোলাদরি তুমি যখন হাসো না তখন তোমায় অন্নেক কিউট লাগে তোমার এই তিরের মতো নাকটাকে দেখে ইচ্ছে করে কামড়ে কচকচ করে খেয়ে ফেলি। ইয়ামিইইই
-- তোমার আর কি কি খেতে ইচ্ছে করে আমার বলোতো শুনি?
-- তোমাকে একটা সিংক্রেট বলি কানটা এদিকে আনো। (ফিসফিস করে বললো মিতু)
রাজু মিতুর দিকে কান এগিয়ে দিলে মিতু আস্তে করে বললো
-- কাল সকালে যখন তুমি আমার কপালে কিস করে ছিলে না আমি বুঝে ছিলাম কিন্তু তোমায় বলিনি। আমার না খুব ভালো লাগছিলো তখন। তুমি যেনো তোমাকে এই কথা বলো না এটা কিন্তু সিংক্রেট।
কথাটা বলেই আবার কাঁদতে শুরু করলো মিতু। মিতুকে কাদতে দেখে রাজু বললো
কি হলো আবার কাদছো কেনো চুইংগাম বেইপি?
-- তুমি কলেজে ঐ শাঁকচুন্নি গুলোকে পড়া বুঝিয়ে দাও কেনো? ওদের সাথে হেসে হেসে কথা বলো কেনো। আমার খুব রাগ আর কষ্ট হয় তখন।
মিতুর কথা শুনে রাজু অবাক হয়ে বললো
-- কেনো কষ্ট হয় তোমার আমি অন্য মেয়ের সাথে কথা বললে?
-- কারন আমি আমার কাজু ঘোলাদরিরে অনেক অনেক(চোখ বন্ধ করে ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে)
-- অনেক কি বলো মিতু অনেক কি?
ততক্ষণে মিতু রাজুর বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে গেছে। রাজু মিতুকে পরম যত্নে বিছানায় শুইয়ে দিলো। তারপর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো
-- আমার চুইংগাম বেইপি তাহলে আমায় ভালবাসতে শুরু করেছে। আজকে হয়তো তোমার মুখ থেকে এই কথাটা শুনতে পারলাম না। কিন্তু তুমি খুব তারাতারিই বলবে আমায় এখন শুধু সেই দিনের অপেক্ষা।
তারপর মিতুর কপালে চুমু দিয়ে নিচে চলে এলো রাজু। নিচে এসে দেখে সবাই আছে কিন্তু রাসেল নাই। রাজু সবাইকে জিগ্যেস করলে কেউ কিছু বলতে পারলো না। তাই রাজু রাসেলকে কল দিলো। কয়েকবার কল বাজার পর রাসেল কল ধরে বললো ওর বাবার একটা দরকারি ফোন পেয়ে চলে এসেছে ও অন্য সময় আবার আসবে। কথাটা বলেই ফোন কেটে দিলো রাসেল। তারপর সামনে থাকা আয়নায় জোরে ঘুশি দিয়ে ভেঙে ফেললো আয়নাটা। আর চিবিয়ে চিবিয়ে বলতে লাগলো
-- মিতু আমি তোমাকে অন্য কারো হতে দিবো না। তুমি শুধু আমার। তোমার পাশে অন্য কাউকে সহ্য করতে পারবো না আমি। তোমাদের বিবাহিত জীবন আমি নরক বানিয়ে ছারবো। তুমি শুধু আমার আমার আমার,,,,
চলবে,,,,,,
১৯+২০ পর্ব
লেখা--সোনালী
মিতু আমি তোমাকে অন্য কারো হতে দিবো না। তুমি শুধু আমার। তোমার পাশে অন্য কাউকে সহ্য করতে পারবো না আমি। তোমাদের বিবাহিত জীবন আমি নরক বানিয়ে ছারবো। তুমি শুধু আমার আমার আমার।
কথাগুলো বলেই টেবিলের ওপর খুব জোরে ঘুশি মারলো রাসেল। সাথে সাথে টেবিলে থাকা গ্লাসের ওপর ঘুশি লেগে ঝনঝন শব্দে ভেঙে গেলো গ্লাসটা আর রাসেলের হাতের মধ্যে কয়েক টুকরা কাঁচ ঢুকে গলগলিয়ে রক্ত পরতে লাগলো। রাসেলের সেদিকে কোনো খেয়াল নেই ওর চোখ দিয়ে যেনো আগুন বের হচ্ছে। ওর মিতুকে চাই চাই যে কোনো মুল্যেই হোক না কেনো।
রাসেলের রুমের শব্দ শুনে ওর মা দৌড়ে এসে দেখে রাসেল নিচে বসে খাটের সাথে হেলান দিয়ে আছে। আর ওর হাত দিয়ে গল গলিয়ে রক্ত পরছে। রাসেলের মা তারাতারি এসে রাসেলের হাত ধরে চিৎকার করে বলতে লাগে
-- এসব কি করেছিস রাসেল, কেন করলি এমন, বাবা কি হয়েছে তোর। ওগো রাসেলের আব্বু কই তুমি তারাতারি এসো রাসেলকে হাসপাতালে নিতে হবে, রক্ত যে বন্ধই হচ্ছে না।
রাসেলের মায়ের ডাক শুনে রাসেলের বাবা রাসেলের রুমে এসে একমাত্র ছেলের এমন অবস্থা দেখে বলে ওঠে
-- কি হয়ছে রাসেলের ওর হাত এভাবে কাটলো কি করে আর রুমের জিনিসগুলো এমন অবস্থা কেনো?
-- ওসব কথা বাদ দিয়ে তুমি আগে তারাতারি ওকে হসপিটালে নিয়ে চলো রাসেলের আব্বু ওর হাতের রক্ত পড়া যে বন্ধ হচ্ছে না।
রাসেলের আব্বু তারাতারি ডাক্তার কে কল করে বাসায় আসতে বললো। ডাক্তার এসে রাসেলের হাতের কাচ বের করে ব্যান্ডেজ করে দিয়ে চলে গেলো। রাসেলকে অনেক বার জিগ্যেস করার পরেও ও কিছুই বললো না কেনো এমন করেছে।
পার্টি শেষ করে সবাই যে যার বাসায় ফিরে গেলো। আর রাজু নিজের রুমে এসে কাপড় পাল্টে ফ্রেশ হয়ে মিতুর কাছে এসে মিতুকে বুকের মাঝে জরিয়ে নিয়ে ঘুমিয়ে পরলো।
সকাল ৮.০০টায় ঘুম ভাঙলো মিতুর। ঘুম থেকে উঠে আসে পাসে তাকিয়ে দেখলো ও নিজের রুমের বিছানায় ঘুমিয়ে আছে। রুমে মিতু ছারা আর কেউ নাই। রাতে কি হয়েছিলো কিছু মনে পরছে না মিতুর। মাথাটা বড্ড ব্যথা করছে ওর। মিতু বিছানা ছেরে উঠে বসলো মাথায় হাত দিয়ে ধরে আছে ব্যথায়। রাজু এসে দেখে মিতু উঠে মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে। রাজু মিতুর জন্যে আদা চা নিয়ে এসেছে। মিতুর কাছে বসে চায়ের কাপটা এগিয়ে দিয়ে রাজু বললো
-- চা টা খেয়ে নাও মিতু মাথা ব্যাথা কমে যাবে।
রাজুর কথা শুনে চায়ের কাপ টা হাতে নিয়ে মিতু বললো
-- কালকে আমার কি হয়েছিল কাজু ঘোলাদরি? আমি রুমে এলাম কখন আমিতো পার্টিতে সবার সাথেই ছিলাম। তারপর ঐ সরবতটা খেলাম তারপর তারপর আর মনে পরছে না কেনো?
-- এতো কিছু ভাবতে হবে না তোমায় চা টা গরম গরম খাও ঠান্ডা হলে উপকারে আসবে না। আর ফ্রেশ হয়ে কাপড় পাল্টে নিচে আসো ব্রেকফাস্ট করবে।
কথাগুলো বলেই রুম থেকে বেরিয়ে গেলো রাজু। মিতু আর কোনো কিছু না ভেবে ভালো মেয়ের মতো চা টা শেষ করে কাপড় নিয়ে ফ্রেশ হতে চলে গেলো। ফ্রেশ হয়ে এসে নিচে নেমে গেলো মিতু। মিতুকে আসতে দেখে মিতুর শাশুড়ি কাছে এগিয়ে এসে বললো
-- এখন শরীর কেমন লাগছে মামনি?
-- ভাল লাগছে আম্মু। (মুচকি হেসে)
-- আলহামদুলিল্লাহ, যাও ব্রেকফাস্ট করে নাও মামনি আমি একটু কিচেন থেকে আসছি।
মিতুর শাশুড়ি চলে যেতেই মিতু টেবিলে এসে বসলো। রাজু বসে খবরেরকাগজ পরছিলো, মিতুকে দেখে কাগজটা শরিয়ে রেখে বললো
-- এখন কেমন লাগছে শরীর তোমার?
-- হুম ভালো।
-- আচ্ছা মিতু কালকে তুমি পার্টিতে কি খেয়েছিলে বলো তো?
-- আমি তো ঐ সরবতটা ছারা কিছুই খাইনি কাল পার্টিতে?কেনো কি হয়েছিলো আমার?(মায়া মায়া মুখ করে)
-- নাহ তেমন কিছু না এমনিই বললাম। তুমি খেয়ে নাও কলেজের সময় হয়ে যাচ্ছে।
রাজুর কথা শুনে মিতু আর কথা বারালো না চটপট খেতে শুরু করলো।
খাওয়া শেষ করে রুমে গিয়ে কলেজের জন্যে রেডি হচ্ছে মিতু, একটু পর রাজুও রুমে আসলো। দরজার কাছে আসতেই দেখলো মিতু আয়নার সামনে দাড়িয়ে চুল আচরাচ্ছে। অসম্ভব সুন্দর লাগছে মিতুকে। মিতু কালো রঙের একটা সালোয়ার কামিজ পড়েছে, সাথে কানে কালো পাথড়ের ঝুমকা, ঠোটে হালকা গোলাপি লিপস্টিক, চোখে চিকন করে কাজল আর হাতে কালো ব্রেসলেট।
মিতু এমনিতেই দুধে আলতা ফর্সা। তারওপর আবার এমন কালো জামা পড়ায় ওর উজ্জ্বলতা যেনো বহু গুন বেরে গেছে। রাজু অপলক তাকিয়ে আছে তার চুইংগাম বেইপির দিকে। হঠাৎ মিতু চুল আচরাতে আচরাতে দরজার দিকে তাকিয়ে দেখে রাজু দরজার সাথে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে ওর দিকে হা করে তাকিয়ে আছে।
রাজুকে এ ভাবে দাড়িয়ে থাকতে দেখে রাজুর কাছে এগিয়ে গিয়ে মিতু ভ্রু কুচকে বলে
-- ঐ বজ্জাত লুচু কাজু ঘোলাদরি তুমি এমন করে আমার দিকে তাকিয়ে আছো কেনো? যে ভাবে হা করে আছো মুখে তো হেলিকাপ্টার ঢুকে যাবে। আমায় কি এর আগে কখনো দেখনি নাকি নাইজেরিয়ার ভাল্লুক?
মিতুর কথায় ধ্যান ভাঙে রাজুর। রাজু কিছু না বলে মিতুর দিকে এগুতে থাকে। মিতু রাজুর এভাবে এগিয়ে আসা দেখে এক পা এক পা করে পিছুতে থাকে আর বলতে থাকে
-- ঐ কাজু ঘোলাদরি, খাটাশ, বনমানুষ, জ্যান্দর, বান্দর, ফকির, পটল কুমার, আলুর বস্তা তু তুমি আ আমার দিকে এ এভাবে এগিয়ে আসছো কেনো, ভা ভালো হচ্ছে না বলে দিলাম। আমি কি কিন্তু চেঁচাবো সরো আমার সামনে থেকে।( ভয়ে পিছুতে পিছুতে তুতলিয়ে বললো মিতু)
কথাগুলো বলতে বলতে মিতু গিয়ে আলমারির সাথে ঠেকে গেলো। আর রাজু ওর খুব কাছে চলে গেলো। মিতু রাজুকে এতো কাছে আসতে দেখে চোখ বন্ধ করে ফেললো। একটু পর রাজু বলে উঠলো
-- বলছি যে চুইংগাম বেইপি তুমি কি এভাবেই ট্যাচু হয়ে দাড়িয়ে থাকবে নাকি কলেজের জন্যে বেরোবেও?
রাজুর কথা শুনে চোখ খুললো মিতু। আর দেখলো রাজু আলমারি থেকে কাপড় বের করে খাটের ওপর রেখে তাওয়াল নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকছে ফ্রেশ হতে। মিতু রাজুর দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে গেলো ও কি ভেবেছিলো আর এটা কি হলো?
রাজু মিতুর মুখ দেখে ডেভিল হাসি দিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেলো। আর মিতু মনে মনে বলতে লাগলো
-- ইশশ মিতু কি হয়েছে কি তোর? তুই হঠাৎ এমন বদলে গেলি কেনো বলতো? ঐ আফ্রিকার বান্দরকে দেখে ভয়ই বা পাচ্ছিলি কেনো। ও কোথাকার কোন হনুমান যে ওকে দেখে ভয় পেতে হবে? তুই তো আগের মতো ঝগড়াও করছিস না। বরং ঐ কাজু ঘোলাদরি যা যা বলছে তুই সব শুনছিস। এই তুই আবার ঐ আফ্রিকার বান্দরটার প্রেমে ট্রেমে পরিস নিতো? ইম্পসিবল, একে বারেই ইম্পসিবল। এটা হতেই পারে না।(পুরো কথা মনে মনে বলে শেষের কথাটা জোরে করে বলে উঠলো মিতু)
মিতুর চিৎকার শুনে রাজু ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে বললো
-- এই মেয়ে কি সমস্যা কি তোমার হুমম। সব সময় এমন মুরগির মতো চেচাও কেনো?(রাগি গলায় বললো রাজু)
-- ঐ কান কাটা হনুমান, লেজ কাটা টিকটিকি, নাক বোঁচা পেচা, কান খারা হাতি, আফ্রিকার জঙ্গলের ধলা বান্দর তুই আমারে ধমক দিলি কোন সাহসে। কেরে তুই যে আমারে সব সময় ধমকাবি যা ইচ্ছা তাই বলবি আর আমি সব শুনবো। তোকে তো আমি,,,, (কথাগুলো বলে রাজুর দিকে এগিয়ে আসছিলো মিতু।) মিতুকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে মিতুর হাত ধরে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরলো রাজু। তারপর দাতে দাত চেপে বললো
-- এই মেয়ে তোমার সাহস কি করে হয় এই রাজু চৌধুরীর সাথে এভাবে কথা বলার? আর কখনো যদি তোমার মুখে এসব ভাষা শুনি না তখন আমার চাইতে খারাপ আর কেউ হবে না। কি ভাবো তুমি নিজেকে? সেই বিয়ের দিন থেকে তোমায় সহ্য করে যাচ্ছি তাই বলে মাথায় উঠে বসবে নাকি? এর পর এমন ভাষা শুনলে খুব খারাপ হয়ে যাবে বলে দিলাম।
রাজুর কথাগুলো এতক্ষণ বড় বড় করে রাজুর দিকে তাকিয়ে শুনছিলো মিতু। রাজু কথাগুলো বলে মিতুকে ছেরে দিতেই মিতু হা হা করে হাসতে লাগলো। হাসতে হাসতে খাটে শুয়ে পরলো। মিতুকে এভাবে হাসতে দেখে রাজু ভ্রু কুচকে তাকিয়ে বললো
-- এই মেয়ে পাগল হলে নাকি হুমম? এভাবে পাগলের মতো হাসছো কেনো তুমি?
রাজুর কথা শুনে হাসতে হাসতে বললো মিতু
-- তো হাসবো না তো কি করবো মিস্টার কাজু ঘোলাদরি। পাগল তো আমি হইনি পাগল তো তুমি। আমি কখন তোমার মাথায় উঠলাম? তোমার মাথা কি চেয়ার নাকি যে আমি সেখানে উঠে বোসবো?
কথাগুলো বলেই আবার হো হো করে হাসতে লাগলো মিতু। মিতুর কথা শুনে নিজের কপালে থাপ্পাড় মেরে রাজু বললো
-- হায় কপাল আমার আমি তো ভুলেই গেছিলাম এটা তো মানুষ না আস্ত একটা মাথা ধরার মেশিন। এর সাথে কথা বললে আমি সত্যিই পাগল হয়ে যাবো।
তারপর রাজু গম্ভীর কন্ঠে মিতুকে বললো
-- কলেজের দেরি হয়ে যাচ্ছে তারাতারি আমার সাথে কলেজে গিয়ে আমায় একটু দয়া করেন ম্যাডাম। (কথা বলতে বলতে রেডি হয়ে বললো রাজু)
রাজুর কথা শুনে হাসি থামিয়ে উঠে বসে মিতু বললো
-- যথা আগ্গা বৎস। আমি এক্ষুনি আসিতেছি তোমার লগে।
কথাটা বলেই ফিক করে হেসে দিলো মিতু। মিতুর কথা শুনে রাজু নিজের কপালে দুইলা চর মেরে রুম থেকে বেরিয়ে যায়। রাজুর পিছু পিছু মিতুও যায়।
কলেজে পৌছাতেই তমা এসে জরিয়ে ধরে মিতুকে। তারপর জিগ্যেস করে
-- কিরে তিতু আজকে এতো দেরি করলি ক্যান আসতে? কালকের পার্টির ঝোকটা এখনো কাটেনি বুঝি?(ভ্রু নাচিয়ে জিগ্যেস করলো তমা)
-- ঐ কুত্তি, বান্দরনি, হনুমানের বউ কিসের পার্টির ঝোক রে? কালকে পার্টিতে কি হয়েছিল কিছুই মনে নেই আমার।
-- মনে থাকবে কি করে তুই যা করলি পার্টিতে হা হা হা।তারপর আবার বরের কোলে করে,,,,, হিহিহি। (কথা গুলো বাকা হাসি হাসতে লাগলো তমা)
তমাকে হাসতে দেখে খুব রাগ হতে লাগলো মিতুর আর বললো
-- ঐ তালগাছের ডাকিনী, বটগাছের পেত্নী, সুপারি গাছের মেছো ভুত্নী দাত ক্যালাবি না কইলাম। কালকে কি হয়েছিলো পার্টিতে সেটা বল?
-- কেনো রে তিতু তোর কি সত্যিই কিছু মনে নেই?
-- ঐ শাঁকচুন্নি মনে থাকলে কি আর আমি তোকে জিগ্যেস করছি?(রাগি গলায় বললো মিতু)
মিতুর কথা শুনে তমা মিতুকে সব খুলে বললো পার্টিতে সরবত খাওয়ার পর ও কি কি করেছে। তারপর রাজু ওকে কোলে নিয়ে রুমে গিয়ে দরজা লাগানো পর্যন্ত বলে হিহিহি করে হাসতে লাগলো তমা। তারপর আবার বললো
-- তা রাতে দুলাভাই এর সাথে কি কি হলো রে তিতু? না মানে তুই যে রকম মুডে ছিলি নিশ্চই দুলাভাইয়ের অবস্থা নাস্তা নাবুদ করছিস।
বলেই আবারো হা হা করে হাসতে লাগলো তমা। তমার কথা শুনে রাগে ফোসতে লাগলো মিতু তারপর তমাকে ধাওয়া করলো মারার জন্যে। আর তমা বেচেরি হাসতে হাসতে আর সরি বলতে বলতে ক্লাশের দিকে দৌড় দিলো।
দৌড়াতে দৌড়াতে হঠাৎ কারো সাথে ধাক্কা লেগে পরে যেতে নিলো মিতু। আর তখনি মিতুর হাত কেউ শক্ত করে ধরে ফেললো। মিতু সামনে থাকা মানুষটার দিকে তাকালো। আর দেখলো রাসেল ওর হাত ধরে দাড়িয়ে আছে রক্ত চক্ষু নিয়ে। রাসেলের থেকে নিজের হাত এক ঝটকায় ছারিয়ে Thank u বলে ক্লাশে চলে গেলো মিতু। আর রাসেল একি জায়গায় দাড়িয়ে তাকিয়ে রইলো মিতুর চলে যাওয়ার দিকে।
ক্লাশে বসে গল্প করছে মিতু আর তমা। রাজু ক্লাশে ঢুকতেই সবাই বলে উঠলো
-- good morning sar,
-- good morning everyone.
মিতু রাজুর দিকে তাকিয়ে মুখ ভেঙচি দিয়ে অন্য দিকে তাকালো। আর রাজু মিতুর এমন আচরন দেখে বাকা হাসি দিলো। তখনি মিতুর পাশে বসে থাকা মেয়েগুলোর মাঝে একজন বলে উঠলো
-- ইশশ আমার জানেমানটাকে যতবার দেখি ততবারই প্রেমে পরে যাই। কি লাগছে রে আজকে এক্কেবারে ঝাক্কাস। ইচ্ছে করছে দৌড়ে গিয়ে হাগ করি।
ঐ মেয়েটার কথা শুনে বাকি মেয়েগুলোও একসাথে বলে উঠলো
-- ঠিক বলেছিস রে আমাদেরও একি ইচ্ছা করে।
ওদের কথা শুনে মিতু আর সহ্য করতে পারলো না উঠে দাড়িয়ে ওদের সামনে গিয়ে বলতে লাগলো
-- ঐ শাঁকচুন্নি পেত্নী লুচু মাইয়ার দল। তোরা কি কলেজে লুচুগিরি করতে আইছোস নাকি। যা না যা গিয়ে গলায় ঝুলে পর
লুচুনিরা।(রাগে কটমট করতে করতে চিৎকার করে বললো মিতু)
মিতুর কথা শুনে সবাই হা করে তাকিয়ে আছে মিতুর দিকে। পিছন থেকে রাজু বলে উঠলো
-- এই মেয়ে এই, সমস্যা কি তোমার? তুমি কি ক্লাশ করতে আসছো নাকি সবার সাথে ঝগড়া করতে? বের হও আমার ক্লাশ থেকে।(প্রচন্ড রেগে কথাগুলো বললো রাজু)
রাজুর কথা শুনে মিতু ব্যাগটা নিয়ে ক্লাশ থেকে সোজা ক্যান্টিনে চলে গেলো। কেনো জানেনা মিতুর খুব খারাপ লাগছে আজ রাজুর কথাগুলোয়।ক্যান্টিনে বসে ব্যাগ থেকে চুইংগাম বের করে খাচ্ছে মিতু আর বায়রের দিকে তাকিয়ে মন মরা হয়ে বসে আছে। ক্যানটিনে এখন মিতু ছারা আর কেউ নেই বললেই চলে। হঠাৎ মিতু খেয়াল করলো ওর সামনের চেয়ারে কেউ একজন বসে টেবিলে রাখা ওর হাতের ওপর হাত রেখেছে,,,,,,,
চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
২০ পর্ব
লেখা--সোনালী
ক্যান্টিনে বসে ব্যাগ থেকে চুইংগাম বের করে খাচ্ছে মিতু আর বায়রের দিকে তাকিয়ে মন মরা হয়ে বসে আছে। ক্যানটিনে এখন মিতু ছারা আর কেউ নেই বললেই চলে। হঠাৎ মিতু খেয়াল করলো ওর সামনের চেয়ারে কেউ একজন বসে টেবিলে রাখা ওর হাতের ওপর হাত রেখেছে। মিতু বায়রের দিক থেকে চোখ সরিয়ে পাশের চেয়ারে বসা লোকটার দিকে তাকালো।
-- ভাইয়া আপনি এখানে?(লোকটির থেকে হাত সরিয়ে নিয়ে বললো মিতু)
-- কি হয়েছে তোমার, এমন মন খারাপ করে বসে আছো কেনো?( বললো রাসেল)
-- তা জেনে আপনার কোনো লাভ নেই, আপনি ক্লাস ফেলে এখানে কি করছেন ভাইয়া?
-- আসলে আমি তোমার ক্লাসের সামনে দিয়েই একটু বাথরুমে যাচ্ছিলাম তখন দেখলাম রাজু তোমায় বিনা কারনে ধমকে ক্লাশ থেকে বের করে দিচ্ছে। তুমি মন খারাপ করে বসে আছো দেখে আমিও চলে এলাম তোমার সাথে একটু গল্প করতে।(একনাগাড়ে বললো রাসেল)
-- আপনি আমার ক্লাসের সামনে দিয়ে কোন বাথরুমে যাচ্ছিলেন ভাইয়া? বাথরুম তো অন্য দিকে?(ভ্রু কুচকে বললো মিতু)
মিতুর কথা শুনে থতমত খেয়ে রাসেল বললো
-- না মানে আসলে আমি প্রিন্সিপাল স্যারের কাছে গেছিলাম একটা দরকারে। ওখান থেকেই তোমার ক্লাসের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলাম। রাজু যেটা করলো সেটা সত্যিই খুব খারাপ লাগলো আমার মিতু। ক্লাসের ঐ মেয়েগুলোর জন্যে তোমার সাথে এমন আচরন করা একদমই ঠিক হয়নি ওর। যতই হোক তুমি তো ওর বউ।
রাসেলের কথা শুনে চুপ করে বসে রইলো মিতু। আর মনে মনে ভাবতে লাগলো
-- সত্যিই তো, সামান্য কিছু মেয়ের জন্যে উনি আমাকে এভাবে অপমান করে ক্লাশ থেকে বের করে দিতে পারলো? আমি কি তার কেও নয়?
-- তুমি মন খারাপ করো না মিতু। আমি আছি তো তোমার সাথে রাজু কিছু বললে আমায় বলবে আমি ওকে দেখে নিবো।(কথাগুলো বলতে বলতে মিতুর হাতের ওপর আবারো হাত রাখলো রাসেল)
রাসেলের কথা শুনে মিতু নিজের হাত রাসেলের থেকে ছারিয়ে নিয়ে বললো
-- জ্বি ভাইয়া ধন্যবাদ, এখন আপনি আসতে পারেন আমি একটু একা থাকতে চাই।(রাগি গলায় বললো মিতু)
-- কেনো মিতু আমি এসেছি বলে কি তোমার ভালো লাগছে না? আমি জানি রাজু অনেক মেয়ের সাথেই সম্পর্ক করেছে আগে। কিন্তু এখন তোমায় ও বিয়ে করেছে এখনো যদি এমন করে তাহলে তো তোমায় ও ভালই বাসে না। আমি জানি রাজু মেয়েদের প্রতি একটু দুর্বল। কিন্তু তাই বলে নিজের ঘরে তোমার মতো এমন পরীর মতো বউ থাকতে ও অন্য মেয়ের দিকে নজর দেয় কি করে। তুমি যদি আমার বউ হতে তাহলে আমি তোমায় রাজরানি বানিয়ে রাখতাম। মাথায় করে রাখতাম তোমায়।(এক নিশ্বাসে কথাগুলো বললো রাসেল)
রাসেলের কথা শুনে মিতু অবাক হয়ে রাসেলের দিকে তাকালো। তারপর জিগ্যেস করলো
-- আপনি এসব কি বলছেন ভাইয়া? রাজু কি সত্যিই এমন?
-- আসলে তোমায় আমি বলতে চাইনি মিতু কিন্তু কি করবো বলো তোমার মতো একটা বউ পেয়েও রাজু অন্য মেয়ের জন্যে তোমার সাথে বাজে আচরন করে কি করে। তাই বলতে বাদ্ধ হলাম। কিন্তু তুমি রাজুকে এ ব্যাপারে কিছু বোলো না প্লিজ মিতু।
রাসেলের কথা শুনে মিতু আর কিছু বলতে পারলো না। উঠে দাড়িয়ে বললো
-- রাসেল ভাইয়া আমি এখন আসি আমার শরীরটা ভালো লাগছে না।
কথাগুলো বলেই হাটা শুরু করলো মিতু। মিতুকে চলে যেতে দেখে রাসেল বাকা হাসি দিয়ে মনে মনে বললো
-- ফাটল ধরিয়ে দিয়েছি তোদের সম্পর্কে রাজু। এবার শুধু ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়ার পালা।মনে মনে
তারপর রাসেল মিতুর কাছে এগিয়ে এসে মিতুর হাত ধরে বললো
-- মিতু দারাও আমি তোমায় এগিয়ে দিয়ে আসছি। তোমার শরীর খারাপ একা যেতে পারবে না।
মিতু রাসেলের দিকে রাগি চোখে তাকালো। তারপর এক ঝটকায় হাত ছারিয়ে নিয়ে বললো
-- আব্বে ঐ আপনাকে একবার কথা বললে কথা কানে যায় না? বললাম না আমি একা থাকতে চাই। আর বার বার আমার হাত ধরার সাহস কি করে হয় আপনার। আমি একাই যেতে পারবো।
কথাগুলো বলেই হেটে গেটের দিকে চলে গেলো মিতু। আর রাসেল সেখানে দাড়িয়েই নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে বললো
-- আজ তুমি আমায় হাত ধরতে দিলে মিতু। কিন্তু আমার এই হাত থেকে তোমার কোনো ছার নেই। শেষ মেষ আমার কাছেই আসতে হবে তোমায় জানেমান। যতটা রক্ত আমি তোমার জন্যে নিজের শরীর থেকে ঝরিয়েছি তার হিসাব তো আমি নেবোই তোমার থেকে। I love u মিতু I love u so much,
মিতু রিক্সা নিয়ে বাসায় চলে এলো, ওর বাবার বাসায়। ডোরবেল চাপতেই ভিতর থেকে মিতুর মা এসে দরজা খুলে দিলো। মিতুকে দেখেই মিতুর মা বলে উঠলো
-- আরে মিতু, তুই এসময়, হঠাৎ করে এলি তা রাজু বাবা কোথায়?
মায়ের কথার কোনো উত্তর না দিয়ে মাকে পাশ কাটিয়ে নিজের রুমে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দিলো মিতু। মিতুর এমম আচরনে অবাক হয়ে দরজায় ধাক্কা দিতে দিতে মিতুর মা বলতে লাগলো
-- কি হয়েছে মিতু। তুই এভাবে রুমে গিয়ে দরজা দিলি ক্যান? আর তুই একা এভাবে চলে এলি রাজু বাবা কই। দরজা খোল মিতু কথা বল আমার সাথে?(চেচিয়ে বললো মিতুর মা)
-- আম্মু প্লিজ আমায় একটু একা থাকতে দাও। সরে যাও এখান থেকে আমি ঠিক আছি। বেশি যদি ডাকাডাকি করো তাহলে আমি কিন্তু চলে যাবো যে দিকে খুশি।
মেয়ের এমন কথা শুনে মিতুর মা একদম স্তব্ধ হয়ে গেলেন। মিতুর এমন রুপ ওর মা আগে কখনো দেখেনি। যে মেয়ে সব সময় দুষ্টুমি মজা করে বাড়ি মাথায় তুলে রাখতে সে এমন শান্ত হয়ে গেলো কি করে?
মিতুর মা দরজার কাছ থেকে সরে এসে রাজুর নাম্বারে কল দিলো
-- আসসালামু আলাইকুম, আম্মু কেমন আছেন?
-- ওয়ালাই কুমুসসালাম, এইতো বাবা ভালো রেখেছেন আল্লাহ। আচ্ছা রাজু বাবা, মিতুর কি হয়েছে ও এমন একা এখানে এসে দরজা দিলো কেনো? তোমাদের মাঝে সব ঠিক আছে তো বাবা?
-- কি বলছেন মা, মিতু ওখানে মানে? ওতো,,,(এতটুকু বলে থেমে গেলো রাজু)
-- কি হয়েছে বাবা বলো আমায়। মিতুর এমন রুপ কখনো দেখিনি আমি। মেয়েটা আমার একদম চুপ হয়ে গেছে। কি হয়েছে বলো আমায় খুব চিন্তা হচ্ছে মেয়েটার জন্যে।
-- আম্মু আপনি চিন্তা করবেন না প্লিজ। কিছুই হয়নি সব ঠিল আছে। আমি আসছি এখনি। আপনি টেনশন নিয়েন না।
কথাগুলো বলেই ফোন রেখে দিলো রাজু। তারপর কলেজের অফিসরুম থেকে বেরিয়ে বাইক নিয়ে শশুড়বাড়ির দিকে রওনা হলো।
(রাজু ক্লাশ করাতে করাতে প্রিন্সিপালের ডাক আসে একটা দরকারি কাজে। তাই রাজুর মিতুর কথা খেয়ালই ছিলো না।)
কিছুক্ষণের মধ্যে শশুড় বাড়িতে পৌছে যায় রাজু। রাস্তায় আসার সময় অনেক ফলমুল আর মিষ্টি নিয়ে আসে রাজু। প্রথমবার শশুড়বাড়িতে যাচ্ছে বলে কথা।
ডোরবেল চাপতেই মিতুর মা দরজা খুলে দেন। মিতুর মাকে সালাম করে হাতের ফলমুল আর মিষ্টিগুলো ওনার হাতে তুলে দেয় রাজু। তারপর বলে
-- আম্মু মিতু কোথায়?
-- মিতু ভিতরেই আছে। তুমি ভিতরে এসো বাবা। কি হয়েছে তোমাদের মাঝে বলো তো? মিতু এভাবে চলে এলো কেনো হঠাৎ?
-- আসলে আম্মু মিতু দুদিন হলো এখানে আসতে চায়। আমি কাজের জন্যে নিয়ে আসতে পারিনা তাই নিজে একাই চলে আসছে। আপনি চিন্তা করবেন না আম্মু কিছু হয়নি। (ইচ্ছা করে মিতুর মায়ের কাছে মিথ্যে বললো রাজু)
-- কিছু না হলেই ভালো বাবা। আমি তো চিন্তায় পরে গেছিলাম। তুমি যাও মিতু ওর রুমেই আছে।
-- ইয়ে মানে, মিতুর রুম কোনটা আম্মু? আসলে আমি প্রথম আসলাম তো তাই,,,,।
রাজুর কথা শুনে হেসে দিয়ে মিতুর মা মিতুর রুম দেখিয়ে দিলো। রাজু মিতুর রুমের দরজায় টোকা দিয়ে বললো
-- মিতু, মিতু, এই মিতু দরজা খুলো আমি তোমায় নিতে এসেছি।
-- ফিরে যান আপনি আমি যাবো না আপনার সাথে।(কাঁদো কাঁদো গলায় ভিতর থেকে বললো মিতু)
-- আচ্ছা ঠিক আছে তোমার যেতে হবে না। দরজাটা একটু খুলো প্লিজ আমি বাথরুমে যাবো।
রাজুর কথা শুনে ফিক করে হেসে দিলো মিতু। তারপর বললো
-- বাইরেও বাথরুম আছে ঐ টাতে যান। আমি দরজা খুলবো না।
রাজু বেশ বুঝতে পারছে যে মিতু খুব রাগ করেছে। ওর সাথে কলেজে ওমন আচরন করা ঠিক হয়নি রাজুর। তারপর রাজু বললো
-- মিতু প্লিজ দরজা খোলো প্রথমবার তোমাদের বাসায় আসছি এখন বাইরের বাথরুমে গেলে প্রেস্টিজ পাংচার হয়ে যাবে।
-- আমি খুলবো না খুলবো না খুলবো না দরজা আপনি যান এখান থেকে। (রাগি গলায় চেচিয়ে বললো মিতু)
-- খুলবে না তো? তাহলে আর কি আমি তোমার জন্যে অনেকগুলো আইস্ক্রিম আর চুইংগাম এনেছিলাম তা আর তোমায় দেওয়া হলো না। আমি বরং এগুলা আম্মুকে দিয়ে পাশের বাসায় পাঠিয়ে দেই।(চালাকি করে বললো রাজু)
আইস্ক্রিম আর চুইংগামের কথা শুনতেই দৌড়ে এসে দরজা খুলে দিলো মিতু। তারপর,,,,,,,,,,,
চলবে,,,,,,,

২১ +২২পর্ব
লেখা--সোনালী
-- খুলবে না তো? তাহলে আর কি আমি তোমার জন্যে অনেকগুলো আইস্ক্রিম আর চুইংগাম এনেছিলাম তা আর তোমায় দেওয়া হলো না। আমি বরং এগুলা আম্মুকে দিয়ে পাশের বাসায় পাঠিয়ে দেই।(চালাকি করে বললো রাজু)
আইস্ক্রিম আর চুইংগামের কথা শুনতেই দৌড়ে এসে দরজা খুলে দিলো মিতু। তারপর বললো
-- কই কই আমার আইস্ক্রিম আর চুইংগাম কই? (এদিক ওদিক খুঁজতে খুঁজতে)
মিতুকে ঠেলে রুমের মাঝে ঢুকিয়ে দিয়ে রাজুও ভেতরে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দিলো। রাজুকে দরজা লাগাতে দেখে মিতু বলতে লাগলো
-- ঐ কাজু ঘোলাদরি আমার আইস্ক্রিম আর চুইংগাম কই? তুমি আমায় সেগুলো না দিয়া দরজা লাগাই দিলা ক্যান?
মিতুর কথার কোনো উত্তর না দিয়ে মিতুকে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরলো রাজু। আচমকা এভাবে চেপে ধরায় ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেললো মিতু। মিতুকে চোখ বন্ধ করতে দেখে রাজু দাতে দাত চেপে বললো
-- চোখ খোলো মিতু। তাকাও আমার দিকে।(রাগে কটমট করে বললো রাজু)
রাজুর কথা শুনে প্রথমে এক চোখ খুললো মিতু। তারপর আরেক চোখও খুলে রাজুর দিকে তাকিয়ে রাজুর রাগি লুক দেখে ভয়ে ঢোক গিললো মিতু। তারপর কাপা কাপা গলায় বললো
-- ঐ কা কাজু ঘোলাদরি আ আমার আইস্ক্রিম চু চু চুইংগাম কোথায়? আমায় এভাবে চেপে ধরছো কে কেনো?
-- তোমার সাহস কি করে হয় একা একা এখানে চলে আসার? তুমি জানো কতটা টেনশন হচ্ছিল আমার? আর দরজা কেনো খুলছিলে না তুমি?(রাগে দাতে দাত চেপে বললো রাজু)
-- আমার ইচ্ছা হয়েছে তাই আমি চলে আসছি তাতে তোর কি রে তাল গাছের এনাকন্ডা, বট গাছের বাদর, পিয়ারা গাছের হনুমান।(মুখ ভেঙচিয়ে বললো মিতু)
-- কি বললে তুমি? তাতে আমার কি তাইনা? আমি তোমার স্বামী আর তুমি আমার বউ তোমার সব কিছু জানার সবকিছুর ওপর অধিকার শুধু আমার। কেনো করো এমন তুমি। আমি যেটা মানা করি তুমি কেনো সেটাই করো বার বার। কি মনে করো তুমি নিজেকে হুমম?( কথা গুলো বলতে বলতে মিতুর মুখের একদম কাছে চলে গেছে রাজু)
রাজুর কথা শেষ হতেই মিতু রাজুর দিকে বড় বড় করে তাকিয়ে আছে কি বললো এতক্ষণ রাজু। হঠাৎ মিতু খেয়াল করে রাজু ধিরে ধিরে মিতুর একদম মুখের কাছে এগিয়ে আসছে।আর রাজুর চোখ মিতুর ঠোটের দিকে। এটা দেখেই মিতু চোখ বন্ধ করে জোরে একটা চিৎকার দিলো
-- আআআআআআআআআআআ রাক্ষস আমায় খেয়ে ফেললো গো। ও আম্মু গো রাক্ষস আমায় খেয়ে ফেললো আমায় বাচাউউউউউউউউউ। (চোখ বন্ধ করে জোরে জোরে চিৎকার করতে লাগলো মিতু)
মিতুর এমন চিৎকার করা দেখে রাজু দ্রুত সরে এলো মিতুর থেকে তারপর বললো
-- এই মেয়ে এই সমস্যা কি তোমার? সব সময় এমন সকালের মোরোগের মতো চেচাও ক্যান হুমম?
রাজুর কথায় কোনো খেয়াল নেই মিতুর ও চিৎকার করতেই ব্যাস্ত। মিতুর চিৎকারে অতিষ্ঠ হয়ে রুমের দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে আসে রাজু। আর বাইরে আসতেই শাশুড়ির মুখোমুখি পরে যায় রাজু। রাজুকে দেখে মিতুর মা বলে
-- কি হয়েছে বাবা মিতুর? ও এমন চেঁচাচ্ছে কেনো?
-- আমি জানিনা আম্মু, আপনার মেয়ে আমার মাথা ধরিয়ে দিয়েছে। (মাথায় হাত দিয়ে ধরে সোফায় বসতে বসতে বললো রাজু)
রাজুর কথা শুনে মিতুর মা আর কিছু জিগ্যেস করলো না রাজুকে। মিতুর রুমে গিয়ে দেখে মিতু চুপ করে দাড়িয়ে থেকে নিজের নক কামড়াচ্ছে।
-- মিতু তুই এভাবে চিৎকার করলি কেনো একটু আগে?কি হয়েছে তোর(রাগি গলায় বললো মিতুর মা)
-- ক ক কই কিছু হয়নি তো। আসলে আমি এখানে দাড়িয়ে ছিলাম তখন দেখি যে একটা বড় তেলাপোকা আমার মুখের দিকে এগিয়ে আসছে, সেটা দেখেই ভয় পেয়ে চিৎকার করেছি আমি। (আমতা আমতা করে চিৎকার করে বললো মিতু)
বাইরে থেকে মিতুর কথা শুনে রাজু কপালে হাত দিয়ে বললো
-- হে আল্লাহ আমি এটা কার প্রেমে পরেছিলাম তুমিই জানো। এটা কি মানুষ নাকি অন্য কিছু আমার মাঝে মাঝে সন্দেহ হয়। এই মেয়েটা আমায় আর কি কি বানাবে আল্লাহ তুমিই ভালো জানো। শেষ মেস কিনা তেলাপোকা?মনে মনে
-- তেলাপোকা দেখে কেউ এভাবে চিল্লায় নাকি মিতু? আসেপাশের মানুষ ভাববে বাসায় ডাকাত পরেছে। উফ তুই আর বড় হলি না। আর এভাবে দরজা লাগিয়ে বসে ছিলি কেনো তুই?
মায়ের কথায় কিছু একটা ভেবে মিতু বললো
-- আসলে আমার একটু দরজা লাগিয়ে ডান্স করতে মন চাইছিলো তাই। এখন যাও তো এখান থেকে।
কথাগুলো বলেই মিতু ওর মাকে ঠেলে রুম থেকে বের করে দিলো। তারপর রুমে এসে বিছানায় শুয়ে পরলো।
-- কেমন আছেন মামি?(বললো রাসেল)
-- এই তো ভালো আছি বাবা তুমি কেমন আছো?(তমার মা)
-- জ্বি মামি ভালো আছি। তমা কই মামি?
-- তমা মনে হয় বাথরুমে, গোসল দিচ্ছে হয়তো তুমি বসো দুপুরে কিন্তু খাওয়া দাওয়া করে যাবা, তমা এখনি আসবে।
-- জ্বি মামি ঠিক আছে। মামা কোথায় মামি?
-- তোমার মামা তো অফিসে আছেন। আসতে আসতে হয়তো সন্ধা হবে।
-- ওহ আচ্ছা মামি আপনি যান আমি এখানেই আছি।
রাসেল তমাদের বাসায় এসেছে সবার সাথে দেখা করতে। তমা বাথরুম থেকে বেরিয়ে রাসেলকে দেখে বললো
-- আরে রাসেল ভাইয়া আপনি? কখন এলেন?
-- এইতো ১০ মিনিট হলো। আজকে কলেজে দেখলাম না তোমায় তাই ভাবলাম একবার খোজ নিয়ে আসি।
-- ওহ, আমিও তো আজকে আপনাকে দেখিনি কলেজে। তা ফুপি আর ফুফা কেমন আছেন।
-- হুমম সবাই ভালো আছে। আচ্ছা তমা শুনো আমার একটা আর্জেন্ট কাজ পরে গেছে আমি এখন আসি তুমি একটু মামিকে বলে দিও কেমন?
-- একি ভাইয়া আপনি এখনি চলে যাবেন মানে? আম্মু কিন্তু রাগ করবে। দুপুরে খাওয়া দাওয়া করে তারপর না হয় যাবেন?
