28.12.23

অবুঝ এ মন

 অবুঝ এ মন

Write : Sabbir Ahmed
____________________________
শুভ একটা বিয়ে বাড়িতে আসছে আলোকসজ্জা করতে। বাহারি রকমের লাইট দিয়ে বাড়িটা সাজানো হচ্ছিলো। শুভ কাজের তদারকি সহ নিজেও কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই বিজনেস টা তার দুঃসম্পর্কের এক মামার। শুভর পরিবারের অার্থিক অবস্থা তেমন একটা ভালো না থাকায়, তার লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য এ কাজ করে থাকে। সাথে তার পরিবারে কিছু টাকা দিয়ে থাকে। দুই ভাই আর চার বোনের পরিবারে শুভ পরিবারের বড় ছেলে। বাবা গ্রামে বর্গা দেওয়া জমি চাষ করেন, এবং তার সামান্য আয়ে পুরো পরিবার চলে। এমন একটা পরিবার থেকে শুভর লেখাপড়া সম্ভব না তাই এরকম এটা কাজ বেছে নিয়েছে।
,,
বর্তমানে সে যে বাড়িতে কাজ করছে এ এক বিশাল বাড়ি। মেয়ের বাবা তো বিশাল এক নেতা আর শিল্প বতী। আর তার একটি মাত্র মেয়ে বোঝাই যাচ্ছে নেতাজি এক এলাহি কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলবেন মেয়ের বিয়েতে তাই এতো আয়োজন।
,,
শুভ আর দলবল কাজ করছিলো, মাঝে মাঝে আশরাফ সাহেব এসে নিজে কাজের তদারকি করছেন৷ মাঝে মাঝে ভুল ও ধরিয়ে দিচ্ছেন।
শুভ তার বাকি কাজ বুঝে নেওয়ার জন্য আশরাফ সাহেবের সামনে গেলো।
-স্যার (শুভ সামনে গিয়ে বলল)
-কি হয়েছে? কোনো সমস্যা?(আশরাফ সাহেব)
-স্যার এ পাশের কাজ গুলো তো শেষ, এরপর কোনদিক টা ধরবো?
-আমার বাসার ছাদে থেকে লাইট গুলো সাজাবে৷ তারপর প্রত্যেকটা তালার বেলকনি আর রুমগুলোতেও সাজাবে
-জ্বি স্যার
-কেনো একটা লাইটে সমস্যা যেনো হয় না৷ এটা কিন্তু আমার বিশাল এক আয়োজন, আর এর সাথে আমার মান সম্মান জড়িয়ে আছে
-না না স্যার সব লাইট জ্বলবে, আমরা সব চেক করেই লাগাচ্ছি
-ঠিক আছে কাজ চালিয়ে যাও
,,
শুভ তার সহকর্মীদের বলল...
-তোরা এ পাশে কাজ শেষ কর, আমি বেলকনিতে কি লাইট সেট করা যায় সেটা দেখে আসি।
,,
শুভ বাসার মধ্যে ঢুকে প্রথমে ছাদে উঠলো। এপাশ ওপাশ ভালো করে দেখে গেলো তৃতীয় তলার বেলকনিতে। প্রত্যেকটা কক্ষ আর তার বেলকনিতে কি লাইট দেওয়া যায় সে ছক কষছিল মাথায়। হঠাৎ..
-এই যে ভাই শুনছেন? (একটা মেয়েলি কণ্ঠ)
,,
শুভ পেছন ফিরে দেখলো একটা মেয়ে।
-আমাকে ডাকছেন? (শুভ)
-হুমমম আপনি এখানে কি করছেন?
-লাইট লাগাবো তো, তাই জায়গা টা দেখে নিচ্ছিলাম
-ওহহ আচ্ছা ঠিক আছে কাজ করুণ
,,
মেয়েটা চলে গেলো, তবে পরক্ষণেই আবার আসলো। মেয়েটাকে দেখে মনে হচ্ছিলো খুব চিন্তিত আর বেশ ভয়ে আছে। শুভ বুঝতে পারছিলো মেয়েটা তাকে কিছু বলতে চায়। শুভ আগ বাড়িয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছিলো না। তাই চুপ থেকে সে তার কাজ করতে লাগলো। এদিকে মেয়েটি শুভর দিকে আরও একটু এগিয়ে আসলো। তারপর বলল...
-আ আ আমাকে একটা হেল্প করতে হবে (মেয়েটি)
-জ্বি বলুন (শুভ)
-এখানে বলা যাবে না, আমার রুমে আসেন একটু
-ঠিক আছে
,,
মেয়েটার রুমে যাওয়ার পর, মেয়েটি বলতে শুরু করলো..
-এই যে সবকিছুর আয়োজন এটা কার জন্য বলেন তো? (মেয়েটি)
-যার বিয়ে তার জন্য (শুভ)
-হুমম আমার বিয়ে
-ওহহ আপনি তাহলে উনার মেয়ে(নেতাকে উল্লেখ করে)
-হুমমম
-আপনার কি হেল্প লাগবে আমাকে বলুন সমস্যা নেই আমি করে দিতে পারবো
-আমাকে নিয়ে পালাতে হবে
,,
কথাটা শুনে শুভর চোখ মুখ উল্টে যাওয়ার মতো অবস্থা। মেয়েটি এমন একটা হেল্প চেয়ে বসলো এটা তো করা অসম্ভব, আর ভাবাও ঠিক না।
শুভ মেয়েটিকে বলল..
-দেখেন আমি তো আপনার অপরিচিত, আমি আপনার সমস্যা গুলো শুনতে চাই না। আপনি আপনার পরিচিত কোনো বন্ধুর সাহায্য নিয়ে পালিয়ে যান, আমি এটা করতে পারবো না,
-আমার কোনো বন্ধু নেই, এখন আপনিই আমার বন্ধু
-বিয়েতে অমতের কারণ কি? কোনো প্রেমঘটিত ব্যাপার?
-নাহহহ
-তাহলে?
-ছেলেটা একটু সন্ত্রাসী টাইপের, বুঝতেছেন তাহলে চরিত্র কেমন হতে পারে
-না, আমার কোনো ধারণা নেই এই সম্পর্কে
-আপনার ধারণা থাকতে হবে না, সোজা কথা আমাকে নিয়ে পালাতে হবে
-আমি পারবো না, আপনার বাবা জানলে আমি, আর আমার পরিবার একেবারেই শেষ হয়ে যাবো
-আচ্ছা আপনি শুধু আমাকে পালিয়ে যেতে হেল্প করেন, আমি আপনার কথা গোপন রাখবো
-দেখেন আপা আমাদের জীবন এমনিতেই ঠুনকো, তার মধ্যে কিছু হলে তো বুঝতেই পারছেন
-হুমমম তাহলে আপনি হেল্প টা করছেন তো?
-হুমম
-তাহলে সন্ধ্যার দিকে আসবেন, আপনাকে নিয়ে আমি বাড়ির পেছন দিক দিয়ে বের হবো
-ঠিক আছে?
-আচ্ছা
,,
সেইদিন সন্ধ্যায় শুভর সাহায্যে মেয়েটি পালাতে সক্ষম হলো।
শুভ মেয়েটিকে রাস্তায় নিয়ে এসে বলল।
-আমার কাজ তো শেষ, আমি তাহলে চলে যাই (শুভ)
-কই কাজ শেষ? মাত্র তো বাইরে আসলাম (মেয়েটি)
-তখন তো বললেন শুধু পালালে সাহায্য করলেই হবে
-এখনো তো পালানো হয়নি, সবেমাত্র রাস্তায় এসে দাঁড়ালাম
-আমার ভয় করছে আপনার বাবার হাতে পরলে জীবন নাই হয়ে যাবে
-ভয় নেই আমি বোরকা পড়ে আসছি কেউ চিনবে না আপনারও ক্ষতি হবে না, আপনি শুধু আমাকে একটা নিরাপদ জায়গা পর্যন্ত নিয়ে যান
,,
কাছেই একটা বাসস্টপ থেকে একটা বাস ধরলো তারা। দুজন সিট পেয়ে বসলো। শুভর ভয়ে পুরো শরীর ঘেমে যাচ্ছিলো, বার বার শুধু মেয়েটির বাবার ফেস টা শুভর সামনে ভেসে উঠছিলো। ধরা পরলেই এক গুলিতে দুনিয়ার বাইরে পাঠিয়ে দিবে।
,,
হঠাৎ শুভর ফোনে তার দলের একজনের ফোন। শুভর কাঁপা কাঁপা হাতে ফোন রিসিভ করলো।
ফোনের ওপাশ থেকে..
-ভাইজান কই আপনি?
-আ আ আমি, আমি তো চলে আসছি, বাবার শরীর ভালো না তাই হঠাৎ করে বাড়ি আসছি
-একটু আগেই তো আপনাকে দেখলাম এতো তাড়াতাড়ি গেলেন কিভাবে?
-এখনো পৌঁছায়নি, পথে আছি
-ওহহ আচ্ছা শুনেন বিশাল এক কান্ড ঘটে গেছে,
-কি হয়েছে??
-নেতার মেয়ে তো পালিয়েছে, সাথে অনেক টাকা পয়সা গয়নাগাটি নিয়ে গেছে
-বলিস কি! (শুভ মেয়েটির ব্যাগের দিকে তাকালো)
-হ ভাই, আচ্ছা ভাই বাড়ি যান তাইলে
-হুমমমম
,,
শুভ ফোন রেখে বলল..
-ব্যাগে টাকা আর গহনাপত্র নিয়ে আসছেন? (শুভ)
-হ্যাঁ
-আপা, আপনি যেখানে ইচ্ছে জান আমার ভয় করছে, আমি আপনার সাথে যাবো না।
-যখন দেখবো আমি নিরাপদ তখন ছুটি দিবো তার আগে না। আর হ্যাঁ আপা বলবেন না বার বার আমার একটা নাম আছে, পুষ্প
-....(শুভ কিছু বলল না)
-বাসটা কোথায় যাচ্ছে?
-ঢাকার দিকে
-ঠিক আছে তাহলে। ব্যস্ত নগরীতে আমাদের খুঁজে পাবে না
-আমার বাড়িতে টেনশন করবে আমাকে ছেড়ে দিন আমি চলে যাই, আপনি একাই যান
-এতো ভয় পান কেনো আপনি? বললাম তো আপনার সব কথা
গোপন থাকবে
-আমি যে ওদের বললাম আমি বাড়িতে। বাড়িতে ফোন করে যদি আমাকে না পায় তাহলে আমাকে সন্দেহ করবে।
-আপনি একটা কাজ করেন, আপনার মা কে কল করেন, উনাকে সব কিছু বুঝিয়ে বলেন। তারপর সেই অনুযায়ী সামলে নিতে বলেন। কেউ ফোন করে জানতে চাইলে উনি যেন বলে আপনি বাড়িতে আছেন, ঠিক আছে?
-হুমমম
,,
শুভ কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল...
-আমাকে সাথে না নিলেও পারতেন (শুভ)
-আমার ব্যাগে ছুড়িও নিয়ে আসছি, আর যদি এলোমেলো কথা একটা শুনি পেট ফুটো করে দিবো
-না, আর কিছু বলব না।
-হুমমম আমার ঘুম পাচ্ছে আমি একটু ঘুমিয়ে নেই আপনি ব্যাগ এর দিকে খেয়াল রাখবেন
-আচ্ছা,
,,
মধ্য রাতে তারা ঢাকায় পৌঁছে গেলো। ঢাকায় পুষ্পর সবই চেনা, কিন্তু সে শুভর সামনে না চেনার অভিনয় করলো। এরকম বিষয়ে একজন সাথে থাকলে আলদা একটা সাহস আসে।
,,
পুষ্প শুভকে কিছুই বুঝতে দিলো না৷ বাস থেকে নামার পর...
-এখন কোথায় যাবো? (পুষ্প)
-আমি কিভাবে বলব? (শুভ)
-আপনার সাথে আসছি, আপনিই তো সব বলবেন
-আমি জানি না
-রাতে থাকবো কোথায়?
-দেখেন এতো রাতে কোথাও কেউ আশ্রয় দিবে না, চলেন স্টেশনে যাই
-কোন স্টেশন?
-রেল স্টেশন, জায়গাটা নিরাপদ।
-এখান থেকে কতদূর?
-আমরা এয়ারপোর্টের সামনের রাস্তায় এসে নেমেছি, ওপাশেই স্টেশন,
-ওহহ চলেন তাহলে
,,
স্টেশনে এসে একটা জায়গায় বসে দুজন কিছু খেয়ে নিলো। খাওয়া শেষ করে পুষ্প কিছু টাকা বের করে শুভর হাতে দিয়ে বলল..
-নেক্সটে যে ট্রেন আছে সেটার টিকিট কেটে নিয়ে আসুন (পুষ্প)
-আবার কোথায় যাবেন? (শুভ)
-এই সুযোগে পুরো বাংলাদেশ ঘুরে দেখবো
-আমি আপনার সাথে যাবো না, আমি বাড়ি যাবো
-চাইলেও পারবেন না, আন্টি কে তো সব বলে দিয়েছেন। আর হ্যাঁ আমার কথা না শুনলে বাবা কে ফোন দিবো
-টাকা দেন টিকিট নিয়ে আসছি
-এই যে নিন...
।।
।।
অবুঝ এ মন
Part : 2
Write : Sabbir Ahmed
____________________________
-চাইলেও পারবেন না, আন্টি কে তো সব বলে দিয়েছেন। আর হ্যাঁ আমার কথা না শুনলে বাবা কে ফোন দিবো(পুষ্প)
-টাকা দেন টিকিট নিয়ে আসছি (শুভ)
-এই যেন নিন
,,
শুভ কিছুক্ষণ পর হাতে দুটো টিকিট নিয়ে ফিরে আসলো। টিকিট দুটো পুষ্পর সামনে ধরে বলল...
-পঞ্চগড় এর টিকিট পেয়েছি (শুভ)
-ওহহ গুড, পঞ্চগড় যেন কোন দিকে?
-উত্তর দিকে
-ট্রেন কখন আসবে?
-ঘন্টা খানেক এর বেশি সময় লাগবে। তবে হ্যাঁ ট্রেনটা আমরা পেতাম না, লেইট করে তাই পেলাম
-কপালে থাকলে এমন করেই আসে।
-আচ্ছা আমি একটা কথা বলি?
-বলুন
-আমার উপর জুলুম করতেছেন কেনো?
-কোথায় জুলুম করলাম? আপনি তো আমাকে হেল্প করতেছেন, আর কাউকে হেল্প করতে একটু কষ্ট হবেই।
-মেয়ে মানুষ হয়ে অচেনা একজনের সাথে বের হয়ে আসতে আপনার বুক কাঁপলো না
-না
-কেনো?
-কারণ আপনি ভীতু আর ভালো মানুষ তাই বুক কাঁপেনি
-আপনি কি আমাকে চিনেন?
-না চেনার কি আছে? বললাম তো আপনি কেমন। ভালো দেখেই সাথে নিয়ে আসছে
-দুই মিনিটে মানুষ চেনা যায়?
-আমাদের বাড়িতে দুই দিন কাজ করেছেন, আমি আপনাকে দুই দিন ফলো করেছি। আর কোনো কথা না, খাচ্ছি খেতে দেন
-আচ্ছা খান তাহলে
-আপনিও বাদাম নেন
-নাহহ ঠিক আছে
-উফফ এই বোরখা পরে বেশ গরম লাগছে
-গরম এমনিতেই পরেছে
-হুমমম
,,
কিছুক্ষণ দুজন চুপ থাকার পর। শুভ বলল..
-আমি কি আপনাকে কিছু কথা বলতে পারি? (শুভ)
-হুমম বলতে পারেন, তবে এই সুযোগে আবার আপনি প্রপোজ কইরেন না৷ এমনিতে অনেক প্রপোজাল শুনে কান ঝালাপালা হয়ে গেছে
-আমার তো খেয়ে দেয়ে কাজ নেই আপনার মতো কাউকে প্রপোজ করবো
,,
পুষ্প বাদাম খাওয়া বন্ধ করলো। বাদামের প্যাকেট টা পাশে রেখে দুহাত ঝারলো। তারপর বলল..
-মাথা ঝু্ঁকান তো (পুষ্প)
-কেনো? (শুভ)
-এমনি দরকার আছে ঝুঁকান
,,
শুভ পুষ্পর সামনা সামনি দাঁড়িয়ে ছিলো, পুষ্পর কথামতো মাথা ঝুঁকাতেই পুষ্প দুহাত দিয়ে শুভর কলার ধরে ফেলল।
-এই মারবেন নাকি? এমন করে ধরছেন কেনো? (শুভ ভয়ে)
-নাহহ একটু শাশন করবো। এই ব্যাটা আমি কি খারাপ দেখতে যে ওমন কথা বললি হুমম
-কেমন কথা বললাম?
-ঐ যে বললি খেয়ে দেয়ে কাজ নেই আপনাকে প্রপোজ করতে যাবো এইটা
-আরেহহ আপনি বুঝেন না কেনো? আপনি তো সেই উঁচু বংশের মেয়ে আপনার স্ট্যাটাস-ই আলাদা। আমি কি এসব জেনে শুনে আপনাকে প্রপোজ করতে যাবো?