-- অন্য একসময় আবার এসে খাওয়া দাওয়া করবো এখন একটা কাজ আছে আমি আসি। তুমি মামিকে একটু বলে দিও।
কথাগুলো বলেই তমাকে আর কিছু বলার সুজোগ না দিয়েই হনহন করে বেরিয়ে গেলো রাসেল। আর তমা রাসেলের চলে যাওয়ার দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে রইলো।
তমাদের বাসা থেকে বের হতেই একটা পৈচাশিক হাসি দিলো রাসেল। তারপর নিজের বাড়ির দিকে রওনা হলো।
মিতু বিছানায় শুয়ে ঘুমিয়ে পরেছে। অনেক্ষন হলো মিতুর কোনো সারাশব্দ না পেয়ে রাজু মিতুর রুমে ঢুকে দেখে গুটিশুটি মেরে ঘুমিয়ে আছে মিতু। মাথার চুলগুলো মুখের ওপর এসে পরেছে। কতটা নিশ্পাপ লাগছে দেখতে ওকে। দেখে মনেই হচ্ছে না এই মেয়ে এতটা দুষ্টু। রাজু মিতুর রুমে ঢুকে দরজাটা হালকা ভিড়িয়ে দিলো। তারপর গুটিগুটি পায়ে মিতুর কাছে এগিয়ে এসে ওর মাথার পাশে বোসলো। আলতো হাতে মিতুর মুখের ওপরের চুলগুলোকে কানের পিছে গুজে দিলো। তারপর মিতুর গালে রাজুর হাত রেখে বলতে লাগলো
-- এই পাগলিটা কবে বুঝবে আমার মনের কথা? কবে ভালবাসবে আমায়? কবে পাবো এই পাগলীটাকে নিজের করে? বড্ড বেশি ভালবেসে ফেলেছি আমি এই পাগলি টাকে। সেই প্রথম দিনের প্রথম দেখায় প্রথম ঝগড়ার দিন থেকেই আমার শয়নেস্বপনে শুধুই মিশে আছে এই পাগলীটা। সেটা তো কখনো বুঝবেনা এই পাগলীটা।
কথাগুলো এক নাগারে বলে মিতুর কপালে চুমো একে দিলো রাজু। মিতু ঘুমের মাঝেই একটু নরে উঠলো। তারপর আবার ঘুমিয়ে গেলো। রাজু মিতুর গায়ে চাদর টেনে দিয়ে বাইরে বেরিয়ে এলো। তারপর বাসায় ফোন করে জানিয়ে দিলো ও মিতুকে নিয়ে মিতুদের বাসায় এসেছে।
-- কিরে তমা তুই একা বসে টিভি দেখছিস যে, রাসেল কই, ও না এখানেই বসে ছিলো(বললো তমার আম্মু)
-- রাসেল ভাইয়া তো চলে গেছে আম্মু।
-- চলে গেছে মানে, ওকে তো আমি বললাম দুপুরে খেয়ে যেতে এখানে?
-- হুমম, কিন্তু রাসেল ভাইয়া বললো ওর নাকি কি আর্জেন্ট কাজ আছে তাই তারাতারি চলে গেলো।
তমার কথা শুনে তমার মা আর কিছু বললো না। তমাও মায়ের দিক থেকে চোখ সরিয়ে টিভি দেখায় মন দিলো,,,,
চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,
২২ পর্ব
লেখা--সোনালী
দুপুর ৩.০০ টা বাজতে চললো মিতু এখনো ঘুম থেকে ওঠেনি দেখে রাজুও না খেয়ে আছে মিতুর জন্যে। মিতুর মা বার বার খাওয়ার কথা বলার পরেও রাজু বলেছে মিতু ঘুম থেকে উঠলে এক সাথে খাবে।এদিকে রাজুর অনেক খুধাও লেগেছে তাই আর সহ্য করতে না পেরে মিতুকে ঘুম থেকে ডেকে তোলার সিদ্ধান্ত নিলো রাজু। রুমে গিয়ে দেখে মিতু সেই আগের মতো করেই গুটিশুটি মেরে ঘুমিয়ে আছে। রাজু মিতুর পাশে বসে মিতুর মাথায় হাত বুলিয়ে আস্তে আস্তে ডাকতে লাগলো
-- মিতু এই মিতু, চুইংগাম বেইপি ওগো আমার চুইংগাম বেইপি। আর কতো ঘুমাবা বলো তো? রাত ভরা কি চুরি ডাকাতি করছো নাকি যে এতক্ষণ হলো নাক ডেকে ঘুমাচ্ছো? ওঠোনা প্লিজ, তুমি না আমার ভালো ভদ্র বউ ওঠো না প্লিজ মিতু খুব খুধা লেগেছে আমার।
রাজু একাধারে মিতুকে ডেকেই যাচ্ছে কিন্তু মিতুর কোনো সারা শব্দও নেই। হঠাৎ রাজু খেয়াল করলো মিতু জেগে আছে কিন্তু ঘুমিয়ে থাকার নাটক করছে শয়তানি করে। মিতুর এমন দুষ্টুমি দেখে রাজুর খুব রাগ হলো। আবার হাসিও পেলো কেমন দুষ্টু বউ রে বাবা। রাজুর মাথাতেও একটা দুষ্টু বুদ্ধি এলো। রাজু রুম থেকে বেরিয়ে চলে গেলো, আর যাওয়ার সময় মিতুকে শুনিয়ে বললো
-- বাইরে থেকে একটু ঘুরে আসি তারপর না হয় চুইংগাম বেইপিকে ডাকবো।
রাজু চলে যেতেই মিতু উঠে বসলো তারপর হিহি করে আস্তে আস্তে হেসে দিয়ে বললো
-- ব্যাটা বজ্জাত কাজু ঘোলাদরি, বিলাতি গন্ডার, উগন্ডার লেংটি ইদুর, কলা পাতার ধলা পোকা তোমারে তো আজকে আমি না খাওয়াইয়াই রাখমু। আমারে ক্লাস থেকে বের করে দেওয়া তাই না এবার বুঝো ঠেলা। আমি ঘুম থেকে রাত ০২.০০ টায় উঠমু।হিহিহি
কথাগুলো আস্তে আস্তে বলছে আর দাত কেলিয়ে হাসছে মিতু। হঠাৎ রাজু আসার শব্দ পেয়ে আবার শুয়ে পরে ঘুমানোর অভিনয় করলো মিতু।
রাজু রুমে ঢুকে মিতুর পাশে না বসে সোফায় গিয়ে মিতুর মুখামুখি বসলো। তারপর সাথে আনা আইস্ক্রিম এর প্যাকেটটা ছিড়ে খেতে খেতে বলতে লাগলো
-- ইশশশ বড্ড খুধা লেগেছিলো।এই চুইংগাম বেইপি তো ঘুম থেকে উঠছে না তো কি আর করবো, তাই আমি বরং বসে বসে মজার আইস্ক্রিম খেয়েই পেট ভরাই।আহ কি স্বাদ আইস্ক্রিম টার।( মুচকি মুচকি হেসে মিতুর দিকে তাকিয়ে আইস্ক্রিম খেতে খেতে বললো রাজু)
আইস্ক্রিম এর নাম শুনতেই লাফিয়ে উঠে বসলো মিতু। তারপর রাজুর দিকে তাকিয়ে দেখে রাজু সত্যিই একটা মেগা আইস্ক্রিম খাচ্ছে সোফায় বসে।
রাজুর হাতে আইস্ক্রিম দেখেই বিছানা থেকে লাফিয়ে নেমে এলো মিতু। তারপর রাজুর হাত থেকে আইস্ক্রিম টা নিতে যাবে কিন্তু রাজু তার আগেই উঠে রুমের মাঝে দৌড়াতে শুরু করলো। মিতুও রাজুর পিছনে পিছনে দৌড়াচ্ছে আর বলছে
-- ঐ কাজু ঘোলাদরি আমার আইস্ক্রিম দে বলছি নইলে আমি তোরে খেয়ে ফেলবো কইলাম। ঐ বিলাতি ছাগল চোখ ছারা গুবরেপোকা দে আমার আইস্ক্রিম দে বলছি।
রুমের মধ্যে দৌড়াদৌড়ি করতে করতে রাজু বিছানায় ধপ করে পরে গেলো আর রাজুর বুকের ওপর পরলো মিতু। রাজুর হাতের আইস্ক্রিম থেকে একটুখানি আইস্ক্রিম গিয়ে পরলো রাজুর গালের ওপর। এটা দেখে মিতু আর কিছু না ভেবেই রাজুর গালের ওপর থেকে আইস্ক্রিম টুকু রাজুর গালে মুখ লাগিয়ে খেয়ে নিলো তারপর রাজুর হাত থেকে আইস্ক্রিম টা নিয়ে খেতে শুরু করলো রাজুর বুকের ওপর শুয়ে থেকেই।
মিতুর এমন কান্ড দেখে রাজুর মুখের কথা আর হুশ সব যেনো হাড়িয়ে গেছে। রাজু বড় বড় করে তাকিয়ে ভাবছে কি করলো এই মেয়ে। রাজু হা করে মিতুর দিকে তাকিয়ে আছে। তারপর ধিরে ধিরে মিতুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে রাজু। রাজু যেনো এখন নিজের মধ্যে নাই হাড়িয়ে যেতে চাইছে তার চুইংগাম বেইপির মাঝে।
আইস্ক্রিম খেতে খেতে রাজুর দিকে তাকিয়ে মিতু দেখে রাজু যেনো কেমন করে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। আর ধিরে ধিরে এগিয়ে আসছে ওর মুখের কাছে। এটা দেখেই মিতু এক লাফে রাজুর কাছ থেকে সরে বলে উঠলো
-- ঐ ধলা বিলাই, বিলাতি মানকি খবরদার কইলাম আর একবারো আমার আইস্ক্রিম খাওয়ার চিন্তাও করবি না। এইডা শুধু আমার।(রেগে গিয়ে বললো মিতু।মিতু ভাবছে রাজু আবার আইস্ক্রিম খাওয়ার জন্যে এগিয়ে আসছে)
মিতুর কথা শুনে হুশ এলো রাজুর। রাজু সেখানেই থেমে গেলো তারপর মনে মনে বললো
-- ইশশ আমি তো ভুলেই গেছিলাম এটা একটা আইস্ক্রিম পাগলি। এ তো আইস্ক্রিমের জন্যে,,,,,,,। আর আমি কি না কি ভাবছি।মনে মনে
কথাগুলো ভেবেই রুম থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে রাজু গম্ভীর গলায় মিতুকে বললো
-- আইস্ক্রিম খেয়ে হাত মুখ ধুয়ে খেতে আসো মিতু।আমি অপেক্ষা করছি।(কথাগুলো বলেই আর এক মুহুর্তও দাড়ালো না রাজু। রুম থেকে বেরিয়ে গেলো)
রাজুর চলে যাওয়া দেখে মিতু মনে মনে খুশি হলো ওর আইস্ক্রিম আর খেতে চাইবে না বজ্জাত কাজু ঘোলাদরি টা, এটা ভেবে।
রাজু রুম থেকে বাইরে এসে দেখলো মিতুর আব্বু বসে আছে সোফায়। কেবোলি এসেছে হয়তো। রাজু ওর শশুড় কে সালাম দিলো
-- আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন আব্বু?
-- ওয়ালাই কুমুসসালাম। এই তো ভালো আছি বাবা তুমি কেমন আছো?
-- জ্বি আব্বু আমিও ভালো আছি আল্লাহর রহমতে আর আপনাদের দোয়ায়।
-- আলহামদুলিল্লাহ। মিতু মা কই রাজু ওকে দেখছি না যে? ওকি এখনো ঘুমাচ্ছে? মিতুর আম্মু বললো আমায় মিতুর কথা।
শশুড়ের প্রশ্নের উত্তরে রাজু কিছু বলবে তার আগেই পিছন থেকে মিতু ছুটে এসে ওর বাবাকে জরিয়ে ধরে বললো
-- আব্বু আব্বু আব্বু কেমন আছো তুমি কত্তদিন হলো তোমায় দেখিনা। আমার জন্যে আইস্ক্রিম চুইংগাম এনেছো? কই দাও দাও আমায়।( বাবাকে জরিয়ে ধরে বললো মিতু)
-- আরে আরে ছার মা ছার তোকে একটু মন ভরে দেখি। কতদিন হলো তোকে দেখিনা পাগলী মা আমার।কেমন আছিস তুই?
-- আমি ভাল আছি। পরে মন ভরে দেখবে আমায় আগে আমার আইস্ক্রিম আর চুইংগাম দাও।(বাবাকে ছেরে দিয়ে সামনে বসে হাত বাড়িয়ে বললো মিতু)
-- ইশশ মামনি আমি তো আইস্ক্রিম বা চুইংগাম কিছুই আনিনি ( মন খারাপ করে বললো মিতুর বাবা)
বাবার কথা শুনে মুখ গোমরা করে মিতু বললো
-- তা আনবে কেনো এখন তো আমি তোমাদের পর হয়ে গেছি তাই না? বিয়ে দিয়ে দিয়েছো তো আমার, আমি তো এখন তোমাদের কিছুই না।(মন খারাপ করে বাচ্চাদের মতো নাক টেনে টেনে বললো মিতু)
মিতুর এমন কথা শুনে রাজু দুরে দাড়িয়ে মিটি মিটি হাসছে আর ভাবছে কি পাগলী দুষ্টু মেয়েরে বাবা।
মিতুর কথা শুনে মিতুর বাবা বললো
-- ও বাবা আমার মায়ের রাগ হয়েছে বুঝি ছেলের ওপর? রাগ করিস না মা আজকে আনিনি তো কি হয়েছে তোর জন্যে আমি ফ্রিজ পুরো করে আইস্ক্রিম কিনে রেখেছি। আর চুইংগামও আছে তোর মায়ের কাছে। এখন বল তোরা দুপুরে খাওয়া দাওয়া করেছিস তো ঠিক করে? রাজু বাবা তুমি ওখানে দাড়িয়ে কেনো এখানে আসো। দুপুরে ঠিক করে খেয়েছো তো তোমরা?
শশুড়ের কথার উত্তরে রাজু কিছু বলবে তার আগেই রান্নাঘর থেকে মিতুর মা এসে বললো
-- রাজু খাবে কি তোমার মেয়ে তো এতক্ষণ নাক ডেকে ঘুমাচ্ছিলো। ওর সাথে খাবে বলে রাজু না খেয়ে বসে আছে এখনো।
-- কি বলো মিতুর মা। মিতু এটা কিন্তু এক দোমি ঠিক করিস নি মামনি। রাজু বাবাকে এখনো না খাইয়িয়ে রেখেছিস। চলো রাজু বাবা আমরা আজকে এক সাথে খাবো সবাই।(রাজুর দিকে তাকিয়ে)
-- এ্যা, তাহলে আমি আইস্ক্রিম আর চুইংগাম খাবো কখন আব্বু?
-- আগে ভাত খাবে তারপর ওগুলো। আর একটা কথাও নয় মিতু। আমি হাত মুখ ধুয়ে এসে যেনো দেখি তোমরা খাবার টেবিলে খেতে বসেছো।(রাগি গলায় বললো মিতুর বাবা)
বাবার কথা শুনে মিতু আর কিছু বললো না। মুখ ফুলিয়ে খাবার টেবিলে গিয়ে বসলো। মিতুর এমন মুখ দেখে রাজু মুখ টিপে টিপে হাসছে।
তারপর মিতুর বাবা হাত মুখ ধুয়ে এলে সবাই এক সাথে খাওয়া দাওয়া শেষ করলো।
খাওয়া দাওয়া শেষ হলে মিতু ফ্রিজ থেকে আইস্ক্রিম নিয়ে ছাদে চলে গেলো। মিতুকে ছাদে যেতে দেখে রাজুও ছাদে গেলো। ছাদে গিয়ে একটা চেয়ারে বসে মিতু মনযোগ দিয়ে আইস্ক্রিম খেতে ব্যাস্ত আর রাজু ব্যস্ত তার চুইংগাম বেইপিকে দেখতে।
একটু পর তমা আসলো ছাদে তারপর মিতুকে দেখে বললো
-- কিরে তিতু তুই আর দুলাভাই এখানে এসেছিস আর একটা বারও আমায় জানাসনি? কেমন আছেন দুলাভাই স্যার?(রাজুর কাছে একটি চেয়ারে বসতে বসতে)
-- এই তো ভালো আছি শালিকা তুমি কেমন আছো?
-- হুমম ভালো আছি। কিরে মিতু তুই শুধু খেয়েই যাবি নাকি কিছু বলবিও?
-- আরে শাঁকচুন্নি তোরা বকর বকর করনা আমায় কেনো ডাকছিস? আমাকে আইস্ক্রিম খেতে দে।(ভেঙচি দিয়ে বললো মিতু)
-- ওহ হো তিতু তোকে না আন্টি নিচে ডেকেছিলো আমি বলতে ভুলে গেছি। এখনি যেতে বলেছে তোকে আন্টি। যা গিয়ে শুনে আয় আন্টি কেনো ডাকলো তোকে?
তমার কথা শুনে আইস্ক্রিম খেতে খেতে নিচে নেমে গেলো মিতু। মিতু যেতেই রাজুও নিচে যাওয়ার জন্যে পা বারালো। ওমনি পিছন থেকে তমার চিৎকারে থেমে গেলো রাজু। পিছনে তাকিয়ে দেখে তমা চোখ ধরে দাড়িয়ে আছে আর চিৎকার করে বলছে ওর চোখে কিছু গেছে। রাজু আর নিচে না নেমে তমার চোখ ধরে দেখার চেষ্টা করে তমার চোখে কিছু গেছে কিনা।
এদিকে
মিতু নিচে গিয়ে ওর মা কে জিগ্যেস করে ওকে কেনো ডেকেছে কিন্তু মিতুর মা বলে সে ওকে ডাকেনি। এটা শুনে মিতু রেগে গিয়ে বলে
-- ঐ বান্দরনি পেত্নীটা আমায় বোকা বানালো তাইনা। ওকে তো আজকে আমি মেরেই ফেলবো।
কথাগুলো বলতে বলতে আবারও ছাদের দিকে যেতে লাগলো মিতু। ছাদের গেটের কাছে যেতেই থমকে যায় মিতু। রাজু আর তমা এক সাথে দাড়িয়ে আছে। পিছন থেকে দেখে মনে হচ্ছে ওরা দুজন দুজনকে কিস করছে। এটা দেখেই মিতু আর এক মিনিটও সেখানে না দাড়িয়ে নিচে চলে আসে কান্না করতে করতে। যতই হোক রাজু ওর স্বামী, কোনো মেয়েই তার স্বামীকে আরেক জনের সাথে এভাবে দেখে সহ্য করতে পারবে না।
মিতু চলে যেতেই তমা রাজুর থেকে সরে গিয়ে বলে
-- ধন্যবাদ দুলাভাই। আমার চোখ ঠিক হয়ে গেছে আমি এখন আসি।
কথাগুলো বলেই দৌড়ে চলে যায় তমা। রাজুও নিচে চলে আসে মিতুর কাছে। নিচে এসে দেখে মিতু রেডি হয়ে বসে আছে। রাজুকে দেখেই মিতু বলে ওঠে
-- কাজু ঘোলাদরি চলো আমরা বাসায় যাবো এক্ষুনি।আমি রেডি।
মিতুর কথা শুনে অবাক হয়ে রাজু বলে
-- এখনি চলে যাবে মানে? এই তো আজকেই এলাম। আজকে থেকে কালকে না হয় যাওয়া যাবে চুইংগাম বেইপি?
-- ঠিক আছে তোমার থাকতে হলে থাকো আমি গেলাম আমার শশুড় বাড়িতে।
কথাটা বলেই চলে যাচ্ছে মিতু। রাজু মিতুকে চলে যেতে দেখে হাত ধরে বললো
-- কি হয়েছে তোমার চুইংগাম বেইপি। ওকে ফাইন তুমি একটু ওয়েট করো আমি রেডি হয়ে আসছি।
কথা গুলো বলেই মিতুর হাত ছেরে দিয়ে রেডি হতে চলে গেলো রাজু। আর মিতু গিয়ে সোফায় বসে রইলো। ওর মনের মাঝে খুব কষ্ট হচ্ছে নিজের বেস্ট ফ্রেন্ড কি করে ওর স্বামীর সাথে এমন করতে পারলো ভেবে পাচ্ছে না মিতু।
তারপর সন্ধার পর সবার থেকে বিদায় নিয়ে শশুড় বাড়িতে ফিরে এলো মিতু। মিতুর মা বাবা অনেক বার জোর করেছে থাকার জন্যে কিন্তু মিতু কিছুতেই তাদের কথা শোনেনি।
একমাস পর,,,,,,,
চলবে,,,,,,

২৩+২৪ পর্ব
লেখা--সোনালী
একমাস পর,,,
-- কি হয়েছে দোস্ত বেশ কয়েকদিন হলো দেখছি তুই কেমন মন মরা হয়ে থাকছিস সব সময়। ব্যাপার কি বলতো?(বললো রাসেল)
-- কি বলবো ইয়ার, জানিনা তোর ভাবির কি হয়েছে আমার সাথে ঠিক করে কথাও বলে না কোনো সময়।( বললো রাজু)
-- কি বলিস দোস্ত মিতু হঠাৎ এমন আচরন করার কারন কি বলতো? তোদের মাঝে সব ঠিক আছে তো রাজু?
-- জানিনা রে, গত একমাস আগে মিতুকে ক্লাশে বকা দেওয়ায় ও বাবার বাড়ি চলে যায়। আমিও ওকে আনতে সেখানে যাই। ভেবেছিলাম শশুড় বাড়ি কয়েকদিন থাকবো। কিন্তু সেই দিন বিকেলেই মিতুর জোরাজুরিতে চলে আসতে হয় ওকে নিয়ে বাড়িতে। তার পর থেকে তোর ভাবি আর আগের মতো আমার সাথে কথা বা দুষ্টুমি কোনোটাই করে না। এমন কি আমরা এক বিছা,,,,,।(এক নিশ্বাসে এতটুকু বলে থামলো রাজু)
-- বলিস কি রাজু মিতুর এমন করার কারন কি বলতো? ও তোকে কিছু বলেছে এ ব্যাপারে কেনো এমন করছে?
-- মিতু ঠিক মতো কথাই বলে না আমার সাথে এ ব্যাপারে আর কি বলবে।(মন খারাপ করে)
-- আচ্ছা রাজু একটা কথা বলতো, যদিও এটা জিগ্যেস করা ঠিক হবেনা তবুও বন্ধু হিসাবে তোকে যদি কোনো হেল্প করতে পারি আমি। বলছি যে তোর আর মিতুর মধ্যে স্বামী স্ত্রীর মতো সব সম্পর্ক হয়েছে তো? মানে সব দিক থেকে তোরা স্বামী স্ত্রীর মতোই আছিস তো নাকি?(আগ্রহ নিয়ে জিগ্যেস করলো রাসেল)
রাসেলের কথা শুনে বড় একটা দীর্ঘশ্বাস ছেরে রাজু বললো
-- না দোস্ত, তুই আমার বেষ্ট ফ্রেন্ড তাই তোকে আজ সত্যিটা বলি। আমি মিতুকে প্রথম দেখাতেই ভালবেসে ফেলি, তারপর বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে ওকে বিয়ে করেছি ঠিকি, কিন্তু আমাদের মাঝে আর পাঁচ দশটা স্বামী স্ত্রীর মতো সম্পর্ক হয়নি এখনো।কারন আমি জানি মিতু আমায় এখনো পুরোপুরি মেনে নিতে পারেনি। আর মনের দিক থেকে ও অনেক বাচ্চা সভাবের এখনো। তাই আমি চাইনা ওর ওপর জোর করতে। ও যখন আমার ভালবাসাটা বুঝতে পেরে আমায় নিজে থেকে স্বামীর অধিকার দিবে তখনই আমি ওকে পুরোপুরি ভাবে নিজের করে নিবো তার আগে নয়।আর তাছারা এক মাস আগে শশুড় বাড়ি থেকে ওকে নিয়ে আসার পর আমরা আলাদা থাকি। আমি সোফায় আর মিতু বিছানায়।( কথাগুলো এক নিশ্বাসে বলে থামলো রাজু)
রাজুর কথা শুনে রাসেলের মনটা যেনো আনন্দে আত্বহারা হয়ে গেলো। কিন্তু রাসেল সেটাকে লুকিয়ে রেখে গোমড়া মুখে রাজুকে বললো
-- কষ্ট পাস না দোস্ত, যেমন আছিস তেমন করেই থাক। সব ঠিক হয়ে যাবে দেখেনিস। আর ভুলেও মিতুর সাথে জোর করবি না তাহলে হয়তো হিতের বিপরিত হবে।
-- হুমম আমারও এরকম কিছু করার ইচ্ছা নাই রাসেল। আমি যে খুব বেশি ভালবাসি আমার চুইংগাম বেইপিকে আমার দুষ্টু মিষ্টি পাগলী বউটাকে। আমি জানি ও একদিন ঠিক বুঝবে আমার ভালবাসা।
-- হুমম বুঝবে,(আমি ওকে বুঝতে দিলে তো ও বুঝবে, তুই ওকে কখনো নিজের করে পাবিনা রাজু। মিতু শুধু আমার, মিতু শুধু এই রাসেলের আর কারো নয়। মনে মনে তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বললো রাসেল)
আচ্ছা দোস্ত আমি এখন আসি জরুরি কাজ আছে আমার। পরে কথা হবে আবার। (বললো রাসেল)
-- হুমম আমিও এখন বাসায় যাই অনেক রাত হয়েছে। (বললো রাজু)
তারপর ওরা যে যার বাসায় চলে গেলো।
রাসেল বাসায় এসে নিজের রুমে গিয়ে মিতুর একটা ছবি হাতে নিয়ে সেটাতে কিস করতে করতে বলতে লাগলো
-- ও আমার জানেমান, আমি যে আজ কতটা খুশি তা কাউকে বলে বোঝাতে পারবো না। তুমি শুধু আমার আর কারো নয়। সেই ৫ বছর আগে থেকেই তুমি আমার। তোমার ভালবাসা পাওয়ার তোমায় স্পর্শ করার সব কিছুর অধিকার শুধু আমার। রাজু তোমার স্বামী হয়েও তোমায় এখনো পায় নি, হুহহ আর পাবেও না কখনো। তোমাদের মাঝে যে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে তা খুব তারাতারি আমি বিচ্ছেদে পরিনত করবো। তারপর তুমি শুধুই আমার হবে জানপাখি মিতু রানি। তুমি শুধুই আমার।হা হা হা হা
কথাগুলো বলে বিছানায় শুয়ে পরে জোরে জোরে হাসতে লাগলো রাসেল।
এদিকে
রাজু বাসায় ফিরে রুমে গিয়ে দেখে মিতু ঘুমিয়ে আছে লাইট অফ করে ড্রিম লাইট জ্বালিয়ে। রাজু গুটি গুটি পায়ে মিতুর কাছে এগিয়ে গিয়ে মিতুর মাথার পাশে বসে। তারপর মিতুর কপালে ভালবাসার পরশ একে দিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে আস্তে করে বলতে লাগে
-- জানিনা কেনো আমায় এত দুরে সরিয়ে রেখোছো? জানিনা সেদিন কেনোইবা ঐ বাড়ি থেকে আসার পর তুমি এতটা বদলে গেলে। আমার সাথে দুষ্টুমি ঝগড়া কিছুই করো না কেনো? আমি যে এই কষ্ট সহ্য করতে পারছিনা চুইংগাম বেইপি। প্লিজ তুমি আমার সেই একমাস আগের চুইংগাম বেইপি হয়ে যাও। তোমার ঝগড়াগুলো দুষ্টুমি গুলো যে আমি বড্ড মিস করি চুইংগাম বেইপি। আমায় এভাবে আর দুরে সরিয়ে রেখোনা প্লিজ।(কথাগুলো বলতে বলতে রাজুর চোখে পানি চলে এলো)
রাজু চোখের পানি মুছে সোফায় গিয়ে শুয়ে পরলো।তারপর ঘুমিয়ে পরলো।
একমাস আগে,,,,
মিতুর বাবার বাড়ি থেকে আসার পর রাতে ঘুমোনোর সময় রাজু যখন বিছানায় শুতে যায় তখন মিতু রাজুকে থামিয়ে দিয়ে বলে
-- তুমি আজ থেকে সোফায় ঘুমাবে আর আমি বিছানায়। আমরা আর এক সাথে ঘুমাবো না।
মিতুর কথা শুনে অবাক হয়ে রাজু বলে
-- কিন্তু কেনো চুইংগাম বেইপি? তুমি না একা একা ঘুমোতে ভয় পাও?
-- না এখন আর আমি ভয় পাইনা। আমি ঘুমোতে যাচ্ছি তুমি সোখায় শুয়ে পরো। (কথাগুলো বলেই মিতু গিয়ে বিছানায় শুয়ে পরে)
মিতুর কথা না শুনে রাজু মিতুর পাশেই বিছানায় শোয়। আর তখনি মিতু উঠে সোফায় গিয়ে শুয়ে পরে। এটা দেখে সেদিন থেকে রাজু সোফাতে ঘুমায় আর মিতু বিছানায়। এই একমাসে রাজুর সাথে খুব দরকার ছারা কথা বলে না মিতু। রাজুকে আর কাজু ঘোলাদরি বলেও ডাকেনা। সব সময় কিছু একটা ভাবে আর মন মরা হয়ে থাকে মিতু।
বর্তমানে
সকালে ঘুম থেকে উঠে কলেজের জন্যে রেডি হয় মিতু আর রাজু। তারপর খাওয়া দাওয়া শেষ করে কলেজের জন্যে বেরিয়ে পরে রাজুর বাইকে। রাজু আর মিতুর এমন মনমালিন্যর কথা ওদের বাড়ির আর কেউ জানে না। সবাই জানে ওদের মাঝে সব ঠিকি আছে।
কলেজে পৌছেই মিতু ক্যান্টিনে চলে যায় তমাকে খুঁজতে। আর রাজু চলে যায় অফিস রুমে। ক্যান্টিনে গিয়ে মিতু দেখে তমা একা একজায়গায় বসে বাইরের দিকে তাকিয়ে কি যেনো ভাবছে। মিতু তমার কাছে গিয়ে বসে তমাকে ডেকে বলে
-- ঐ পেত্নী তোর সাথে আমার কিছু কথা আছে? আমার দিকে তাকা।
মিতুর কথা শুনে মিতুর দিকে তাকায় তমা তারপর বসা থেকে উঠতে উঠতে বলে
-- এখন আমার কোনো কথা বলার ইচ্ছে নাই মিতু। আমি ক্লাশে যাচ্ছি তুইও আয়।
কথাগুলো বলেই মিতুকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই হনহনিয়ে ক্যান্টিন থেকে বেরিয়ে ক্লাশে চলে যায় তমা। আর মিতু অসহায় চোখে তাকিয়ে থাকে ওর বেস্টফ্রেইন্ড এর চলে যাওয়ার দিকে।
একমাস আগের সেদিনের পর থেকে তমা বেশ কিছুদিন কলেজে আসে না। তারপর যখন থেকে কলেজে আসছে মিতুর সাথে ঠিক করে কথা বলে না তমা। সব সময় শুধু মন মরা হয়ে বসে থাকে। কিন্তু রাজুর সাথে খুব হাসাহাসি করে কথা বলে তমা সেটা মিতুর চোখ এরায় না কখনো।
তমা চলে যাওয়ার পর মিতুও ক্লাশে চলে যায়। ক্লাশ শেষে মিতুর আগেই তমা ক্লাস থেকে বেরিয়ে আসে। মিতু ক্লাস থেকে বেরিয়ে তমাকে কোথাও দেখতে পায়না। তাই তমাকে খুঁজতে থাকে মিতু। আজকে মিতুকে জানতেই হবে তমা কেনো ওর সাথে এমন করছে। তমাকে খুজতে খুজতে লাইব্রেরির কাছে চলে আসে মিতু আর তখনি দেখে লাইব্রেরির দরজা দিয়ে তমা কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে আসছে।মিতুর সামনে দিয়েই দৌড়ে একটা খালি ক্লাস রুমে চলে যায় তমা। তমা কেনো কাঁদছে সেটা জানার জন্যে লাইব্রেরীতে উকি দিয়ে মিতু দেখে রাজু দাড়িয়ে কি যেনো করছে ভেতরে। মিতু বুঝে যায় নিশ্চই রাজুর আর তমার মাঝে কিছু চলছে। আজ ওকে সবটা জানতে হবে। মিতু প্রচন্ড রাগ নিয়ে তমা যে ক্লাস রুমে গেছে সেই ক্লাস রুমে গিয়ে দেখে তমা বসে বসে কাঁদছে। বেস্টফ্রেইন্ডের এমন কান্না দেখে বুকের ভিতরটা কেপে ওঠে মিতুর। তারপর মিতুর ক্লাস রুমের দরজা লাগিয়ে দিয়ে তমার সামনে গিয়ে দাড়ায়। তারপর তমার দুবাহু শক্ত করে ধরে বলতে লাগে
-- তমা আজকে তোকে বলতেই হবে কি হয়েছে তোর? কেনো তুই আমার থেকে এভাবে দুরে দুরে থাকছিস? আর কেনই বা আমায় এভাবে ইগনোর করে চলিস সব সময়? লাইব্রেরি থেকে তুই এভাবে কাঁদতে কাঁদতে আসলি কেনো বল তমা সব সত্যি করে বল আমায়?
মিতুর কথা শুনে উঠে দাড়ায় তমা তারপর মিতুর হাত ঝাড়ি মেরে সরিয়ে দিয়ে চিৎকার করে বলে
-- কি জানতে চাস তুই মিতু। আমার জীবনটা শেষ করে দিয়েও এখনো কি শান্তি পাসনি তুই? তোর সাথে বন্ধুত্ব হওয়ার পর থেকেই তুই সব সময় আমার সব কিছু কেরে নিয়েছিস পদে পদে। আর এখন আমার ভালবাসার সাথে খেলা করতে নিজের বরকে দিয়েও আমার জীবনটা শেষ করে দিলি তুই। আর কত নিচে নামবি তুই মিতু আর কতো(চিৎকার করে কান্না করতে করতে বললো তমা)
তমার কথা শুনে অবাক হয়ে দুপা পিছিয়ে গেলো মিতু। তারপর আবার নিজেকে শান্ত রেখে তমার কাছে এসে বলতে লাগলো
-- এসব তুই কি বলছিস তমা? আমি তোর সব কিছু কেরে নিয়েছি মানে? আর আমার বরকে দিয়ে ভালবাসার খেলা খেলে তোর জীবন শেষ করে দিয়েছি আমি? এসব তুই কি বলছিস তমা। প্লিজ সোনা আমার আমায় বল তুই এগুলো মজা করছিস আমার সাথে?(তমার গালে হাত রেখে কাঁদতে কাঁদতে বললো মিতু)
মিতুর হাত নিজের গাল থেকে ঝাড়ি মেরে ফেলে দিয়ে তমা বলতে শুরু করলো
-- মজা করার দিন শেষ মিতু, আমি কোনো মজা করছিনা তোর সাথে। তুই সারাজীবন আমার ক্ষতি করেছিস কিন্তু আমি কখনো কিছু বলিনি। আর এখন তোর বর রাজুকে দিয়েও আমার সাথে ভালবাসার নাটক করে আমার জীবনটা শেষ করে দিয়েছিস তুই মিতু।তুই আমার সব কিছু কেরে নিয়েছিস, আমি তোকে কখনোই ক্ষমা করবো না মিতু কখনোই না।( কথাগুলো বলতে বলতে নিচে হাটু গেরে বসে পরে তমা কান্না করে)
-- এই তমা এই দেখ আমার দিকে কি হয়েছে তোর আমায় সবটা খুলে বল প্লিজ। বিশ্বাস কর আমি তোর কথার কোনো কিছুই বুঝতে পারছি না। রাজু কি করেছে তোর সাথে বল আমায় তমা বল প্লিজ।(কান্না করতে করতে নিচে বসে পরে বললো মিতু)
চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
২৪ পর্ব
লেখা--সোনালী
-- এই তমা এই দেখ আমার দিকে, কি হয়েছে তোর আমায় সবটা খুলে বল প্লিজ। বিশ্বাস কর আমি তোর কথার কোনো কিছুই বুঝতে পারছি না। রাজু কি করেছে তোর সাথে বল আমায় তমা বল প্লিজ।(কান্না করতে করতে নিচে বসে পরে বললো মিতু)
মিতুর কথা শুনে চোখ মুছে উঠে দাঁড়ালো তমা। তমাকে দাড়াতে দেখে মিতুও উঠে দাড়ালো তমার সামনে আর জিগ্যেসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো তমার দিকে। তমা অসহায় দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ মিতুর দিকে তাকিয়ে থেকে অন্য দিকে ঘুরে বলতে লাগলো
-- সত্যিই কি তুই কিছু জানিস না মিতু? নাকি সব জেনেও তুই না জানার ভান করছিস? ওকে ফাইন আমিই না হয় তোকে মনে করিয়ে দেই।তুই কি অশ্বিকার করতে পারবি মিতু যে তুই এক মাস আগে তোদের বাসার ছাদে আমায় আর রাজুকে কিস করতে দেখিস নি মিতু? তুই কি অশ্বিকার করতে পারবি যে তোর সাথে রাজুর বিয়ে হয়েছে দের মাস হলো অথচ এখনো তোদের মাঝে কোনো স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি? তুই কি অশ্বিকার করতে পারবি মিতু যে রাজু তোকে এখনো প্রপোজ করেনি? উত্তর দে মিতু আমার প্রশ্নের।(অন্যদিকে তাকিয়ে কান্না করে বললো তমা)
তমার কথা শুনে দুপা পিছিয়ে গিয়ে নিচে বসে পরলো মিতু। তারপর কাপা কাপা গলায় বললো
-- হ্যা আমি দেখেছিলাম তোকে আর রাজুকে আমাদের ছাদে এক সাথে এটা সত্যি। আমি শিকার করছি তুই যা যা বললি সব সত্যি। হ্যা আমার আর রাজুর মাঝে অন্য পাচ দশটা স্বামী স্ত্রীর মতো সম্পর্ক হয়নি এখনো আর রাজু আমায় প্রপোজও করেনি কখনো। কিন্তু তুই এসব কথা কি করে জানলি তমা??( তমার দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুচকে জিগ্যেস করলো মিতু)
মিতুর কথা শুনে তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে তমা বললো
-- আর কত নাটক করবি মিতু। ঠিক আছে তাহলে শোন আমি এসব কি করে জানলাম। তোর সাথে রাজুর বিয়ের পর একটা পার্টি হয়েছিলো তোর শশুড় বাড়িতে তোর মনে আছে তো মিতু নাকি এটাও ভুলে গেছিস?
-- হুমম মনে আছে তুই বল?
-- সেদিন সেই পার্টিতে তুই মাতাল হয়ে অজ্ঞাণ হবার পর রাজু আমায় প্রপোজ করে বলে যে, ও তোকে বিয়ে করে ভুল করেছে। রাজুর আমাকে পছন্দ, রাজু আমায় ভালবাসে। তোকে ছেরে দিয়ে ও আমায় বিয়ে করবে। রাজুর কথা শুনে সেদিন আমি রাজি হইনি। কিন্তু রাজু প্রায় প্রিতিদিনই আমার সাথে আলাদা ভাবে দেখা করতো আর আমায় ভালবাসার কথা বলতো। ও তোকে বিয়ে করে সুখি নয় আমায় বলতো সব সময়। তারপর সেদিন তোদের ছাদে আমায় একা পেয়ে কিস করে বসে রাজু। সেদিনের পর থেকে আমিও ওকে ভালবাসতে শুরু করি। কিন্তু রাজু আমার ভালবাসার প্রমান হিসাবে আমার সাথে রুমডেটে যেতে চায় আর বলে, এক মাসের মধ্যেই তোকে ডিভোর্স দিয়ে ও আমায় বিয়ে করবে। বার বার না করার পরেও ভালবাসার খাতিরে আমি রাজুর কথায় রাজি হয়ে যাই। তারপর,,
এতটুকু বলেই থামলো তমা। আর অঝোরে কাঁদতে লাগলো পাগলের মতো। এদিকে তমার কথাগুলো শুনে মিতু বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে ওর চোখ দিয়ে শুধু অঝোরে পানি পরছে। কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে মিতু। কিছুক্ষণ চুপ থেকে তমা আবার বলতে শুরু করলো
-- সেই রুমডেটের পর থেকে রাজু আমার সাথে কথা বলে না ঠিক মতো শুধু তোর জন্যে। এখন আর আমায় ভালো লাগে না ওর কাছে। এদিকে আমি বুঝতে পারছি যে আমার মধ্যে আরেক জন বেরে উঠছে যে রাজুর অংশ। কিন্তু শুধু মাত্র তোর জন্যে মিতু তোর জন্যে বাচ্চাটাকে নষ্ট করতে হয়েছে আমার। মাত্র ২০ দিনের বাচ্চাকে।(সব কথা অন্য দিকে তাকিয়ে কাদতে কাদতে বললো তমা)
কথাগুলো বলা শেষ হতেই মিতুর সামনে থেকে চলে গেলো তমা। তারপর ক্লাস রুমের দরজা খুলে মিতুর দিকে তাকিয়ে কিছু একটা আস্তে করে বলে চলে গেলো তমা।আর মিতু সেখানেই বসে অঝোরে কাদতে লাগলো।
ও বিশ্বাস করতে পারছে না যে রাজু এতটা খারাপ। ও তো রাজুকে ভালবেসে ফেলেছে অনেক আগে।যতই হোক রাজু ওর স্বামী। ওদের সম্পর্ক টা পবিত্র সম্পর্ক। মিতু ভালবেসে ফেলেছে তার স্বামী রাজুকে।
তারপর সেখানে বসেই অনেক্ষন কান্নার পর নিজেকে শক্ত করে কিছু একটা ভেবে চোখ মুছে উঠে দারালো মিতু। তারপর দরজা দিয়ে বায়রে বেরিয়ে এলো। মিতু কলেজের গেটের কাছে যেতেই রাজু দৌড়ে মিতুর কাছে এসে বললো
-- এতক্ষণ কই ছিলে চুইংগাম বেইপি? আমি সেই কখন থেকে তোমায় খুজে বেড়াচ্ছি। একি তোমার চোখ মুখ এমন লাগছে কেনো চুইংগাম বেইপি?
কথাগুলো বলতে বলতে মিতুর দুগালে হাত রাখতে আসে রাজু। রাজুকে এগিয়ে আসতে দেখে মিতু দুপা পিছিয়ে গিয়ে বলে ওঠে
-- আমি ঠিক আছি, কিছু হয়নি আমার। বাসায় যাবো আমি।(গম্ভীর গলায় নিচের দিকে তাকিয়ে বলে মিতু)
মিতুর দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে আর কিছু বলেনা রাজু। তারপর দুজন মিলে বাসায় চলে আসে। বাসায় এসে মিতু হাত মুখ না ধুয়ে সোজা ছাদে চলে যায়।এদিকে রাজু ফ্রেশ হয়ে এসে মিতুকে না দেখে সব জায়গায় খুজতে থাকে ওকে।
রাজু ওর মাকে গিয়ে জিগ্যেস করে
-- আম্মু তুমি মিতুকে কোথাও দেখেছো? কলেজ থেকে এসে কই গেলো ও?
-- মিতুকে তো আমি একটু আগে ছাদের দিকে যেতে দেখলাম খোকা। তুই গিয়ে ওকে ডেকে নিয়ে আয় আমি খাবার বারছি।
মায়ের কথা শুনে রাজু সোজা ছাদে চলে গেলো। ছাদে গিয়ে দেখে মিতু ছাদের রেলিং ধরে আনমনে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। মিতুকে দেখে যেনো দেহে প্রান ফিরে পায় রাজু। রাজু গুটি গুটি পায়ে মিতুর পেছনে গিয়ে দাড়ায়। তারপর আলতো করে মিতুকে পেছন থেকে জরিয়ে ধরে কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে
-- এই চুইংগাম বেইপি কি হয়েছে তোমার? এখানে এভাবে দাড়িয়ে দাড়িয়ে কি করছো শুনি?
রাজুর কথা শুনে মিতুর খেয়াল হতেই যে রাজু ওকে জরিয়ে ধরে আছে, রাজুর দিকে ঘুরে রাজুকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো মিতু। তারপর রাজুর দিকে রাগি চোখে তাকিয়ে থেকে সোজা নিচে নেমে এলো। মিতুর এমন আচরনে অবাক হয়ে মিতুর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো রাজু। তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে রাজুও নিচে নেমে এলো।
মিতু হাত মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে নিচে খাবার টেবিলে খেতে এলো। রাজুর মা মিতুকে দেখে বললো
-- কি হয়েছে মামনি, তুমি এতক্ষণ ছাদে কি করছিলে। খোকা তোমায় না পেয়ে পাগলের মতো খুজছিলো। ছেলে হয়েছে আমার বউ পাগলা।
কথাগুলো বলে হাসতে লাগলো রাজুর মা।মিতুও মুখে হাসির রেখা টেনে গিয়ে খাবার টেবিলে বসলো। দুপুরের খাওয়া দাওয়া শেষে রুমে এসে শুয়ে পরলো মিতু। মিতুর পিছনে পিছনে রাজুও রুমে এসে মিতুর পাশে বসে বললো
-- চুইংগাম বেইপি তোমার জন্যে একটা গিফট এনেছি। এই নাও এটা তোমার।( একটা দামী ফোন মিতুর দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো রাজু)
রাজুর হাত থেকে ফোনটা নিয়ে মিতু বললো
-- thanks এটার খুব দরকার ছিলো এখন আমার।
মিতুর কথা শুনে রাজু মুচকি হেসে বললো
-- thanks কেনো বলছো, বর তো তার বউকে উপহার দিতেই পারে তাইনা। আচ্ছা শুনো তোমার এই ফোন নাম্বার আমি সেভ করে নিয়েছি আর আমার শশুড় শাশুড়ি মানে তোমার আব্বু আম্মুকেও এই ফোন থেকে ফোন করে বলে দিয়েছি এটা এখন থেকে তোমার কাছে থাকবে। আর সবার নাম্বারও সেভ করা আছে ফোনে দেখে নাও।
-- হুমম ধন্যবাদ। আমি এখন একটু ঘুমোবো প্লিজ।
-- ওকে ঘুমাও আমার একটা কাজ আছে আমি বরং আসি। আর শুনো আমার আসতে কিন্তু রাত ১০ টা বাজতে পারে। কোনো দরকার পরলে ফোনে আমার নাম্বার সেভ করে দিয়েছি তুমি আমায় কল দিও।কেমন?