-হুমম বুঝেছি (পুষ্প শুভকে ছেড়ে দিলো)
,,
পুষ্প আবার বাদাম খাওয়া শুরু করলো। শুভ আগ বাড়িয়ে আর কোনো কথা বলল না, আবার কি না কি বলবে, কোনটা দোষ হয়ে যাবে। সেই ভয়ে শুভ কিছু বলল না, মাঝে মাঝে শুধু আড় চোখে তাকিয়ে মেয়েটার বাদাম খাওয়া দেখছিলো।
,,
অনেক অপেক্ষার পর ট্রেন আসলো, মধ্য রাত তাই ভিড় কম। সিট ও পেয়েছে দুজন৷ ঝটপট ট্রেনে উঠে পড়লো। সিট খুঁজে বের করে দুজন বসলো। পুষ্প সিটে বসেই এক টানে নেকাব টা খুলে ফেলল।
-হাহ কি সাহস আমার, প্রথম কথা বিয়ে ভেঙে পালাচ্ছি, তাও আবার অপরিচিত একটা মানুষের সাথে (পুষ্প)
,,
পুষ্পর কথা শুনে শুভ উত্তরে বলল..
-একা গেলে আরও ভালো হতো
-ঐ ঐ কথা কম বলেন
-জ্বি কমই তো বলতেছি
-হুমম চুপচাপ আমার সামনা সামনি বসেন
-সিট তো পাশাপাশি কেটেছি
-তো কি হয়েছে, সিটের মালিক আসলে উঠে আমার পাশে বসবেন, আপাতত সামনেই থাকেন
-আচ্ছা
-পাশে বসলে একটু স্পর্শ লাগবে, সেই আশায় বসতে চান তাই না?
-ছি ছি কি বলেন এগুলো
-যা বলি সত্যি বলি
-দেখেন বেশি বেশি বুঝতেছেন, আমি মোটেও এরকম ভাবিনি, এরকম মনে করলে আপনি একাই যান, আমাকে সাথে নিচ্ছেন কেনো? আপনার মতো আপনি যান আমি নেমে যাচ্ছি (কথাগুলো বলে শুভ উঠে দাঁড়ালো)
-বাপরেহহ এত্তো রাগ
-আপনি উল্টা পাল্টা বলেন কেনো?
-এমনি মজা করলাম, বসেন। আর উল্টা পাল্টা বলবো না, সিধে সাপটা বলব
,,
শুভ রাগ করে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে। ট্রেন ধীরে ধীরে স্টেশন ছাড়তে শুরু করলো। পুষ্প বলল..
-জানালা লাগিয়ে দেন (পুষ্প)
-কেনো? (শুভ)
-রাত করে বাইরে আর কি দেখবেন? আমার সাথে গল্প করেন
-হুমমম
,,
শুভ জানালা লাগিয়ে দিলো..
-হুহহ মনে হচ্ছে আমরা পঞ্চগড় পৌঁছাতে পৌঁছাতে সকাল হয়ে যাবে তাই না?
-আমি জানি না কখনো যাইনি
-হুমমম যাই হোক ওখানে গিয়ে...
-এগুলো কথা বাদ দেন, আপনার বাড়ি ফিরবেন কবে সেটা বলেন
-বিয়ের ডেট পার হলে
-সবাই তো আপনাকে নিয়ে চিন্তায় থাকবে
-আমি চিঠি লিখে টেবিলে রেখে আসছি
-হুমমম
-আমার জীবনটা এমন হতো না, আসলে মা নেই তো তাই আমার জীবন টাকে জীবন-ই মনে হয় না।
-আন্টি কবে মারা গেছে
-আমি তখন সপ্তম শ্রেণীতে তখন
-ওহহহ
-বাবা তার ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এই বিয়ের আয়োজন করেছে
-হুমম বুঝেছি
,,
পুষ্প কথা বলতে বলতে চোখের পানি মুছলো। তারপর বলল...
-বাদ দিন তো এসব কথা। আর শুনুন আপনি আমাকে রেখে পালিয়ে যাবেন না, আমি আপনার কোনো ক্ষতি হতে দিবো না, বন্ধু হিসেবে পাশে থাকেন
-সব করতে রাজি কিন্তু বন্ধু হয়ে পারবো না
-কেনো?
-ছেলে আর মেয়েতে বন্ধু হয়না
-তাহলে কি হয়?
-অন্যান্য সম্পর্ক গুলো হয়
-কোনো গুলো
-আপনি বোঝেন না তাই না?
-উমমম বুঝি, আপনার মতলব টাও বুঝেছি,
-আবার কি মতলব বুঝলেন
-রাগ করবেন না, আপনার সাথে একটু মজাও করা যায় না হুহহহ
-....(শুভ চুপ)
-আচ্ছা পঞ্চগড় গিয়ে থাকবো কোথায়?
-থাকার জায়গার অভাব নেই আর টাকার ও অভাব নেই আপনার, দামী দেখে একটা হোটেলে উঠবেন
-উমম ঠিক
-তবে আমি কিন্তু আপনার সাথে একই হোটেল থাকবো না
-কেনো? কি সমস্যা? দুটো রুম নিয়ে থাকবো
-না তাও না
-ওহহ বুঝেছি পালানোর ধান্দা?
-উহুমমমম
-তাহলে কি?
-কিছু না তবে আপনি আমাকে কিছু টাকা দিয়েন আমি আমার থাকার জায়গা ম্যানেজ করে নিবো
-আচ্ছা ঠিক আছে
-ভয় পাবেন না আমি পালাবো না
-হুমমম
-এখন একটু ঘুমিয়ে নেন
-হ্যাঁ ভালোই ঘুম পেয়েছে....
,,
দুজন ঝিমাতে ঝিমাতে ঘুমিয়ে গিলো। কিছুদূর যাওয়ার পর শুভ যে সিটে বসছিলো সে সিটের লোক এসে শুভ কে ডেকে উঠালো। শুভ উঠে এসে পুষ্পর পাশে বসলো। পুষ্প সেই যে ঘুমিয়েছে, ট্রেনের দুলুনিতে তার ঘুম আর গভীর হয়েছে। শুভর আবার ঘুমিয়ে গেলো।
,,
ভোরের দিকে দুজনের ঘুম ভাঙলো..
-জব্বর ঘুম হলো (পুষ্প)
-উমমম আমারও (শুভ)
-ঐ ঐ আপনি ঘুমিয়েছিলেন কেনো? ব্যাগপত্র সব ঠিকঠাক
আছে তো?
-হ্যাঁ মনে তো হয় সব ঠিক ঠাক আছে
,,
পুষ্প দেখলো যে জায়গায় ব্যাগ রেখেছিলো সেই জায়গায় ব্যাগ টা নেই। সাথে সাথে পুষ্পর মাথায় হাত। পুষ্পর অবস্থা দেখে শুভ বলল..
-কি হলো নেই? (শুভ)
-কোথায় ব্যাগ?
,,
শুভ খুঁজে দেখলো সত্যি ব্যাগটা নেই।
এখন এখানে চিল্লানো যাবে না। এতোগুলা টাকার ব্যাগ সাথে গহনা।
ব্যাগ কারও সাহায্যে পাওয়া গেলেও পরে টাকা আর গহনার জন্য জবাবদিহি করতে হবে।
,,
পুষ্প রাগ করে অচেনা এক স্টেশনে নামলো। শুভও পিছু পিছু নামলো।
পুষ্প স্টেশনের এক সিটে বসলো। দূরত্ব বজায় রেখে শুভ দাঁড়িয়ে থাকলো। শুভ পুষ্পর হাব-ভাব বুঝে বলল..
-সরি আমি আসলে ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম (শুভ)
-আরেহহ আপনি সরি বলছেন কেনো? দোষ তো আমার, আমি তো ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম আপনার মতো গর্ধব রে পাহারার দায়িত্ব দিয়ে
-এখন সব দোষ আমার তাই না?
-আপনার হতে যাবে কেনো? সব দোষ আমার
,,
হঠাৎ কারও কর্কষ কণ্ঠে শোনা গেলো।
-দোষ তো আমার আমি চুরি করেছি..
পুষ্প আর শুভ পাশে তাকিয়ে দেখলো
আশরাফ সাহেব পুষ্পর চুরি করা ব্যাগ হাতে দাঁড়িয়ে আছেন। তার পেছনে কিছু লোকজন দাঁড়িয়ে।
,,
বাবাকে দেখে পুষ্প পুরো থতমত খেয়ে গেলো। ভয়ে শুভর হাত চেপে ধরলো। শুভ বিড়বিড় করে বলতে লাগলো..
-এমনিতে উনি আমার দিকে গরম হয়ে তাকিয়ে আছেন, তারউপর আপনি হাত ধরছেন কেনো? এবার তো আমাকে জবাই দিবে (শুভ)
,,
আশরাফ সাহেন শুভর দিকে তাকিয়ে এগিয়ে আসলেন। যেই না শুভকে ধরতে যাবেন তখনই পুষ্প বলে ফেলল..
-বাবা ওর কোনো দোষ নেই, আমি ওকে ভাড়া করে সাথে এনেছি (পুষ্প)
,,
আশরাফ সাহেব হেসে বললেন..
-আমি জানি, আমি জানি। আমার মেয়ে আমার বাড়ি থেকে বের হয়ে আসবে আর আমি টের পাবো না? আমি তোমাকে প্রথম থেকেই ফলো করে এখানে আসছি। তুমি কি আমাকে বোকা ভাবো?
-বাবা সরি
-পালালে কেনো?
-ছেলে পছন্দ না
-ওহহ ঠিক আছে। একটা কথা শুনে রাখো আমি তোমার জন্য আমি আমার মান সম্মান ডোবাতে পারবো না। বিয়ে ঐ ছেলের সাথেই হবে,,,,
।।
।।

অবুঝ এ মন
Part : 3
Write : Sabbir Ahmed
____________________________
-ওহহ ঠিক আছে। একটা কথা শুনে রাখো, আমি তোমার জন্য আমি আমার মান সম্মান ডোবাতে পারবো না। বিয়ে ঐ ছেলের সাথেই হবে (আশরাফ সাহেব)
-বাবা বেয়াদবি মাফ করবেন, আমি আপনার সাথে যেতে পারবো না (পুষ্প)
-অনেক বেশি কথা বলতে শিখে গেছো। আমি জোর করে তোমাকে নিয়ে যেতে পারি, কিন্তু সেটা করছি না৷ আমি চাই তুমি সব মেনে নিয়ে আমার সাথে চলো
-না আমি যাবো না
,,
আশরাফ সাহেব রেগে গিয়ে পুষ্প কে চর মারলেন৷ মাইর দেখে ভয়ে শুভ দুই পা পেছনে গেলো। আশরাফ সাহেব পুষ্পর হাত ধরে স্টেশন এর নিচে নিয়ে গেলেন, সেখানে প্রাইভেট কার দাঁড় করানো। মেয়েকে নিয়ে গাড়িতে উঠতেই শুভ এসে বলল..
-স্যার স্যার আমি কিভাবে যাবো আমার কাছে টাকা নেই (শুভ)
-তুই পেছনের গাড়িতে ওদের সাথে আয়
-ঠিক আছে স্যার
,,
আশরাফ সাহেব তার ক্ষমতা দিয়ে সব খবর ধামাচাপা দিয়ে দিলেন। মেয়ে পালানোর খবর টা উড়ো খবর হিসেবে চালিয়ে দিলেন। একদিনেই নিজের বাড়িতে আবার সবকিছু নতুন করতে শুরু করতে বললেন। ওদিকে রুমে শুয়ে কাঁদছে পুষ্প। তার কান্না দেখার মতো কেউ নেই। মৃত্যু কে সে খুব ভয় করে তাই আত্মহত্যার চেষ্টা করছে না।
,,
এদিকে শুভ তার মা কে পুরো ঘটনা টা বলে। তার মা তাকে সাবধান করে দেয় যাতে এরকম কিছুতে আর না জড়ায়। শুভ পুষ্পদের বাড়িতে আবার কাজে আসছে। কেউ যাতে কোনো সন্দেহ না করে তাই পুষ্পর বাবা তাকে কাজ থেকে বাদ দেয়নি।
,,
শুভ পুষ্পদের বাড়িতে কাজ করার সময় বার বার পুষ্পর রুমের বেলকনিতে তাকাচ্ছিলো। অনেক বার তাকিয়ে থেকেও পুষ্প কে দেখতে পায় না সে। হয়তো তার বাবা বন্ধ করে রাখছে। শুভ কাজে মন দিতে পারছিলো না বার বার পুষ্পর কথা মনে করছিলো আর ভাবছিলো একটা কিছু করা দরকার।
,,
সেদিন সন্ধ্যায় কাজ শেষে সবাই যার যার গন্তব্যে চলে গেছে। শুধু শুভ বাদে, সে বাড়ির এক কোণায় ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে পরে সন্ধ্যার দিকে।
তার উদ্দেশ্য পুষ্পর কাছে যাওয়া।
রাত যখন গভীর হয় তখন সে ঝোপের মধ্যে থেকে বের হয়। কিছু পাহারাদার ঘুমিয়ে পড়েছে, কয়েকজন জেগে মেইনগেটের সামনে আড্ডা দিচ্ছে। শুভ ধীর পায়ে এগিয়ে যায় বাড়িটাট দিকে। কাজের সময় একটা মই পুষ্পর বেলকনির সামনে লাগিয়ে রেখেছিল সেটাও খুব কৌশলে। এখন মই বেয়ে উপরে উঠার পালা। শুভ খুব কৌশলে সেটা করলো। তারপর বেলকনির দরজায় দেখলো বাইরে থেকে লাগানো তবে তালা দেওয়া নেই। শুভ দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। রুমটা একদম ঘুটঘুটে অন্ধকার পুষ্প সবগুলো লাইট অফ করে ঘুমিয়ে আছে। শুভ দরজা টা বন্ধ করে তার ফোনের লাইট অন করলো।
,,
ফোনের আলোয় দেখতে পেলো একটু দূরে খাটের এক কোণায় পুষ্প এলোমেলো হয়ে শুয়ে আছে। বিছানাটা অগোছালো একদম।
শুভ এগিয়ে গিয়ে আস্তে আস্তে ডাকলো। প্রথমে পুষ্প কোনো সাড়া দিলো না।
,,
শুভ পুষ্পর কাঁধে হাত রেখে একটু ধাক্কা দিয়ে ডাক দিতেই পুষ্প হুড়মুড়িয়ে উঠে বসলো। শুভর ফোনের লাইট শুধু পুষ্পর দিকে তাক করে ছিলো তাই শুভ পুষ্প কে ভালো ভাবে দেখতে পেলেও পুষ্প শুভকে দেখতে পায়নি। পুষ্প ভাবলো তার রুমে অচেনা কেউ ঢুকেছে, এই ভয়ে জোরে এক চিৎকার করে উঠে।
চিৎকারের আওয়াজের কিছুটা বাইরে বের হলেও পরের টুকু আর বের হতে পারেনি। শুভ সাথে সাথে তার মুখ চেপে ধরে ফোনের লাইট শুভ নিজের মুখে ধরে তার অবয়ব টা দেখিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল..
-আমি শুভ, আমি শুভ (শুভ)
,,
পুষ্প শান্ত হলে শুভ হাত সড়িয়ে নিলো। দুজনের কথোপকথন এখন ফিসফিসিয়ে...
-আপনি এখানে কি করেন? (পুষ্প)
-আপনাকে নিতে আসছি (শুভ)
-আমাকে নিতে আসছেন মানে? (একটু রাগ দেখিয়ে)
-ভুল বুঝবেন না আপনাকে নিয়ে পালাবো
-ঐ পালাবেন মানে?
-আপনি তো বিয়ে তে রাজি না, আমার সাথে চলুন আপনাকে বাঁচাবো
-আমি পালাবো না, আমি ঘুমাবো, আপনি জান তো
-না চলুন
-কোথায় নিয়ে যাবেন আপনি আমাকে? আমার বাবা কে তো চিনেন যেখানেই যাবেন উনি ঠিকই খুঁজে বের করবে। আমি আপনার পরিবার আর আপনাকে বিপদে ফেলতে চাই না। আমার কপালে যা আছে হবে। রাত অনেক হয়েছে আপনি বাড়ি যান
-উহুমমম চলেন আমার সাথে, আমি স্টেশনে আপনার চোখ দেখেছি। ওখানে আপনার চেহারায় কেমন যেন এক ভয় আর আতঙ্ক কাজ করছিলো। তখনই ভেবেছি আরেকবার আপনাকে নিয়ে পালাবো
-নিজের অকাল মৃত্যু না চাইলে, আমার রুম থেকে চলে যান, আর এসব চিন্তা মাথা থেলে ঝেড়ে ফেলেন।
-আমি না নিয়ে যাচ্ছি না
-কি এক আজিব সমস্যায় পড়লাম, আমি সন্ত্রাসীর সাথেই সংসার করবো এটা মেনে নিয়েছি আমি পালাবো না।
-না আমি এটা মানবো না।
-আপনি না মানার কে?
-আমি জানি না। তবে আপনার অবস্থা দেখে আমি ঠিক থাকতে পারছি না। আর কথা বাড়াবেন না চলুন তো
-আমাকে নিয়ে কোথায় যাবেন?
-যেখানে আপনার বাবার কোনো ক্ষমতাই কাজ করবে না সেখানে যাবো
-সেটা কোথায়?
-আছে চলুন আমার সাথে
-আমার হাতে কিন্তু টাকা পয়সা নেই,
-আচ্ছা সমস্যা নেই আমার কাছে আছে
-কি যে করি, আপনাকে ভরসা করতে পারছি না
-আমার উপর ভরসা কেনো করতে হবে? আল্লাহ ভরসা
-হুমমম সেটাই, চলুন তাহলে
-আচ্ছা মই বেয়ে নামতে হবে
-থাক পালাতে গিয়ে হাত পা ভাঙতে চাই না, আমি ঘুমাই। আপনি বাসায় যান কেমন
-আচ্ছা বাইরে চলুন ব্যবস্থা করতেছি
,,
দুজন বাইরে আসলো।
-এই মই বেয়ে নামা কি সম্ভব??(পুষ্প)
-আপনি আমার কাঁধে চড়তে পারবেন? (শুভ)
-জ্বি না। ওরকম করে নামলে পেছন দিকে ভর বেশি হবে। মই এর ব্যালেন্স ভেঙে পরে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে
-এত কিছু চিন্তা করলে তো পালানো হবে না
-কিছু একটা গড়বড় হলে বাঁশ এর উপর বাঁশ যাবে। আর আপনি যে গাধা আপনার সাথে পালানোর থেকে আমার বিয়েটা করে নেওয়াই ভালো
-আচ্ছা এত কথা বইলেন না কাঁধে উঠুন তো
,,
পুষ্প শুভর কাঁধে চেপেই নিচে নামলো। আর সেদিন এর মতো আবার বাড়ির পেছনের দেওয়াল টপকে বাড়ি থেকে বের হলো।
,,
বাড়ি থেকে বের হয়ে একটু দূরে যেতেই..
-ওহহহ নো (পুষ্প)
-কি হলো? (শুভ)
-আমার ফোনটা আনতে ভুলে গেছি
-নিয়ে আসেননি সেটাই ভালো হয়েছে, ওটা আলাদা একটা ভেজাল
-ফোন ছাড়া তো সময়ই কাঁটবে না
-আমি আছি তো
-আপনি আছেন মানে?
-মানে একা লাগলে আমার সাথে কথা বলবেন
-আপনি কি কোনো সুযোগ নিচ্ছেন
-আমি কিসের সুযোগ নিতে যাবো?
-কিছু না, এখন বলেন কোথায় যাচ্ছি আমরা।
-সেটা জানি না তবে ফজর এর
আজান পর্যন্ত হাঁটতে হবে।
-এত্তো সময়?
-এতো রাতে তো গাড়ি নেই হাঁটতেই হবে।
,,
দুজন কথা বলতে বলতে ভোররাত পর্যন্ত হাঁটলো। পুষ্প খুবই ক্লান্ত, তবে নিজেকে বাঁচাতে ক্লান্তিকে জয় করে শুভর সাথে তাল মিলিয়ে হাঁটছে।
আশেপাশের দুই একটা গ্রাম থেকে আজানের ধ্বনি ভেসে আসছিলো।
দুজন গ্রামের মধ্য দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে একটা বাড়ির সামনে এসে থামে। পুষ্প বলল..
-আপনি কি খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন, দাঁড়ালেন যে (পুষ্প)
-ক্লান্ত তো একটু হয়েছি, তবে আমরা আমাদের গন্তব্যে পৌঁছে গিয়েছি
-বুঝলাম না,
-এটা আমার বাড়ি
-কিহহহ, আপনি যে বললেন আমরা দূর দেশে যাবো।
-হুমম যাবো তবে একটু সময় লাগবে
-আমরা আবার ধরা খাবো
-নাহহ নাহহ এবার কিছু হবে না, এবার আমার প্ল্যানে আপনার বাবাকে নাচাবো। আর যাই হোক, আমি আপনাক বিয়ে করবো, কিন্তু ঐ ছেলেটার সাথে আপনার বিয়ে হতে দিবো না
,,
পুষ্প মাজায় হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে বলল..
-কি বললেন, আবার বলেন তো (পুষ্প)
-ঐ ছেলের সাথে বিয়ে হতে দিবো না (শুভ)
-এর আগের লাইনটা
-কি যেন বললাম
-পাকনামি করেন তাই না? আপনি বলছেন যে আপনি বিয়ে করবেন
-ছি ছি কি বলেন, আমি এ কথা বলতে যাবো কেনো?
-বলেছেন আপনি
-হয়তো কথায় কথায় বলেছি
-মনের মধ্যে এরকম কিছু আছে?
-তওবা তওবা, কি যে বলেন আমি এসব ভাবিনি....
।।
।।
অবুঝ এ মন
Part : 4
Write : Sabbir Ahmed
______________________________
-বলেছেন আপনি (পুষ্প)
-হয়তো কথায় কথায় বলেছি (শুভ)
-মনের মধ্যে এরকম কিছু আছে?
-তওবা তওবা কি যে বলেন, আমি এসব ভাবিনি
-হয়েছে ঢং বাদ দেন এখন, বাড়ির মধ্যে যাবো? নাকি এখানেই দাঁড়িয়ে থাকবো
-আপনি একটু বাইরে দাঁড়িয়ে থাকেন আমি মা কে ডেকে আনছি
,,
পুষ্প বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকলো। এদিকে মা কে ডেকে আনলো শুভ। পুষ্পর এখানে আসার বিষয়টা তার পরিবার ছাড়া আর যেন কেউ না জানে এ ব্যাপারে আগেই কথা হয়েছে তাদের। শুভর মা বাইরে এসে পুষ্পকে ভেতরে নিয়ে গেলো।
,,
এদিকে সকাল হতেই শুভ খেয়ে রওনা হলো পুষ্পদের বাসার উদ্দেশ্য। সকালে গাড়ি পাওয়ায় ওখানে যেতে বেশি দেড়ি হয়নি। দলের সাথে যোগ দিয়ে শুভ কাজ শুরু করলো। এমন একটা ভাব নিয়ে কাজ করতেছিলো মনে হচ্ছিলো সে কিছুই করেনি।
,,
শুভ জানে কিছুক্ষণ পর কাজ বন্ধের নির্দেশ আসবে। ঠিক তাই হলো আবার হট্টগোল লেগে গেলো। সব কাজ বন্ধ। আশরাফ সাহেব রেগেমেগে শুভর দিকে আসলেন। তিনি কিছু বলার আগেই শুভ বলল..
-স্যার এবার কিন্তু আমাদের হাফ বেলার কাজের টাকা দিতে হবে, অনেক কষ্ট করে প্রায় অর্ধেকের বেশি কাজ করে ফেলেছি এই দেড় দিনে (শুভ)
-আমার মেয়ে কোথায়? (আশরাফ সাহেব)
-স্যার এবার তো উনি আমার হেল্প নেননি, আমি কিভাবে জানবো?
-সত্যি তুই জানিস না?
-না স্যার। ম্যাম যে এবার কার সাথে পালিয়ে গেলো
-এই মেয়েকে সামনে পেলে আমি মেরেই ফেলবো...
,,
কথাটা বলে চলে যাচ্ছিলো আশরাফ সাহেব। শুভ আবার বলল..
-স্যার টাকাটা? (শুভ)
-সন্ধ্যায় যাওয়ার সময় নিয়ে যাস
-ঠিক আছে স্যার
,,
এদিকে দুপুরের পর পর শুভর ফোনে কল আসলো। কলটা করেছে তার মা..
-বাবা, ওরা তো আসছিলো (শুভর মা)
-কিছু জানতে পারেনি তো? (শুভ)
-না, আমি ওরে ভালো ভাবে সামলিয়ে রেখেছি
-হুমম ঠিক আছে, আমি সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরবি
-দেখে আসিস
-হুমম রাখছি
,,
আশরাফ সাহেব তার কিছু লোক শুভদের বাড়ি পাঠিয়েছিলো পুষ্পকে খুঁজতে। তারা খুঁজে না পেয়ে আশরাফ সাহেবকে জানায়। আর আশরাফ সাহেব তার সন্দেহের দৃষ্টি শুভর দিক থেকে তুলে নেন। আর শুভর পারিবারিক অবস্থার কথা জেনে উনি ভাবেন তার মেয়ের ওখানে যাওয়া একদমই সম্ভব না।
,,
সন্ধ্যায় মামার কাছ থেকে কিছুদিনের ছুটি নিয়ে শুভ তার বাড়ি চলে যায়।
বাড়ি ফিরতে বেশ রাত হয়।
শুভ বাড়িতে ফিরে তার মা কে সাথে নিয়ে পুষ্পর সাথে আলোচনা শুরু করে।
-আপনার বাবার যে অবস্থা দেখলাম, আপনাকে সামনে পেলে মেরেই ফেলবে(শুভ)
-হুমম জানি, ক্ষমতার লোভে উনি যা ইচ্ছে করতে পারেন (পুষ্প)
-মা বলো তো কি করি এখন (শুভ)
-আমি এখানে এসে আপনাদের ও অনেক সমস্যায় ফেলেছি, আন্টি আমি সকালে অন্য কোথাও চলে যাবো। না হলে আপনাদের বিপদ হতে পারে (পুষ্প)
-আরে না মা কি যে বলো তুমি, তুমি একটু বসো আমি আসছি (শুভর মা)
,,
শুভকে নিয়ে বাড়ির উঠানে দাঁড়ালো তার মা। আর বলল..
-তুই এক কাজ কর, তোরা দুজন তোর খালার বাড়ি চলে যা (মা)
-সে তো অনেক দূর (শুভ)
-মাস খানেক তোরা থেকে আয়
-আমাকে এখানে না পেলে আশরাফের লোকজন সন্দেহ করতে পারে
-এমন কিছু ঘটার আগে আমি তোকে বাড়িতে ডেকে নিবো
-তাহলে খালার বাড়ি যাবো??
-হুমমম
-ঠিক আছে কখন রওনা হবো,?
-আজ ভোর রাতে
-হুমম ঠিক আছে, তুমি একটু ওর কাছে যাও, কান্না করতেছে মনে হয়
-আচ্ছা যাচ্ছি
,,
সেদিন ও শুভর নির্ঘুম রাত, ব্যাগপত্র গুছিয়ে ভোর রাতে রওনা হয়। শুভর খালার বাসা পদ্মা নদীর এক চরে।
এলাকাটা শুভর একদমই পছন্দ না।
সেখানে অাধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি এখনো। না আছে বিদ্যুৎ, না আছে ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা। সেই চরের একটা প্রাইমারি স্কুলে শুভর খালুজান মাস্টারি করেন৷ সেই খালু এক ধরনের ত্যাড়া মানুষ, তাকে অনেক বুঝিয়েছে শুভর নানু বাড়ির লোক যাতে সেই চরে মাস্টারি ছেড়ে শহরের দিকে এসে থাকতে আর অন্য কাজ করতে। কিন্তু তিনি নাছোড়বান্দা উনার কাছে এই মাস্টারি ভালো লাগে।
,,
সে যাই হোক শুভর মা তার বোনের কাছে ফোন করে বলেছে ছেলে আর ছেলের বউ বেড়াতে যাচ্ছি তার বাড়ি। এই কথা শোনামাত্র শুভর খালা তো রেগে আগুন, ছেলেকে বিয়ে করিয়েছে অথচ জানায়নি থাকে। এই কথা নিয়ে কিছুক্ষণ ঝাড়লো শুভর মা কে। শুভর মা শুভর খালার ছোট বোন। ছোট বোন হওয়ায় তেমন জবাব দিতে পারলো না। আর পুষ্পর ব্যাপার টা ঢাকতে মিথ্যের আশ্রয় নিতে হলো তার।
,,
সূর্য উঠার পূর্ব মূহুর্ত, আবছা অন্ধকারের অনেকটাই কেটে গিয়েছে। গ্রামের কাঁচা পথ দিয়ে হেঁটে চলেছে দুজন। আজ পুষ্প তেমন কথা বলছে, মন তার বড্ড খারাপ হয়ে আছে। শুভ কয়েকবার কথা বলার চেষ্টা করেও কথা বেশিদূর আগাতে পারেনি।
,,
হঠাৎ কুকুরের ঘেউঘেউ শব্দে পুষ্প ভয় পেয়ে শুভকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে।
-আরে এটা কুকুর ছিল(শুভ)
-কামড় দিবে নাকি?? (পুষ্প ভয়ে বলল)
-নাহহ চলে গেছে
-...(পুষ্প শুভকে ছেড়ে একটু দূরে দাঁড়ালো)
-বাবারেহহ আমাকে চাপ দিয়ে মেরে ফেলার অবস্থা করেছিলেন। আর পিঠে এমন ভাবে খামচি দিয়ে ধরেছেন, পিঠের ছাল উঠিয়ে ফেলেছেন
-সরি
-সরি বলে আর কি হবে? যা হবার তা হয়েই গেছে। কুকুরের শব্দে কেউ এতো ভয় করে??
-না আমি আসলে অন্য কিছু ভাবছিলাম
-কি ভাবছিলেন বলুন তো
-আমি তো আমার পরিবার হারালাম, এরপর আমি কোথায় যাবো?
,,
শুভ কিছু না ভেবে পুষ্পর হাত খপ করে ধরে ফেলল। আর বলল..
-বন্ধু থাকতে এতো টেনশন কিসের? আমি যতদিন আছি আপনাকে দেখে রাখবো। এখন চলেন তো অনেক দূর যেতে হবে।
,,
শুভ পুষ্পর হাত ধরেই হাঁটছে। বাসে উঠার আগ পর্যন্ত শুভ তার হাত ধরেই ছিলো। বাসে উঠে আশেপাশের সবকিছু চিনিয়ে দিচ্ছিলো শুভ। বাস থেকে নেমে কিছু খাবার খেয়ে নিলো দুজন। এবার নৌকা দিয়ে পার হবার পালা।
,,
এতো বড়ো নদীতে প্রায় ঘন্টা দুয়েক যেতে হবে তাদের। পুষ্প নদী আর নৌকার ছাইজ দেখে বলল..
-এটা কি আমাদের নদীর ওপারে নিয়ে যেতে পারবে? (পুষ্প)
-হ্যাঁ এগুলো দারুণ চলে (শুভ)
-এটা তো ডুবে যাবে, আর আমি সাঁতার জানি না। আমি নৌকায় যাবো না
-আরে ম্যাম সমস্যা নেই, এখন নদীর পানি অনেকটাই শান্ত। কোনো সমস্যা হবে না। আর বড় নদী পার হয়ে একটা ছোট নদীতে নৌকা ঢুকবে তারপর খালার বাড়ি
-ওহহহ। আচ্ছা শুনুন
-হ্যাঁ বলুন
-আমি আপনার পাশে বসব
-হ্যাঁ তাই বসবেন
-হাত ধরে থাকবো
-হুহহ আচ্ছা ঠিক আছে
-আর...
-হ্যাঁ বলেন
-কিছু না
,,
দুজন গিয়ে নৌকায় বসলো। আজকে টানা রোদ উঠেছে। নৌকা ছাড়তেও দেড়ি হবে। ঘাটে একটা গাছ পর্যন্ত নেই। যেখানেই যাবে সেখানেই রোদ।
রোদে পুষ্পর বেশ অসুবিধা হচ্ছে। শুভ টের পেয়ে ব্যাগ থেকে তার একটা শার্ট বের করলো আর সেটা পানিতে ভিজিয়ে, একটু চেঁপে পুষ্পর মাথায় দিলো।
-এখন একটু ভালো লাগবে, একটু ধৈর্য ধরে বসে থাকেন। খালার বাড়ি যেতে এটা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই (শুভ)
-আচ্ছা সমস্যা নেই। আর আপনি দূরে বসে আছেন কেনো? আমার কাছে আসুন আমার ভয় লাগছে তো (পুষ্প)
-হুমমম আসছি তো
,,
ঘন্টা দুয়েক পর নৌকা থেকে নামলো তারা৷ এখন আবার একটু পায়ে হাঁটতে হবে। পুষ্প বলল...
-আরও হাঁটতে হবে?? (পুষ্প)
-হ্যাঁ বেশি দূরে না, আর একটু (শুভ)
-আচ্ছা চলুন
-ফর্সা মানুষ, রোদে একদম লাল হয়ে গেছেন, ফেস টা তো পুরেই গিয়েছে।
-রোদে বের হওয়ার অভ্যাস নেই তো তাই এমন হয়েছে
-হুমমম
-আপনাকে ঠিক করে দিতে হবে কিন্তু
-আমি কিভাবে ঠিক করবো?
-সেটা তো জানি না
-আমার একটা খালাতো বোন আছে, ও আপনাকে টিপস দিবে
-বাহহ তাহলে তো ভালোই হলো। একটা সঙ্গী পাওয়া যাবে
-ওকে পেয়ে আমাকে মনে হয় ভুলেই যাবেন তাই না? (শুভ একটু অভিমান ভঙ্গিতে বলল)
-না না আপনার সাথেও তো থাকবো
-আমার সাথেই কিন্তু বেশি থাকতে হবে, মা বলে দিয়েছে আপনি আমার বউ। আমার সাথে বেশি না থাকলে তারা আবার সন্দেহ করবে
-কিহহহ আন্টি আমাকে বউ বানিয়ে দিয়েছে আপনার?
-হুমমমম
।।
।।
অবুঝ এ মন
Part : 5
Write : Sabbir Ahmed
____________________________
-কিহহহ আন্টি আমাকে বউ বানিয়ে দিয়েছে আপনার? (পুষ্প)
-হুমমমম(শুভ)
-কাজটা কি ঠিক হয়েছে?
-আপাতত ঠিক হয়েছে
-আমার তো সেখানে যেতেই কেমন লাগছে
-ম্যাম চিন্তা করবেন না, আমার খালা অনেক ভালো
-তা বুঝলাম, তবে আপনি আমার জন্য অনেক বেশি কিছু করে ফেলছেন
-বলছি না এসব বলা যাবে না
-বন্ধু তো তাই না?
-হ্যাঁ বন্ধু
,,
খালার বাসায় পৌঁছানোর পর, মিথ্যে সাজানো বউমা কে সাদরে গ্রহণ করে।
শুভর খালাতো বোন তুলি শুভ কে উদ্দেশ্য করে বলে..