রাজুর কথার উত্তরে মিতু কিছু বললো না শুধু চুপ করে শুয়ে পরলো। আর কিছুক্ষণের মাঝে ঘুমিয়ে পরলো।রাজু রেডি হয়ে মিতুর দিকে তাকিয়ে দেখলো মিতু ঘুমিয়ে গেছে। রাজু এসে মিতুর পাশে বসে ওর কপালে একটা চুমো একে দিলো। তারপর বেরিয়ে কাজে চলে গলো।
রাজু চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই মিতুর ফোনটা বেজে উঠলো আর মিতুর ঘুম ভেঙে গিয়ে ফোনের স্কিনে তাকিয়ে দেখলো Ammu দিয়ে সেভ করা নাম্বার থেকে কল এসেছে মিতুর। মিতু শোয়া থেকে উঠে বসে ফোনটা রিসিভ করে কানে ধরলো।
ফোনের ওপর পাশ থেকে কিছু কথা ভেসে এলো মিতুর কানে। কথাগুলো শুনে হাত থেকে ফোনটা পরে গেলো মিতুর। ওর শরীর প্রচন্ড ঘামতে লাগলো। দুচোখ বেয়ে টপটপ করে পানি গড়িয়ে পরতে লাগলো মিতুর। মিতু পাগলের মতো দরজা খুলে বেরিয়ে মেন ডোর দিয়ে কোথাও চলে গেলো।
দুপুরে খাবার পর বাসার সবাই ঘুমায় বলে কেউ দেখলো না মিতুর চলে যাওয়া।
৩ বছর পর,,,,,,,,,,,,
চলবে,,,,,,,,,,,,

২৫+২৬ পর্ব
লেখা--সোনালী
-- হেই baby আর কতো কাজ করবে বলো তো অফিস টাইম তো শেষ?( নীলা)
-- তোমায় কতবার বলেছি বলতো নীলা যে আমায় বেবি বাবু এসব বলে ডাকবে না? আমার ভাল লাগেনা এসব নাম শুনতে।(মিতু)
-- আরে আরে Cool মিতু cool ঠিক আছে আর বলবো না। এখন বলো বাসায় যাবে কখন?(বলল নীলা)
-- এই তো কাজ প্রায় শেষ এখন ফাইলগুলো গুছিয়ে রেখেই বাসায় যাবো।
-- তাহলে চলো এক সাথেই যাওয়া যাক।
-- ওকে তুমি একটু ওয়েট করো আমার প্রায় হয়েই গেছে।
অফিসের কাজ শেষ করে নীলা আর মিতু বাসার দিকে রওনা হলো। ওরা একি অফিসেই জব করে।ওদের বাসা প্রায় কাছাকাছি বলে ওরা প্রায় দিন এক সাথেই যাওয়া আসা করে।
(নীলা মেয়েটা একটু বেশিই মর্ডান কিন্তু মিতুকে বেশ ভালই বাসে, হাব ভাবে বোঝা যায়। মিতু এই অফিসের এম ডি এর পি এ আর নীলা ওর কলিগ। নীলা সব সময় চায় মিতুর বেস্ট ফ্রেন্ড হতে। অনেকবার মিতুকে বলেওছে কিন্তু মিতু প্রতিবারি একটি কথাই বলেছে ওর কোনো বেস্টফ্রেইন্ড এর দরকার নাই। এমনি ফ্রেন্ড হয়েই থাকতে চায়। নীলা এর কারন জানতে চাইলেও মিতু বার বার এরিয়ে গেছে)
নীলাকে বিদায় দিয়ে মিতু ওর বাসায় ঢুকলো। ডোরবেল চাপতেই একজন মধ্য বয়স্কা মহিলা এসে দরজা খুলে বললো
-- আজকে এত দেরি হলো কেনো মিতু। আমি সেই কখন থেকে অপেক্ষা করছিলাম। ফোনটাও বন্ধ করে রেখেছো, আমার বুঝি চিন্তা হয়না তোমার জন্যে?
ঐ মহিলার কথা শুনে মুচকি হেসে মিতু বললো
-- ওহ খালামনি তুমি শুধু শুধু চিন্তা করো, আজকে অফিসে একটু কাজ বেশি ছিলো, সাত দিন পর অফিসে নতুন ক্লাইন্ড আসবে, বড় একটা ডিল ফাইনাল করতে হবে আমায়। এমডি স্যার এই ডিল টার দায়ীত্ব আমায় দিয়েছেন। তাই এ কদিন আসতে একটু দেরি হবে। আর ফোনে চার্জ শেষ হয়ে গেছে তাই ফোনটা বন্ধ হয়ে গেছে। তুমি বলো সারাদিন ঠিক করে খেয়েছো তো, আর ঔসধ খেয়েছো ঠিক সময় মতো?(বাসায় ঢুকে দরজা লাগাতে লাগাতে বললো মিতু)
-- হ্যা বাবা হ্যা সব খেয়েছি। এখন শুরু হলো তো তোমার শাসন। আর এক দিন ঔসধ না খেলেকি আমি মরে যাবো নাকি যে সব সময় তোমার ফোন করে, বাসায় এসে আমার ঔসধ খাওয়ার কথা মনে করিয়ে দিতে হবে?( অভিমানি শুরে)
খালার কথা শুনে খালামনিকে জরিয়ে ধরে কান্না করে মিতু বললো
-- খবরদার খালামনি কখনো মরার কথা বলবে না। তুমি ছারা আমার আর কে আছে বলো। মা বলো বাবা বলো সব তুমি। তোমার কিছু হলে আমি কোথায় যাবো বলো খালামনি। সব কিছু হাড়িয়ে তোমাকে নিয়েই তো বেচে আছি আমি তাইনা বলো।(খালামনির বুকে মুখ লুকিয়ে কান্না করতে করতে বললো মিতু)
মিতুর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে খালামনি বললো
-- কেদো না মা কেদো না। আমি আর কতদিনই বাচবো বলো। বয়স তো আর কম হলো না আমার। কত করে বলি তোমার জন্যে ছেলে দেখি, তোমার একটা গতি করে দিয়ে যেতে পারলে মরেও শান্তি পেতাম। আমারও যে তুমি ছারা আর কেউ নাই। আমার কিছু হয়ে গেলে তোমায় কে দেখবে সেই চিন্তায় থাকি সারাক্ষণ।
-- খালামনি প্লিজ আর যাই বলো দয়া করে আমায় এই বিয়ের কথা বলবে না প্লিজ। ছেলে মানুষ আমি ঘৃনা করি। আমি কোনো দিনো বিয়ে করবো না, কোনো ছেলেকে আসতে দিবো না আমার জীবনে। এর আগেও তোমায় অনেক বার বলেছি প্লিজ আর বার বার একি কথা বলো না আমায়।
-- বুঝলাম মিতু। কিন্তু আমি আজো জানতে পারলাম না তোমার এই ছেলেদের ঘৃনা করার কারন কি? আর তুমি বিয়ের কথা শুনলেই এতো রেগে যাও কেনো?
-- খালামনি আমার খুব খুধা লেগেছে আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি তুমি খাবার বারো।
কথাগুলো বলেই নিজের রুমে চলে গেলো মিতু। আর মিতুর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে খালামনি বললো
-- জানিনা কি হয়েছিলো তোমার জীবনে। কি কারনে তোমার মুখে কখনো প্রান খুলে হাসি দেখলাম না আজো। এই তিনটি বছর হলো তোমায় দেখছি কিন্তু আজো তোমার মনটা বুঝতে পারলাম না মামনি। তবে তোমার বিয়ে আমি দেবোই দেবো। না হলে যে আমি মরেও শান্তি পাবো না মিতু।(কথাগুলো বলে নিজের চোখের পানি মুছে খাবার বারতে চলে গেলো খালামনি)
মিতু নিজের রুমে গিয়ে ওয়াশরুমে ফ্রেশ হতে চলে গেলো। তারপর মুখে পানির ছিটা দিয়ে আয়নার দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো
-- আমি কি করে ভুলে যাবো আমার তিন বছর আগের অতিতকে। কি করে ভুলে যাবো আমি যাকে ভালবেসে ছিলাম যে আমার স্বামী ছিলো সেই মানুষটা আমার জীবন থেকে সব কেরে নিয়েছে। আমার বাবা মা আমার বেস্টফ্রেইন্ড সব কিছু কেরে নিয়েছে ঐ রাজু চৌধুরী। তাকে আমি কোনো দিন ক্ষমা করবো না। আমি তাকে ঘৃনা করি I just hate u , hate u, hate u রাজু চৌধুরী।
কথাগুলো বলে রাগে ফুসতে লাগলো মিতু। মিতুর চোখে স্পষ্ট রাজুর জন্যে ঘৃনা ফুটে উঠেছে।
-- আম্মু পরশু সকালে আমার চিটাগাং যেতে হবে একটা ডিলের ব্যপারে। প্লিজ তুমি আমার ব্যাগটা একটু গুছিয়ে রেখো।
-- আচ্ছা গুছিয়ে রাখবো কিন্তু তুই আমার কথাটার কি ভাবলি খোকা? আমি কিন্তু এখনো আমার উত্তর পাইনি?
-- কোন কথা আম্মু, কিসের উত্তর চাও তুমি?
-- তুই বিয়ে করছিস কবে খোকা? আর কতদিন ঐ মেয়েটার জন্যে অপেক্ষা করে বসে থাকবি। তিন বছর তো পার হয়ে গেলো কোথাও কি ওকে খুজে পেয়েছিস। আমি আমার ঘরে বউমা দেখতে চাই ব্যাস।
-- আম্মু আমি তোমায় আগেও বলেছি আর এখনো বলছি আমার বিয়ে হয়ে গেছে। মিতু আমার বউ। আর আমার জীবনে মিতু ছারা আর কারো অস্তিত্ব নেই। আমি জানিনা মিতু কেনো এভাবে তিন বছর আগে কোথায় চলে গেছে কিন্তু আমি এটা জানি আমার মিতু আমার কাছে ফিরে আসবে। ওকে ফিরতেই হবে আমার কাছে।
-- আর কবে ফিরবে ঐ মেয়ে। এই তিনটি বছর চোখের সামনে তিলে তিলে শেষ হতে দেখছি তোকে আমি ঐ মেয়ের জন্যে। আমি আর অপেক্ষা করতে পারবো না তুই চিটাগাং থেকে ফিরলেই তোকে আবার বিয়ে করাবো আমি ব্যাস।
কথাগুলো বলেই রাগ দেখিয়ে রাজুর রুম থেকে চলে গেলো ওর মা। আর রাজু উঠে মিতুর একটা ছবি নিয়ে বেলকুনিতে গিয়ে বসলো। তারপর মিতুর ছবির দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো
-- জানিনা তুমি কোথায় আছো কেমন আছো চুইংগাম বেইপি। কেনই বা চলে গেলে সেদিন আমায় ছেরে। সেদিন দুপুরে তোমায় ছেরে যাওয়াই যে তোমার সাথে আমার শেষ দেখা হবে সে যদি তখন জানতাম আমি তাহলে কখনোই সেদিন আমি যেতামনা তোমায় ছেরে। কি অপরাধে তুমি এভাবে শাস্তি দিচ্ছো আমায় আমি জানিনা। তুমি কি একবারো বোঝোনি চুইংগাম বেইপি যে তোমায় ছারা আমি কি করে ভালো থাকবো? তোমার শুন্যতা আমায় একজন বদরাগী বসে পরিনত করেছে। কোথায় খুজিনি তোমায় আমি? সারা ঢাকা শহর পাগলের মতো খুজে বেরিয়েছি। ঢাকার বাইরেও খুজেছি। কিন্তু তোমার হদিশ কোথাও পেলাম না। আর কত অপেক্ষা করবো তোমার জন্যে বলতে পারো? তুমি ছারা যে আমি প্রানহীন দেহ মাত্র। ফিরে এসো চুইংগাম বেইপি, ফিরে এসো প্লিজ।(অঝোরে চোখের পানি ছেরে মিতুর ছবির দিকে তাকিয়ে বললো রাজু)
মিতুর ছবিটা বুকের সাথে জরিয়ে নিয়ে চোখের পানি মুছে নিলো রাজু। এই তিন বছর হলো প্রতি রাতে এইভাবেই মিতুর জন্যে চোখের জল ফেলে রাজু। রাজু আজো জানেনা মিতু ও তার পরিবারের সবাই সেদিনের পর কোথায় হাড়িয়ে গেছে। কেউ তাদের কোথাও যেতেও দেখেনি। রাজু পাগলের মতো খুজেছে তার চুইংগাম বেইপি কে কিন্তু কোথাও খুজে পায়নি।
মিতু হাড়িয়ে যাওয়ার পর পুরো এক বছর নিজেকে গৃহবন্দি করে রেখেছিলো রাজু। সারাদিন মিতুকে পাগলের মতো খুজে বেরাতো আর রাতে দরজা বন্ধ করে মিতুর ছবি বুকে নিয়ে চিৎকার করে কাদতো রাজু। এক মাত্র ছেলের এমন অবস্থা দেখে ভেঙে পরেছিলেন রাজুর বাবা মা। রাজুর মতো তারাও মিতু ও তার পরিবারকে অনেক খুজেছে বাট কিছুতেই পায়নি। মিতু হাড়াবার এক বছরের মাথায় রাজুর বাবার স্টোক হয়। তখন থেকে তার বিজনেস দেখা শোনা করছে রাজু। চৌধুরী গ্রুপ অফ কম্পানি এর একমাত্র মালিক এখন রাজু চৌধুরী। অফিসের সবাই রাজুকে বদরাগী বস বলে মানে। গত দুই বছরে নিজেকে ঢাকার টপ বিজনেসম্যানে পরিনত করেছে রাজু চৌধুরী। রাজুর সাথে বিজনেস ডিল করতে সব কম্পানির মালিক পাগল।
রাতে খাওয়া দাওয়া শেষ করে রুমে গিয়ে শুয়ে পরলো মিতু। মিতুর চোখের সামনে ভেসে উঠলো তার অতিতগুলো। কতই না সুন্দর ছিলো মিতুর জীবন। মা বাবা আর বেস্ট ফ্রেন্ড তমাকে নিয়ে কতইনা আনন্দে চলছিলো ওর জীবন। হঠাৎ রাজু নামের কাল বৈশাখী ঝড় এসে সব কিছু ওলটপালট করে দিয়ে চলে গেছে ওর জীবনের। একে একে গত তিন বছরের সব স্মৃতি গুলো মনে করছে আর চোখের জলে বালিশ ভিজাচ্ছে মিতু। এটা ওর প্রতিদিন রাতের লুকোনো কান্না যা কেউ জানেনা আল্লাহ ছারা।
সকালে ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়ে সকালের নাস্তা খেয়ে খালামনির কাছে থেকে বিদায় নিয়ে অফিসের দিকে রওনা হলো মিতু
-- খালামনি আমি অফিস যাচ্ছি। আজকেও ফিরতে দেরি হবে তুমি কিন্তু ঠিক সময় মতো খাওয়া দাওয়া করো। আর ঔষুধটা সময় মতো নিও। আমার জন্যে টেনশন করি না আমি চলে আসবো।
-- হুমম সাবধানে যাস মা আর দুপুরে সময় মতো খেয়ে নিস নিজের যত্ন নিস। (বললো খালামনি)
খালামনির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে অফিসের পথে ছুটলো মিতু। একটু সামনে আসতেই মিতু দেখলো নীলা ওর জন্যে দাড়িয়ে আছে। নীলার হাতে ফোন হয়তো ওকেই ফোন দিচ্ছিলো। মিতুকে দেখে নীলা বলে উঠলো
-- ওহ তুমি এসেছো, আমি তোমাকেই কল দিচ্ছিলাম।চলো এক সাথে যাওয়া যাক।
-- তুমি শুধু শুধু আমার জন্যে কেনো অপেক্ষা করো নীলা। আমার জন্যে তোমার অফিসে লেট হলে তখন কি হবে বলো তো?
-- no problem baby তোমার জন্যে এতটুকু সময় আমি অপেক্ষা করতেই পারি। you are my best friends. আর নিজের best friends এর জন্যে না হয় কখনো একটু বকা খাবোই তাতে কোনো ক্ষতি নেই।
নীলার কথা শুনে মিতু আর কিছু বললো না। নীলা ওকে সত্যিই অনেক ভালবাসে but মিতু নীলাকে just friend ছারা কিছু ভাবতে পারেনা।
অফিসে পৌছে যে যার কেবিনে চলে গেলো। নিজের কেবিনে গিয়ে বসতেই অফিসের একজন স্টাফ এসে মিতুকে বললো
-- ম্যাডাম এমডি স্যার আপনাকে এক্ষুনি একবার ওনার কেবিনে ডেকেছেন।
-- এমডি স্যার আজকে এত তারাতারি চলে আসছেন অফিসে?
-- জ্বি ম্যাডাম উনি আজকে সবার আগে এসেছেন। আপনি তারাতারি যান।
-- ok, I have to go, আপনি আপনার কাজে যান। & thanks for the information.
-- you welcome mam. (হালকা হেসে বললেন ঐ লোকটা)
চলবে,,,,,,,,,,,,,
২৬ পর্ব
লেখা--সোনালী
স্টাফ টাকে বিদায় দিয়ে এমডি স্যারের কেবিনের দিকে হাটা দিলো মিতু। তারপর কেবিনের সামনে এসে দরজায় নক করে বললো
-- May I come in sar?
-- yes, please come in আমি তোমার জন্যেই অপেক্ষা করে আছি মিতু।
-- জ্বি স্যার বলুন, আমায় কেনো ডেকেছেন?
-- মিতু মামনি প্রথমত তুমি আমায় এই স্যার স্যার ডাকা বন্ধ করো। তুমি আমার ছোট বেলার বন্ধুর মেয়ে, সেই সম্পর্কে আমি তোমার আংকেল হই। তাই তুমি আংকেল বলে ডাকবে আমায় কেমন। এই দের বছর হলো তোমায় বলছি মনে থাকে না কেনো হুমম?
-- Sorry স্যার, মানে আংকেল। আসলে স্যার ডেকে অভ্যাস হয়ে গেছে তো তাই বার বার স্যার ডাকটাই চলে আসে। কিন্তু আপনি আজকে এত সকালে অফিসে আসছেন কেনো আংকেল এই অসুস্থ শরীর নিয়ে?
-- সাধে কি আর এত সকালে এসেছি আমি মামনি সাত দিন পর আমাদের যে বড় ডিলটা হওয়ার কথা ছিলো সেটা কালকেই হবে। এই ডিলটা আমাদের কম্পানির জন্যে কতটা important সেটা তো তুমি জানোই মিতু। তাই এই ডিলটার পুরো preparation তোমাকে আজকের মধ্যেই complete করতে হবে। সেই ব্যপারে তোমার সাথে কথা বলতেই আমি এত সকাল সকাল অফিসে চলে আসছি।
-- বলেন কি আংকেল তাহলে তো সত্যিই খুব চিন্তার বিষয়। এই এক দিনের মধ্যে সব কিছু complete করা সত্যিই অনেক কষ্টকর হয়ে যাবে। but আপনি চিন্তা করবেন না আংকেল আমি সব আজকের মাঝেই complete করে ফেলবো ইনশাআল্লাহ।
-- আমি জানি মিতু মামনি তুমি সব কিছু সামলে নিতে পারবে। তোমার ওপর সে বিশ্বাস সব সময়ই আছে আমার। গত দের বছর হলো দেখছি তো তোমার কাজের প্রতি আগ্রহ। I alleyways believed u my dear,
-- don't worry uncle, I am tried to my best performance, আপনি শুধু আমার জন্যে দোয়া করবেন আংকেল। আমি অবশ্যই আপনার বিশ্বাসের মর্যাদা রাখবো ইনশাআল্লাহ।
-- thank you so much মিতু মামনি। তাহলে যাও তুমি কালকের মিটিংটার জন্যে নোট রেডি করো। যত দরকার হয় ততো লোক লাগিয়ে অফিসটাকে অনেক সুন্দর করে সাজাও। যেনো মেহমানদের কোনো অসুবিধা না হয়।
-- জ্বি আংকেল আমি তাহলে এখন আসি।
মিতু মিস্টার আশরাফ খান এর কেবিন থেকে বেরিয়ে নিজের কেবিনে চলে গেলো। মিতু চলে যেতেই আশরাফ খান চেয়ারে বসে বলতে লাগলো
-- এই মিতু মেয়েটা সত্যিই অনেক লক্ষি একটা মেয়ে। আজ কালকার যুগে এমন একটি মেয়ে খুজে পাওয়াই মুশকিল। গত দের বছর হলো ও আমার এই অফিসে পি এর চাকরি করছে। ওর কাজের প্রতি আগ্রহ দেখে আমি সত্যিই অবাক হই।আমার বন্ধুর ভাগ্যটা সত্যিই ভালো ছিলো তাই এমন একটা মেয়ে পেয়েছিলো ও। কিন্তু আফসোস ওর মেয়েকে পেলেও বন্ধুকে পেলাম না জিবিত দেখতে। আমি তো মনে মনে ভেবেই রেখেছি আমার ছেলে অভি বিদেশ থেকে ফিরলেই মিতু মামনিকে আমার ঘরের লক্ষি করে নিয়ে আসবো। মিতু মামনি নিশ্চই আমার কথা ফেলতে পারবে না।
মিতু এমডি আশরাফ খানের কেবিন থেকে বেরিয়ে অফিসের সব স্টাফদের এক সাথে ডাকলো। মেনেজার সহ সবাই এক সাথে হলে মিতু সবার উদ্যেশে বলতে লাগলো
-- attention please everyone, আপনারা হয়তো সবাই জানেন সাতদিন পর আমাদের কম্পানির সাথে ঢাকার নাম্বার ওয়ান কম্পানির একটা বড় ডিল হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু কোনো এক কারনে তারা সেই ডিলের ডেট টাকে এগিয়ে কালকের ডেট করে দিয়েছেন। তাই কালকেই ওনারা ডিল করার জন্যে আমাদের অফিসে আসবেন। আপনারা সবাই জানেন যে আমাদের এমডি স্যার একটু অসুস্থ থাকায় এই ডিলটার সম্পুর্ন দায়ীত্ব আমায় দিয়েছেন। কিন্তু আপনাদের সহযোগীতা ছারা আমি একা হয়তো এই কাজটা পেরে উঠবো না। তাই আপনাদের সকলের কাছে আমার অনুরোধ আপনারা নিজেদের সাদ্ধ অনুযায়ী আমায় সহযোগীতা করবেন।
মিতুর কথা শুনে সবাই এক সাথে বলে উঠলো।
-- yes mam আমরা অবশ্যই আপনাকে help করবো। আপনি বলুন আমাদের কি করতে হবে?
-- thank you all আমি জানতাম আপনারা আমায় নিরাশ করবেন না। ম্যানেজার সাহেব please আপনি আমার সাথে আসুন আপনাকে আমি সব বুঝিয়ে দিচ্ছি আপনি সেই মতো সবাইকে নিয়ে কাজ করবেন। আর আমি কালকের মিটিংটার জন্যে নোট রেডি করে বাকি সব দিক সামলে নিবো।
তারপর মিতু ম্যানেজার সহ বাকি সবাইকে সব কাজ বুঝিয়ে দিয়ে নিজের কাজে চলে গেলো।
-- মিতু তোমাকে পাওয়ার জন্যে আমি কি না করিনি। সেই তুমি হঠাৎ কোথায় হারালে। আমি এক বছর তোমায় পাগলের মতো খুজে বেরিয়েছি। কিন্তু তোমায় কোথাও পেলাম না। তুমি কোথায় হারালে মিতু। আমি বাবা মায়ের কথা মতো বিয়ে করেছি ঠিকি কিন্তু তোমাকে এখনো ভুলতে পারিনি। তোমাকে যে আমার চাই মিতু। নিজের করে পেতে চাই আমি তোমায়।(মিতুর একটি ছবি হাতে নিয়ে বললো রাসেল)
মিতু হারিয়ে যাবার পর রাসেলও রাজুর মতো করে খুজেছে মিতুকে কিন্তু কোথাও পায়নি। মিতু হাড়ানোর এক বছর পর রাসেল বিয়ে করে মিলা নামের একটা মেয়েকে। কিন্তু রাসেল মিলার সাথে স্বাভাবিক ভাবে থাকলেও ও এখনো মিতুকেই চায়। রাসেল মিতু হাড়ানোর পর কলেজে পড়া বন্ধ করে দেয়। কারন ও যার জন্যে কলেজে ভর্তি হয়েছিলো সেই তো আর কলেজে নেই। এখন রাসেল ওর বাবার ব্যাবসা দেখাশোনা করে। রাসেল ওর বাবার ব্যাবসায় হাত দেওয়ায় ব্যাবসায় উন্নতির বদলে আরো অবনতি হয়েছে। ব্যাবসার টাকায় মাঝে মাঝেই বন্ধুদের সাথে মদ খেয়ে বাসায় ফেরে রাসেল। ওর বাবা মা বা বউ কেউ ওকে কিছু বলার সাহস পায় না এই বিষয়ে।
রাজুর সাথে আর আগের মতো দেখা বা কথা কিছুই হয়না রাসেলের। কিন্তু রাসেল রাজুর সব খবরই রাখে আর হিংসায় জ্বলে মরে।
রাসেল মিতুর ছবি হাতে নিয়ে মিতুর সাথের প্রথম দেখার কথাগুলো ভাবতে লাগলো।
আট বছর আগে
রাসেল প্রথম দেখে মিতুকে। রাসেল সেদিন ওর ফুফুর বাড়িতে (তমার বাড়ি) বেরাতে এসেছিলো। আর মিতুও তখন তমার সাথে ওদের বাসাতেই যাচ্ছিল। মিতু তমার সাথে দুষ্টুমি করতে করতে বাসায় ঢুকতে গিয়ে রাসেলের সাথে ধাক্কা লাগে আর রাসেল নিচে পরে যায়। মিতু পরে যাওয়ার আগেই তমা ধরে ফেলে মিতুকে। রাসেলকে পরে যেতে দেখে মিতু হা হা করে হাসতে থাকে আর বলে
-- এই মিস্টার চোখ কি বাসায় রেখে আসছেন নাকি। যে দিনের বেলায় আছাড় পরেন? ব্যাটা আছাড় মিঞা। এই তমা এই আছাড় মিঞাটা কে রে তোদের বাসায়?
মিতু কথাগুলো বলছিলো আর হাসছিলো। আর রাসেল নিচে পরে গিয়ে বসে থেকে অপলক তাকিয়ে দেখছিলো মিতুকে।
সেদিন ওদের অনেক কথা হয়। যদিও কথাগুলো রাসেলই বলেছিলো মিতু রাসেলের কথা শোনেও নি আর রাসেলের দিকে ভালো করে তাকায়ও নি। কিন্তু রাসেল সেই প্রথম দেখাতেই মিতুর প্রেমে পরে যায়। তারপর রাসেল ৫ বছরের জন্যে বিদেশ চলে যায় পড়াশোনার জন্যে। আর মনে মনে ভেবে নেয় বিদেশ থেকে পড়াশোনা শেষ করে ফিরেই মিতুকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বিয়ে করবে ও।
অফিসের সব কাজ complete করতে করতে রাত ১০.০০ টা বেজে যায় মিতুর। মিতু অনেক আগেই ওর খালামনিকে ফোন করে বলে দিয়েছে ওর আসতে দেরি হবে।
কাজ শেষ করে বাসায় ফেরে মিতু। বাসায় ফিরে খাওয়া দাওয়া সেরে ফোনে এলার্ম দিয়ে ঘুমিয়ে পরে মিতু। সকালে তারাতারি অফিসে যেতে হবে।
খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়ে নেয় মিতু। তারপর গোসল করে অফিসের জন্যে রেডি হয়ে নেয় মিতু। কালো রঙের একটা গাউন, মাথায় হিজাব, চোখে গারো কাজল আর ঠোঁটে হালকা গোলাপি লিপস্টিক পরে নেয় মিতু। এতটুকু সাজেই মিতুকে অনেক সুন্দর লাগছে। মিতু এমনিতেই অনেক ফর্সা। তারওপর কালো রঙের গাউন পড়ে ওকে দেখতে যেনো আরো সুন্দর লাগছে।
বাসা থেকে হালকা নাস্তা সেরে অফিসের জন্যে বেরিয়ে পরলো মিতু।
অফিসটা অনেক সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। মিতু সব কিছু পর্যবেক্ষণ করে দেখছে সব ঠিক ঠাক আছে কিনা। এমন সময় অফিসের একজন স্টাফ মিতুর কাছে এসে বলে উঠলো
-- ম্যাডাম আমি শুনেছি আমাদের কম্পানির যে কম্পানির সাথে বিজনেস ডিল হতে যাচ্ছে তার মালিক নাকি খুব বদমেজাজি সভাবের। ওনাকে নাকি সবাই খুব ভয় পায়? তো আপনার Nervous লাগছে না ম্যাডাম?
স্টাফ টার কথা শুনে মিতু মুচকি হেসে বললো
-- Nervous যে একদম লাগছে না তা বলবো না। but আমার নিজের ওপর সম্পুর্ন আস্থা আছে। আমি অবশ্যই পারবো ইনশাআল্লাহ। স্যার আমায় নিজের মেয়ের মতোন ভালবাসেন তার বিশ্বাসের মর্যাদা যে আমাকে রাখতেই হবে।
-- হুমম best of luck ম্যাডাম।
-- thank u, আচ্ছা আপনি এখন যান। ওনাদের আসার সময় হয়ে গেছে। স্যার মনে হয় ওনার কেবিনে আছেন আমি স্যারকে ডেকে নিয়ে আসছি। আপনি ওনাদের আপ্যায়নের ব্যাবস্থা করুন।ওনাদের যেনো কোনো প্রকার অসুবিধা না হয় সে দিকে লক্ষ রাখতে হবে আমাদের।
-- ok mam. আমরা অবশ্যই সে খেয়াল রাখবো। ম্যাডাম আর একটা কথা you looking so cute.
-- thanks, but do u know I don't like my praise?(কিছুটা রাগি ভাব নিয়ে বললো মিতু)
মিতুর কথা শুনে স্টাফটা নিচু কন্ঠে বললো
-- sorry mam,
-- it's ok, but don't forget next time understand?
-- জ্বি ম্যাম।
তারপর লোকটা তার কাজে চলে গেলে মিতু আশরাফ খানের কেবিনে ওনাকে ডাকতে গেলো।
মিতুর হাতে বড় একটা ফুলেরতোড়া নিয়ে দাড়িয়ে আছে। অফিসের সবার চোখ বাইরের দিকে। একটু পর একটা কালো রঙের বড় চকচকে গাড়ি এসে থামলো অফিসের সামনে,,,,
চলবে,,,,,,,
২৭ +২৮পর্ব
লেখা--সোনালী
মিতুর হাতে বড় একটা ফুলেরতোড়া নিয়ে দাড়িয়ে আছে। অফিসের সবার চোখ বাইরের দিকে। একটু পর একটা কালো রঙের বড় চকচকে গাড়ি এসে থামলো অফিসের সামনে। গাড়িটাকে থামতে দেখে মিতু আরেকবার অফিসের সব কিছুর দিকে চোখ বুলিয়ে নিলো সব ঠিকঠাক আছে কিনা দেখতে। হঠাৎ মিতু খেয়াল করলো ওর কাধের কাছের হিজাবে লাগানো একটা পিন খুলে যাচ্ছে। মিতু এক হাতে ফুলেরতোড়া টা নিয়ে অন্য হাতে সেটা ঠিক করতে লাগলো।এদিকে গাড়ি থেকে কেউ একজন নেমে এসে মিতুর সামনে দাড়িয়ে মিতুকে দেখছে, সে দিকে মিতুর খেয়ালই নাই। হঠাৎ আশরাফ খান মিতুর কানের কাছে এসে আস্তে করে বললো
-- কি করছো মিতু ওনাকে ফুল দিয়ে welcome করো।
আশরাফ খানের কথায় মিতু সামনের মানুষটার দিকে তাকাতে তাকাতে ফুলেরতোড়া টা এগিয়ে দিয়ে বললো
-- Welcome sar,,,,,,,,,
এতটুকু বলেই সামনের লোকটাকে দেখে যেনো জমে যায় মিতু। কালো কোর্ট, সাদা শার্ট, কালো জিন্স, চোখে সানগ্লাস, হাতে দামি ওয়াচ, চুলগুলো স্পাইক করা। একদম হীরো লুক নিয়ে মিতুর সামনে দাড়িয়ে মিতুর দিকে হা করে তাকিয়ে আছে চৌধুরী গ্রুপ অফ কম্পানির এমডি মিস্টার রাজু চৌধুরী। মিতুর রাজুকে এভাবে সামনে দেখে হাত থেকে ফুলেরতোড়া টা নিচে পরে যায়। আর রাজু ওর চোখের সানগ্লাস টা খুলে হাতে নিয়ে মিতুকে কিছু বলতে যাবে তার আগেই মিতু আশরাফ খানের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে
-- excuse me sar,,,
এতটুকু বলেই মিতু অফিসের ভিতর দিকে দৌড়ে চলে গেলো। অফিসের সবাই মিতুর চলে যাওয়ার দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে রইলো। আশরাফ খান রাজুকে উদ্যেশ করে বললো
-- sorry sar, please don't mind. মিতুর হয়ে আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। জানিনা ও কেনো এমন করে চলে গেলো।
আশরাফ খানের কথা শুনে রাজু বলে উঠলো
-- Who is she?
-- sar she is my P.A Mitu. please sar আপনি কিছু মনে করবেন না। মিতু কেনো এমন করলো আমি ঠিক বুঝতে পারছি না। ও অনেক ভালো একটি মেয়ে। আপনারা গিয়ে কনফারেন্স রুমে বসুন আমি দেখছি মিতু কেনো এমন করলো।
আশরাফ খানের কথা শুনে রাজু বললো
-- আপনার পিএ মিতুকে কনফারেন্স রুমে পাঠান আমি তার সাথে কথা বলতে চাই।
-- স্যার মিতু বাচ্চা একটা মেয়ে ভুল করে ফেলেছে আপনি প্লিজ কিছু মনে করবেন না। মিতুর হয়ে আমি ক্ষমা চাইছি আপনার কাছে।
-- মিস্টার খান আমি রাগ করিনি। আমি আপনার পিএর সাথে একটু আলাদা কথা বলতে চাই। don't worry আমি ওকে কিছু বলবো না। আপনি তাকে পাঠিয়ে দিন আমি ওয়েট করছি।
কথাগুলো বলেই আশরাফ খানকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই রাজু কনফারেন্স রুমে চলে গেলো। আশরাফ খান একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মিতু যে কেবিনে গেছে সেদিকে হাটা দিলো।
-- যার আরালে থাকবো বলে আজ আমি এত দুরে চলে এসেছি, সেই তার সাথেই আজকে আমার আবার দেখা হয়ে গেলো? যে আমার মা বাবা আর বেস্টফ্রেইন্ডকে আমার থেকে কেরে নিয়েছে তাকে আমি চোখের সামনে কি করে সহ্য করবো। আমি রাজু চৌধুরীকে ঘৃনা করি I just hate Raju cowdhury. (কথাগুলো মনে মনে বলছে আর কাদছে মিতু)
হঠাৎ আশরাফ খানের ডাকে ধ্যান ভাঙে মিতুর
-- মিতু মামনি, কি হয়েছে তোমার? তুমি ওখান থেকে এভাবে চলে এলে কেনো? are you ok Mitu?
আশরাফ খানের কথা শুনে চোখ মুছে নিজেকে স্বাভাবিক করে আশরাফ খানের দিকে তাকিয়ে মিতু বললো
--yes uncle I am ok, don't worry.
-- তাহলে তুমি ওভাবে ওখান থেকে চলে এলে কেনো মিতু? তুমি কি মিস্টার রাজু চৌধুরীকে আগে থেকে চেনো??
-- না আংকেল আমি তাকে চিনি না। আসলে তখন শরীরটা ভালো লাগছিলো না তাই ওভাবে চলে আসছি। এখন ঠিক আছি। I am ok uncle.
-- মিতু মিস্টার রাজু চৌধুরী তোমার সাথে কনফারেন্স রুমে দেখা করতে চান। বললো কিছু কথা আছে তোমার সাথে। তুমি কনফারেন্স রুমে যাও।
-- জ্বি আংকেল যাচ্ছি আমি। আপনি চিন্তা করবেন না। এই ডিলটা অবশ্যই হবে ইনশাআল্লাহ।
কথাগুলো বলে নিজেকে শক্ত করে কনফারেন্স রুমের দিকে হাটা দিলো মিতু। আর আশরাফ খান তাকিয়ে রইলো মিতুর যাওয়ার দিকে। আশরাফ খানের কেনো জানি মনে হচ্ছে মিতু ওনার কাছ থেকে কিছু লুকাচ্ছে। কিন্তু আশরাফ খান সেটা মিতুকে বললো না।
কনফারেন্স রুমের দরজায় নক করে মিতু বললো
-- may I come in sar?
-- yes come in,,
রাজুর কথা শুনে মিতু ভিতরে ঢুকতেই রাজু মিতুর হাত ধরে হেচকা টান দিয়ে মিতুকে শক্ত করে জরিয়ে ধরলো। তারপর বলতে লাগলো
-- তোমায় আমি এই তিনটি বছর পাগলের মতো খুজেছি মিতু। তুমি কেনো চলে গিয়েছিলে সেদিন আমা,,,,,,,
এতটুকু বলতেই মিতু নিজের শরীরের সব শক্তি দিয়ে রাজুকে ধাক্কা দিয়ে নিজের কাছ থেকে দুরে সরিয়ে দিলো। তারপর বললো
-- don't touch me. u don't forget who I am? & who r u? আপনি এখানে যে কাজে এসেছেন সেটা করে চলে যান। আমি আপনাকে চিনিনা। আর না আপনি আমায় চেনেন। (প্রচন্ড রাগ নিয়ে কথাগুলো বললো মিতু)
মিতুর এমন আচরনে রাজু শুধু হা করে তাকিয়ে মিতুকে দেখছে আর ওর কথা শুনছে। রাজুর যেনো বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে এটা ওর সেই দুষ্টু পাগলি মিতু। মিতুর এমন রুপ আগে কখনো দেখেনি রাজু। রাজু মিতুর কাছে এগিয়ে এসে মিতুর দুবাহু শক্ত করে ধরে বললো
-- কি হয়েছে তোমার চুইংগাম বেইপি? তুমি আমার সাথে এমন কেনো করছো? এই দেখো আমি তোমার কাজু ঘোলাদরি তোমার স্বামী মিতু। তুমি আমায় চিনতে পারছো না? সেদিন কেনো তুমি বাসা থেকে চলে গেছিলে চুইংগাম বেইপি। আমি পাগলের মতো খুজে বেরিয়েছি তোমায়। কি হয়েছে চুইংগাম বেইপি তুমি বলো আমায়?
রাজুর কথা শুনে রাগে রাজুর হাত ঝাড়ি দিয়ে ছারিয়ে মিতু বলতে লাগলো
-- আমি আপনার কোনো কথার উত্তর দিতে বাদ্ধ নই মিস্টার রাজু চৌধুরী। আপনি যদি আরেক বারও আমায় touch করেন তাহলে আমি ভুলে যাবো আপনি আমার বস। আমি আপনাকে চিনি না। শুনেছেন আপনি? আমি চিনিনা আপনাকে। আপনার কাজ শেষ হলে আপনি চলে যাবেন। এর মাঝে আমার সাথে কোনো প্রকার কথা বলার চেষ্টা করবেন না আপনি প্লিজ। মনে রাখবেন আমি এই কম্পানির এমডির পিএ আপনার নই।
কথাগুলো বলেই রাজুকে আর কিছু বলার সুজোগ না দিয়ে দরজা খুলে বাইরে চলে গেলো মিতু। আর রাজু হা করে তাকিয়ে রইলো মিতুর চলে যাওয়ার দিকে। রাগে ফোঁসফোঁস করতে করতে দেওয়ালে জোরে একটা ঘুশি দিলো রাজু। তারপর কিছু একটা ভেবে রাজুর সাথে আসা একজন লোককে রাজু ফোন করে আশরাফ খানকে কনফারেন্স রুমে পাঠাতে বললো একা।
কিছুক্ষণ পর আশরাফ খান রাজুর কাছে এসে বললো
-- মিস্টার রাজু আপনি আমায় ডেকেছেন?
-- yes mister Ashraf khan, come hear. & please sit down.
রাজুর কথা শুনে চেয়ারে বসতে বসতে আশরাফ খান বললো
-- any problem mister Raju? can I help you?
-- Nothing Mister Ashraf khan. আমি আপনার সাথে একটা ডিল করার জন্যে ডেকেছি। আমি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে কথা বলতে পছন্দ করিনা। তাই সরাসরি বলছি আমি আপনার এই খান গ্রুপ অফ কম্পানিটা কিনতে চাই।
রাজুর কথা শুনে আশরাফ খান অবাক হয়ে বললো
-- but why mister Raju? আপনার অতো বড় একটা কম্পানি থাকতে আপনি আমার এমন ছোট একটা কম্পানি কেনো কিনতে চান? আর আমি আমার কম্পানি বেচবো তা আপনাকে কে বললো মিস্টার রাজু?
-- আমি এত প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবো না মিস্টার খান আপনি যাস্ট আমার প্রশ্নের উত্তর দিন। আপনি আপনার কম্পানি আমার কাছে বেচবেন কি না? তবে যে উত্তরই দেন না কেনো অবশ্যই মনে রাখবেন who I am.
সামনের টেবিলের ওপর রাখা কলম ঘুরাতে ঘুরাতে বললো রাজু। রাজুর কথা শুনে আশরাফ খান একটু চিন্তা করে বললো
-- ok done mister Raju, I am consent your proposal.
-- thank u so much mister khan. you don't know you which benefits me mister khan. thank you, thank you so much mister khan.
অনেক আনন্দ নিয়ে কথাগুলো বললো রাজু। রাজুর কথা শুনে আশরাফ খান বললেন
-- it's ok mister Raju. কিন্তু আমি কি জানতে পারি আপনি কেনো আমার এই ছোট কম্পানিটা কিনতে চাচ্ছেন?
-- yes mister khan আমি অবশ্যই আপনাকে সব বলবো। আপনি আমার বাবার বয়সি তাই আপনার থেকে আমি কিছু লুকাবো না। কিন্তু আপাতত এখন আপনাকে কোনো কিছু বলা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। সময় হলে সব বলবো আপনাকে ইনশাআল্লাহ। আর আপনি যদি চান তাহলে আমি পরবর্তিতে আপনার কম্পানি আবার আপনাকে ফিরিয়ে দিবো I promise mister khan.
রাজুর কথা শুনে আশরাফ খান কিছুক্ষণ চুপ করে রাজুর দিকে তাকিয়ে থাকলো। তারপর রাজুর সাথে কিছুক্ষণ কোনো এক বিষয়ে কথা বলে রাজুকে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে এসে অফিসের সকল স্টাফদের ডাকলো আশরাফ খান। মিতু সহ সবাই এসে জিগ্যেসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো আশরাফ খানের দিকে। তখন আশরাফ খান সবার উদ্যেশে বলতে লাগলো
-- attention please everyone, তোমরা সবাই জানো যে আজকে আমাদের কম্পানির চৌধুরী কম্পানির সাথে একটা বড় ডিল হওয়ার কথা ছিলো। but কোনো এক কারনে ডিলটা cancel করতে হয়েছে। আর আজ থেকে আমাদের এই khan group of company er new md mister Raju cowdhury.
so everyone meet yours new md mister Raju cowdhury.
আশরাফ খানের কথা শুনে সবাই অবাক হয়ে আশরাফ খান আর রাজুর দিকে তাকালো। আর মিতু তো রিতিমত বড় সড় অবাকতায় পৌছে গেছে। আশরাফ খানের কথা শুনে মিতু রাজুর দিকে তাকালো আর দেখলো রাজু ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। রাজুর মুখে রহস্যময় হাসি। রাজুর দিক থেকে চোখ সরিয়ে মিতু আশরাফ খানের কাছে গিয়ে বললো
-- আংকেল কি বলছেন আপনি এসব? এই কম্পানি আপনি ওনার কাছে কেনো বেচলেন? আমাদের তো শুধু একটা ডিল হওয়ার কথা ছিলো কিন্তু আপনি এমন কেনো করলেন আংকেল?
মিতুর কথার উত্তরে আশরাফ খান কিছু বলার আগেই রাজু এগিয়ে এসে মিতুকে বললো
-- hi mis Mitu, nice to meet u. are you know? I am your new boss & you are my personal assistant? ( ডেভিল হাসি দিয়ে বললো রাজু)
রাজুর কথা শুনে মিতু আর কোনো কিছু না বলে সেখান থেকে নিজের কেবিনে চলে গেলো। মিতু চলে গেলে রাজু একে একে সবার সাথে পরিচিত হলো। আশরাফ খান রাজুকে সব বুঝিয়ে দিয়ে চলে গেলো। রাজু সবার সাথে পরিচয় পর্ব শেষ করে মিতুর কেবিনে গিয়ে বললো
-- মিতু আমার জন্যে এক কাপ কফি নিয়ে আমার কেবিনে আসো right now.