-ভাইয়া তুমি এতো সুন্দরী ভাবী কোথায় পেলো? (তুলি)
-হাঁটে থেকে কি নিয়ে আসছি (শুভ)
,,
পুষ্প লজ্জা পেয়ে শুভর হাতে জোরে চিমটি কাটলো। পুষ্পর ইশারায় শুভ তার কথা থামালো। তারপর খালুর সাথে দেখা, উনারও বউমাকে পছন্দ হলো। শুভর আর পুষ্পর ফ্রেশ হতে আর খেতে বিকেল গড়ালো।
,,
শুভ আর পুষ্পকে একটা রুম দেওয়া হয়েছে। সেই রুমে দুজন দু জায়গায় বসে বিশ্রাম নিয়েছে। বাইরে তুলি আর তার মা আবার রান্না চরিয়েছেন।
পুষ্প রুমে বসে থাকতে থাকতে হঠাৎ করে হুঁ হুঁ করে কান্না করে দেয়।
কান্না দেখে শুভ দ্রুত তার কাছে বসে বলল..
-কি হয়েছে, হঠাৎ কান্না শুরু করলেন কেনো? আস্তে কান্না করেন খালা শুনে ফেলবে (শুভ)
-আমার আব্বুর কথা মনে পড়েছে (পুষ্প)
-এখন কি করবেন বলেন, মনে পড়লে যাওয়ার তো উপায় নেই
-আমার ভালো লাগছে না, আমি আব্বুর কাছে যাবো
-তাহলে এতো দূর আসলাম কেনো?
-আমি জানি না, আমার ভয় করছে
-ভয় করছে কেনো?
-আপনি অচেনা, আবার আমার বাড়ি থেকে কতদূর আসছি। কেমন যেন লাগছে আমার
-আচ্ছা চলেন বাইরে হেঁটে আসি ভালো লাগবে
-উহুমম বাইরে যাবো না
-কিছু খাবেন?
-একটু আগেই তো খেয়ে উঠলাম
-তাহলে কি করবো?
-আমি আব্বুর কাছে যাবো
-বাচ্চাদের মতো করতেছেন কেনো?
-জানি না,
-.....কি এক সমস্যায় পড়লাম (শুভ মনে মনে বলল)
,,
পুষ্প কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল..
-আমি কি বাবার কাছে কখনো যেতে পারবো না? (পুষ্প)
-হুমম একদিন যেতে পারবেন (শুভ)
-আচ্ছা আমি একটু ঘুমিয়ে থাকি, আপনি বাইরে যান
-আচ্ছা সমস্যা হলে ডেকে নিয়েন
-হুমমম
,,
শুভ বাইরে এসে তুলি কে ডাকলো..
-তোর লেখাপড়া কেমন চলছে? (শুভ)
-এইতো ভাইয়া টুকটাক (তুলি)
-আমাদের বাড়ি যাস না কেনো?
-তুমি তো নিতে আসো না
-তোকে কিছু কথা বলব,
-হ্যাঁ বলো
-এখানে বলা যাবে না, অন্য কোথায় চল
-আচ্ছা তাহলে বাইরে চলো
,,
দুজন হাঁটতে হাঁটতে বাইরে যাওয়ার সময়....
-খালুজান বাড়িতে দেখি মাচা দিয়ে এলোমেলো করে ফেলেছে (শুভ)
-ভাইয়া এটা তোমার খালার কাজ (তুলি)
-ওহহহ
-আচ্ছা এখন বল
-কিভাবে যে বলি
-ভাইয়া কোনো সমস্যা হয়েছে কি?
-না, শোন তোকে বলি, তুই কারও সাথে শেয়ার করিস না আবার
-না, বলো তুমি
-পুষ্পর সাথে আমার বিয়ে হয়নি, পুষ্প আমার বউ না।
-কি বলো! তাহলে মা যা বলল..
-শোন আমি তোকে বলি....(শুভ পুরো ঘটনা তুলি কে বলল)
,,
ঘটনা শুনে তুলি তো হা হয়ে গেছে। আবার তার ঠোঁটের কোণে হাসিও ফুঁটে উঠেছে। শুভ বলল...
-তুই হাসিস কেনো? (শুভ)
-নাহ এমনি, আচ্ছা ভাইয়া সবই বুঝলাম, কিন্তু এরপর কি করবা?(তুলি)
-জানি না, তোদের এখানে কয়েকদিন থেকে তারপর চলে যাবো। বেশিদিন থাকলে আবার খালা সন্দেহ করতে পারে
-ভাইয়া যেখানেই যাও আমাকে সাথে নিয়ে যেতে হবে
-তুই সাথে যাবি কেনো?
-তুমি যদি আবার উনার সাথে উল্টা পাল্টা করো, মানে তোমাদের যদি সম্পর্ক হয়ে যায়
-হবে না
-না, তোমরা যেখানেই যাও আমাকে নিয়ে যাবা। আমি রিস্ক নিতে পারবো না
-তোর আবার কিসের রিস্ক
-তুমি তো জানো, মা তোমাকে জামাই বানানোর জন্য অনেক আগেই খালাকে বলেছিলো। মা আমাকেও বলতো যে তোমার সাথেই আমার বিয়ে হবে। কিন্তু তার আগেই তুমি তো বিয়ে করে ফেললে মানে মিথ্যে বিয়ে। মা খবর টা শুনে খালাকে তো অনেক বকা দিয়েছে
-দেখ তুলি তোর আর আমার সম্পর্ক ভাই বোনের
-ভাইয়া তুমি কি উনাকে ভালোবেসে ফেলেছো
-নাহহ আমি তাকে ভালোবাসতে যাবো কেনো?
-তাহলে কি সমস্যা? আমি তোমাকে ভালেবাসি, এটা তুমি মেনে নিবা।
-তোর মাথা খারাপ হয়েছে
-এবার আমি মিস করছি না, একটা কথা বলছি শুনে রাখো, মা কে দেখাতে তার সাথে থাকো আর যাই করো, মেয়েটার কাছাকাছি যাবা না, হাত পা কেটে পদ্মায় ভাসিয়ে দিবো (কথাটা বলে তুলি বাড়ির মধ্যে চলে গেলো)
-আরেহহ কারে কি বললাম আমি? এতো দেখছি কথাটা বলে বিপদ বাড়িয়ে নিলাম। ভাবছিলাম ওর থেকে একটু হেল্প নিবো। সেটা তো হলোই না, আরও উল্টা পাল্টা বলা শুরু করছে। এখন কি করি??? (শুভও ভাবতে ভাবতে বাড়ির মধ্যে গেলো)
,,
শুভ ঘরে ঢুকতে যাবে তখনই পুষ্প রান্নাঘর থেকে ডাকলো..
-ভাইয়া এই সন্ধ্যায় ঘরে থাকা যাবে না, বাইরে আসো (তুলি)
,,
তুলির কথা বলার ধরণ পরিবর্তন হয়েছে। শুভ পুরোপুরি বুঝতে পেরেছে পুষ্পর থেকে দূরে সড়িয়ে রাখতে এখন তুলি কিছু না কিছু করবে। তুলি শুভর থেকে চার বছরের ছোট। শেষ যখন শুভ আর তার পরিবার এখানে আসছিতো তখনই বিয়ের ব্যাপারে একটু আলোচনা হয়, তবে সেটা শুধু রসিকতায় সীমাবদ্ধ ছিলো। কিন্তু হঠাৎ করে শুভ তুলির যা অবস্থা দেখছে তাতে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
,,
তুলির ডাকে শুভ রান্না ঘরের দিকে এগিয়ে গেলো। তুলি একটা টুলে শুভকে বসতে দিলো। তারপর কিছু পিঠা খেতে দিলো। শুভ কয়েকবার মানা করেছে, কিন্তু তুলি তার সর্বোচ্চ জেদ নিয়ে শুভকে পিঠা খাওয়াচ্ছে।
,,
সন্ধ্যার পর পর পুষ্প বাইরে আসে, শুভ তখনও রান্নাঘরে বসে। তুলি আটকিয়ে রাখছে। শুভকে পুষ্পর কাছে যেতে দিবে না।
,,
পুষ্প বাইরে এসে ইশারায় শুভকে ডাকলো। শুভ সাথে সাথে উঠে গেলো। উঠে যাওয়া দেখে তুলি রাগে ফুঁসতে লাগলো। শুভ পুষ্পর কাছে গিয়ে বলল..
-এতো তাড়াতাড়ি ঘুম ভাঙলো? (শুভ)
-রুমে তো অনেক মশা (পুষ্প)
-এই তুলি একটা কয়েল নিয়ে আয় তো
-আচ্ছা দাঁড়াও আনছি,
,,
তুলি কয়েল ধরিয়ে নিয়ে পুষ্পর রুমে দিয়ে আসলো। রুমে শুধু পুরোনো একটা দোয়াত, তার অল্প আলোতে পুষ্পর দম বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা। আর ভয়ও লাগছিলো তার, তাই শুভকে রুমেই থাকতে বলে।
,,
তুলি কয়েল ধরিয়ে দিয়ে বাইরে চলে যায়। পুষ্প আবার বিছানায় শুয়ে পড়ে। আর শুভ বসে আছে একটা চেয়ারে।
,,
কিছুক্ষণ পর রুমের দরজায় এসে তুলি ডাকলো..
-ভাইয়া এদিকে আসো তো (তুলি)
-কি বলবি বল (শুভ)
-তোমাকে এখানে আসতে বলেছি
,,
শুভ বিরক্ত নিয়ে উঠে দরজায় গেলো। তুলি ফিসফিস করে বলল..
-তুমি বাইরে আসো (তুলি)
-না উনি ভয় পাচ্ছেন, আমার এখানে থাকতে হবে। (শুভ)
,,
কথাটা শুনে তুলি চলে গেলো। শুভ এসে আবার চেয়ারে বসলো। কিছুক্ষণ পর তুলি একটা চেয়ার নিয়ে রুমে এসে শুভর পাশে বসলো।
-তুই আবার আসলি কেনো? (শুভ)
-আমি আসাতে তোমার কি উনাকে দেখতে সমস্যা হচ্ছে?? (তুলি)
-তুলি বেশি বেশি বলতেছিস কিন্তু
-আস্তে উনি উঠে যাবেন। আর তুমি চুপ করো। আমি আমার জিনিস পাহারা দিতে আসছি
-....(শুভ লজ্জায় অন্য দিকে তাকিয়ে আছে)
,,
হুটহাট তুলি যে এমনটা শুরু করবে, শুভ তা কল্পনাও করতে পারেনি। একটু আগে বড় ভাই হিসেবে যে সম্মান টা করতো সেটাও দিচ্ছে না।
,,
তুলি বার বার আড় চোখে শুভকে দেখছে, শুভ মাঝে মাঝে তুলিকে খেয়াল করলেই দেখতে পাচ্ছে, তুলি তার দিকেই তাকিয়ে আছে। এভাবে কিছুক্ষণ চলার পর শুভ বলল..
-দেখ এখানে থেকে তোর লাভ কি? (শুভ)
-বললাম না আস্তে কথা বলো (তুলি)
-....(শুভ চুপ)
-লাভ আছে, শোনো আমি উনার ভালোবাসার স্টেশনে তোমার প্রেমের গাড়ি পার্কিং করতে দিবো নাহহ...
।।
।।
অবুঝ এ মন
Part : 6
Write : Sabbir Ahmed
_____________________________
-লাভ আছে, শোনো আমি উনার ভালোবাসার স্টেশনে তোমার প্রেমের গাড়ি পার্কিং করতে দিবো নাহহ(তুলি)
,,
তুলির কথায় বিরক্ত হয়ে শুভ বাইরে চলে আসে। পিছু পিছু তুলিও আসে।
-তুমি বাইরে আসলে কেনো? (তুলি)
-দেখ তুলি অনেক সহ্য করেছি, এবার কিন্তু তোরে আমি মাইর দিবো(শুভ)
-ওহহ উনাকে ভালোবাসো তাই না?
-কোনো কথার মধ্যে কোন কথা ঢুকাস? আমি কি একবারও বলেছি?
-তাহলে মারবা কেনো?
-তুই এলোমেলো কথা বলিস কেনো?
-আমার যেটা মনের মধ্য চলতেছে সেটাই বলছি
-এসব এলোমেলো চিন্তা বাদ দে, আমি এমনিতে উনাকে নিয়ে টেনশনে আছি
-আমি কিছুই বাদ দিতে পারবো না, আমি তোমাকে চাই মানে তোমাকেই চাই
-আহহহ তুলি
,,
তুলি চলে গেলো তার নিজের রুমে। শুভ আবার রুমে ফিরে এসে চেয়ারে বসলো৷ চেয়ারে বসা মাত্রই..
-আপনারা ভাই-বোন দুজন কি নিয়ে ফিসফিস করতেছিলেন? (পুষ্প)
-আপনি ঘুমান নি?.(শুভ)
-আমি যেটা বলি সেটা বলেন
-ওহহ এই আপনাকে নিয়ে। ও আপনার কথা জানতে চাচ্ছিলো
-তো ফিসফিস করে বলার কি আছে?
-আপনার যেন ঘুম না ভাঙে সেই জন্য
-ওহহহ আচ্ছা আপনি ঘুমাবেন কোথায়?
-আমাকে আপনাকে তো এখানেই থাকতে দিয়েছে
-দেখেন কিছু মনে করবেন না, আমি আপনার সাথে এক রুমে এভাবে থাকতে পারবো না, তুলি কে আমার কাছে পাঠিয়ে দিয়ে, আপনি তুলির রুমে থাকবেন
-আচ্ছা ঠিক আছে
-তুলি কি আবার বুঝিয়ে বইলেন, না হলে কিন্তু সমস্যা হতে পারে
-হুমমম
,,
সেদিন রাতে খাওয়া শেষ করে ঘুমানোর প্রস্তুতি চলছে৷ পুষ্প বিছানা ঠিক করছে। শুভ একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে দোয়াত নিয়ে। পুষ্পর বিছানা ঠিক করা শেষে পুষ্প বলল..
-এখন যান তুলি কে ডেকে দেন (পুষ্প)
-একটু পরে দেই, খালা এখনো জেগে আছে (শুভ)
-না এখনি,
-আচ্ছা যাচ্ছি
,,
শুভ বাইরে এসে দেখলো তুলির রুমের দরজা খোলা। শুভ হুট করেই রুমে ঢুকলো। দেখলো তুলিও তার বিছানা ঠিক করছে। ঘরের মধ্যে কারও প্রবেশের টের পেয়ে তুলি সাইডে তাকিয়ে দেখলো শুভ।
-ভাইয়া কিছু বলবা? (তুলি)
-হ্যাঁ আগে বিছানা ঠিক করে নে (শুভ)
-একটু হেল্প করো তো। এদিকে এসে বালিশ গুলো হাতে নাও
-তোদের এখানে বিদ্যুৎ নেই, কেমন যে লাগে আমার
-খারাপ তো লাগবেই। আমার ভালোই লাগে
,,
কথা বলতে বলতে তুলির বিছানা ঠিক করা হয়ে গেলো।
-এখন বলো কি বলবা (তুলি)
-পুষ্প তোকে নিয়ে ঘুমাবে, আমাকে এখানে ঘুমাতে বলছে (শুভ)
-ওহহ আচ্ছা এই ব্যাপার। ঠিক আছে আমি গিয়ে উনার কাছেই থাকছি তাহলে। তবে মা যদি বলে তুমি আমার রুমে ঘুমিয়েছো কেনো?
-তুই সামলে নিস একটু।
-কিভাবে সামলাবো?
-কিছু একটা বলে দিবি
-কি বলে দিবো?
-বলবি যে তোর ভাবির সাথে থাকতে ইচ্ছে করেছিলো।
-হুমমম আচ্ছা তুমি যা বলতেছো করবো৷ তবে আমাকে তো পারিশ্রমিক দিতে হবে
-আচ্ছা তোকে কিছু টাকা দিবোনি
-টাকা কে চেয়েছে হুমমম?
-তাহলে কি লাগবে তোর বল
-তোমাকে লাগবে
-আবারররর!
-চেতে যাও কেনো? আমার তোমাকে প্রয়োজন
-আচ্ছা যা তুই এখন
-তাহলে কবে থেকে শুরু করবা?
-কি শুরু করবো?
-প্রেম (তুলি মুচকি হেসে)
-দেখ আমাকে এখন এসব নিয়ে কিছু বলিস না, এমনিতে টেনশনে থাকি সবসময়
-টেনশনে ফুরিয়ে গেলে আমার চিন্তা মাথায় ঢুকাবা মনে থাকে যেন
-যা যা আর ফাজলামো করিস না
-আচ্ছা তুমি যে আমাকে সত্যিটা বললা, উনি কি জানে?
-নাহহ সে কিছু জানে না
-যাক তাহলে ভাবির সাথে মজা করা যাবে
-বেশি যেন ফাজলামো করিস না
-আমার ভাবি, আমি যা ইচ্ছে করবো(তুলি পুষ্পর রুমে চলে গেলো)
-কিছুদিন আগে আমার ভয়ে ওর হাত পা কাঁপতো। আর এখন আমার মুখের উপর কথা বলে। এই সব হয়েছে খালা আর আমার মা এর জন্য, শুধু শুধু আমাদের বিয়ের কথা বলছে৷ আর এখন তাহার মুখে এসবের খই ফুঁটে।
,,
একগাদা টেনশন নিয়ে ঘুমিয়ে যায় শুভ। তুলি গিয়ে শুয়ে পড়ে পুষ্পর কাছে। তুলির মনে সন্দেহ পুষ্প মনে হয় শুভকে ভালোবাসে, তা না হলে অচেনা একজনের সাথে এতদূর আসার সাহস হয় কি করে। পুষ্পর মুখ থেকে কথা বের করার জন্য তুলি সরাসরি বলল...