কথাটা বলে আর এক মুহুর্তও না দাড়িয়ে সেখান থেকে চলে গেলো রাজু। তারপর এমডির কেবিনে বসে অপেক্ষা করতে লাগলো মিতুর জন্যে।
চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
২৮ পর্ব
লেখা--সোনালী
-- মিতু আমার জন্যে এক কাপ কফি নিয়ে আমার কেবিনে আসো right now.
কথাটা বলে আর এক মুহুর্তও না দাড়িয়ে সেখান থেকে চলে গেলো রাজু। তারপর এমডির কেবিনে বসে অপেক্ষা করতে লাগলো মিতুর জন্যে।
একটু পর মিতু সরাসরি রাজুর কেবিনে এসে ঢুকলো। তারপর রাজুর সামনে গিয়ে বললো
-- আমি এই চাকরিটা আর করবো না। এই নিন আমার resignation letter ।(টেবিলের ওপর কিছু কাগজ ছুরে মেরে বললো মিতু)
মিতুর কথা শুনে বাকা হেসে রাজু বললো
-- I am so sorry mis Mitu, আপনার এই resignation letter তো আমি নিতে পারবো না। আর না পারবো আপনাকে ছারতে। মানে এই চাকরিটা থেকে ছারাতে। কারন মিস্টার আশরাফ খানের সাথে ডিল করার সময় আমি জানতে পেরেছি আপনি এই কম্পানির কাছে ৫ লাখ টাকা ঋনি যা আপনি এখনো পরিশোধ করেন নি। তাই এই এক বছরে সেই পাচ লাখ টাকা শুধে আসলে ৮ লাখ হয়ে গেছে। এখন সেই টাকা না সোধ করে তো আপনি যেতে পারেন না মিস মিতু?
রাজুর কথা শুনে মিতুর মনে পরলো এক বছর আগে যখন ওর মা হাসপাতালে মৃত্যু শয্যায় ছিলো তখন ও ওর মায়ের চিকিৎসার জন্যে ৫ লাখ টাকা লোন নেয় অফিস থেকে। যা এখনো ও শোধ করতে পারেনি। মিতু নিচু গলায় রাজুর দিকে তাকিয়ে বললো
-- ঐ টাকাটা আমি আশরাফ খান আংকেলের কাছে থেকে নিয়ে ছিলাম। আর সে বলেছিলো ওটার কোনো সুধ ধরবে না। আমি বেতন থেকে মাসে মাসে কেটে দিতে চেয়ে ছিলাম কিন্তু সেটা আর হয়ে ওঠেনি। আমি ঐ পাচ লাখ টাকা শোধ করে দিবো আমার একটু সময় চাই তবুও আমি এই জবটা আর করবো না। (এক নিশ্বাসে বললো মিতু)
মিতুর কথা শুনে রাজু চেয়ার ছেরে মিতুর কাছে এগিয়ে এসে ওর সামনে দাড়িয়ে বললো
-- মিস্টার খান আপনার আংকেল হয় বলে আপনাকে এই এক বছর সময় দিয়েছে আর সুধও চায় নি। কিন্তু আমি তো আর আপনার কিছু হইনা তাইনা মিস মিতু? তাহলে আমি কেনো আপনাকে সময় দিবো বা সুধ নিবোনা? এই কম্পানিটা যেহুতু এখন আমার। তখন সব কিছু আমার মতই চলবে। আপনার এই চাকরিটা ছারা হবে না। এক মিনিট এক মিনিট তুমি তো আমার পিএ আমি তোমার সাথে আপনি আপনি কেনো করছি? যাও গিয়ে কফি নিয়ে আসো আমার জন্যে। আর next time আমার কেবিনে ঢোকার আগে অনুমতি নিয়ে ঢুকবে। (কথাগুলো মিতুর খুব কাছে এসে দাড়িয়ে বললো রাজু)
রাজুর কথা শুনে মিতু ভাল ভাবেই বুঝতে পারলো ওর আর কোনো উপায় নেই। চাকরিটা ওকে করতেই হবে। তাই মিতু আর কথা না বারিয়ে চোখের পানি মুছে রাজুর জন্যে কফি আনতে চলে গেলো।
মিতু চলে যেতেই রাজু মিতুর রেখে যাওয়া resignation letter ছিরে ফেলে বলতে লাগলো
-- এত সহজে তো তোমায় আমি ছারছিনা মিস চুইংগাম বেইপি। তুমি কেনো এমন করছো, কেনই বা সেদিন ওভাবে চলে এসেছিলে। আমার শশুড় শাশুড়িরই বা কি হয়েছে সব কিছু যে আমায় জানতেই হবে। আর আমি আমার আগের চুইংগাম বেইপিকেও ফিরিয়ে আনবো আমার কাছে। আজ থেকে শুরু হবে তোমার ওপর আমার রোমান্টিক অত্যাচার। so Mitu rani redy for my love torture,
কথাগুলো বলে ডেভিল হাসি দিয়ে চেয়ারে গিয়ে বসে কাজে মনযোগ দিলো রাজু। এদিকে মিতু কফি আনতে ক্যান্টিনে গিয়ে দেখে ওখানে নীলাও দাড়িয়ে আছে। মিতুকে দেখে নীলা মিতুর কাছে এগিয়ে এসে বলে
-- ওহ বেবি মিতু আমি তো আমাদের নতুন বসকে দেখে একদম ফিদা হয়ে গেছি। কি হ্যান্ডসাম, কি বডি বিল্ডার ওয়াও আমি তো একদম শেষ ওনাকে প্রথম দেখেই। (আনন্দে লাফাতে লাফাতে বললো নীলা)
নীলার কথা শুনে মিতু বললো
-- ইইইইইই ঐ বজ্জাত রাক্ষস কুম্ভভুতকে দেখে নাকি ফিদা হয়েছে। তো যাও না যাও গিয়ে ঝুলে পরো ওর গলায়। ব্যাটা বজ্জাত খাটাশ একটা। আমার জীবনটা বাঁশপাতা বানাই দিয়েছে।মনে মনে
-- এই মিতু বেবি কি ভাবছো তুমি? আমার মতো তুমিও কি আমাদের নতুন বসের ওপর ফিদা নাকি হুমম?
-- ইশশশ আমার খেয়ে দেয়ে কাজ নেই ঐ বদরাগী রাক্ষসটার ওপর ফিদা হবো। দেখি সরো তো আমার কাজ আছে।
কথাগুলো বলেই কফি নিয়ে চলে গেলো মিতু। আর মিতুর কথা শুনে একদম হা হয়ে মিতুর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো নীলা। মিতুর এমন ভাষা এমন কথা বলার ধরন আগে কখনো দেখেনি নীলা।
রাজুর কেবিনের সামনে এসে দরজায় নক করে মিতু বললো
-- may I come in sar?
--.......
--may I come in sar?(বিরক্ত হয়ে)
--..........
-- আমি কি ভেতরে আসবো স্যার?(রেগে গিয়ে চিৎকার করে বললো মিতু)
রাজু এতক্ষণ ইচ্ছা করেই কোনো কথা বলছিলো না। ওর খুব মজা লাগছিলো মিতুকে রাগতে দেখে।
-- ভেতরে এসো, ওখানে দাড়িয়ে ষাড়ের মতো চেঁচাচ্ছ কেনো?
-- এখন ভেতরে যদি কোনো বয়ড়া বান্দর থাকে তাহলে না চেচিয়ে আর উপায় কি?(অন্যমানুস্ক হয়ে বললো মিতু)
মিতুর কথা শুনে রাজু চেয়ার ছেরে উঠে এসে বললো
-- how dare you, কি বললে তুমি আমায়? বয়ড়া বান্দর? বসের সাথে এভাবে কেউ কথা বলে, তোমার সাহস কি করে হয় আমার সাথে এভাবে কথা বলার?
কথাগুলো বলতে বলতে মিতুর একদম কাছে চলে আসে রাজু।
মিতু বেচারি রাজুর এমন রাগ দেখে ভয়ে চোখ বন্ধ করে কফির কাপটা সামনে ধরে বলে
-- sorry sorry, sorry sar আমার ভুল হয়ে গেছে আর কখনো বলবো না। ক্ষমা করে দিন স্যার Please ,
মিতুর এমন ভিতু মুখ দেখে রাজুর খুব হাসি পাচ্ছে। রাজু মিতুর কাছ থেকে সরে চেয়ারে বসে মিতুকে বলে
-- বসো
-- আআ
-- হা করতে বলিনি বলেছি ওখানে বসো।
মিতু একটা চেয়ার টেনে বসে পরে। তারপর কফিটা রাজুর দিকে এগিয়ে দেয়। তখন রাজু বলে
-- কফিটা আগে এক চুমুক খাও।
-- এ্যা, আপনার কফি আমি কেনো খাবো?
-- আমি খেতে বলেছি তাই খাবে। বলা তো যায় না তুমি যে মেয়ে আমার জন্যে বিষ মিশিয়েও আনতে পারো।তাই আগে তুমি খেয়ে প্রমান করো তুমি বিষ মেশাও নি তারপর আমি খাবো।
রাজুর কথা শুনে মিতুর খুব রাগ হলো। তারপর এক চুমুক কফি খেয়ে বললো এই নিন খেয়েছি। এখন তো বুঝলেন আমি বিষ মেশাইনি?
মিতুর কথা শুনে বাকা হাসি দিয়ে কফির মগটা নিলো রাজু। তারপর মিতু যেখানে ঠোট লাগিয়ে খেয়েছে সেখানে ঠোট লাগিয়ে রাজু কফি খেতে লাগলো। এগিকে মিতু রাজুর কান্ড দেখে মনে মনে বললো
-- ইচ্ছে তো করছে তোকে সত্যি সত্যিই বিষ খাইয়িয়ে মারি ব্যাটা খাডাশ।মনে মনে
-- হুমম আগেই জানতাম তাই তো তোমায় খাইয়ে চেক করে নিলাম চুইংগাম বেইপি। (বাকা হেসে বললো রাজু)
রাজুর কথা শুনে বড় বড় করে রাজুর দিকে তাকিয়ে মিতু মনে মনে বললো
-- এই ব্যাডা রাক্ষস জানলো কি করে আমি কি বলছিলাম মনে মনে?
-- তোমার মন যেমন জোরে জোরে কথা বলছে তা যে কেউ শুনবে।
রাজুর এমন উত্তর শুনে মিতু আর কিছু বললো না রাজুর দিকে বড় বড় করে তাকিয়ে রইলো। মিতুর এভাবে তাকিয়ে থাকা দেখে রাজু বললো
-- দুর থেকে ওভাবে তাকিয়ে না থেকে আমার কোলে বসে আমায় দেখতে পারো মিস চুইংগাম বেইপি। আমি তো তোমারই বর বলো। আমাকে লুকিয়ে দেখার কি আছে। জানি আমি খুব হ্যান্ডসাম সব মেয়েরাই আমার ওপর ফিদা আর তুমি তো আমার বউ।(টেডি হাসি দিয়ে বললো রাজু)
রাজুর কথা শুনে মিতু রাগে ফোস ফোস করতে করতে বললো
-- Listen to me mister Raju cowdhury, না আমি আপনার বউ আর না আপনি আমার বর। you just my boss & I am your P.A তাই কখনো আমার ওপর কোনো প্রকার অধিকার খাটানোর চেষ্টা করবেন না। minded..
কথাগুলো বলেই রাজুর কেবিন থেকে বেরিয়ে গেলো মিতু। মিতুর এমন কথা শুনে রাজুর খুব কষ্ট হতে লাগলো। রাজু একা একাই বলতে লাগলো
-- কেনো এমন করছো চুইংগাম বেইপি। কেনো এভাবে আমায় পর করে দিচ্ছো। কি অপরাধ করেছি আমি। তুমি এমন বদলে গেলে কেনো চুইংগাম বেইপি। আমি যে আমার সেই দুষ্টু বউটাকে খুব মিস করছি।প্লিজ ফিরে এতো জান আমার আগের চুইংগাম বেইপি হয়ে ফিরে এসো আমার কাছে। আমি যে আর তোমার থেকে দুরে থাকতে পারছিনা জান। বড্ড বেশি ভালবাসি আমি তোমায়।(চোখের কোনায় এক ফোটা পানি গড়িয়ে পরলো রাজুর)
একটু পর অফিস টাইম শেষ হলে মিতু রাজুকে কিছু না বলেই বাসায় চলে আসে। বাসায় এসে খালামনির সাথে কোনো কথা বলেনা মিতু। সোজা নিজের রুমে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দেয়। তারপর ঘরেরে মেঝেতে খাটের সাথে হেলান দিয়ে বসে হাটুতে মুখ গুজে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে থাকে মিতু। তারপর মিতু বলে
-- কেনো কেনো ফিরে এলেন আপনি আমার জীবনে। আমি আপনাকে দেখতে চাইনা আমার সামনে আমি আপনাকে ঘৃনা করি মিস্টার রাজু চৌধুরী। আপনি আমার সব কিছু কেরে নিয়েছেন। আমার বাবা মা আমার বেস্টফ্রেইন্ড তমা, আমার হাসি খুশি দুস্টুমি সব কেরে নিয়েছেন আপনি। সেদিন দুপুরে আপনি চলে যাবার পর,,,
৩ তিন বছর আগে,,,,,,,
চলবে,,,,,,,,,,,,
২৯+৩০পর্ব
লেখা--সোনালী
৩ বছর আগে,,,
সেদিন দুপুরে
রাজু চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই মিতুর ফোনটা বেজে উঠলো আর মিতুর ঘুম ভেঙে গিয়ে ফোনের স্কিনে তাকিয়ে দেখলো Ammu দিয়ে সেভ করা নাম্বার থেকে কল এসেছে মিতুর। মিতু শোয়া থেকে উঠে বসে ফোনটা রিসিভ করে কানে ধরলো
-- হ্যালো,,
-- হ্যালো কে মিতু, আমি তোর আম্মু বলছি। এখানে একটা সর্বনাশ হয়ে গেছে মিতু।(উত্তেজিত কন্ঠে বলে উঠলো মিতুর মা)
-- কি হয়েছে আম্মু তুমি এভাবে কথা বলছো কেনো? কিসের সর্বনাশের কথা বলছো আম্মু।(মিতুও উত্তেজিত হয়ে জিগ্যেস করে ওর মাকে)
-- মিতু, আমাদের তমা,,(এতটুকু বলেই কান্না করতে থাকে মিতুর মা)
-- কি হয়েছে আম্মু তমার? তুমি এভাবে কাদছো কেনো? বলো আম্মু বলো তমার কি হয়েছে?(কান্না করতে করতে বললো মিতু)
-- মিতু আমাদের তমা গলায় ফাসি দিয়ে সুইসাইড করেছে একটু আগে।(কান্নায় ভেঙে পরে বললো মিতুর মা)
কথাগুলো শুনে হাত থেকে ফোনটা পরে গেলো মিতুর। ওর শরীর প্রচন্ড ঘামতে লাগলো। দুচোখ বেয়ে টপটপ করে পানি গড়িয়ে পরতে লাগলো মিতুর। মিতু পাগলের মতো দরজা খুলে বেরিয়ে মেন ডোর দিয়ে চলে গেলো।
দুপুরে খাবার পর বাসার সবাই ঘুমায় বলে কেউ দেখলো না মিতুর চলে যাওয়া। মিতু সোজা ওর বাবার বাসায় চলে গেলো। সেখানে গিয়ে মিতু সবার আগে তমার বাসায় যায়। সেখানে গিয়ে দেখে তমার নিথর দেহ পরে আছে নিচে। তমাকে সাদা চাদরে ঢেকে রেখেছে। মিতু তমাকে এভাবে দেখে একদম স্তব্ধ হয়ে যায়।
মিতু ধপ করে তমার লাশের পাশে বসে পরে এক নজরে তাকিয়ে থাকে তমার লাশের দিকে। পাশের একজন মহিলা তমার মুখের ওপরের কাপড় টা সরিয়ে দেয়। তমার মুখটা কেমন মলিন হয়ে আছে জ্বিব্বাটা হালকা বেরিয়ে আছে গলার কাছে গাড়ো কালো দাগ। নিজের সব চাইতে কাছের বেস্ট ফ্রেন্ড এর এমন লাশ দেখে মিতু আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেনা, অঝোর ঝারায় কাঁদতে থাকে মিতু। তমার মা বার বার জ্ঞান হারাচ্ছে মেয়ের এমন লাশ দেখে। তমা কেনো এভাবে সুইসাইড করেছে সে কথা কেউ জানেনা। একটু পর কয়েকজন মহিলা এসে তমার লাশ নিয়ে গেলো লাশ ধোয়ানোর জন্যে। মিতুর মা মিতুকে এভাবে কাঁদতে দেখে ওকে জোর করে সেখান থেকে বাসায় নিয়ে আসে।
সেদিন মিতু অনেক কান্না করে কারন আর কেউ না জানলেও মিতু জানে তমা কেনো সুইসাইড করেছে। তমা যে রাজুর জন্যে সুইসাইড করেছে এটা মিতুর বুঝতে বাকি নেই। কিন্তু মিতু কাওকে কিছু বলে না। অনেক্ষন কান্নার পর মিতু কাপা কাপা কন্ঠে ওর মাকে জিগ্যেস করে
-- আ আ আম্মু ত তমা ক কখন এমন করেছে।
-- আমরা কিছু জানিনা মিতু। আজকে কলেজ থেকে আসার পর তমা এখানে এসেছিলো। আমার সাথে স্বাভাবিক ভাবেই কথা বলে। তোর রুমে গিয়েও ঘুরে আসে তমা। তারপর কিছু না বলেই তমা চলে যায় এখান থেকে। তার কিছুক্ষণ পরেই ওদের বাড়িতে কান্নার শব্দ শুনে আমি সেখানে যাই আর গিয়ে দেখি তমা মা,,,,, (মুখে হাত দিয়ে কেদে দেয় মিতুর মা)
মায়ের কথা শুনে মিতু কিছুক্ষণ চুপ করে বসে চোখের জল ফেলে। তারপর চিৎকার করে ওর আব্বুকে ডাকতে থাকে। মিতুর এমন আচরনে মিতুর আব্বু আম্মু দুজনেই ঘাবড়ে যায়। মিতুর আব্বু মিতুকে কিছু বলবে তার আগেই মিতু ওর আব্বু আম্মুকে থামিয়ে দিয়ে বলে
-- আব্বু আম্মু তোমাদের আমার কসম দিলাম। আমরা এই মুহুর্তে এই শহর ছেরে চিরদিনের মতো চলে যাবো এখান থেকে এই বাড়ি থেকে। তোমরা আমায় কোনো প্রশ্ন করবে না যা যা দরকার সব কিছু নিয়ে এখনি এই মুহুর্তে চলে যাবো আমরা এই শহর ছেরে অনেক দুরে।
মিতুর কথা শুনে মিতুর মা বাবা অবাক চোখে মিতুর দিকে তাকিয়ে বলে
-- কি বলছিস কি তুই মিতু? আমরা কেনো চলে যাবো এখান থেকে? আর তুইই বা কেনো যাবি? তোর শশুড় বাড়িতে সব ঠিক আছে তো মিতু?
-- তোমাদের সব প্রশ্নের উত্তর আমি দিবো তার আগে এই মুহুর্তে এখান থেকে এই বাড়ি থেকে চলো প্লিজ তোমরা। তোমরা যদি এখনি এই বাড়ি থেকে না যাবে তাহলে তমার মতো আমারও মরা মুখ দেখতে হবে তোমাদের।
মিতুর কথা শুনে মিতুর মা বাবা একদম স্তব্ধ হয়ে যায়। তারা কিছুতেই বুঝতে পারছে না মিতু কেনো এমন বলছে। কিন্তু মিতুর মরা মুখ দেখার কথা শুনে তাকে আর কোনো প্রশ্ন করার মতোও কিছু পাচ্ছেনা মিতুর মা বাবা। কারন মিতু তাদের একমাত্র সন্তান। তাই বাদ্ধ হয়েই মিতুর কথা মতো মিতুর মা বাবা প্রয়জনিয় কিছু জিনিস জামাকাপড় আর এটিএম কার্ড সহ সব কিছু নিয়ে বাসায় তালা দিয়ে বেরিয়ে আসে মিতুর সাথে। মিতুর কথা মতো মিতু আর মিতুর মা কালো বোরখা পড়ে আর মিতুর বাবা মুখে মাক্স পড়ে নেয় যাতে তাদের চলে যাওয়ার ব্যাপারটা কেউ বুঝতে না পারে। তমার বাসার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় মিতু শেষ বারের মতো তমাদের বাসার দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলে
-- আমাকে তুই মাফ করে দিস তমা। তোর কবর দেওয়া পর্যন্ত সময়ও আমি থাকতে পারলাম না তোর কাছে। আমার জন্যেই যে তোর আজ এই অবস্থা। আমায় তুই ক্ষমা করিস তমা ক্ষমা করে দিস আমায়।
কথাগুলো মনে মনে ভেবে চোখের পানি মুছে মা বাবাকে নিয়ে সেদিন চিটাগাং চলে যায় মিতু। চিটাগাং পৌছে একটা হোটেলে ওঠে মিতু ওর বাবা মাকে নিয়ে। এর মাঝে মিতুর মা বাবা অনেক বার প্রশ্ন করে মিতুকে মিতু কেনো এভাবে ওদের নিয়ে চলে এলো। কিন্তু মিতু কোনো উত্তর দেয় না শুধু বলে পরে বোলবো। মিতু ওর মা বাবার ফোন সহ নিজের ফোনটাও বন্ধ করে বাসায় ফেলে আসে সেদিন। তারপর ওরা দুদিন হোটেলে থেকে বাসা ভারা খুজতে শুরু করে। এর মাঝে মিতুর মায়ের দেখা হয় তার ছোট বেলার বান্ধবির সাথে। যিনি এখন বর্তমানে মিতুর খালামনি হয়ে আছে তার সাথে। মিতুর মায়ের সেই বান্ধবির বাসাতেই ওঠে মিতুর মা বাবা ও মিতু। কিন্তু মিতুর কথা মতো ওনাকে মিতুর মা বাবা বা মিতু কোনো কারনই বলে না ওরা কেনো চলে এসেছে এখানে।
মিতুর মায়ের ঐ বান্ধবির বিয়ে হয় এক বড়লোক পরিবারে। তারা নিজেরাও ছিলো বড়লোকই। কিন্তু বিয়ের ১০ বছর হয়ে যাওয়ার পরেও ওনার কোনো বাচ্চা কাচ্চা হয়না বলে তার স্বামী তাকে ডাক্তারি চেকাপ করিয়ে জানতে পারে সে কোনো দিনও মা হতে পারবে না। তাই মিতুর মায়ের বান্ধবিকে ডিভোর্স দেয় সে। তারপর থেকে সে তারপর বাবা মায়ের সাথে এই বাসাতেই থাকে। এক সময় তার বাবা মা বৃদ্ধ হয়ে মারা যায়। তখন থেকে সে একাই এই বাসায় থাকে। আর চাকরি করে ও বাসা ভাড়া দিয়ে নিজের খরচ চালায়। মিতুর মায়ের বান্ধবির বাড়িটা দোতালা ও অনেক সুন্দর একটা বাড়ি। বর্তমানে মিতু সেখানেই থাকছে।
মিতুর মায়ের বান্ধবির বাসায় আসার দুদিন পর একদিন সকালে মিতুর মায়ের বান্ধবি বাসায় ছিলো না। তখন মিতুকে ওর বাবা বলে
-- মিতু তোমার কথা মতো আমি আমার ব্যাবসা ছেরে সব ছেরে এখানে চলে এসেছি। এমন কি কাওকে কিছু বলার সুজগও দাও নি তুমি। তোমার শশুড় বাড়ির লোককেও কিছু বলতে দাও নি। আজ না হয় তুমি বলবে কেনো তুমি এমন করলে। আর না হয় আমরা আজকেই আবার ফিরে যাবো ঐ বাসায়। বলো তুমি কেনো এমন করলে মিতু কি হয়েছে তোমার?
বাবার কথা শুনে কাদতে কাঁদতে সোফায় বসে পরে মিতু তার চোখের পানি ছেরে দিয়ে একে একে সব কিছু বলে মিতু ওর বাবা আর মাকে। রাসেলের বলা সব কথা আর তমার মৃত্যুর কারন। তমার বলা কথাগুলো রাজু তমাকে ঠকিয়েছে তমার পেটে রাজুর বাচ্চার কথা। সব কিছু এক নাগারে বলে মিতু ওর মা বাবার কাছে। আর অঝোরে কাঁদতে থাকে মিতু।
এক মাত্র মেয়ের এসব কথা শুনে সেদিন সহ্য করতে পারেননি মিতুর বাবা। মিতুর মুখে সব শুনে মিতুর বাবা কান্না করে বলেন
-- তোমার সাথে এত কিছু হয়েছে আর তুমি আমায় এসব কিছুই জানাওনি মামনি। আমি আমার একমাত্র মেয়ের জীবন এভাবে নষ্ট করলাম কি করে। আমি নিজেকে কি করে ক্ষমা করবো মামনি। আমার নিজের হাতে আমি আমার মেয়ের জীবন শেষ করে দিয়েছি।
কথাগুলো বলতে বলতে কষ্ট সহ্য করতে না পেরে সেদিন হার্ট এটাক করেন মিতুর বাবা। মিতু আর ওর মা মিতুর বাবাকে ধরে পাশের এক হসপিটালে নিয়ে যায়। আর সেখানে ডাক্তার জানায় মিতুর বাবা অনেক আগেই মারা গেছেন।
মিতু আর ওর মা পাগল হয়ে যায় প্রাই ওর বাবার শোকে।মিতুর মা সেদিন মেয়ের কষ্টের কথা শুনে আর স্বামীর মৃত্যুতে পাথড় হয়ে যান। মিতুর মা বাকরুদ্ধ হয়ে যায় সেদিনের পর থেকে। তার সারা শরীর প্যারালাইজড হয়ে যায় সেদিন রাতেই। কিন্তু এসব কোনো কথাই মিতু ওর খালামনিকে বলে না। শুধু বলে আচমকাই ওর আব্বুর হার্ট এটাক হয়ে মারা গেছে আর ওর মা ওর আব্বুর শোকেই এমন হয়েছে।
যদিও মিতু কথাটা সেদিন মন থেকে বিশ্বাস করেন নি খালামনি। তবুও সে মেনে নিয়েছে মিতুর কথা।
মিতুর পরিবারকে পেয়ে যেনো মিতুর খালামনি নতুন একটা পরিবার পেয়েছে। মিতুকে সে নিজের মেয়ের মতো ভালবাসে। মিতুও তাকে অনেক ভালবাসে নিজের আপন খালামনির মতই।
মিতুর বাবার মৃত্যুর পর আর মিতুর মায়ের শরীর প্যারালাইজড হওয়ার পর মায়ের চিকিৎসার জন্যে মিতুর বাবার রেখে যাওয়া সব টাকা খরচ করতে থাকে মিতু। মিতুর খালামনিও অনেক হেল্প করে ওকে বান্ধবির চিকিৎসায়। কিন্তু দের বছর এভাবে চলার পর মিতুর খালামনির বাসার সব ভাড়াটিয়া রা চলে যায়। তারপর থেকে ওদের সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হয়ে যায়। এদিকে মিতুর খালামনিও অসুস্থ হয়ে পরে তাই তার চাকরিটাও চলে যায়। শেষে আর কোনো উপায় না পেয়ে মিতু চাকরির খোজে বেরিয়ে পড়ে। পুরো দুই মাস পাগলের মতো চাকরি খুজে বেরায় মিতু। তারপর একদিন মিতু ইন্টার্ভিউ দিতে যায় আশরাফ খানের কম্পানিতে। সেখানে আশরাফ খান মিতুর বাবার নাম শুনে সব ডিটেইলস জেনে মিতুকে বলে মিতুর বাবা তার ছোট বেলার বন্ধু ছিলো। মিতুর চাকরিটা সেখানে হয়ে যায়।
তারপর থেকে বেশ ভালই চলছিলো মিতুর ওর মা আর খালামনিকে নিয়ে জীবন। কিন্তু চাকরির যখন ৬ মাস তখন একদিন রাতে হঠাৎ করে মিতুর মায়ের শরীরে খিচুনি শুরু হয়। মিতু আর ওর খালা তাৎক্ষণিক তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। ডাক্তারটা মিতুর মাকে ICU তে ভর্তি করে। আর চিকিৎসার জন্যে ৫ লাখ টাকা চায় ডাক্তার। একটা অপারেশন করতে হবে মিতুর মায়ের এমনটা জানায় ডাক্তার। মিতু সেদিন কি করবে ভেবে না পেয়ে পাগল হয়ে যায় প্রায়। শেষে অনেক ভেবে মিতু আশরাফ খানের কাছে টাকা চায় আর বলে ও বেতন থেকে কেটে দিয়ে শোধ করে দিবে। আশরাফ খান মিতু বলার সাথে সাথে টাকাটা মিতুকে দিয়ে দেয়। কারন এই ৬ মাসে সে মিতুকে নিজের মেয়ের মতই ভালবেসে ফেলে মিতুর আচরন ও কাজের প্রতি নিষ্ঠা দেখে।
হাসপাতালে টাকা দেওয়ার দুদিন পর ডাক্তার জানায় মিতুর মা মারা গেছে অপারেশনের সময়। মাকে হাড়িয়ে মিতু একদম ভেঙে পরে। তখন ওর একমাত্র আপনজন ছিলো ওর মায়ের বান্ধবি মানে মিতুর খালামনি।
সেদিনের পর থেকে এই খালামনিই মিতুর সব। আর মিতুই ওর খালামনির দুনিয়া।
বর্তমানে,,,
এসব কথা ভাবতে ভাবতে চোখের জলে গলার কাছের জামা ভিজে গেছে মিতুর। মিতুর সেদিকে খেয়ালই নাই। হঠাৎ দরজায় কড়া নারার শব্দে হুশ হয় মিতুর। মিতু চোখ মুছে গিয়ে দরজা খুলে দেয়। দরজা খুললে মিতুর খালামনি মিতুর রুমে ঢুকে মিতুকে বলে
-- কি হয়েছে তোমার মিতু মামনি? তুমি অফিস থেকে ফিরে এভাবে রুমে দরজা দিয়ে বসে আছো কেনো?তোমার চোখ দুটো এত ফোলা ফোলা লাগছে কেনো মিতু?
-- ও কিছুনা খালামনি। আসলে আজকে আম্মু আব্বুর কথা খুব মনে পরছিলো তাই।
মিতুর কথা শুনে বড় একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে খালামনি বললো
-- কষ্ট পেয়েও না মামনি। মৃত্যু সবারই আছে একদিন আমাদের সবাইকেই চলে যেতে হবে এই দুনিয়া ছেরে। তুমি হাত মুখ ধুয়ে খেতে আসো আমি খাবার বাড়ছি।
-- তুমি যাও আমি আসছি খালামনি।(খালামনিকে আলতো করে জরিয়ে ধরে বললো মিতু)
পরের দিন সকালে হালকা নাস্তা করে অফিসের জন্যে রেডি হয়ে নিলো মিতু। তারপর খালামনির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে পরলো অফিসের উদ্যেশে। কিছুদুর আসতেই মিতু দেখলো নীলা দাড়িয়ে আছে মিতুর জন্যে। দুজন মিলে গল্প করতে করতে অফিসের দিকে যেতে লাগলো
-- এই বেবি আমার একটা উপকার করবে প্লিজ?
-- হুমম যদি সাদ্ধের মধ্যে হয় তাহলে অবশ্যই করবো। তবে তুমি আগে আমায় এই বেবি বলা বন্ধ করো প্লিজ নীলা।
-- ওকে ওকে বেবি sorry মানে মিতু আমি না আসলে বলতে চাইছিলাম যে তুমি তো আমাদের নতুন বসের পিএ। তাই বলছিলাম কি আমি না আমাদের বসকে খুব ভালবেসে ফেলেছি তুমি একটু ওনার সাথে আমায় লাইন করিয়ে দাও না প্লিজ মিতু।
-- দেখো নীলা আমি এখানে জব করতে এসেছি এসব করতে নয়। আর না কাউকে প্রেমে হেল্প করতে। আমার দারা এসব হবে না প্লিজ তুমি আমায় ক্ষমা করো। তবে আমি স্যারকে বলবো তোমার কথা।
-- ooooo thank u thank u baby তুমি শুধু আমার কথা বলে ওনার সাথে আমায় মিল টা করিয়ে দাও আর কিছু চাই না আমার।
-- অফিস চলে আসছি তুমি তোমার কেবিনে যাও bye নীলা।
-- hmm bye মনে করে বোলো কিন্তু।
মিতু ওর কেবিনে গিয়ে বসতেই মিতুর কেবিনের ফোন বেজে উঠলো
-- হ্যালো,,
-- মিস মিতু এক্ষুনি আমার কেবিনে আসো কিছু ফাইল complete করতে হবে। right now.
এতটুকু বলে মিতুকে আর কিছু বলার সময় না দিয়ে ফোন কেটে দিলো রাজু। মিতু কাধের ব্যাগটা পাশে রেখে রাজুর কেবিনের দিকে যেতে লাগলো আর মনে মনে রাজুকে গালাগালি দিতে লাগলো
-- ব্যাটা রাক্ষস খাচ্চোর বান্দর উগন্ডার লেংটি ইদুর অফিসে এসে একটু বসতেও পারলাম না বজ্জাতটার ডাকাডাকি শুরু। এএএ right now এমন ভাবে বলে যেনো আমি ওর বিয়ে করা বউ হুহহ।মনে মনে
কথাগুলো বলতে বলতে রাজুর কেবিনের কাছে চলে এলো মিতু,,,,,,,,,
চলবে,,,,,,,,,,,,,,
৩০ পর্ব
লেখা--সোনালী
-- ব্যাটা রাক্ষস খাচ্চোর বান্দর উগন্ডার লেংটি ইদুর অফিসে এসে একটু বসতেও পারলাম না বজ্জাতটার ডাকাডাকি শুরু। এএএ right now এমন ভাবে বলে যেনো আমি ওর বিয়ে করা বউ হুহহ।মনে মনে
কথাগুলো বলতে বলতে রাজুর কেবিনের কাছে চলে এলো মিতু। তারপর দরজায় কড়া নেরে বললো
-- May I come in sar?
-- yes come in,,,,,
মিতু ভিতরে আসলে রাজু নিজের চেয়ার ছেরে উঠে দুই হাত পকেটে ভরে টেবিলের সাথে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে মিতুকে মাথা থেকে পা পর্যন্ত একবার ভালো করে দেখলো। মিতু আজকে গোলাপি রঙের একটা থ্রিপিচ পড়েছে সাথে হিজাব পড়েছে। চোখে হালকা করে কাজল। ঠোটে হালকা গোলাপি লিপস্টিক। মিতু তিন বছর আগের থেকে একটু গুলুমুলু হয়েছে। মিতুকে দেখতে আগের চাইতে এখন আরো বেশি কিউট লাগে।
রাজুকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে মিতু মনে মনে বললো
-- রাসেল ভাইয়া ঠিকি বলেছিলো এই ব্যাটা পাক্কা একটা লুচু। কিভাবে তাকিয়ে আছে দেখো যেনো এর আগে কখনো মেয়ে মানুষ দেখেনি। ইচ্ছা তো করছে চোখের ভিতর সাবানের গুড়া ছিটিয়ে ফুরুত করে পালিয়ে যাই।মনে মনে
কথাগুলো মনে মনে বলে তারপর রাজুকে বললো
-- স্যার বলুন আমায় কেনো ডেকেছেন।(অন্যদিকে তাকিয়ে রাগ নিয়ে বললো মিতু)
মিতুর কথা শুনে টেডি হাসি দিয়ে বিশ পঁচিশ টা ফাইল এনে মিতুর সামনে টেবিলে রেখে রাজু বললো
-- এগুলো চেক করে দেখো সব ঠিক আছে কিনা?
এতগুলো ফাইল একসাথে দেখে মিতু বললো
-- এই এতগুলো ফাইল আমায় চেক করতে হবে? এগুলো কিসের ফাইল স্যার?
-- ফাইল যখন তখন নিশ্চই অফিসের কোনো কাজেরই ফাইল হবে তাইনা? এখন সময় নষ্ট না করে এগুলো চেক করে দেখো। (রাগ দেখিয়ে কথাগুলো বললো রাজু)
রাজুর কথা শুনে মিতু আর কিছু না বলে ফাইলগুলো নিয়ে রাজুর কেবিন থেকে বেরিয়ে যেতে নিলো। আর তখনি রাজু পেছন থেকে বলে উঠলো
-- ও হ্যালো ওগুলো নিয়ে কোথায় যাচ্ছো তুমি?
রাজুর কথা শুনে পিছনে ঘুরে চোখ ছোট ছোট করে মিতু বললো
-- কোথায় যাচ্ছি মানে? আপনিই তো বললেন ফাইলগুলো চেক করতে। তাই ফাইলগুলো চেক করার জন্যে নিজের কেবিনে যাচ্ছি।
-- আমি কি তোমায় বলেছি তোমার কেবিনে গিয়ে ফাইলগুলো চেক করতে? চুপচাপ এখানে বসে ফাইলগুলো চেক করো।
-- মানে কি, আমি আপনার কেবিনে বসে এগুলো কেনো চেক করবো? আমার কি নিজের কেবিন নাই নাকি? আমি আমার কেবিনেই এগুলো চেক করে আনছি এখানে নয়।
-- how dare you তোমার স্পর্ধা দেখে আমি অবাক হচ্ছি। এই অফিসের বস কে আমি নাকি তুমি?
-- আপনি,,(মুখ বাকা করে)
-- আর তুমি আমার,,,
-- আমি আপনার পিএ (নিচু গলায় বললো মিতু)
-- তাহলে অবশ্যই এখানে শুধু আমার কথাই চলবে। চুপচাপ এখানে বসে নিজের কাজ করো। next time যেনো মুখে মুখে এমন কথা বলা না দেখি। Minded.....
রাজুর এমন কথা শুনে মিতু আর কথা না বাড়িয়ে চেয়ার টেনে বসে পরলো। তারপর মনে মনে রাজুর ৩২ গুষ্টি উদ্ধার করতে লাগলো
-- ব্যাটা ডেভিল রাক্ষস বনমানুষ রামছাগল ভেড়া গন্ডার পাগলা কুত্তা উগন্ডার তেলাপোকার প্রেমিক আমার জীবনডা শুকনা বাঁশপাতা বানাই দিলো। ইচ্ছা তো করছে এই ফাইলগুলার বদলে তোর মাথাটাকে খুলে খুলে অপারেশন করে ধুয়ে দেই। মনে মনে
-- আমায় গালি দেওয়া শেষ হয়ে থাকলে এখন নিজের কাজ করো। (রাগি গলায় বললো রাজু)
-- এই ব্যাটা দেখি য
জতিসিকেও হার মানাবে। মনে মনে কথা বলি তাও সব শুনে ফেলে কেমনে। মনে মনে
তারপর মিতু আর কিছু না বলে ভয়ে বড় একটা ঢোক গিলে নিজের কাজে মন দিলো। মিতু ফাইলগুলো চেক করতে ব্যাস্ত আর রাজু ব্যাস্ত তার চুইংগাম বেইপিকে মন ভরে দেখতে।
মিতু মনযোগ সহকারে প্রতিটা ফাইল চেক করছে। ফাইল চেক করতে করতে হাতের কলমটা একবার হাত দিয়ে আস্তে আস্তে ঘোরাচ্ছে আবার মুখে দিয়ে চিন্তা করছে। রাজু অপলক তাকিয়ে মিতুর এই কাজগুলো পর্যবেক্ষন করছে। মিতুর হাতের কলমটার ওপর খুব হিংসা হচ্ছে রাজুর। রাজু ভাবছে ঐ কলমটার জায়গায় যদি ও থাকতো তাহলে এভাবে মিতু ওকে হাতে নিয়ে রাখতো মুখে নিতো। মিতুর স্পর্শ পেতো ও।
-- এই মেয়ে তোমার হাতের কলমটা নিচে রেখে কাজ করো।
রাজুর কথা শুনে মিতু অবাক হয়ে রাজুর দিকে তাকিয়ে বললো
-- কেনো আমার হাতের এই কলম আবার কি করলো আপনাকে? আর তাছারা ফাইলে কোথাও ভুল থাকলে সেটা তো ঠিক করতে কলম লাগবে তাইনা?
-- না কলম লাগবে না ফাইলে সব ঠিকি আছে কোনো ভুল নেই, তুমি কলমটা রেখে চেক করো।(অন্যমানুস্ক হয়ে বললো রাজু)
রাজুর কথা শুনে এবার মিতু কিছুটা রেগে গিয়ে বসা থেকে উঠে দাড়িয়ে বললো
-- যখন আপনি জানেনই যে ফাইলে কোনো ভুল নাই তাহলে আমায় এগুলো চেক করতে দিলেন কেনো?
মিতুর কথা শুনে এবার রাজুর খেয়াল হলো ও অন্যমানুস্ক হয়ে কি বলে ফেলেছে। তাই কথা ঘুরিয়ে যাওয়ার জন্যে নিজের চেয়ার ছেরে উঠে মিতুর হাত ধরে হেচকা টান দিয়ে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরলো রাজু। এমন আচমকা টান দিয়ে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরায় ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেললো মিতু। মিতুকে চোখ বন্ধ করতে দেখে রাজু মুচকি হেসে মিতুর একদম কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো
-- এই মেয়ে আমায় পাগল না করলে কি তোমার একদমই হচ্ছে না? যখন বললাম কলমটা রেখে দিতে তুমি তবুও এত প্রশ্ন করো কেনো হুমম? তুমি জানোনা ঐ কলমটার ওপর আমার খুব হিংসা হচ্ছিল।
রাজুর কথা শুনে চোখ খুলে বড় বড় করে তাকালো মিতু। সামনে তাকাতেই মিতু দেখে রাজু ওর একদম কাছে এসে কথা বলছে। দুজনের মাঝে হয়তো এক ইঞ্চির ফাকা আছে আর। রাজুর প্রতিটা নিশ্বাস মিতু গুনতে পারছে। রাজুকে এত কাছে আসতে দেখে আর ওর কথা গুলো শুনে মিতু বলে উঠলো
-- স্যার আপনি হয়তো ভুলে যাচ্ছেন আপনি আমার বস আর আমি আপনার পি,এ তাই যখন তখন আমার সাথে এমন বিহেভ করবেন না প্লিজ। ছারুন আমায় আমি নিজের কেবিনে যাবো।
মিতুর কথা শুনে রাগ উঠে গেলো রাজুর। রাজু মিতুকে আরো বেশি শক্ত করে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরে বললো
-- কি ভাবো কি তুমি নিজেকে? তিন বছর পুড়া তিনটি বছর পাগল বানিয়ে রেখেছিলে তুমি আমায়। মানুসিক রুগি হয়ে গেছিলাম আমি তোমার জন্যে। আর এতদিন পর যখন আবার তোমায় আমি ফিরে পেলাম তখন তুমি কেনো আমার সাথে এমন করছো। কেনো দুরে সরিয়ে রেখেছো আমায়। আর কি বললে তুমি? তুমি শুধুই আমার পি,এ তাইনা? ওকে ফাইন তাহলে এবার থেকে বুঝবে এই বস কি করতে পারে তার পি,এর সাথে। বেরিয়ে যাও আমার সামনে থেকে। নইলে আমি নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারবো না। কি করে বসবো নিজেও জানিনা। (দাতে দাত চেপে বললো রাজু)
কথাগুলো বলে মিতুকে ধাক্কা দিয়ে দেওয়ালে খুব জোরে একটা ঘুশি মারলো রাজু। সাথে সাথে রাজুর হাতের চামড়া ফেটে রক্ত গড়িয়ে পরতে লাগলো। মিতু রাজুর হাতে রক্ত দেখে দৌড়ে এসে রাজুর হাত ধরে ফেললো তারপর বললো
-- কি করলেন এটা আপনি? আপনি কি পাগল, এমন কেনো করলেন? ইশশ হাতটার কি অবস্থা।( মন খারাপ করে উত্তেজিত হয়ে বললো মিতু)
মিতুর হাত ঝাড়ি দিয়ে ছাড়িয়ে রাজু আবারও মিতুকে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরে বললো
-- কোনো সহানুভূতি দেখাতে হবে না তোকে। বেরিয়ে যা আমার কেবিন থেকে। (ধসক্কা দিয়ে মিতুকে সরিয়ে দিয়ে বললো রাজু)
রাজুর চোখ দুটো রাগে লাল টকটকে হয়ে আছে। কপালের রগগুলো ফুলে উঠেছে। এমন রাগ রাজুর এর আগে কখনো দেখেনি মিতু। মিতু আর এক মুহুর্তও না দাড়িয়ে চলে গেলো নিজের কেবিনে। আর রাজু দেওয়ালে আবার একরা ঘুসি মেয়ে মনে মনে বললো
-- আর কত কষ্ট দিবে চুইংগাম বেইপি? তুমি শুধু আমার পি,এ তাইনা? ঠিক আছে এখন থেকে তুমি বুঝবে এই বস কি করতে পারে।
কথাগুলো বলে নিজের চেয়ারে গিয়ে বসে পরলো রাজু।
এদিকে রাজুর কেবিন থেকে বেড়িয়ে মিতু নিজের কেবিনে গিয়ে বসে কাজ করতে লাগলো। কিন্তু কোনো কাজে মন বসছে না মিতুর। শত হলেও রাজু ওর স্বামী, ও রাজুকে ভালবাসে। আর ভালবাসার মানুষের রক্ত ঝড়তে দেখলে কি করেই বা কাজে মন দেওয়া যায়। ভালবাসা যে বড়ই আজব জিনিস। মিতু অনেক্ষন বসে কাজে মনযোগ দেওয়ার চেষ্টা করলো। কিন্তু কাজে কিছুতেই মন বসছে না ওর। তাই আর সহ্য করতে না পেরে রাজুর কেবিনের দিকে পা বাড়ালো মিতু। কেবিনের সামনে গিয়ে কয়েকবার ডাকার পরেও ভেতর থেকে কোনো রেসপন্স না পেয়ে দরজা খুলে উকি দিয়ে মিতু যা দেখলো তা আর সহ্য করতে পারলো না,,,,,,,
চলবে,,,,,,,,,
৩১+৩২ পর্ব
লেখা--সোনালী
রাজুর কেবিন থেকে বেড়িয়ে মিতু নিজের কেবিনে গিয়ে বসে কাজ করতে লাগলো। কিন্তু কোনো কাজে মন বসছে না মিতুর। শত হলেও রাজু ওর স্বামী, ও রাজুকে ভালবাসে। আর ভালবাসার মানুষের রক্ত ঝড়তে দেখলে কি করেই বা কাজে মন দেওয়া যায়। ভালবাসা যে বড়ই আজব জিনিস। মিতু অনেক্ষন বসে কাজে মনযোগ দেওয়ার চেষ্টা করলো। কিন্তু কাজে কিছুতেই মন বসছে না ওর। তাই আর সহ্য করতে না পেরে রাজুর কেবিনের দিকে পা বাড়ালো মিতু। কেবিনের সামনে গিয়ে কয়েকবার ডাকার পরেও ভেতর থেকে কোনো রেসপন্স না পেয়ে দরজা খুলে উকি দিয়ে মিতু যা দেখলো তা আর সহ্য করতে পারলো না।
রাজু চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে ঘুমিয়ে আছে। রাজুর চোখগুলো ফুলে আছে হয়তো অনেক কান্না করেছে। আর রাজুর হাত থেকে কয়েক ফোটা রক্ত নিচে ফ্লোরে পরে শুকিয়ে আছে। হাতের ক্ষতস্থানে রক্ত জমাট বেধে শুকিয়ে গেছে। রাজুর এমন অবস্থা দেখে মিতুর বুকের বাম পাশে ব্যাথা শুরু হলো। ও আর দাড়িয়ে না থেকে দৌড়ে কেবিনের মাঝে গিয়ে রাজুর হাতটা ধরে নিজের দুহাতে নিলো। কারো হাতের স্পর্শ পেয়ে রাজুর ঘুম ভেঙে গেলো। সামনে তাকিয়ে রাজু দেখে মিতু ওর হাত ধরে বসে আছে। মিতুর চোখের কোনে পানি চকচক করছে। রাজু কোনো কথা বলছে না শুধু দেখছে মিতু কি করে। মিতু রাজুর হাতটা সযত্নে টেবিলের ওপর রেখে রাজুর কেবিনের আলমারি থেকে ঔসুধের বক্সটা বের করে এনে রাজুর হাতটা সুন্দর করে পরিস্কার করে ব্যান্ডেজ করে দিলো।
তারপর মিতু ঔসধ বক্সটা ঠিক জায়গায় রেখে কেবিন থেকে বেড়িয়ে গেলো। রাজু মিতুর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থেকে বললো
-- ভালো তো তুমি আমায় বাসো চুইংগাম বেইপি। তোমার চোখের লুকানো জলই বলে দিচ্ছে তোমার ভালবাসার কথা। কিন্তু কি এমন কারন যার কারনে তুমি আমার থেকে এভাবে নিজেকে দুরে রেখেছো। কেনই বা এতটা পরিবর্তন তোমার মাঝে। আমি সব কিছু জেনেই ছারবো চুইংগাম বেইপি। তোমাকে আমি আমার ভালবাসা দিয়েই জয় করবো। I love u Mitu I really love u(কথাগুলো বলার সময় এক ফোটা জল গড়িয়ে পরলো রাজুর চোখ থেকে।)
রাজুর কেবিন থেকে বেড়িয়ে নিজের কেবিনে গিয়ে কাজে মন দিলো মিতু। এমন সময় নীলা মিতুর কেবিনে এসে বললো
-- হেই বেবি তুমি বলেছো বসকে আমার কথা? সকালে আসার পর দেখলাম অনেকবার তুমি তার কেবিনে গেলে? বলনা প্লিজ মিতু তুমি কি বলেছো?
-- sorry নীলা আমি স্যারের কাছে কাজের জন্যে গিয়েছিলাম। তাই তোমার কথাটা আমার মনে ছিলো না।
-- ok baby no problem আবার যখন যাবে তখন না হয় বলো তাকে আমার কথা প্লিজ।
-- হুমম বলবো,,,
নীলার সাথে কথা বলতে বলতে হঠাৎ মিতুর ফোনটা বেজে উঠলো
-- হ্যালো,,
-- এখনি আমার জন্যে এক কাপ কফি বানিয়ে নিয়ে আসো।
-- জ্বি আনছি স্যার
রাজুর ফোন কেটে দিয়ে মিতু বললো
-- নীলা আমার এখন যেতে হবে, স্যারের জন্যে কফি নিয়ে যেতে বললেন স্যার। তুমি তোমার কেবিনে যাও।
-- ওকে বেবি যাচ্ছি আমি তুমি কিন্তু মনে করে স্যারকে আমার কথাটা বোলো হুমম।
নীলার কথার উত্তরে মিতু কিছু না বলে শুধু মাথা নাড়িয়ে সায় দিলো। তারপর নীলা চলে গেলে মিতু কফি বানিয়ে নিয়ে রাজুর কেবিনে গিয়ে বললো
-- may I come in sar?
-- yes come in(ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে বললো রাজু)
-- স্যার আপনার কফি!
-- এক চুমুক খেয়ে আমায় দাও? (ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে)
-- আপনার কি এখনো মনে হচ্ছে স্যার যে আমি আপনার কফিতে বিষ মিশিয়েছি?( ভ্রু কুচকে তাকিয়ে বললো মিতু)
মিতুর কথা শুনে ল্যাপটপ থেকে চোখ সরিয়ে মিতুর দিকে তাকিয়ে রাজু বললো
-- নাহ মনে হচ্ছে না। আর কখনো মনে হয়ও নি। কিন্তু তুমি এক চুমুক খেয়ে তারপরেই আমায় কফিটা দিবে। আর এটা শুধু এখন না সব সময়ের জন্যে। আর কখনো যেনো আমার এই কথাটা বলতে না হয়।(গরম শুরে বললো রাজু)
রাজুর কথা শুনে মিতু আর কোনো কথা না বলে কফিতে একটু চুমুক দিয়ে রাজুর দিকে এগিয়ে দিয়ে চলে যেতে নিলো। আর তখনি রাজু বলে উঠলো
-- মিস মিতু কোথায় যাচ্ছো তুমি?
-- নিজের কেবিনে যাচ্ছি আবার কোথায়?(ভ্রু কুচকে)
-- আমি কি তোমায় কেবিনে যেতে বলেছি? আমার কফি খাওয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত এখানে বসো। কফি খাওয়া হলে তারপর কাপ নিয়ে যাবে।
রাজুর কথা শুনে মিতু চেয়ার টেনে বসে পরলো। তারপর মনে মনে বললো
-- এই লোকটা কি যে মজা পায় আমার এঠো করা কফি খেয়ে আল্লাহই জানেন।মনে মনে
রাজু মিতু যেখানে মুখ লাগিয়ে খেয়েছিলো সেখানে মুখ লাগিয়ে কফি খাচ্ছে আর মিতুর দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলছে
-- তোমার এঠো কফির মজা তুমি বুঝবে কি চুইংগাম বেইপি? তোমার ঠোটের ছোয়ায় যে এই কফিটার স্বাদ হাজার গুন বেরে যায়। (মুচকি হেসে)
প্রায় ৩০ মিনিট পার হতে চললো তবুও রাজুর এক কাপ কফি খাওয়াই শেষ হচ্ছে না। মিতুর খুব বিরক্ত লাগছে কিন্তু উঠে যেতেও পারছে না। তাই মিতু বলে উঠলো
-- স্যার আপনার কফি খাওয়া কি শেষ হলো? এক কাপ কফি খেতে এত সময় লাগে নাকি?(রাগ দেখিয়ে বললো মিতু)
-- আমার কফি খাওয়া তো সেই কখনই শেষ। তুমি দেখনি?(টেডি হাসি দিয়ে)
রাজুর কথা শুনে মিতু বড় বড় করে তাকিয়ে রাগি গলায় বললো
-- কফি খাওয়া যখন শেষ তখন কফি মগটা হাতে নিয়ে কি মগের চেহারা দেখছেন বসে বসে? উফফ আমার কত কাজ পরে আছে।
-- কফি মগের চেহারা কেনো দেখবো আমার সামনেই তো একটা পরী বসে আছে তাকে দেখছি। মনে হয় সারাজীবন তাকিয়ে থাকলেও মন ভরবে না।মনে মনে
-- এই বজ্জাত ব্যাটায় কথা কয় না ক্যান? কি ভাবে তাকিয়ে আছে দেখো যেনো চোখ দিয়ে আমায় গিলে খাবে রাক্ষস টা। মনে মনে
তারপর মিতু রাজুর হাতের কফি মগটা টান দিয়ে নিতে নিতে বললো
-- স্যার মগটা দিন আমার কাজ আছে।
মগটা টান দেওয়াতে রাজু হাতে ব্যাথা পেয়ে আআআহহ শব্দ করে উঠলো। আর ওমনিই মিতু দৌড়ে গিয়ে রাজুর হাত ধরে বললো
-- ইশশশ খুব লেগেছে তাই না। আমি খেয়াল করিনি সরি সরি। (রাজুর হাতে ফু দিতে দিতে উত্তেজিত হয়ে বললো মিতু)
-- আমার ব্যাথা লাগলে তাতে তোমার কি চুইংগাম বেইপি? কেনো এমন উত্তেজিত হচ্ছো তুমি আমি ব্যাথা পেয়েছি বলে?
রাজুর কথা শুনে মিতু কিছু না বলে চলে যেতে নিলো নিজের কেবিনের দিকে। আর তখনি রাজু মিতুর হাত ধরে হ্যাচকা টান দিয়ে মিতুকে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো। তারপর বললো
-- আমি এখনো আমার প্রশ্নের উত্তর পাইনি। তুমি আগে আমার প্রশ্নের উত্তর দিবে তারপর যাবে। কেনো তখন ওভাবে ছুটে এসে আমার হাতে ব্যান্ডেজ করে দিলে। কেনো আমি ব্যাথা পেলে তুমি কষ্ট পাও বলো মিতু তোমাকে আজ বলতেই হবে?(মিতুকে শক্ত করে জরিয়ে ধরে বললো রাজু)
রাজুর কথা শুনে নিজেকে ছারাতে ছারাতে মিতু বললো
-- আমি আপনার কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে বাদ্ধ নই। সেগুলো আমার পার্সোনাল ব্যাপার। আমি আমার পার্সোনাল ব্যাপারে বসের কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে বাদ্ধ নই। শুনেছেন আপনি। আপনি আমার বস তাই আমার সাথে এমন কিছু করবেন না যেটা একজন বস তার পি,এ এর সাথে করতে পারে না। ছারুন আমায় আমার কাজ আছে।(রাজুর কাছ থেকে নিজেকে ছারানোর ব্যার্থ চেষ্টা করতে করতে বললো মিতু)
মিতুর কথা শুনে রাজুর রাগটা যেনো হাজারগুন বেরে গেলো। রাজু মিতুর হিজাবের মধ্যে দিয়ে মিতুর চুলের মুঠি ধরে দাতে দাত চেপে বললো
-- তুই কি মনে করিস নিজেকে। সব সময় বস বস বস করে যাচ্ছিস আমায়। আরে বসের আগে আমি তোর স্বামী বুঝলি। তোকে আমি ভালবাসি রে অসম্ভব ভালবাসি। কেনো বুঝিস না তুই? কেনো কষ্ট দিচ্ছিস এভাবে। আর কি যেনো বলছিলি তোর সাথে এমন কিছু না করতে, যা একজন বস করতে পারবে না তাই না। তাহলে দেখ এই রাজু কি করতে পারে।
কথাগুলো বলেই মিতুর চুল আরো শক্ত করে চেপে ধরে মিতুর ঠোটে ঠোট ডুবালো রাজু। এদিকে রাজুর কাটা হাতে প্রেশার পরায় হাত দিয়ে আবার টপটপ করে রক্ত পরতে শুরু হয়েছে। রাজুর হাতের রক্তে মিতুর চুল বেশ কিছু জায়গায় ভিজে যাচ্ছে। সেদিকে রাজুর কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। রাজু তার ভালবাসার স্পর্শ নিতেই ব্যাস্ত। মিতু নিজের শরীরের সব শক্তি দিয়ে চেষ্টা করছে রাজুর কাছ থেকে ছারা পেতে কিন্তু কিছুতেই পেরে উঠছে না। আর পারবেই বা কি করে রাজু যে বডি বিল্ডার ওর শক্তির কাছে মিতুর শক্তি কিছুই না।
প্রায় ১০ মিনিট পর মিতুকে ছেরে দিলো রাজু। তারপর দুজনেই হাপাতে লাগলো। রাজু মিতুর দিকে তাকিয়ে বললো
-- Next time আমায় বার বার বস বলে ডাকতে এই কথাটা মনে রেখো চুইংগাম বেইপি। কারন এর আগে তো কখনো এমন করিনি তাই স্বাদটাও বুঝিনি। আজকে যখন স্বাদটা পেলাম তখন কিন্তু সব সময়ই শুধু সুজোগ খুজবো। ইশশ পৃথিবীর সব স্বাদকে যেনো হার মানায় এই স্বাদ।(ডেভিল হাসি দিয়ে বললো রাজু)
রাজুর কথা শুনে মিতু কান্না করতে করতে দৌড়ে চলে যেতে নিলো। আর তখনি রাজু বলে উঠলো।
-- এভাবে বাইরে গিয়ে কাওকে আর নিজের মুখ দেখাতে হবে না মিস চুইংগাম বেইপি। ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে তারপর বাইরে যাও।
রাজুর কথা শুনে থমকে দাড়ালো মিতু। তারপর নিজের দিকে খেয়াল করে দেখলো সত্যিই ওর মাথার হিজাব এলোমেলো হয়ে আছে। চুলগুলোও বেরিয়ে এলোমেলো হয়ে আছে সাথে ফোটা ফোটা রক্ত লেগে আছে চুলে। মিতু চুলের রক্ত দেখে রাজুর হাতের দিকে তাকালো তারপর দেখলো রাজুর ব্যান্ডেজের ভিতর দিয়ে রক্ত বের হয়েছে। মিতু সেদিকে গুরুত্ব না দিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেলো।
ওয়াশরুমে গিয়ে নিজেকে আয়নায় দেখলো মিতুর ঠোট দুটো লাল টকটকে হয়ে আছে। হিজাব চুল কোনো কিছুই ঠিক নাই। মিতু অনেক্ষন কান্না করলো ওয়াশরুমে। তারপর ফ্রেশ হয়ে হিজাব চুল ঠিক করে বাইরে বেরিয়ে সোজা নিজের কেবিনে চলে গেলো মিতু।
আর রাজু মিতুর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বললো
-- I am sorry জান আমি তোমার সাথে জোর করে এমনটা করতে চাইনি। কিন্তু কি করবো বলো নিজের রাগটাকে যে কন্ট্রল করতে পারছিলাম না। তুমি কেনো সব সময় আমায় শুধু বস বস করো। আমি যে তোমায় বড্ড বেশি ভালবাসি। প্লিজ জান ফিরে এসো আমার কাছে আমার আগের দুষ্টু চুইংগাম বেইপি হয়ে।
সারাদিন কোনো মতে কাজ শেষ করি বাসায় ফিরলো মিতু। এর মাঝে মিতু আর কারো সাথে কথা বলেনি। নীলা বেশ কয়েকবার মিতুর কাছে এসেছে কথা বলার জন্যে কিন্তু মিতু বার বার কাজের ওজুহাত দেখিয়ে নীলাকে ইগনোর করেছে। আর সারাদিনে একবারো রাজুর মুখোমুখি হয়নি মিতু। রাজুও আর ডাকেনি মিতুকে।
বাসায় পৌছে হাত মুখ ধুয়ে খেতে বসলে মিতুর খালামনি মিতুকে বললো
-- মিতু মামনি আমাদের ওপরের ফ্লাট টা আজ ভাড়া হয়েছে। তোমায় বলবো বলে কল দিয়েছিলাম কিন্তু তোমার ফোনটা বন্ধ ছিলো। তাই আর বলা হয়নি।
-- হুমম ভালো করেছো খালামনি।
-- কি ব্যাপার মামনি তোমার মুখটা এমন শুকনো শুকনো লাগছে কেনো? চোখ গুলোও ফুলে গেছে। কি হয়েছে মিতু তোমার কি শরীর খারাপ?
-- নাহ খালামনি আমি ঠিক আছি। কথাটা বলেই হাত ধুয়ে উঠে নিজের রুমে চলে গেলো মিতু। ওর খালামনিকে আর কিছু বলার সুজোগ দিলো না,,,
চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
৩২ পর্ব
লেখা--সোনালী
-- কি ব্যাপার মামনি তোমার মুখটা এমন শুকনো শুকনো লাগছে কেনো? চোখ গুলোও ফুলে গেছে। কি হয়েছে মিতু তোমার কি শরীর খারাপ?
-- নাহ খালামনি আমি ঠিক আছি। কথাটা বলেই হাত ধুয়ে উঠে নিজের রুমে চলে গেলো মিতু। ওর খালামনিকে আর কিছু বলার সুজোগ দিলো না।
রুমে এসে দরজা লাগিয়ে বেলকুনিতে চলে গেলো মিতু। তারপর ভাবতে লাগলো আজকে সারাদিনে রাজুর সাথে ওর কেটে যাওয়া সময় গুলোর কথা। আজকে প্রথম ওকে রাজু ভালবাসি কথাটা বলেছে। আজই প্রথম যেভাবেই হোক না কেনো ও রাজুর স্পর্শ পেয়েছে। রাজু তো পর কেউ নয়, রাজু ওর স্বামী তাহলে কেনো এত বাধা কোনো এতো রাগ অভিমানে ঘিরে আছে ওদের জীবনটা। আকাশ পাতাল ভাবছে মিতু। চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পরছে অনবরত। ও যে রাজুকে ভালবাসে। খুব খুব খুব বেশিই ভালবাসে। কিন্তু ও কি করে ভুলে যাবে ওর বাবা মা আর তমার মৃত্যুর জন্যে শুধু রাজুই দায়ী। নাহ মিতু কখনোই নিজের মনের কাছে হেরে যাবে না। ভালবাসবে না ও রাজুকে। রাজু একটা খুনি সে খুন করেছে মিতুর মা বাবা আর বেস্ট ফ্রেন্ড তমাকে।
এসব কথা ভেবে চোখ মুছে নিজেকে শক্ত করলো মিতু। ও চায়না রাজুর প্রতি দুর্বল হতে। চায়না ওর বাবা মা আর তমার খুনির কাছে ফিরে যেতে। মিতু রুমে আসার জন্যে পা বারালো। আর তখনি ওর চোখে পরলো বাসার বাহিরে কালো রঙের একটা চকচকে গাড়ির দিকে। গাড়িটা দেখে মিতু আর রুমের ভেতর না গিয়ে গাড়িটাকে ভালো করে দেখার চেষ্টা করলো।
-- আরে এটা তো সেই গাড়িটা যেটাতে করে সেদিন রাজু স্যার এসেছিলো অফিসে। কিন্তু এই গাড়িটা এখানে কি করছে? (মনে মনে ভাবলো মিতু)
মিতুর মনে অনেক কৌতুহল সৃষ্টি হলো। তাই মিতু দরজা খুলে ওর খালামনির কাছে গেলো। খালামনির কাছে গিয়ে মিতু দেখে ওর খালামনি ঘুমের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মিতু গিয়ে ওর খালামনিকে জিগ্যেস করে
-- খালামনি বাইরে একটা কালো রঙের গাড়ি দাড় করানো দেখলাম, ঐ গাড়িটা কে রেখেছে ওখানে তুমি কি জানো?
-- হ্যা ওটা তো আমাদের নতুন ভাড়াটিয়ার গাড়ি। তোমায় তখন বললাম না যে আমাদের ওপরের ফ্লাটে নতুন ভাড়াটিয়া এসেছে। তারই গাড়ি ওটা। কেনো মামনি কি হয়েছে?
-- নাহ কিছুনা খালামনি। আচ্ছা আমাদের নতুন ভাড়াটিয়ার নাম কি খালামনি?
-- ইশশ নামটা তো শোনা হয়নি মা। কেনো কোনো দরকার হয়েছে কি মিতু?
-- নাহ তেমন কিছু না। আচ্ছা তুমি ঘুমাও আমি এখন যাই।
-- হ্যারে মা আমার শরীরটাও আজকে খুব একটা ভাল লাগছে না। তুই গিয়ে শুয়ে পর, আমি তো ঘুমের ঔসধ খেয়েছি ঘুমাই এখন।
মিতু ওর খালামনির কথার উত্তরে আর কিছু বললো না। খালামনির রুম থেকে বেরিয়ে দরজা ভিড়িয়ে দিলো। তারপর নিজের রুমের দিকে যেতে নিয়েও গেলোনা মিতু। কেনো জানেনা মিতুর খুব জানতে ইচ্ছা করছে ওদের ওপরের ফ্লাটটা কে ভাড়া নিয়েছে। মিতু সিদ্ধান্ত নিলো ও এখনি গিয়ে দেখে আসবে কে এসেছে ওপরের ফ্লাটে।
মিতু ওর বাসা থেকে বাইরে বেড়িয়ে খুব আস্তে করে দরজা লাগিয়ে দিলো বায়রে থেকে, যাতে ওর খালামনির ঘুম না ভেঙে যায়। তারপর সোজা চলে গেলো ওপরের ফ্লাটে। ওপরে উঠে দরজার সামনে যেতেই বুকের মধ্যে ধুকপুকানি শুরু হয়ে গেলো মিতুর। মিতু জানেনা ওর কেনো এমন হচ্ছে। কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থেকে চিন্তা করলো কি করবে। তারপর আর কিছু না ভেবে ডোরবেলে চাপ দিলো মিতু। দুইবার ডোরবেল বাজাতেই ভিতর থেকে খট করে দরজা খোলার শব্দ পেলো মিতু।
দরজা খুলে গেলো কিন্তু ভিতরে কাওকে দেখা যাচ্ছে না। রুমটা একদম অন্ধকারে ভরে আছে। শুধু একটা ড্রিম লাইট জলছে। তাতে কোনো কিছুই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না।
মিতু ভয়ে ভয়ে রুমের ভিতরে ঢুকে বলতে লাগলো
-- কেউ আছেন এখানে? দরজা খুললো কে? হ্যালো কেউ আছেন?
ভয়ে মিতুর গলা শুকিয়ে গেলো। রুমের মাঝে ও ছারা কেউ নেই। তাহলে দরজা কে খুললো। নিশ্চই ভুত হবে। এসব কথা ভেবেই মিতু দৌড়ে রুম থেকে বেড়িয়ে যেতে নিলো। আর ওমনি দরজা বন্ধ করার শব্দ পেলো। মিতুকে কেউ টান দিয়ে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরলো। মিতু ভয়ে চোখ বন্ধ করে চিৎকার দিলো
-- ওরে বাবারেএএএএএ ভু ভু ভুততততততত।
মিতুর চিৎকারের সাথে সাথে মিতুর মুখ কেউ শক্ত করে চেপে ধরলো। তারপর দাতে দাত চেপে বললো
-- এই মেয়ে একটুতেই এতো চিল্লাও কেনো হুমম। উফফ কানের দফারফা করে ফেলেছে আমার।
কন্ঠটা মিতুর খুব চেনা। তাই মিতু ধিরে ধিরে চোখ খুললো। আর দেখলো রুমের লাইট জলছে। আর রাজু ওর সামনে দাড়িয়ে ওর মুখ চেপে ধরে আছে। মিতু রাজুকে দেখে বড় বড় করে তাকিয়ে কি যেনো বললো কিন্তু মিতুর কথা রাজু কিছুই বুঝতে পারলো না। তাই রাজু বললো
-- এখন আবার বোবা মানুষের মতো এমন উমম উমমম করছো কেনো? কি হয়েছে ঠিক করে বলো।
রাজুর কথা শুনে মিতু রাগি চোখে রাজুর দিকে তাকিয়ে রাজুর হাতের দিকে ইশারা করলো। মিতুর ইশারা পেয়ে রাজু তারাতারি মিতুর মুখ থেকে নিজের হাতটা শরিয়ে নিয়ে বললো
-- সরি সরি আমি খেয়াল করিনি।
-- তা করবেন কেনো আপনি তো একটা আস্ত হাতির বংশধর, আফ্রিকার এনাকন্ডার শশুড়, নাইজেরিয়ার ভাল্লুক অস্টেলিয়ার বাদর আমেরিকার কুম্ভকর্ণ, সিংগাপুরের কান কাটা হনুমান। মুখের সামনে হাত দিয়ে রেখে আমায় বলে কিনা আমি বোবার মতো করছি। বজ্জাত ব্যাটা তোর বউ বোবা।(হাপাতে হাপাতে বললো মিতু)
মিতুর কথা শুনে রাজু বললো
-- ঐ কি বললে তুমি। তোমার সাহস কি করে হয় আমায় এসব কথা বলার? ভুলে যেওনা আমি তোমার বস আর তুমি আমার পি,এ?(রাগি গলায় বললো রাজু)
-- ইইইইশশ আইছেরে আমার বস। বস আপনি অফিসে, এখানে না আপনি আমার বস, আর না আমি আপনার পি,এ।(মুখ ভেঙচি দিয়ে বললো মিতু)
মিতুর কথা শুনে মিতুর একদম কাছে গিয়ে রাজু বললো
-- তাইতো, আমি তো ভুলেই গেছিলাম যে এটা অফিস নয়, এটা তো বাসা। আর এখানে আমি তোমার বসও না। কিন্তু একটি ছেলে একা একটা বাসায় থাকে সেখানে যদি এমন একটি সুন্দরি মেয়ে একা আসে তাও আবার রাত ১২.০০ টার সময়। তাহলে ছেলেটা ঐ মেয়েটাকে কি করতে পারে? মানে ছেলে মানুষ বলে কথা তাও আবার এত রাতে একা একটা সুন্দরী মেয়েকে,,, বুঝতেই তো পারছো?(মিতুকে চোখ টিপ দিয়ে ডেভিল হাসি দিয়ে বললো রাজু)
রাজুর কথা শুনে বড় একটা ঢোক গিলে মিতু বললো
-- ক ক কি করে? আর এত রাত ক কখন হলো? আমি বাড়ি যাবো(অসহায় ভাবে তুতলিয়ে বললো মিতু)
-- এত রাতে যখন একা আমার কাছে এসেছো তখন তো আর কিছু না করে তোমায় এখান থেকে যেতে দিবো না চুইংগাম বেইপি। আমার যে এখন খুব খেতে ইচ্ছা করছে(মিতুর একদম কাছে গিয়ে বললো রাজু)
রাজুর কথা শুনে মিতু ভয়ে ঢোক গিলে বললো
-- কি কি করতে চ চান আপনি। আর কি খেতে ইচ্ছে করছে আপনার। আপনি এত কা কাছে এগিয়ে আসছেন কেনো আমার?(আমতা আমতা করে)
-- ঐ যে ওটাই খেতে ইচ্ছা করছে যা অফিসে খেয়ে ছিলাম।(মুচকি হেসে বললো রাজু)
রাজুর কথা শুনে বড় বড় করে তাকিয়ে মিতু বললো
-- অ অফিসে খেয়ে ছিলেন মানে কিসের ক কথা বলছেন আপনি?
-- কিসের আবার বেইপি আমার না এখন খুব খুব খুব,,, তোমার হাতের এক কাপ কফি খেতে ইচ্ছা করছে।( মিতুর কপালে ছোট একটা চুপু দিয়ে বললো রাজু)
রাজুর কথা শুনে যেনো দেহে প্রান ফিরে পেলো মিতু। তারপর রাজুকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে মিতু বললো
-- ইশশ আমি কি আপনার চাকর নাকি যে যখন তখন আপনাকে কফি করে খাওয়াবো? অফিসে আপনি আমার বস বলে আপনাকে কফি করে দেই। কিন্তু এখানে তো আমি আপনার পি,এ নই তাই পারবো না আমি কফি বানাতে।
মুখ ভেঙচি দিয়ে কথাগুলো বলে চলে যেতে নিলো মিতু। ওমনি মিতুকে হেচকা টান দিয়ে দেওয়ালের সাথে খুব জোরে চেপে ধরলো রাজু তারপর বললো
-- কফি করে না খাওয়ালে আমি কিন্তু এখন অন্য কিছু খাবো তোমার থেকে মিস চুইংগাম বেইপি। অবশ্য কফির চাইতে ঐ জিনিসটাই বেশি খেতে মন চাইছে আমার। ওটার কাছে পৃথিবীর সব কিছুর স্বাদ হার মানে।(নেশা ভড়া কন্ঠে বললো রাজু)
রাজুর কথা শুনে মিতু বললো
-- দিচ্ছি দিচ্ছি আমি কফি বানিয়ে দিচ্ছি প্লিজ আমায় ছাড়ুন।(অসহায় ভাব নিয়ে বললো মিতু)
মিতুর কথা শুনে মুচকি হেসে মিতুকে ছেরে দিয়ে রাজু বললো
-- Good girl যাও তারাতারি আমার জন্যে কফি বানিয়ে নিয়ে এসো। কিচেনে সব রাখা আছে।
রাজুর বলতে দেরি মিতু ফুরুত করে চলে গেছে কিচেনে। তারপর মিতু কফি বানাতে বানাতে রাজুর চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করতে লাগলো
-- ব্যাটা বজ্জাত খাটাশ রাক্ষস হনুমান লেজ কাটা টিকটিকি কান কাটা বাদুর নাক কাটা বিলাই ডেভিল একটা। ভাবে টা কি নিজেকে কোন দেশের প্রেসিডেন্ট সে, নাকি ফিল্মের হিড়ো মনে করে নিজেকে। যখন তখন আমার মতো বাচ্চা মেয়ের ওপর এভাবে হুকুম চালিয়ে অত্যাচার করবে? ইচ্ছা তো করছে এই কফির মাঝেই ঐ রাক্ষস টারে রান্না করে চিবিয়ে খাই।
মিতু রাজুর গুষ্টি উদ্ধার করছে আর রাজু মিতুর পিছনে দাড়িয়ে দাড়িয়ে মিতুর গালি শুনছে আর মুচকি মুচকি হাসছে। রাজু ভাবছে এই বুঝি রাজু ওর আগের দুষ্টু চুইংগাম বেইপি কে ফিরে পেলো।
হঠাৎ মিতুর চিৎকারে ধ্যান ভাঙে রাজুর। রাজু মিতুর দিকে তাকিয়ে দেখে কফি বানাতে গিয়ে মিতুর আঙ্গুলে ছ্যাকা লেগেছে। রাজু আর এক মুহুর্ত দেড়ি না করে দৌড়ে মিতুর কাছে গিয়ে ওর আঙ্গুল টা মুখে পুরে নেয়।
কিছুক্ষণ পর কিচেনের ফ্রিজ থেকে বরফ বের করে মিতুর আঙ্গুলে ধরে ফু দিতে দিতে উত্তেজিত হয়ে মিতুর আঙ্গুলের দিকে তাকিয়ে বলতে থাকে
-- ইশশ খুব জ্বালা করছে তাইনা সোনা। আমার জন্যে এমন হলো সব আমার দোষ। আমি যদি এখন কফি বানাতে না বলতাম তাহলে তুমি এভাবে কষ্ট পেতে না।
রাজু এমন আচরন করছে যে মনে হচ্ছে ছ্যাকা টা মিতুর হাতে নয় রাজুর বুকে লেগেছে। মিতু কিছুক্ষণ রাজুর দিকে তাকিয়ে থেকে নিজের হাত রাজুর থেকে ছারিয়ে নিয়ে দৌড়ে নিচে চলে গেলো। তারপর দরজা লাগিয়ে নিজের রুমে গিয়ে বালিশে মুখ গুজে কাঁদতে লাগলো।
মিতুর চলে যাওয়ার দিকে এক নজরে তাকিয়ে আছে রাজু। ওর বুকটা যেনো ফেটে যাচ্ছে কষ্টে। রাজু কিচেনেই ফ্লোরে বসে পরলো। তারপর চোখের পানি ছেরে বললো
-- কেনো চুইংগাম বেবি কেনো তুমি বার বার এভাবে পালিয়ে যাও আমার থেকে? আমি যে তোমার থেকে দুরে আর থাকতে পারছিনা। কেনো বোঝোনা তুমি আমার ভালবাসা। কেনো কেনো।(কান্না করতে করতে)
(ছেলে মানুষের চোখে খুব সহজে পানি আসে না। অতিরিক্ত ভালবাসা থাকলেই কোনো ছেলে কাঁদতে পারে একটি মেয়ের জন্যে। আর যে মেয়ের জন্যে কোনো ছেলের চোখে পানি গড়ায় তার মতো সৌভাগ্যবতী হয়তো আর কেউ নেই।)
এদিকে মিতু কাঁদতে কাঁদতে মনে মনে বলে
-- কেনো ফিরে এলেন আপনি আমার জীবনে। কেনো এমন ভালবাসার অভিনয় করছেন আমার সাথে। আমি না পারছি আপনাকে মেনে নিতে আর না পারছি আপনাকে ঘৃনা করতে। কেনো আমার মনে হয় আপনি সত্যিই আমায় ভালবাসেন। ভালই যদি বাসেন তাহলে কেনো আমার বেস্ট ফ্রেন্ড কে আমার থেকে কেরে নিলেন। কেনো আপনার জন্যে আমি আমার মা বাবাকে হারালাম। কেনো কেনো।(অঝোর ধারায় কান্না করে)
দুজন ভালবাসার মানুষ দুদিকে জ্বলে পুড়ে মরছে কিন্তু কেউই জানে না কেনো তারা আজ এভাবে কাছে থেকেও অনেক দুরে। কার জন্যে ওদের জীবনটা এমন হলো।
সারারাত রাজু বা মিতু কারোরই ঘুম হলো না। সকালে,,,,,,,,,,,
চলবে,,,,,
৩৩ +৩৪ পর্ব
লেখা--সোনালী
সারারাত আর রাজু বা মিতুর কারোরই ঘুম হলো না।
সকালে উঠে ফ্রেশ হয়ে অফিসের জন্যে রেডি হয়ে নিলো মিতু। তারপর হালকা নাস্তা করে বেরিয়ে পরলো অফিসের উদ্যেশ্যে।
দরজা খুলে গেটের কাছে যেতেই মিতু দেখলো রাজু গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে দুই হাত পকেটে গুজে দাড়িয়ে আছে। রাজুকে আজকে অন্যরকম সুন্দর লাগছে দেখতে। রাজু আজকে হালকা গোলাপী শার্ট সাদা কোর্ট সাদা (জিন্স) প্যান্ট চোখে সানগ্লাস হাতে দামি ঘড়ি সাথে মুখে মুচকি হাসি নিয়ে দাড়িয়ে আছে। গালে খোঁচা খোচা দাড়িতে যেনো রাজুর সুন্দর্য্য আরো হাজার গুন বাড়িয়ে দিয়েছে।
মিতু রাজুকে এভাবে দাড়িয়ে থাকতে দেখে কিছুক্ষণের জন্যে সব ভুলে সেখানেই দাড়িয়ে হা করে রাজুকে দেখতে থাকে। রাজু মিতুর এমন অবস্থা দেখে মুচকি হেসে মিতুর সামনে এগিয়ে এসে বলে
-- ওমন করে তাকিয়ে থেকোনা চুইংগাম বেইপি আমার লোভ লাগে তো।(চোখ টিপ মেরে টেডি হেসে)
রাজুর কথা শুনে মিতুর খুব লজ্জা লাগে। তারপরেই মিতু পুরোনো স্মৃতি মনে করে রাজুকে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে নেয়। আর ওমনি মিতুর হাত রাজু ধরে ফেলে আর বলে
-- গাড়িতে ওঠো মিতু। আজ থেকে তুমি আমার সাথে একসাথে অফিস যাবে।
মিতু পিছনে ঘুরে নিজের হাত ঝাড়ি মেরে ছারিয়ে নেয় রাজুর থেকে। তারপর বলে
-- No thanks sir আমি একা যেতে পারবো।অফিসটা বেশি দুরে নয়। হেটেই যাওয়া যায় গাড়িতে যাওয়ার দরকার নেই। আর তাছারা আপনি আমার বস আর আমি আপনার পি,এ। বসের সাথে একসাথে অফিস যাওয়া নিশ্চই কেউ ভালো চোখে দেখবে না।
কথাগুলো বলেই মিতু আর রাজুকে কিছু বলার সুজোগ না দিয়ে সোজা হেটে অফিসের দিকে চলে যায়। রাজুর প্রচন্ড রাগ হতে থাকে। রাজু আর সেখানে না দাড়িয়ে গাড়িতে উঠে বসে মনে মনে বলে
-- সেদিন তোমায় বলেছিলাম চুইংগাম বেইপি যে তুমি আমাকে শুধু এই বস বস বলবে না। কিন্তু তুমি আবারও সেই একি কাজটাই করলে। রেডি হও চুইংগাম বেইপি আজকে তো তোমার ছার নেই আমার থেকে।
কথাগুলো ভেবেই অফিসের দিকে গাড়ি নিয়ে ছুটলো রাজু। মিতুর আগেই রাজু পৌছে গেলো অফিছে। তারপর মিতু অফিসে ঢুকে নিজের কেবিনের দিকে গেলো। কেবিনে গিয়েই অবাক হয়ে গেলো মিতু। মিতুর কেবিন নেই। মিতু অফিসের একজন স্টাফ কে ডেকে জিগ্যেস করলো
-- আমার কেবিন কোথায় মিস্টার আহমেদ(স্টাফ)
-- ম্যাম আপনার কেবিন তো আজ থেকে এমডি স্যারের সাথে দেওয়া হয়েছে। এমডি স্যারের আদেশে।
-- what (রাগি ভাবে বললো মিতু)
-- yes ম্যাম কালকে আপনি চলে যাওয়ার পর এমডি স্যার নিজে দাড়িয়ে থেকে আপনার কেবিন স্যারের কেবিনের এক পাশে নিয়েছে। আমরা কেউ কিছু বলার সাহস পায়নি স্যার যা রাগি।
-- আচ্ছা আপনি যেতে পারেন মিস্টার আহমেদ। আমি দেখছি।
তারপর মিতু প্রচন্ড রাগ নিয়ে রাজুর কেবিনে গিয়ে ডায়রেক্ট ভিতরে ঢুকে পরলো। তারপর রাজুর সামনে গিয়ে টেবিলের ওপর জোরে হাত দিয়ে বারি দিয়ে বললো
-- কি শুরু করেছেন কি আপনি? নিজেকে কি ভাবেন যখন যা খুশি তাই করবেন আপনি, আর কেউ কিছু বলতে পারবে না। আপনার সাহস কি করে হয় আমার অনুমতি ছারা আমার কেবিন এখানে নিয়ে আসার।(এক নিশ্বাসে বললো মিতু)
মিতুর কথা শুনে রাজু চেয়ার ছেরে উঠে এসে মিতুর সামনে টেবিলের ওপর বসলো। তারপর পকেটে হাত দিয়ে শান্ত গলায় বললো
-- তোমার কেবিনে গিয়ে বসো মিতু। আর আজ থেকে এখানেই তোমার কেবিন তুমি এখানে বসেই কাজ করবে। আমার চোখের সামনে।
-- নাহ আমি এখানে বসে কাজ করতে পারবো না আমায় আগের জায়গায় যেতে দিন। আমি আপনার সাথে একই কেবিনে বসতে চাইনা।
মিতুর কথা শুনে এবার রাগ উঠে গেলো রাজুর। রাজু রাগি গলায় বললো
-- ভালো ভাবে বলছি মিতু সিংক্রিয়েট না করে যেখানে কেবিন দেওয়া হয়েছে সেখানে গিয়ে বসো। নইলে ভুলে যেওনা রাগ হলে আমি কি করতে পারি।
-- কি করবেন কি আপনি। আপনি যা বলবেন তাই শুনতে হবে আমায়? আমি এই চাকরিটাই করবো না। যেখান থেকে পারি যেভাবে পারি শোধ করে দিবো আপনার টাকা। আমি আজকেই ছেরে দিবো এ চাকরি।
কথাগুলো বলেই চলে যেতে নিলো মিতু। আর ওমনি রাজু মিতুর হাত ধরে টান দিয়ে মিতুর কোমড় জরিয়ে ধরে বললো
-- এক পা এখান থেকে যাওয়ার চেষ্টা করলে তুমি ভাবতে পারবে না আমি তোমার কি হাল করবো। এক বার তোমায় হারিয়েছি আর হারাতে পারবো না। চুপচাপ এখানে বসে নিজের কাজ করো । আর চাকরি ছারার চিন্তাও করোনা।
-- ছাড়ুন আমায়। আমায় স্পর্শ করার কোনো অধিকার নেই আপনার। আর আমি এই চাকরি করবো না করবো না করবউউউউউউউউ। আর কিছু বলতে পারলো না মিতু তার আগেই রাজু মিতুর ঠোট দুটো দখল করে নিলো। তারপর প্রায় ১৫ মিনিট পর মিতুর ঠোট ছেরে ঘারে একটা কামড় বসিয়ে দিলো রাজু। ঘারের ব্যাথায় মিতু কুকিয়ে উঠলো। তারপর মিতুকে রাজু বলল
-- এবার বুঝতে পেরেছো তো আমি কি কি করতে পারি, আর আমার অধিকার কতটুকু।ভুলে যেওনা বসের আগে আমি তোমার স্বামী। next time এমন করার আগে আজকের কথা মনে রেখো চুইংগাম বেইপি।
তারপর মিতুর ঘারের কামড় দেওয়ার জায়গায় একটা ছোট্ট করে চুমু দিয়ে মিতুকে ছেরে দিলো রাজু। মিতু আর কোনো কথা বললো না। শুধু অঝোর ধারায় নিজের চোখের পানি ফেলতে লাগলো। তারপর নিজের ডেস্কে গিয়ে বসে পরলো।
মিতু যেতেই রাজু একটা দির্ঘশ্বাস ফেলে মনে মনে বললো
-- I am sorry চুইংগাম বেইপি। আমি জানি আমি তোমায় রাগের বসে খুব কষ্ট দিয়ে ফেলছি। কিন্তু কি করবো বলো। তুমি কেনো বার বার আমার থেকে পালাতে চাও। আমি যে আর তোমাকে হাড়াতে পারবো না। এক বার হাড়িয়ে পাগল ছিলাম এবার হাড়ালে যে মরেই যাবো আমি তোমায় ছারা।
এসব কথা ভেবে আবারও একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো রাজু। তারপর মিতুর দিকে তাকিয়ে দেখলো মিতু কাজ করছে আর একটু পর পর ফুঁপিয়ে উঠছে। চোখে পানি না থাকলেও মিতুর কান্নার রেশ টা এখনো কাটেনি।
তারপর রাজুও নিজের কাজে মন দিলো। হঠাৎ রাজুর ফোনটা বেজে উঠলো। রাজু ফোনের স্কিনে তাকিয়ে দেখে একটা মুচকি হাসি দিলো। তারপর কানের কাছে ধরে বললো
-- হ্যালো
-.........
-- আমি ভালো আছি, তুই কেমন আছিস দোস্ত?
--................
-- হ্যা আম্মু ঠিকি বলেছে আমি এখন চিটাগাং আছি। আর ও আমার সামনেই আছে কাজ করছে।
--..............
-- নারে দোস্ত জানিনা ও কেনো এমন করছে। তবে ও খুব তারাতারিই নিজের থেকে আমার কাছে আসবে ইনশাআল্লাহ।
--.................
-- আচ্ছা ঠিক আছে আমায় ফোন করে বলিস আমি লোক পাঠাবো।
--.........