-আচ্ছা ভাবি (তুলি)
-হ্যাঁ তুলি বলো (পুষ্প)
-আপনি ভাইয়া কে অনেক ভালেবাসেন তাই না?
-...(পুষ্প কিছু না বলে, শুধু হাসলো)
-...কি ব্যাপার উত্তর না দিয়ে হাসছে কেনো?(পুষ্প মনে মনে বলল)
-হ্যাঁ তুলি তোমার ভাইয়া কে অনেক ভালোবাসি
-এটা ভাইয়া জানে?
-হ্যাঁ জানবে না কেনো? ভালোবেসেই তো আমরা বিয়ে করেছি,
-ওহহহ
,,
তুলি দাঁত কিড়মিড়িয়ে নিজে নিজেই কথা বলতে লাগলো
-আমার কাছে মিথ্যে বলা হচ্ছে তাই না? এমনিতে আপনারও দোষ নেই, ভাইয়া যা আপনাকে বুঝিয়েছে তাই বলছেন আমাকে। তবে হ্যাঁ মনে রাখেন ঐটা আমার জিনিস
-এই তুলি আমার দিকে তাকিয়ে কি ভাবো? (পুষ্প)
-আপনাকে দেখছি, আমার ভাইয়ার চয়েস আছে। আপনি দেখতে অতিরিক্ত সুন্দরী
-তুমি আমার থেকেও বেশি সুন্দরী
-আমাকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য বলছেন তাই না?
-নাহহ সত্যি
-থ্যাংক ইউ ভাবি
-হয়েছে হয়েছে। অনেজ রাত হলো এখন চলো ঘুমাই
-হুমমম এখন চুপচাপ ঘুমানো যাক
,,
পরদিন সকাল সকাল পুষ্প ঘুম থেকে উঠে দেখলো, তুলি তার পাশে নেই। তার রুমে শুভ এসে গামছা দিয়ে হাত মুখ মুছতেছে।
-আপনি কখন আসলেন?? (পুষ্প)
-এইতো মাত্রই (শুভ)
-তুলি কোথায়?
-ও তো ওর রুমে
-এখান থেকে কখন গেছে?
-খালা উঠার আগে
-বাহহ তাহলে তো ভালই
-হুমম, এখন আপনি উঠে ফ্রেশ হয়ে নেন
-তা তো নিবোই। তবে রাতে তুলি ঘুমানোর আগে আমাকে ভালোই জ্বালিয়েছে
-যেমন?
-আমার আপনার সম্পর্কে জেনেছে। আমি আপনাকে কেমন ভালোবাসি এটা জানতে চেয়েছে।
-আপনি কি বলছেন?
-কি আর বলব? বলছি যে অনেক ভালোবাসি, তাই তো বিয়ে করেছি
-ওহহ ভালো হয়েছে
,,
ঠিক সেই সময় বাইরে থেকে তুলির ডাক। ভাইয়া ভাইয়া বাইরে আসো তো।
-আপনি উঠেন, আমি একটু বাইরে যাই (শুভ)
-তুলি খুব ডাকে আপনাকে তাই না? (পুষ্প)
-ছোট বোন তো তাই একটু ডাকাডাকি করে
-যান দেখেন কি জন্য ডাকে
,,
শুভ বাইরে এসে দেখে তুলির হাতে একটা মোরগ।
-কি রে কি হয়েছে, মোরগ ধরেছিস কেনো? (শুভ)
-এটা জবাই দাও (তুলি)
-আমি?
-হ্যাঁ
-তুই তো ধরতে পারবি না
-দাঁড়াও আমি পাশের বাড়ি থেকে পিচ্চি আহাদকে ডেকে আনি
-খালু নেই?
-উনি তো সেই ভোরেই বেড়িয়ে গেছেন।
-এতো ভোরে কেনো?
-বলল যে প্রথমে প্রধান শিক্ষক এর বাড়ি
যাবে। তারপর সেখান থেকে স্কুলে হয়তো কোনো কাজ আছে।
-ওহহ, আচ্ছা তুমি দাঁড়াও আমি আহাদ রে ডেকে নিয়ে আসি
,,
তুলি গিয়ে আহাদরে ডেকে নিয়ো আসলো। মোরগ জাবই করার পর, শুভ আর পুষ্প কে খেতে দেয় তুলি। তুলি খাবার পরিবেশন করছে। আর বাইরে তুলির মা মোরগ কাটছেন।
-তুলি তুমিও বসো (পুষ্প)
-না ভাবি আপনারা খেয়ে উঠেন, তারপর আমি বসবো । আর ভাইয়া তুমি খেয়ে আমার সাথে একটু স্কুলের সামনে যাবা
-কেনো?
-হুমম দরকার আছে। ভাবি আপনি কি ভাইয়াকে যেতে দিবেন??
-তোমার ভাইয়াকে তুমি নিয়ে যাবে, আমি আর কি বলব?
,,
খাওয়া শেষ করতে না করতেই শুভকে নিয়ে বাইরে চলে আসে তুলি।
-নাহহ তুলি তোর আচার-আচরণ আগের থেকে অনেক খারাপ হয়েছে। যখন তোর যেটা মনে চায় সেটাই করিস, অারেকজনের সুবিধা অসুবিধা দেখিস না, (শুভ)
-আমার জিনিস আমার হয়ে গেলে আপনা আপনি ঠিক হবে। এখন শোনো আমি এখান দিয়ে প্রতিদিন একটা বাড়িতে পড়াতে যাই। তো এখানে একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আমাকে প্রতিদিন জ্বালায়।
-তো আমাকে কি করতে হবে
-ওর সামনে তোমার হাত ধরে থাকবো, আমি যে তোমার বউ এটা শুধু বলব, ব্যাস আর কিছু না
-নাহহ
-আবার নাহহ করো কেনো? তোমাকে আমি হেল্প করতেছি, আর তুমি আমাকে হেল্প করবা না তাই না?
-তোর সাথে থাকলে আমি এক মিনিট ও স্থির থাকতে পারি না। মাথায় যে কি কি চিন্তা নিয়ে ঘুরিস, কি থেকে কি করিস আমি বুঝে উঠতে পারি না৷
,,
কথা বলতে বলতে সেই জায়গাটায় দুজন গেলো। তুলি বলেছিলো স্কুলের সামনে যাবে, আসলে এখানে কোনো স্কুল নেই। একটা বড় কড়ি গাছের নিচে একটা চায়ের দোকান আরেকটা মনোহারি দোকান।
-কই তোর সেই ছেলে? আজ নেই তো (শুভ)
-প্রতিদিন এখানেই দাঁড়িয়ে থাকে(তুলি)
-তো আজ কই?
-একটু অপেক্ষা করি হ্যাঁ
-আচ্ছা
-ওহ ভাইয়া
-হ্যাঁ বল
-খালি মুখে দাঁড়িয়ে থাকতে কেমন যেন লাগছে একটু চা নিয়ে আসো
-চা???
-হুমমম। আমার জন্য দুধ চা নিয়ে আসবা৷ রং চা আমি খাই না
-আমিও না
-ওহহ আমাদের মাঝে কত্তো মিল
,,
শুভ গিয়ে দুকাপ চা নিয়ে আসলো। চা খেতে খেতে অর্ধেক কাপ শেষ না হতেই সেই ছেলেটি তুলির পেছনে হাজির। তুলির পেছনে দাঁড়িয়েছে বলে শুভর মনে হলো এটাই মনে হয় সেই ছেলে।
,,
শুভ তুলি কে ইশারায় পেছনে তাকাতে বলে। তুলি পেছনে তাকিয়ে দেখে ছেলেটা হাজির৷ তুলি সাথে সাথে বলে..
-আরে তুই আসছিস, এই যে পরিচয় হ, তোর দুলাভাই, উনার নাম শুভ (তুলি)
-হায় (শুভ)
-...(ছেলেটে ঝটপট স্থান ত্যাগ করলো)
-কিছু বললো না কেনো? (শুভ)
-ভয় পেয়েছে, আচ্ছা বাদ দাও কাজ হয়েছে। অনেকদিন পর চা খেলাম খুব ভালো লাগছে
-তুলি
-হুমম বলো
-এরপর আমি কি করবো? ওরে নিয়ে কই যাবো?
-আমি কি জানি? তুমি নিয়ে আসছো তুমি জানো।
-চিন্তা হয়
-এখন চিন্তা করে কি লাভ? এটা করার আগে চিন্তা করা উচিত ছিলো
-জানিস ওর বাবা যদি ওরে খুঁজে পায় মেরেই ফেলবে
-কি বলো!
-হ্যাঁ এটা নিয়েই বেশি চিন্তিত, আর ওর বাবা অনেক ক্ষমতার অধিকারী। একদিন না একদিন ধরা পড়বোই
-আচ্ছা আমার কাছে বুদ্ধি আছে চিন্তা করো না
-তো বল
-বিনিময় ছাড়া তোমাকে কিছু বলা যাবে না
-বুঝলাম না,
-আমি তোমাকে বুদ্ধি দিবো, আর বিনিময়ে আমার প্রয়োজন গুলো পুরন করবা
-তোরে নিয়ে তো আরেক ভয়, মুখে কিছু আটকায় না, যা ইচ্ছে তাই বলে আমাকে লজ্জায় ফেলে দিস
-ওরে বাবা! তুমি আবার লজ্জাও পাও?
।।
।।

অবুঝ এ মন
Part : 7
Write : Sabbir Ahmed
____________________________
-তোরে নিয়ে তো আরেক ভয়, মুখে কিছু আটকায় না, যা ইচ্ছে তাই বলে আমাকে লজ্জায় ফেলে দিস। (শুভ)
-ওরে বাবা! তুমি আবার লজ্জাও পাও (তুলি)
-না লজ্জা নেই তো আমার। চল বাড়ি চল
-হুমম চলো
,,
শুভ আর পুষ্পর দেখতে দেখতে এখানে চারটা দিন কেটে গেলো। চারদিনে তুলি খুব বিরক্ত করেছে শুভকে। আর পুষ্পর এক একটা দিন ছিলো বছরের মতো, তার এখানে একদমই ভালো লাগে না৷
,,
পুষ্প মনস্থির করলো এখান থেকে সে অন্যত্র চলে যাবে শুভকে সাথে নিয়ে।
তার কথায় শুভ ও রাজি হলো।
শুভ তার খালাকে জানিয়ে দিলো আজ বিকেলে তারা রওনা হবে।
কথাটা তুলির কান পর্যন্ত পৌঁছাতে দেড়ি হলো না। তুলি শুভর কাছে এসে বলে গেলো "সে তাদের সাথেই যাচ্ছে"
,,
কিন্তু তাদের যাওয়ার আশায় পানি ঢেলে দিয়ে বড় একটা সারপ্রাইজ নিয়ে বিকেলের একটু আগেই, শুভর বাবা পুষ্পর বাবাকে নিয়ে এই বাড়িতে হাজির।
শুভ, পুষ্পর বাবাকে দেখে কাঁপুনির মতো অবস্থা। আর পুষ্প তার বাবাকে দেখে দৌঁড়ে বাবার কাছে গেলো। বাবা মেয়ে দুজনই কান্না করতে লাগলো।
বাবা যতই খারাপ হোক দূরে ছিলো একয়েকদিন তাই একে অপরকে দেখে কান্না করে দিয়েছে।
,,
শুভ একটা জিনিস দেখলো, পুষ্পর বাবার সেই রকম গরম মেজাজ টা আর নেই, হঠাৎ করেই এমন ঠান্ডা হয়ে গেলো কি করে? মনে হয় মেয়েকে হাড়িয়ে অনেকটাই ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। শুভ এসবকিছু চিন্তা করছিলো।
,,
কান্না শেষে আশরাফ সাহেব চোখ মুছে বললেন..
-তোমরা ভয় পেয়ো না (শুভ আর পুষ্পকে উদ্দেশ্য করে)
-....(সবাই তখন চুপ। তুলিই ঠিকই সব বুঝতে পারলেও, তুলির মা হা করে তাকিয়ে কাহিনী গুলো দেখছে)
,,
আশরাফ সাহেব বলতে শুরু করলেন..
-আমি ভুল করেছি, আমি আমার মেয়ের সিদ্ধান্তের বাইরে আর কোনো সিদ্ধান্ত নিবো না৷ ও যা বলবে সেটাই হবে। এ কয়েকদিন ও বাড়িতে ছিলোনা, বাড়িটা পুরো অন্ধকার হয়ে গেছে (আশরাফ সাহেব)
,,
শুভ সবার থেকে দূরে গিয়ে একটু আড়াল হলো, আর চিন্তা করতে লাগলো
-নিশ্চয়ই আশরাফ সাহেব মায়ের কাছে গিয়ে কান্না কাটি করেছেন আর মা সব বলে দিয়েছে। এখন যদি হিতে বিপরীত হয়। উনার এসব যদি অভিনয় হয়ে থাকে, তাহলে পুষ্পর সাথে আমাকেও শেষ করে দিবো। আবার তাকে দেখেও মনে হচ্ছে, পুষ্প কে হড়ানোর শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন। কি যে এক উভয় সংকটে পড়লাম, পানি যে কোনদিকে গড়াবে কে জানে।
,,
শুভর ভাবনা কাটে তার বাবার ডাকে।
-কিরে খালার বাড়িতে তো অনেক থাকলি, এখন বাড়ি চল (শুভর বাবা)
-হ্যাঁ, জ্বি যাবো (শুভ)
-আমিও কিন্তু যাবো (তুলি পেছন থেকো এসে বলল)
-হ্যাঁ মা তুই তো অনেকদিন হলো যাস না, তোর খালা বলেছে তোকে নিয়ে যেতে
-না বাবা, ওরে নেওয়া যাবে না (শুভ)
-কেনো? আমি গেলে কি হবে? আর তুমি মানা করার কে? তোমার বাড়ি নাকি? আর খালি দেখেছো তোমার ছেলে কেমন ব্যবহার করে
-এই শুভ, ও ওর খালার বাড়ি যাবে, তাতে তোর কি?
,,
শুভ বুঝতে পারলো ঝামলে একটা কাঁধে নিয়েই তাকে বাড়ি ফিরতে হবে।
শুভর বাবা আর শুভ পুরো ঘটনা তুলির বাবা-মা কে খুলে বলে, আর তারা বুঝতে পারে। সেদিন কথা বলতে বলতে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে যায় আর তখন আকাশে অনেক মেঘ করেছিলো। তুলির বাবা-মা সবাইকে যেতে নিষেধ করে।
কারণ ঝড়-বৃষ্টির সময় নদী খুব ভয়ংকর থাকে। সেদিন আর যাওয়ার হলো না তাদের। এদিকে সন্ধ্যা নামার পর পরই শুরু হলো তুমুল ঝড়। সাথে বজ্রপাত।
,,
বাড়ির সবাই এক ঘরে আর শুভ আর পুষ্প অন্য ঘরে। তুলি শুভর সাথেই ছিলো ধমক দিয়ে তাকে তার রুমে পাঠিয়ে দিয়েছে। আসলে শুভ পুষ্পকে কিছু বলতে চায়। এরপর তো আর বেশি নাও দেখা হতে পারে তাদের।
-আমি কিছু বলতে চাই (শুভ)
-জ্বি বলেন (পুষ্প)
-আমাদের তো মনে হয় না আর দেখা হবে, আপনি থাকবেন সেই দালান কোঠায় আর আমি তো কাজের কারণে এলোমেলো ছুটে বেড়াবো।
-হুমম দেখা হলেও খুব কম
-আপনি আমাকে ভুলে যাবেন তাই না?
-হঠাৎ এমন কথা কেনো?
-নাহহ এমনি আসলে..
-বাইরে খুব বাতাস হচ্ছে তাই না?
-হুমম অনেক। আমি আমার কথা শেষ করিনি
-হ্যাঁ বলেন
-বাসায় গিয়ে যদি আপনার বাবার আবার মত ঘুরিয়ে ফেলে
-নাহহ বাবা আর ঐরকম নেই, এই চারদিন আমাকে না দেখে পাগল হয়ে গেছে। আমার বিরুদ্ধে আর কিছুই করবে না
-হুমম না করলেই ভালো।
-আপনাকে তো ধন্যবাদ দেওয়া যাবে না, ছোট করা হবে। আসলে আপনি যা করেছেন আমার বিপদে তা হয়তো আমার নিজের কোনো মানুষ করতে না। আমি আপনার কাছে অনেক ঋণী, যদি কখনো প্রয়োজন মনে করেন আমাকে আপনার সমস্যা সম্পর্কে জানাবেন, আমি যতটুকু পারি আপনার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবো। এটাই তো বন্ধুত্ব তাই না?
-উহুমমম এটাকে বন্ধুত্ব বলে না
-তাহলে কোনটাকে বলে?
-আপনি আমার থেকে দূরে থাকবেন, খোঁজ খবর নিবেন না৷ একসাথে থাকবেন না৷ আমি বিপদে পড়লে আপনার কাছে যাবো সাহায্য চাইবো। আপনি সাহায্য করে আমার পাশে দাঁড়াবেন। এটা তো ভিক্ষা
-তাহলে কি চান হুমমম???
-.....(শুভ চুপ)
-বলেন
-কিছু নাহহ
-কিছু তো একটা চান
-আপনি তো সবসময় আমার পাশে থাকবেন না
-আমি সবসময় আপনার পাশে থেকে কি করবো??