-- হুমম Bye
ফোন কেটে দিয়ে মিতুর দিকে তাকালো রাজু। মিতু মনযোগ দিয়ে নিজের কাজ করছে। আশেপাশে তাকাচ্ছেও না। হঠাৎ রাজুর চোখ গেলো মিতুর ঘারের দিকে। সাথে সাথে রাজু মিতুকে ডাকলো। মিতুও বাদ্ধ মেয়ের মতো রাজুর সামনে এসে দাড়ালো। রাজু মিতুর দিকে তাকিয়ে বললো
-- আমার জন্যে এককাপ কফি নিয়ে এসো যাও। আর হ্যা ৫ মিনিটের মধ্যে। এর চাইতে বেশি সময় যেনো আমার চোখের আড়ালে থাকতে না দেখি তোমায়।
রাজুর কথা শুনে মিতু কিছু না বলে চলে যেতে নিলো। আর তখনি রাজু পিছু ডেকে আবার বললো
-- কফি আনতে যাওয়ার আগে নিজের ঘারটা ভালো করে ঢেকে নাও চুইংগাম বেইপি। নইলে তোমারই সমস্যা হবে।
রাজুর কথা শুনে মিতু পিছনে না ঘুরে নিজের ঘারের দিকে তাকালো। আর দেখলো রাজুর কামড় দেওয়ার জায়গাটায় একদম লাল হয়ে ফুলে উঠেছে। এটা দেখেই মিতু তারাতারি হিজাব দিয়ে ঢেকে নিলো। তারপর কফি আনতে যেতে যেতে রাজুর ৩২ গুষ্টি উদ্ধার করতে লাগলো
-- শালা রাক্ষস, খোক্কশ, ডাইনাসর, কুমির শেয়াল আফ্রিকার চাম চিকা, লন্ডনের ধলা ইদুর বরিশালের আবুইল্লা একটা। কামড়ে কি করেছে আমার ঘারটা। যেনো জীবনে কখনো গোস্তা খায়নি তাই আমায় খেতে চেয়েছিলো রাক্ষসটা।
কথাগুলো বলতে বলতে মিতু ক্যান্টিনে চলে গেলো। আর তখনই মিতুর ফোনটা বেজে উঠলো। মিতু কফি না নিয়ে ফোন রিসিভ করলো
-- হ্যালো
--.....
-- জি আংকেল বলুন, কেমন আছেন আপনি?
--,,,,,,,,,,,,,,,
-- জ্বি আমিও ভালো আছি আংকেল। আন্টি কেমন আছেন?
--............
-- কিন্তু এখন তো আমি অফিসে কাজ করছি আংকেল। স্যার যদি যেতে না দেন?
--...........
-- আচ্ছা ঠিক আছে আমি আসছি আংকেল। bye
তারপর ফোনটা কেটে দিয়ে মিতু কাওকে কিছু না বলে অফিস থেকে বেড়িয়ে কোথায় যেনো চলে গেলো। এদিকে প্রায় ৩০ মিনিট হয়ে গেলো মিতু কফি আনতে গেছে এখনো ফিরছে না দেখে রাজুর খুব রাগ হতে লাগলো। তাই রাজু উঠে ক্যান্টিনে যাওয়ার জন্যে পা বারালো আর তখনি রাজুর ফোনটা বেজে উঠলো। রাজু ফোন হাতে নিয়ে তাকিয়ে দেখলো আশরাফ আংকেল দিয়ে সেভ করা নাম্বার থেকে ফোন এসেছে। রাজু ফোনটা কানে ধরলো। তারপর ঐ পাশের লোকের কথা শুনে হাতের মুঠ শক্ত করলো রাজু। কথা বলা শেষ হতেই কান থেকে ফোনটা শরিয়ে জোরে একটা আছাড় মারে রাজু। তারপর রাগে ফোস ফোস করতে করতে বলে
-- কাজটা তুমি একদমই ভালো করলে না চুইংগাম বেইপি। তুমি জানোনা এটার জন্যে তোমার কি অবস্থা হবে। তোমার সাহস দেখে অবাক হচ্ছি আমি। এখন থেকে তুমি দেখবে এই রাজু চৌধুরীর খারাপ রুপটা,,,,,,
চলবে,,,,,,,,,,,,,
৩৪ পর্ব
লেখা--সোনালী
-- কাজটা তুমি একদমই ভালো করলে না চুইংগাম বেইপি। তুমি জানোনা এটার জন্যে তোমার কি অবস্থা হবে। তোমার সাহস দেখে অবাক হচ্ছি আমি। এখন থেকে তুমি দেখবে এই রাজু চৌধুরীর খারাপ রুপটা।(রাগে ফোস ফোস করতে করতে বললো রাজু)
মিতু অফিস থেকে বেরিয়ে সোজা চলে গেলো আশরাফ খানের বাসায়। সেখানে গিয়ে ডোরবেল চাপতেই মিসেস খান দরজা খুলে দিলো। মিসেস খানকে দেখে মিতু সালাম দিলো
-- আসসালামু আলাইকুম।কেমন আছেন আন্টি?
-- ওয়ালাই কুমুসসালাম। ভালো আছি। ভিতরে এসো মিতু কেমন আছো তুমি?
-- জ্বি আন্টি আমিও ভালো আছি।আংকেল আমায় ফোন করে আসতে বললেন, আংকেল কোথায় আন্টি?(ভিতরে ঢুকতে ঢুকতে বললো মিতু)
-- তুমি চলে এসেছো মিতু মামনি। আমরা এতক্ষণ তোমার জন্যেই অপেক্ষা করছিলাম।
-- জ্বি আংকেল, কিন্তু কি কারনে এতো জরুরি ভাবে আমায় ডাকলেন আংকেল?
-- তুমি তো জানোই মিতু আমার একমাত্র ছেলে অভি দেশের বাইরে থাকে পড়াশোনার জন্যে?
-- জ্বি আংকেল। কেনো কি হয়েছে অভি স্যারের?
-- কিছু হয়নি মিতু, আসলে অভি আজকে পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফিরছে, একটু পর এয়ারপোর্টে ওকে পিক করতে যেতে হবে। তাই আমি চাই তুমিও আমাদের সাথে চলো মিতু। তাই তোমায় এভাবে জরুরি তলব করা। আর তোমার বর্তমান বস রাজু চৌধুরীকেও আমি ফোন করে বলে দিয়েছি।
আশরাফ খানের কথা শুনে মিতু আর কিছু বললো না। তারপর কিছুক্ষণ বসে গল্প করলো সবাই মিলে। তারপর আশরাফ খান মিসেস খান আর মিতু মিলে বেরিয়ে পরলো এয়ারপোর্ট এর উদ্যেশে।
এয়ারপোর্টে পৌছার আধ ঘন্টার মধ্যেই অভি চলে এলো। অভি এসেই ওর বাবা আর মাকে জরিয়ে ধরে কুশল বিনিময় করলো। তারপর মিতুর দিকে তাকিয়ে বললো
-- আব্বু who is she?
-- ও মিতু অভি, যার কথা তোকে ফোনে বলেছিলাম। আমার বন্ধুর মেয়ে আর আমার পিএ ও ছিলো এক সময়।
-- ওহ ইনিই সে। Hi I am Ovi (মিতুর দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে)
-- Hallo I am Mitu (মিতুও হাত বাড়িয়ে হাসি মুখে বললো)
মিতুকে দেখে অভি যেনো কেমন অদ্ভুত ভাবে তাকালো মিতুর দিকে। তারপর মিতুকে কিছু বলতে চেয়েও বললো না। এয়ারপোর্ট থেকে বাসায় আসার পথে অভি বলে উঠলো
-- আব্বু আমি বাসায় যাওয়ার আগে তোমার অফিসে I mean বর্তমান মিস্টার রাজু চৌধুরীর অফিসে যেতে চাই।
-- কিন্তু কেনো অভি। তুই কেবল ফিরলি কাল বরং দেখা করিস ওনার সাথে?
-- না আব্বু আমি এখনি দেখা করবো দরকার আছে আমার।
-- আচ্ছা ঠিক আছে তুই যখন শুনবিই না তখন বরং চল। আর অভির আম্মু তুমি মিতুকে নিয়ে বাসায় চলে যাও আমরা আসছি।
তারপর মিসেস খান আর মিতু অভিদের বাসায় চলে এলো আর অভি ও আশরাফ খান রাজুর সাথে দেখা করতে রাজুর অফিসে গেলো। অফিসে পৌছে রাজুর কেবিনের সামনে গিয়ে দরজায় নক করে আশরাফ খান বললো
-- May I come in Mister Cowdhury?
-- oh yes come in mister khan. how are you?
-- fine. mister cowdhury he is my son Ovi & Ovi he is mister Raju cowdhury.
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
অভিদের বাসা থেকে সন্ধায় বাসায় ফিরলো মিতু। অভিরা তখনো আসেনি কিন্তু মিতুর ভাল লাগছিলো না বলে বাসায় চলে আসে।
বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে হালকা নাস্তা করে নেয় মিতু। তারপর নিজের রুমের দিকে পা বাড়ায় আর তখনি দরজায় নক পরে। মিতু গিয়ে দরজা খুলে দেয়। দরজা খুলতেই রাজু মিতুর দিকে তাকিয়ে সোজা ভেতরে ঢুকে পরে তারপর মিতুর খালামনির কাছে গিয়ে বলে
-- আন্টি কেমন আছেন?
-- এই তো বাবা ভালো। তুমি এই সময় কিছু বলবে?
-- না মানে আসলে আন্টি একটু কফি খাবো কিন্তু চিনি শেষ হয়ে গেছে। এখন আর চিনি আনতে যেতেও মন চাইছে না তাই যদি একটু চিনি পেতাম আর কি। (কথাগুলো মিতুর দিকে রাগি চোখে তাকিয়ে বললো রাজু)
-- ওহ এই কথা আচ্ছা দাড়াও বাবা। মিতু ছেলেটিকে চিনি এনে দাও তো ।
খালামনির কথায় বকবক করতে করতে বাটিতে করে চিনি এনে রাজুর দিকে এগিয়ে দিয়ে মিতু বললো
-- স্যার এই নিন আপনার চিনি। এখন আসতে পারেন।
-- একি মিতু তুমি ওকে স্যার বলে কেনো ডাকছো তুমি কি ওকে চেনো?
-- হ্যা আন্টি আমি মিতুর অফিসের বস আর মিতু আমার পি,এ।
-- ওহ তাই নাকি কই মিতু তো আমায় আগে বলেনি?
-- আচ্ছা আন্টি আমি এখন আসি। চিনির জন্যে ধন্যবাদ।
কথাটা বলেই কাওকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে চলে গেলো রাজু। আর মিতু অবাক হয়ে রাজুর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগলো
-- কি ব্যাপার উনি আজকে আমার সাথে এমন বিহেভ করছেন কেনো। আবার নিজে থেকেই আমায় পি,এ আর নিজেকে বস পরিচয় দিলো। চোখেও কেমন রাগি ভাব ছিলো। কি হলো কিছুই বুঝলাম না। মনে মনে
খালামনির কথায় ধ্যান ভাঙে মিতুর।
-- কি রে মিতু ঐ ছেলেটি যে তোমার অফিসের বস তা তো আগে বলোনি?
-- আগে মনে হয়নি তাই বলিনি। এখন তো জানলে খালামনি।(রাগি গলায় বললো মিতু)
-- রেগে যাচ্ছো কেনো মামনি। ইদানিং আমি খেয়াল করছি তুমি অল্পতেই রেগে যাও কি হয়েছে বলো তো তোমার?
-- কিছু হয়নি। আমি ঘুমাবো তুমিও গিয়ে ঘুমিয়ে পরো যায়।
কথাটা বলেই মিতু নিজের রুমে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দিলো। আর মিতুর খালামনি মিতুর দিকে তাকিয়ে থেকে বলে উঠলো
-- এই মেয়ের কখন যে কি হয় তা বোঝা বড় মুশকিল। তবে ছেলেটা খুব মিষ্টি দেখতে। ইশশ মিতু মামনির যদি এই ছেলেটার সাথে বিয়ে হতো তাহলে দারুন মানাতো।
কথাগুলো ভেবতে ভাবতে নিজের রুমে গিয়ে শুয়ে পরলো মিতুর খালামনি।
এদিকে মিতুর বাসা থেকে চিনি নিয়ে ফিরে রাজু ঠাশ করে দরজা লাগিয়ে দিলো। তারপর চিনির বাটিটা টেবিলের ওপর রেখে দাতে দাত চেপে বললো
-- মিতু তুমি জানোনা তুমি কি ভুল করেছো আমায় না বলে ঐ অভিদের বাসায় অভির সাথে দেখা করতে গিয়ে। আমি তোমায় মুক্তি দিয়েছি মিতু। আমি দেখতে চাই তুমি সত্যিই আমায় ভুলে অন্য কারো হতে চাও কিনা? আমি আর তোমার সাথে কোনো প্রকার জবরদস্তি করবো না। (রাগে দুচোখ লাল টকটকে হয়ে আছে রাজুর)
পরের দিন সকালে
মিতু ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে হালকা নাস্তা করে অফিসের জন্যে বেরিয়ে পরলো। আজকে আর মিতু রাজুকে কোথাও দেখলো না। নীলাও মিতুর জন্যে আগের মতো অপেক্ষা করে না। এমন কি নীলা মিতুর সাথে কথাও বলেনা ইদানিং ঠিক মতো।
অফিসে পৌছে নিজের ডেস্কে গিয়ে বসলো মিতু। রাজুর দিকে তাকিয়ে দেখলো রাজু ল্যাপটপে কাজ করছে এক মনে, ওর দিকে একবারো ফিরেও তাকাচ্ছে না।
মিতু ইচ্ছা করে একটা ফাইল নিয়ে রাজুর কাছে এগিয়ে গিয়ে বললো
-- স্যার দেখুন তো এই ফাইলটা ঠিক আছে কিনা?
মিতুর কথা শুনে রাজু ল্যাপটপের দিকে তাকিয়েই মিতুকে বললো
-- টেবিলে রেখে যাও আমি দেখে নিবো।
রাজুর এমন আচরনে কেনো জানেনা মিতুর খুব কষ্ট হতে লাগলো। ফাইলটা টেবিলে রেখে নিজের ডেস্কে এসে বসে পরলো মিতু। কিন্তু কোনো কাজে মিতুর মন বসছে না। তাই আবার উঠে রাজুর কাছে গিয়ে বললো
-- স্যার আপনি কফি খাবেন না? কফি আনবো?
মিতুর কথার উত্তরে রাজু ল্যাপটপের দিকে তাকিয়েই নরম শুরে বললো
-- হুমম নিয়ে আসো,,
মিতু রাজুর এমন চুপচাপ থাকা দেখে ওর দিকে তাকাচ্ছে না দেখে খুব রাগ হতে লাগলো। মিতু কফি আনতে গিয়ে রাজুকে বকা দিতে দিতে বলতে লাগলো
-- শালা বজ্জাত ডেভিল খচ্চর একটা ভাবে কি নিজেকে। আমি এতক্ষণ হলো কথা বলার চেষ্টা করছি আর রাক্ষস টা কোনো কথাই বলছে না ঠিক মতো। যেনো আমায় চেনেই না। ইচ্ছে তো করছে ডেভিলটার ঘারে উঠে বসি তারপর বলি কথা বলবি নাকি তোর ঘারটা খট করে মটকে দিমু। (রাগে ফোস ফোস করতে করতে বললো মিতু)
তারপর নিজেই আবার বললো
-- আমি এমন বিহেভ করছি কোনো উনি কথা বলছে না দেখে? আমি তো এটাই চাইতাম সব সময়। তাহলে এখন কেনো এমন করছি। না না আমাকে ভেঙে পরলে চলবে না। ওনার জন্যে আমি সব হাড়িয়েছি।
কথাগুলো ভেবেই নিজেকে শক্ত করে রাজুর জন্যে কফি নিয়ে গেলো মিতু। তারপর রাজুর দিকে কফি মগটা এগিয়ে দিয়ে বললো
-- স্যার আপনার কফি,,
-- টেবিলে রেখে যাও আমি খেয়ে নিবো।
মিতু কফির মগটা টেবিলে রেখে চলে যেতে নিয়ে পিছনে ঘুরে বললো
-- স্যার আজকে আপনার মনে হচ্ছে না আমি কফিতে বিষ মিশিয়েছি?
-- ফালতু কথা না বলে নিজের কাজে যাও।(ল্যাপটপের দিকে তাকিয়েই বললো)
মিতু বেচেরি মুখ টাকে বাংলার ৫ বানিয়ে নিজের ডেস্কে গিয়ে বসে মনে মনে বলতে লাগলো
-- ব্যাটা রাক্ষস এত বড় এক কাপ কফি একা একাই গিলবে। কোথায় ভাবলাম প্রতিদিনের মতো আজকেও একটু খাবো তা না,, হুহহ।
রাজু ল্যাপটপে মিতুকে সিসিটিভি ফুটেজে দেখছে আর মুচকি মুচকি হাসছে। আর মনে মনে বলছে
-- পাগলী একটা কেমন রেগে আছে দেখো যেনো এখনই ব্লাস্ট হবে। তোমাকে তো আমি মুক্তি দিয়েছি চুইংগাম বেইপি। আমি যে দেখতে চাই তুমি আমায় ছেরে যেতে পারো কি না আবার। তাই তো তোমার থেকে দুরে দুরে থাকছি। কিন্তু আমি যে শুধু তোমাকেই দেখছি তা তো তুমি জানোই না।
তারপর কফি খেতে খেতে মিতুকে দেখতে লাগলো রাজু।
দুপুরে লাঞ্চ টাইমে মিতুর ফোনটা বেজে উঠলো
-- হ্যালো হ্যা খালামনি বলো?
-- মিতু তুমি এখনি অফিস থেকে ছুটি নিয়ে বাসায় আসো জলদি।
-- কেনো খালামনি কি হয়েছে। তোমার কি শরীর খারাপ হলো নাকি আবার?(উত্তেজিত হয়ে)
-- তুমি আগে বাসায় আসো তারপর বলছি। এখনি আসো ছুটি নিয়ে।
মিতুকে আর কিছু বলার সুজোগ না দিয়ে ফোনটা কেটে দিলো খালামনি।
মিতু ফোনটা রেখে চিন্তায় পরে গেলো হঠাৎ খালামনি এমন করে বাসায় ডাকলো কেনো? আগে তো কখনো এমন করে ডাকেনি। কিন্তু স্যার কি আমায় এখন ছুটি দিবেন?
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে রাজুর কাছে গিয়ে মিতু বললো
-- স্যার, স্যার একটা কথা ছিলো।
মিতুর কথা শুনে রাজু মিতুর দিকে তাকালো। এবার যেনো মিতুর মনটা একটু শান্তি পেলো সারাদিন পর রাজুকে তাকাতে দেখে।
-- কি কথা বলো?(শান্ত গলায়)
-- আসলে স্যার বাসা থেকে খালামনি ফোন করে ছিলো। আমায় ছুটি নিয়ে বাসায় যেতে বললো এখনি। খালামনি কখনো এভাবে আমায় ডাকেনা। তাই বলছিলাম যে আপনি যদি আমায় একটু ছুটি দিতেন এখন তাহ,,,,,
আর কিছু বলতে পারলো না মিতু। তার আগেই রাজু বলে উঠলো
-- হুমম যাও দিলাম ছুটি। তুমি মুক্ত,,,(খুব শান্ত গলায় মিতুর দিকে মায়া ভড়া চোখে তাকিয়ে বললো রাজু)
এমন করে কথাটা বললো রাজু যেনো মিতুকে ও ওর জীবন থেকে সারাজীবনের মতো মুক্তি দিয়ে দিলো। মিতুর বুকের ভিতরটা কেমন ধক করে উঠলো রাজুর এভাবে কথা বলা দেখে।
কিন্তু মিতু নিজেকে সামলে নিয়ে বাসার দিকে রওনা দিলো। মিতু চলে যেতেই বড় একটা দীর্ঘশ্বাস ছারলো রাজু।
মিতু বাসায় এসে ডোরবেল চাপতেই খালামনি এসে দরজা খুলে মিতুকে বললো
-- সামনে দিয়ে নয় এই দিক দিয়ে তোমার রুমে চলো।
কথাগুলো বলেই মিতুকে সামনে দিয়ে না নিয়ে অন্য দিক দিয়ে ঘুরিয়ে মিতুর রুমে নিয়ে গেলো। তারপর মিতুর হাতে একটা প্যাকেট দিয়ে বললো
-- তারাতারি ফ্রেশ হয়ে এগুলো পড়ে রেডি হয়ে নাও মিতু। তারপর বাইরে আসো।
-- কি হয়েছে বলো তো খালামনি? তুমি এভাবে আমায় ফোন করে নিয়ে এসে আবার এগুলো কি সব পড়তে বলছো কেনো। কে এসেছে বাসায়?
মিতুর কথার উত্তরে মিতুর খালমনি কিছু বলার আগেই পিছন থেকে একজন বলে উঠলো,,,,,,,,
চলবে,,,,,,,,,
৩৫+৩৬ পর্ব
লেখা--সোনালী
-- কি হয়েছে বলো তো খালামনি? তুমি এভাবে আমায় ফোন করে নিয়ে এসে আবার এগুলো কি সব পড়তে বলছো কেনো। কে এসেছে বাসায়?
মিতুর কথার উত্তরে মিতুর খালামনি কিছু বলার আগেই পিছন থেকে একজন বলে উঠলো
-- তোমার হবু শশুড় শাশুড়ি আর হবু বর এসেছি মিতু মামনি। (মিসেস খান)
মিতু পিছনে ঘুরে মিসেস খানকে দেখে আর ওনার কথা শুনে অবাক হয়ে বলে ওঠে
-- আন্টি আপনি এখানে? আপনার কথা আমি ঠিক বুঝলাম না আন্টি?(প্রশ্ন মাথা চোখে তাকিয়ে)
মিতুর কথা শুনে মিতুর কাছে এগিয়ে এলো আশরাফ খানের ওয়াইফ। তারপর মিতুর চিবুকে হাত দিয়ে মুচকি হেসে বললো
-- মিতু মামনি আমরা তোমাকে আমার অভির বউ করে নিয়ে যেতে চাই। আমাদের সবার তোমাকে অনেক পছন্দ। তোমার আংকেল অনেক আগেই তোমার কথা আমায় বলেছিলো। আমারও তোমায় অনেক পছন্দ। শুধু অভির মতামতের জন্যে কিছু জানাইনি তোমায়। এখন অভিও তোমায় পছন্দ করেছে। আমরা আজকেই তোমায় আংটি পড়িয়ে রেখে যাবো। তারপর কয়েক দিন পর ডায়রেক্ট বিয়ে করিয়ে আমার একমাত্র ছেলের বউ করে নিয়ে যাবো। কি বলো মামনি হবে তো আমার বউমা?(এক নিশ্বাসে কথাগুলো বললো মিসেস খান)
অভির মায়ের কথা শুনে মিতু কিছু বলতে যাবে তার আগেই মিতুর খালামনি বলে উঠলো
-- কেনো হবে না অবশ্যই হবে মিতু আপনাদের বাড়ির বউ। আপনি যান আমি ওকে রেডি করে নিয়ে আসছি।
মিতুর খালামনির কথায় অভির মা মিতুর মাথায় হাত বুলিয়ে তারাতারি আসতে বলে চলে গেলো। মিতু যেনো কোনো ঘোরের মাঝে আছে, কি হচ্ছে কিছুই ওর মাথায় ঢুকছে না। অভির মা চলে গেলে মিতু ওর খালামনির দিকে তাকিয়ে বললো
-- খালামনি এসব কি বলোতো? আমি তোমায় অনেক আগেই বলেছি আমি বিয়ে করতে পারবো না। তবুও এসব কি?
-- কেনো করবে না তুমি বিয়ে? এমন ভালো পরিবার আর এত ভালো ছেলে কেউ হাত ছারা করে? তোমার বাবা বলো মা বলো এখন সব কিছুই আমি। আর আমার সবকিছু তুমি। আমারও তো শখ হয় মেয়ের বিয়ে দিয়ে জামাই ও নাতি নাতনির মুখ দেখি। তুমি যদি এই বিয়েতে রাজি না হও তাহলে তুমি আমার মরা মুখ দেখবে মিতু। এই আমার শেষ কথা। এখন তুমি যা খুশি করো আমি আর কিছু বলবো না তোমায়। আমি ওনাদের কাছে যাচ্ছি তুমি ১৫ মিনিটের মাঝে সেখানে এসে নিজের উত্তর দিবে।(রাগ দেখিয়ে কথাগুলো এক নাগারে বললো মিতুর খালামনি)
কথাগুলো বলেই হন হনিয়ে সেখান থেকে চলে গেলো মিতুর খালামনি। মিতু কিছু বলার সুজোগই পেলোনা আর।খালামনির এমন রুপ আগে কখনো দেখেনি মিতু। মিতু কাঁদতে কাঁদতে ফ্লোরে বসে পরলো। আর বলতে লাগলো
-- কি করে বিয়ে করবো আমি। আমি যে বিবাহিত একজনের বউ। কি করে ভুলে যাবো আমি আমার সেই বিয়ের কথাগুলো। এ আমায় কোন পরীক্ষায় ফেললেন আল্লাহ।
কিছুক্ষণ অঝোরে কাদলো মিতু তারপর মনে করলো অতিতের কথাগুলো। তমা আর ওর বাবা মায়ের মৃত্যুর কথাগুলো। সেসব কথা মনে পরতেই উঠে দারালো মিতু তারপর মনে মনে বললো
-- হ্যা এটাই সুজোগ আমার, ঐ খুনির থেকে মুক্তি পাওয়ার। আমি মানিনা তাকে স্বামী হিসাবে। সে আমার মা বাবা আর বেস্ট ফ্রেন্ড এর খুনি। আমি তাকে ঘৃনা করি ঘৃনা করি ঘৃনা করি। আমি এই বিয়েটা করবো এটাই হবে তার শাস্তি।
কথাগুলো ভেবেই প্যাকেটে রাখা শাড়িটা বের করে ওয়াশরুমে চলে গেলো মিতু। তারপর ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে শাড়িটা অনেক সুন্দর করে গুছিয়ে পড়ে নিলো মিতু। হালকা সাজগোজও করলো। তারপর মুখে হাসির রেখা টেনে অভিদের সামনে এসে সবাইকে সালাম করলো।
এদিকে নিজের ডেস্কে বসে সিসি টিভি ফুটেজে সব কিছু দেখছে রাজু। গতরাতে চিনি আনতে গিয়ে কথার ফাকে একটা সিসি ক্যামেরা মিতুদের ঐ রুমে লুকিয়ে রেখে যায় রাজু। সেটাতেই সব দেখছে রাজু। মিতুকে শাড়ি পড়ে ওদের সামনে হাসি মুখে আসতে দেখে হাতের মুঠ শক্ত করলো রাজু। রাগে রাজুর কপালের রগগুলো ফুলে উঠেছে, চোখ দুটো রক্তলাল হয়ে গেছে।
মিতুকে আংটি পড়িয়ে দিলেন অভির মা। মিতু সব কিছু হাসি মুখেই মেনে নিচ্ছে। সবাই অনেক খুশি।
রাজু এসব সিসি ফুটেজে দেখে হাতের কাছের গ্লাসটা জোরে আছার মেরে ভেঙে ফেলে। তারপর দাতে দাত চেপে বলে
-- তুমি কাজটা একদমই ভালো করলে না মিতু। তুমি কি করে পারলে আমার বউ হওয়া সত্যেও আরেক জনের সাথে বিবাহের প্রস্তুতি নিতে। এর ফল তোমায় ভোগ করতেই হবে মিতু। খুব ভয়ানক হবে তোমার জন্যে এর ফল। just wait and see চুইংগাম বেইপি,,,
মিতুর হাতে আংটি পড়িয়ে অভিরা চলে যায়। আর যাওয়ার আগে মিতুর খালামনিকে বলে যায় সামনের শুক্রবারেই বিয়ে তারা বেশি দেরি করতে চায় না।মিতুর খালামনি আর মিতুও এতে রাজি হয়ে মত দিয়ে দেয়।
অভিরা চলে যেতেই মিতু দৌড়ে নিজের রুমে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দেয়। তারপর বালিশে মুখ গুজে পাগলের মতো কাঁদতে থাকে। কাঁদতে কাঁদতে এক সময় ঘুমিয়ে পরে মিতু। মিতুর খালামনিও আজকে মিতুকে বাধা দেয়না কাঁদতে।
পরের দিন সকালে
সকালে ঘুম থেকে উঠে মিতু ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে বেলা ১০.০০ টা বাজে।রাতে কাঁদতে কাঁদতে অনেক রাত করে ঘুমিয়েছে মিতু। তাই কখন এতো বেজে গেছে ওর খেয়ালই নেই। এদিকে অফিস টাইম সকাল ০৯.০০ টায়। খালামনিও মিতুকে ডাকেনি একবারও। তাই মিতু তারাতারি উঠে ফ্রেশ হয়ে অফিসের জন্যে বের হতে নেয়। আর তখনি মিতুর খালামনি মিতুকে ডেকে বলে
-- মিতু মামনি তুমি আজকে অফিসে গিয়ে এই চাকরিটা থেকে অব্যাহতি নিয়ে আসবে। তোমায় আর চাকরি করতে হবে না। দুদিন বাদে তোমার বিয়ে এখন আর চাকরি করার দরকার নাই। এই জন্যেই আমি তোমায় ডাকিনি আজ।
খালামনির কথা শুনে মিতু ওর খালামনির কাছে এসে বলে
-- খালামনি আমি চাইলেও এই চাকরিটা ছারতে পারবো না। কারন আমার বস আমার থেকে ৮ লাখ টাকা পায়। সেটা শোধ না করলে আমি যে চাকরিটা ছারতে পারবো না।
মিতুর কথা শুনে মিতুর খালামনি কিছু সময় চুপ থেকে বলে
-- হুমম আমার মনে আছে তোমার মায়ের অপারেশনের জন্যে টাকা এনেছিলে। তুমি একটা কাজ করো মিতু। তুমি কালকে ঢাকায় চলে যাও আর তোমাদের ঐ বাড়িটা বিক্রির চেষ্টা করো। ওটার তো এখন আর কোনো দরকার নেই। ওটা বিক্রি করে অফিসের টাকা শোধও হবে সাথে তোমার কিছু গয়না আর বিয়ের খরচা টাও উঠে যাবে।
খালামনির কথা শুনে মিতু কিছুক্ষণ চুপ থেকে চিন্তা করলো যে ওর খালামনি ঠিকি বলছে। তাই মিতু বললো
-- হুমম খালামনি তুমি ঠিক বলেছো আমি তাই করবো। আজকে অফিস গিয়ে কিছুদিনের ছুটি নিয়ে আসি। আর বিয়ের আগেই টাকাটা শোধ করার চেষ্টা করবো।
তারপর মিতু দরজা খুলে বাইরে বের হতেই দেখে সামনে রাসেল দাড়িয়ে আছে। মিতুকে দেখেই রাসেল মিতুর কাছে এগিয়ে এসে বলে
-- কেমন আছো মিতু?
-- ভালো। রাসেল ভাইয়া আপনি এখানে? কখন এলেন?
-- এই তো একটু আগেই এলাম।
-- ওহ, কিন্তু আপনি আমার বাসা চিনলেন কি করে? আর এখানে এসেছেনই বা কেনো?
-- আমি রাজুর কাছে এসেছি মিতু। রাজু এই বাড়িটার কথা বললো তাই এখানে চলে এলাম। তুমিও এখানেই থাকো তাই ভাবলাম তোমার সাথে একটু দেখাও হয়ে যাবে।আমি রাজুর কাছে তোমাদের ব্যাপারে সব শুনেছি।
-- ওহ, আচ্ছা ভাইয়া আপনি ভিতরে যান। আমায় অফিস যেতে হবে এমনি তেই অনেক দেড়ি হয়ে গেছে।পরে কথা হবে,,
কথাগুলো বলেই মিতু চলে যেতে নিলে রাসেল মিতুর হাত ধরে ফেলে, তারপর বলে
-- মিতু রাজু কোন রুমে থাকে আমি ঠিক চিনিনা আমায় একটু নিয়ে যাবে প্লিজ?
রাসেলের কথা শুনে রাসেলের থেকে হাত ছারিয়ে মিতু বলে
-- আপনার বন্ধু ঐ ওপরের ফ্ল্যাটে থাকে আপনি একাই যেতে পারবেন ভাইয়া।
-- তুমি একটু চলো না মিতু প্লিজ। আমি এই জায়গায় আগে কখনো আসিনি তুমি সাথে গেলে আমার একটু সুবিধা হবে।
মিতু আর না করতে পারলো না রাসেলকে নিয়ে ওপরের ফ্ল্যাটে গেলো। তারপর দরজার সামনে গিয়ে বললো
-- এটাই আপনার বন্ধুর ফ্ল্যাট। আপনি ভিতরে যান আমি অফিসে যাবো।
মিতুর কথা শুনে রাসেল দরজা খুলে আচমকা মিতুর হাত ধরে টান দিয়ে রুমের ভিতরে নিয়ে গেলো। তারপর দরজা লাগিয়ে দিয়ে মিতুর দিকে ঘুরে বললো
-- এতো তারা কিসের জান। এতদিন পর তোমায় কাছে পেলাম কোথায় একটু কাছে কাছে থাকবে তা নয় শুধু যাই যাই করছো।(বাকা হেসে)
রাসেলের কথা শুনে মিতু অবাক হয়ে রাসেলের দিকে তাকিয়ে বললো
-- এসব কি বলছেন কি আপনি। এমন আচরনের মানে কি রাসেল ভাইয়া? সরুন আমার সামনে থেকে যেতে দিন আমায়।
-- সরবো বলে তো তোমার সামনে আজকে আসল রুপে আসিনি জান। আমি কি করিনি তোমায় পাওয়ার জন্যে বলো। সেই ৮ থেকে ৯ বছর আগে থেকেই ভালবাসি তোমায় আমি। আর আমার ভালবাসা কিনা আমারই বেস্ট ফ্রেন্ড কেরে নিলো। যখন বিদেশ থেকে ফিরে জানতে পারি রাজু তোমায় বিয়ে করেছে। তখন ইচ্ছা হয়েছিলো রাজুকে খুন করে ফেলি। কিন্তু খুন করলে তো আমি জেলে যেতাম তাহলে তোমায় পেতাম কি করে। তাই রাজুর দেওয়া পার্টিতে ওকে নেশার ঔসধ খাইয়িয়ে তোমার কাছে খারাপ বানাতে চাই। কিন্তু ভুল বসোতো সেটা তুমি খেয়ে ফেলো।
তারপর রাজুর নামে মিথ্যে বানিয়ে বানিয়ে কথা বলে তোমার মনটাও বিষিয়ে তুলি শুধু তোমাকে পাওয়ার জন্যে,,,
আর কিছু বলবে রাসেল তার আগেই মিতু সজোরে রাসেলের গালে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দেয়। তারপর বলে
-- ছিঃ আপনি এতটা নিচু মনের মানুষ আমি ভাবতেও পারিনি। নিজের বন্ধুর বউ এর ওপর খারাপ নজর দিতে লজ্জা করেনি আপনার। আমার বেস্ট ফ্রেন্ডের ভাই এতটা খারাপ ভাবতেই ঘৃন্না হচ্ছে আমার।
-- কিসের বউ কার বউ শুধু বিয়ে করলেই বউ হয় নাকি। আমি জানতাম তোমাদের বিয়ে হয়েছে ঠিকি কিন্তু তোমার আর রাজুর মাঝে কখনো স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। আর তুমি এখনো কুমারিই আছো। তোমাকে তো আমার চাই মিতু। সেটা এক ঘন্টার জন্যে হলেও। কাছে এসো জান কাছে এসো,,
কথাগুলো বলতে বলতে মিতুর কাছে এগুতে থাকে রাসেল। আর মিতু পিছুতে পিছুতে বলতে থাকে
-- আমি কিন্তু চিৎকার করবো খবরদার আমার কাছে আসবেন না বলে দিলাম। ভালো হবে না কিন্তু।
মিতুর কথার দিকে কান না দিয়ে রাসেল এগিয়ে যাচ্ছে মিতুর দিকে। মিতু পিছুতে পিছুতে দেওয়ালের সাথে আটকে যায়। আর ভয়ে চোখ বন্ধ করে চিৎকার দিতে নেয় মিতু। আর তখনই দরজা ভাঙার শব্দে মিতু চোখ খুলে সামনে তাকায়।
সামনে তাকিয়ে দিখে রাজু দরজা ভেঙে দুহাত মুষ্ঠি বদ্ধ করে দাড়িয়ে আছে। রাজুকে দেখা মাত্র মিতুর মুখে হাসির রেখা ফুটে ওঠে।তারপর দৌড়ে রাজুর পিছনে গিয়ে দাড়ায় মিতু।
রাগে রাজুর চোখ দিয়ে যেনো আগুন বের হচ্ছে, কপালের রগগুলো ফুলে উঠেছে। রাজুর মুখ দিয়ে সাপের মতো ফোস ফোস শব্দ হচ্ছে রাগে। রাজু মিতুর দিকে আর চোখে তাকিয়ে দাতে দাত চেপে বললো
-- নিচে নিজের রুমে চলে যাও মিতু।
রাজুর কথা যেনো মিতুর কান পর্যন্ত পৌছালো না। মিতু ভয়ে কাঁপছে। মিতুর কোনো রেসপন্স না পেয়ে রাজু এবার ধমক দিয়ে বললো
-- তোমাকে আমি নিচে যেতে বলেছি মিতু। এক্ষুনি নিচে চলে যাও এখান থেকে। right now
রাজুর ধমক খেয়ে কেপে উঠলো মিতু। তারপর দৌড়ে নিচে ওর খালামনির কাছে চলে গেলো।
মিতু চলে যেতেই রাসেল ভয়ে ঢোক গিলে রাজুর কাছে এসে আমতা আমতা করে বললো
-- রাজু তুই আমায় ভুল বুঝছিস। আমার কথাটা একবার শোন
রাসেল এতটুকু বলতেই রাজু রাসেলের মুখে কিছু একটা স্প্রে করলো। আর সাথে সাথে রাসেল অজ্ঞান হয়ে নিচে পড়ে গেলো। তারপর রাজু কাকে যেনো কল দিতেই চার জন কালো কাপড় পড়া লোক এসে রাসেলকে গাড়িতে নিয়ে বসিয়ে কোথায় যেনো চলে গেলো।
চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,
৩৬ পর্ব
লেখা--সোনালী
-- রাজু তুই আমায় ভুল বুঝছিস। আমার কথাটা একবার শোন,,,
রাসেল এতটুকু বলতেই রাজু রাসেলের মুখে কিছু একটা স্প্রে করলো। আর সাথে সাথে রাসেল অজ্ঞান হয়ে নিচে পড়ে গেলো। তারপর রাজু কাকে যেনো কল দিতেই চার জন কালো কাপড় পড়া লোক এসে রাসেলকে গাড়িতে নিয়ে বসিয়ে কোথায় যেনো চলে গেলো।
এদিকে
মিতু ওর খালামনিকে জরিয়ে ধরে অঝোরে কেদে চলেছে একনাগাড়ে। মিতুর খালামনি মিতুর এমন আচরনে অবাক হয়ে মিতুকে শান্তনা দিতে দিতে বলতে লাগলো
-- মিতু কি হয়েছে মা তোমার। তুমি এভাবে কাদছো কেনো মামনি। অফিসের জন্যে বের হয়ে, হঠাৎ ফিরে এসে কি হলো তোমার। মা বাবার কথা মনে পরেছে বুঝি। কি হয়েছে মা বলো আমায়।(উত্তেজিত হয়ে বললো মিতুর খালামনি)
খালামনির কথার উত্তরে মিতু কিছু বলছে না শুধু কেদে চলেছে পাগলের মতো।
আজকে যে রাজু আসতে আর একটু দেড়ি হলে নিজের সর্বশ্য হাড়াতে হতো মিতুকে। একটি মেয়ের জীবনে যে নিজের সম্মানের চেয়ে দামি আর কিছু নেই।
মিতুর খালামনি মিতুকে আবার কিছু বলতে যাবে তার আগেই দরজার কাছে থেকে রাজু বলে উঠলো
-- আন্টি ওকে এখন কিছু জিগ্যেস করবেন না। পরে সব জানবেন। মিতু তোমার আর কয়েকদিন অফিসে আসতে হবে না। তুমি বাসাতে থেকে রেষ্ট নাও। আমি আসছি।
কথাটা বলেই রাজু হনহনিয়ে চলে গেলো সেখান থেকে। রাজু চলে যেতেই মিতুও দৌড়ে নিজের রুমে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দিলো। আর মিতুর খালামনি তাকিয়ে রইলো মিতুর রুমের দরজার দিকে।সে কিছুই বুঝতে পারলো না মিতু কেনো এমন করছে।
অন্ধকারে ভড়া একটা রুমের ফ্লোরে অজ্ঞান হয়ে পরে আছে রাসেল। রুমের মাঝে রাসেল ছারা আর কেউ নেই। একটু পর খট করে দরজাটা খুলে গেলো। রুমের মাঝে প্রবেশ করলো রাজু। তারপর রাসেলের সামনে বসে একজগ বরফ ঠান্ডা পানি ছুরে মারলো রাসেলের মুখে। পানির ঝটকায় রাসেলের জ্ঞান ফিরে ধড়ফড়িয়ে উঠে বসলো রাসেল। সামনে রাজুকে দেখে রাসেল ভয়ে কাপা কাপা কন্ঠে বলতে লাগলো
-- র রাজু ত তু তুই কি কিন্তু আমায় ভুল ব বুঝছিস। যেতে দে আমায় দোস্ত। ঐ মিতু মেয়েটা ভালো নয় রাজু। ও তোকে ভালবাসে না। ভালবাসলে তোকে রেখে এভাবে পালিয়ে আসতো না। তুই জানিস আজকে আমায় একা পেয়ে মিতু আমার সাথে অসভ্যতা করতে চেয়েছিলো। ঐ মেয়ের চরিত্র ভালো না,,,
এতটুকু বলতেই রাসেলের নাক বরাবর খুব জোরে একটা ঘুশি মারলো রাজু। ঘুশি খেয়ে আবারো ফ্লোরে মুখ থুবড়ে পরে গেলো রাসেল। নাক ফেটে গলগলিয়ে রক্ত পরতে লাগলো রাসেলের। রাজু উঠে রাসেলের কলার ধরে টেনে তুলে একটা কাঠের চেয়ারে বসালো। তারপর রাসেলের মুখোমুখি চেয়ার টেনে বসে বলতে লাগলো
-- তোর সাহস কি করে হয় আমার মিতুর নামে বাজে কথা বলার। আমার মিতুর চরিত্রের ওপর আঙ্গুল তোলার? তোর সাহস কি করে হয় আমার মিতুর দিকে বাজে নজর দেওয়ার ওর সাথে অসভ্যতা করার। তোকে আমি আমার সব চাইতে কাছের বন্ধু ভাবতাম আর তুই কিনা,,,,। তোকে তো আজকে আমি মেরেই ফেলবো।
কথাগুলো বলেই রাসেলকে এলো পাথারি মারতে লাগলো রাজু। রাজুর মাইর খেয়ে চেয়ার থেকে নিচে পরে গেলো রাসেল। তারপর রাজু মারা বন্ধ করলে রাসেল আধমরা অবস্থায় হাসতে হাসতে বলে উঠলো
-- তুই যার জন্যে মারছিস আমায় তাকে যেমন আমি পাইনি তেমনি তুইও ওকে কখনো পাবিনা। হা হা হা। মিতুকে আমি পাইনি মানে আর কেউ পাবেনা। তুই কেরে নিয়ে ছিস মিতুকে আমার থেকে তাই আমিও মিতুকে তোর থেকে সরিয়ে দিয়েছি। কখনো পাবিনা তুই ওকে রাজু কখনো না।হা হা হ
রাসেলের কথা শুনে রাজুর রাগের বাধ ভেঙে গেলো। রাজু শরীরের সব শক্তি দিয়ে সজোরে একটা লাথি মারলো রাসেলকে। সাথে সাথে রাসেল আবারও জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পরলো ফ্লোরে। রাজু তার ওপর আরো কয়েকটা লাথি ও কিল ঘুশি মেরে বাইরে বেরিয়ে এলো। তারপর ঐ চারজন লোককে ডেকে এক বান্ডিল টাকা হাতে দিয়ে বললো
-- ওকে পাহাড়ায় রাখবে আর ডাক্তার দেখিয়ে চিকিৎসা করাও। কোনো মতে যেনো ও এখান থেকে কোথাও বেরোতে না পারে। আমি পরে আবার আসবো। আর ওর কথা যেনো আর কেউ না জানে।
কথাগুলো বলে টাকা দিয়ে সেখান থেকে চলে গেলো রাজু। আর ঐ লোকগুলো রাজুর কথা মতো সব কাজ করতে লাগলো।
কি আপনারা সবাই ভাবছেন তো রাজু কি করে জানলো রাসেল মিতুর সাথে অসভ্যতা করতে যাচ্ছে? তাহলে চলুন আপনাদের সবাইকে ফ্লাশ ব্যাক থেকে ঘুরিয়ে আনি,,,
( রাসেল যখন মিতুকে নিয়ে রুমের সামনে এসে মিতুকে জোর করে রুমে নিয়ে যায় তখন রাজু অফিসে বসে ওর রুমের সিসি ফুটেজে সব কিছু দেখে। রাসেলের এমন আচরন দেখে রাজু দ্রুতো গাড়ি নিয়ে বাসায় চলে আসে। বাসাটা খুব কাছে হওয়ায় গাড়ি নিয়ে আসতে ৩ মিনিটও লাগে না। তারপর রুমের দরজায় দাড়িয়ে রাসেলের সব কথা শুনতে পায় রাজু। তারপরেই দরজা ভেঙে রুমে ঢোকে।
তারপরের সব তো আপনারা জানেনই আমি আর কইতে পারুম না)
মিতু নিজের রুমে বালিশে মুখ গুজে কান্না করছে আর ভাবছে
-- আমি কি করে ঐ রাসেলের কথায় রাজুকে সন্দেহ করলাম। আমার আগেই বোঝা উচিৎ ছিলো রাজু ওমন ছেলে নয়। রাজু খারাপ হলে আমার সাথে অনেক আগেই জোর করে স্বামীত্ব খাটাতে পারতো কিন্তু সে তা করেনি। আমি ভুল করেছি আমার কাজু ঘোলাদরি কে ভুল বুঝে। আমি ফিরে যাবো আমার কাজু ঘোলাদরির কাছে।মনে মনে
কথাগুলো ভেবেই খাট থেকে উঠে দাড়ালো মিতু। মিতুর মুখে মিষ্টি হাসি ফুটে উঠলো। তারপর পা বাড়ালো দরজার দিকে রাজুর কাছে ফিরে যাবে বলে। দরজার কাছে আসতেই মিতু থমকে দাড়ালো। মিতুর মুখটা আবারও মলিন হয়ে গেলো। তারপর আবার পিছিয়ে গিয়ে খাটের ওপর বসে মনে মনে বলতে লাগলো
-- না না কি করছি আমি। রাজু তো সত্যিই খারাপ ও ভালো নয়। আমি যে নিজে চোখে দেখেছি ওকে তমার সাথে আমাদের ছাদে দাড়িয়ে কিস করতে। তমার মৃত্যুর জন্যেও তো রাজুই দায়ি। রাসেল হয়তো মিথ্যে বলেছে আমায় কিন্তু তমা, তমা তো আর মিথ্যে বলেনি। তমার পেটে যে রাজুর সন্তান ছিলো। সেই জন্যেই তো আমি আমার বেস্টফ্রেইন্ড তমাকে হারালাম। না ফিরবো না আমি রাজুর কাছে ফিরবো না। ও আমার মা বাবা আর তমার মৃত্যুর জন্যে দায়ী। দায়ী ঐ রাজু চৌধুরী। আমি অভিকেই বিয়ে করবো ফিরবো না রাজুর কাছে। কালকেই ঢাকা গিয়ে ঐ বাড়ি বিক্রির ব্যাবস্থা করবো। তারপর সব টাকা শোধ করে দিবো ঐ রাজু চৌধুরীর।
পরের দিন সকালে
মিতু তারাতারি ঘুম থেকে উঠে রেডি হয়ে ওর খালামনিকে বলে অভিদের বাসার উদ্যেশে বেরিয়ে পরলো। তারপর অভিদের বাড়ি পৌছে মিস্টার আশরাফ খানকে বললো
-- আংকেল আমি এখন ঢাকা যাচ্ছি একটু দরকারে। কালকেই ফিরে আসবো। তাই আপনাদের জানাতে এলাম।
-- কিসে করে যাবে তুমি মামনি?