-এতো কিছু তো ভেঙে বলতে পারবো না৷
-আমাকে বুঝে নিতে হবে??
-হুমমম
-যদি এলোমেলো কিছু বুঝে নেই?
-খেসারত আপনি দিবেন
-ওহহ আচ্ছা
-থাক কিছু বলব না। আচ্ছা আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
-উমমম, প্রথমত বাবাকে হেল্প করা৷
-কিভাবে?
-আরেহ বাবার তো অনেক কোম্পানি আছে। উনার তো আর ছেলেপুলে নেই আমি একাই। এসব বাবা একা দেখতে পারবে না৷ লোকজন দিয়ে সব দেখাশোনা করায়, তারা কাজে অনেক ফাঁকিবাজি করে। এভাবে চলতে থাকলে বাবার সম্পদ সব শেষ হয়ে যাবে৷ তাই আমাকে দায়িত্ব নিতে হবে। বাবাকে অনেক বলেছি যে আমি তার সবকিছু সামলাবো, কিন্তু উনি আমাকে শুধু বাড়িতেই আটকিয়ে রাখছেন
-ওহহহহহ
-এখন বাড়ি গিয়ে, বাবা মেয়ে মিলে একটা প্ল্যান করবো, কাজ ভাগ করে নিবো
-হুমম ভালো
-আপনার প্ল্যান কি?
-জানি না, কোনো প্ল্যান নেই। আমি আমার কাজ করে যাবো
-হুমমম
-আমি আরও কিছু বলতে চাই
-হুমম বলেন
-আমি আপনাকে ভালেবাসি, আমি চাই আপনি আমার সাথেই সারাজীবন থাকেন।
-আমি আগেই আঁচ করতে পেরেছিলাম এমন কিছু বলবেন। আসলে এটা সম্ভব না। আপনি আমার বন্ধু হিসেবে ঠিক আছে। আমি আপনাকে ঐ চোখে দেখি না। আর প্রেম ভালোবাসা বিয়ে এখন আমার দ্বারা
সম্ভব না
-তাহলে আমার ভালোবাসার দাম দিবেন না?
-একটা বিপদ থেকে আপনি আমাকে টেনে তুললেন। এখন নিজেই আমাকে আরেকটা বিপদের মধ্যে ফেলে দিচ্ছেন। আমি বাঁচার জন্য বন্ধুর কাছে আশ্রয় নিয়েছি, আর এখন সম্পর্ক টা নষ্ট করার জন্য উঠে পরে লেগেছেন
-আমি কি করবো? আমি আপনাকে আগে রাখতে রাখতে ভালেবেসে ফেলেছি
-আজাইরা কথা বলবেন না তো৷ আমি আপনার সাথে কিভাবে সারাজীবন কাটাবো? যেখানে আপনার চলার কোনো ঠিক ঠিকানা নেই, আমাকে নিয়ে কিভাবে রাখবেন? বাবা কি রাজি হবে? আমি আন্টির কাছে থেকে শুনেছি আপনাদের পরিবারের অবস্থা। এমন পরিবারে আমার থাকা সম্ভব না। আমি আবেগ দিয়ে কোনো ডিসিশন নিতে পারবো না
-...(শুভ চুপ)
-আর বড় কথা হলো সব মিলিয়ে চিন্তা করলে আপনি আমার জন্য না৷ আপনার কাছে আমি সুখে থাকতে পারবো না।
,,
পুষ্পর কথা শেষ হতে না হতেই দরজায় ঠক ঠক আওয়াজ। শুভর চোখের কোণে পানি জমে ছিলো, সেটা মুছে, মুখটা একটু ডলে দরজা খুলল।
,,
দরজা খুলে দেখলো তুলি কাঁক ভেজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। হাতে তার আমারে বাটি, তাতে কিছু আম বানানো। তুলি বলল..
-ভাইয়া ঝড়ে অনেক আম পড়েছে, কিছু আমার আমি কুঁড়িয়ে তোমার জন্য বানিয়ে নিয়ে আসছি (তুলি)
,,
তুলি রুমে আসলো ভেজা অবস্থায়। বাটিটা শুভর হাতে দিলো। শুভ আধো আলোতে দেখতে পেলো তুলির একটা আঙুল বেয়ে রক্ত পড়ছে।
-কিরে হাত কাটলো কিভাবে? (শুভ)
-আর বইলো না, তাড়াতাড়ি করতে গিয়ে কেটে ফেলেছি (তুলি)
-আর তুই এই সন্ধ্যায় ভিঁজতেছিস কি জন্য? জ্বর হবে তো। যা চেঞ্জ করে নে।
-আচ্ছা আমি এখনি যাচ্ছি, তুমি এগুলো খেয়ে নাও, আর উনাকে একটু দিয়ো (তুলি কথাটা বলে চলে গেলো)
,,
শুভ আমের বাটিটা পুষ্পর সামনে ধরে বলল..
-তুলি আম বানিয়েছে, খেয়ে দেখেন (শুভ)
-নাহহ আপনি খান (পুষ্প)
-একটু খেলে কি হবে?
-আমার খেতে ইচ্ছে করছে না, আপনি খেয়ে নিন।
-...(শুভ খেলো না বাটিটা টেবিলের উপর রেখে দিলো)
,,
দুজন কিছুক্ষণ চুপচাপ। বাইরে গুড়ুম গুড়ুম মেঘ ডেকেই চলছে। বৃষ্টিও হচ্ছে খুব। শুভর মন চাচ্ছে পুষ্পকে তার ভালেবাসার কথা আরেকবার বুঝিয়ে বলবে। হয়তো সে বুঝবে। কিন্তু শুভ কিছু বলার আগেই পুষ্প মুখ খুলল....
-আপনার সম্পর্কে আমার ধারণা টাই বদলে দিলেন মাত্র একটা কথায়। কতো ভালো বন্ধু ভাবতাম আপনাকে আর সেখানে আপনি.... (পুষ্প)
-সরি আমার ভুল হয়েছে (শুভ)
-শোনেন আমাকে নিয়ে যদি ঐরকম কিছু সত্যি ভেবে থাকেন, আপনি আমার সামনে আর কখনো আসবেন না...
।।
।।
অবুঝ এ মন
Part : 8
Write : Sabbir Ahmed
_____________________________
-সরি আমার ভুল হয়েছে (শুভ)
-শোনেন আমাকে নিয়ে যদি ঐরকম কিছু সত্যি ভেবে থাকেন, আপনি আমার সামনে আর কখনো আসবেন না (পুষ্প)
-আহহ সরি সরি,
-আমাকে ভুল বুঝবেন না, আমি আপনার সাথে বন্ধুত্বটা পছন্দ করি। তবে ঐগুলো না।
-ঠিক আছে, বুঝেছি আপনার কথা
,,
সেইসময় থেকে আর কখনো কথা হয়নি তাদের। পুষ্প কথা বলার চেষ্টা করেছিলো, শুভ তখন এড়িয়ে গিয়ে বোঝাতে চেয়েছে সত্যি তাকে ভালোবাসে। পুষ্প তার বাবার সাথে চলে যায় পরদিন সকালেই।
,,
শুভ আর তার বাবা একটু পরেই রওনা হবে। তবে তাদের পিছু লেগেছে তুলি। তুলি বায়না ধরেছে খালার বাড়ি যাবে। তুলির মা যেতে দিতে নারাজ, সামনে তার পরীক্ষা, এসময় সে কোথাও যেতে পারবে না৷ পরীক্ষা শেষ হলে তাকে ঘুরতে নিয়ে যাবে খালার বাড়ি। এমন কথা দেয় তুলির মা৷
,,
শুভ রওনা হওয়ার আগে তুলি শুভর সাথে দেখা করে..
-ভাইয়া আবার কবে আসবে? (তুলি)
-আমি তো আসবো না, তুই খালা আর খালুজান কে সাথে নিয়ে যাস, তোর এক্সাম শেষ হলে (তুলি)
-আচ্ছা। ভাইয়া
-বল
-আমি যা বলেছি মনে আছে?
-কি বলেছিস?
-ঐ যে তোমাকে যে বললাম
-আমার কিছু মনে নেই
-ঐ যে তোমাকে যে ভালোবাসি এই কথাটা
-দেখ দেখ কতো জোরে বলে। খালা শুনে ফেলবে।
-মনে পড়েছে??
-হুমম দেখ এখন এইসব করার সময় না৷ তোর বয়স হয়নি, মন দিয়ে লেখাপড়া কর তারপর দেখা যাবে
-তুমি তো আবার ফাঁকি দিয়ে অন্য কারও হয়ে যাবে না
-না।
-আমি তাহলে এবার টেন পাশ দিয়েই তোমার কাছে যাবো
-না আরও পড়তে হবে, তারপর
-আরও?
-হুমম। আচ্ছা এই নে একশ টাকা রাখ। খরচ করিস
-আচ্ছা (তুলি টাকা টা হাতে নিলো)
-তাহলে যাই এখন, খালা খালুর খেয়াল রাখিস, আর মন দিয়ে পড়াশোনা করিস
-তুমি সাবধানে থেকো। আর কোনো মেয়ের দিকে যেন তাকাও না
,,
তুলির কথার কোনো উত্তর দিলো না শুভ। বাবার সাথে বেড়িয়ে পড়লো বাড়ির উদ্দেশ্য। বাড়ি ফেরার দুদিন পর কাজে মনোযোগ দিলো শুভ। পুষ্পর কথা মনে হলে মন খারাপ করে বসে থাকা, এমনিতেই রাগ হওয়া এসবই চলছিলো তার সাথে।
,,
তবে সময় গড়িয়ে যাওয়ার সাথে সাথে তার সবকিছুতেই পরিবর্তন আসে। নিজে কঠোর পরিশ্রমের টাকা দিয়ে লেখাপড়া করে গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করেছে, সাথে পরিবারের ছোট ভাই বোনদের পড়িয়েছে।
,,
এখন সে চাকুরি খুঁজছে, সাথে মামার ব্যবসার সাথে লেগে আছে। গ্রাজুয়েশন শেষ করার পর, পরিবার থেকে কথা উঠিয়েছে শুভর সাথে তুলির বিয়ে দেওয়া নিয়ে।
এমন কাজ টা করেছে তুলি, সে তার মাকে হয়তো বলেছে পছন্দের ব্যাপারে। শুভর পরিবার শুভর কাছে থেকে এ সম্পর্কে জানতে চাইলে শুভ তাদের জানিয়ে দেয় এখনি বিয়ে করতে পারবে না। আগে একটা চাকুরির ব্যবস্থা করবে তারপর। আর তুলিকেই যে বিয়ে করবে এ কথা সে দিতে পারবো না।
শুভর এরকম কথায়, নিজেদের মধ্যে মনমালিন্য হওয়ায় তুলির বাবা-মা তুলিকে অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দেয়৷
,,
তুলি ফোন করে শুভকে দাওয়াত করেছিলো। শুভ সেই বিয়েতে যায়নি। উল্টো সেদিন ফোন বন্ধ করে রেখেছিলো। শুভর মনে আজও পুষ্প গেঁথে আছে। তাই তুলির ভালোবাসা তাকে ছুঁতে পারেনি।
,,
আর এতো বছর হয়ে গেলো শুভ জানে না পুষ্প এখন কোন অবস্থায় আছে। শুভ মাঝে মাঝে ভাবে হয়তো তার বিয়ে হয়ে এখন সংসার শুরু করেছে।
,,
কিন্তু এদিকে পুষ্পর দিন কাটছে নানান ব্যস্ততায়। বাবার ব্যবসায়ের অধিকাংশ এখন দেখছে সে। সারাদিন এ অফিস থেকে সে অফিস, বিদেশি ক্লায়েন্ট এর সাথে যোগাযোগ করছে। এই কাজের চাপে বিয়ের চিন্তা আর মাথায় ঢোকেনি তার।
,,
একদিন শুভ তার মামাকে কাজেট সময় বলল...
-মামা (শুভ)
-কিছু বলবি? (মামা)
-তুমি তো জানো চাকরির জন্য অনেক চেষ্টা করছি কিন্তু কাজ হচ্ছে না। মামা খালু না থাকলে এসব কিছুই হবে না৷
-আরেহহ চিন্তা করিস না, আমি তোর চাকরির ব্যবস্থা করবো
,,
হঠাৎ পাশে থেকে একজন বলে উঠলো..
- ভাই আমার কাছে একটা ভালো চাকরির সন্ধান আছে, আর চাকরিটা অনেক আরামের (শুভর মামার এক কর্মচারী)
-কোথায় সেটা?? (শুভর মামা)
-এটাতে এখানে না, আমি আমার এক চেনা লোকের মুখে এমন চাকরির ব্যাপারে শুনেছি, চায়ের দোকানে এ নিয়ে কথা হচ্ছিলো।
,,
শুভর মামা খোঁজ লাগিয়ে সেই লোকটাকে ডাকলো। লোকটি তাদের জানালো আগামীকাল সকালেই নাকি তাদের ইন্টারভিউ। শুভ চাকরির ব্যাপারে জানতে চাইলে লোকটি বলে "তাদের অনেক ধরনের কাজ আছে যেকোনো কিছুই দিতে পারে"
,,
শুভ লোকটির কথার কোনো ভিত্তি খুঁজে পায় না। চাকরির নির্দিষ্ট কোনো কথা লোকটি বলতে পারছে না।
শুভ অনেক চিন্তা ভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেয় সে যাই হোক বাইরে চাকরি করবে। মামার এই কাজ তার একবারেই পছন্দ না৷
,,
সেদিনই শুভ লোকটির সাথে রওনা হয়। রাতে লোকটির পরিচিত একজনের বাসায় থাকে, পরদিন সকাল বেলা ইন্টারভিউ এর জায়গা দেখিয়ে দেয় লোকটি শুভর থেকে এক হাজার টাকা খরচ স্বরূপ নিয়ে সেখান থেকে কেটে পরে।
,,
শুভ এখন দাঁড়িয়ে আছে একটা বড় ভবনের সামনে৷ এই চাকরিতে না আছে কোনো এপ্লাই সিস্টেম, না আছে কোনো প্রচার, শুভ ভাবছে ভুল কোথাও এলো কি না।
,,
ভবনের ভেতরে গিয়ে জানতে পারে ষষ্ঠ তলায় ইন্টারভিউ নিচ্ছে। সেখানে পৌঁছানে পূর্বেই শুভ এক অদ্ভুত খবর শুনতে পেলো। এখানে মাত্র তিনজন লোক নেওয়া হবে। তাদের একজনকে পার্সোনাল এ্যাসিসটেন্স, আর দুজনকে বাড়ির কাজে নিয়োগ দেওয়া হবে।
,,
শুভ খোঁজ নিয়ে আরও জানতে পারে, এই অফিসে যারা আগে থেকেই কাজ করতো তাদের রেফারেন্স এর মাধ্যমে লোক নিয়োগ হবে। শুভ বুঝতে পারলো যার মাধ্যমে সে এখানে এসেছে সে আসলে বুঝতে পারেনি, উড়ো খবর শুনে শুভকে এখানে নিয়ে আসছে।
,,
এতদূর যখন আসছে দেখা যাক কি হয়। শুভর কাছে সবকিছু নাটকীয় লাগছিলো। যারা পরীক্ষা দিতে আসছে তাদের বিশাল লাইনে শুভ এমনি দাঁড়িয়ে গেলো।
,,
ভেতর একজন করে ঢুকছিলো আর কিছুক্ষণ পর বের হচ্ছিলো। হঠাৎ একজন এসে শুভকে উদ্দেশ্য করে বলল..
-এইটা কি আকাশীরং এর শার্ট?? (লোকটি)
-চিনেন না নাকি? (শুভ)
-চিনি না দেখেই তো বলছি
-হ্যাঁ এটাই আকাশীরং
-আপনার নাম শুভ?
-আপনি আমার নাম জানলেন কি করে?
-আপনি আসুন আমার সাথে
-আমি কই যাবো?
-আপনাকে ম্যাম ডেকেছে
,,
লোকটি শুভকে একটা রুমের মধ্যে নিয়ে গেলো। রুমে যেতেই শুভর চোখে পড়লো, একটা সুন্দরী ম্যাম, চেয়ারে বসে হাতের নখ
কামড়াচ্ছে। শুভকে দেখে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালো। শুভও উনার চেহারা দেখে চিনতে পারলো, এটা পুষ্প। আগের থেকে অনেক সুন্দরী হয়েছে সে, আর অনেক স্মার্ট ও।
কয়েক সেকেন্ড এর জন্য শুভর মানে ভালো লাগা কাজ করলেও, পরক্ষণেই মনে হলো, পুষ্পর সাথে শেষ যেদিন কথা হয়েছিলো সেদিন সে বলেছিলো যদি সত্যি সে তাকে ভালোবাসে তার সাথে কথা না বলতে।
তাই শুভ আগে থেকে কিছু বলল না।
পুষ্প প্রথমে জিজ্ঞেস করলো শুভকে..
-আপনি তো শুভ তাই না? (পুষ্প)
-...(শুভ মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ উত্তর করলো)
-আমাকে চিনতে পেরেছেন?
-না
-আমি পুষ্প
-চিনলাম না
-ঐ যে পালিয়ে যাওয়া, আপনার খালার বাসায় থাকা
-না এমন কিছু আমার সাথে ঘটেনি। আর আমি আপনাকে এই প্রথম দেখছি
-ওহহ আচ্ছা (তুলি শুভর গলার স্বরে বুঝতে পারলো শুভ চিনে না চেনার ভান ধরে আছে)
,,
পুষ্প চালাকি করে আবার প্রশ্ন করলো..
-তুলির এখন কি অবস্থা?? (পুষ্প)
-ওর বিয়ে হয়ে গেছে (শুভ দ্রুত উত্তর দিয়ে, নিজে জিভ কাটলো। কারণ চালাকি টা ধরা পরে গেলো যে)
-যাক শেষ পর্যন্ত ধরা খেলেন
-....(শুভ চুপ)
-কেমন আছেন?
-আমার চলে যেতে হবে, আমি আসি
-বাব্বাহ মেজাজ এতো চড়া হয়ে গেছে আপনার!
।।
।।
অবুঝ এ মন
Part : 9
Write : Sabbir Ahmed
_____________________________
-কেমন আছেন? (পুষ্প)
-আমার যেতে হবে, আমি আসি (শুভ)
-বাব্বাহ মেজাজ এতো চড়া হয়ে গেছে আপনার!
-না আমার একটু তাড়া আছে
-হুমমম, যাই হোক আন্টি কেমন আছে?
-ম্যাম আমার যেতে হবে
-দরজা অটোলক যেতে পারবেন না, উত্তর দিয়ে যান
-হ্যাঁ উনি ভালো আছেন
-জব এর জন্য এখানে এসেছিলেন?
-জ্বি
-ইন্টারভিউ না দিয়ে কই যাচ্ছেন?
-দিবো না
-জব টা পছন্দ না?
-প্রথম থেকেই না
-তাহলে এসেছিলেন কেনো?
-আসলে আমি একজনের কাছে শুনে তার সাহায্যে এসেছি
-তো জব টা লাগবে?
-না এমন জব আমি করব না
-আচ্ছা তাহলে ভালো কোনো জব দেই আপনাকে
-আপনার দয়ায় আমি নিবো না
-আমি কি বলেছি আমার দয়ায় নিবেন?
-আপনার যোগ্যতা অনুযায়ী আপনি চাকরি পাবেন
-আপনার অফিসে?
-হ্যাঁ
-....(শুভ ভাবছে)
-দাঁড়িয়ে না থেকে বসে ভাবুন। চেয়ারে বসেন
,,
শুভ চেয়ারে বসলো। পুষ্প তার চেয়ারে বসে মুচকি হাঁসছে। পুষ্প শুভকে বলে...
-কফি খাবেন? (পুষ্প)
-না না (শুভ)
-ওহহ। তো ভাবা শেষ হলো?
-হুমম, আচ্ছা আমি রাজি
-গুড, তাহলে আমি ব্যাবস্থা করি?
-না শোনেন
-জ্বি বলুন
-....(শুভ)
-কি হলো বলুন
-এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ দিতে পারবো না। আর আপনি কিছু রিকুয়েষ্ট করলে রাখতে পারবো না
-আচ্ছা সমস্যা নেই, আপনি যেমনটা চান
-ঠিক আছে
,,
পুষ্পর রেফারেন্সে শুভর খুব ভালো একটা জব হলো৷ জবটা পুষ্পর কোনো অফিসে না, অন্য একটা অফিসে। সেখানে শুভর জয়েন হওয়ার পর পুষ্পর সাথে আর কথা বা দেখা করেনি। মাস দুয়েক শুভর বেশ ভালোই চলল। বাড়ির সবাই তো খুব খুশি, ভালো একটা স্যালারিতে শুভ চাকরি করছে।
,,
একদিন কি মনে করে, শুভ পুষ্পর অফিসে হাজির। সেদিন পুষ্প অফিসে ছিলো না। পিয়ন এর কাছে থেকে জানতে পারে এই অফিসে ম্যাম সোম আর বুধবারে আসেন।
শুভ সময় করে একদিন বুধবারেই আসলো, সেদিন ও তার কপাল খারাপ, পুষ্প অন্য কাজে ব্যস্ত থাকায় অফিসে আসতে পারেনি।
,,
এদিকে পিয়ন পুষ্পকে জানায় একটা ছেলে দুইবার তার সাথে দেখা করতে আসছিলো। পিয়ন এর মুখের বর্ণনা শুনে পুষ্প নিজে গিয়ে হাজির শুভর অফিসে।
,,
শুভ তার ডেস্কে বসে কাজ করছিলো, পুষ্প ডেস্কের সামনে দাঁড়িয়ে বলল..
-হায় স্যার (পুষ্প)
শুভ চোখ তুলে তাকিয়ে দেখলো পুষ্প এসেছে। পুষ্পকে দেখে শুভ দাঁড়িয়ে গেলো..
-আপনি আমার অফিসে গিয়েছিলেন,(পুষ্প)
-হ্যাঁ আমি তো....
শুভর কথার মাঝখানে থামিয়ে দিয়ে পুষ্প বলল...
-কোনো সমস্যা হয়েছে কি? বস কি খারাপ ব্যবহার করেছে? কাজ করতপ সমস্যা হলে আমাকে শুধু বলেন, এই কোম্পানি টাই কিনে নিবো। তারপর আপনি আপনার ইচ্ছে মতো কাজ করবেন
-আরে নাহ নাহ আমি তো আপনার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম
-উমম তো চলুন
-কোথায়?
-দেখা করতে চেয়েছিলেন, দেখা করেন কথা বলেন
-হ্যাঁ কিন্তু আমার এখন অনেক কাজ
-আমি কি ছুটি নিয়ে দিবো?
-না না
-তাহলে?
-একটু বসেন আমি চলতি কাজ গুলো শেষ করে নেই। তারপর বস এর কাছে থেকে ছুটি নেই
-আচ্ছা
,,
পুষ্প শুভর পাশের একটা চেয়ারে বসলো। টুকটাক শুভর কাজেও সাহায্য করেছিলো। পুষ্প বসে শুভর কাজে সাহায্য করছে, সেটা দেখে শুভর কেমন যেন লাগছে। কিছু বলতে গিয়েও বলতে পারছে।
তবে কিছুক্ষণ পরেই মুখ ফুটে শুভ বলল...
-আপনি নিজেই বস হয়ে আমাকে এইসব কাজে হেল্প করছেন? (শুভ)
-এখন আমি আপনার বন্ধু, বস না। কথা কম বলে কাজ শেষ করুন (পুষ্প)
-হুমমমম,
-নিজে তো আর আমাকে বন্ধু ভাবেন না
-....(শুভ আর কিছু বলল না)
,,
শুভর অর্ধেক কাজ গুলো শেষ করে পুষ্প কে নিয়ে বাইরে আসলো।
-এখন বলেন দেখা করতে গিয়েছিলেন কেনো?(পুষ্প)
-আসলে অনেকদিন হলো দেখিনাতো(শুভ)
-....(পুষ্প ভ্রু কুঁচকে তাকালো)
-আপনি যেটা ভাবছেন সেটা না কিন্তু, আপনি কেমন আর কি অবস্থায় আছেন সেটা দেখতে গিয়েছিলাম
-আমি কি ভাবছি না ভাবছি সেটা আপনি জানেন কি করে?
-আপনি ওভাবে তাকালেন তাই ভাবছি
-হইছে থাক আর বলতে হবে না বুঝে নিয়েছি। তিন বছর পার হয়ে গেছে একবারও খোঁজ নেননি আর এখন, দেখা হওয়ার কিছুদিন পরই খোঁজ নিতে হবে তাই না?
-তখন দূরত্ব অনেক ছিলো, আর আমি জানতাম নাকি কোথায় আপনি?
-হইছে গুছিয়ে মিথ্যে বলা বাদ দিন। আপনি রাগে দুঃখে আমার সাথে দেখা করেননি
-হুমম ঠিক
-সত্য কথা বলার জন্য ধন্যবাদ
-চলেন কোথাও গিয়ে বসি
-হুমম চলেন
,,
দুজন হাঁটতেছিলো হঠাৎ শুভ বলল..
-আপনার গাড়ি? (শুভ)
-ড্রাইভার আছে, ও বাসায় নিয়ে যাবে (পুষ্প)
-ওহহ
-আচ্ছা তুলি, খালা, খালু সবাই কেমন আছে?
-তুলির বিয়ে হয়ে গেছে, আর খালা খালু ভালোই আছেন
-হুমমম চলেন আবার সেখানে যাই
-নাহহ
-কেনো??
-কাজের অনেজ চাপ সময় নেই তো
-বাব্বাহ সময়ের এতো দাম দেওয়া হচ্ছে আজকাল
-বসের মন জয় করতে পারলে প্রমোশন হবে
-হুমম এরকম চিন্তা মাথায় থাকা ভালো তবে
-কি???
-প্রমোশনের লোভে আবার দু-নাম্বারি কোনো কাজে জড়িয়ে যায়েন না যেন
-না না ঐ দিক দিয়ে ঠিক আছি।
আচ্ছা আমার কথা বাদ দিন আপনার কথা বলুন
-বিয়ে তো করেছেন তাই না?
-দেখে কি তাই মনে হয়?
-না
-তাহলে বললেন যে
-এমনি
-না বিয়ে হয়নি,
-কবে বিয়ে করবেন??
-খুব ভালো প্রশ্ন। এখন পারফেক্ট সময় হয়েছে বিয়ে করার। তবে মনের মতো কাউকে পাই না তো
-ওভাবে খুঁজলে তো হবে না, এমনি একজনকে বিয়ে করে মনের মতো করে নিবেন
-এহহ বললেই হলো, কোনো ছেলেকে দেখে যদি আমার মনের রিং টা বাজে তাহলেই বিয়ে করবো, তাছাড়া করবো না
-তার মানে সিরিয়াসলি বিয়ে করার চিন্তা নেই
-নাহহ সিরিয়াস তো
,,
শুভ হেসে বলল..
-এটাকে সিরিয়াস বলে? (শুভ)
-হুমম বলে তো। শোনেন বাবা তো এখন বিদেশে আছেন। উনি দেশে ফিরলে আমি বিদেশে চলে যাবো, আর সেখানে কোনো বিদেশি ছেলে দেখে বিয়ে করে নিবো
-দেশে ছেলের অভাব পড়েছে?
-নাহহ
-তাহলে বিদেশি কেনো?
-আপনার এতো কথার উত্তর দেই কি করে বলেন তো
-উত্তর দিবেন নাই বা কেনো? দেশে ছেলে কম থাকলে একটা কথা ছিলো।
-আচ্ছা ঠিক আছে ঠিক আছে, চেষ্টা করবো দেশি ছেলেকে বিয়ে করার।
আর আপনার? আপনার কি অবস্থা? কবে বিয়ে করছেন?
-শীঘ্রই, মা পাত্রি দেখছে
,,
পুষ্পর হঠাৎ করেই শুভর কলার ধরলো, শুভর দিকে বড় বড় চোখে করে তাকিয়ে বলল....
-পাত্রী দেখছে মানে কি? (পুষ্প)
-মা পাত্রী দেখছে (শুভ)
-দেখবে কেনো?
-বিয়ে করবো
-কেনো বিয়ে করবি?
-বিয়ে করবো না?
-না
-কেনো?
-আমি আছি তো,
-আপনি আছেন তো কি হয়েছে? আপনাকে বিয়ে করবো?
,,
পুষ্প চর উঠিয়ে বলল..
-ঐ ঐ আমি কি তাই বলেছি? এখন বিয়ে করতে পারবি না তাই বলেছি (পুষ্প)
-এমন কইরেন না, কলার ছাড়ুন সবাই দেখে হাসতেছে তো
-হুমম আমার সাথে হাঁট এখন (পুষ্প দাঁত কিড়মিড়িয়ে বলল)
-ম্যাম আপনি হঠাৎ করে আমার উপর চড়াও হলেন যে। আমি বিয়ে করলে সমস্যা কোথায়? আর অনেক বয়স হয়েছে তো। (শুভ)
-এতো তো বুঝি না, আমার পছন্দ অনুযায়ী তোকে বিয়ে করাবো ঠিক আছে?
-জ্বি আচ্ছা, বিয়ের কথা আমার সামনে আর বলবি না
-আচ্ছা ঠিক আছে
,,
দুজন অনেকগুলো আইসক্রিম কিনে একটা পার্কে গিয়ে নিরিবিলি জায়গায় একটা গাছের ছায়াতে বসলো। দুজন একটা একটা করে আইসক্রিম শেষ করা শুরু করলো।
পুষ্প বলল....
-অনেকদিন পর বাইরে বসে আপনার সাথে (পুষ্প)
-হুমমম (শুভ)
-আপনার সাথে বাইরে বসতে কেনো ভালে লাগে বলুন তো
-আমি কিভাবে বলব?
-নাহহ আপনাকেই বলতে হবে..
-হায়রে মেয়ে মানুষ! এক একটা
কথা বিপদের মিসাইল এর মতো(শুভ বিড়বিড় করে বলল)
।।
।।

অবুঝ এ মন
END PART
Write : Sabbir Ahmed
____________________________
-নাহহ আপনাকেই বলতে হবে (পুষ্প)
-হায়রে মেয়ে মানুষ! এক একটা কথা বিপদের মিসাইলের মতো(শুভ বিড়বিড় করে বলল)
-এই ওরকম করে কি বলা হচ্ছে? (পুষ্প বুঝতে পেরে বলল)
-নাহহ কিছু না (শুভ মিষ্টি হেসে)
-খুব চালাক হয়েছেন তাই না? কি যেন মনে মনে বলে আবার মিটিমিটি হাসেন
-আরে নাহহ তেমন কিছু না।
-আচ্ছা আমি তাহলে বলি। আপনার সাথে শুধু বাইরে না। আপনাকে দেখলেই মনে হয় যে, থাকি আপনার সাথে হয়তো খুব ভালো থাকবো। তবে হ্যাঁ ওরকম থাকার কথা মনের করবেন না আবার
-কি রকম?
-ঐ যে ভালোবাসা
-ওহহ না ওরকম মনে করিনি
-আপনার সাথে শেষ দেখায় আমি আপনাকে বলেছিলাম, যদি আমাকে ভালোবাসেন তো আমার সাথে কথা বলবেন না। আপনি সত্যি করেই আর কোনো কথা বলেননি। আর এখন তো কথা বলতেছেন, তার মানে আপনি কি আর ভালোবাসেন না??
-দেখেন অনেক সময় কেটে গেছে, অতীতে পরিস্থিতিও ভিন্ন ছিলো। আমি ছোট ছিলাম, মানে বুদ্ধির দিক দিয়ে, তো ওরকম পাগলামো চলে আসছিলো
-তার মানে এটা ক্লিয়ার যে আমাকে ভালোবাসেন না?
-এতো কঠিন পেঁচানো প্রশ্ন কেনো করেন। এই ব্যাপার টা ছাড়ুন, আসুন আমরা অন্য কথা বলি
-আচ্ছা ঠিক আছে
,,
দু'জন চুপচাপ বসে আছে। আইসক্রিম ও শেষ। দু'জন আমতা আমতা করছে। শুভ ভাবছে পুষ্প কিছু বলবে, আর পুষ্প ভাবছে শুভ কিছু বলবে। এমন করতে করতে বেশ কয়েকটি মিনিট অতিবাহিত হলো।
তবুও কেউ একটা কথা বলল না।
,,
হঠাৎ তাদের সামনে এসে দাঁড়ালো একটা পুলিশ। পুষ্পকে উদ্দেশ্য করে বলল..
-ম্যাম সরি, অনুমতি না নিয়ে প্রবেশ করেছি। স্যার আপনাকে ফোনে পাচ্ছিল না, আর অফিসে খোঁজ করেও পাচ্ছিলো না। তাই আপনার নাম্বার টা উনার কথামতো ট্র্যাক করে আপনাকে খুঁজতে হলো
-বুঝলাম, বাবা দেশে আসছেন! হঠাৎ আসলো কেনো? এখন তো আসার কথা না। শুভ আপনাকে বললাম যে এক মাস পরে আসবে তাই না? (পুষ্প)
-হ্যাঁ তাই তো বললেন (শুভ)
-উনি এসেই জরুরি তলব শুরু করেছেন। আচ্ছা আপনি যান আমি যাচ্ছি (পুষ্প পুলিশ কে বলল)
-ঠিক আছে ম্যাম আসি
,,
এখন শুভ আর পুষ্প কথা বলছে..
-আপনি তাহলে যান, আমি অফিসে যাই (শুভ)
-হুমম আপনার নাম্বার টা দেন তো (পুষ্প)
,,
শুভর নাম্বার নিয়ে পুষ্প চলে আসে তার বাবার কাছে।
আশরাফ সাহেব কে দেখে বেশ অস্থির লাগছিলো৷ আশরাফ সাহেব তার রুমে বসে ফোনে কিছু একটা করছিলো। পুষ্প এগিয়ে গিয়ে বলল..
-বাবা কি হয়েছে? হঠাৎ তুমি আসলে যে! (পুষ্প)
-তোর জন্যই তো আসা (পুষ্পর বাবা)
-আমার জন্য! কেনো কি হয়েছে?
-তোর বিয়ের জন্য একটা ভালো পাত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। ছেলে বিদেশে বড় ব্যবসায়ী।
-বাবা আবার!
-এবার তো আর কোনো সন্ত্রাসীর কথা বলিনি। ছেলে বিজনেস ম্যান
-বাবা আমি আমার পছন্দে বিয়ে করবো, আর আমার একটা পছন্দ আছে
-কে?
-তুমি হয়তো মানা করবে, কিন্তু আমার তাকেই লাগবে
-আমি কোনো কিছুতেই মানা করবো
-শোনো আমি বলি, ও খুব ভালো আর আমার খুব কাছের মানে খুব পরিচিত
-কে সেটা বল
-শুভর কথা মনে আছে তোমার?