-- বাসে যাবো আংকেল।
-- আমি ড্রাইভার কে বলে দিচ্ছি তুমি গাড়ি নিয়ে চলে যাও। আর অভিকে সাথে নিয়ে যাও।
-- নাহ আংকেল আমি একাই যেতে পারবো অভি স্যারকে যেতে হবে না।
-- আচ্ছা তাহলে গাড়ি নিয়ে যাও। আর পৌছে অবশ্যই জানাবে কেমন।
-- জ্বি আচ্ছা আংকেল।
তারপর মিতু অভিদের গাড়ি করে ঢাকার উদ্যেশে রওনা হলো। সন্ধার পর ঢাকায় এসে পৌছালো মিতু। ওর বাড়ির সামনে এসে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো মিতু। এই তিন বছরে কতটা পাল্টে গেছে সব কিছু। বাড়িটা কেমন জঙ্গলের মতো লাগছে। মিতু দরজা খুলে বাসার মাঝে প্রবেশ করলো। সব কিছু আগের মতই আছে শুধু ধুলো ময়লা আর মাকড়াশার জালে ভরে গেছে। মিতু বাসার সব কিছু ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখতে লাগলো। এই বাসাতেই যে আছে ওর পুরোনো সব স্মৃতি। তমা ও মা বাবার সাথে কাটানো সময় গুলো। পুরো বাড়িটা ঘুরে ঘুরে দেখতে দেখতে নিজের রুমে গেলো মিতু। ওর রুমটাও সেই আগের মতই আছে। রুমটা ঘুরে ঘুরে দেখছে আর চোখের জল ফেলছে মিতু।
হঠাৎ মিতুর চোখ আটকে যায় মিতুর খাটের মাথার কাছের টেবিলে রাখা একটা ডায়রিতে। এই ডায়রিটাতো মিতুর চেনা নয়। এই ডায়রিটা আগে কখনো দেখেনি মিতু। মিতু ধিরো পায়ে এগিয়ে যায় ডায়রিটার কাছে। তারপর ডায়রিটা হাতে নিয়ে ওপরের ধুলো গুলো ফু দিয়ে সরাতেই ডায়রির ওপরের বড় করে "তমা" লেখাটা চোখে পড়ে মিতুর। মিতু ডায়রিটা হাতে নিয়ে অবাক হয়ে ভাবতে থাকে তমার ডায়রি এখানে কি করে এলো। কৌতুহল বসতো ডায়রির একটা পৃষ্টা উল্টায় মিতু। সেখানে লেখা মিতুর সাথে কাটানো তমার ঝগড়ার দিন গুলোর কথা। অপর পৃষ্টায় ওদের প্রথম দিন কলেজে যাওয়ার কথাগুলো লেখা।
এভাবে বেশ কয়েক পৃষ্টা পড়ে মিতু। মিতুর মনে পরে যায় সেই দিন গুলো। আপনা থেকেই চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পরতে থাকে মিতুর।
আরেকটা পৃষ্টা উল্টাবে ঠিক তখনি দরজা থেকে কেউ একজন বলে ওঠে
-- মিতু মা কেমন আছো তুমি। এতদিন পর এখানে, এতদিন কই ছিলে মিতু?
ডায়রিটা বন্ধ করে পিছনে ঘুরে তাকায় মিতু। আর দেখে দরজায় ছলছল চোখে তমার মা দাড়িয়ে আছে। মিতু তমার মাকে দেখা মাত্র দৌড়ে এসে জরিয়ে ধরে কান্না করতে লাগে।মিতুর মাথায় হাত বুলিয়ে তমার মা বলে
-- কোথায় ছিলে এতদিন মিতু। তোমার মা বাবা কোথায়? সেই যে আমার তমার মৃত্যুর দিন এক নজর তোমাদের দেখেছিলাম। তারপর কোথায় হাড়ালে তোমরা মিতু?
তমার মায়ের কথা শুনে মুখ তুলে তমার মায়ের দিকে তাকিয়ে মিতু বললো
-- আম্মু আব্বু আর এ দুনিয়াতে নেই আন্টি। তারা আমায় একা রেখে হাড়িয়ে গেছে না ফেরার দেশে।
এতটুকু বলেই হু হু করে কাঁদতে লাগলো মিতু। মিতুর কথা শুনে মিতুকে শান্তনা দিয়ে তমার মা বললো
-- কেদনা মা কেদনা। এক দিন সবাইকেই চলে যেতে হবে এই দুনিয়া থেকে। তোমরা চলে যাওয়ার পর তোমার বর রাজু অনেকবার এসেছে তোমাদের খোজ করতে। তমার জানাযাতেও রাজু ছিলো।তুমি রাজুকেও কিছু না বলে কেনো এভাবে চলে গেছিলে মামনি?
তমার মায়ের কথা উত্তরে মিতু কিছু বলবে তার আগেই মিতুর ফোনটা বেজে উঠলো। মিতু ফোনের স্কিনে তাকিয়ে দেখে অভি কল করেছে। মিতু নিজেকে স্বাভাবিক করে কল রিসিভ করলো
-- হ্যা অভি স্যার বলু,,,
মিতু আর কিছু বলতে পারলো না তার আগেই ঐ পাশ থেকে অভি উত্তেজিত হয়ে বললো
-- মিতু আপনি এখনি চিটাগাং ব্যাক করুন। আপনার খালামনির স্টোক হয়েছে সে এখন হসপিটালে ভর্তি। আপনাকে এখুনি আসতে হবে।
অভির কথা শুনে মিতু তমার মাকে কিছু না বলে শুধু বললো
-- আন্টি আমাকে এখন যেতে হবে পরে কথা হবে আপনার সাথে ক্ষমা করবেন আমায়।
কথাগুলো বলেই তমার ডায়রিটা ব্যাগে পুরে চিটাগাং এর দিকে রওনা হলো মিতু,,,,
চলবে,,,,,,,,,
৩৭+৩৮ পর্ব
লেখা--সোনালী
তমার ডায়রিটা ব্যাগে ভরে চিটাগাং এর দিকে রওনা হলো মিতু।
পরের দিন দুপুরের মাঝে পৌছে গেলো চিটাগাং। মিতু বাসায় না গিয়ে ডায়রেক্ট চলে গেলো হাসপাতালে ওর খালামনির কাছে। সেখানে গিয়ে দেখে রাজু বসে আছে মিতুর খালামনির কাছে। মিতু ডায়রেক্ট গিয়ে খালামনিকে জরিয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলো। ততক্ষণে রাজু উঠে চলে গেলো সেখান থেকে। মিতুর কান্না দেখে মিতুর মাথায় হাত বুলিয়ে মুচকি হেসে মিতুর খালামনি বললো
-- পাগলী মেয়ে কিভাবে কাঁদছে দেখো বাচ্চাদের মতো। আরে আমি কি মরে গেছি নাকি যে তুমি এভাবে কাদছো মিতু মামনি?
খালামনির কথা শুনে খালামনির মুখে হাত দিয়ে ফুপিয়ে ফুঁপিয়ে মিতু বললো
-- খ খবরদার বলছি খ খালামনি ম মরার কথা একদম বলবে না। তুমি ছারা আমি কি নিয়ে বাচবো বলো। তুমিই যে আমার সব। তুমি জানো যখন অভি স্যার ফোন করে বললেন তুমি স্টোক করে হাসপাতালে আছো তখন আমার কি অবস্থা হয়েছিলো। আর একটু হলে হয়তো পাগল হয়ে যেতাম আমি। তুমি ছারা আমার আর কে আছে বলো এই পৃথিবীতে। আপন বলো পর বলো মা বলো বাবা বলো আমার সব কিছুই যে তুমি খালামনি।(কান্না করে করে)
-- পাগলী মেয়ে তোমারশুধু আমি কেনো থাকবো। তোমার বর আছে শশুড়বাড়ির সবাই আছে তো।
খালামনির কথার উত্তরে মিতু কিছু বলবে তার আগেই পিছন থেকে কেউ বলে উঠলো
-- তোমার খালামনির স্টোক হয়নি মিতু। শুধু একটু অসুস্থ হয়ে পরেছিলেন তিনি। ঠিক সময় মতো মিস্টার রাজু ওনাকে হাসপাতালে নিয়ে আসায় কোনো সমস্যা হয়নি। এখন উনি পুরোপুরি সুস্থ। তুমি ওনাকে বাসায় নিয়ে যেতে পারো। ( বললো অভি)
অভির কথা শুনে মিতু অবাক হয়ে বললো
-- রাজু স্যার খালামনিকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন?
-- হ্যা মিতু রাজুই আমায় এখানে নিয়ে এসেছে। ছেলেটা বড় ভালো একটা ছেলে। (বললো মিতুর খালামনি)
খালামনির কথায় মিতু আর কিছু বললো না। মনে মনে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলো আর রাজুকে ধন্যবাদ দিলো। তারপর বিকেলের দিকে খালামনিকে নিয়ে বাসায় ফিরলো মিতু। বাসায় ফেরার পর মিতু ওর খালামনির কাছে বসে বলতে লাগলো
-- জানো খালামনি আমি যে জন্যে ঢাকায় গিয়ে ছিলাম সে কাজটা আর আমার করা হলো না। এখন রাজু স্যারের টাকা গুলো আমি কিভাবে শোধ করবো বলো? আর কিভাবেই বা এই চাকরিটা ছারবো?
-- ওসব নিয়ে ভেবোনা তুমি মামনি। ঐ টাকা আর তোমায় শোধ করতে হবে না।
খালামনির কথা শুনে অবাক হয়ে মিতু বললো
-- শোধ করতে হবে না মানে? তাহলে আমি চাকরিটা ছারবো কি করে খালামনি?
-- রাজু বাবা কালকেই ঢাকায় চলে যাবে ঐ কম্পানি আশরাফ খানকে ফেরত দিয়ে। রাজু যখন শুনেছে তোমার দুদিন পর শুক্রবারে বিয়ে অভির সাথে। আর তুমি ওর চাকরি ছারতে কম্পানির টাকা শোধ করতে তোমার বাড়িটা বিক্রি করতে ঢাকা গিয়েছো তখনি রাজু বলেছে অভিদের কম্পানি অভিকে ফেরত দিয়ে রাজু চলে যাবে।
খালামনির কথা শুনে অবাক হলো মিতু। রাজু ওর বিয়ের কথা শুনেও কোনো প্রকার রিয়েক্ট করলো না?
হঠাৎ মিতুর মনে হলো রাজু তো ওকে ভালই বাসেনা তাহলে আর বিয়ের কথায় রিয়েক্ট করবে কি।
হাসপাতালে দেখার পর আর কোথাও রাজুকে এক বারের জন্যেও দেখতে পেলনা মিতু।খালামনির কাছে জানতে পারলো রাজু বাসা ছেরে দিয়ে ঢাকায় ফিরে গেছে।আর কম্পানিও আশরাফ খানকে ফিরিয়ে দিয়েছে। এদিকে মিতুর বিয়ের দিনও এগিয়ে আসছে। মিতুর বিয়ের যাবতীয় খরচ অভিদের বাড়ি থেকে করা হলো। সব শপিং ও অভিরাই করলো বিয়ের জন্যে।
আজ মিতুর বিয়ে
মিতুকে লাল টকটকে বেনারসি শাড়ি ও অনেক গয়না পড়িয়ে বধুর সাজে সাজিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে আয়নার সামনে। মিতুর পাশে কেউ নেই সবাই বর দেখতে গেছে। মিতু আয়নার সামনে বসে নিজেকে দেখছে আর তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে মনে মনে বলছে
-- কি দরকার এতো সাজগোজের যেখানে এই বিয়েটাই সম্পুর্ন মিথ্যে। ইসলামী শরিয়ত মতে তো স্বামী থাকা কালিন কোনো মেয়ে দ্বীতিয় বিয়ে করতে পারে না। তেমনি আমার বিয়েও সম্ভব নয়। এই বিয়েটাতো আমি করার নাটক করছি শুধু রাজুকে আমার থেকে চিরদিনের মতো সরাতে। বাসর রাতেই আমি আশরাফ আংকেল আন্টি আর অভিকে সব বলে চলে যাবো ওদের জীবন থেকে। আমি জানি ওরা নিশ্চই আমার কথা বুঝবে। তবুও যদি না বোঝে আমার ওপর স্বামীর অধিকার খাটাতে চায় তাহলে আমি আত্বহত্যা করবো। তবুও ঐ রাজু চৌধুরির কাছে আর ফিরে যাবো না আমি।
কথাগুলো ভেবে নিজেকে শক্ত করছে মিতু। হঠাৎ মিতুর চোখ যায় মিতুর ব্যাগের মাঝের তমার ডায়রিটার দিকে। মিতু কি মনে করে ডায়রিটা বের করে হাতে নেয়। তারপর নাড়াচাড়া করে দেখতে দেখতে হঠাৎ মিতুর চোখ পরে ডায়রির মাঝখানের পাতায় রাখা একটা এক্সট্রা কাগজের দিকে। মিতু কৌতুহল বসতো কাগজটা বের করে। বের করে দেখে ওটা কোনো সাধারন কাগজ নয় বরং একটা বড় চিঠি, যেটা তমার লেখা।
চিঠিটা হাতে নিয়ে পড়তে থাকে মিতু। চিঠিটাতে লেখা,,
প্রিয় তিতু,
এই চিঠিটা যখন তুই পাবি তখন হয়তো আমি তোর থেকে এই দুনিয়া থেকে অনেক দুরে কোথায় হাড়িয়ে যাবো। আমি তোর বেষ্ট ফ্রেন্ড হয়ে নিজের স্বার্থের জন্যে তোর সাথে যা করেছি তা হয়তো কোনো শত্রুও তার শত্রুর সাথে করেনা। কিন্তু বিশ্বাস কর তিতু আমি নিরুপায় হয়ে এমনটা করতে বাদ্ধ হয়েছি।
আমার পেটে কখনো কোনো বাচ্চা ছিলো না। না কখনো রাজু ভাইয়ার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক ছিলো। রাজু ভাইয়া অনেক ভালো মনের একজন মানুষ। যে তোকে অসম্ভব ভালবাসে। রাজু ভাইয়া আমায় নিজের ছোট বোনের মতো দেখে। আর সেই বড় ভাইকে নিয়ে আমি বাজে মন্তব্য করেছি তোর সামনে। আল্লাহও হয়তো আমায় কখনো ক্ষমা করবেন না এটার জন্যে।
যেদিন তুই আমায় আর রাজু ভাইয়াকে ছাদে দেখিস, সেদিন দুপুরে আমি কলেজ থেকে ফিরে গোসল করে বের হয়ে দেখি রাসেল ভাইয়া এসেছে আমাদের বাসায়। কেনো এসেছে তা ঠিক মতো না বলেই চলে যায় রাসেল ভাইয়া। আমি তখনো বুঝিনি রাসেল নামের ঐ শয়তান জানোয়ারটা এসেছে তোর আমার আর রাজু ভাইয়ার জীবনটা বিষিয়ে দিতে। সেদিন আমি গোসল করার সময় রাসেল ভাইয়া আমার গোসলের ভিডিও রেকর্ড করে ফেলে সবার চোখের আরালে। আর সেই ভিডিও দিয়ে আমায় ব্লাকমেইল করে তোর সংসার ভাঙতে। আমি যদি ওর কথা না শুনি তাহলে ও ঐ ভিডিওটা ভাইরাল করে দেওয়ার ভয় দেখায় আমায়। রাজু ভাইয়ার নামে তোকে আমি সেদিন যতগুলো কথা বলেছি সব ছিলো ঐ জানোয়ারটার শেখানো।
সেদিন ছাদে তোকে দেখাতে আমি ইচ্ছা করে চোখে পোকা ঢোকার নাটক করেছিলাম। রাজু ভাইয়া সেই কারনেই আমার চোখ দেখছিলো। কিন্তু পিছন থেকে দেখে তুই উল্টা বুঝে ছিলি।
জানিস তিতু আমি নিজের জন্যে কখনো এমন করতাম না তোর সাথে। কিন্তু আমি যে আমার বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। আমায় নিয়ে যদি এমন ভিডিও ছরিয়ে পরতো তাহলে আমার বাবা মাও হয়তো লজ্জায় অপমানে আত্বহত্যা করতো। তাই আমি তাদের জন্যে স্বার্থপরের মতো তোর সংসারটা ভেঙে দিলাম রে। পারলে এই অভাগিকে তুই মাফ করে দিস তিতু। সেদিন কলেজে তোকে ঐ মিথ্যে কথাগুলো বানিয়ে বলতে আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছিলো রে তিতু। তোর চোখের দিকে তাকাতে পারছিলাম না আমি। যে চোখে আমার জন্যে অফুরন্ত বিশ্বাস ভালবাসা ছিলো তার দিকে তাকিয়ে আমি কি করে এসব মিথ্যে তোকে বলতাম বল। তোকে রাজু ভাইয়ার সম্পর্কে এত বড় একটা মিথ্যে কথা বলে এসে আমি কিছুতেই শান্তি পাচ্ছি নারে তিতু। মনে হচ্ছে যেনো বুক ফেটে যাচ্ছে কষ্টে। কি অভাগি আমি বল একটু মন খুলে কাঁদতেও পারছি না। ইচ্ছা করছে চিৎকার করে কান্না করি। তোকে সব কিছু খুলে বলে ক্ষমা চাই তোর কাছে। কিন্তু সেটা যে আমি বেচে থাকতে আর সম্ভব হবে না রে তিতু। তাই আমি চলে যাচ্ছি। চলে যাচ্ছি সব ছেরে। আমি মারা গেলে ঐ রাসেল শয়তানটা আর কিছু করতে পারবেনা আমি জানি। তাই আমি মারা গেলেই ভালো হবে। তুই রাজু ভাইয়াকে ছারিস না মিতু ভুল বুঝে দুরে সরিয়ে দিস না তাকে। অনেক কপাল গুনে তুই এমন একটা বর পেয়েছিস তিতু। রাজু ভাইয়া তোকে পাগলের মতো ভালবাসে। রাজু ভাইয়াকে তুই ভুল বুঝিস না। আর যদি পারিস ঐ রাসেল শয়তান টাকে শাস্তি দেওয়ার ব্যাবস্থা করিস তিতু। ভালো থাকিস তিতু ভালো থাকিস তুই। পারলে আমায় ক্ষমা করিস আর আমার বাবা মাকে একটু দেখে রাখিস তাদের যে আমি ছারা আর কেউ নেই। আল্লাহ হাফেজ
ইতি
তোর স্বার্থপর বেষ্টু
তমা
চিঠিটা পড়ে মিতুর হাত পা যেনো থড়থড় করে কাঁপতে লাগলো। দুচোখের পানি যেনো আর বাধ মানছে না মিতুর। নিজের সব চাইতে কাছের বেষ্টফ্রেন্ডের এমন করুন কাহিনি পড়ে আর রাজুকে ভুল বুঝে এতগুলো দিন এভাবে কষ্ট দিয়ে যেনো নিজেকে বড় অপরাধী মনে হচ্ছে মিতুর। তিন বছর আগে সেদিন যদি বাবা মাকে নিয়ে ঢাকা ছেরে চলে না এসে এই ডায়রিটা দেখে একবার চিঠিটা পড়তে পারতো তাহলে হয়তো ওর বাবা মা কে এভাবে মরতে হতো না। রাজুকে এভাবে ভুল বুঝে কষ্ট দিতে হতো না আর রাসেলেরও শাস্তি হয়ে যেতো।
মিতু ওর মা বাবা আর তমার মৃত্যুর জন্যে নিজেকে দোষি মনে করতে লাগলো। মিতু কাঁদতে কাঁদতে ফ্লোরে বসে পরলো। তারপর মনে মনে বলতে লাগলো
-- তমা আমার জন্যে তোকে আজ এই পৃথিবী ছেরে চলে যেতে হয়েছে। শুধু মাত্র আমার কারনে আমার মা বাবা আজ আমার রাজুকে ভুল বুঝে মারা গিয়েছে। আমার কারনে রাজু আমার স্বামী আজ এতটা কষ্ট পাচ্ছে। সব আমার দোষ। তমা তুই আমায় ক্ষমা করে দিস বোন। আমার জন্যে ঐ রাসেল তোর সাথে এমন করেছে। তুই যদি একটি বার আমায় সব খুলে বলতি তাহলে হয়তো আজকে এমন দিন দেখতে হতো না। তমা রে আমায় মাফ করে দিস তুই। অঝোর ধারায় কাদতে লাগলো মিতু।
মিতুর খালামনি মিতুর কাছে আসছিলো ও রেডি কিনা সেটা দেখতে। দরজা খুলে ভিতরে ঢুকেই মিতুর খালামনি দেখে মিতু ফ্লোরে বসে পাগলের মতো কাঁদছে। চোখের পানিতে মিতুর সাজগুজ সব নষ্ট হয়ে গেছে। চোখের কাজল লেপ্টে সাদা মুখ কালো হয়ে গেছে। মিতুর খালামনি মিতুর এমন অবস্থা দেখে দৌড়ে মিতুর কাছে এসে মিতুর পাশে বসে বলতে লাগে
-- মিতু মামনি কি হয়েছে তোমার তুমি এভাবে কাদছো কেনো। একি অবস্থা করেছো তুমি নিজের? কি হয়েছে বলো আমায়।(উত্তেজিত হয়ে)
মিতু ওর খালামনিকে জরিয়ে ধরে হাউমাউ করে কাদতে থাকে। তারপর বলে
-- খালামনি আমি কি করে নিজেকে ক্ষমা করবো খালামনি। আমার বেষ্টু আমার বাবা মা সবার মৃত্যুর জন্যে যে আমিই দায়ী। আমার কারনে আজ আমি স্বামীর থেকে আলাদা। যে লোকটা আমায় পাগলের মতো ভালবাসে তাকে ভুল বুঝে আমি কতটা কষ্ট দিয়েছি। আমি এখন কি করবো খালামনি তুমি বলে দাও আমায়।
-- তুমি এসব কি বলছো মিতু। আমি তোমার কথা কিছুই বুঝতে পারছি না। সব খুলে বলো আমায় মিতু সব টা বলো আমায়।
তারপর মিতু নিজেকে শান্ত করে ওর খালামনির কাছে একে একে সব কথা খুলে বললো। রাজুর সাথে দেখা হওয়া বিয়ে হওয়া থেকে শুরু করে। তমার কথায় রাজুকে ভুল বুঝে তমার মৃত্যুর পর বাবা মাকে নিয়ে চিটাগাং চলে আসা। বাবা মার মৃত্যুর কারন সব কিছু খুলে বললো মিতু ওর খালামনিকে। তারপর চিঠিটা হাতে দিয়ে পড়তে বললো। সেদিন রাসেলের হাত থেকে রাজু ওকে বাচিয়েছে সেটাও বললো।
সব কিছু শুনে তমার চিঠি পড়ে খালামনিও মিতুর সাথে কিছুক্ষণ কান্না করলো। আর মনে মনে ভাবলো। এতটুকু একটা মেয়ের সাথে কত কিছুই না ঘটে গেছে এই তিন বছরে। তারপর মিতুর মাথায় হাত বুলিয়ে মিতুর খালামনি বললো
-- শান্ত হও মামনি শান্ত হও তুমি। তুমি কোনো ভুল করোনি। আর এসবে তোমার কোনো দোষও ছিলো না। তোমার জায়গায় অন্য কেউ থাকলেও হয়তো এমনটাই করতো। কিন্তু রাজু তোমার স্বামী থাকা সত্যেও তুমি অভিকে বিয়ে করতে চেয়েছো কেনো? তুমি জানোনা এটা কখনো জায়েজ হবে না?
-- আমি জানি খালামনি। কিন্তু বিশ্বাস করো আমি এই বিয়েটা সত্যি সত্যি করছি না। আমি শুধু মাত্র রাজুর থেকে চিরদিনের মতো দুরে থাকতে এই বিয়েতে রাজি হয়েছি। অভির সাথে বিয়ে হলেও ঐ বিয়েটা আমার জায়েজ হবে না। আমি চেয়েছিলাম বিয়ের রাতেই অভি আর আংকেল আন্টিকে সব সত্যিটা বলে আমি তোমায় নিয়ে এখান থেকেও দুরে কোথাও চলে যাবো কিন্তু এখন আমি আর এই নাটকের বিয়েটা করতে চাইনা খালামনি। আমি ফিরে যেতে চাই আমার কাজু ঘোলাদরির কাছে। আমার ভালবাসা আমার স্বামীর কাছে। আমি ক্ষমা চাইতে চাই তার পায়ে পরে মাফ চাইতে চাই আমি। তুমি এই বিয়েটা আটকাও খালামনি আটকাও এই বিয়েটা। (খালামনির পায়ে পরে)
-- কিন্তু এখন যে আর এই বিয়েটা আটকানো সম্ভব নয় মিতু মামনি। আর না এই বিয়েটা নাটকের বিয়ে। বিয়েটা তো তোমার করতেই হবে। আর সারাজীবন সংসারও করতে হবে যার সাথে আজ বিয়ে হবে তার সাথে।
খালামনির কথা শুনে মিতু অবাক হয়ে খালামনির দিকে তাকিয়ে বললো
-- সব কিছু জানার পরেও তুমি এসব কি করে বলছো খালামনি? আমি কি করে রাজুকে ছেরে আরেক জনের সাথে সংসার করবো। আর এই বিয়েটাও তো আমার বৈধ হবে না??
মিতুর কথা শুনে ওর খালামনি বললো
........................................................................................
খালামনির কথা শুনে হাসি ফুটে উঠলো মিতুর মুখে। মিতু উঠে দাড়িয়ে চোখের পানি মুছে নিজেকে নতুন করে সাজিয়ে নিলো আগের মতো বধুর সাজে। একটু পর কাজি সাহেব এসে মিতুকে কবুল বলতে বললো। কাজির বলতে দেরি মিতু ফটাফট তিন বার কবুল কবুল কবুল বলে ফেললো। মিতুর এভাবে কবুল বলা দেখে সবাই হাসাহাসি করতে লাগলো।
তারপর বিয়ে পড়ানো শেষ হলে আশরাফ খান মিসেস খান অভি মিতু সবাই মিলে রওনা হলো ঢাকার উদ্যেশে। ঢাকায় অভিদের নতুন বাড়িতে উঠবে ওরা। মিতুর বাসর সেখানেই হবে বললো অভির মা। মিতুদের সাথে খালামনিও গেলো।
ঢাকায় পৌছে অভির মা বাবা আর মিতুর খালামনি একটা বাসায় থেকে গেলো। আর মিতু ও মিতুর পাশে বসে থাকা অভি ছুটলো অন্য একটা বাড়ির উদ্যেশে। কিছু সময় পর বিশাল বড় একটা বাসায় এসে পৌছালো মিতু আর অভি। অণেক সুন্দর বাড়িটা। ও অনেক বড়ও। গেটের মধ্যে ঢুকতেই চারিপাশে নানা রকম ফুলের গাছ। মাঝখান দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার রাস্তা।মিতুকে নিয়ে অভি চলে গেলো ওপর তলায়। তারপর একটা রুম যেটা না না রকম ফুল দিয়ে সুন্দর করে সাজানো সেখানে মিতুকে বসতে বললো ঘুমটা দিয়ে আর বললো
-- তুমি এখানে বসো আমি এখনি আসছি মিতু। (বললো অভি)
মিতু মাথা নারিয়ে সায় দিলো। অভি চলে গেলো। আর মিতু বসে রইলো অপেক্ষায়,,,,,
চলবে,,,,,,,,,,,,,,
৩৮ পর্ব
লেখা--সোনালী
অভি চলে যাওয়ার পর মিতু বড় করে ঘুমটা টেনে বসে রইলো ওর বরের অপেক্ষায়। প্রায় ২ ঘন্টা হয়ে গেলো কিন্তু এখনো কেউ আসছে না দেখে মিতু বিছানা থেকে নেমে পা বাড়ালো দরজার দিকে। আর তখনি খট করে দরজা খুলে রুমে প্রবেশ করলো রাজু।ঘুমটার আড়াল থেকে রাজুকে দেখে মিতুর মুখে হাসি ফুটে উঠলো। মিতু রাজুর সামনে গিয়ে বলতে লাগলো
-- এত দেড়ি কেনো করলে আমি সেই কখন থেকে তোমার অপেক্ষা করে বসে আছি। আমার বুঝি একা থাকতে ভয় করে না?
কথাগুলো বলতে বলতে রাজুকে সালাম করতে প্রস্তুত হলো মিতু আর তখনি রাজু মিতুর হাত ধরে ফেললো তারপর একটানে মিতুর মাথার ঘুমটা খুলে ফেললো। রাজুর এমন আচরনে মিতু ভয় পেয়ে গিয়ে রাজুর দিকে অবাক চোখে তাকালো। মিতু রাজুর দিকে তাকিয়ে দেখে রাজুর চোখ গুলো একদম লাল টকটকে হয়ে আছে, চুলগুলো কেমন উস্কখুস্ক ও এলোমেলো।কপালের সব রগ যেনো রাগে একদম ফুলে গেছে। রাজু কে দেখতে খুব হিংস্র লাগছে। মিতু রাজুকে এমন অবস্থায় দেখে ভয়ে কুকিয়ে উঠলো। তারপর কাপা কাপা গলায় বললো
-- ত তো তোমায় এ এমন লা লাগছে কে কেনো রাজু। ক কি হয়েছে তো তোমার?
মিতুর কথা শুনে রাজু শরীরের সব শক্তি দিয়ে সজোরে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিলো মিতুর গালে। থাপ্পড় খেয়ে মিতু তাল সামলাতে না পেরে ফ্লোরে পরে গেলো। মিতুর ঠোটের কোনায় কেটে গিয়ে রক্ত বেরিয়ে গেলো। কিন্তু রাজুর সেদিকে কোনো খেয়াল নেই। রাজু দৌড়ে গিয়ে মিতুর চুলের মুঠি ধরে বললো
-- কি ভেবেছিলি তুই হুহহ কি ভেবেছিলি? এত সহজে তোকে আমি অন্য কারো বউ হতে দিবো? তোর সে আসা কখনো পুরোন হবে না। তোর জন্যে শুধু মাত্র তোর জন্যে পুরো তিনটি বছর পাগল হয়ে ছিলাম আমি। আরে তুই কি বুঝবি ভালবাসায় কতো জ্বালা। তোর জন্যে আমার এইখানটা (রাজুর বুকের বাম পাশে দেখিয়ে) পুড়ে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তুই আমায় ছেরে চলে আসার পর আমি একটা রাত এমন ছিলোনা যে রাতে তোর ছবি বুকে জরিয়ে কেদে বুক ভাসাইনি। দে আমার সেই চোখের জলগুলো আমায় ফিরেয়ে দে।আর কত কষ্ট দিবি আমায় তুই আর কতো?
এতটুকু বলে আবারো একটা থাপ্পড় মারলো রাজু। তারপর মিতুর চুল ধরে দাড় করিয়ে মিতুকে ছেরে দিয়ে বললো
-- ফুল দিয়ে ঘর সাজানো রুমে বাসর করবি তুই তাইনা। একজনের বউ হওয়া সত্যেও আরেক জনকে তুই কি করে বিয়ে করার সাহস পেলি। এখানে বউ সেজে বসে আছিস তাইনা অভির সাথে বাসর করবি বলে। করাচ্ছি আমি তোর বাসর।
কথাগুলো বলেই বাসর সাজানো সব ফুল টেনে ছিরে ফেলতে লাগলো রাজু। মিতু রাজুর কাছে এগিয়ে গিয়ে বললো
-- রাজু প্লিজ থামো আমার কথা শুনো প্লিজ। একটি বার আমার কথাতো শোনো।
মিতুর কথা শুনে মিতুর দিকে ফিরে মিতুকে ধাক্কা দিয়ে ফ্লোরে ফেলে দিয়ে রাজু বলতে লাগলো
-- কি শুনবো আমি তোর কথা। আর কি শোনার বাকি আছে আমার। এত কিছুর পরেও আমার মনে বিশ্বাস ছিলো যে তুই আমায় ছেরে অন্য কাওকে বিয়ে করবি না। তুই আমায় ভালবাসিস। কিন্তু আমি ভুল ছিলাম। তোদের মতো মেয়েদের জন্যে আমাদের মতো সত্যিকারের ভালবাসার ছেলেদের জীবন নষ্ট হয়। কি ভেবেছিলি তুই তোর এই বিয়ে অভির সাথে হচ্ছে? আরে তোর বিয়ে আবারও এই রাজুর সাথেই হয়েছে। অভিতো ছিলো নাটক মাত্র। তুই আমার জীবনটা শেষ করে দিয়েছিস। আমার ভালবাসা নিয়ে খেলা করেছিস। তোকে কি করে আমি অন্যের হতে দিবো। তুই এবার যখন আমায় ছেরে অন্যের হওয়ার সাহস দেখিয়েছিস তুই আবার এমন করবি তোকে আমি আর বিশ্বাস করি না। তাই তোর আমাকে ছেরে যাওয়ার সব রাস্তা আমি বন্ধ করে দিবো।
কথাগুলো বলতে বলতে মিতুর কাছে এগিয়ে আসলো রাজু তারপর মিতুর হাত ধরে টেনে তুলে বিছানায় ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো। তারপর নেশা ভরা চোখে এগিয়ে গেলো মিতুর দিকে। মিতু রাজুকে কোনো বাধা দিচ্ছে না বা কিছু বলারও সাহস পাচ্ছে না। মিতুর অসম্ভব ভয় হচ্ছে রাজুর এমন রুপে। রাজুকে এমন রুপে আগে কখনো দেখেনি মিতু। মিতু জানে রাজু যা করছে তার জন্যে ও নিজেই দ্বায়ী। রাজু মিতুর ওপর জোর করে স্বামীর অধিকার খাটিয়ে অনেক্ষন পর মিতুকে ছেরে দিয়ে বললো
-- আজকের পর তুই চাইলেও আমার থেকে আর দুরে যেতে পারবি না। তোকে সারাজীবন আমার কাছেই থাকতে হবে। কিন্তু আমার ভালবাসা নিয়ে নয় আমার ঘৃনা নিয়ে।
কথাগুলো বলে গায়ে একটা টিশার্ট জরিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো রাজু। আর মিতু চাদর টেনে নিজেকে জরিয়ে নিয়ে দুচোখের পানি ফেলতে লাগলো। আর বলতে লাগলো
-- সব আমার দোষ। আমার জন্যেই আজ আমার এই অবস্থা। আমি সত্যিই তোমায় অনেক কষ্ট দিয়ে ফেলেছি কাজু ঘোলাদরি। আমার যে এমনটা পাওনাই ছিলো। আমি আমার ভালবাসা দিয়ে তোমার ভালবাসা আবার জয় করবো কাজু ঘোলাদরি। এটা তোমার কাছে তোমার চুইংগাম বেইপির প্রমিজ।
মিতুর রুম থেকে বেরিয়ে রাজু সোজা ছাদে চলে গেলো। তারপর দেওয়ালে সজোরে কয়েকটা ঘুষি মারলো রাজু। তারপর ফ্লোরে বসে পরে চোখের পানি ছেরে বলতে লাগলো
-- কেনো চুইংগাম বেইপি কেনো। কেনো এমন করলে তুমি আমার সাথে। কেনো তুমি আরেকজন কে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিলে আমি তোমার স্বামী থাকা সত্যেও। কি করে পারলে তুমি আমার ভালবাসা এভাবে অবহেলা করতে। তোমাকে যতটা আঘাত আমি করেছি তার চাইতে হাজারগুন বেশি আঘাত যে তুমি আমায় দিয়েছো চুইংগাম বেইপি। কেনো বুঝলেনা তুমি আমার ভালবাসা। তোমার জন্যে আমি কি না করেছি মিতু। আমার সাথে বিয়ের নাটক আমি আমার বন্ধু অভিকে দিয়ে করিয়েছি,,,,,,,,,
ফ্লাশ ব্যাক,,,
রাজুর অফিসে অভি বিদেশ থেকে ফেরার দিনের ঘটনা,,
-- May I come in mister Raju?
-- oh, yes come in mister khan. how are u?
-- fine, mister Raju he is my son Ovi and Ovi he is mister Raju cowdhury..
আশরাফ খানের কথা শুনে অভি গিয়ে ডায়রেক্ট রাজুকে জরিয়ে ধরে, তারপর বলে
-- কেমন আছিস দোস্ত? তুই তো দেখছি আগের থেকেও অনেক হ্যান্ডসাম হয়ে গেছিস।
-- এই তো ভালো আছি। তুই কেমন আছিস। আর কখন ফিরলি দেশে। তুই যে মিস্টার খানের ছেলে তাতো আগে কখনো বলিস নি?আর তোকেও কিন্তু আগের চাইতে অনেক বেশি হ্যান্ডসাম লাগছে।
-- ওয়েট ওয়েট এই তোমরা কি দুজন দুজনকে চেনো নাকি আগে থেকে??(বললো আশরাফ খান)
-- হ্যা আব্বু আমি তোমায় একবার ফোনে বলেছিলাম না যে আমি একটা কার এক্সিডেন্ট হতে হতে বেচে গেছি একটা ছেলের জন্যে। এই হলো সেই ছেলেটা মিস্টার রাজু চৌধুরী। সেদিন ও আমায় না বাচালে হয়তো সেদিনই পৃথিবীতে আমার শেষ দিন হতো।
অভির মথা শুনে অবাক হয়ে রাজুর দিকে তাকালো আশরাফ খান। আশরাফ খানকে অবাক হতে দেখে রাজু বললো
-- আসলে হয়েছে কি মিস্টার খান আমি বিজনেসের কাজে দের বছর আগে দেশের বাইরে যাই আর তখনি অভির সাথে আমার পরিচয়। অভি ফোন টিপতে টিপতে রাস্তা পার হচ্ছিলো তখনি অপর পাস থেকে একটা গাড়ি আশে। অভির কানে ইয়ারফোন থাকায় ও বুঝতে পারেনি। আমি তখন ওখান দিয়েই যাচ্ছিলাম তো আল্লাহর ইচ্ছায় সেদিন আমি ওকে একটুর জন্যে বাচিয়ে নেই। তারপর যে কদিন ছিলাম সে কদিনে অভির সাথে আমার ভালো বন্ধুত্ব হয়ে যায়। আমরা তো মাঝে মাঝে ফোনে কথাও বলি বাট অভি কখনো বলেনি ও আপনার ছেলে মিস্টার খান।
-- কি কখন থেকে মিস্টার খান খান করছিস রাজু আংকেল বল। আমার বাবা তো তোর আংকেলই হয়।
-- ওহ হ্যা sorry ইয়ার।
-- তোমাকে অনেক ধন্যবাদ রাজু তোমার জন্যেই আমার অভি আজ বেচে আছে।
-- ছিঃ ছিঃ আংকেল এভাবে কেনো বলছেন। আমি কিছুই করিনি সব আল্লাহর ইচ্ছা।
-- আচ্ছা বাদ দে ওসব এখন বল ভাবি মানে তোর বউ আমার আব্বুর পিএ হলো কি করে আর তোরই বা এখানে আসার কারন কি।
অভির কথা শুনে বড় একটা দীর্ঘশ্বাস ছেরে রাজু আশরাফ খান আর অভিকে সব খুলে বললো মিতু আর ওর ব্যাপারে। সব শুনে আশরাফ খান অবাক হয়ে বললো
-- মিতু মামনির সাথে তো আমি অভির বিয়ে দিতে চেয়ে ছিলাম। কিন্তু মিতু আগে থেকেই বিবাহিত এটাতো জানতাম না। আর ও তোমার সাথে এমনটা কেনো করলো রাজু?
-- সে কথা আমিও জানিনা আংকেল। তবে মিতু এখনো আমার বউ আমাদের ডিভোর্স হয়নি। কিন্তু অভির সাথে আপনি মিতুর বিয়ে দিবেন আংকেল।
রাজুর কথা শুনে অভি আর আশরাফ খান দুজনেই অবাক হয়ে যায়। তারপর অভি বলে
-- তুই কি পাগল হয়ে গেছিস রাজু কি বলছিস এসব। মিতু তোর বউ হওয়া সত্যেও আমি ওকে কি করে বিয়ে করবো?
-- আমি পাগল হইনি অভি। তুই তো আমার ফ্রেন্ড তাই আমি চাই তোর সাহায্যে মিতুকে আবার বিয়ে করতে। আর এটাও জানতে চাই মিতু আমার বউ হওয়া সত্যেও আবার কাওকে বিয়ে করতে চায় কিনা। মিতু জানবে ওর বিয়ে তোর সাথে হচ্ছে কিন্তু বিয়েটা নতুন করে আমার সাথেই হবে। যদি মিতু রাজি হয় তো।
-- আমরা তোমার কথা কিছুই বুঝতে পারছিনা রাজু। আসলে কি করতে চাইছো তুমি?
তারপর রাজু অভি আর আশরাফ খানকে সব বুঝিয়ে বলে এতদিন ধরে মিতুর সাথে বিয়ে হওয়া পর্যন্ত সব প্লান করলো। রাজুর কথা মতোই মিতুকে অভি না আংটি পড়িয়ে অভির মা আংটি পরায়। বিয়ের যাবতীয় খরচও রাজুই করেছে। সব কিছু রাজুর আগে থেকে প্লান করা ছিলো।
কিন্তু মিতু যখন সত্যিই রাজুকে রেখে অভিকে বিয়ে করতে রাজি হয়ে গেলো তখন রাজুর ভালবাসাটা পরিনত হলো রাগে। তারপর মিতুর আরালে থেকে অভির আরালে মিতুকে বিয়ে করলো রাজু।
বর্তমানে,,,
রাজু এসব কথা ভাবতে ভাবতে চোখের জল ফেলছে। দেওয়ালে ঘুষি মারার কারনে হাত ফেটে গলগলিয়ে রক্ত পরে জমাট বেধে গেছে। রাজু কাদতে কাঁদতে বলতে লাগলো
-- মিতু আমি কখনো চাইনি তোমার সাথে এমন জোর করে স্বামীর অধিকার খাটাতে। কিন্তু আজ সেটাই আমি করলাম। তোমাকে যে আর হারাতে পারবো না আমি। মরে যাবো আমি তোমায় ছারা। ভালবাসায় যে এতটা কষ্ট আগে জানলে কখনো এই ভালবাসার ফাদে পা দিতাম না আমি। কেনো মিতু কেনো এমন করলে তুমি আমার সাথে। কি দোষ ছিলো আমার।
দুই দিকে দুজন কেদে বুক ভাসাচ্ছে। ভালবাসার মাঝে দুরুত্ব না হলে যে ভালবাসা গভির হয়না তাই হয়তো ওদের মাঝে এত দুরুত্বর সৃষ্টি হয়েছে। দুঃখের পরেই তো সুখ আসে কিন্তু এই দুঃখের সময় টুকু কাটিয়ে ওঠাই বড় কষ্টের।
পরের দিন সকালে,,,,,,,,,
চলবে,,,,,,,
৩৯+৪০(শেষ) পর্ব
লেখা--সোনালী
সকালে
খুব ভোরে উঠে ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিলো মিতু। তারপর একটা হলুদ রঙের গাউন পড়ে হালকা সাজলো। চোখে হালকা করে কাজল ঠোটে হালকা গোলাপি লিপস্টিক, কানে ছোট ছোট একজোড়া পাথড়ের ঝুমকা, গলায় গোন্ডের একটা চিকন চেইন। আয়নায় নিজেকে দেখে নিলো মিতু। মিতুকে যেনো অন্য দিনের চেয়ে আজকে আরো বেশি সুন্দরী লাগছে দেখতে। আয়নায় নিজেকে দেখে নিজেই লজ্জা পেয়ে গেলো মিতু। তারপর রুম থেকে বের হওয়ার জন্যে পা বাড়ালো রাজুকে খুজতে। কাল রাতের পর রাজুকে আর দেখেনি মিতু।
মাথায় ওড়না দিতে দিতে দরজার কাছে আসতেই কারো সাথে ধাক্কা লেগে পরে যেতে নিলো মিতু। ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেললো। তারপর ধিরে ধিরে চোখ খুললো ও নিচে এখনো পরলো না কেনো তা দেখার জন্যে। চোখ খুলে মিতু দেখলো রাজু ওকে পরে যাওয়া থেকে ধরে ফেলেছে। আর ওর দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। রাজুকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে মিতু লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে বললো
-- thank u আমায় পড়ে যাওয়ার হাত থেকে বাচানোর জন্যে।
মিতুর কথায় ধ্যান ভাঙলো রাজুর। আর সাথে সাথে মিতুকে ছেরে দিলো রাজু। মিতুকে ছেরে দেওয়ার সাথে সাথে মিতু ফ্লোরে ধপাশ করে পড়ে বসে পরলো। রাজু আর কিছু না বলে কাপড় নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেলো।
রাজুকে চলে যেতে দেখে মিতু কোমোড়ে হাত দিয়ে বললো
-- ও মাগো আমার কোমোড়টা বোধ হয় গেলো গো। একটা হাড়ও আর আস্ত নাই মনে হয় কোমড়ের। ঐ কাজু ঘোলাদরি আমার Thank u আমায় ফিরিয়ে দিয়ে যাও। ব্যাটা রাক্ষস আমায় ফেলে দিয়ে কোমড়ের হাড়গুলো সব ভেঙে দিলো গো। (ন্যাকা কান্না করে)
এতকিছু বলার পরেও যখন রাজু ওয়াশরুম থেকে বের হলো না বা একটা কথাও বললো না তখন মিতু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে উঠে দাড়ালো। তারপর মনে মনে বললো
-- এই ব্যাটা উগন্ডার বর মশাইরে আগের মতো ঠিক করতে হলে অনেক খাটতে হবে আমায় বুঝতে পেরেছি। মনে মনে
তারপর মিতু নিচে চলে গেলো আর পুরো বাড়িটা ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলো।
এদিকে রাজু মিতুকে ফেলে দিয়ে ওয়াশরুমে ঢোকার পর পানির শব্দের কারনে মিতুর কোনো কথাই শুনতে পায়নি। কিন্তু রাজু নিজে নিজে পন করেছে ও কিছুতেই মিতুর সামনে নিজের ভালবাসাটা প্রকাশ করবে না আর। মিতু ওকে যতটা কষ্ট দিয়েছে সব শুধে আসলে উশুল করবে ও।
মিতু পুড়ো বাড়ি ঘুরে ঘুরে দেখতে দেখতে কিচেনের কাছে গিয়ে থমকে দাড়ালো। কিচেনে একজন মহিলা রান্না করছে। মহিলাটা মিতুকে দেখে এগিয়ে এসে বললো
--ছোট ম্যাডাম আপনি এত তারাতারি উঠে পরেছেন? আপনি বসেন আমি কফি দিতাছি কফি খাবেন।আর ছোট স্যারের জন্যেও দিতাছি।
-- আপনি কি আমায় চেনেন? আর কে আপনি?
-- ছোট ম্যাডাম আমি ময়না, এই বাসার কাজের লোক, গত দুই বছর ধরে আমি এই বাসায় কাজ করি। আর আপনারে চিনমু না ক্যান। আপনি তো আমাদের ছোট স্যারের বউ আপনারে আমি কত দেখছি ছবিতে আর আপনার কথাও শুনছি বড় ম্যাডামের মুখে।
-- বড় ম্যাডাম মানে আপনি কি রাজুর আম্মু মানে আমার শাশুড়ি মায়ের কথা বলছেন? কোথায় উনি?
-- বড় ম্যাডাম তো বড় স্যারের সাথে বাবার বাড়ি গেছে গত দুইদিন আগে। ছোট স্যারই নাকি বলছিলো যাইতে। ছোট ম্যাডাম আপনাকে কিন্তু দেখতে ছবির চাইতেও বেশি সুন্দর। আমাদের ছোট স্যারের সাথে দারুন মানাইছে।
কাজের লোকের কথা শুনে মিতু সব বুঝতে পারলো। যে রাজু ইচ্ছা করেই ওর শশুড় শাশুড়িকে সরিয়ে দিয়েছে বাড়ি থেকে যাতে ওর ওপর অত্যাচার করতে পারে।
হঠাৎ ওপর থেকে রাজু চিল্লিয়ে বললো
-- এত বেলা হয়ে গেছে আমার কফি কই ময়না আন্টি? বাসার কাজ করতে কি সব এমনি এমনি রেখেছি নাকি মায়নে দিয়ে?
রাজুর চেঁচামিচি শুনে কাজের মহিলাটা তারাতারি কফি বানিয়ে এনে মিতুর হাতে এক কাপ দিয়ে আরেক কাপ নিয়ে বললো
-- ইশশ আজকে অনেক দেড়ি হয়ে গেলো ছোট স্যারের কফি দিতে। জানিনা কপালে কি আছে। আপনি কফি খান আমি ছোট স্যাররে এটা দিয়ে আসি।
-- আপনার যেতে হবে না ময়না আন্টি কাপটা আমায় দিন আমি নিয়ে যাচ্ছি ওনার কফি।
মিতুর মুখে আন্টি ডাক শুনে অনেক খুশি হলো কাজের মহিলাটি। তারপর মিতুর কাছে কফি মগটা দিয়ে দিলো। মিতু কফি নিয়ে রুমে গিয়ে দেখে রাজু সোফায় বসে ল্যাপটপে কাজ করছে। মিতু দরজাটা হালকা চাপিয়ে দিয়ে রাজুর কাছে গিয়ে কফি মগটা বাড়িয়ে দিয়ে বললো
-- তোমার কফি,,,
মিতুর কথা শুনে মিতুর দিকে তাকিয়ে মিতুর হাত থেকে কফি মগটা নিয়ে ছুরে ফেলে দিলো রাজু। তারপর ল্যাপটপ রেখে নিচে যেতে যেতে চিল্লিয়ে বললো
--ময়না আন্টি ময়না আন্টি আমি তোমার হাতের কফি ছারা খাইনা তুমি জানোনা? আজকে আবার অন্য জনের কাছে কফি দিয়েছো কেনো? নেক্সট টাইম এমন করলে কাজ থেকে বের করে দিবো তোমায় এই বলে দিলাম।
রাজুর কথা শুনে কাজের মহিলাটি যেমন ভয় পেলো তেমন অবাকও হলো। রাজুকে নতুন করে কফি এনে দিবে তার আগেই রাজু বাসা ছেরে বেরিয়ে চলে গেলো। রাজুর এমন আচরনে মিতু যেনো স্তব্ধ হয়ে গেলো। রাজু চলে গেলে মিতু কফি মগের ভাঙা টুকরোগুলো একটা একটা করে তুলছে আর চোখের পানিতে বুক ভাসাচ্ছে। রাজু গাড়িতে বসে আরেকটা ল্যাপটপের সিসি ক্যামেরায় তা দেখছে। রাজুর অনেক কষ্ট হচ্ছে মিতুকে এভাবে কষ্ট দিতে কিন্তু মিতু ওর সাথে যা করেছে তাও তো কিছু কম নয়।
মিতু মগের ভাঙা টুকরা গুলো নিয়ে রুমটা পরিস্কার করে নিচে নেমে আসলো। মিতুকে দেখে কাজের মহিলাটা এগিয়ে এসে বললো
-- ছোট ম্যাডাম ছোট স্যারের কি হয়েছে বলেন তো? সে অনেক রাগি আর খিটখিটে তা আমি জানি। কিন্তু আজকের মতো আচরন আগে কখনো করেননি উনি। আর আপনার হাতে কফি দিয়েছি বলে এমন কেনো করলেন উনি। গত দুই বছর হলো আমি এই বাড়িতে আছি। ছোট স্যার আপনার জন্যে কতটা পাগল হয়ে থাকতো দেখেছি হঠাৎ আপনাকে পেয়েও কি হলো ছোট স্যারের?
কাজের মেয়ের কথার উত্তরে মিতু বললো
-- আমার ভুলে আপনার ছোট স্যার এমন করছে আমার সাথে, এতে ওনার কোনো দোষ নাই। আপনি আপনার কাজে যান।
এভাবেই কেটে গেলো ১৫ দিন। এই ১৫ দিনে রাজু মিতুর সাথে কোনো রকম কথা বলেনি। এমনকি ভাল করে কখনো তাকায়ও না মিতুর দিকে। রাতে মিতু এক রুমে আর রাজু আরেক রুমে ঘুমায়। মিতু অনেকবার রাজুর সাথে কথা বলার চেষ্টা করেছে কিন্তু রাজু বার বার মিতুকে এড়িয়ে চলে। এর মাঝে মিতুর শশুড় শাশুড়িও আসেনি বাসায়। মিতু সারাক্ষণ একা একা থাকে আর কাজের মহিলার সাথে গল্প করে। মিতু যদি কিছু রান্না করে রাজুর জন্যে রাজু সেটা ছুরে ফেলে দেয়। তাই রান্নাও করেনা মিতু। দুপুরে আনমনে বেলকুনিতে বসে আছে মিতু। ওর কিছুই ভালো লাগেনা এই বাসায় তবুও কোথাও যায় না। শুধু ফোনে কথা বলে ওর খালামনির সাথে। হঠাৎ মাথায় কারো স্পর্শ পাওয়ায় ধ্যান ভাঙে মিতুর। মিতু ওপরে তাকিয়ে দেখে ওর খালামনি হাসি মুখে তাকিয়ে আছে। খালামনিকে দেখা মাত্র জাপটে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলো মিতু। মিতুর এভাবে কান্না দেখে খালামনি অবাক হয়ে বললো
-- এই পাগলী এভাবে কাদছো কেনো তুমি? কি হয়েছে মিতু। রাজু বাবার সাথে কিছু হয়েছে? বলো আমায়? আমি এতদিন পর আমার মেয়েটার কাছে এলাম আর এভাবে কান্না করছো?
খালামনির কথা শুনে কান্না থামিয়ে নিজের চোখ মুছে মিতু বললো
-- কিছু হয়নি খালামনি আসলে অনেকদিন পর তোমায় পেলাম তো তাই। কেমন আছো তুমি? তোমার শরীর এখন কেমন?
-- আমি ভাল আছি মামনি তোমার আশরাফ আংকেল আর আন্টির কাছে ভালই ছিলাম। আজকে রাজু বাবা গিয়ে বললো আমায় তোমার কাছে থাকতে। তাই সব কিছু গুজগাজ করে চলে এলাম আমার মায়ের কাছে।
তারপর কিছুক্ষণ গল্প করে মিতু ওর খালামনিকে নিয়ে নিচে গেলো। মিতুর খালামনি মিতুর ব্যাবহারে বুঝতে পারলো রাজুর সাথে মিতুর কিছুই ঠিক নেই। তাই দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর মিতুকে ঘুম পাড়িয়ে রাজুকে নিয়ে একটা রুমে গিয়ে মিতুর খালামনি বললো
-- রাজু বাবা আমি এখানে এসে মিতুকে দেখেই বুঝতে পেরেছি আমার মেয়েটা ভালো নেই। আর তুমিও দেখলাম ওর সাথে তেমন কথা বলোনা। কি হয়েছে তোমাদের মাঝে বলো আমায়?
খালামনির কথা শুনে রাজু মাথা নিচের দিকে দিয়ে দাড়িয়ে রইলো। কোনো কথাই বললো না রাজু। রাজুর এমন আচরনে খালামনি বুঝতে পেরে বললো
-- তুমি একটু এখানে দুই মিনিট বসো আমি এখনি আসছি। তোমায় অনেক কিছু জানানোর আছে আমার।
তারপর খালামনি তমার সেই চিঠিটা হাতে নিয়ে ফিরে এলো রাজুর কাছে তারপর মিতুর সাথে ঘটে যাওয়া সব কথা একে একে খুলে বললো রাজুকে। তারপর চিঠিটা এগিয়ে দিয়ে পড়তে বললো রাজুকে। সব কিছু শুনে রাজু বললো
-- আন্টি মিতু এসবের জন্যে আমায় ভুল বুঝে দুরে ছিলো বুঝলাম কিন্তু তমার এই চিঠিটা পড়ার পরেও কেনো ও অভির সাথে বিয়েতে রাজি হলো?
-- তাহলে শোনো রাজু সেদিন যখন মিতু তমার এই চিঠিটা পড়ে সব বুঝতে পারে তখন ও আমার কাছে বলে ও অভিকে বিয়ে করতে চেয়েছিলো তোমার থেকে সরে যাওয়ার জন্যে কিন্তু সব সত্যি জানার পর ও বিয়েটা করতে চায়না। পাগলের মতো কাদে আমার কাছে তোমার কাছে ক্ষমা চেয়ে ফিরে আসার জন্যে। তখন আমি ওকে বলে দেই যে বিয়েটা আসলে তোমার সাথে হচ্ছে অভির সাথে নয়। আমার কথা শুনেই ও হাসি মুখে তোমায় বিয়ে করে নেয়। এখানে তোমার বা মিতুর কারোরই কোনো দোষ নেই সব কিছুর কারন ঐ রাসেল নামের ছেলেটা। ওর জন্যেই তোমাদের মাঝে আজ এতো দুরত্ব। মিতু ওর বাবা মা আর তমাকেও ঐ রাসেলের জন্যেই হাড়াইছে। মেয়েটা অনেক কষ্ট পেয়েছে জীবনে তুমি ওকে ভুল বুঝে আর কষ্ট দিও না বাবা। আমার মেয়েটার যে তুমি ছারা আর কেউ নাই।
(সেদিন মিতু ওর বাড়ি বিক্রির জন্যে ঢাকা এলে রাজু ওর খালামনিকে সব কিছু বলে দেয় যে মিতু ওর বৌ তিন বছর আগে ওদের বিয়ে হয়েছে আর মিতু হঠাৎ চলে এসেছে চিটাগাং ওর বাবা মাকে নিয়ে.। তারপর খালামনিকে নিষেধ করে দেয় যেনো উনি কাওকে না বলে মিতুর বিয়েটা অভির সাথে নয় বরং রাজুর সাথেই হচ্ছে।সব কথা শুনেই মিতুর খালামনি অসুস্থ হয়ে পরে সেদিন। কিন্তু মিতুর মুখে সব শুনে মিতুকে সব বলে দেয় ওর খালামনি। তাই মিতু বিয়েতে খুশি হয়ে রাজি হয়)
খালামনির কাছে সব শুনে রাজু ক্ষমা চায় খালামনির কাছে আর নিজের ভুলগুলোও বুঝতে পারে। তারপর রাজু চিঠিটা পকেটে ভড়ে রাগে আগুন হয়ে খালামনিকে মিতুর কাছে থাকতে বলে হনহনিয়ে বেড়িয়ে যায় বাড়ি থেকে,,,,
চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,
৪০ ও (শেষ) পর্ব
লেখা--সোনালী
খালামনির কাছে সব শুনে রাজু ক্ষমা চায় খালামনির কাছে আর নিজের ভুলগুলোও বুঝতে পারে। তারপর রাজু চিঠিটা পকেটে ভড়ে রাগে আগুন হয়ে খালামনিকে মিতুর কাছে থাকতে বলে হনহনিয়ে বেড়িয়ে যায় বাড়ি থেকে।
-- তোমরা আমাকে কেনো এভাবে আটকে রেখেছো যেতে দাও আমায়। ঐ রাজু তোমাদের যত টাকা দিয়েছে আমিও ততটাকাই দিবো। যেতে দাও আমায়।
রাসেলের আকুতি মিনতি যেনো কারো কানেই ঢুকছে না। রাসেলকে অন্ধকার রুমে আটকে রেখে বাইরে পাহারা দিচ্ছে সবাই। আর রাসেল দরজা ধাক্কা দিতে দিতে এসব বলছিলো। রাজু রাগে গজগজ করতে করতে সেখানে এসে দরজা খুলতে বললো। রাজুর হুকুম পাওয়ার সাথে সাথে একজন দরজা খুলে দিলো। দরজা খুলে যেতে দেখে রাসেল তারাতারি বাইরে বের হতে চাইলে রাজু সজোরে রাসেলের পেটে লাথি মেরে ঘরের ভিতর ফেলে দিলো।
রাজুর লাথি খেয়ে অনেক দুরে পিছিয়ে গিয়ে ফ্লোরে আছড়ে পরলো রাসেল। রাজু গিয়ে রাসেলকে এলোপাথাড়ি কিল ঘুশি লাথি মারতে লাগলো। আর বলতে লাগলো
-- তোর জন্যে আজ আমি আমার মিতুর থেকে এতটা দুরে। তোর জন্যে আমি মিতুকে ভুল বুঝে ওর সাথে অন্যায় করেছি। তোর কারনে আমার ছোট বোনের মতো তমা আজ পৃথিবীতে নেই। তোর কারনে আমার শশুড় শাশুড়ি আমায় ভুল বুঝে ধুকে ধুকে মরেছে। তোর কারনে তিনটি বছর মিতু আমায় ভুল বুঝে আমার থেকে দুরে ছিলো। যে চোখ দিয়ে তুই আমার মিতুর দিকে খারাপ নজরে তাকিয়েছিস সেই চোখ আমি উপরে নিবো।
কথাগুলো বলেই একটা চিকন রড হাতে নিয়ে রাসেলের দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো রাজু। এদিকে রাসেল রাজুর মাইর খেয়ে প্রায় আধ মরা হয়ে আছে। নাক মুখ দিয়ে গলগলিয়ে রক্ত পরছে ওর। উঠে দাড়ানোর শক্তিও নেই। রাজুকে এভাবে এগিয়ে যেতে দেখে ঐ লোক চারজন গিয়ে রাজুকে থামিয়ে বললো
-- স্যার স্যার প্লিজ এমনটা করবেন না। লোকটা এমনিতেই আধমরা হয়ে গেছে আর একটু মারলে মরেই যাবে।
লোকগুলোর কথা শুনে কিছু একটা ভাবলো রাজু। তারপর ফোন হাতে বাইরে চলে গেলো। একটু পর আবার ফিরে এসে আরো কয়েকটা কিল ঘুশি বসিয়ে দিলো রাসেলের ওপর।
তারপর কিছু সময় পরেই পুলিশ আসলো সেখানে। রাজু পুলিশের হাতে তমার লেখা চিঠিটা দিয়ে পুলিশকে সব বুঝিয়ে বলে রাসেলকে পুলিশের হাতে তুলে দিলো।
রাসেলের ঝামেলা শেষ করে রাজু চলে গেলো তমার বাসায়। সেখানে গিয়ে দেখে তমার মা একা একা বসে আছে সোফায় গালে হাত দিয়ে। আর এক হাতে তমার একটি ছবি। তমার মায়ের চোখের কোন বেয়ে টপটপ করে পানি পরছে। রাজু গিয়ে সালাম দিলো তমার মাকে
-- আসসালামু আলাইকুম।
রাজুর সালাম শুনে তমার ছবিটা টেবিলে রেখে চোখ মুছে রাজুর দিকে তাকিয়ে তমার মা বললো
-- ওয়ালাই কুমুসসালাম। রাজু বাবা কেমন আছো তুমি?
-- আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি আম্মু। আপনি কেমন আছেন?
রাজুর মুখে আম্মু ডাক শুনে অবাক হয়ে রাজুর দিকে তাকিয়ে তমার মা বললো
-- আম্মু! তুমি আমায় আম্মু ডাকলে রাজু?
-- হ্যা আম্মু আমি আপনাকেই আম্মু ডেকেছি। আব্বু কোথায়? আপনার আর আব্বুর সাথে আমার তমার বিষয়ে কিছু কথা আছে।
রাজুর কথা শেষ হতেই পাশের রুম থেকে বেরিয়ে এলেন তমার আব্বু। রাজু তাকেও আব্বু ডেকে সালাম দিলো। তারপর দুজনকে পাশে বসিয়ে তমার সব কথা খুলে বললো তমার বাবা মাকে। রাসেল যে সব কিছুর জন্যে দ্বায়ী সেটাও বললো রাজু। রাজুর মুখে সব শুনে কান্নায় ভেঙে পরলো তমার বাবা মা। এক মাত্র মেয়ের নিজের বোনের ছেলের জন্যে এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না তমার বাবা। রাজু তাদের শান্তনা দিয়ে বললো
-- আব্বু আম্মু আপনারা শান্ত হন প্লিজ। আজ থেকে আমি আপনাদের ছেলে।আপনারা মনে করবেন আমি তমার বড় ভাই আর আপনাদের বড় ছেলে। আমার বোনের মৃত্যুর জন্যে যে দায়ী ছিলো তাকে আমি কঠিন থেকে কঠিনও তম শাস্তির ব্যাবস্থা করবো। আমাকে কি ছেলে হিসাবে গ্রহন করা যায় না আব্বু আম্মু?
রাজুর কথা শুনে রাজুকে বুকে জরিয়ে ধরলো তমার মা বাবা। তারপর তমার বাবা বললো
-- তোমার মতো একটা ছেলে পাওয়া আমাদের সৌভাগ্য হবে। আর তমার মতো মিতুও আমাদের আরেক মেয়ে। আমার বোনের ছেলের জন্যে এভাবে আমি আমার এক মেয়েকে হারাবো আরেক মেয়েকে কষ্ট পেতে দেখবো কখনো ভাবিনি। আল্লাহর কাছে মন থেকে দোয়া রইলো বাবা, আল্লাহ যেনো তোমায় আর মিতু মামনিকে অনেক সুখি করেন।
তারপর তমার মা বাবার সাথে অনেক্ষন গল্প করে সেখান থেকে বেড়িয়ে আসে রাজু। তারপর ফোনে কার সাথে যেনো কথা বলে রাজু। তারপর চলে যায় শপিংমলে। সেখানে গিয়ে মিতুর জন্যে অনেক সুন্দর একটা সাদা রঙের গাউন সাথে ম্যাচিং করা জুয়েলারি কেনে রাজু। তারপর দুটো পার্লারের মেয়ের হাতে সেগুলো দিয়ে আর কিছু কথা বলে বাসায় পাঠিয়ে দেয় রাজু।
রাত ৮.০০ টা
মিতু আর ওর খালামনি বসে গল্প করছিলো হঠাৎ খালামনির ফোনটা বেজে উঠলো। খালামনি ফোনটার স্কিনে রাজুর নাম্বার দেখে মিতুকে বললো
-- মিতু মামনি আমার জন্যে এক কাপ চা নিয়ে আসো তো একটু চা খাবো।
খালামনির কথা শুনে মিতু উঠে চা আনতে চলে গেলো। আর খালামনি রাজুর ফোন রিসিভ করে রাজুর কথা শুনে মুচকি হেসে ঠিক আছে বলে ফোন কেটে দিলো।
একটু পর মিতু চা নিয়ে এলে খালামনি মিতুকে নিয়ে নিচে চলে গেলো। বললো চা নিচে গিয়ে খাবে। নিচে নামতেই মিতু দেখলো মিতুর চাইতে দুই তিন বছরের সিনিয়র দুজন মেয়ে বসে আছে সোফায়। মিতুকে দেখেই কাজের মহিলা ময়না বললো
-- ছোট ম্যাডাম আমি আপনার কাছেই যাইতাছিলাম। ওনারা আপনাকে ডাকে।
মিতু ময়না আন্টির কথা শুনে অবাক হয়ে ঐ মহিলা দুটোর দিকে তাকিয়ে বললো
-- জ্বি বলুন? আমি তো আপনাদের ঠিক চিনলাম না?
-- এত তারাতারি ভুলে গেলেন ম্যাডাম? আপনার বিয়েতে আমরা আপনার সাথে এক প্রকার যুদ্ধ করে সাজিয়ে ছিলাম মনে নেই আপনার?যা দুষ্টুমি করছিলেন আপনি?(হাসতে হাসতে)
মেয়ে দুটার কথা শুনে মিতুর মনে পরলো এরাই ওকে বিয়েতে সাজিয়েছিলো। তারপর মিতু কিছু বলার আগেই মেয়ে দুটো মিতুকে নিয়ে মিতুর রুমে গেলো। তারপর মিতুর হাতে গাউনটি দিয়ে পড়ে আসতে বললো। মিতু বার বার প্রশ্ন করলো এগুলো কিসের আর কেনো পড়বে ও। কে পাঠিয়েছে ওদের?মেয়ে দুটো শুধু হাসলো আর বললো সব পরে জানবেন এখন এটা পড়ে আসুন। খালামনিও মিতুকে ঐ মেয়ে দুটার কথা শুনতে বললো। তাই মিতু বাদ্ধ মেয়ের মতো গাউনটা পড়ে আসলো।
মিতু আসলে মেয়ে দুটো মিতুকে নিয়ে আয়নার সামনে বসিয়ে সাজাতে লাগলো। চোখে গারো করে কাজল, ঠোটে গাড়ো লাল লিপস্টিক, কানে সাদা পাথড়ের বড় বড় একজোড়া ঝুমকা, গলায় ম্যাচিং নেকলেস, হাতে সাদা রঙের চুড়ি চুলগুলো সুন্দর করে খোপা করে তাতে সারি ভাবে ৫ টা সাদা গোলাপ পড়িয়ে দিলো। সাথে হালকা মেকাপ। মিতুকে দেখতে একদম বেবি ডলের মতো লাগছে। মনে হচ্ছে যেনো কোনো পুতুল।
মিতুকে একদম রেডি করা হয়ে গেলে মিতুর মাথার ওপর একদম পাতলা জরজেটের লাল ওরনা পড়িয়ে ঘুমটা দিয়ে দিলো পার্লালের মেয়ে দুইটা। তারপর একটি মেয়ে বলে উঠলো
-- ওয়াও ম্যাডাম আপনাকে কি লাগছে দেখতে একদম প্রিন্সেস ডলের মতো।
ঐ মেয়েটার কথা শুনে পাশের মেয়েটা বলে উঠলো
-- ঠিক বলেছিস রে ম্যাডামকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে।
মিতু ওদের কথা শুনে কিছুটা লজ্জা পেলো। তারপর বললো
-- আপনারা আমায় এভাবে সাজালেন কেনো? আর এসব জামা কাপড় আর জুয়েলারিই বা কে আনলো? আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না?
মিতুর কথার উত্তরে মেয়ে দুটা কিছু বলার আগেই পিছন থেকে খালামনি বলে উঠলো
-- তোমাকে এতো বুঝতে হবে না মামনি। তুমি চলো বাইরে তোমার জন্যে গাড়ি অপেক্ষা করছে অনেক রাত হলো এবার চলো।(রুমে ঢুকতে ঢুকতে কথাগুলো বললো খালামনি)
খালামনির কথা শুনে মিতু অবাক হয়ে পিছনে ঘুরে বললো
-- রাত ১০.৩০ টা বাজে এখন। এত রাতে আমি কোথায় যাবো খালামনি তাও আবার এত সেজেগুজে?
-- সেখানে গেলেই বুঝতে পারবে সেটা মামনি এখন তারাতারি যাও তো দেখি ভয় পেওনা যেনো। আমার মিতু মামনির দিকে কারো নজর না লাগে। (কথাগুলো বলে মিতু কপালে চুমো দিলো খালামনি)
তারপর মিতুকে সাথে নিয়ে বাসা থেকে বাইরে বের হলো। বাইরে বের হতেই মিতু দেখলো একটা সাদা রঙের গাড়ি দাড়িয়ে আছে গেটের সামনে। মিতু যাওয়া মাত্র একজন গাড়ির দরজা খুলে দিলো। মিতু এসবের কিছুই বুঝতে পারছে না। তবুও বাদ্ধ মেয়ের মতো গাড়িতে গিয়ে উঠে বসলো। মিতুর সাথে ঐ পার্লারের মেয়ে দুটাও উঠলো। তারপর গাড়ি চলতে লাগলো আপন মনে।
প্রায় ৩০ মিনিট জার্নির পর গাড়ি গিয়ে থামলো একটা সুন্দর বাংলোর সামনে। গাড়ি থামতেই মেয়ে দুটা মিতুকে নিয়ে ভিতরে যেতে লাগলো। রাত বলে খুব একটা ভালো করে কিছু বোঝা যাচ্ছে না। মিতুকে বাংলোর দরজার সামনে নিয়ে দরজায় ধাক্কা দিতেই দরজা খুলে গেলো। আর তখনি পার্লারের একজন মেয়ের ফোন বেজে উঠলো। মেয়েটা ফোনটা কানের কাছে নিয়ে শুধু আচ্ছা বলে ফোন কেটে দিয়ে মিতুকে ভিতরে দিয়ে বাইরে থেকে দরজা চাপিয়ে চলে গেলো। মিতুর খুব ভয় হতে লাগলো। বাংলোর ভিতরে একদম অন্ধকার শুধু মোমবাতি জ্বলছে সারি সারি ভাবে। ভয়ে মিতুর গলা শুকিয়ে গেলো এমনিতেই ও ভুত খুব ভয় পায়। মিতু কাপা কাপা কন্ঠে বললো
-- কে কে কেউ আ আ আছেন? আ আমি ব ব বাড়ি যা যাবো। ও মা মা মাগো। (কান্না করে দেওয়ার অবস্থা প্রায় মিতুর)
মিতুর এমন অবস্থা দেখে আরাল থেকে রাজু হাসলো আর মনে মনে বললো
-- হায় কপাল আমার এই মেয়েরে দিয়ে কিচ্ছু হবে না এতো ভিতু ক্যান এই মেয়ে একদম বাচ্চা। মোমের আলোতে ঠিক মতো দেখতেও পারছিনা ওকে।মনে মনে
মিতুকে ভয় পেতে দেখে রাজু আরাল থেকে বলে উঠলো
-- ভয় পেওনা চুইংগাম বেইপি সিরি বেয়ে ওপরে চলে আসো।
রাজুর কন্ঠ শুনে খুশিতে সব ভয় যেনো উরে গেলো মিতুর। মিতু দ্রুতো পায়ে ওপরে চলে গেলো। তারপর একটা রুমের সামনে গিয়ে দেখলো দরজার ওপরে ছোট ছোট রঙ বেরঙের লাইট দিয়ে লেখা
❤WELCOME MY CHUNGAM BABY❤
লেখাটা দেখেই মিতুর মুখে হাসি ফুটে উঠলো। মিতু দরজা ঠেলে ভিতরে পা রাখলো, আর সাথে সাথে ওপর থেকে অনেকগুলো গোলাপের পাপড়ি ছরিয়ে পরলো মিতুর ওপর। মিতু চারিদিকে চোখ বুলিয়ে দেখতে লাগলো। রুমটা অনেক সুন্দর করে সাজানো। শুধু লাল আর সাদা গোলাপ দিয়ে সাজানো পুরো রুম। সাথে লাভসেইভ বেলুন দিয়েও সাজানো। মিতুর যেনো সব স্বপ্ন মনে হচ্ছে এসব। হঠাৎ পিছন থেকে কারো কথায় পিছনে ফিরে তাকায় মিতু। মিতুর পিছনে দুই হাটু গেড়ে বসে মাথা নিচু করে হাতে একগুচ্ছ লাল গোলাপ নিয়ে রাজু বলতে লাগলো
-- ভালবাসা কি জানতাম না আমি।
জীবনটা যখন ছিলো একাকিত্ব ময়,
তখন এক টুকরো স্বপ্ন হয়ে দেখা দিলে তুমি।
প্রথম দেখায় প্রথম ঝগড়াতেই মনটা চুরি
করে নিয়ে নিলে তুমি।
তারপর শুরু হলো নির্ঘুম স্বপ্নময় রাত।
তোমার কথা তোমার চেহারা সব সময় ভাসতো চোখে।
তখন মনে শুধু একটা কথাই আসতো।
যেকোনো কিছুর বিনিময়ে হলেও আমি তোমায় চাই।
তোমায় চাই আমার এই অশান্ত বুকের শান্তি হিসাবে।
তোমায় চাই জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত,
বুকের মাঝের হৃদয় হিসেবে।
তোমায় চাই আমার একাকিত্ব জীবনের ছায়া হিসেবে।
তোমায় চাই বুকের সব ভালবাসা দিয়ে তোমায় রাঙিয়ে দিতে।
কিন্তু সেই চাওয়াটা হারাম ভাবে চাইনি আমি,
তাই তো বিয়ের পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ করলাম।
এক হোলাম দুজন জন্ম জন্মান্তরের জন্যে।
কিন্তু তোমায় আপন করে পাওয়ার আগেই
এক ঝড়হাওয়া তোমায় কেরে নিলো আমার থেকে।
সেদিন শুধু তুমি হারাওনি সাথে হাড়িয়ে ছিলো,
আমার মুখের হাসি, আমার বেচে থাকার ইচ্ছা,
আমি নিশ্য হয়ে গিয়েছিলাম তুমি হিনা।
লোকে আমায় পাগল ভাবতে শুরু করে।
তখন অন্ধকারটাই হয়ে ওঠে আমার চিরসাথী।
তারপর আবার তোমায় ফিরে পেলাম।
অন্ধকারটা আবার তোমার আলোয় আলোকিত হলো।
একবার হাড়িয়ে পাগল ছিলাম,
দ্বীতিয়বার হাড়ালে হয়তো মরেই যাবো।
ভালবাসি ভালবাসি অনেক বেশিই ভালবাসি।
কিন্তু প্রকাশ করা হয়নি কখনো।
হয়তো তেমন সুযোগই আসেনি আগে।
জানি ভুল বুঝে অনেক বড় অন্যায় করে ফেলেছি আমি তোমার সাথে।
কিন্তু বিশ্বাস করো সেটাও করেছি তোমায় হারাবার ভয় থেকেই।
তুমি কি ক্ষমা করে আপন করে নিবে আমায় আজ এই রাতে।
চলবে কি জীবনের বাকিটা পথ হাতটি রেখে আমার হাতে।
বাসবে কি একটু ভালো তোমার এই বদরাগী বর টাকে?
কথা দিচ্ছি কখনো এক ফোটা অশ্রুও আর ঝড়তে দিবোনা তোমার চোখে।
সারাটি জীবন আগলে রাখবো এই বুকের সম্পুর্ন ভালবাসা দিয়ে।
আল্লাহ যতদিন পৃথিবীতে বাচিয়ে রেখেছেন,
যতদিন শ্বাসপ্রশ্বাস চলবে এ বুকে,
ততদিন থাকবো আমি তোমারই হয়ে।
তুমি কি গ্রহন করবে আমায়?
এতটুকু বলে ওপরের দিকে মুখ তুলে মিতুর দিকে তাকালো রাজু।মিতুর মুখে প্রপ্তির হাসি আর আনন্দ ফুটে উঠেছে। কিন্তু দুচোখ বেয়ে ঝড়ে পড়ছে অশ্রুজল। তবে এ অশ্রু কষ্টের নয়, এটা ভালবাসা পাওয়ার অশ্রু, আনন্দের অশ্রু।
রাজু তাকাতেই মিতুও রাজুর সামনে হাটু গেরে বসে পরলো। তারপর রাজুর হাত থেকে ফুলেরতোড়াটা নিয়ে শক্ত করে জরিয়ে ধরলো রাজুকে।
তারপর কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলো
-- হ্যা আমিও চাই আমার এই বদরাগী নয় মিষ্টি বরটাকে।
সারাজীবন ছায়া হিসেবে চাই প্রতিটি মুহুর্তে আমার পাশে।
জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত পেতে চাই এই পাগলের মতো ভালবাসাটাকে।
এ জীবনে আর চাইনা কোনো বাধা কোনো সন্দেহ।
শুধু ভালবাসতে চাই মন উজার করে।
কথাগুলো বলেই আবারও কাদতে লাগলো মিতু। মিতুকে কাঁদতে দেখে নিজের থেকে মিতুকে সরালো রাজু। তারপর মিতুর মাথার ওরনাটা একটানে ফেলে দিয়ে মিতুর চোখের জলকনা ঠোট দিয়ে শুষে নিয়ে বলতে লাগলো
তোমার চোখে বৃষ্টি এলে
দৃষ্টি আমার ভিজবে,
ছন্দে শুরে আমার এ প্রেম
তোমার হাসি খুজবে।
মুখের হাসি রোদের ঝিলিক
কান্না যেনো বৃষ্টি,
তোমার ভালবাসায় হবে
আমার প্রতিটা দিনের সৃষ্টি।
তুমিই আমার জীবন মরন
তুমিই আমার প্রান,
সামনে তোমায় না পেলে তাই
এই মন করে আনচান।
এ পৃথিবীতে শুধু তোমার জন্যে
জন্ম হয়েছে আমারি,
তুমি ছিলে আমার স্বপ্নে আঁকা
সেই কাল্পনার রাজকুমারী।
ভালবাসি ভালবাসি শুধু
তোমাকেই ভালবাসি,
তোমায় ঘিরেই জীবন জুরে
আমার সকল হাসি খুশি।
(লেখায় #M_Sonali)
রাজুর বলা কথাগুলো শেষ হতেই মিতু আবারো রাজুকে শক্ত করে জরিয়ে ধরলো। রাজুও তার চুইংগাম বেইপিকে জরিয়ে ধরে রইলো কিছুক্ষণ। তারপর মিতুকে ছেরে দিয়ে অভিমানি শুরে রাজু বললো
-- কিন্তু আমি আমার সেই আগের চুইংগাম বেইপি ও আইস্ক্রিম পাগলি কে চাই। আমার সেই ঝগড়াটে এলিয়েন বউটাকে ফেরত চাই। যার সাথে ঝগড়া করেই প্রেমে পড়েছিলাম আমি।
রাজুর কথা শুনে মিতু উঠে দাড়িয়ে বললো
-- হুমম তাকে ফেরত দিতে পারি। তাকে ফিরে পেতে চাইলে আইস্ক্রিম আর চুইংগাম দিয়ে প্রপোজ করো কাজু ঘোলাদরি তাহলেই আগের দুষ্টু মিতুকে পাবে।
মিতুর কথা শোনার সাথে সাথে রাজু মুচকি হেসে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। তারপর কিছু সময় পরই হাতে করে অনেকগুলো আইস্ক্রিম এর প্যাকেট আর চুইংগাম নিয়ে ফিরে আসলো। তারপর মিতুর সামনে হাটু গেরে বসে মুচকি হেসে বললো
-- I LOVE YOU MY CHUNGAM BABY & ICE CRIME PAGLI. DO YOU LOVE ME?
রাজুর কথা শেষ হতেই মিতু ছো মেরে রাজুর হাত থেকে আইস্ক্রিম আর চুইংগাম গুলো নিয়ে টেডি হাসি দিয়ে বললো
-- YES I DO, I LOVE U SO MUCH MY ICE CRIME & CHUNGAM. হিহিহিহি কচু খাও তুমি কাজু ঘোলাদরি।
মিতুর কথা শুনে রাজু ভ্রু কুচকে উঠে দাঁড়ালো তারপর বললো
-- তবে রে পাজি তুমি আমাকে ফেলে আইস্ক্রিম আর চুইংগামকে লাভ ইউ বললা। দাড়াও তোমার আজকে হচ্ছে চুইংগাম বেইপি।
রাজুর কথা শেষ হতেই মিতু ওর হাতের আইস্ক্রিম চুইংগামগুলো দৌড়ে টেবিলের ওপর রেখে রুমের মাঝে ছোটাছুটি শুরু করলো আর রাজুও ছুটলো মিতুর পিছু। ছুটতে ছুটতে মিতু ওর গাউনের ওপর পারা পরে ধপাৎ করে ফুল দিয়ে সাজানো খাটের ওপর পরে গেলো। আর রাজু গিয়ে পরলো মিতুর ওপর। তারপর রাজু ডেভিল হেসে বললো
-- এখন তোমার কি হবে চুইংগাম বেইপি। কি করবো এখন তোমায় আমি?(চোখ টিপ মেরে)
রাজুর কথা শুনে ভয়ে ঢোক গিলে মিতু বললো
-- ক ক কি করবে ত তুমি কাজু ঘোলাদরি?
-- কি আবার করবো তোমার সাথে এই বাসর সাজানো ঘরে বাসর করবো(নেশা ভরা চাহনিতে)
-- ছিঃ ছিঃ কাজু ঘোলাদরি ওসব করে না তুমি না ভালো ছেলে ওগুলো পঁচা লোকেরা করে।
-- আরে আমি ভাল ছেলে তা তোমায় কে বললো আমিও তো পঁচা। আর এটার জন্যে সারাজীবন পঁচাই থাকতে চাই।
-- এই এই না না নউউউউউউ,,,,
আর কিছু বলতে পারলোনা মিতু তার আগেই রাজু ওর ঠোট দখল করে নিলো,,,(বাকিটা ইতিহাস)
৫ বছর পর
-- বাবাই বাবাই তুমি আম্মুকে হাম্মি দিলে কেনো আমাদেরও দাও।
দৌড়ে এসে রাজুর কোলে উঠে বললো রাজু ও মিতুর টুইন বেবি তিন্নি আর মুন্নি। রাজু তার দুই রাজকন্যা কে কোলে নিয়ে গালে চুমু দিয়ে বললো
-- তোমাদের তো আরো বেশি দিবো মামনিরা। এখন আমি অফিস যাই তোমরা কিন্তু মাম্মামকে একটুও জ্বালাবেনা কেমন। আমি অফিস থেকে এসে আরো অনেক আদর দিবো।
-- হ্যা হ্যা আদর দিয়ে দিয়ে তো বাদর তৈরি করছো মেয়েগুলোকে। সারাটা দিন আমায় জালিয়ে মারে। মন ভরে একটু আইস্ক্রিমও খেতে পারিনা দুজন হাজির। ওদের ঠান্ডা লাগবে বলে আমিও খাইনা।
-- মেয়ে দুটো কার দেখতে হবে না। মায়েই যেমন আইস্ক্রিম পাগলী তার মেয়েগুলো তো কপি হবেই। আমার প্রিন্সেস দের একদম বকবেনা চুইংগাম বেইপি এই বলে গেলাম।
তারপর রাজু বেরিয়ে অফিসে চলে গেলো।
মিতুর সংসারটা আজ আনন্দ ভালবাসায় পরিপুর্ন। রাজকন্যার মতো দুটা মেয়ে। মা বাবার মতো শশুড় শাশুড়ি আর খালামনি। তমার বাবা মাও মাঝে মাঝেই দেখতে আসে মিতুকে। সকলের চোখের মনি মিতু আর ওর দুই মেয়ে। ভালবাসায় ভরা ওদের জীবন সংসার। ওদিকে রাসেলের যাবৎজীবন কারাদণ্ড হয়েছে। রাসেলের বউ রাসেলের কুকির্তি জানার পর রাসেলকে ডিভোর্স দিয়েছে। রাসেলের মা বাবাও ছেলের এমন কান্ডে অনেক লজ্জিত, তারা তমার মা বাবার কাছে ক্ষমাও চেয়েছে।
অভি নীলাকে বিয়ে করে বাবার কম্পানির দ্বায়ীত্ব নিয়েছে। সবাই অনেক সুখে আছে।
এভাবেই সুখে থাকুক সবাই এই কামনা করি,,,,,,
❤❤❤❤❤❤❤❤❤সমাপ্ত❤❤❤❤❤❤❤❤❤

No comments:

Post a Comment

অদৃশ্য পরী

  ----দেবর সাহেব, তো বিয়ে করবে কবে? বয়স তো কম হলোনা ৷ ----আপনার মত সুন্দরী কাউকে পেলে বিয়েটা শীঘ্রই করে ফেলতাম ৷ -----সমস্যা নাই তো, আমা...