-ঐ যে লাইটিং মিস্ত্রি টা?
-নাহহ এখন ওসব কাজ করে না৷ এখন জব করে, বেতন ও অনেক ত্রিশ হাজার টাকার মতো।
-তাহলে আর কি, আমি শুধু শুধু তড়িঘড়ি আসলাম
-তুমি এভাবে আসলে কেনো?
-ছেলে তো পাত্রি দেখা শুরু করেছে। যদি মিস হয়ে যায়
-ওহহ আচ্ছা
-তাহলে তোরা বিয়ে করছিস কবে? আয়োজন শুরু করবো কবে থেকে?
-এখন তো হবে না
-কেনো?
-ও রাজি না
-ও রাজি না মানে? (একটু গরম হয়ে)
-বাবা শোনো আমি ওর প্রপোজাল টা ঐ সময়ে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম। আমি জানি না ওর কি অবস্থা। তবে ওরেই আমার লাগবে
-যদি রাজি না হয়
-তুমি লোকজন দিয়ে তুলো নিয়ে আসবা। পাত্রি না দেখিয়ে বিয়ে দিয়ে দিবা। পরে সে আমাকে দেখে অবাক হয়ে যাবে
-তাহলে তোর কথামতো যা আসছে, এগুলো করতে সময় লাগবে
-হুমম তা তো লাগবেই
-তাহলে আমি আজ থেকে কাল চলে যাই। তুই সব ঠিকঠাক করে আমাকে কল করিস
-হুমমম। বাবা একটা কথা
-বল
-তুমি এতো সহজে রাজি হলে কেনো?
-তোর মুখে হাসি দেখে
,,
পুষ্প মুচকি হেসে বাবার সামনে থেকে উঠে এলো। পুষ্প তার রুমে এসেই শুভ কে কল করলো। ওপাশে শুভ কল ধরেই সালাম দিলো। পুষ্প সালাম এর উত্তর নিয়ে বলল....
-চিনতে পেরেছেন? (পুষ্প)
-হুমমম আপনি ম্যাম(শুভ)
-কি করেন?
-কাজ করতেছি
-ওহহ
-আপনার বাবা কি বলল?
-ওহহ কিছু না, এমনি একটা সমস্যা হয়েছিলো
-সমাধান হয়েছে
-একদম পানির মতো সমাধান করে ফেলেছি
-বাহহ দারুণ হয়েছে
-আপনি এখন কি করবেন?
-এইতো কাজ করবো
-নাহহ
-তাহলে কি করবো?
-আমার সাথে কথা বলবেন
-নাহহ কাজ শেষ করে নেই
-কথা না বললে আমি কিন্তু আবার আপনার কাছে যাবো
-না না আর আসবেন না, এমনিতে সবাই আমাকে নিয়ে মজা নিচ্ছে
-কে মজা নিচ্ছে আপনাকে নিয়ে শুধু আমাকে বলেন
-কেউ একজন না প্রায় সবাই। একে অপরকে বলতেছে অন্য কোম্পানির এমডি এসে আমার সাথে কি করলো। আপনার সাথপ আমার কি সম্পর্ক। এটা সেটা আরও নানান কথা
-আমি কি কোনো এ্যাকশনে যাবো
-নাহহ মানুষ তো বলবেই এরকম।
-যাই হোক, বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আমাকে কল করবেন, ঠিক আছে?
-আচ্ছা
,,
শুভ, পুষ্পর ব্যাপার টা ঠিক বুঝতে পারছে না৷ একবার ভাবছে হয়তো পুষ্প ভালোবেসে ফেলেছে, আবার ভাবছে, নাহহ এটা তো সম্ভব না৷ বন্ধু হয়েছে তাই হয়তো এরকম করছে।
শুভ বাসায় গিয়ে কল করে পুষ্পকে।
,,
পুষ্প ফোন রিসিভ করে বলে...
-কোথায় এখন বাসায়? (পুষ্প)
-হ্যাঁ মাত্রই আসলাম (শুভ)
-রান্না হয়েছে?
-সকালে রান্না করে কিছু খেয়ে, ফ্রিজে রেখেছিলাম এখন সেগুলো গরম করে খাবো, রান্নার ভেজাল নেই
-আপনার বাসার ঠিকানা দেন তো
-কেনো?
-দরকার আছে দেন
-কি দরকার?
-আমি আপনার বাসায় যাবো
-এখন কেনো?
-আমি কি বলেছি এখন যাবো
-না আগে বলেন কি দরকার?
-রুম ডেট করবো
-....(শুভ পুরোই চুপ)
-এই কথা বলছেন না কেনো?
-কি বলেন এগুলো!
-আরেহহ মজা করলাম
-তাহলে সত্যি টা কোনটা?
-আপনি যদি এ্যাড্রেস না দেন, আর আমি যদি আপনার বাসা খুঁজে বের করি, তাহলে যেটা মুখ দিয়ে বলেছি সেটাই করবো
-....(ভেজাল হবে জেনে শুভ বাসার ঠিকানা দিয়ে দিলো)
-এইতো গুড, এখন একটু পর আপনার বাসার সামনে গাড়ি যাবে একটা, কিছু খাবার নিয়ে, আপনি খাবার রিসিভ করে খেয়ে নিবেন
-এতো রাতে এগুলা !
-এতো রাত কোথায়? সবে তো নয়টা বাজে
-আচ্ছা ঠিক আছে আমি আপনার পাঠানো খাবার টাই খেয়ে নিবো
-হ্যাঁ খাবার খেয়ে কল করবেন
-আচ্ছা ঠিক আছে
,,
পুষ্পর পাঠানো খাবার শুভ রিসিভ করে। অনেক খাবার পাঠিয়েছে, দুদিন খাওয়া যাবে। কিছু খাবার খেয়ে বাকি খাবার রেখে দেয়। খাওয়া শেষ না হতেই শুভর বাড়ি থেকে ফোন। শুভ কল কেটে দিয়ে নিজে কল করে প্রায় ঘন্টা খানেক, মা আর বাকি সবার সাথে কথা বলে।
,,
শুভর কথা বলার সময় পুষ্প একের পর এক ফোন দিয়েই যাচ্ছে। নাম্বার ব্যস্ত পেয়ে পুষ্প খুব রেগে যায়। এক ঘন্টায় পুষ্প তো রেগে আগুনের ফুলকির মতো হয়ে উঠে।
এদিকে শুভর খেয়াল নেই যে পুষ্পকে কল করতে হবে৷ এটাও খেয়লা করেনি পুষ্প কল দিচ্ছে।
,,
শুভ দ্রুত পুষ্প কে কল করে। পুষ্প ফোন রিসিভ করেই...
-কলে কে ছিলো? (পুষ্প)
-মা(শুভ)
-এতক্ষণ?
-হ্যাঁ অনেক কথা বলল তো
-কি কথা বলল?
-এই খোঁজ খবর আর কি?
-আমি ডিটেইলস শুনতপ চেয়েছি। নাকি আবার কোনো মেয়ের সাথে কথা বলে আমাকে মিথ্যে বলছেন
-নাহহ আমি মিথ্যে বলছি না
-মা ছেলে এতো কি কথা বললেন বলেন তো
-বিয়ে নিয়ে
-আপনার পাত্রী দেখছে তাই না?
-হুমম আমি যে আজ মানা করে দিলাম, পাত্রী দেখতে মানা করতে
-আমি এখন কিভাবে তাদের মানা করবো তারা উঠে পরে লেগেছে
-আচ্ছা এর একটা বিহিত কিছুদিন পরেই করবো..
,,
একটু ঝগড়া শেষে দুজন আবার স্বাভাবিক ভাবে কথা বলা শুরু করে। তিনটা বছর কে কোন অবস্থায় ছিলো সেগুলো শেয়ার করে। এভাবে সপ্তাহ খানেক তাদের কথা চলল।
,,
একদিন রাতে পুষ্পর সাথে ফোনে কথা বলার সময় শুভ পুষ্পকে একটা নিউজ দেয়...
-জানেন কাল আমি বাড়ি যাচ্ছি(শুভ)
-মাসের মাঝখানে হঠাৎ বাড়িতে কেনো? (পুষ্প)
-এমনি
-এমনি তো মাসের মাঝে কেউ যায় না, আমার থেকে কিছু লুকাবেন না। সত্যি যেটা সেটা বলেন
-মা একটা মেয়ে দেখেছে, আমাকে সেটা দেখতে বলছে, আর খুব তাড়াতাড়ি সে এটা ঠিক করতে চায়
-ওহহ আচ্ছা এই ব্যাপার৷ আপনি আন্টি কে মানা করেননি, আর নিজেও আমার কথা শুনলেন না৷ বিয়ে করতে রাজি হয়ে গেলেন
-তাছাড়া কি করবো? জোর করে ধরেছে
-আমি আপনার সাথে দেখা করবো
-বাড়ি থেকে ঘুরে আসি আগে তারপর
-না এখন
-এখন কিভাবে?
-....(পুষ্প কল কেটে দিলো)
,,
শুভ বুঝতে পারলো না হঠাৎ করে কল কাটার কারণ কি। শুভ চেষ্টা করে পুষ্পর নাম্বারে কল করতে, প্রত্যেক বারই বন্ধ বলছিলো। অনেকবার দেওয়ার পর কল দেওয়া বন্ধ করে শুয়ে পড়লো।
,,
আধ ঘন্টা পর পুষ্প শুভকে কল করে। শুভ কল রিসিভ করতেই পুষ্প বলল..
-আমি আপনার বাসার নিচে দাঁড়িয়ে, (কথাটা বলেই কল কেটে দিলো)
-হায় আল্লাহ এর কি মাথা খারাপ হয়েছে রাত এখন সাড়ে এগারোটা এই সময়...
,,
শুভ কথা বলতে বলতে নিচে নামলো। দারোয়ানকে ম্যানেজ করে বাইরে গেলো। পুষ্প তার কার এর সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। শুভকে দেখে সোজা হয়ে দাঁড়ালো। শুভ এগিয়ে গিয়ে একটু ভয়ে ভয়েই বলল...
-আপনি এতো রাতে এখানে আসছেন কেনো? এখানকার রাতের পরিবেশ তো ভালো না (শুভ)
-তো ভেতরে চলুন (পুষ্প)
-এখন?
-হুমম আমতা আমতা করছেন কেনো?
-আচ্ছা আসুন
,,
রুমে যাওয়ার পর...
-দেখেন আমি সোজাসাপ্টা বলছি, আপনি কি ভাববেন সেটা আপনার বিষয় (পুষ্প)
-দাঁড়িয়ে কথা বলছেন কেনো বসে বলুন (শুভ)
-আমার কথা আগে শেষ করি(একটু রেগে)
-জ্বি বলুন
-আমি আপনাকে ভালোবাসি, আমি আপনার সাথে বিয়ে বসতে রাজি
-...(কথাগুলো শুনে মাথা নিচের দিকে দিয়ে দিলো)
-এখন বলেন আপনি রাজি কি না?
-আপনি তো আমাকে ভালোবাসেন না
-মাত্রই তো বললাম ভালোবাসি
-কিন্তু আগের কথাগুলো
-অতীত পুরোপুরি বাদ
-নাহহ,
-তাহলে আপনি কি চান?
-আপনি হাই ক্লাস ফ্যামিলির মেয়ে, আমার সাথে বিবাহে আবদ্ধ হওয়াটা আপনার জন্য বোকামি হবে।
-আমি কাজ না করে, আপনার বেতনে আমি সংসার চালাতে পারবো
-এগুলো বলে কাজ হবে না
-তাহলে?
-আমি একটু অতীতে যেতে চাই
-হুমম চলেন
-অতীতে আমার হৃদয়ে যে রক্তক্ষরণ হয়েছে সেটার ক্ষতিপূরণ চাই
-দিবো
-নাহহ তবুও আমি রাজি না
-কেনো??
-আমার মন চাচ্ছে না
-দেখেন ভাই আমি সোজা একটা কথা বলি। জীবনে যদি বিয়ে করেন আমাকেই করতে হবে। আপনি সোজা কথায় না হাঁটলে, আমি আপনাকে তুলে নিয়ে গিয়ে বিয়ের বন্দোবস্তো করবো
-আমাকে হঠাৎ ভালোবাসার কারণ কি?
,,
শুভ কথাটা বলতেই, পুষ্প এগিয়ে গিয়ে শুভকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। পুষ্প কান্না করে বলতে থাকলো..
-আমি জানি না তোমাকে হঠাৎ এতোদিন পরে দেখার পর আমার কি হয়েছে। আমি শুধু এতটুকু জানি আমাকে তোমার লাগবে। তোমার চাকরির পর তোমার সাথে দেখা করতে চেয়েছি কিন্তু সাহস পাইনি। তুমি যখন নিজ ইচ্ছায় দেখা করতে গিয়েছিলে তখন যে কত্ত খুশি হয়েছিলাম। এখন আমি কিছু চাই না। আমি শুধু তোমাকে চাই
,,
শুভ আর কি বলবে, তার চোখেমুখে কান্নার ভাব চলে আসছে। ঐ অবস্থায় শুভ বলল....
-নিজে তো বাবার ব্যবসা সামলাতে ব্যস্ত৷ বিয়ের পর তো আমাকে সময় দিবেন না (শুভ)
-আরে তুমি তো আমার সাথেই থাকবে৷ তুমিও আমার বাবার ব্যবসা সামলাবে (পুষ্প)
-আমার ঠ্যাকা পরেছে আপনার বাবার ব্যবসা সামলাতে৷ আমি আলাদা করে কাজ করবো। আর আমার টাকা দিয়েই সংসার চালাতে হবে,
-আমিও কিছু আর্ন করলাম
-সেটা করতে গিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাবেন
-আচ্ছা তুমি যা বলবে তাই, আমি তোমার সাথে থেকেই যতটুকু পারি বাবাকে হেল্প করবো
-পরে আবার কথা উল্টিয়ে যাবে না তো?
-না যাবে না
-এখন ক্ষতিপূরণ চাই
-ঐটা বিয়ের পর
-হুমমম এখন আমাকে ছাড়ুন আমি ঘেমে যাচ্ছি
-ছাড়বো না,
-আপনি বুঝতেছেন না কেনো? আমার অসুবিধা হচ্ছে
-কি অসুবিধা হচ্ছে?
-আপনার শরীর এর সাথে আমার শরীর লেগে থাকলে কি অসুবিধা হতে পারে
-তো কি হয়েছে? তুমি তো আর অন্য কেউ না আমার হবু বর
-হবু টবু মানি না, এখন ছাড়েন বিয়ের পর ধরবেন
-ওকে ওকে খাটাশ একটা...
,,
মাস খানেক পর ধুমধাম করে দুজনে বিয়ে হলো।
বিয়ের দিন...
-এই এই তুমি আজ আমাকে এখানে আনলে কেনো? (পুষ্প)
-তো! তোমাকে নিয়ে কই যাবো?
-গ্রামের বাড়ি
-নাহহ ওখানে এখন কেউ নেই
-চলো না যাই, আজ বাসর টা ওখানে হবে
-সবাই তো তোমাদের বাড়িতে
-সেই জন্যই তে যাবো অনেক মজা হবো চলো না
-উহুমমম ওখানে যেতে যেতে ভোর হয়ে যাবে, আমাদের আর বাসর করাই হবে না
-বাসর করার খুব ইচ্ছে তাই না?
-জ্বি সেই জন্যই তো বিয়ে করা
-এহহহ আসছে খাটাশ কোথাকার
,,
শুভ পুষ্পর দিকে এগিয়ে গেলো..
-এই এদিকে আসবে না, তোমার এই ভাড়াটে বাসায় আমি কিছু করতে চাই না। গ্রামে নিয়ে চলো (পুষ্প)
-আমি তো কিছু করবো না (শুভ)
-তাহলে এদিকে এগিয়ে আসছো যে
,,
শুভ চোখের পলকে পুষ্পকে নিজের বুকের মধ্যে টেনে নিয়ে বলল....
-এইদিকে মনোযোগ দাও এখন হ্যাঁ (শুভ)
-হুমমম বলো (পুষ্প মিষ্টি হেসে)
-হঠাৎ করে আমাকে কাছে পাওয়ার ইচ্ছে হলো কেনো?
-এর আগেও প্রশ্নটা করেছো। শোনো আমি ব্যাখ্যা দিতে পারবো না৷ তবে আমার অবুঝ মন তোমাকে খুব করে চেয়েছিলো
-আমাকে যদি না পেতে
-অবশ্যই পেতাম, হাইজ্যাক করে নিয়প যেতাম
-এতো আগ্রহের সৃষ্টি হলো কিভাবে?
-আমার অবুঝ মন জানে
-তুমি জানো না?
-নাহহহ
-আচ্ছা এখন কিছু সমস্যার সৃষ্টি করি
-কি করবা তুমি হুমম? তোমার হাবভাব ভালো ঠেকছে না
-বললাম তো কিছু সমস্যার সৃষ্টি করবো। হোক না কিছু সমস্যা
-হুমম তবে তাই হোক..
,,
,,
,,
অতঃপর....(আমি কিছু জানি না)🙂
,,
,,
,,
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,END,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,















No comments:

Post a Comment

অদৃশ্য পরী

  ----দেবর সাহেব, তো বিয়ে করবে কবে? বয়স তো কম হলোনা ৷ ----আপনার মত সুন্দরী কাউকে পেলে বিয়েটা শীঘ্রই করে ফেলতাম ৷ -----সমস্যা নাই তো, আমা...